ভিনফাস্টের নিয়ন্ত্রণে থাকছে গাড়ি, হাতবদল হচ্ছে কারখানার মালিকানা
১২ মে ২০২৬-এ ঘোষিত পুনর্গঠনের আওতায় ভিনফাস্ট তাদের দুটি প্রধান ভিয়েতনামি কারখানার মালিকানা গাড়ির নকশা ও বিক্রির ব্যবসা থেকে আলাদা করছে। এর মূল্য প্রায় ৫৩০ মিলিয়ন ডলার। প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান ফাম ন্যাত কুয়ান আনহ বলেন, উৎপাদন চুক্তির মাধ্যমে চলবে। এদিকে কোম্পানি প্রযুক্তি, নতুন মডেল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে আরও সম্পদ ব্যয় করবে।
সূচিপত্র
- ভিনফাস্টের নিয়ন্ত্রণে থাকছে গাড়ি, হাতবদল হচ্ছে কারখানার মালিকানা
- ঠিক কী বিক্রি হচ্ছে?
- ক্রেতা কারা, আর দাম কীভাবে নির্ধারিত হলো?
- চুক্তিতে কত নগদ ও ঋণ স্থানান্তর হচ্ছে?
- মে মাসের প্রস্তাব থেকে অক্টোবরের ব্যাখ্যা
- উৎপাদনে সম্পদ-স্বল্প মডেলের অর্থ কী
- বিক্রয় দ্রুত বাড়ছে, তবে ভিয়েতনামই প্রধান বাজার
- নিট লোকসান কমলেও কেন আর্থিক চাপ রয়ে গেছে
- অর্থ ও ব্যবস্থাপনার নজর কোথায়
- মূল বিষয়গুলো
চুক্তির আওতায় ভিনফাস্টের দেশীয় উৎপাদন কোম্পানি প্রতিষ্ঠাতা ফাম ন্যাত ভুয়ংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। ভিনফাস্টের হাতে থাকছে তাদের ব্র্যান্ড, গবেষণা ও উন্নয়ন, মেধাস্বত্ব, বিক্রয় এবং বিক্রয়োত্তর কার্যক্রম। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার কারখানাগুলো কোম্পানির মালিকানাতেই থাকছে।
৩০ জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকের ফল ১৯ অক্টোবর প্রকাশের পর কুয়ান আনহ এই কৌশল নিয়ে কথা বলেন। ওই প্রান্তিকে ভিনফাস্ট ৭০,০৮৫টি বৈদ্যুতিক গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে মোট সরবরাহের প্রায় ৮৯ শতাংশই ছিল ভিয়েতনামে। তাই আর্থিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি বিদেশে সম্প্রসারণও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকছে।
১২ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেওয়া কুয়ান আনহ বলেন, ভিয়েতনামের বাইরে কোম্পানি তাদের নিজস্ব কারখানায় উৎপাদন চালিয়ে যাবে:
স্থানীয় উৎপাদনের জন্য ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় আমাদের কারখানার মালিকানা ও পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
ভিয়েতনামের ক্রেতাদের জন্য এর অর্থ, দেশীয় উৎপাদন লাইনে ভিনফাস্টের গাড়ি তৈরি হতে থাকবে এবং গাড়ির নকশা ও কারিগরি মান নির্ধারণ করবে ভিনফাস্ট। কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি হলো, কারখানার সম্পদ, ঋণ এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের দায়িত্ব কোথায় থাকবে। আর্থিক প্রভাবে ঋণ কমা ও সম্পদ বিক্রির মুনাফা রয়েছে, তবে অবশিষ্ট গাড়ি ব্যবসায় বড় অঙ্কের লোকসান অব্যাহত রয়েছে।
ঠিক কী বিক্রি হচ্ছে?
ভিনফাস্টের ১২ মে-র নথিতে দুই ধাপে লেনদেনের কথা বলা হয়েছে। প্রথমে, ভিনফাস্ট ট্রেডিং অ্যান্ড প্রোডাকশন জেএসসি—সংক্ষেপে ভিএফটিপি—থেকে নির্বাচিত ব্যবসাগুলো নবগঠিত ভিনফাস্ট ভিয়েতনাম জেএসসি বা ভিএফভিএনে স্থানান্তর করা হবে। এরপর ভিনফাস্ট অবশিষ্ট ভিএফটিপিতে তাদের সব স্বার্থ বিক্রি করবে।
ভিএফভিএনের হাতে থাকবে বৈশ্বিক গবেষণা ও উন্নয়ন, মেধাস্বত্ব, বিক্রয়োত্তর কার্যক্রম এবং বিক্রয় ব্যবসা। ভিনফাস্ট কমার্শিয়াল অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রেডিং এবং অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানিতে কোম্পানির ব্যবসায়ও এর স্বার্থ থাকবে। বিভাজনের পরপরই, তবে বিক্রির আগে, ভিনফাস্টের ভিএফভিএন ও ভিএফটিপি—দুটিরই প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ ভোটাধিকার থাকার কথা ছিল।
ভিএফটিপির হাতে থাকছে ভিয়েতনামের উৎপাদন সম্পদ, ভিনইজি গ্রিন এনার্জি সলিউশনসে তাদের স্বার্থ এবং রিয়েল এস্টেট-সংক্রান্ত কিছু বিনিয়োগ চুক্তি। বাইরের ঋণদাতাদের কাছে ভিএফটিপির বিদ্যমান আর্থিক ঋণ ওই কোম্পানির কাছেই থাকবে, তবে এ জন্য ঋণদাতাদের অনুমোদন লাগবে।
উৎপাদন সম্পদের প্যাকেজে রয়েছে দুটি কারখানা, যেগুলোর সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৫ লাখ গাড়ি ও ৫ লাখ বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল। এর সঙ্গে রয়েছে ব্যাটারি প্যাক সংযোজন ও ব্যাটারি সেল উৎপাদনকেন্দ্র। এই সংখ্যা দিয়ে বোঝানো হয়েছে, কারখানাগুলো বছরে সর্বোচ্চ কত উৎপাদনের জন্য তৈরি।
ভিএফভিএন ও ভিএফটিপির মধ্যে উৎপাদন ও সরবরাহ চুক্তি হবে। ভিএফভিএনের দেওয়া নকশা, বৈশিষ্ট্য ও মান অনুযায়ী ভিএফটিপি ভিনফাস্টের গাড়ি তৈরি করবে। অর্থাৎ, গাড়ি কেমন হবে তা ভিনফাস্টই ঠিক করবে, তবে দেশীয় উৎপাদন ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ থাকবে অন্য মালিকের হাতে।
ক্রেতা কারা, আর দাম কীভাবে নির্ধারিত হলো?
ক্রেতাদের দলটির নেতৃত্বে রয়েছে ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট জেএসসি। ১২ মে-র নথিতে ফাম ন্যাত ভুয়ংকে ওই দলে সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তখন তিনি ভিনফাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ছিলেন। ১ মে-র ভোটার তালিকার তারিখে ভুয়ং ও তাঁর সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের হাতে ভিনফাস্ট অটোর প্রায় ৯৭.৮ শতাংশ শেয়ার ছিল।
সম্মত মূল্য প্রায় ১৩,৩০৯.৬ বিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং, বা ৫৩০ মিলিয়ন ডলার। ভিনফাস্ট জানায়, ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভিএফটিপির জন্য বরাদ্দ সমন্বিত নিট সম্পদের হিসাবি মূল্য ধরে দর-কষাকষি হয়েছে। হিসাবি মূল্য হলো সম্পদ থেকে দায় বাদ দেওয়ার পর হিসাবের খাতায় থাকা মূল্য।
গ্র্যান্ট থর্নটন ভিয়েতনাম অ্যাডভাইজরিও ছাড়মূল্যে নগদ প্রবাহ পদ্ধতিতে ভিএফটিপির মূল্যায়ন করেছে। এই পদ্ধতিতে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত নগদ আয় আজকের দিনে কত মূল্যবান, তা হিসাব করা হয়। তাদের নির্ধারিত ইকুইটি মূল্যায়নের মধ্যবিন্দু ছিল ২,৬৫৩ বিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং, বা ১০৬ মিলিয়ন ডলার। সম্মত মূল্য ওই মধ্যবিন্দুর প্রায় পাঁচ গুণ, যদিও ভিনফাস্ট বলেছে, তা মূল্যায়নের নির্ধারিত সীমার মধ্যেই ছিল।
দুটি পদ্ধতিতে ভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়: একটিতে হিসাবি নিট সম্পদ, অন্যটিতে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত নগদ আয়। ভিনফাস্টের ভাষ্য, স্বাধীন পক্ষের মধ্যে হওয়ার মতো শর্তে দর-কষাকষি করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্রেতাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে এই লেনদেন ভুয়ং-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বৃহত্তর পুনর্বিন্যাসের অংশ।
চুক্তিতে কত নগদ ও ঋণ স্থানান্তর হচ্ছে?
৫৩০ মিলিয়ন ডলারের ক্রয়মূল্যের প্রায় ৪০৫ মিলিয়ন ডলার ভিংগ্রুপ ও ভিয়েতনাম ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের কাছে থাকা একটি প্রতিশ্রুতিপত্রের ঋণ পরিশোধে বরাদ্দ করা হয়েছিল। দুটি প্রতিষ্ঠানই ভুয়ংয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন। ওই ঋণে সুদ ছিল না। এতে ভিনফাস্টের গবেষণা, ব্র্যান্ড উন্নয়ন ও পরিচালন কার্যক্রমের জন্য প্রায় ১২৫ মিলিয়ন ডলার থাকে, যা ঘোষিত মোট মূল্যের প্রায় ২৪ শতাংশ।
ঋণের হিসাব কয়েকটি শ্রেণি জুড়ে। কারখানা হস্তান্তরের সঙ্গে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ থাকার কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী একটি হিসাবে ক্রেতাদের নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬.৯ বিলিয়ন ডলার বলা হয়। আরও বিস্তারিত হিসাবে ভিএফটিপির ঋণ প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার এবং লিজ-সংক্রান্ত দায় ৮৩১ মিলিয়ন ডলার, সব মিলিয়ে প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন ডলার।
প্রধান অর্থ কর্মকর্তা লান আনহ গুয়েন আয়-সংক্রান্ত এক আলোচনায় বলেন, পুনর্গঠনের ফলে ৩০ জুন পর্যন্ত ভিনফাস্টের মোট বৈদেশিক ঋণ ২.৯ বিলিয়ন ডলার এবং সম্পত্তি, কারখানা ও সরঞ্জামের মূল্য ২.৬ বিলিয়ন ডলার কমেছে। প্রকাশিত তথ্যে স্থানান্তরিত মোট দায়, ঋণ ও লিজ এবং বৈদেশিক ঋণ কমার অঙ্কের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় দেখানো হয়নি।
কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত হিসাবের বাইরে নেওয়া হলে তার সম্পদ ও দায় অভিভাবক কোম্পানির হিসাবের সঙ্গে আর খাতায় খাতায় যোগ হয় না। নতুন মালিকানায় উৎপাদন ব্যবসাকে তার দায় মেটাতে হবে, আর সরবরাহ চুক্তি অনুযায়ী গাড়ি উৎপাদনের খরচ দেবে ভিনফাস্ট।
পুনর্গঠনে করের খরচও রয়েছে। ভিএফভিএনের করপোরেট আয়করে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা হারিয়ে ভিয়েতনামের প্রচলিত ২০ শতাংশ করহার প্রযোজ্য হওয়ার কথা ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে কার্যকর করহার ছিল ০ শতাংশ, আর ২০২৫ সালে ৫ শতাংশ। করপোরেট আয়কর ধার্য হয় করযোগ্য মুনাফার ওপর, তাই নগদ অর্থের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ আয় ও কর হিসাবের ওপর।
মে মাসের প্রস্তাব থেকে অক্টোবরের ব্যাখ্যা
শেয়ারহোল্ডার ও ঋণদাতাদের অনুমোদন এবং চুক্তি সম্পন্নের শর্ত সাপেক্ষে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে লেনদেন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল ভিনফাস্ট। পরে সেপ্টেম্বরে সম্পদ হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়। মালিকানা বদলের পর কোম্পানি কীভাবে চলবে, তা ব্যাখ্যা করেন কুয়ান আনহ—অক্টোবরে তাঁর বক্তব্যে।
- ৩১ মার্চ ২০২৬: ভিএফটিপির জন্য বরাদ্দ নিট হিসাবি মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হিসাবের তারিখ।
- ১ মে: লেনদেনের ওপর ভোট দেওয়ার অধিকারী শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণের তারিখ।
- ১২ মে: ভিনফাস্ট শেয়ার ক্রয় চুক্তিতে সই করে এবং প্রস্তাবিত পুনর্গঠন ঘোষণা করে।
- ২৭ মে: বিশেষ সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের বিক্রির প্রস্তাব বিবেচনা করার কথা ছিল।
- সেপ্টেম্বর: উৎপাদন সম্পদ হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়; ১২ সেপ্টেম্বর কুয়ান আনহ প্রধান নির্বাহী হন।
- ১৯ অক্টোবর: ভিনফাস্ট নিরীক্ষিত নয় এমন দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফল প্রকাশ করে এবং উৎপাদন কৌশল নিয়ে আয়-সংক্রান্ত আলোচনা করে।
মে মাসের নথিতে ভুয়ংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এবং লে থি থুয় থুইকে চেয়ারওম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। অক্টোবরের ফলাফলে কুয়ান আনহকে প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান হিসেবে দেখানো হয়েছে। ঘোষণা ও পরবর্তী ব্যাখ্যার মাঝের সময়ে নেতৃত্বে পরিবর্তন এ প্রতিফলিত হয়েছে।
উৎপাদনে সম্পদ-স্বল্প মডেলের অর্থ কী
ভিনফাস্ট ভিয়েতনামে নতুন কাঠামোটিকে সম্পদ-স্বল্প মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছে। বাস্তবে এর অর্থ, সরাসরি মালিকানাধীন কারখানা কমবে এবং উৎপাদনসেবা কিনবে কোম্পানি। ব্যবস্থাপনার মতে, এতে ভবন, সরঞ্জাম ও ভবিষ্যৎ কারখানা বিনিয়োগে আটকে থাকা অর্থ কমবে এবং পণ্য, প্রযুক্তি ও বিক্রয়ে আরও সম্পদ ব্যয় করা যাবে।
কুয়ান আনহ বলেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও ভিনফাস্টের মান বজায় রেখে উৎপাদন চলবে। কোম্পানির ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদনকেন্দ্রের সরাসরি মালিকানাও রয়েছে। তাই তাদের কৌশলে ভিয়েতনামে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের পাশাপাশি অন্য বাজারে নিজস্ব কারখানা রয়েছে।
প্রধান অর্থ কর্মকর্তা গুয়েন বলেন, উৎপাদনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং আয়ের একটি পরিপূরক উৎস আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণায় তিনি বলেন:
বৈদ্যুতিক চলাচল আমাদের কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আমরা মনে করি, এই পদক্ষেপগুলো টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং মুনাফায় পৌঁছানোর পথ অনুসরণের জন্য ভিনফাস্টকে আরও শক্ত ভিত্তি দেবে।
ভিনফাস্ট ১.২ বিলিয়ন ডলারে নগক হোইও অধিগ্রহণ করেছে। এর ফলে হ্যানয় ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস আরবান এরিয়া প্রকল্পে কোম্পানিটির ২০ শতাংশ অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ব্যবস্থাপনা আশা করছে, ২০২৭ সাল থেকে ওই বিনিয়োগ পরিপূরক নগদ আয়ের উৎস হবে। কারখানা বিক্রি ও সম্পত্তিতে বিনিয়োগ মিলিয়ে ভিনফাস্টের মালিকানাধীন সম্পদ এবং আর্থিক সহায়তা দেবে বলে প্রত্যাশিত ব্যবসা—দুই ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আসছে।
বিক্রয় দ্রুত বাড়ছে, তবে ভিয়েতনামই প্রধান বাজার
ভিনফাস্টের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফল অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক গাড়ি সরবরাহ হয়েছে ৭০,০৮৫টি, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৬ শতাংশ এবং প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। আয় হয়েছে ৩০,৩৪০.৯ বিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং, বা ১,২০৩.৭ মিলিয়ন ডলার; আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি ৮৫.৫ শতাংশ।
গাড়ি বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ২৮,৮৩৩.১ বিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং, বা ১,১৪৩.৯ মিলিয়ন ডলার—মোট আয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ। বৈদ্যুতিক স্কুটার ও সাইকেল সরবরাহ হয়েছে ২,৮৬,০৩৯টি, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১১ শতাংশ বেশি এবং প্রথম প্রান্তিকের দ্বিগুণ।
বৈদ্যুতিক গাড়ি সরবরাহের প্রায় ১১ শতাংশ ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে। এই গোলাকার হার প্রান্তিকের মোট সংখ্যায় প্রয়োগ করলে বিদেশে প্রায় ৭,৭০০টি এবং ভিয়েতনামে ৬২,৪০০টি গাড়ি সরবরাহের হিসাব পাওয়া যায়। ভিনফাস্টের ভাষ্য, টানা ২২ মাস বাজারে শীর্ষে থাকার পর ৩০ জুন পর্যন্ত ভিয়েতনামের মোট গাড়িবাজারের প্রায় ৩৮ শতাংশ তাদের দখলে ছিল।
দেশীয় বাজারের এই আধিপত্যের পেছনে রয়েছে ভিয়েতনামে বৈদ্যুতিক গাড়ির উত্থান, যার ফলে ২০২৫ সালে দেশটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার হয়। গ্রিন এসএমের ট্যাক্সিসেবাও দৈনন্দিন চলাচলে ভিনফাস্টের গাড়ির উপস্থিতি বাড়িয়েছে। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির বৈদ্যুতিক গাড়ি সরবরাহের ৬ শতাংশ ছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে।
বছরের প্রথমার্ধে সরবরাহ ছিল ভিনফাস্টের বার্ষিক ৩ লাখ গাড়ির লক্ষ্যের প্রায় ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ ছয় মাসে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার গাড়ি সরবরাহ হয়েছে এবং দ্বিতীয়ার্ধে প্রয়োজন হবে প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার—প্রথমার্ধের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি।
নিট লোকসান কমলেও কেন আর্থিক চাপ রয়ে গেছে
ভিনফাস্টের আয়-সংক্রান্ত আলোচনায় পুনর্গঠন থেকে মুনাফা যোগ হওয়ার পর চূড়ান্ত নিট লোকসান এবং চলমান ব্যবসার পারফরম্যান্সের মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা গেছে। আলোচনার হিসাবে চলমান কার্যক্রমে লোকসান ছিল প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৪৩ মিলিয়ন ডলার।
আলোচনার সারাংশে কর পরিশোধের পর সম্পদ বিক্রির মুনাফা প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার বলা হয়েছে। অন্য একটি আর্থিক হিসাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া কার্যক্রম থেকে মুনাফা ১.১৮ বিলিয়ন ডলার এবং পরিচালন লোকসান ১.১৬ বিলিয়ন ডলার—যা ১৯৮ শতাংশ বেশি—বলা হয়েছে। দুই হিসাবেই দেখা যায়, উৎপাদন ব্যবসা বিক্রির বড় মুনাফার ফলে চূড়ান্ত নিট লোকসান অনেক কমে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।
আয়-সংক্রান্ত আলোচনার হিসাবে ভিনফাস্টের মোট মুনাফার হার ছিল ঋণাত্মক ৬২.৮ শতাংশ। মোট মুনাফার হার বলতে আয় থেকে তা অর্জনে সরাসরি হওয়া খরচ বাদ দিলে যা থাকে, তার অনুপাত বোঝায়। হার ঋণাত্মক হলে বুঝতে হবে, নথিভুক্ত আয়ের চেয়ে ওই খরচ বেশি ছিল; গবেষণা বা করপোরেট প্রশাসনের মতো ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
ব্যবস্থাপনা আয়ের হিসাব পিছিয়ে দেওয়া, চার্জিং কর্মসূচির খরচ এবং পণ্যে অব্যাহত বিনিয়োগকে চাপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে ১৫৩.৭ মিলিয়ন ডলার, আর বিক্রয়, সাধারণ ও প্রশাসনিক ব্যয় ছিল ২০৮.৭ মিলিয়ন ডলার। হাতে থাকা নগদ ও ভিংগ্রুপ এবং ভুয়ংয়ের বাকি অর্থায়ন-প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে তারল্য ছিল ২.৩ বিলিয়ন ডলার।
২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সুদ, কর, অবচয় ও অমর্টাইজেশনের আগের মুনাফা—ইবিটডা—ইতিবাচক করার লক্ষ্য ভিনফাস্টের। এই লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদন সম্পদ ও দায় অন্য মালিকের কাছে সরিয়ে নেওয়ার সুফলের পাশাপাশি অবশিষ্ট ব্যবসায়ও অগ্রগতি দরকার হবে।
অর্থ ও ব্যবস্থাপনার নজর কোথায়
ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত ভিনফাস্টের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিদেশি বাজার। ত্রৈমাসিক ঘোষণায় প্রাসঙ্গিক শিল্প ও নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধৃত করে কোম্পানি জানায়, ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্র্যান্ড হিসেবে ফিলিপাইনে প্রথম, ভারতে পঞ্চম এবং ইন্দোনেশিয়ায় অষ্টম স্থানে রয়েছে তারা।
৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ভিনফাস্টের শোরুম ছিল ৪৭৪টি, যার মধ্যে নিজস্ব শোরুম ও ডিলারশিপ রয়েছে। সম্প্রসারণে ডিলারদের সঙ্গে অংশীদারত্বই তাদের প্রধান বিতরণমাধ্যম। ক্রেতারা কোথায় গাড়ি দেখতে, কেনার ব্যবস্থা করতে ও সহায়তা পেতে পারবেন, তা নির্ধারণ করে এই নেটওয়ার্ক। তাই প্রবৃদ্ধির কৌশলে বিক্রয়োত্তর সেবার সক্ষমতাও বাস্তবিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিনিয়োগ বিভাগের নির্বাহী নগুয়েন চিয়েন বলেন, আমেরিকা ও ইউরোপে আরও সম্প্রসারণের কথা বিবেচনা করছে কোম্পানি; পরবর্তী প্রান্তিকে এ বিষয়ে আরও তথ্য আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে ছোট এসইউভি ভি৭ বাজারে আনা, ডিলারশিপ সম্প্রসারণ এবং বৈদ্যুতিক বাস বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে ভিএফ ওয়াইল্ড আরইইভি, যা ভিয়েতনামে ইতিমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এবং ২০২৭ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর রেঞ্জ এক্সটেন্ডার হলো ছোট একটি দহন ইঞ্জিন, যা প্রয়োজনে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বৈদ্যুতিক ড্রাইভট্রেনকে সহায়তা করে। এতে চালকেরা দীর্ঘ যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার আরেকটি উপায় পান।
নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৭ সালের শেষ দিকে ভিনহোমস গ্রিন প্যারাডাইস, কান জিওতে ২০০ রোবোট্যাক্সির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে ভিনফাস্ট। লেভেল ৪ বলতে বোঝায়, নির্দিষ্ট পরিচালন পরিস্থিতিতে অবিরাম মানব তদারকি ছাড়াই ব্যবস্থা গাড়ি চালাতে পারে। উৎপাদন পুনর্গঠনের ফলে যে প্রযুক্তি বিনিয়োগের অর্থ পাওয়া যাবে বলে ব্যবস্থাপনা জানিয়েছে, প্রকল্পটি তার একটি বাস্তব লক্ষ্য।
মূল বিষয়গুলো
- নকশা, প্রযুক্তি, ব্র্যান্ড, বিক্রয় ও বিক্রয়োত্তর কার্যক্রম নিজেদের কাছে রেখে ভিয়েতনামের উৎপাদন কোম্পানি প্রায় ৫৩০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রির চুক্তি করেছে ভিনফাস্ট।
- উৎপাদন ও সরবরাহ চুক্তির আওতায় ভিনফাস্টের নির্ধারিত বৈশিষ্ট্য ও মান অনুযায়ী কারখানাগুলোতে গাড়ি তৈরি চলবে।
- বিক্রয়মূল্যের প্রায় ৪০৫ মিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতিপত্রের ঋণ শোধে বরাদ্দ করা হয়েছে; বাকি থাকবে প্রায় ১২৫ মিলিয়ন ডলার।
- ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদনকেন্দ্রের মালিকানা ভিনফাস্টের হাতেই থাকছে।
- দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি সরবরাহ হয়েছে ৭০,০৮৫টি; এর প্রায় ৮৯ শতাংশ গেছে ভিয়েতনামে।
- সম্পদ বিক্রির মুনাফায় চূড়ান্ত নিট লোকসান অনেক কমেছে, তবে চলমান কার্যক্রমে লোকসান রয়ে গেছে বড় অঙ্কের।
- বিদেশে প্রবৃদ্ধি, নতুন গাড়ি ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অগ্রাধিকার পাচ্ছে; এর মধ্যে ২০২৭ সালের শেষ দিকে রোবোট্যাক্সির পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনাও রয়েছে।






