স্কোরহীন আট ইনিংসে ঐতিহাসিক সমাপ্তি
ক্রিস্টোফার মার্সেডেসের স্কোরহীন আট ইনিংসের নৈপুণ্যে ২৬ অক্টোবর, ২০২৬-এ সিটিবিসি ব্রাদার্সকে ৬-০ গোলে হারিয়ে ষষ্ঠ চাইনিজ প্রফেশনাল বেসবল লিগ (সিপিবিএল) শিরোপা জিতেছে ওয়েই চুয়ান ড্রাগনস। তাইপেই ডোমে ৩৮,১৭৮ দর্শকের সামনে ড্রাগনসই প্রথম দল হিসেবে স্টেডিয়ামের ভেতরে কাগজের ফিতা ছড়িয়ে শিরোপা উদ্যাপন করে।
সূচিপত্র
- স্কোরহীন আট ইনিংসে ঐতিহাসিক সমাপ্তি
- ব্রাদার্সকে প্রায় কোনো সুযোগই দেননি মার্সেডেস
- এক রানে এগিয়ে থাকে ওয়েই চুয়ান
- পাঁচ রানে উৎকণ্ঠা বদলে যায় উদ্যাপনে
- ইতিহাস গড়েও থেমে গেল ব্রাদার্সের ঘুরে দাঁড়ানো
- টাইফুনের কারণে শেষ পর্যায়ের সূচি বদলে যায়
- দলের সেরা খেলোয়াড়ের সম্মান পেলেন চ্যাং ও সানচেজ
- দুই অধ্যায়ে ছয় শিরোপা
- দর্শক উপস্থিতিতে রেকর্ড গড়ল তাইপেই ডোম
- মূল তথ্য
১০০টি পিচে মার্সেডেস মাত্র দুটি হিটের সুযোগ দেন। তাইওয়ান সিরিজে ৪-২ ব্যবধানে জয় সম্পন্ন করে ওয়েই চুয়ান। ২০২১ সালে লিগের সর্বোচ্চ স্তরে ফেরার পর ক্লাবটির এটি দ্বিতীয় শিরোপা; এর আগে ২০২৩ সালে শিরোপা জিতেছিল তারা।
তিনটি ম্যাচে ব্রাদার্সকে স্কোর করতে না দিয়েও তাইওয়ান সিরিজের রেকর্ড গড়েছে ড্রাগনস। একটি চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজে কোনো দলের আগের রেকর্ড ছিল দুটি শাটআউট; বেসবলের ভাষায়, প্রতিপক্ষকে কোনো রান করতে না দিয়ে ম্যাচ শেষ করাকে শাটআউট বলে।
প্রথম তিন ম্যাচ জিতেছিল ওয়েই চুয়ান। পরে টানা দুই ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়ায় সিটিবিসি। ষষ্ঠ ম্যাচের প্রথম সাত ইনিংস ছিল হাড্ডাহাড্ডি, ড্রাগনস এগিয়ে ছিল ১-০ ব্যবধানে। অষ্টম ইনিংসে পাঁচ রান করার পর শিরোপা জয় তাদের নাগালের মধ্যে আসে।
তাইপেই ডোমে অনুষ্ঠিত ছয় ম্যাচে মোট দর্শক উপস্থিতি ছিল ২৩০,৬১৫। তাইওয়ান সিরিজে এটাই প্রথমবারের মতো মোট উপস্থিতি ২ লাখ ছাড়াল। এক বছর আগে গড়া আগের রেকর্ডের চেয়ে এবার দর্শকসংখ্যা বেড়েছে ৭৭,২২০।
ব্রাদার্সকে প্রায় কোনো সুযোগই দেননি মার্সেডেস
ইউয়ে তুং-হুয়াকে ওয়াক দেওয়ার আগে মুখোমুখি হওয়া প্রথম ১০ ব্যাটারকে আউট করেন মার্সেডেস। ষষ্ঠ ইনিংসে ক্যাচার কাও ইউ-চিয়ে ডাবল না মারা পর্যন্ত কোনো হিট পায়নি ব্রাদার্স। ড্রাগনসের শুরুর পিচার মার্সেডেসের বিপক্ষে সিটিবিসির দুটি হিটই করেন কাও।
ষষ্ঠ ইনিংসে শেষ পর্যন্ত একজন রানারকে তৃতীয় বেসে নেয় ব্রাদার্স। একটি হিট বা আরেকটি কার্যকর খেলায় সমতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হয় তাদের। এক ভুলেই খেলার মোড় ঘুরে যেতে পারত, এমন মুহূর্তে রান না দিয়েই বিপদ সামলে সংকীর্ণ ব্যবধান ধরে রাখেন মার্সেডেস।
ছয়টি স্ট্রাইকআউট ও দুটি ওয়াকসহ মার্সেডেস ১০০ পিচের মধ্যে ৬৮টি স্ট্রাইক করেন। অষ্টম ইনিংসে হুয়াং ওয়েই-শেংয়ের গ্রাউন্ড বল থেকে ডাবল প্লে করান তিনি। এক খেলাতেই দুটি আউট নিশ্চিত করে নিজের শেষ ইনিংস শেষ করেন মার্সেডেস।
তার পারফরম্যান্সে ষষ্ঠ ম্যাচের এমভিপি এবং তাইওয়ান সিরিজের এমভিপি, দুই পুরস্কারই জেতেন তিনি। সিরিজে দুইবার শুরু থেকে পিচ করে দুটিতেই জয় পান, ১৪ ইনিংসে মাত্র একটি অর্জিত রান দেন। তার অর্জিত রান গড় ছিল ০.৬৪। একজন পিচার প্রতি নয় ইনিংসে কত অর্জিত রান দেন, তা-ই প্রকাশ করে অর্জিত রান গড় বা ইআরএ।
খেলার পর দোভাষীর মাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে মার্সেডেস শিরোপার কৃতিত্ব দেন সমর্থক, সতীর্থ, কোচ ও সহায়ক কর্মীদের।
"শিরোপা জেতা পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। দারুণ করেছ, বন্ধুরা," তিনি বলেন।
এক রানে এগিয়ে থাকে ওয়েই চুয়ান
তৃতীয় ইনিংসের নিচের অর্ধে দলকে এগিয়ে দেন চ্যাং চেং-ইউ। পিচে আঘাত পাওয়ায় লি কাই-ওয়ে প্রথম বেসে পৌঁছান। এরপর কুও তিয়েন-সিনের সিঙ্গেলে প্রথম ও তৃতীয় বেসে রানার আসে।
দ্বিতীয় বেস চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েন কুও; ফলে ড্রাগনসের হাতে থাকে দুটি আউট। এরপর চ্যাংয়ের সিঙ্গেলে লি হোমে পৌঁছালে দল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ওয়েই চুয়ান সঙ্গে সঙ্গে ব্যবধান বাড়াতে না পারায় এই সময়োচিত হিটটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
চতুর্থ ইনিংসের শুরুতে পরপর সিঙ্গেল করেন চু ইউ-সিয়েন ও চেন ত্জু-হাও; আরেকটি সুযোগ তৈরি হয়। ব্রাদার্সের শর্টস্টপ চিয়াং কুন-ইউ লিউ চুন-ওয়ের লাইন ড্রাইভ ধরে ফেলেন। এরপর শুরুর পিচার মারিও সানচেজ ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের দুই ব্যাটারকে আউট করেন।
৭১টি পিচে পাঁচ ইনিংস সম্পন্ন করেন সানচেজ। ছয়টি হিট ও একটি ওয়াকে একটি রান দেন, পাশাপাশি ছয়টি স্ট্রাইকআউট করেন। তার পারফরম্যান্সে ব্রাদার্স ম্যাচে সমতা ফেরানোর মতো দূরত্বে ছিল, যদিও মার্সেডেসের বিপক্ষে তাদের ব্যাটাররা লড়াই করছিলেন।
পাঁচ রানে উৎকণ্ঠা বদলে যায় উদ্যাপনে
অষ্টম ইনিংসের নিচের অর্ধে ব্রাদার্সের রিলিভার চেং হাও-চুনের বিপক্ষে পরপর সিঙ্গেল করেন কুও ও চ্যাং। এরপর সিটিবিসি সাই চি-চেকে নামায়। লিউ চি-হুং ও চু পরপর আরও সিঙ্গেল করলে ব্যবধান বাড়াতে শুরু করে ওয়েই চুয়ান।
এরপর লিউ চুন-ওয়ের স্যাক্রিফাইস ফ্লাইয়ে আরেকটি রান আসে। আউটফিল্ডে ধরা পড়া এই বলে একজন রানার বেস ছুঁয়ে হোমে পৌঁছানোর সুযোগ পান। চিয়াং চুং-চেংয়ের বিপক্ষে হোম রান করে ক্যাচার চিয়াং শাও-হং পাঁচ রানের ইনিংস পূর্ণ করেন; তিনি নিজে ও আরেক রানার হোমে পৌঁছান।
ইনিংসটিতে পাঁচটি হিট পায় ওয়েই চুয়ান। বিকেলের বেশির ভাগ সময় এক রানে এগিয়ে থাকার পর নবম ইনিংসে ৬-০ ব্যবধানে এগিয়ে নামে ড্রাগনস।
নবম ইনিংসের ওপরের অর্ধে প্রথম দুটি আউট করেন লিন ত্জু-ইউ। এরপর দায়িত্ব নেন ক্লোজার লিন কাই-ওয়ে। চেন চুন-সিউয়ের গ্রাউন্ড বলটি ধরে প্রথম বেসে ছুড়ে শেষ আউটটি করেন চ্যাং। ড্রাগনসের শিরোপা নিশ্চিত হতেই লাল কাগজের ফিতা উড়তে থাকে; তাইপেই ডোমে এই প্রথম কোনো দল শিরোপা উদ্যাপন করল।
ইতিহাস গড়েও থেমে গেল ব্রাদার্সের ঘুরে দাঁড়ানো
শিরোপা জিততে না পারলেও একই ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা তাইওয়ান সিরিজের আগের যেকোনো দলের চেয়ে অনেক দূর এগিয়েছিল ব্রাদার্সের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। প্রথম তিন ম্যাচ হারের পর টানা দুটি ম্যাচ জেতা প্রথম ক্লাব হলো সিটিবিসি।
এই সিরিজের আগে নয়টি দল ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল। এর মধ্যে সাতটি দল চার ম্যাচেই হোয়াইটওয়াশ হয়; বাকি দুটি চতুর্থ ম্যাচে টিকে গেলেও পঞ্চম ম্যাচে হারে। প্রতিযোগিতার ৩৭ মৌসুমে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে কোনো দলই শিরোপা জিততে পারেনি।
১১ ইনিংসের লড়াইয়ে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে চতুর্থ ম্যাচে নিজেদের মৌসুম টিকিয়ে রাখে সিটিবিসি। চ্যান ত্জু-সিয়েনের জয়সূচক হিটে নির্ধারিত হয় ফল। এর আগে ব্রাদার্সের চতুর্থ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোতে নিয়মিত খেলার সময় হোম প্লেটের একটি সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় সমতা ফেরাতে সাহায্য করেছিল।
এরপর পঞ্চম ম্যাচে ৪-৩ ব্যবধানে জেতে ব্রাদার্স। চিয়াং কুন-ইউ তিনটি হিট করেন, দুটি রান আনেন এবং নবম ইনিংসে হুয়াং ওয়েই-শেংয়ের স্যাক্রিফাইস ফ্লাইয়ে জয়সূচক রান করেন। তাদের ঐতিহাসিক পঞ্চম ম্যাচের জয় ওয়েই চুয়ানের সিরিজ লিড ৩-২-এ নামিয়ে আনে এবং ড্রাগনসকে শিরোপা জয়ের জন্য আরও এক দিন অপেক্ষা করতে বাধ্য করে।
রান ঠেকিয়ে লিড গড়ার যে শক্তি, তাতে ফিরে গিয়ে ওয়েই চুয়ান সেই চ্যালেঞ্জের অবসান ঘটায়। চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজে ড্রাগনসের চার জয়ের তিনটিই ছিল শাটআউট; অর্থাৎ ছয় ম্যাচের অর্ধেকেই ব্রাদার্স কোনো রান করতে পারেনি।
টাইফুনের কারণে শেষ পর্যায়ের সূচি বদলে যায়
পঞ্চম ম্যাচের আগে সিরিজে বিঘ্ন ঘটায় টাইফুন চ্যাম্পি। তাইপেইয়ে স্কুল ও অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার থেকে শনিবার, এরপর রোববার ২৫ অক্টোবর, এভাবে দুইবার ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত দুই দিন বিশ্রামের সুযোগ পান ব্রাদার্সের গুরুত্বপূর্ণ পিচাররা। ২০ অক্টোবর তৃতীয় ম্যাচে ছয়টি স্কোরহীন ইনিংস পিচ করা নিভালদো রদ্রিগেজ পঞ্চম ম্যাচে ফেরেন। ড্রাগনসের শুরুর পিচার জন গ্যান্টের বিপক্ষে ছয় ও এক-তৃতীয়াংশ ইনিংসে তিনটি হিটে দুটি রান দেন তিনি।
পঞ্চম ম্যাচের সপ্তম ইনিংসে চ্যাংয়ের ডাবল ও কুওর সিঙ্গেলে দুটি রান করে ৩-১ ব্যবধান ঘোচায় ওয়েই চুয়ান। নবম ইনিংসে জবাব দেয় সিটিবিসি। এরপর নিচের অর্ধে ড্রাগনসের তিন ব্যাটারকেই আউট করে জয় ধরে রাখেন ফেলিক্স পেনা।
শেষ পর্যায়ের ম্যাচগুলো এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলে:
- ১৮ অক্টোবর: মার্সেডেস ছয় ইনিংস পিচ করে একটি রান দেন। ওয়েই চুয়ান ৩-১ ব্যবধানে জেতে দ্বিতীয় ম্যাচ।
- ২০ অক্টোবর: তৃতীয় ম্যাচে ৬-০ ব্যবধানে জেতে ড্রাগনস; শিরোপা থেকে এক জয় দূরে থাকে তারা।
- ২১ অক্টোবর: ১১ ইনিংসে ৫-৪ ব্যবধানে চতুর্থ ম্যাচ জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ায় ব্রাদার্স।
- ২৩-২৪ অক্টোবর: টাইফুন চ্যাম্পির কারণে পঞ্চম ম্যাচ দুইবার পিছিয়ে দেওয়া হয়।
- ২৫ অক্টোবর: ৪-৩ ব্যবধানে পঞ্চম ম্যাচ জিতে সিরিজে ব্যবধান ৩-২ করে সিটিবিসি।
- ২৬ অক্টোবর: ষষ্ঠ ম্যাচে ৬-০ ব্যবধানে জিতে শিরোপা নেয় ওয়েই চুয়ান।
দলের সেরা খেলোয়াড়ের সম্মান পেলেন চ্যাং ও সানচেজ
সিরিজে .৩৩৩ ব্যাটিং গড়, সাতটি হিট ও ছয়টি রান এনে ড্রাগনসের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান চ্যাং। ষষ্ঠ ম্যাচের ৬-০ জয়ে তার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল তৃতীয় ম্যাচে দুটি হিটে চার রান আনা।
ষষ্ঠ ম্যাচেও তার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। উদ্বোধনী রানটি আনেন চ্যাং, অষ্টম ইনিংসের নির্ণায়ক পর্যায়ে সিঙ্গেল করেন এবং শিরোপা নির্ধারণী শেষ আউটের জন্য গ্রাউন্ড বলটি সামলান। তার ব্যাটিং গড়ের অর্থ, আনুষ্ঠানিক ব্যাটিং সুযোগের প্রতি তিনটির একটিতে তিনি হিট করেছেন।
ব্রাদার্সের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান সানচেজ; বেশ কয়েকটি কঠিন পিচিংয়ের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। প্রথম ম্যাচে শুরুর পিচার হিসেবে সাত ইনিংসে তিনটি রান দেন। এরপর চতুর্থ ম্যাচে রিলিভার হিসেবে চার ও এক-তৃতীয়াংশ স্কোরহীন ইনিংস পিচ করে সিটিবিসিকে টিকে থাকতে সাহায্য করেন।
চার দিন বিশ্রামের পর ষষ্ঠ ম্যাচে আবার শুরুর পিচার হিসেবে ফেরেন সানচেজ। পাঁচ ইনিংসে মাত্র একটি রান দিলেও পরাজিত পিচার হন তিনি। সিরিজজুড়ে তার পারফরম্যান্স বারবার ব্রাদার্সকে লড়াইয়ের সুযোগ করে দিয়েছে।
ওয়েই চুয়ানের শুরুর দিকের লিড গড়তেও সাহায্য করেছিলেন মার্সেডেস। চেং শেং-আনের নির্ণায়ক হোম রানের সুবাদে দ্বিতীয় ম্যাচে জেতে ড্রাগনস; ওই হোম রানেই তাদের তিনটি রান এসেছিল। শিরোপা যখন বাজি, তখন সিরিজে নিজের দীর্ঘতম ও সবচেয়ে দাপুটে শুরুর পিচিং করেন মার্সেডেস।
দুই অধ্যায়ে ছয় শিরোপা
ওয়েই চুয়ানের শিরোপার ইতিহাসে রয়েছে সাফল্যে ভরা প্রথম অধ্যায় এবং দুই দশক পর পুনরুত্থান। ১৯৯০, ১৯৯৭, ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে শিরোপা জয়ের পর ১৯৯৯ সালের শেষ দিকে ভেঙে যায় ড্রাগনস।
২০১৯ সালে ক্লাবটি আবার প্রতিষ্ঠিত হয়, ২০২০ সালে সিপিবিএলের মাইনর লিগে খেলে এবং ২০২১ সালে সর্বোচ্চ বিভাগে ফেরে। প্রত্যাবর্তনের পর ২০২৩ ও ২০২৬ সালের শিরোপা তাদের সংগ্রহে আরও দুটি ট্রফি যোগ করেছে।
ম্যানেজার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং ড্রাগনসের হয়ে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন ইয়ে চুন-চ্যাং। খেলার পর সমর্থক ও দলের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
"আপনাদের সবার কারণেই এই সম্মান ভাগ করে নেওয়ার সৌভাগ্য উপভোগ করতে পেরেছি। এগিয়ে চলো, ওয়েই চুয়ান ড্রাগনস!" তিনি বলেন।
নিয়মিত মৌসুমে লিগের সেরা রেকর্ড নিয়ে সরাসরি তাইওয়ান সিরিজে জায়গা করে নিয়েছিল ওয়েই চুয়ান। ১২ অক্টোবর ইউনি-প্রেসিডেন্ট ৭-ইলেভেন লায়ন্সের বিপক্ষে ৮-২ ব্যবধানে প্লে-অফ জয় দিয়ে টানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজে ওঠে ব্রাদার্স।
দর্শক উপস্থিতিতে রেকর্ড গড়ল তাইপেই ডোম
ছয় ম্যাচে চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজে দর্শক উপস্থিতি ছিল ২৩০,৬১৫। আগের বছরের ব্রাদার্স ও রাকুতেন মাঙ্কিজের পাঁচ ম্যাচের সিরিজে উপস্থিতি ছিল ১৫৩,৩৯৫। বেড়েছে ৭৭,২২০, অর্থাৎ প্রায় ৫০.৩ শতাংশ।
অতিরিক্ত ম্যাচটি মোট দর্শকসংখ্যা বাড়িয়েছে, তবে প্রতি ম্যাচের গড় উপস্থিতিও বেড়েছে। এবারের সিরিজে গড়ে প্রায় ৩৮,৪৩৬ দর্শক ছিলেন; এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৩০,৬৭৯। বৃদ্ধি প্রায় ২৫.৩ শতাংশ।
প্রথম, চতুর্থ ও পঞ্চম ম্যাচের প্রতিটিতে ৪০,০০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন, সব টিকিট বিক্রি হয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে দর্শক ছিলেন ৩৯,৫৬৮, তৃতীয় ম্যাচে ৩২,৮৬৯ এবং ষষ্ঠ ম্যাচে ৩৮,১৭৮। ফাইনালের আগেই দর্শক উপস্থিতি ১৯২,৪৩৭-এ পৌঁছেছিল, হাতে তখনো একটি ম্যাচ বাকি থাকতেই আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।
এই পরিসংখ্যানে একাধিক ম্যাচের টিকিট-প্রবেশ গণনা করা হয়। তাই কোনো সমর্থক একাধিকবার এলে প্রতিবারই তাকে গণনা করা হয়। তাইপেই ডোমে এই সিরিজে চ্যাম্পিয়নশিপের দর্শক উপস্থিতিতে রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো শিরোপা উদ্যাপনও হয়েছে। একই ভেন্যুতে ছয় ম্যাচের পর ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ড্রাগনস।
মূল তথ্য
- ২৬ অক্টোবর সিটিবিসিকে ৬-০ ব্যবধানে হারিয়ে তাইওয়ান সিরিজ ৪-২-এ জেতে ওয়েই চুয়ান এবং ষষ্ঠ শিরোপা অর্জন করে।
- ষষ্ঠ ম্যাচে আটটি স্কোরহীন ইনিংস পিচ করেন ক্রিস্টোফার মার্সেডেস। ১৪ ইনিংসে মাত্র একটি অর্জিত রান দিয়ে সিরিজের এমভিপি হন তিনি।
- তিনটি শাটআউট করে তাইওয়ান সিরিজের রেকর্ড গড়েছে ড্রাগনস।
- তাইওয়ান সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে হারের পর দুবার জেতা প্রথম দল হলো সিটিবিসি।
- চ্যাং চেং-ইউ ও মারিও সানচেজ নিজ নিজ দলের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন।
- ছয় ম্যাচে রেকর্ড ২৩০,৬১৫ দর্শক উপস্থিত ছিলেন; শিরোপা নিশ্চিত করা ম্যাচটি দেখেছেন ৩৮,১৭৮ জন।
- তাইপেই ডোমে শিরোপা উদ্যাপন করা প্রথম দল হলো ওয়েই চুয়ান।






