নতুন রাতের ট্রেন পরিষেবায় শুরুতেই বিপুল বুকিং
বেঙ্গালুরু-মুম্বাই বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসে শুরুতেই ব্যাপক চাহিদা দেখা গেছে। ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর সকাল ৮টায় বুকিং শুরু হওয়ার পর ৬ নভেম্বরের যাত্রায় থার্ড এসিতে অপেক্ষমাণ তালিকা ১০১-এ পৌঁছায়। কর্ণাটক রাজ্য গঠন দিবসের উদ্যাপন কন্নড় রাজ্যোৎসবের সঙ্গে মিল রেখে ১ নভেম্বর বেঙ্গালুরুর স্যার এম বিশ্বেশ্বরাইয়া টার্মিনালে (SMVT) পরিষেবাটির উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
সূচিপত্র
- নতুন রাতের ট্রেন পরিষেবায় শুরুতেই বিপুল বুকিং
- যে শ্রেণিগুলোতে বুকিংয়ের চাপ সবচেয়ে বেশি
- উদ্বোধনের দিন ও নিয়মিত যাত্রার সময়সূচি আলাদা
- নিয়মিত ট্রেনগুলোর সময়সূচি কী?
- কোন কোন স্টেশনে থামবে ট্রেন?
- টিকিটের দাম কত?
- কী কী আসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে?
- যাত্রীরা কোথায় টিকিট বুক করবেন?
- পরবর্তী প্রস্তাবে হুব্বাল্লি রুট
- মূল তথ্য
নিয়মিত যাত্রী পরিষেবা মুম্বাই থেকে ২ নভেম্বর এবং বেঙ্গালুরু থেকে ৩ নভেম্বর শুরু হবে। যাত্রীদের জন্য এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: ১ নভেম্বরের যাত্রাটি ছিল উদ্বোধনী বিশেষ ট্রেন, যার ট্রেন নম্বর ও সময়সূচি নিয়মিত রাতের পরিষেবার থেকে আলাদা।
দক্ষিণ-পশ্চিম রেলওয়ে পরিষেবাটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। বিএমইএল নির্মিত ১৬ কোচের দুটি ট্রেন এতে ব্যবহার করা হবে। বেঙ্গালুরু থেকে নিয়মিত ট্রেনটি ১৬ ঘণ্টা ১০ মিনিটে মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসে (CSMT) পৌঁছাবে। বিদ্যমান ট্রেনগুলোতে এই যাত্রায় ২২ থেকে ২৪ ঘণ্টা লাগে।
যাত্রীরা সন্ধ্যায় রওনা হয়ে রাতে ট্রেনে ঘুমানোর বার্থ পাবেন, আর পরদিন দুপুরের কিছু আগে গন্তব্যে পৌঁছাবেন। নতুন এই সংযোগে অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের রায়চুর, ইয়াদগির, কালাবুরাগি, সোলাপুর ও পুনেসহ মধ্যবর্তী শহরগুলোও যুক্ত হয়েছে।
যে শ্রেণিগুলোতে বুকিংয়ের চাপ সবচেয়ে বেশি
প্রাথমিক বুকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম যাত্রার জন্য সেকেন্ড এসি ও ফার্স্ট এসির সব আসন বুক হয়ে গিয়েছিল। ৩১ অক্টোবর দুপুর ১টা ৪৯ মিনিটে, বুকিং শুরুর ছয় ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে, এই দুই শ্রেণির অপেক্ষমাণ তালিকায় যথাক্রমে দুই ও তিনজন ছিলেন।
৪ নভেম্বরের যাত্রায় সেকেন্ড এসিতে অপেক্ষমাণ তালিকা ছিল পাঁচ এবং ফার্স্ট এসিতে ছয়। ৫ ও ৬ নভেম্বর চাহিদা আরও বেশি ছিল; ওই দুই তারিখে ফার্স্ট এসিতে REGRET দেখানো হয়, অর্থাৎ ওই শ্রেণিতে আর বুকিং নেওয়া যাচ্ছিল না।
শুরুর দিকে আসনপ্রাপ্যতার চিত্র ছিল এমন:
- ৫ নভেম্বর: থার্ড এসিতে অপেক্ষমাণ তালিকা ৫২; সেকেন্ড এসিতে অপেক্ষমাণ তালিকা ৩৭; ফার্স্ট এসিতে REGRET।
- ৬ নভেম্বর: থার্ড এসিতে অপেক্ষমাণ তালিকা ১০১; সেকেন্ড এসিতে অপেক্ষমাণ তালিকা ৬০; ফার্স্ট এসিতে REGRET।
- ৭ নভেম্বর: থার্ড এসিতে অপেক্ষমাণ তালিকা ৪৪; সেকেন্ড এসিতে অপেক্ষমাণ তালিকা ১৬; ফার্স্ট এসিতে অপেক্ষমাণ তালিকা সাত।
কোনো যাত্রীর বুকিং অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকলে, বুকিং পরিবর্তন বা বাতিলের কারণে আসন খালি হলে তিনি তা পেতে পারেন। যাত্রার আগে সর্বশেষ বুকিংয়ের অবস্থা দেখে নেওয়া দরকার। ৩১ অক্টোবরের পরিসংখ্যান বুকিং শুরুর সময়কার চাপের চিত্র; বুকিং চলতে থাকায় আসনপ্রাপ্যতার পরিবর্তন হতে পারে।
ট্রেনটিতে ফার্স্ট এসির আসন সবচেয়ে কম, মাত্র ২৪টি। তুলনায় সেকেন্ড এসিতে ১৮৮টি এবং থার্ড এসিতে ৬১১টি বার্থ রয়েছে। আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক অতিরিক্ত যাত্রীও দ্রুত বুকিংয়ের সুযোগ শেষ করে দিতে পারেন।
উদ্বোধনের দিন ও নিয়মিত যাত্রার সময়সূচি আলাদা
উদ্বোধনী বিশেষ ট্রেন ০৬৫০৩-এর ১ নভেম্বর দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে বেঙ্গালুরু ছাড়ার এবং ২ নভেম্বর সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে মুম্বাই পৌঁছানোর কথা ছিল। এর নির্ধারিত যাত্রাসময় ছিল ১৮ ঘণ্টা, যা নিয়মিত পরিষেবার চেয়ে বেশি।
উদ্বোধন-সংক্রান্ত সময়সূচি কয়েকটি প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হয়। প্রথমে ২ নভেম্বর থেকে নিয়মিত পরিষেবা শুরুর কথা ভাবা হয়েছিল। পরে চূড়ান্ত পরিচালন পরিকল্পনায় ওই দিন মুম্বাই থেকে এবং ৩ নভেম্বর বেঙ্গালুরু থেকে যাত্রা শুরুর দিন নির্ধারণ করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো হলো:
- ৩১ অক্টোবর: সকাল ৮টায় বুকিং শুরু।
- ১ নভেম্বর: SMVT বেঙ্গালুরু থেকে উদ্বোধনী বিশেষ ট্রেনের যাত্রা শুরু করেন বৈষ্ণব।
- ২ নভেম্বর: CSMT মুম্বাই থেকে নিয়মিত ট্রেন ২৭৬৫১-এর যাত্রা শুরু।
- ৩ নভেম্বর: SMVT বেঙ্গালুরু থেকে নিয়মিত ট্রেন ২৭৬৫২-এর যাত্রা শুরু।
চূড়ান্ত সময়সূচি অনুসরণ করেছে ৩ নভেম্বরের বাণিজ্যিক প্রস্তাবটি, যা অক্টোবরের শেষ দিকে রেলওয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। এর আগের ১ নভেম্বরের উদ্বোধন পরিকল্পনায় ভাড়া, বুকিংয়ের ব্যবস্থা ও পরিচালন-সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় ছিল।
নিয়মিত ট্রেনগুলোর সময়সূচি কী?
দক্ষিণ-পশ্চিম রেলওয়ে জানিয়েছে, নিয়মিত পরিষেবা মুম্বাই থেকে ২ নভেম্বর এবং বেঙ্গালুরু থেকে ৩ নভেম্বর শুরু হবে। সাপ্তাহিক চলাচলের দিনসহ সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো।
ট্রেন ২৭৬৫২ সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে SMVT বেঙ্গালুরু ছাড়ে এবং পরদিন সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে CSMT মুম্বাই পৌঁছায়। এটি সপ্তাহে ছয় দিন চলে; সোমবার বেঙ্গালুরু থেকে ছাড়ে না।
ট্রেন ২৭৬৫১ রাত ৮টা ১০ মিনিটে CSMT মুম্বাই ছাড়ে এবং পরদিন দুপুর ১২টায় SMVT বেঙ্গালুরু পৌঁছায়। এটিও সপ্তাহে ছয় দিন চলে; মঙ্গলবার মুম্বাই থেকে ছাড়ে না।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী মুম্বাইগামী যাত্রায় ১৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট এবং বেঙ্গালুরুমুখী যাত্রায় ১৫ ঘণ্টা ৫০ মিনিট লাগে। এর আগে প্রস্তাবিত সময়সূচিতে বেঙ্গালুরু থেকে ছাড়ার সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিট এবং ফেরার ট্রেনের পৌঁছানোর সময় সকাল ১১টা ৫৫ মিনিট ধরা হয়েছিল। সেই হিসাবে দুই দিকের যাত্রাই পাঁচ মিনিট করে কম হতো।
বিদ্যমান ২২ ঘণ্টার যাত্রার তুলনায় নিয়মিত বেঙ্গালুরু-মুম্বাই পরিষেবায় পাঁচ ঘণ্টা ৫০ মিনিট সাশ্রয় হবে। ২৪ ঘণ্টার যাত্রার তুলনায় সাশ্রয় হবে সাত ঘণ্টা ৫০ মিনিট। ফলে বিকল্প ট্রেনের ওপর নির্ভর করে বাস্তবে প্রায় ছয় থেকে আট ঘণ্টা সময় বাঁচবে।
দুপুরের কাছাকাছি পৌঁছালেও পরদিন সকালের কিছুটা সময় ট্রেনেই কাটবে। সকালে কোনো কাজে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে যাত্রীদের পৌঁছানোর সময় এবং টার্মিনাল থেকে গন্তব্যে যেতে কতটা সময় লাগবে, তা বিবেচনায় রাখতে হবে।
কোন কোন স্টেশনে থামবে ট্রেন?
নিয়মিত ট্রেনের তালিকাভুক্ত স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর ও গুন্তাকাল; কর্ণাটকের রায়চুর, ইয়াদগির ও কালাবুরাগি; এবং মহারাষ্ট্রের সোলাপুর, পুনে ও কল্যাণ। ফলে যাত্রীদের এই স্লিপার পরিষেবা ব্যবহার করতে দুই প্রান্তের কোনো একটিতে আগে যেতে হবে না।
উদ্বোধন-সংক্রান্ত ঘোষণায় কর্ণাটকের ওয়াদিও ছিল। কিন্তু আটটি মধ্যবর্তী স্টেশনের কথা উল্লেখ করা বুকিং ও সময়সূচির তথ্যে ওয়াদির নাম বাদ গেছে। ওয়াদি থেকে ওঠা বা নামার পরিকল্পনা থাকলে যাত্রীদের নির্দিষ্ট ট্রেন ও যাত্রার তারিখে দেখানো স্টেশনগুলো যাচাই করা উচিত।
উদ্বোধনী বিশেষ ট্রেনটির স্টপের তালিকা ছিল আরও দীর্ঘ; এতে হিন্দুপুর, ধর্মবরম, কৃষ্ণা ও লোনাভালাও ছিল। পরবর্তী যাত্রার পরিকল্পনায় উদ্বোধনী বিশেষ ট্রেনের রুটের বদলে নিয়মিত ট্রেনের বুকিং-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা উচিত।
এই পরিষেবার বেঙ্গালুরু টার্মিনাল SMVT। শহরের প্রধান স্টেশন কেএসআর বেঙ্গালুরু থেকে ট্রেনটি ছাড়ার পক্ষে কয়েকজন রেল উৎসাহী মত দিয়েছিলেন। ট্রেন ধরতে স্থানীয় যাতায়াতের ব্যবস্থা করার সময় যাত্রীদের গন্তব্য হিসেবে SMVT বেছে নিতে হবে।
টিকিটের দাম কত?
বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বাইয়ের টিকিটের নির্ধারিত ভাড়া থার্ড এসিতে ২,৮১০ রুপি, সেকেন্ড এসিতে ৩,৬৩০ রুপি এবং ফার্স্ট এসিতে ৪,৪৫০ রুপি। থার্ড এসির তুলনায় সেকেন্ড এসির ভাড়া ৮২০ রুপি বেশি; সেকেন্ড এসির তুলনায় ফার্স্ট এসির ভাড়াও ৮২০ রুপি বেশি।
রুটের আংশিক পথে যাতায়াতকারীদের জন্য মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোর ভাড়াও রয়েছে। নিচের প্রতিটি স্টেশনের জন্য ভাড়ার ক্রম থার্ড এসি, সেকেন্ড এসি ও ফার্স্ট এসি; সব ভাড়াই বেঙ্গালুরু থেকে:
- অনন্তপুর বা গুন্তাকাল: ১,০১০, ১,৩০৫ ও ১,৬০০ রুপি।
- রায়চুর: ১,০১৫, ১,৩১০ ও ১,৬০৫ রুপি।
- ইয়াদগির: ১,১৯০, ১,৫৩৫ ও ১,৮৮০ রুপি।
- কালাবুরাগি: ১,৩৮০, ১,৭৮৫ ও ২,১৮৫ রুপি।
- সোলাপুর: ১,৬৬৫, ২,১৫০ ও ২,৬৩৫ রুপি।
- পুনে: ২,৩৩০, ৩,০১০ ও ৩,৬৮৫ রুপি।
- কল্যাণ: ২,৬৭৫, ৩,৪৫৫ ও ৪,২৩৫ রুপি।
থার্ড এসিতে বেঙ্গালুরু-পুনে টিকিটের দাম মুম্বাই পর্যন্ত পুরো যাত্রার চেয়ে ৪৮০ রুপি কম। ওই শ্রেণিতে কল্যাণ পর্যন্ত টিকিটের দাম ১৩৫ রুপি কম। যাত্রীদের রেলভাড়ার পাশাপাশি পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার খরচ বিবেচনা করে প্রকৃত গন্তব্যের স্টেশনটি বেছে নেওয়া উচিত।
কী কী আসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে?
প্রতিটি ট্রেনে ১১টি থার্ড এসি, চারটি সেকেন্ড এসি এবং একটি ফার্স্ট এসি কোচ রয়েছে। তালিকাভুক্ত মোট ধারণক্ষমতা ৮২৩ জন: থার্ড এসিতে ৬১১, সেকেন্ড এসিতে ১৮৮ এবং ফার্স্ট এসিতে ২৪ জন। মোট বার্থের প্রায় ৭৪ শতাংশই থার্ড এসিতে।
তিনটি শ্রেণিতেই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত শোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। থার্ড এসিতে সাধারণত তিন স্তরে বার্থ থাকে, আর সেকেন্ড এসিতে থাকে দুই স্তর। এই ট্রেনে ফার্স্ট এসি সবচেয়ে ছোট এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল শ্রেণি।
তালিকাভুক্ত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে কুশনযুক্ত বার্থ, স্বয়ংক্রিয় বাইরের দরজা, কোচের মধ্যে সংযোগকারী ভেস্টিবিউল, উন্নত সাসপেনশন, শব্দ কমানোর ব্যবস্থা এবং জরুরি টকব্যাক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে যাত্রীরা রেলকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। ট্রেনটিতে কাভাচও রয়েছে, এটি একটি স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা, যা নির্দিষ্ট ধরনের সংঘর্ষ ও অনিরাপদ ট্রেন চলাচল ঠেকাতে সহায়তার জন্য তৈরি।
ট্রেনটির নকশাগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার। নির্ধারিত যাত্রাপথে বিভিন্ন স্টেশনে থামতে হয় এবং কিছু অংশে চলাচলের গতিসীমাও আলাদা। উদ্বোধনের আগে মুম্বাই ও পুনের মধ্যে ঘাট সেকশনে পরীক্ষামূলক যাত্রা চালানো হয়েছিল।
যাত্রীরা কোথায় টিকিট বুক করবেন?
IRCTC ওয়েবসাইট, রেল কানেক্ট ও রেলওয়ান অ্যাপ এবং রেলস্টেশনের প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম কাউন্টার থেকে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইনে বুকিং করতে হলে ট্রেন বেছে নেওয়ার আগে যাত্রার শুরু ও গন্তব্যের স্টেশন, যাত্রার তারিখ এবং আসনের শ্রেণি নির্বাচন করতে হবে।
দিক নির্ধারণে ট্রেন নম্বর কাজে আসে: ২৭৬৫২ বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বাই যায়, আর ২৭৬৫১ মুম্বাই থেকে বেঙ্গালুরু যায়। অর্থ পরিশোধের আগে যাত্রীদের টার্মিনাল, তারিখ, শ্রেণি ও বুকিংয়ের অবস্থা যাচাই করা উচিত।
অনলাইনে অর্থ পরিশোধের আগে যাত্রীর তথ্য, বার্থের পছন্দ, আসনপ্রাপ্যতা এবং মোট প্রদেয় অর্থ দেখানো হয়। চেকআউটে দেখানো চূড়ান্ত অঙ্কে প্রযোজ্য কর ও বুকিং চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রে সপ্তাহের যে দিনগুলোতে ট্রেন চলে না, সেগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: বেঙ্গালুরু থেকে সোমবার এবং মুম্বাই থেকে মঙ্গলবার।
পরবর্তী প্রস্তাবে হুব্বাল্লি রুট
১ নভেম্বরের অনুষ্ঠানে বৈষ্ণব বেঙ্গালুরু থেকে হুব্বাল্লি অঞ্চলের মধ্য দিয়ে পুনে ও মুম্বাই পর্যন্ত চলাচলকারী আরও একটি বন্দে ভারত স্লিপার পরিষেবার প্রস্তাব ঘোষণা করেন। প্রস্তাবিত ট্রেনটির স্টপের বিস্তারিত তালিকা, সময়সূচি বা চালুর তারিখ জানানো হয়নি।
"আমি ঘোষণা করছি, কর্ণাটকের জন্য পরবর্তী বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি বেঙ্গালুরু থেকে যাত্রা শুরু করবে। উত্তর কর্ণাটকের বিভিন্ন অংশকে হুব্বাল্লির সঙ্গে যুক্ত করে এরপর পুনে ও মুম্বাইয়ের দিকে যাবে," তিনি বলেন।
কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী বৈষ্ণব নতুন স্লিপার সংযোগগুলোর পরিকল্পিত পরিসর এবং রুট নির্ধারণে আলোচনার কথা তুলে ধরেন:
"উত্তর কর্ণাটকের বেশ কয়েকটি অংশ এই ট্রেনের আওতায় আসবে, যেসব এলাকায় আগে বিশ্বমানের ভালো ট্রেন যোগাযোগ ছিল না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশি, সোমান্না ও কুমারস্বামীসহ অন্যদের সঙ্গে আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে রুটটি চূড়ান্ত করা হয়েছে," তিনি বলেন।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হাওড়া-গুয়াহাটি করিডরে এবং ৩১ অক্টোবর বারাণসী-নতুন দিল্লি রুটে বন্দে ভারত স্লিপার পরিষেবা চালুর পর বেঙ্গালুরু-সংযোগটি যুক্ত হলো। রাতের যাত্রায় যাত্রীদের জন্য আরও কিছু রুটে এই স্লিপার পরিষেবা চালু হচ্ছে।
বৈষ্ণব আরও বলেন, বিদ্যুতায়ন ও পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বেঙ্গালুরু-মাঙ্গালুরু বন্দে ভারত পরিষেবা চালু হওয়ার কথা। তিনি বলেন, "বন্দে ভারতে বেঙ্গালুরু থেকে মাঙ্গালুরু পর্যন্ত সংযোগ এখন প্রস্তুত। বিদ্যুতায়ন ও পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বেঙ্গালুরু-মাঙ্গালুরু বন্দে ভারত চালু হবে।" স্লিপার পরিষেবা চালুর বিষয় থেকে আলাদা করে তিনি বেঙ্গালুরু-পুনেসহ সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ বুলেট ট্রেন করিডর নিয়েও আলোচনা করেন।
৩০ অক্টোবর রেলওয়ে বোর্ড ম্যাঙ্গালুরু জংশন হয়ে ইয়েশ্বন্তপুর-মাদগাঁও বন্দে ভারত চেয়ার কার পরিষেবার অনুমোদন দেয়।
মূল তথ্য
- বেঙ্গালুরু-মুম্বাই বন্দে ভারত স্লিপারের উদ্বোধন হয়েছে ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- নিয়মিত পরিষেবা মুম্বাই থেকে ২ নভেম্বর এবং বেঙ্গালুরু থেকে ৩ নভেম্বর শুরু হবে।
- বেঙ্গালুরু থেকে ট্রেন ছাড়ে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে; পরদিন সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে মুম্বাই পৌঁছায়।
- মুম্বাই থেকে ট্রেন ছাড়ে রাত ৮টা ১০ মিনিটে; পরদিন দুপুর ১২টায় বেঙ্গালুরু পৌঁছায়।
- বেঙ্গালুরু থেকে সোমবার এবং মুম্বাই থেকে মঙ্গলবার ট্রেন ছাড়ে না।
- পুরো যাত্রার ভাড়া থার্ড এসিতে ২,৮১০ রুপি, সেকেন্ড এসিতে ৩,৬৩০ রুপি এবং ফার্স্ট এসিতে ৪,৪৫০ রুপি।
- শুরুর দিকের বুকিংয়ে অপেক্ষমাণ তালিকা অনেক দীর্ঘ হয়; ৬ নভেম্বরের জন্য থার্ড এসিতে তালিকায় ছিলেন ১০১ জন।
- হুব্বাল্লি হয়ে বেঙ্গালুরু-মুম্বাইয়ের আরেকটি স্লিপার পরিষেবার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- বৈষ্ণব বলেন, বিদ্যুতায়ন ও পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর বেঙ্গালুরু-মাঙ্গালুরু বন্দে ভারত পরিষেবা প্রস্তুত; কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি চালুর কথা।






