রিয়াদে বড় জয়, লক্ষ্য এখন আরেক ওজন বিভাগ
ডব্লিউবিসি সিলভার ফেদারওয়েট বেল্ট, ২৯ জয়ের অপরাজিত রেকর্ড এবং পরের ওজন বিভাগ নিয়ে সিদ্ধান্ত—সবকিছু সঙ্গে নিয়ে রিয়াদ ছেড়েছেন কার্ল জামেস মার্টিন। ৩১ অক্টোবর রিয়াদের কিংডম অ্যারেনায় মেক্সিকোর ডেভিড পিকাসোকে হারানোর পর, ম্যানিলার হিসাবে ১ নভেম্বর, ফিলিপিনো এই বক্সারের পছন্দের লক্ষ্য ১২২ পাউন্ডে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জয়।
সূচিপত্র
- রিয়াদে বড় জয়, লক্ষ্য এখন আরেক ওজন বিভাগ
- পিকাসোর সুবিধা কীভাবে খর্ব করলেন মার্টিন
- লড়াইয়ের হিসাব পাল্টে দেওয়া নকডাউন
- স্কোরকার্ডের তাৎপর্য
- পিকাসো কেন কঠিন প্রতিপক্ষ ছিলেন
- বড় জয়ের পেছনে প্রস্তুতি
- কেন ১২২ পাউন্ডই এখনো অগ্রাধিকার
- পুনর্ম্যাচ হতে পারে, তবে আগে বিশ্রাম
- মার্টিনের পরবর্তী পদক্ষেপের পেছনের ঘটনাক্রম
- মূল বিষয়গুলো
ইফুগাওয়ের লাগাওয়ে থেকে আসা ২৭ বছর বয়সী মার্টিন সপ্তম রাউন্ডে নকডাউন হওয়া সত্ত্বেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয় পান। বিচারক হোর্হে গোরিনি ও ব্যারি লিন্ডারম্যান মার্টিনের পক্ষে যথাক্রমে ৯৫-৯৪ ও ৯৬-৯৩ স্কোর করেন, আর গুইদো কাভালের্লি পিকাসোর পক্ষে ৯৫-৯৪ রায় দেন। প্রাথমিক এক বিবরণে পিকাসোর জয়ী স্কোরকার্ড ৯৬-৯৫ বলা হয়েছিল; তিন বিচারকের নাম উল্লেখ করা বিবরণগুলোতে কাভালের্লির স্কোর ৯৫-৯৪।
ক্যানেলো আলভারেজ ও ক্রিশ্চিয়ান এমবিলির লড়াইয়ের আন্ডারকার্ডে এই জয় পান মার্টিন, ফলে তিনি অনেক বড় আন্তর্জাতিক দর্শকের নজরে আসেন। ২১টি নকআউটসহ তার জয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯-এ। অন্যদিকে পিকাসোর রেকর্ড হয়েছে ৩৩ জয়, ২ হার ও ১ ড্র, যার মধ্যে ১৮টি নকআউটে জয়।
মার্টিনের অর্জন বড়, তবে বেল্টটির অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ: ডব্লিউবিসি সিলভার চ্যাম্পিয়নশিপ সংস্থাটির মূল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের নিচের স্তরে। এবার তার কাজ, এই জয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ব শিরোপার লড়াইয়ের সুযোগে পরিণত করা।
মার্টিনের ম্যাচমেকার ও প্রমোটার শন গিবন্স এরপর সুপার ব্যান্টামওয়েটে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, যে বিভাগের ওজনসীমা ১২২ পাউন্ড। ওয়ার্ল্ড বক্সিং অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউবিও) র্যাঙ্কিংয়ে এই বিভাগে মার্টিন এক নম্বরে আছেন। তবে শিরোপার সুযোগ এলে ফেদারওয়েটে থেকে যাওয়ার বিষয়েও তিনি আগ্রহী; ওই বিভাগের ওজনসীমা ১২৬ পাউন্ড।
এই বিকল্পগুলোই রিয়াদের জয়ের দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব তুলে ধরে। নাওয়া ইনোয়ের সঙ্গে লড়ার অভিজ্ঞতা থাকা এক প্রতিপক্ষকে হারিয়েছেন মার্টিন, স্কোরে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলেছেন এবং পরের লড়াইয়ের জন্য নিজের দর-কষাকষির অবস্থান শক্ত করেছেন।
পিকাসোর সুবিধা কীভাবে খর্ব করলেন মার্টিন
পিকাসো উচ্চতায় প্রায় দুই ইঞ্চি এবং হাতের নাগালে পাঁচ ইঞ্চির সুবিধা নিয়ে রিংয়ে নামেন। হাতের নাগার মাপ বলতে দুই হাত প্রসারিত করলে বক্সারের আঙুলের ডগা দুটির মধ্যবর্তী দূরত্ব বোঝায়। হাতের নাগা বেশি হলে প্রতিপক্ষের আঘাতের পাল্লার বাইরে থেকেও ঘুষি লাগানো সহজ হতে পারে।
গতি, নড়াচড়া ও ছন্দের পরিবর্তনে এর জবাব দেন মার্টিন। সাউথপ’ হিসেবে লড়াই করেন তিনি—ডান হাত সামনে, বাঁ হাত পেছনে রেখে। ডান জ্যাব, সোজা বাঁ ও হুক দিয়ে পিকাসোর আক্রমণে বাধা দেন। পিকাসো লড়াই করেন অর্থোডক্স ভঙ্গিতে, বাঁ হাত সামনে রেখে।
মার্টিন বারবার ঘুষি মারার দূরত্বে ঢুকে কম্বিনেশন মারেন, তারপর পিকাসো ধারাবাহিক আক্রমণ গড়ে তোলার আগেই সরে যান। তার ফেইন্ট—অর্থাৎ ঘুষি না মেরেই ঘুষি মারার ভঙ্গি করা—পিকাসোকেও দ্বিধায় ফেলেছিল: জ্যাব মারবেন, নাকি আত্মরক্ষা করবেন।
লড়াইয়ের শুরুতেই সোজা বাঁ হাতে পিকাসোর নাক দিয়ে রক্ত ঝরান মার্টিন। শরীরেও আক্রমণ করেন তিনি, এতে মেক্সিকানের গার্ড নিচে নামে এবং মাথায় আঘাত করার সুযোগ তৈরি হয়। পাল্টা পিকাসোও শরীরে ঘুষি মারেন, ফিলিপিনোর নড়াচড়ার গতি কমানোর চেষ্টা করেন।
মার্টিনের দীর্ঘদিনের উপদেষ্টা ডেনিস প্রিন্সিপে বলেন, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পিকাসোকে কাছ থেকে লড়াইয়ে টেনে আনার অনুশীলন করা হয়েছিল, যাতে তার বেশি হাতের নাগার সুবিধা কমে আসে। ওই বিনিময়গুলোর মধ্যে মার্টিনের নড়াচড়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল: পয়েন্ট পেতে তিনি ভেতরে ঢুকতে পারতেন, তারপর পিকাসো স্বচ্ছন্দ ছন্দে ফেরার আগেই সরে যেতে পারতেন।
লড়াইয়ের হিসাব পাল্টে দেওয়া নকডাউন
সপ্তম রাউন্ডে পিকাসোর ছোট বাঁ জ্যাব মার্টিনকে আঘাত করলে ফিলিপিনো বক্সার ক্যানভাস ছুঁয়ে বসেন, আর তাতেই স্কোরের চিত্র বদলে যায়। দ্রুত উঠে মার্টিন অভিযোগ করেন যে তিনি হোঁচট খেয়েছিলেন। ওই ঘটনার বিবরণে দুই বক্সারের পায়ের সংস্পর্শের কথাও এসেছে, তবে পিকাসোর ঘুষি লাগার পর রেফারি নকডাউন ঘোষণা করেন।
নকডাউনের জন্য সাধারণত সেই রাউন্ডে আঘাত করা বক্সারকে ১০-৮ স্কোর দেওয়া হয়; রাউন্ড জিতলে প্রচলিত স্কোর ১০-৯। অল্প ব্যবধানে নিষ্পত্তি হওয়া লড়াইয়ে এই অতিরিক্ত পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
মার্টিন মনোযোগ ফিরে পেয়ে এবং সুযোগ খুঁজতে থাকেন। লড়াইয়ের পর নকডাউন সামলে কীভাবে মানিয়ে নিয়েছিলেন জানতে চাইলে নতুন ডব্লিউবিসি সিলভার চ্যাম্পিয়ন সংক্ষেপে জবাব দেন।
"শুধু ধৈর্য," বলেন মার্টিন।
শেষের রাউন্ডগুলোতে কিছু সময় মার্টিনের আক্রমণ ছিল আরও মেপে নেওয়া, তবে তিনি মাথা ও শরীরে ঘুষি লাগাতে থাকেন। সপ্তম রাউন্ডে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ দুই রাউন্ডে জোরালো পারফরম্যান্স বিচারকদের সামনে তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে সাহায্য করে।
শেষ রাউন্ডের আগে মার্টিনকে সবটা ঢেলে দিতে বলেন প্রিন্সিপে। ফিলিপিনো ভাষায় তাকে বলেন, "Buhos na, wala nang next round," অর্থাৎ সবটুকু দাও, আর কোনো পরের রাউন্ড নেই। একটি রাউন্ডই বিচারকের রায় বদলে দিতে পারে—লড়াইয়ের এই জরুরি পরিস্থিতিটিই নির্দেশনাটিতে ফুটে ওঠে।
স্কোরকার্ডের তাৎপর্য
গোরিনির ৯৫-৯৪ স্কোরকার্ডে মার্টিন এক পয়েন্টে জেতেন, আর লিন্ডারম্যানের ৯৬-৯৩ কার্ডে ব্যবধান ছিল তিন পয়েন্ট। কাভালের্লি এক পয়েন্টে পিকাসোকে এগিয়ে রাখেন। স্প্লিট ডিসিশন মানে দুই বিচারক একজন বক্সারকে এবং তৃতীয় বিচারক তার প্রতিপক্ষকে বিজয়ী বেছে নিয়েছেন।
প্রতিটি বিচারক আলাদা করে প্রতিটি রাউন্ডের স্কোর দেন। তিনটি স্কোরকার্ডের পয়েন্ট যোগ করে নয়, কতজন বিচারক একজন বক্সারকে এগিয়ে রেখেছেন তার ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারিত হয়। তাই তিনটি রায়ের মধ্যে দুটি নিজের পক্ষে পাওয়ায় মার্টিন জিতেছেন।
গিবন্সের মতে, মার্টিন সাতটি রাউন্ড জিতেছিলেন। তার মূল্যায়ন ছিল সবচেয়ে কাছাকাছি ব্যবধানের দুই স্কোরকার্ডের চেয়ে ফিলিপিনোর পক্ষে বেশি অনুকূল। এতে বোঝা যায়, মার্টিনের নিখুঁত কম্বিনেশন, পিকাসোর চাপ এবং নকডাউনকে পর্যবেক্ষকেরা কত ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন।
২৯ জয়ের মধ্যে মার্টিনের ২১টি নকআউটের অর্থ, তার জয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ এসেছে নির্ধারিত সময়ের আগেই। রিয়াদে তাকে অন্যভাবে জিততে হয়েছে: শক্তি সামলাতে হয়েছে, নকডাউন থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হয়েছে এবং অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শেষ ঘণ্টা বাজার আগপর্যন্ত কার্যকর থাকতে হয়েছে।
পিকাসো কেন কঠিন প্রতিপক্ষ ছিলেন
২০২৫ সালে ইনোয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে ১২ রাউন্ড শেষ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে রিংয়ে নামেন পিকাসো। সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে হারলেও ইনোয়ের মতো শীর্ষ চ্যাম্পিয়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তার ছিল, যা মার্টিনের তখনো হয়নি।
এরপর ওজন বাড়িয়ে ২০২৬ সালের আগস্টে দুই রাউন্ডে স্বদেশি মাইকোল রিঙ্কনকে থামিয়ে ডব্লিউবিসি সিলভার ফেদারওয়েট বেল্ট জেতেন পিকাসো। রিয়াদে সেই বেল্টই তার কাছ থেকে নেন মার্টিন। ইনোয়ে ও মার্টিনের কাছে হার দুটির মাঝখানে রিঙ্কনের বিরুদ্ধে জয়টি এসেছিল; ফলে পিকাসোর টানা দুই হার নয়, ক্যারিয়ারে মোট দুটি হার।
বাজির একটি হিসাবে পিকাসোর জয়ের সম্ভাবনা ছিল ৮৭ শতাংশ, মার্টিনের ১৩ শতাংশ। প্রতিপক্ষদের তালিকায় মেক্সিকানের উল্লেখযোগ্য এগিয়ে থাকা—বিশেষ করে এই ম্যাচের আগে থাকা প্রত্যাশারই প্রতিফলন ছিল ওই হিসাব।
মার্টিনের অপরাজিত রেকর্ড আগেই ছিল নজরকাড়া, তবে পিকাসো সেই রেকর্ডে আরও পরিচিত এক প্রতিপক্ষের নাম যোগ করলেন। ফিলিপিনো বক্সার এখন এমন একজনকে হারিয়েছেন, যিনি ওই বিভাগে চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য লড়েছেন যে বিভাগে মার্টিনের ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
বড় জয়ের পেছনে প্রস্তুতি
কার্লের বাবা ও দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষক অ্যাবেল মার্টিন প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গিবন্সের ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে অনুশীলন এবং ফিলিপিনো কোচ মারভিন সোমোডিওর সঙ্গে কাজও শিবিরের অংশ ছিল।
শিবিরের সময়কাল নিয়ে বিবরণে পার্থক্য আছে। এক বিবরণে বলা হয়েছে, অ্যাবেলের সঙ্গে তিন মাস প্রস্তুতির পর যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী ধাপের অনুশীলন হয়েছিল; গিবন্স বলেছেন, লাস ভেগাস ও লস অ্যাঞ্জেলেসে তিন মাস ছিলেন মার্টিন, যার মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেসে সোমোডিওর সঙ্গে প্রায় তিন সপ্তাহ কাজ করেন। দুই বিবরণেই দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্প্যারিং পার্টনার পাওয়ার সুযোগের কথা রয়েছে।
লাস ভেগাসে গিবন্সের নাকলহেডস বক্সিং কেন্দ্রে অনুশীলন করেন মার্টিন। সোমোডিও তাকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করেন, যদিও রিয়াদের কর্নারে তাকে ঘিরে বিবরণ এক নয়: কিছু বিবরণে অ্যাবেলের পাশে সোমোডিওর থাকার কথা বলা হয়েছে, আর গিবন্স বলেছেন, লন্ডনে আগে থেকে একটি দায়বদ্ধতা থাকায় কোচ সেখানে যেতে পারেননি। প্রিন্সিপে তার সঙ্গে কর্নারে থাকা সদস্য হিসেবে অ্যাবেল ও কাটম্যান হার্ভি এসত্রাদার নাম বলেছেন।
জয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণ ও স্প্যারিং উপকার করেছে বলে জানান মার্টিন। লড়াইয়ের পর প্রস্তুতি থেকে কী পেয়েছেন, তা বর্ণনা করেন তিনি।
"যুক্তরাষ্ট্রে আমি অনেক কিছু শিখেছি। অনেক অনুশীলন করেছি। ভালো স্প্যারিং পার্টনারও পেয়েছি অনেক। আমি জিতেছি, জিতেছি, ডব্লিউবিসি সিলভার শিরোপা!" বলেন মার্টিন।
মার্টিনের পারিশ্রমিক অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৯৫ লাখ ৮০ হাজার পিলিপাইন পেসো বলে জানানো হয়েছে। বড় আন্তর্জাতিক কার্ডে পিকাসোকে হারানোর ক্রীড়াগত গুরুত্বের পাশাপাশি এই অঙ্ক তার এই লড়াইয়ের আর্থিক পরিসরও বোঝায়।
কেন ১২২ পাউন্ডই এখনো অগ্রাধিকার
সুপার ব্যান্টামওয়েটে ডব্লিউবিওর এক নম্বর প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় মার্টিনের দলের কাছে ১২২ পাউন্ডে ফেরার পক্ষে যুক্তি রয়েছে। পিকাসোর বিরুদ্ধে জয়ের আগে এই বিভাগে আন্তর্জাতিক বক্সিং ফেডারেশনের (আইবিএফ) র্যাঙ্কিংয়েও তিনি সাত নম্বরে ছিলেন।
গিবন্স বলেছেন, কম ওজনের বিভাগে বিশ্ব শিরোপার সুযোগের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই পরিকল্পনা। ইনোয়ে ওজন বাড়াতে পারেন—এই সম্ভাবনাও তার প্রত্যাশার একটি ভিত্তি; তাতে ১২২ পাউন্ডের শিরোপাগুলো খালি হতে পারে। তবে ইনোয়ের ওজন বাড়ানো এবং তার ফলে শিরোপা খালি হওয়া—দুটিই এখনো সম্ভাব্য ঘটনা; মার্টিনের পরের প্রতিপক্ষ বা লড়াইয়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
ফিলিপাইন স্পোর্টস রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফোরামে নিজের পছন্দের কথা জানান মার্টিন, তবে ফেদারওয়েটে আকর্ষণীয় প্রস্তাবের সুযোগও খোলা রাখেন। অপরাজিত এই প্রতিদ্বন্দ্বী বলেন, সুপার ব্যান্টামওয়েটে চ্যাম্পিয়ন হওয়াই তার অগ্রাধিকার।
তবে সুপার ব্যান্টামওয়েট বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়াই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার," বলেন মার্টিন। "কিন্তু ফেদারওয়েটে শিরোপার লড়াইয়ের প্রস্তাব এলে আপাতত আমি এখানেই থাকতে আগ্রহী।
কোনো অনুমোদনকারী সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী শিরোপার সুযোগ পাওয়ার জন্য মনোনীত বক্সারকে বাধ্যতামূলক চ্যালেঞ্জার বলা হয়। র্যাঙ্কিংয়ে মার্টিনের অবস্থান তাকে সেই প্রক্রিয়ায় এগিয়ে রাখে। তবে বাস্তব লড়াইটি কার সঙ্গে হবে, তা নির্ভর করবে চ্যাম্পিয়নের পরিচয়, সংস্থার সিদ্ধান্ত এবং দর-কষাকষির ওপর।
পুনর্ম্যাচ হতে পারে, তবে আগে বিশ্রাম
সিদ্ধান্তের পর আরেকটি লড়াইয়ের অনুরোধ করেন পিকাসো, মার্টিনের ভাষ্য অনুযায়ী; কথোপকথনে তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন বলেও জানান। বেল্ট জয়ের পরের কথাবার্তা স্মরণ করেন মার্টিন।
"সে বলল, 'ভাই, আমি পুনর্ম্যাচ চাই।' চল আবার লড়ি। তারপর সে বলল, 'চলো ভাই,'" বলেন মার্টিন।
ফোরামে মার্টিন আরও বলেন, তিনি শীর্ষ তিন বা চার র্যাঙ্কিংয়ে থাকা প্রতিপক্ষ এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই চান। বড় কোনো সুযোগের পাশাপাশি পিকাসোর সঙ্গে ফিরতি লড়াইও তাই একটি বিকল্প।
অ্যাবেল মার্টিন বলেন, আপাতত প্রায় এক মাস বিশ্রাম নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এরপর গিবন্স পরের দায়িত্ব জানানো পর্যন্ত ধীরে ধীরে অনুশীলনে ফিরবেন মার্টিন। বক্সারের জন্য এখন বাস্তব অগ্রাধিকার হলো সুস্থ হয়ে ওঠা ও প্রস্তুত থাকা, সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি কঠিন শিবিরে যোগ দেওয়া নয়।
মার্টিনের পরবর্তী পদক্ষেপের পেছনের ঘটনাক্রম
এখন মার্টিনের সিদ্ধান্ত দুটি বিভাগ এবং পিকাসোর ক্যারিয়ারের কয়েকটি পর্যায়ের সঙ্গে যুক্ত। গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো দেখায় কীভাবে ডব্লিউবিসি সিলভার বেল্ট হাতবদল হলো এবং কেন ১২২ পাউন্ডে ফেরার আলোচনা হচ্ছে।
- ২০২৫ সালে সুপার ব্যান্টামওয়েটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে নাওয়া ইনোয়ের কাছে পয়েন্টে হারেন পিকাসো।
- ২০২৬ সালের আগস্টে দুই রাউন্ডে মাইকোল রিঙ্কনকে থামিয়ে ডব্লিউবিসি সিলভার ফেদারওয়েট বেল্ট জেতেন পিকাসো।
- রিয়াদে ৩১ অক্টোবর, ম্যানিলায় ১ নভেম্বর, ১০ রাউন্ডের লড়াইয়ে স্প্লিট ডিসিশনে পিকাসোকে হারান মার্টিন।
- লড়াইয়ের পর পুনর্ম্যাচে আগ্রহের কথা জানান মার্টিন, আর গিবন্স সুপার ব্যান্টামওয়েটে ফেরার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
- পরবর্তী ফিলিপাইন স্পোর্টস রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফোরামে মার্টিন চ্যাম্পিয়নশিপের সুযোগকে অগ্রাধিকার দেন এবং অ্যাবেল মার্টিন প্রায় এক মাস বিশ্রামের কথা জানান।
রিয়াদে মার্টিন এমন কিছু পেয়েছেন, যা শুধু র্যাঙ্কিং দিয়ে পাওয়া যায় না: আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে প্রতিষ্ঠিত এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারানোর জয়। পরের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে, এই ফল তাকে পরিচিত বিভাগে ফিরিয়ে নেবে, নাকি ফেদারওয়েটে আরেকটি সুযোগের দিকে এগিয়ে দেবে।
মূল বিষয়গুলো
- রিয়াদে স্প্লিট ডিসিশনে পিকাসোকে হারিয়ে ডব্লিউবিসি সিলভার ফেদারওয়েট বেল্ট জিতেছেন মার্টিন।
- সপ্তম রাউন্ডে নকডাউন হওয়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ২১ নকআউটসহ ২৯-০ রেকর্ডে পৌঁছেছেন ফিলিপিনো বক্সার।
- পিকাসোর রেকর্ড হয়েছে ১৮ নকআউটসহ ৩৩-২-১।
- ডব্লিউবিসি সিলভার বেল্ট একটি দ্বিতীয় স্তরের চ্যাম্পিয়নশিপ, সংস্থাটির মূল বিশ্ব শিরোপার নিচে।
- ১২২ পাউন্ডে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন মার্টিন; ডব্লিউবিওর র্যাঙ্কিংয়ে এই বিভাগে তিনি এক নম্বরে।
- পিকাসোর সঙ্গে পুনর্ম্যাচের সুযোগ রয়েছে। অনুশীলনে ধীরে ধীরে ফেরার আগে প্রায় এক মাস বিশ্রামের কথা ভাবা হচ্ছে।






