চিপ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে KOSPI ৫,০০০-এর নিচে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে তীব্র দরপতনের প্রভাব স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারে ছড়িয়ে পড়ায়, ৬ নভেম্বর লেনদেন শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে KOSPI ৮%-এর বেশি পড়ে যায়। এরপর দক্ষিণ কোরিয়া তার প্রধান শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ করে দেয়। দাম কমলে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য করতে পারে, এমন জামানত-সংক্রান্ত শর্ত থেকে সাময়িক ছাড়ের ঘোষণা দেয় সরকার।
সূচিপত্র
- চিপ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে KOSPI ৫,০০০-এর নিচে
- কয়েক মিনিটে বাজারে ধস
- পতনে এগিয়ে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স
- যুক্তরাষ্ট্রের এআই নিয়ে উদ্বেগ সিউলে পৌঁছাল যেভাবে
- লেনদেন বন্ধের বিধিনিষেধগুলো আসলে কী করে
- KOSDAQ বিনিয়োগকারীরাও একই রকম দরপতনের মুখে
- বাধ্যতামূলক বিক্রি কমাতে সরকারের পরিকল্পনা
- এআই বিনিয়োগ ঘিরে বাণিজ্যে তীব্র বিপরীতমুখী মোড়
- মূল বিষয়গুলো
সকাল ৯টা ২ মিনিটে KOSPI ছিল ৪,৯৩৫.৮১ পয়েন্টে, ৮.৩২% কম। এক মিনিট পর সূচকটি ৮.৫২% কমে ৪,৯২৪.৬১ পয়েন্টে নেমে গেলে প্রথম স্তরের সার্কিট ব্রেকার চালু হয় এবং ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন বন্ধ থাকে। প্রায় নয় মাস আগে, ৬ ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম সূচকটি ৫,০০০-এর নিচে নামে।
স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ার শুরুতে ১০.০৭% কমে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ ওনে নেমে যায়। এসকে হাইনিক্সের দর পড়ে ১২.১৮%, দাঁড়ায় ১১ লাখ ১০ হাজার ওনে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো সম্প্রসারণে ব্যবহৃত মেমোরি চিপ সরবরাহ করে দুই কোম্পানিই। ফলে এ বিনিয়োগের গতি ও মুনাফা নিয়ে উদ্বেগে তাদের শেয়ার ঝুঁকির মুখে পড়ে।
রাতভর বাজারে ধাক্কাটি ছিল তীব্র: ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক ১২.৩% এবং নাসডাক কম্পোজিট ৫.৫২% কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এআই ও ডেটা সেন্টার নির্মাণে দেশটির সম্ভাব্য বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি, এআই খাতে ব্যয় থেকে যথেষ্ট মুনাফা আসবে কি না, সে বিষয়ে আগে থেকেই থাকা সংশয়ের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন বিনিয়োগকারীরা।
উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থনীতি ও অর্থমন্ত্রী লি হিয়ং-ইল সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। কর্মকর্তারা তিন মাসের জন্য মার্জিন ঋণে ১৪০% জামানত অনুপাত বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা থেকে সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছাড় দিতে সম্মত হন। এ ছাড় ৯ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
কয়েক মিনিটে বাজারে ধস
লেনদেন শুরুর বিস্তারিত হিসাব অনুযায়ী, KOSPI প্রথমে ১২০.৫৪ পয়েন্ট বা ২.২৪% কমে ৫,২৬৩.২৬-এ নেমেছিল; এরপর লোকসান দ্রুত বাড়ে। ৮.৫৫% কমে ৪,৯২৩.৪৭-এ নেমে যাওয়ার আরেকটি প্রারম্ভিক হিসাবও প্রকাশ করা হয়। সময়ভিত্তিক হিসাবে সকাল ৯টা ২ মিনিটে সূচক ৫,০০০-এর নিচে নামে এবং সকাল ৯টা ৩ মিনিটে লেনদেন বন্ধ হয়।
সকালে দুই প্রধান বাজারে বিভিন্ন ধরনের একাধিক লেনদেন-নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। নিচে দেওয়া সব সময় দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সময়।
- ৫ নভেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের লেনদেন: নাসডাক কম্পোজিট ৫.৫২% এবং ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক ১২.৩% কমে।
- ৬ নভেম্বর, বাজার খোলার সময়: স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সের দামে বড় ওঠানামার পর সাময়িক বিধিনিষেধ জারি হয়।
- সকাল ৯টা ২ মিনিট: KOSPI ৮.৩২% কমে ৪,৯৩৫.৮১ পয়েন্টে ছিল।
- সকাল ৯টা ৩ মিনিট: প্রথম স্তরের সার্কিট ব্রেকারে প্রধান বাজারে ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন বন্ধ হয়।
- সকাল ৯টা ৬ মিনিট: KOSDAQ বাজার-সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম বিক্রির আদেশ পাঁচ মিনিটের জন্য স্থগিত করার পৃথক বিধিনিষেধ জারি হয়।
- সকাল ৯টা ২৩ মিনিট: প্রধান বাজারে লেনদেন আবার শুরু হয়।
- সকাল ৯টা ৩৪ মিনিট: KOSPI 200 ফিউচারসের দর দ্রুত কমার পর প্রোগ্রাম বিক্রির আদেশে পাঁচ মিনিটের বিধিনিষেধ কার্যকর হয়।
- ৯ নভেম্বর: সরকারের সাময়িক জামানত-ছাড় কার্যকর হওয়ার কথা।
লেনদেন আবার শুরু হওয়ার পর KOSPI প্রায় ৬% থেকে ৮% কমে লেনদেন চলতে থাকে। এসব তথ্য সকালের লেনদেনের; দিনের শেষ সূচক বা পৃথক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলো জামানত-ছাড় কীভাবে প্রয়োগ করবে, তার বিস্তারিত শর্ত জানানো হয়নি।
পতনে এগিয়ে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স
স্যামসাংয়ের শেয়ার কিছু সময়ের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার ওনের নিচে নেমে ২ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। এসকে হাইনিক্সের দর ১১ লাখ ওনের নিচে নামে, যা ১৪ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। দরপতনে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে পরিচিত প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দুটি বাজারের পতনের কেন্দ্রে চলে আসে।
পরে দুই শেয়ারই প্রাথমিক লোকসানের কিছুটা পুষিয়ে নেয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে স্যামসাংয়ের দর ৭.২৫% কমে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১০০ ওনে ছিল, আর এসকে হাইনিক্সের দর ৮.৩৯% কমে ১১ লাখ ৫৮ হাজার ওনে দাঁড়ায়। শুরুর দিকের যথাক্রমে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ ও ১১ লাখ ১০ হাজার ওনের দর থেকে এ দামগুলো ৫ হাজার ৯০০ ওন ও ৪৮ হাজার ওন বেড়েছিল। তবে আগের দিনের শেষ দরের তুলনায় দুই শেয়ারের দামই অনেক কম ছিল।
এআই খাতে বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত KOSPI-এর আগের উত্থানে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স বড় ভূমিকা রেখেছিল। এআই সেবা তৈরি ও পরিচালনায় প্রয়োজনীয় বিপুল তথ্য সংরক্ষণ এবং স্থানান্তরে কম্পিউটার ব্যবস্থা মেমোরি চিপ ব্যবহার করে। এ চাহিদা অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা কোম্পানি দুটির শেয়ারের দরকে সমর্থন জুগিয়েছিল।
ডেটা সেন্টার হলো কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামে ভরা ভবন। এগুলোর নির্মাণ ধীর হলে বিনিয়োগকারীরা মনে করতে পারেন, চিপ কেনাকাটা পিছিয়ে যাবে বা ধীরগতিতে বাড়বে। কোম্পানির বিক্রিতে এর প্রভাব দেখা দেওয়ার অনেক আগেই প্রত্যাশার এই পরিবর্তনে শেয়ারের দাম সাড়া দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এআই নিয়ে উদ্বেগ সিউলে পৌঁছাল যেভাবে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এআই ও ডেটা সেন্টার নির্মাণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি বাড়াতে পারে—এমন উদ্বেগের পর ওয়াল স্ট্রিটে দরপতন হয়। নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা ধরে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের দাম নির্ধারণ করছিলেন; তবে কোনো নির্দিষ্ট নতুন বিধিনিষেধ বা তা কার্যকরের তারিখ জানানো হয়নি।
নাসডাকের ৫.৫২% পতন ছিল ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এক দিনে সবচেয়ে বড় দরপতন। ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচকের ১২.৩% পতন শতাংশের হিসাবে এর দ্বিগুণেরও বেশি, যা চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিশেষভাবে প্রবল বিক্রির চাপের ইঙ্গিত দেয়।
মিরে অ্যাসেট সিকিউরিটিজের নির্বাহী সো সাং-ইয়ং শেয়ার কেনার চাহিদার ওপর কয়েকটি চাপের কথা বলেন: এআইয়ের মুনাফা নিয়ে প্রশ্ন, ডেটা সেন্টার প্রকল্পে বিলম্ব এবং এআই বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট ঋণ নিয়ে উদ্বেগ। একসঙ্গে একাধিক ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ক্রেতারা বড় অঙ্কের বিনিয়োগে অনিচ্ছুক—তার মূল্যায়নে বাজারের এমন পরিস্থিতিই উঠে আসে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারাও এআই শিল্পনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের দুর্বল মনোভাবকে দরপতনের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। সরকারের মূল্যায়ন, বহির্বিশ্বের ঘটনাবলিতে দেশের শেয়ারবাজার অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছিল।
এই যোগসূত্র তৈরি হয়েছে ব্যবসা-সংক্রান্ত প্রত্যাশা ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত—দুইয়ের মাধ্যমেই। স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলে পণ্য বিক্রি করে; আর বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও কোরিয়ার বাজারে দ্রুত ধারাবাহিকভাবে এআই বিনিয়োগের একই খাত থেকে নিজেদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিতে পারেন।
লেনদেন বন্ধের বিধিনিষেধগুলো আসলে কী করে
KOSPI আগের দিনের শেষ সূচকের চেয়ে অন্তত ৮% নিচে এক মিনিট স্থির থাকার পর প্রধান বাজারে প্রথম স্তরের সার্কিট ব্রেকার চালু হয়। এতে ওই বাজারের সব শেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট স্টক ফিউচারস ও অপশনসে ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন বন্ধ থাকে।
অস্বাভাবিক দ্রুত দরপতনের সময় সার্কিট ব্রেকার বাজারকে সাময়িক বিরতি দেয়। ক্রেতা-বিক্রেতারা আদেশগুলো পুনর্বিবেচনার সময় পান, তবে লেনদেন আবার শুরু হলে দাম নির্ধারিত হয় তাদের কেনাবেচার আগ্রহ অনুযায়ী। ৬ নভেম্বর সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে লেনদেন শুরুর পরও ব্যাপক দরপতন চলতে থাকে।
লেনদেন শুরুর সময় স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারে স্থির দামের ওঠানামা-সংক্রান্ত বিরতিও চালু হয়। পৃথক শেয়ারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে দাম ওঠানামা করলে এসব পদক্ষেপে অল্প সময়ের জন্য লেনদেন বন্ধ থাকে। আগের দিনের শেষ দরের তুলনায় ১০%-এর বেশি ওঠানামার পর দুই শেয়ারের লেনদেন দুই মিনিটের জন্য বন্ধ হয়।
পরে বিক্রির সাইডকারের আওতা সার্কিট ব্রেকারের চেয়ে সীমিত ছিল। সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটে KOSPI 200 ফিউচারস ৫৬.৮০ পয়েন্ট বা ৬.৭৭% কমে ৭৮১.০০-তে ছিল। এ পদক্ষেপে প্রোগ্রাম বিক্রির আদেশ পাঁচ মিনিটের জন্য কার্যকর হওয়া স্থগিত থাকে। প্রোগ্রাম ট্রেডিংয়ে আগে থেকে নির্ধারিত নির্দেশনার মাধ্যমে একগুচ্ছ সিকিউরিটিজ কেনা বা বিক্রি করা হয়; অনেক সময় ফিউচারসের দর ওঠানামার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকে।
এই নিয়ন্ত্রণগুলো বিভিন্ন স্তরে কাজ করে: পৃথক শেয়ার, প্রোগ্রাম আদেশ বা পুরো প্রধান বাজারে। পরপর একাধিক বিধিনিষেধ জারি হওয়া দেখিয়েছে, বিক্রির চাপ কত দ্রুত বাজারের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
KOSDAQ বিনিয়োগকারীরাও একই রকম দরপতনের মুখে
তুলনামূলকভাবে ছোট ও প্রবৃদ্ধিমুখী অনেক কোম্পানির পৃথক বাজার KOSDAQ লেনদেন শুরু করে ৬৫৪.৪৩ পয়েন্টে, ২৩.৯৮ পয়েন্ট বা ৩.৫৩% কমে। পরে সূচকের পতন ৬.৪৭%-এ পৌঁছে এবং তা ৬৩৪.৫১-তে নামে, যা বছরের সর্বনিম্ন লেনদেনকালীন স্তরের কাছাকাছি।
সকাল ৯টা ৬ মিনিটে বিক্রির সাইডকার প্রোগ্রাম বিক্রির আদেশ পাঁচ মিনিটের জন্য কার্যকর হওয়া স্থগিত করে। KOSDAQ-এ এ বিধিনিষেধ চালুর শর্ত হলো, KOSDAQ 150 ফিউচারসের দর অন্তত ৬% এবং অন্তর্নিহিত KOSDAQ 150 সূচক অন্তত ৩% কমতে হবে, আর দুই শর্তই এক মিনিট ধরে বজায় থাকতে হবে।
KOSPI ও KOSDAQ—দুই বাজারেই টানা দ্বিতীয় লেনদেন দিবসে বিক্রির সাইডকার জারি হয়। এ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে, চাপ শুধু লেনদেন শুরুর সময়ের অল্পক্ষণের ধাক্কা বা বৃহত্তম সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
প্রতিবেদিত লেনদেনকালে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিট ক্রেতা থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা টানা ছয় লেনদেন দিবস ধরে প্রধান বাজারে শেয়ারের নিট বিক্রেতা ছিলেন। নিট বিক্রি বলতে কেনার চেয়ে বেশি মূল্যের শেয়ার বিক্রি বোঝায়; নিট কেনার ক্ষেত্রে উল্টোটা। দেশের বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনলেও বিক্রেতারা কম দর মেনে নেওয়ায় দাম পড়তে থাকে।
বাধ্যতামূলক বিক্রি কমাতে সরকারের পরিকল্পনা
লি-র জরুরি বৈঠকে ঋণ করা অর্থে বিনিয়োগ থেকে আসা বিক্রির চাপের একটি নির্দিষ্ট উৎস মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ৯ নভেম্বর থেকে তিন মাসের জন্য মার্জিন ঋণে ১৪০% জামানত অনুপাত বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা থেকে সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছাড় দেওয়া হবে।
মার্জিন ঋণে একজন বিনিয়োগকারী সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ ধার করে শেয়ার কিনতে পারেন। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান জামানত হিসেবে সম্পদ ধরে রাখে; অর্থাৎ ঋণ আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠান সেই সম্পদ ব্যবহার করতে পারে। ১৪০% অনুপাত মানে, প্রতি ১০০ ওন ঋণের বিপরীতে ১৪০ ওন মূল্যের জামানত।
সহজ উদাহরণ হিসেবে, ১০ লাখ ওন ঋণ নিলে ওই অনুপাতে ১৪ লাখ ওন মূল্যের জামানত প্রয়োজন হবে। জামানতের মূল্য ১০% কমলে তা দাঁড়াবে ১২ লাখ ৬০ হাজার ওনে। তখন বিনিয়োগকারীর কাছে আরও জামানত জমা দেওয়া বা ঋণ কমানোর দাবি আসতে পারে।
বিনিয়োগকারীরা এমন দাবি পূরণ করতে না পারলে সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠান তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিতে পারে। এ ধরনের বাধ্যতামূলক বিক্রি দাম আরও কমাতে পারে, ফলে অন্যান্য ঋণের বিপরীতে থাকা জামানতের মূল্য কমে এবং আরও বিক্রির চাপ তৈরি হয়। এ ধারাবাহিক প্রভাব ঠেকাতেই সরকারের ছাড়ের পদক্ষেপ।
বিনিয়োগকারীদের নেওয়া ঋণ পরিশোধের দায় থাকছেই, আর তাদের সম্পদের মূল্যও বাজারদরের ওঠানামার ঝুঁকিতে থাকবে। ঘোষিত হস্তক্ষেপটি ঋণের পরিমাণে নয়, জামানতের অনুপাত বজায় রাখার বাধ্যবাধকতায় প্রযোজ্য। বাস্তবে এর প্রভাব আংশিকভাবে নির্ভর করবে সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলো কীভাবে পরিচালনা করে তার ওপর।
এআই বিনিয়োগ ঘিরে বাণিজ্যে তীব্র বিপরীতমুখী মোড়
সকালের দরপতন আগের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে আরও বড় পতনের ধারাকে এগিয়ে নেয়। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ দিকে লেনদেনকালীন সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে KOSPI ১৯%-এর বেশি এবং জুনের রেকর্ড সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৪৮% নিচে নেমেছিল। সর্বশেষ লেনদেন শুরুর ধসের আগেই বাজারে যে উল্লেখযোগ্য চাপ ছিল, এ হিসাবগুলো তা তুলে ধরে।
এআই বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট ঋণ বাজারের চাপের আরেকটি সম্ভাব্য উৎস ছিল। স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারে কিছু বিনিয়োগের ঝুঁকি কোরিয়ার লিভারেজ ব্যবহারকারী এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল। এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড হলো বিনিয়োগের একটি ঝুড়ি, যা শেয়ারবাজারে কেনাবেচা করা যায়; ঋণ বা আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে লিভারেজ ব্যবহার করলে বিনিয়োগের ঝুঁকির মাত্রা বাড়ে, ফলে সমপরিমাণ প্রাথমিক বিনিয়োগের স্বাভাবিক লাভ-লোকসানের তুলনায় লাভ-লোকসান দুটোই বেশি হয়।
তীব্র দরপতন তাই একসঙ্গে বিভিন্নভাবে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে: শেয়ারের দাম কমা, বাড়তি ঝুঁকিযুক্ত তহবিলে লোকসান এবং ঋণ করা বিনিয়োগের বিপরীতে অতিরিক্ত দাবি। সরকারের জামানত-সংক্রান্ত পদক্ষেপ এ চাপের একটি দিক মোকাবিলা করে; অন্যদিকে লেনদেন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে বাজারের নির্দিষ্ট ধরনের কার্যক্রমের গতি কমায়।
কর্মকর্তারা বলেছেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, প্রধান অর্থনীতিগুলোর নীতিগত অগ্রগতি, দেশের ও আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজার এবং বিনিয়োগের অর্থপ্রবাহের গতিবিধি তারা তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। শেয়ার বা তহবিল রাখা পরিবারগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক প্রভাব ছিল বিনিয়োগের মূল্য কমে যাওয়া; আর কিছু ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে তাদের ঋণের বিপরীতে রাখা সম্পদ নিয়ে চাপ তৈরি হওয়া।
মূল বিষয়গুলো
- ৬ নভেম্বর KOSPI ৮%-এর বেশি কমে প্রায় নয় মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৫,০০০-এর নিচে নামে।
- সকাল ৯টা ৩ মিনিট থেকে ৯টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত সার্কিট ব্রেকারে প্রধান বাজারে লেনদেন বন্ধ ছিল; এরপর প্রোগ্রাম বিক্রিতে বিধিনিষেধ জারি হয়।
- স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারে শুরুতে তীব্র দরপতন হলেও সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের মধ্যে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়।
- ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচকের ১২.৩% এবং নাসডাক কম্পোজিটের ৫.৫২% পতনের পর এ বিক্রির চাপ তৈরি হয়।
- বিদেশি বিনিয়োগকারীরা টানা ছয় লেনদেন দিবস ধরে নিট বিক্রেতা ছিলেন; প্রতিবেদন করা লেনদেনকালে দেশের ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনছিলেন।
- বাধ্যতামূলক বিক্রির চাপ কমাতে সরকার ১৪০% মার্জিন ঋণ জামানত-শর্ত থেকে তিন মাসের ছাড় ঘোষণা করে, যা ৯ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।






