প্রকল্পে মূলধন বিনিয়োগের পরিকল্পনা ১০ কোম্পানির
হো চি মিন সিটির আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর প্রথম ১০ সদস্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এসব কোম্পানির নিবন্ধিত চার্টার মূলধন ও প্রতিশ্রুত অবদান মিলিয়ে ৩৩.৬৩ মিলিয়ন ডলার। তারা ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ২.৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ ও বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ক্রমপুঞ্জীভূত বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করছে কেন্দ্রটি।
সূচিপত্র
- প্রকল্পে মূলধন বিনিয়োগের পরিকল্পনা ১০ কোম্পানির
- প্রথম সদস্য কারা?
- বিনিয়োগের অঙ্কগুলোর হিসাব কীভাবে মেলে
- অবকাঠামো, শিক্ষা ও জ্বালানি পরিকল্পনায় এগিয়ে
- ১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সংগ্রহে অংশীদার খুঁজছে কেপেল
- সামুদ্রিক পরিষেবার সঙ্গে অর্থায়নে সংযোগ গড়ছে জেমাডেপ্ট
- নভেম্বরের বিধিতে খুলবে পরবর্তী ধাপ
- কেন্দ্রকে ঘিরে বৃহত্তর বিনিয়োগ কর্মসূচি
- ২০২৬ সালের ঘটনাপ্রবাহে অক্টোবরের ঘোষণার অবস্থান
- মূল বিষয়
প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুংয়ের উপস্থিতিতে ২০২৬ সালের অটাম ইকোনমিক ফোরামে সনদগুলো হস্তান্তর করা হয়। কোম্পানিগুলো আর্থিক অবকাঠামো ও বিশ্ববিদ্যালয় সুবিধা থেকে শুরু করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সামুদ্রিক পরিষেবা, অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা এবং পণ্যদ্রব্যের বাণিজ্য পর্যন্ত নানা প্রকল্পের কথা তুলে ধরে।
আর্থিক কেন্দ্রটির অবকাঠামোতে অর্থ সংগ্রহের সবচেয়ে বড় একক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সাইগন মেরিনা আইএফসি, ৮১৬ মিলিয়ন ডলার। এজকুয়েস্ট ক্যাপিটাল শিক্ষা অবকাঠামোর জন্য সর্বোচ্চ ৩২৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। আর সন কিম ক্যাপিটাল আইএফসি হো চি মিন সিটির ভিয়েতনাম আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রের (ভিআইএফসি-এইচসিএমসি) অবকাঠামোর জন্য ২৭৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে চায়।
উপপ্রধানমন্ত্রী নগুয়েন ভান থাং এবং পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নীতি ও কৌশলবিষয়ক কমিশনের প্রধান নগুয়েন থান নগিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্বীকৃতি দেওয়ার অনুষ্ঠানে শহরের নেতাদের মধ্যে ছিলেন পিপলস কমিটির চেয়ারম্যান নগুয়েন ভান দুওক এবং ভাইস চেয়ারম্যান ত্রুয়ং মিন হুই ভু, যিনি কেন্দ্রটির নির্বাহী কর্তৃপক্ষের প্রধান।
পরবর্তী নির্ধারিত পদক্ষেপ ২০২৬ সালের নভেম্বরে। ওই সময় ভিআইএফসি-এইচসিএমসি বিনিয়োগ তহবিলকে অন্তর্ভুক্ত করার পদ্ধতি ও বিধি জারির আশা করছে। নির্দিষ্ট আর্থিক লাইসেন্স প্রয়োজন এমন ব্যাংক, সিকিউরিটিজ কোম্পানি ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রাসঙ্গিক বিধি প্রবর্তনের পরবর্তী ধাপগুলোতে বিবেচিত হবে।
প্রথম সদস্য কারা?
প্রথম দফার সদস্যদের মধ্যে রয়েছে হোল্ডিং কোম্পানি, যাদের মূল কাজ অন্য কোম্পানির শেয়ার বা মূলধনী অবদানের মালিকানা রাখা ও সেগুলো ব্যবস্থাপনা করা। প্রতিটি কার্যক্রম নিজেরা পরিচালনার বদলে তারা একাধিক প্রকল্পের বিনিয়োগ সমন্বয় করতে পারে।
- এজকুয়েস্ট ক্যাপিটাল।
- সন কিম ক্যাপিটাল আইএফসি।
- ভিনাক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল পার্টনার্স।
- সাইগন মেরিনা আইএফসি।
- জেমাডেপ্ট হোল্ডিংস মেরিটাইম ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট।
- রোভেলা পে ওয়ান মেম্বার।
- আরইই এনার্জি ফাইন্যান্স।
- ভিয়েতনাম আইএফসি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ জেএসসি।
- এজি&পি হোল্ডিং ভিয়েতনাম।
- কেপেল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (ভিয়েতনাম)।
অবকাঠামো, বিনিয়োগের মাধ্যম ও পরিষেবা গড়ে তোলার প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে কোম্পানিগুলো। ব্যাংকিং, সিকিউরিটিজ লেনদেন ও তহবিল ব্যবস্থাপনার মতো কার্যক্রম পরিচালনায় কেন্দ্রের সদস্যপদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত লাইসেন্স বা অনুমোদন লাগবে।
বিনিয়োগের অঙ্কগুলোর হিসাব কীভাবে মেলে
৩৩.৬৩ মিলিয়ন ডলারের অঙ্কে কোম্পানিগুলোর নিবন্ধিত চার্টার মূলধন এবং তারা যে অবদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা অন্তর্ভুক্ত। চার্টার মূলধন হলো মালিকেরা নিজেদের ব্যবসার জন্য যে মূলধন নিবন্ধন করেন বা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এর চেয়ে অনেক বড় ২.৭ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রায় প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য সদস্যদের তহবিল সংগ্রহ ও বিনিয়োগের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে বাইরের বিনিয়োগকারীদের অর্থও রয়েছে।
ভিআইএফসি-এইচসিএমসির লক্ষ্যমাত্রা ২০২৭ সালের মধ্যে ২.৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার অর্থ ৩০০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি। কয়েকটি কোম্পানির পরিকল্পনা ২০২৭ সালের পরও চলবে। কিছু পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট অর্থায়নের প্রতিশ্রুতির বদলে সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের কথা রয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, কেপেলের প্রস্তাবিত প্ল্যাটফর্মগুলো বাজার পরিস্থিতি, উপযুক্ত সুযোগ এবং অংশীদারদের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে মূলত বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে পারে। কেন্দ্রটি আরও জানিয়েছে, এই সম্ভাব্য তহবিল সংগ্রহ অন্য সদস্যদের পরিকল্পনার অতিরিক্ত। প্রতিটি কোম্পানির লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে ২.৭ বিলিয়ন ও ৩ বিলিয়ন ডলারের মোট অঙ্কে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
সদস্যপদ ঘোষণায় এজি&পি হোল্ডিং ভিয়েতনামের এলএনজি, বিদ্যুৎ ও ডেটা সেন্টার পরিকল্পনার অঙ্ক প্রায় ৪২৫ মিলিয়ন ডলার বলা হয়েছিল। ২০২৭ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির অঙ্কও ৭৫০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়। এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হলো এমন গ্যাস, যা জাহাজে পরিবহনের জন্য তরলে পরিণত করতে ঠান্ডা করা হয় এবং পরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা অন্য কাজে ব্যবহার করা যায়।
রোভেলা পের ৬০ মিলিয়ন ডলারের প্রক্ষেপণ ভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের পরিমাপ: ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ হওয়ার প্রত্যাশা, তার মূল্য। লেনদেনের মূল্য কোনো পরিষেবার মাধ্যমে প্রবাহিত অর্থের পরিমাণ বোঝায়, আর তহবিল সংগ্রহ বলতে বিনিয়োগের জন্য সংস্থান করা অর্থ বোঝায়।
অবকাঠামো, শিক্ষা ও জ্বালানি পরিকল্পনায় এগিয়ে
আর্থিক কেন্দ্রটির প্রযুক্তিগত ও ভৌত অবকাঠামোতে ৮১৬ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সাইগন মেরিনা আইএফসি। কোম্পানি, আর্থিক পরিষেবা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমকে একত্র করার জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তব ভিত্তি গড়ে তুলতে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের নিউইয়র্ক শাখার সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তির আওতায় সর্বোচ্চ ৩২৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে এজকুয়েস্ট ক্যাপিটাল। এই অর্থ ভিয়েতনামের শিক্ষা অবকাঠামোতে, বিশেষ করে হো চি মিন সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও উদ্ভাবন এলাকায় সহায়তা দেবে।
সিআইএফ নামে বর্ণিত বেসরকারি ব্যবস্থাপনাধীন করপোরেট বিনিয়োগ কাঠামোর মাধ্যমে ২৭৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সন কিম ক্যাপিটাল আইএফসি। প্রস্তাবিত এই কাঠামোর মাধ্যমে ভিআইএফসি-এইচসিএমসির ভেতরে অবকাঠামো বিনিয়োগের জন্য মূলধন একত্র করা হবে।
৯৯ তলাবিশিষ্ট প্রস্তাবিত আইকনিক ভিআইএফসি টাওয়ার এবং গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী একটি প্রকল্পের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে ভিনাক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল পার্টনার্স। বিনিয়োগসংক্রান্ত তথ্যে বিদ্যুৎ প্রকল্পটির অবস্থান লং আন বলা হয়েছে; ঘোষণার আরেকটি বিবরণে বলা হয়েছে তায় নিন প্রদেশ।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে চায় আরইই এনার্জি ফাইন্যান্স। এজি&পির পরিকল্পনার সঙ্গে মিলে এসব প্রতিশ্রুতি থেকে বোঝা যায়, ভবন ও আর্থিক পরিষেবার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং জ্বালানি অবকাঠামোও কেন্দ্রটির প্রাথমিক বিনিয়োগ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।
১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সংগ্রহে অংশীদার খুঁজছে কেপেল
রিয়েল এস্টেট বিভাগ এবং কেপেল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (ভিয়েতনাম)-এর মাধ্যমে যোগ দিয়েছে কেপেল। ভিয়েতনামের বিভিন্ন সুযোগে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের যৌথ বিনিয়োগের জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে মূলত তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা যেতে পারে।
কেপেলের বক্তব্যে ভিয়েতনামের রিয়েল এস্টেটের সুযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রটির ঘোষণায় ভিআইএফসি-এইচসিএমসির অবকাঠামো, সম্পত্তি, বাণিজ্য ও পরিষেবাসহ আরও বিস্তৃত ক্ষেত্রের কথা বলা হয়েছে। কেপেলের তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা বাজার পরিস্থিতি, বিনিয়োগের সুযোগ এবং অংশীদারদের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল।
ভিয়েতনামে কেপেলের প্রধান প্রতিনিধি এবং দেশটিতে কোম্পানিটির রিয়েল এস্টেট ব্যবসার প্রেসিডেন্ট জোসেফ লো বলেন, সদস্যপদ দেশের প্রতি গোষ্ঠীটির অঙ্গীকারের প্রতিফলন:
এটি ভিয়েতনামের প্রতি আমাদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার এবং দেশটির দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর আমাদের আস্থার প্রতিফলন।
প্রায় চার দশক ধরে ভিয়েতনামে কার্যক্রম চালাচ্ছে কেপেল। কোম্পানিটির ৩০টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রকল্পে নিবন্ধিত বিনিয়োগমূলধন ৫ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলারের বেশি। হ্যানয় ও হো চি মিন সিটিতে বাণিজ্যিক ভবন, আবাসন, শপিং সেন্টার এবং সমন্বিত নগর উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রম রয়েছে।
বিশেষভাবে ভিয়েতনামের জন্য তহবিল সংগ্রহের অভিজ্ঞতাও কোম্পানিটির রয়েছে। ২০২০ সালে তাদের প্রথম ভিয়েতনাম-কেন্দ্রিক রিয়েল এস্টেট তহবিলের প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ হয়, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০০ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একটি ভিয়েতনাম খুচরা তহবিলের পরিকল্পনার কথা জানায় তারা; তবে সেটি চালুর অবস্থা প্রকাশ করা হয়নি।
সামুদ্রিক পরিষেবার সঙ্গে অর্থায়নে সংযোগ গড়ছে জেমাডেপ্ট
জেমাডেপ্ট হোল্ডিংস মেরিটাইম ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা জিএমআই সামুদ্রিক তথ্যব্যবস্থা ও পরিষেবার জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব পরিষেবার মধ্যে রয়েছে ব্যবস্থাপনাবিষয়ক পরামর্শ, সমন্বয়, মূল্যায়ন এবং জাহাজ ও সামুদ্রিক সরঞ্জাম লিজ দেওয়া।
জিএমআইয়ের পরিচালক ত্রান থি থুই লিয়েন বলেন, পণ্য পরিবহন এবং তা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মধ্যে সংযোগ তৈরি করাই হবে নৌপরিবহন খাতে কেন্দ্রটির সবচেয়ে বড় অবদান। সামুদ্রিক ব্যবসায় দীর্ঘ সময়ের জন্য বিপুল মূলধন দরকার হয়। এর মধ্যে সরঞ্জাম, কার্যক্রম ও পরিষেবা সম্প্রসারণের অর্থের পাশাপাশি বন্দর অবকাঠামোর অর্থায়নও রয়েছে।
বাণিজ্য অর্থায়নকারী ব্যাংক, সামুদ্রিক বিমা প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগ তহবিল, সরঞ্জাম লিজ ও অর্থায়নকারী কোম্পানি এবং প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করার প্রস্তাব দিয়েছেন লিয়েন। বাণিজ্য অর্থায়ন ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে পণ্য চলাচলের সময় কোম্পানিগুলোকে মূল্য পরিশোধে সহায়তা করে। আর লিজের মাধ্যমে পরিচালকেরা শুরুতেই দামি সরঞ্জাম কিনে না নিয়ে তা ব্যবহার করতে পারেন।
লিয়েনের মতে, মানসম্মত নৌপরিবহন তথ্য এবং সম্পদের স্বচ্ছ মূল্যায়ন অর্থদাতাদের জাহাজ ও সরঞ্জামের মূল্য নির্ধারণে সহায়তা করবে। এর ফলে আরও উপযোগী অর্থায়ন ও লিজের সুযোগ তৈরি হলে ব্যবসার প্রাথমিক নগদ অর্থের প্রয়োজন কমবে এবং ভিয়েতনামে সামুদ্রিক পরিষেবার বিকাশে সহায়তা মিলবে।
কেন্দ্রটির ভেতরে পণ্যদ্রব্য বিনিময় কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রায় ৫৭.৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরেকটি পরিকল্পিত পরিষেবা যুক্ত করেছে ভিয়েতনাম আইএফসি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ জেএসসি। অন্যদিকে, রোভেলা পে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য অর্থ পরিশোধের সমাধান গড়ে তুলতে চায়।
নভেম্বরের বিধিতে খুলবে পরবর্তী ধাপ
সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির জন্য তিন স্তরের লাইসেন্সিংসহ একটি প্রস্তাবিত কাঠামো তৈরি করছে ভিআইএফসি-এইচসিএমসি। ত্রুয়ং মিন হুই ভু বলেছেন, এই পদ্ধতি সিঙ্গাপুর, দুবাই ও হংকংয়ের চর্চা থেকে নেওয়া। প্রতিটি ব্যবসার কার্যক্রম, আকার ও জটিলতা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রক শর্ত নির্ধারণ করা হবে।
- প্রথম স্তরে থাকবে বিনিয়োগ পরামর্শ ও পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, যার মাধ্যমে গ্রাহকেরা কীভাবে বিনিয়োগ করবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এবং তাঁদের বিনিয়োগ পরিচালনায় সহায়তা পাবেন।
- দ্বিতীয় স্তরে থাকবে বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল এবং পেশাদার বিনিয়োগকারীদের তহবিল ব্যবস্থাপনা।
- তৃতীয় স্তরে থাকবে পাবলিক বিনিয়োগ তহবিল ব্যবস্থাপনা, যা আরও বিস্তৃত বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।
২০২৬ সালের নভেম্বরে তহবিল অন্তর্ভুক্ত করার পদ্ধতি ও বিধি চূড়ান্ত করে জারি করার আশা করছে কেন্দ্রটি। সংশ্লিষ্ট বিধি কার্যকর হলে ব্যাংক, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবসার আবেদন ধাপে ধাপে বিবেচনা করা হবে।
জাতীয় পরিষদের ২২২/২০২৫/কিউএইচ১৫ নম্বর প্রস্তাবের অধীনে ভিয়েতনাম আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। এর কার্যক্রম হো চি মিন সিটি ও দা নাংয়ে পরিচালিত হবে। এই কাঠামোতে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ, বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন, যোগ্য প্রকল্পের জন্য কর-সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণের মানদণ্ড ব্যবহারেরও কথা রয়েছে। ব্যাংকিংয়ের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে মূলধন পর্যাপ্ততা, অর্থাৎ লোকসান সামাল দেওয়ার মতো যথেষ্ট আর্থিক সংস্থান, এবং তারল্য, অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ে পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ হাতে পাওয়ার সক্ষমতা।
কেন্দ্রকে ঘিরে বৃহত্তর বিনিয়োগ কর্মসূচি
২৮ অক্টোবরের একই ফোরামে হো চি মিন সিটি বিনিয়োগ নীতির অনুমোদন বা বিনিয়োগ নিবন্ধন সনদ পাওয়া ১২টি প্রকল্পের ঘোষণা দেয়। বন্দর, লজিস্টিকস, নগর উন্নয়ন, উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতজুড়ে এসব প্রকল্পের ঘোষিত সম্মিলিত বিনিয়োগ ৩৩৭.২২ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং বা প্রায় ১৩.৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।
বৃহত্তম বন্দর প্রকল্প ক্যান জিও আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর। ৫৭১ হেক্টর এলাকাজুড়ে এর পরিকল্পিত বিনিয়োগ ১২৮.৮ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং। ভিয়েতনাম মেরিটাইম করপোরেশন, সাইগন বন্দর এবং টার্মিনাল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড হোল্ডিং প্রকল্পটি উন্নয়ন করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত দুটি জেটি নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা।
ক্যান জিও বন্দরের সক্ষমতা ২০৩০ সালের মধ্যে ৪.৮ মিলিয়ন টিইইউ এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ১৬.৯ মিলিয়ন টিইইউ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। টিইইউ বলতে ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি মানসম্মত শিপিং কনটেইনারের ধারণক্ষমতাকে বোঝায়। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩.৫ গুণ।
অন্যান্য বন্দর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ১৬.৮ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডংয়ের জেমাডেপ্ট-টার্মিনাল লিংক কাই মেপ প্রকল্প, যার বার্ষিক পণ্য পরিবহন সক্ষমতা ২৫.৬ মিলিয়ন টন। রয়েছে ১.৭ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডংয়ের মি জুয়ান ৬ বন্দর, যা ২০২৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে কার্যক্রম শুরু করবে।
সিঙ্গাপুরের টোকজিস্টিক ৯৮৭.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সুইফট লজিস্টিকস প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ২০২৬ সালের শেষ দিকে এর কার্যক্রম শুরুর কথা। ভিন ল্যাপ শিল্প পার্কের প্রথম ধাপের আয়তন ৪৯৭.১৯ হেক্টর; নিবন্ধিত বিনিয়োগ ৯.৭ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডংয়ের বেশি।
জুয়ান থোই সন কমিউনের আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় নগর এলাকার বিনিয়োগ ৫৯ ট্রিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ১৭৩.১ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং করা হয়েছে। ৮৮০ হেক্টর এলাকাজুড়ে এই উন্নয়ন প্রকল্পে শিক্ষা, আবাসন, বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা, পার্ক এবং তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা থাকবে। থু থিয়েমে আর্থিক, বাণিজ্যিক, পরিষেবা ও আবাসিক সুবিধাসহ ৬০ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডংয়ের একটি কমপ্লেক্সও তৈরি করছে লোটে প্রপার্টিজ এইচসিএমসি।
ফোরামে ঘোষিত উৎপাদন ও প্রযুক্তি প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে জিএল কেবলস, জিনই গ্লাস ভিয়েতনাম, চ্যাং ইউ টেকনোলজি, আইআই-ভিআই ভিয়েতনাম এবং ইতো অটোমেশন টেকনোলজিস ভিয়েতনামের বিনিয়োগ। তাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে কেবল, বিশেষায়িত কাচ, ধাতু প্রক্রিয়াকরণ, সেমিকন্ডাক্টর শীতলীকরণ উপকরণ, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি, রোবট ও সেন্সর।
২০২৬ সালের ঘটনাপ্রবাহে অক্টোবরের ঘোষণার অবস্থান
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্থিক কেন্দ্রটি প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করে। জুলাইয়ের মধ্যে ভিআইএফসি-এইচসিএমসি দেশি-বিদেশি অংশীদারদের কাছ থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির কথা জানায়, তবে অর্থ বিনিয়োগের সময়সূচি প্রকাশ করেনি। অক্টোবরে ঘোষণায় নাম উল্লেখ করা সদস্যদের এবং নির্দিষ্ট প্রকল্প পরিকল্পনার জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।
- ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু।
- জুলাই ২০২৬: ভিআইএফসি-এইচসিএমসি অংশীদারদের কাছ থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির কথা জানায়।
- সেপ্টেম্বর ২০২৬: গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার্স ইনডেক্সে হো চি মিন সিটি ৬৭তম স্থান পায়।
- ২৮ অক্টোবর ২০২৬: কেন্দ্রটি প্রথম ১০টি হোল্ডিং কোম্পানিকে সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- নভেম্বর ২০২৬: তহবিল অন্তর্ভুক্তির পদ্ধতি ও বিধি জারির প্রত্যাশা।
- ২০২৭ ও ২০৩০: সদস্যদের ঘোষিত বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা যথাক্রমে প্রায় ২.৭ বিলিয়ন ও ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।
জেড/ইয়েন পার্টনার্স ও চায়না ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের সংকলিত গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার্স ইনডেক্সের ৪০তম সংস্করণে হো চি মিন সিটির স্কোর ৬৯২। ১৭ ধাপ ও ২৭ পয়েন্ট এগিয়ে শহরটি ৮৪তম স্থান থেকে উঠে এসেছে; আগের স্কোর ছিল ৬৬৫।
পৌরসভার অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে মোট সামাজিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৫১০.২ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০.২ শতাংশ বেশি। নতুন প্রকল্প, অতিরিক্ত মূলধন এবং অবদান বা শেয়ার কেনার মাধ্যমে বিনিয়োগসহ নিবন্ধিত বিদেশি বিনিয়োগ পৌঁছেছে ১৭.৮ বিলিয়ন ডলারে।
শহরটি ৯.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ১,৫৯২টি নতুন বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্পে লাইসেন্স দিয়েছে এবং প্রায় ২০৯.৯ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডংয়ের ৩৭টি দেশীয় প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই বিনিয়োগ চাহিদার প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রটির তাৎক্ষণিক কাজ স্পষ্ট: কার্যকর নিয়ম ও পরিষেবা গড়ে তোলা, যাতে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মূলধন প্রয়োজন এমন প্রকল্পগুলোর সংযোগ তৈরি হয়।
মূল বিষয়
- ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর ভিআইএফসি-এইচসিএমসি প্রথম ১০টি হোল্ডিং কোম্পানিকে সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- সদস্যরা ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ২.৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ ও বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ক্রমপুঞ্জীভূত প্রতিশ্রুতি ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- সাইগন মেরিনা আইএফসি ৮১৬ মিলিয়ন ডলার, এজকুয়েস্ট সর্বোচ্চ ৩২৫ মিলিয়ন ডলার এবং সন কিম ক্যাপিটাল আইএফসি ২৭৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
- বাজার পরিস্থিতি, সুযোগ এবং অংশীদারদের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে সর্বোচ্চ ১ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে পারে এমন প্ল্যাটফর্মের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কেপেল।
- এজি&পির পরিকল্পনায় প্রায় ৪২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি অঙ্ক এবং ২০২৭ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ৭৫০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির কথা রয়েছে।
- বিনিয়োগ তহবিল অন্তর্ভুক্ত করার বিধি ২০২৬ সালের নভেম্বরে জারি হওয়ার কথা। অন্যান্য আর্থিক লাইসেন্স পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।
- ফোরামে শহরটি প্রায় ১৩.৫৮ বিলিয়ন ডলারের ঘোষিত সম্মিলিত বিনিয়োগসহ ১২টি প্রকল্পের কথাও জানিয়েছে।






