১৫০টিরও বেশি অস্ত্রোপচারের পর বন্ধ
আফগানিস্তানে ১৫০টিরও বেশি কর্নিয়া প্রতিস্থাপনে সহায়তা করা একটি দাতব্য কর্মসূচি স্থগিত হয়েছে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার বন্ধের জন্য তালেবানের মৌখিক নির্দেশ পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কাবুল ও জালালাবাদের হাসপাতালগুলো চিকিৎসা বন্ধ রেখেছে। এতে বিস্ফোরণ ও কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে পারে এমন অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
সূচিপত্র
- ১৫০টিরও বেশি অস্ত্রোপচারের পর বন্ধ
- হাসপাতালগুলোকে যা বলা হয়েছিল
- কর্নিয়া প্রতিস্থাপনে কীভাবে দৃষ্টিশক্তি ফিরতে পারে
- দান করা টিস্যু ও প্রশিক্ষণের ওপর গড়ে ওঠা কর্মসূচি
- রোগীদের অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল
- অঙ্গ কেনাবেচা আইন ও দানের প্রশ্ন
- শর্তসাপেক্ষে প্রতিস্থাপনের অনুমতি দিয়েছে ইসলামি ফিকহ একাডেমি
- সীমান্ত পেরিয়ে চিকিৎসা নেওয়াও কঠিন
- মূল বিষয়গুলো
কাবুলের নূর আই হাসপাতালে প্রতিস্থাপন দলের প্রধান ডা. নূর জামান হাশিম বলেন, স্থগিত হওয়ার আগে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চিকিৎসকেরা ৯০টি অস্ত্রোপচার করেছিলেন। হাসপাতালের অপেক্ষমাণ রোগীর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছিল। তাঁদের বেশির ভাগই তরুণ, যাঁরা বিস্ফোরণ, শারীরিক আঘাত এবং ওয়েল্ডিংয়ের দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
কর্মসূচিতে দান করা কর্নিয়া ব্যবহার করা হতো এবং বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হতো। এটি স্থগিত হওয়ায় দান করা টিস্যু পাওয়ার সুযোগ যেমন ব্যাহত হয়েছে, তেমনি অস্ত্রোপচার করার সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হয়েছে: তিনজন আফগান চক্ষু বিশেষজ্ঞ পাকিস্তানের পেশোয়ারে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
চিকিৎসকেরা জানান, প্রতিস্থাপনের বিষয়ে ধর্মীয় আপত্তির ভিত্তিতে নির্দেশটি দেওয়া হয়েছিল। তালেবানের একটি আইনে মানব অঙ্গ কেনাবেচা নিষিদ্ধ, অন্যদিকে দাতব্য সংস্থাটি বলছে, তাদের কর্নিয়াগুলো স্বেচ্ছায় দানের মাধ্যমে এসেছে। রোগীদের জন্য মূল প্রশ্ন হলো, চিকিৎসার কাজে দান করা টিস্যু ব্যবহারের অনুমতি কর্তৃপক্ষ দেবে কি না।
হাসপাতালগুলোকে যা বলা হয়েছিল
হাশিম জানান, মৌখিকভাবে নির্দেশটি দেওয়া হয়েছিল। এর পরিণতি এতটাই গুরুতর ছিল যে তাঁর দল কাজ চালিয়ে যেতে পারেনি। তালেবানের নির্দেশের পর পূর্ব আফগানিস্তানের জালালাবাদ আই হাসপাতালের কর্মসূচিটিও বন্ধ হয়ে যায়।
নূর আই হাসপাতালের প্রতিস্থাপন দলের প্রধান হাশিম ব্যাখ্যা করেন, চিকিৎসকেরা কেন নির্দেশটি মেনে নিয়েছিলেন:
"কঠোর শাস্তির ঝুঁকির কারণে কেউই তাদের নির্দেশ অমান্য করার সাহস পান না," তিনি বলেন।
কোন কর্মকর্তা স্থগিতাদেশ অনুমোদন করেছেন, এর সুনির্দিষ্ট লিখিত ভিত্তি কী, দান করা টিস্যু অঙ্গ কেনাবেচা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে কি না এবং অস্ত্রোপচার কবে শুরু হবে—এসব স্পষ্ট করা হয়নি। ইতিমধ্যে নিবন্ধিত রোগীদের জন্য এর তাৎক্ষণিক অর্থ হলো, অনির্দিষ্টকালের অপেক্ষা।
কর্নিয়া প্রতিস্থাপনে কীভাবে দৃষ্টিশক্তি ফিরতে পারে
কর্নিয়া হলো চোখের সামনের স্বচ্ছ স্তর। চোখের ভেতরের যে অংশগুলো মানুষকে দেখতে সাহায্য করে, সেখানে পৌঁছানোর আগে আলো কর্নিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। আঘাত বা রোগে কর্নিয়ায় গুরুতর ক্ষত বা ক্ষতি হলে আলো আর ঠিকমতো ভেতরে যেতে পারে না, ফলে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে।
কর্নিয়া প্রতিস্থাপনে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর বদলে দান করা টিস্যু বসানো হয়। এ অস্ত্রোপচারে পুরো চোখ প্রতিস্থাপন করা হয় না, কর্নিয়ার চিকিৎসা করা হয়। কোনো নির্দিষ্ট রোগীর দৃষ্টিশক্তি ফিরবে কি না, তা চোখের সামনের অংশের ক্ষতির পাশাপাশি চোখের বাকি অংশের অবস্থার ওপরও নির্ভর করে।
আফগানিস্তানে চিকিৎসকেরা জানান, বিস্ফোরণ, দুর্ঘটনা ও দীর্ঘদিনের সংঘাতে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে এ চিকিৎসার ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে। নূর আই হাসপাতালের অপেক্ষমাণ তালিকায় ওয়েল্ডিংয়ের আঘাতে আহত ব্যক্তিরাও ছিলেন। এতে বোঝা যায়, কর্মস্থলে আহত ব্যক্তিদেরও চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।
হাশিম বলেন, নির্দেশ আসার আগেও বিশেষজ্ঞ ও টিস্যুর ঘাটতি নিয়ে হাসপাতালটি কাজ করছিল:
"দীর্ঘ কয়েক দশকের সহিংসতায় আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য অবকাঠামো বিপর্যস্ত হয়েছে। প্রতিস্থাপনের চাহিদা মেটাতে আমাদের পর্যাপ্ত চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই, আবার স্থানীয়ভাবে কর্নিয়াও পাওয়া যায় না," তিনি বলেন।
রোগীদের জন্য দাতব্য কর্মসূচিটি এমন কিছু সম্পদ একত্র করেছিল, যা স্থানীয়ভাবে পাওয়া কঠিন: দান করা কর্নিয়া, প্রশিক্ষিত শল্যচিকিৎসক এবং বিনা মূল্যে চিকিৎসা। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মী হাসপাতালে থাকলেও কর্মসূচি স্থগিত হওয়ায় চিকিৎসার এই সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
দান করা টিস্যু ও প্রশিক্ষণের ওপর গড়ে ওঠা কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিশিয়ানস অব পাকিস্তানি ডিসেন্ট অব নর্থ আমেরিকা (এপিপিএনএ) আফগানিস্তানে কর্মসূচি সম্প্রসারণে সহায়তা করেছিল। ২০১৭ সাল থেকে তাদের কর্নিয়া কর্মসূচিতে পাকিস্তানে প্রতিস্থাপনের জন্য বিনা মূল্যে টিস্যু সরবরাহ করা হচ্ছে।
এপিপিএনএর কর্নিয়া কর্মসূচির প্রধান এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাফর মীর ফাউন্ডেশনের প্রধান ডা. ফাওয়াদ জাফর বলেন, পাকিস্তানের কর্মসূচি থেকে প্রায় ১০ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। আফগানিস্তানে সম্প্রসারণের পর ১৫০টিরও বেশি অস্ত্রোপচার হয়েছে।
আফগানিস্তানে কাজটি কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা জাফর জানান:
"প্রায় চার মাস আগে আমরা আফগানিস্তানে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করি। সেখানে শত শত মানুষের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন দরকার ছিল। তবে তালেবানের নির্দেশে কর্মসূচিটি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে," তিনি বলেন।
অস্ত্রোপচার করার জন্য তিনজন আফগান চক্ষু বিশেষজ্ঞকে পেশোয়ারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এই প্রশিক্ষণের ফলে আফগানিস্তানের স্থানীয় চিকিৎসকেরা দান করা টিস্যু ব্যবহার করতে পারতেন; প্রতিটি রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য বিদেশে যেতে হতো না।
পাকিস্তানের কর্মসূচিতে প্রায় ১০ হাজার উপকারভোগীর হিসাবটি ২০১৭ সাল থেকে চলা কাজের প্রতিফলন। আফগানিস্তানে ১৫০টিরও বেশি অস্ত্রোপচার হয়েছে অনেক কম সময়ের প্রাথমিক পর্যায়ে। সংখ্যাগুলো দুই কর্মসূচির ভিন্ন অবস্থার চিত্র তুলে ধরে: পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত সেবা, আর আফগানিস্তানে নতুন সম্প্রসারিত সেবা, যা কয়েক মাসের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।
রোগীদের অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল
কাবুলের আখের রস বিক্রেতা সালামত খান ২০২৩ সালে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দৃষ্টিশক্তি হারান। বিনা মূল্যের প্রতিস্থাপন কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছেন—এমন একজনের কাছ থেকে তিনি এ বিষয়ে জানতে পারেন। তিনিও চিকিৎসা পাবেন, এই আশায় হাসপাতালে যান।
খান বলেন, চিকিৎসকেরা সেপ্টেম্বরে তাঁর অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, আগস্টেই কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন:
"বিনা মূল্যের কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছেন এমন একজনের কাছ থেকে বিষয়টি শুনে আমি হাসপাতালে যাই। চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, সেপ্টেম্বরে আমার অস্ত্রোপচার করবেন। কিন্তু আগস্টে কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানালে আমি হতবাক হয়ে যাই," তিনি বলেন।
৪০ বছর বয়সী খাদিজা বেগম জালালাবাদে বিস্ফোরণে চোখে আঘাত পান। তিনি বলেন, নিজের পরিস্থিতি জানানোর দুই মাস আগে জালালাবাদ আই হাসপাতালে নিবন্ধন করেছিলেন। পরের মাসে তাঁকে জানানো হয়, ইসলামি শিক্ষার উল্লেখ করে তালেবানের নির্দেশে কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে।
দুজন রোগীই সহায়তা খোঁজার পর্যায় পেরিয়ে গিয়েছিলেন: তাঁরা হাসপাতালে নিবন্ধন করেছিলেন, আর খানের অস্ত্রোপচারের জন্য একটি নির্দিষ্ট মাসও ঠিক করা হয়েছিল। কর্মসূচি বন্ধ হওয়ায় তাঁদের প্রত্যাশিত চিকিৎসার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ব্যাহত হয়।
রোগী ও কর্মসূচি পরিচালনাকারীদের বর্ণনায় উল্লেখ করা প্রধান ঘটনাগুলো হলো:
- ২০১৭: এপিপিএনএ পাকিস্তানে প্রতিস্থাপনের জন্য বিনা মূল্যে কর্নিয়া সরবরাহ শুরু করে।
- ২০২৩: গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে খান দৃষ্টিশক্তি হারান।
- জাফরের বর্ণনার প্রায় চার মাস আগে: এপিপিএনএ আফগানিস্তানে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে।
- খানের বর্ণনা অনুযায়ী, আগস্টে: আফগানিস্তানের কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়।
- খানের বর্ণনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে: তাঁর পরিকল্পিত অস্ত্রোপচার আর করা সম্ভব হয়নি।
অঙ্গ কেনাবেচা আইন ও দানের প্রশ্ন
তালেবানের নৈতিকতা প্রচার আইনটির ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদের ৭ নম্বর ধারায় মানব অঙ্গ কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে কিডনি, যকৃৎ ও চোখের পাশাপাশি চুলের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এর আগে নৈতিকতা প্রচার ও অনৈতিকতা প্রতিরোধ মন্ত্রণালয় এ ধরনের বাণিজ্যে বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছিল।
বাণিজ্যিকভাবে অঙ্গ কেনাবেচা এবং স্বেচ্ছায় দানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিক্রির ক্ষেত্রে কেউ অঙ্গ বা টিস্যুর বিনিময়ে অর্থ পান। কর্মসূচি পরিচালনাকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের কর্নিয়া কর্মসূচিতে টিস্যু দান করা হয়েছিল এবং রোগীরা বিনা মূল্যে চিকিৎসা পেয়েছিলেন।
অঙ্গ কেনাবেচা নিষিদ্ধ করার পটভূমিতে রয়েছে দরিদ্র মানুষের অল্প টাকায় কিডনি বিক্রি এবং পরে অসুস্থতা বা শারীরিক অক্ষমতায় ভোগার বিবরণ। হেরাতে কিডনি বিক্রি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল; সেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিস্থাপন করা হতো। আইনটির আওতায় কিডনি প্রতিস্থাপনও বন্ধ হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
এপিপিএনএর আবেদনটি দানের মাধ্যমে সরবরাহ করা একটি কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি নিয়ে। রোগীদের জন্য বাস্তব প্রশ্ন হলো, অঙ্গ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেও হাসপাতালগুলো এসব অস্ত্রোপচার আবার শুরু করতে পারবে কি না।
শর্তসাপেক্ষে প্রতিস্থাপনের অনুমতি দিয়েছে ইসলামি ফিকহ একাডেমি
ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফিকহ একাডেমি অঙ্গ প্রতিস্থাপন নিয়ে ২৬ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণ করে। প্রস্তাবটি ১৯৮৮ সালের ৬ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত একাডেমির চতুর্থ অধিবেশনে গৃহীত হয়। মানব অঙ্গ নিয়ে আলোচনায় প্রস্তাবটিতে টিস্যু, কোষ, রক্ত ও কর্নিয়ার কথাও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
একাডেমির রায়ে নির্দিষ্ট শর্তে কিছু প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করাকে শরীরের একটি মৌলিক কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানব অঙ্গ কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ষষ্ঠ বিধান অনুযায়ী, কোনো গ্রহীতার জীবন বা শরীরের অপরিহার্য কোনো কার্যক্রম অঙ্গটির ওপর নির্ভর করলে মৃত ব্যক্তির অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে, যদি দাতা মৃত্যুর আগে সম্মতি দিয়ে থাকেন অথবা পরে তাঁর উত্তরাধিকারীরা অনুমতি দেন। মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানা না থাকলে বা তাঁর কোনো উত্তরাধিকারী না থাকলে, প্রস্তাবে মুসলিম কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরেকটি বিধানে রোগের কারণে অস্ত্রোপচার করে বাদ দেওয়া চোখ থেকে কর্নিয়া নিয়ে অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জীবিত দাতার দুই চোখের কর্নিয়াই তুলে নেওয়া নিষিদ্ধ, কারণ এতে ওই ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হবে।
জীবিত দাতার কোনো অপরিহার্য শারীরিক কার্যক্রম আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন পরিস্থিতিসহ কিছু প্রশ্ন একাডেমি আরও পরীক্ষার জন্য রেখেছে। তাদের কাঠামোতে নির্দিষ্ট চিকিৎসার কাজে অঙ্গ ব্যবহারের অনুমতির পাশাপাশি সম্মতির শর্ত, দাতার সুরক্ষা এবং অঙ্গ বিক্রির নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সীমান্ত পেরিয়ে চিকিৎসা নেওয়াও কঠিন
আফগানিস্তানের কর্মসূচিতে পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ: সেখানে তিনজন আফগান চক্ষু বিশেষজ্ঞকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং এপিপিএনএর আগে থেকে চলা কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কর্মসূচিটি সম্প্রসারিত হয়। তবে আফগান রোগীদের জন্য পাকিস্তানে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পথও দুই দেশের স্থলসীমান্ত বন্ধ থাকার খবরের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
দেশের ভেতরের হাসপাতালগুলোতে অস্ত্রোপচার বন্ধ হওয়ার একই সময়ে সীমান্ত বন্ধ থাকায় বিকল্প পথও সীমিত হয়ে পড়েছে। সড়কপথে যাওয়ার কথা ভাবতে পারতেন এমন রোগীদের বিশেষায়িত চিকিৎসা পেতেও নতুন বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
এপিপিএনএ তালেবানের কাছে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন আবার শুরু করার অনুমতি চেয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, শত শত মানুষের এ অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, অপেক্ষমাণ রোগীর তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে। কর্মসূচিতে দান করা টিস্যু ও নতুন প্রশিক্ষিত শল্যচিকিৎসকদের একত্র করা হয়েছিল; এখন চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত রোগীদের সামনে অস্ত্রোপচারের অনুমতিই তাৎক্ষণিক বাধা।
মূল বিষয়গুলো
- তালেবানের মৌখিক নির্দেশে কাবুল ও জালালাবাদের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন কর্মসূচি বন্ধ হয়েছে।
- এপিপিএনএর সহায়তায় আফগানিস্তানে ১৫০টিরও বেশি অস্ত্রোপচার হয়েছে; এর মধ্যে নূর আই হাসপাতালের প্রতিস্থাপন দলের বর্ণনায় রয়েছে ৯০টি।
- কর্মসূচিতে দান করা কর্নিয়া ব্যবহার এবং বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হতো।
- তিনজন আফগান চক্ষু বিশেষজ্ঞ পেশোয়ারে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
- সালামত খান ও খাদিজা বেগমসহ রোগীদের চিকিৎসার পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে, তাঁরা এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন।
- তালেবানের অঙ্গ কেনাবেচা নিষেধাজ্ঞা এবং স্বেচ্ছায় দান করা টিস্যুর ব্যবহারই বিরোধের মূল বিষয়।
- এপিপিএনএ অস্ত্রোপচার আবার শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে; শুরুর কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।






