তাইপেইয়ের প্রথম মেয়র বিতর্কের আগে বিভক্ত জনমত
২০ থেকে ২২ অক্টোবর এবং ২৫ অক্টোবর ১,১১৫ জন নিবন্ধিত নগরবাসীর মধ্যে টেলিফোনে চালানো এক জরিপে তাইপেইয়ের মেয়র চিয়াং ওয়ান-আনের চেয়ে ৪৫% থেকে ৪১% সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন শেন পো-ইয়াং। তবে ৪৮% মনে করেন চিয়াং আরেক মেয়াদে জয়ী হবেন, যেখানে শেনের জয়ের আশা করছেন ৩৫%। এতে ভোটাররা কাকে সমর্থন করেন আর কে মেয়রের দায়িত্ব নেবেন বলে মনে করেন, তার মধ্যে ব্যবধান স্পষ্ট হয়েছে।
সূচিপত্র
- তাইপেইয়ের প্রথম মেয়র বিতর্কের আগে বিভক্ত জনমত
- দুই জরিপে বিপরীত চিত্র কেন
- প্রার্থীকে সমর্থন করা আর বিজয়ী মনে করা
- নারী, তরুণ ভোটার ও সিদ্ধান্তহীনরা
- ২০২২ সালের ভোটারদের অবস্থান কোথায় বদলাচ্ছে
- নগর পরিচালনা ও নির্বাচনী চাপ সামলাচ্ছেন চিয়াং
- নীতি ও পাড়ায় পাড়ায় প্রচারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন শেন
- বিতর্ক ও নির্বাচনের বাকি কর্মসূচি
- অতীতের ফল দেখায়, তাইপেই কতটা বদলেছে
- মূল তথ্য
২১ থেকে ২৫ অক্টোবর অনলাইনে চালানো আরেক জরিপে প্রার্থীদের অবস্থান উল্টো: চিয়াংয়ের সমর্থন ৪৮.৬% এবং শেনের ৪১.১%। পরস্পরবিরোধী ফলাফলের কারণে ৩১ অক্টোবরের প্রথম টেলিভিশন বিতর্ক এবং ২৮ নভেম্বর ২০২৬-এর ভোটের আগে রাজধানীর নির্বাচন বিশেষ নজর কাড়ছে।
ক্ষমতাসীন কুওমিনতাং (কেএমটি) থেকে নির্বাচিত মেয়র চিয়াং ২৮ অক্টোবর স্ত্রী শি ফাং-কেংয়ের সঙ্গে এক রেডিও সাক্ষাৎকারে চাপের কথা স্বীকার করেন। তিনি এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে তীব্র নির্বাচন বলে বর্ণনা করেন এবং সমর্থকদের ভোট দিতে উৎসাহিত করতে প্রচার, সমাবেশ ও নগরবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কথা বলেন।
ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) প্রার্থী শেনও ভোটার উপস্থিতির ওপর জোর দেন। টেলিফোন জরিপে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, জরিপকে একটি নির্দেশক হিসেবে দেখা উচিত। প্রত্যাশিত জয়ের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান দুর্বল হওয়ায় সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নেওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানান তিনি।
তাই তাৎক্ষণিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে দুটি ক্ষেত্রে: এখনো সিদ্ধান্ত নেননি এমন নগরবাসীকে রাজি করানো এবং বিদ্যমান সমর্থকেরা যেন সত্যিই ভোট দেন, তা নিশ্চিত করা। দলীয় আনুগত্য, বয়স ও আগের ভোটের পছন্দসংক্রান্ত পরিসংখ্যান দেখায়, কেন দুই প্রচারশিবিরই শেষ মাসকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে।
দুই জরিপে বিপরীত চিত্র কেন
টেলিফোন জরিপে শেন ৪ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে, আর অনলাইন জরিপে চিয়াং এগিয়ে ৭.৫ পয়েন্টে। অক্টোবরের শেষ ভাগের প্রায় একই সময়জুড়ে দুই জরিপ চালানো হলেও উত্তরদাতাদের কাছে পৌঁছানোর পদ্ধতি আলাদা।
টেলিফোন জরিপে ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল ফোন নম্বরের নমুনা কাঠামো ব্যবহার করা হয়। নম্বরের শেষ অঙ্কগুলো দৈবভাবে বদলে নম্বর নির্বাচন করা হয়েছিল। এতে তাইপেইয়ের ২০ বছর বা তার বেশি বয়সী ১,১১৫ জন বাসিন্দার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় এবং ভোটারদের লিঙ্গ, বয়স ও প্রশাসনিক জেলার অনুপাতের সঙ্গে মিলিয়ে ফল সমন্বয় করা হয়। আরও ২৬৪ জন সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি।
জরিপে ৯৫% আস্থার স্তরে নমুনাগত ত্রুটির সীমা প্লাস-মাইনাস ৩ শতাংশ পয়েন্ট বলা হয়েছে। সবার সাক্ষাৎকার না নিয়ে জনসংখ্যার একটি নমুনা নেওয়ার ফলে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, এই সীমা তা নির্দেশ করে। দুই প্রার্থীর ব্যবধান ঘিরে অনিশ্চয়তা নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করতে হলে সেই ব্যবধান কীভাবে হিসাব করা হয়েছে, তা বিবেচনায় নিতে হয়।
অনলাইন জরিপে শহরের ১২টি জেলার অন্তত ২০ বছর বয়সী তাইপেইবাসী হিসেবে চিহ্নিত একটি বিদ্যমান ডেটাবেইসের সদস্যদের কাছ থেকে ১,৪৬২টি গ্রহণযোগ্য উত্তর সংগ্রহ করা হয়। খুদে বার্তা ও ইমেইলে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল। বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনুপাতে নমুনা নির্বাচন করে লিঙ্গ, বয়স, জেলা ও শিক্ষার ভিত্তিতে ফল সমন্বয় করা হয়।
এর আয়োজকেরা ৯৫% আস্থার স্তরে ত্রুটির সীমা প্লাস-মাইনাস ২.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট বলে উল্লেখ করেন। সদস্যদের ডেটাবেইস থেকে উত্তরদাতা নেওয়া হয়েছিল বলে ফল বোঝার ক্ষেত্রে ওই ডেটাবেইসের গঠনও প্রাসঙ্গিক।
রাজনৈতিক ভাষ্যকার উ ছিং-ই অক্টোবরের পাঁচটি জরিপ তুলনা করে দেখেছেন, তিনটিতে শেন এবং দুটিতে চিয়াং এগিয়ে ছিলেন। ভাষ্যকার হুয়াং ওয়েই-হানও নিজের তুলনায় একই তিন-দুই অনুপাত পেয়েছেন। তাঁদের মূল্যায়নে একক কোনো প্রার্থীর পক্ষে ঐকমত্য নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দৌড়ের চিত্র উঠে এসেছে।
প্রার্থীকে সমর্থন করা আর বিজয়ী মনে করা
দুটি বিস্তারিত জরিপেই প্রত্যাশিত জয়ের প্রশ্নে চিয়াং এগিয়ে। টেলিফোন জরিপে ৪৮% বনাম ৩৫% ফলের পাশাপাশি অনলাইন জরিপে ৫১.৩% মনে করেন চিয়াং জিতবেন, আর ৪০.৯% মনে করেন জিতবেন শেন। উ বলেন, তাঁর দেখা পাঁচটি জরিপেই এই সূচকে চিয়াং এগিয়ে ছিলেন।
সমর্থনসংক্রান্ত প্রশ্নে উত্তরদাতাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাঁরা কাকে বেছে নিতে চান। আর প্রত্যাশিত জয়ের প্রশ্নে তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, অন্য ভোটারদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত কী হবে বলে তাঁরা মনে করেন। কেউ শেনকে সমর্থন করেও ভাবতে পারেন, চিয়াংয়ের সংগঠন বা বৃহত্তর নির্বাচনী ভিত্তি বেশি শক্তিশালী।
টেলিফোন জরিপে ডিপিপির সমর্থকদের মধ্যেও এই ব্যবধান দেখা যায়: দলটির ২৪% সমর্থক মনে করেন, চিয়াং আরেক মেয়াদে জয়ী হবেন। সব উত্তরদাতার মধ্যে ১৬% বলতে পারেননি কে জিতবেন।
শেন বলেন, জয় অসম্ভব—এমন ধারণা সমর্থকদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। জবাবে তিনি ২৮ নভেম্বর ভোট দিতে, পাড়ায় পাড়ায় প্রচার চালিয়ে যেতে এবং জরিপের ফল অনুসরণ করে কৌশল নির্ধারণ না করে নগরবাসীর কথা শুনতে আহ্বান জানান।
নারী, তরুণ ভোটার ও সিদ্ধান্তহীনরা
টেলিফোন জরিপে নারীদের এবং ৪০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে শেনের সবচেয়ে শক্তিশালী ফল দেখা গেছে। নারীদের মধ্যে তাঁর সমর্থন ৪৭%, চিয়াংয়ের ৩৮%; ব্যবধান ৯ শতাংশ পয়েন্ট। পুরুষদের মধ্যে চিয়াং ৪৫% থেকে ৪৩% ব্যবধানে এগিয়ে।
৪০ বছরের কম বয়সী উত্তরদাতাদের মধ্যে শেন ৫৮% থেকে ৩৩% ব্যবধানে এগিয়ে, ব্যবধান ২৫ পয়েন্ট। ৪০ থেকে ৫৯ বছর বয়সী এবং ৬০ বা তার বেশি বয়সী—দুই গোষ্ঠীতেই চিয়াংয়ের সমর্থন ৪৪%; উভয় ক্ষেত্রেই তিনি শেনের চেয়ে এগিয়ে।
উয়ের তুলনায় অন্য এক জরিপেও তরুণ বয়সী একটি গোষ্ঠীর মধ্যে শেনের এগিয়ে থাকার চিত্র পাওয়া গেছে: ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে তাঁর সমর্থন ৫২%, চিয়াংয়ের ৪৪%। ওই জরিপে ৫০ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে চিয়াং ৪৭% থেকে ৪১% ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। উ উল্লেখ করেন, আরেক জরিপে সবচেয়ে কম বয়সী উত্তরদাতাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ফল পাওয়া গেছে। তাই প্রতিটি জরিপে একই বয়সভিত্তিক বিভাজন দেখা গেছে ধরে নেওয়ার চেয়ে সামগ্রিক প্রবণতা বেশি কাজে লাগে।
টেলিফোন জরিপে কোনো দলের প্রতি পক্ষপাত নেই এমন ভোটারদের মধ্যে শেন ৪০% থেকে ৩৩% ব্যবধানে এগিয়ে, আর ২৬% এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। পুরো নমুনায় ১৩% এখনো কোনো প্রার্থী বেছে নেননি। অনলাইন জরিপে সিদ্ধান্তহীন, জানেন না বা কোনো মতামত নেই—এমন উত্তরদাতার সম্মিলিত হার ৮.৭%।
এই পরিসংখ্যান দলীয় সমর্থকগোষ্ঠীর বাইরেও প্রচার চালিয়ে যাওয়ার বাস্তব কারণ দিচ্ছে দুই শিবিরকে। টেলিফোন জরিপে নিরপেক্ষ উত্তরদাতাদের মধ্যে শেন এগিয়ে থাকলেও, এই গোষ্ঠীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
২০২২ সালের ভোটারদের অবস্থান কোথায় বদলাচ্ছে
টেলিফোন জরিপে দলীয় আনুগত্য শেনের পক্ষে বেশি দৃঢ়: ডিপিপি সমর্থকদের ৯১% তাঁকে সমর্থন করেন, আর কেএমটি সমর্থকদের ৮৬% চিয়াংকে সমর্থন করেন। ২০২২ সালে ডিপিপির প্রার্থী চেন শি-চুংকে ভোট দিয়েছিলেন বলে যাঁরা জানিয়েছেন, তাঁদের ৯৫% এখন শেনকে সমর্থন করেন।
চার বছর আগে তাঁকে ভোট দিয়েছিলেন বলে মনে আছে, এমন উত্তরদাতাদের ৭৫% এখনো চিয়াংকে সমর্থন করেন; ১৮% এখন শেনকে সমর্থন করেন। নিরপেক্ষ ভোটারদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি তাঁর প্রচারশিবিরের সামনে কাছের একটি কাজও রয়েছে: আগের কিছু সমর্থককে ফিরিয়ে আনা।
হুয়াং শান-শানের সাবেক সমর্থকেরাও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠী। ২০২২ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হুয়াং ২৫.১৪% ভোট পেয়েছিলেন। টেলিফোন জরিপে তাঁর সাবেক ভোটারদের ৫৫% শেন এবং ৩৮% চিয়াংকে সমর্থন করেন।
বর্তমানে তাইওয়ান পিপলস পার্টির সমর্থকেরা ভিন্ন দিকে ঝুঁকেছেন: ৭৫% চিয়াংকে এবং ১৬% শেনকে সমর্থন করেন। এই দুই ফল দেখায়, হুয়াংয়ের আগের ভোটারগোষ্ঠী এবং বর্তমান দলীয় সমর্থকদের রাজনৈতিক পছন্দ এক নয়। তাই কেএমটি ও তাইওয়ান পিপলস পার্টির নির্বাচনী সহযোগিতায় ভিন্ন ধরনের ভোটের ইতিহাস থাকা মানুষের কাছে পৌঁছানো জরুরি।
উ বলেন, তিনটি জরিপের তুলনায় হুয়াংয়ের সাবেক ভোটারদের ৫৩%-এর বেশি শেনকে সমর্থন করছেন। চিয়াংয়ের আগের ভোটারদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হয় সিদ্ধান্তহীন, নয়তো তাঁকে সমর্থন করা থেকে সরে গেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আগের ভোট নিয়ে এসব উত্তর শেষ মাসে ২০২২ সালের ভোটারগোষ্ঠীগুলোকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
নগর পরিচালনা ও নির্বাচনী চাপ সামলাচ্ছেন চিয়াং
নগর প্রশাসনের কাজ ও নির্বাচনী প্রচারের মধ্যে ভারসাম্য রেখে নিজের কর্মসূচির গতি সামঞ্জস্য করছেন বলে জানান চিয়াং। তাঁর প্রচার ব্যবস্থাপক লো চি-চিয়াং শেষ মাসের চারটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন: সমর্থকদের মনোবল চাঙা রাখা, প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের উপস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জ করা, তাইপেইবাসীকে আশ্বস্ত করা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা।
চিয়াংয়ের কাজ ও প্রস্তাবের সঙ্গে শেনের অবস্থানের তুলনা করা, গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার বাড়ানো এবং তাইওয়ান পিপলস পার্টির সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রচারশিবিরের। নির্বাচনী ঝুঁকি এখনো কাটেনি বলেও সতর্ক করেন লো। অনুকূল জরিপ এলেও সমর্থকদের ভোট দিতে আহ্বান জানান তিনি।
চিয়াংয়ের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে টেলিফোন জরিপ থেকে একটি কার্যকর ধারণা পাওয়া যায়। তাইপেইয়ে জীবনযাত্রা নির্বিঘ্ন—এমনটা মনে করেন ৭৯%, আর মেয়র হিসেবে তাঁর কাজের অনুমোদন দেন ৫০%; কিন্তু তাঁকে ভোট দেবেন ৪১%। অর্থাৎ তাঁর মেয়র হিসেবে কাজের অনুমোদনের হার ভোটের সমর্থনের চেয়ে ৯ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। নগর প্রশাসনের প্রতি সন্তুষ্টিকে তাঁকে ক্ষমতায় রাখার সিদ্ধান্তে রূপান্তর করতে চাইছে তাঁর প্রচারশিবির।
অনলাইন জরিপে চিয়াংয়ের প্রতি অনুকূল মনোভাব ৪৪.৩% এবং প্রতিকূল মনোভাব ৩২.৯%। শেনের ক্ষেত্রে এ হার যথাক্রমে ৪১.৩% ও ৪১.৯%। এসব প্রশ্ন ব্যক্তিগত মনোভাব পরিমাপ করে, যা ভোট ও প্রত্যাশিত জয়ের পরিসংখ্যানের বাইরে আরেকটি মাত্রা যোগ করে।
২৯ অক্টোবর থেকে রাস্তাঘাট ও বাজারে প্রচার শুরু করার কথা শির। যৌথ সাক্ষাৎকারে তিনি স্মরণ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর পর দেশ ছাড়তে হতে পারে এবং আবার কাজ খুঁজতে হবে—এমন পরিস্থিতিতেও চিয়াং শান্ত ছিলেন। বড় চ্যালেঞ্জ এলে তিনি পরিকল্পনা করে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করেন বলে বর্ণনা করেন শি।
প্রচারের যোগাযোগবিষয়ক প্রধান নিউ শু-থিং বলেন, ২৬ অক্টোবরের এক সমাবেশ সমর্থকদের মনোবল বাড়িয়েছে। হুয়াং ওয়েই-হানের মতে, চিয়াং পিছিয়ে আছেন—এমন জরিপ কেএমটি ভোটারদের নতুন করে সংগঠিত হতে উৎসাহিত করতে পারে। রাজনৈতিক কর্মী চৌ শুয়ানও সামান্য ব্যবধানের ঘাটতিকে চিয়াংয়ের দলের জন্য ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
নীতি ও পাড়ায় পাড়ায় প্রচারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন শেন
শেনের প্রচার ব্যবস্থাপক উ স্যু-ইয়াও বলেন, জরিপে তিনি এগিয়ে থাকুন বা পিছিয়ে, নীতি প্রণয়নই প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে। কিছু প্রস্তাব জুলাই ও আগস্টে উপস্থাপন করা হয়েছিল। জনসভায় পাওয়া নগরবাসীর মতামত এবং প্রচারসংক্রান্ত মতামত সংগ্রহের উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে সেগুলো আরও পরিমার্জনের পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
উ বলেন, প্রচারশিবির পার্ক, রাতের বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকায় গেছে এবং তাইপেইয়ের প্রশাসনিক জেলাগুলোজুড়ে গাড়িতে প্রচার বাড়াবে। প্রতিটি জেলার উপযোগী প্রস্তাবের সঙ্গে এসব সফর যুক্ত থাকবে, যাতে শেনের জনসম্মুখের কর্মসূচিতে নগর নীতিই মূল বিষয় থাকে।
জরিপে সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তিদের প্রসঙ্গেও কথা বলেন শেন। তাঁর মতে, অস্বীকৃতির সংখ্যা কত, শুধু সেটি নয়; কোন জনতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মানুষ সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, সেটিই মূল বিষয়। বিভিন্ন প্রচারশিবিরে এ ধরনের প্রবণতা আলাদা হতে পারে বলে জানান তিনি। যারা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তাঁদের গঠন সম্পর্কে তাঁর দল পুরোপুরি জানতে পারে না।
জাপানি গবেষক ওগাসাওয়ারা ইয়োশিউকি মনে করেন, শেনের সমর্থন প্রায় ৪৬%-এ সংহত হয়েছে এবং আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে। এটি ছিল নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন। উ ছিং-ইয়ের তিনটি প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক জরিপের তুলনায় দেখা গেছে, বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে শেনের সমর্থন ৯.৮ থেকে ১৫.৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে, আর চিয়াংয়ের সমর্থন ৮.৪ থেকে ১৬.২ পয়েন্ট কমেছে।
এই মূল্যায়নগুলো দুই পক্ষের তাগিদ বোঝাতে সাহায্য করে। ওই তুলনাগুলোতে চিহ্নিত অগ্রগতি ধরে রাখতে চাইছেন শেন, আর আগে তাঁকে সমর্থন করা নগরবাসীর সঙ্গে ফের সংযোগ গড়ার চেষ্টা করছেন চিয়াং।
বিতর্ক ও নির্বাচনের বাকি কর্মসূচি
চিয়াং বলেন, ৩১ অক্টোবরের বিতর্ক দ্রুত এগোবে এবং এতে একাধিক দফায় পাল্টাপাল্টি প্রশ্ন থাকবে, যেখানে প্রার্থীরা সরাসরি একে অপরকে প্রশ্ন করবেন। শেনের বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা এবং বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত যুক্তি তুলে ধরার ক্ষমতার প্রশংসা করেন তিনি।
মেয়র স্বীকার করেন, তিনি কিছুটা উদ্বিগ্ন। নগর প্রশাসনের সভা ও অন্যান্য দায়িত্বের কারণে চার বছর আগের তুলনায় প্রস্তুতির সময় কম পেয়েছেন বলেও জানান। শেষ দুই দিন প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর।
নির্বাচনের আগে বিতর্কের মঞ্চ থেকে দুই প্রচারশিবিরের বড় জনসমাবেশে যাওয়ার পরবর্তী নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো হলো:
- ২৯ অক্টোবর: চিয়াংয়ের পক্ষে শি ফাং-কেংয়ের রাস্তাঘাট ও বাজারে প্রচার শুরু করার কথা।
- ৩১ অক্টোবর: প্রথম টেলিভিশন মেয়র বিতর্কে চিয়াং ও শেনের মুখোমুখি হওয়ার কথা।
- ২৭ নভেম্বর: শেষ সন্ধ্যার সমাবেশের জন্য চিয়াংয়ের দল কেতাগালান বুলেভার্ড ও ঝংশান সাউথ রোড ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। শেনের দল বেইপিং ইস্ট রোডে তাদের সদর দপ্তরের আশপাশে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করেছে।
- ২৮ নভেম্বর: স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কথা ভোটারদের।
শেষ দিকের পরিকল্পিত অনুষ্ঠানগুলোকে উৎসবমুখর পরিবেশের বলে বর্ণনা করেছে শেনের প্রচারশিবির। চিয়াংয়ের দল গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশস্থলের সঙ্গে পাড়ায় পাড়ায় প্রচার এবং আত্মতুষ্ট না হওয়ার বারবার সতর্কবার্তা মিলিয়ে নিচ্ছে।
অতীতের ফল দেখায়, তাইপেই কতটা বদলেছে
২০২২ সালের নির্বাচনে চিয়াং ৪২.২৯% ভোট পেয়ে জয়ী হন। চেন শি-চুং পান ৩১.৯৩% এবং হুয়াং শান-শান ২৫.১৪%। এবার জরিপে সমর্থন মূলত চিয়াং ও শেনের মধ্যে কেন্দ্রীভূত। টেলিফোন জরিপে অন্য চার প্রার্থীর সম্মিলিত সমর্থন ১%-এরও কম।
হুয়াংয়ের সাবেক ভোটাররা কোথায় যাচ্ছেন, তা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, আগের ফল থেকে তা বোঝা যায়। ২০২২ সালে তাঁর ভোটের হার ছিল মোট ভোটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ; সাম্প্রতিক টেলিফোন জরিপে দেখা যায়, তাঁকে সমর্থন করা উত্তরদাতাদের বেশির ভাগ এখন শেনের পক্ষে।
তাইপেইয়ের সাম্প্রতিক ইতিহাসে যেমন বড় ব্যবধানের জয় রয়েছে, তেমনি আছে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কেএমটির মেয়র মা ইং-চিউ ২০০২ সালে ডিপিপির লি ইং-ইউয়ানের ৩৫.৮৯%-এর বিপরীতে ৬৪.১১% ভোট পেয়ে জয়ী হন। হাও লুং-বিন ২০০৬ সালে ৫৩.৮১% এবং ২০১০ সালে ৫৫.৬৫% ভোট পেয়ে জেতেন।
২০১৪ সালে কে ওয়েন-চে এই ধারায় পরিবর্তন আনেন। ডিপিপি প্রার্থী না দেওয়ায় তিনি কেএমটির প্রার্থী শন লিয়েনের ৪০.৮২%-এর বিপরীতে ৫৭.১৬% ভোট পেয়ে জয়ী হন। ২০১৮ সালে কে ৪১.০৭% ভোট পেয়ে ডিং শৌ-চুংকে অল্প ব্যবধানে হারান; ডিং পান ৪০.৮২% এবং ডিপিপি প্রার্থী ইয়াও ওয়েন-চি পান ১৭.২৮%। কে-র জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩,৫৬৭ ভোট।
বর্তমান প্রার্থীদের জন্য বাস্তব চ্যালেঞ্জটি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট: চিয়াংকে তাঁর আগের আরও বেশি ভোটার ও সন্তুষ্ট নগরবাসীকে নিজের পক্ষে আনতে হবে, আর শেনকে নারী, তরুণ নগরবাসী ও হুয়াংয়ের সাবেক সমর্থকদের মধ্যে নিজের শক্ত অবস্থান ভোটের দিন পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে।
মূল তথ্য
- এক টেলিফোন জরিপে শেন পো-ইয়াং চিয়াং ওয়ান-আনকে ৪৫% থেকে ৪১% ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন; অনলাইন জরিপে চিয়াং ৪৮.৬% থেকে ৪১.১% ব্যবধানে এগিয়ে।
- দুই জরিপেই শেনের চেয়ে বেশি উত্তরদাতা মনে করেন, চিয়াং জয়ী হবেন।
- টেলিফোন জরিপে নারী, ৪০ বছরের কম বয়সী এবং নিরপেক্ষ ভোটারদের মধ্যে শেন এগিয়ে; বয়স্কদের মধ্যে এগিয়ে চিয়াং।
- টেলিফোন জরিপে হুয়াং শান-শানের সাবেক ভোটারদের মধ্যে ৫৫% শেন এবং ৩৮% চিয়াংকে সমর্থন করেন।
- প্রথম টেলিভিশন বিতর্ক ৩১ অক্টোবর হওয়ার কথা। এরপর ২৭ নভেম্বর শেষ সন্ধ্যার সমাবেশ এবং ২৮ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হবে।
- দুই প্রচারশিবিরই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত দলীয় সমর্থকগোষ্ঠীর বাইরের সমর্থন আদায়ের পাশাপাশি ভোটার উপস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।






