অর্থবিষয়ক শুনানিতে একটি জ্যাকেট ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধ
তাইওয়ানের আইনসভার অর্থবিষয়ক কমিটিতে ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর হাজির হন তাইপে ১০১-এর চেয়ারওম্যান জ্যানেট চিয়া। তাঁর পরিচালিত ব্যবসা নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। সন্ধ্যা নাগাদ তাঁর পোশাক হয়ে ওঠে জনপরিসরের বিতর্কের বিষয়, ব্যক্তিগত পোশাকরুচির স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে, আর তাঁর পোশাক নিয়ে আপত্তি তোলা আইনপ্রণেতা স্বীকার করেন, তাঁর কথার ধরন যথাযথ ছিল না।
সূচিপত্র
- অর্থবিষয়ক শুনানিতে একটি জ্যাকেট ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধ
- আইনপ্রণেতাদের সামনে কেন হাজির হয়েছিলেন চিয়া?
- প্রশ্নোত্তরের মঞ্চে কী বলা হয়েছিল?
- লাই প্রথমে শিষ্টাচারের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেন
- ফুলের নকশার শার্ট পরে প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া
- সন্ধ্যায় অনুপযুক্ত কথার ধরন স্বীকার করেন লাই
- প্রথমে বিস্ময়ের কথা জানান, পরে পোশাকের ব্যাখ্যা দেন চিয়া
- চেহারার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সমালোচনা করেন সমর্থকেরা
- মানদণ্ড ও পারস্পরিক সম্মানকে ঘিরেই বিরোধ
- মূল বিষয়গুলো
চিয়ার পরনে ছিল কালো পোশাক, কাঁধে জড়ানো হালকা রঙের ডিওর জ্যাকেট। কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করা ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির আইনপ্রণেতা লাই হুই-ইউয়ান তাঁকে আইনপ্রণেতাদের মতোই সাদামাটাভাবে পোশাক পরার পরামর্শ দেন এবং বলেন, সংসদের কিছু মানদণ্ড রয়েছে। চিয়া জবাব দেন, উপস্থিত অন্যদের মতো তাঁরও লম্বা হাতার পোশাক পরা আছে এবং তিনি সংসদকে সম্মান করেন।
এই কথোপকথন নজর কাড়ে, কারণ এটি শুধু ফ্যাশন নিয়ে মতবিরোধ ছিল না। কমিটির সভাপতি আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের জবাব দিতে হাজির একজনকে উদ্দেশ করে কথা বলছিলেন। পোশাকের পছন্দ ব্যাখ্যা করতে গেলে লাই জানতে চান, তিনি কি তর্ক চালিয়ে যেতে চান; এরপর বৈঠকের পরবর্তী আইনপ্রণেতাকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেন।
লাই প্রথমে সংসদীয় শিষ্টাচার মনে করিয়ে দেওয়ার অংশ হিসেবে নিজের হস্তক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দেন। বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজনের মন্তব্যের পর তিনি এ কথা বলেছিলেন বলে জানান। পরে ভিডিওটি দেখে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর কথার প্রকাশভঙ্গি যথাযথ ছিল না এবং বলেন, ঘটনাটি নিয়ে গভীরভাবে ভাববেন।
আইনপ্রণেতাদের সামনে কেন হাজির হয়েছিলেন চিয়া?
অর্থবিষয়ক কমিটি ব্যবসায়িক প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রী চুয়াং সুই-ইউন, মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোর প্রধান এবং সরকারি বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চেয়ারপারসন ও মহাব্যবস্থাপকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ওই বিনিয়োগের মাধ্যমে যাঁরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁরাও আমন্ত্রিত ছিলেন।
সরকারি অংশীদারত্ব থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাইপে ১০১-এ বিনিয়োগ করায় চেয়ারওম্যান হিসেবে সেখানে হাজির হন চিয়া। সহজ করে বললে, সরকারি বিনিয়োগের কারণে প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রতিনিধিদের প্রশ্ন করার সুযোগ পান আইনপ্রণেতারা।
লাইয়ের পরবর্তী বিবৃতি অনুযায়ী, সেদিন প্রশ্নোত্তরের মঞ্চে দুবার গিয়েছিলেন চিয়া। লাই বলেন, চিয়ার প্রথমবার হাজির হওয়ার পর কয়েকজন তাঁর কাছে এসে কাঁধে জড়ানো জ্যাকেটটি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান।
প্রশ্নোত্তরের মঞ্চে কী বলা হয়েছিল?
আইনপ্রণেতা চিউ চিহ-ওয়ের প্রশ্নের পর, চিয়া মঞ্চ থেকে নামার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় লাইয়ের মন্তব্য আসে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠানে ভিন্নভাবে পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়ার আগে কমিটির সভাপতি ফ্যাশনের সঙ্গে তাইপে ১০১-এর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।
অর্থবিষয়ক কমিটির বৈঠকের সভাপতি হিসেবে লাই হুই-ইউয়ান এ পরামর্শ দেন:
পরেরবার আমাদের মতো সাদামাটাভাবে পোশাক পরবেন।
চিয়া জবাব দেন, আইনপ্রণেতাদের মতোই তাঁরও লম্বা হাতার পোশাক পরা আছে, তাই তাঁর পোশাকও তাঁদের মতো। এরপর লাই বলেন, সংসদের কিছু মানদণ্ড থাকা উচিত। চিয়া আবারও বলেন, তাঁর বিশ্বাস, উপস্থিত অন্যদের মতোই তিনি পোশাক পরেছেন।
এরপর চিয়ার ব্যাখ্যা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন লাই:
আপনি কি তর্ক চালিয়ে যেতে চান?
চিয়া বলেন, তিনি তর্ক করছেন না এবং সংসদের প্রতি সম্মান প্রকাশ করেন। তাঁর ব্যাখ্যা শেষ হওয়ার আগেই লাই আইনপ্রণেতা ইয়াং চিয়ুং-ইংকে প্রশ্ন শুরু করতে বলেন, ফলে তাঁদের কথোপকথন শেষ হয়।
কথার ধরনে দুটি ভিন্ন ধারণা একসঙ্গে উঠে আসে: সাদামাটাভাবে পোশাক পরা এবং আনুষ্ঠানিক বৈঠককে সম্মান করা। চিয়া তাঁর পোশাকের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে জবাব দেন। পরে লাইয়ের ব্যাখ্যায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়, জ্যাকেটটি চিয়ার কাঁধে কীভাবে জড়ানো ছিল।
লাই প্রথমে শিষ্টাচারের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেন
লাইয়ের প্রাথমিক বিবৃতিতে বলা হয়, কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব হলো শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালানো। তিনি বলেন, কাঁধে জ্যাকেট জড়িয়ে পরার সময় সংসদের আনুষ্ঠানিকতা বিবেচনা করতে চিয়াকে মনে করিয়ে দিতে কয়েকজন তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন। কারা তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন বা কতজন তাঁর কাছে এসেছিলেন, তা তিনি জানাননি।
লাই বলেন, এই স্মরণ করিয়ে দেওয়ার বিষয়টি চিয়ার ব্যক্তিগত রুচি, পোশাকের পছন্দ বা চেহারা নিয়ে নয়; এটি শিষ্টাচারসংক্রান্ত। তিনি আরও বলেন, চিয়ার ফ্যাশনবোধ তাঁর ভালো লাগে এবং তাইপে ১০১-কে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ফ্যাশন এবং সমসাময়িক সংস্কৃতির মঞ্চ হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের পরস্পরের সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত, সে বিষয়েও বিবৃতিতে বিস্তৃত মন্তব্য ছিল। লাই বলেন, সম্মান দুই দিক থেকেই আসা উচিত: প্রশ্নের জবাব দিতে হাজির ব্যক্তিদের সংসদকে সম্মান করতে হবে, আর আইনপ্রণেতাদেরও তাঁদের সঙ্গে সমান, যুক্তিসংগত ও সম্মানজনক আচরণ করতে হবে।
তাঁর ব্যাখ্যায় হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি কীভাবে কথাটি বলেছেন এবং তাতে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়টি উঠে আসে।
ফুলের নকশার শার্ট পরে প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া
ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির চেয়ারম্যানও প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে সেদিন বিকেলে থ্রেডসে একটি পোস্ট দিয়ে আলোচনায় যোগ দেন। দলটির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় ফুলের নকশার শার্ট পরা নিজের একটি ছবি তিনি পোস্ট করেন।
প্রেসিডেন্ট তাইওয়ানকে মুক্ত ও বৈচিত্র্যময় সমাজ হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে প্রত্যেকেরই নিজস্ব রুচি প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে মানুষকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়, সেই বিষয়ের সঙ্গে তিনি এই স্বাধীনতাকে সরাসরি যুক্ত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে লাই চিং-তে বলেন:
একজনের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার বিচার কখনোই শুধু তাঁর পোশাক দেখে করা উচিত নয়।
তিনি ভিন্ন ধারণা ও রুচিকে মূল্য দেওয়ারও আহ্বান জানান। ছবিটি ছিল তাঁর নিজের কথার উদাহরণ: প্রচলিত সাদামাটা শার্টের চেয়ে বেশি অভিব্যক্তিপূর্ণ পোশাক পরে তিনি আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পোস্টটির নিচে হৃদয়ের চিহ্ন দিয়ে মজার ছলে তাঁকে কেনাকাটায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান চিয়া। তাইপে ১০১-এর চেয়ারওম্যান লেখেন:
খুব সুদর্শন। পরেরবার তাইপে ১০১-এ এলে আপনাকে সঙ্গে নিয়ে নানা ধরনের পোশাক কিনতে যাব।
তাঁর জবাবে আলোচনাটি কমিটির মঞ্চের উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার বদলে তাইপে ১০১-এর খুচরা ব্যবসার দিকে মোড় নেয়।
সন্ধ্যায় অনুপযুক্ত কথার ধরন স্বীকার করেন লাই
সেদিন সন্ধ্যায় একটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের কথার প্রকাশভঙ্গির সমস্যা স্বীকার করেন লাই হুই-ইউয়ান। তিনি বলেন, ফুটেজটি আবার দেখে বুঝেছেন, তাঁর মন্তব্যের কিছু অংশ অনুপযুক্ত ছিল।
আইনপ্রণেতা বলেন, বৈঠককক্ষে কয়েকজনের মনোভাব তুলে ধরাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য। জনমতের প্রতিক্রিয়া এত তীব্র হওয়ায় তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন বলে জানান। একই সঙ্গে স্বীকার করেন, ঘটনাটি চিয়া ও সাধারণ মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
ভিডিওটি পর্যালোচনার পর নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করে লাই হুই-ইউয়ান বলেন:
আমি গভীরভাবে অস্বস্তি বোধ করছি এবং বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবব।
সেদিন সকালে বৈঠকে যাওয়ার পথে লিফটে চিয়ার সঙ্গে দেখা হওয়া এবং তাঁকে সুন্দর পোশাকে দেখার কথাও স্মরণ করেন লাই। চিয়ার চেহারা দেখে তাঁর যোগ্যতার বিচার করার উদ্দেশ্য ছিল না—লাইয়ের ঘোষিত অবস্থানের পক্ষে এই বিবরণটি ছিল সহায়ক।
ব্যক্তিগত রুচি প্রকাশের অধিকারসহ তাইওয়ানের স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্য নিয়ে প্রেসিডেন্টের বার্তাকে সমর্থন করেন লাই। সন্ধ্যার প্রতিক্রিয়ায় তিনি হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্য সমর্থন করার অবস্থান থেকে সরে এসে তা প্রকাশের ধরনটির দায় স্বীকার করেন।
প্রথমে বিস্ময়ের কথা জানান, পরে পোশাকের ব্যাখ্যা দেন চিয়া
শুনানি শেষে সাংবাদিকদের চিয়া বলেন, তিনি অপমানিত বোধ করেননি, তবে কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন। সেদিন বিকেলে তাইপে ১০১-এ এক সংবাদ সম্মেলনেও একই পোশাক পরবেন বলে জানান তিনি।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোশাক ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী সম্পর্কে বিস্তারিত জানান তিনি। হালকা রঙের জ্যাকেটটি ডিওরের, এতে ছিল বেইজ রং ও সোনালি সূচিকর্মের নকশা। চিয়া বলেন, আগের বছর ছেলে আন আন-এর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দিতে তিনি এটি কিনেছিলেন। এরপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও পরেছেন।
চিয়া জানান, তাঁর ব্রেসলেটটি কার্তিয়েরের এবং জুতা ফেরাগামোর। তাঁর ডিওর ঘড়িটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও দীর্ঘ পারিবারিক স্মৃতি: ৩০ বছরেরও বেশি আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার সময় দাদি তাঁকে ঘড়িটি উপহার দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
এই ব্যাখ্যায় প্রতিটি সামগ্রীর জীবনে আলাদা তাৎপর্য উঠে আসে—ছেলের সমাবর্তনের জন্য কেনা পোশাক থেকে শুরু করে তাঁর নিজের স্নাতক হওয়ার স্মারক উপহার পর্যন্ত। চিয়া বলেন, বিলাসবহুল পণ্য কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার হতে পারে, তবে এগুলোর প্রকৃত মূল্য জড়িয়ে থাকা গল্প ও স্মৃতিতে।
তাইপে ১০১-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিক্রির সময় কেনাকাটার লোভ সামলানো কঠিন—এ নিয়ে রসিকতাও করেন তিনি। তাঁর প্রতিক্রিয়ায় রসিকতার পাশাপাশি বছরের পর বছর ধরে নির্দিষ্ট কিছু জিনিস পরতে থাকার কারণও উঠে আসে।
চেহারার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সমালোচনা করেন সমর্থকেরা
কমিটির কার্যক্রম চলাকালে চিয়ার পক্ষে কথা বলেন কুওমিনতাংয়ের আইনপ্রণেতা হুং মেং-কাই। তিনি বলেন, পোশাকের জন্য কাউকে ক্ষমা চাইতে হওয়া উচিত নয়। প্রশ্নের জবাব দিতে হাজির ব্যক্তিদের পোশাক নিয়ে আইনপ্রণেতাদের আপত্তি তোলার সঙ্গে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন, যদিও এমন মন্তব্যকে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে বর্ণনা করেন।
নকশাকার নিয়েহ ইয়ং-চেনও প্রকাশ্যে চিয়ার প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, চিয়ার রুচি ভালো এবং তাঁর পোশাক যথাযথ ছিল; চেহারা নিয়ে নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে জনসংযোগ খাতে কাজ করা চিয়ার বন্ধু ইউয়ে চি-জু ফেসবুকে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি ঘটনাটিকে একজন সফল নারীর প্রতি হয়রানি হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, চিয়া তাঁর ভূমিকার উপযোগী আনুষ্ঠানিক পোশাক পরেছিলেন।
তাইপে ১০১-এর বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন ইউয়ে। তাঁর যুক্তি, চিয়ার পোশাক তাঁর কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফ্যাশন ব্যবসাগুলো সম্পর্কে তাঁর বোঝাপড়া প্রকাশ করতে পারে। ব্র্যান্ডের ইতিহাস, কারুশিল্প ও বাণিজ্যিক পরিচয় তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।
ইউয়ে আরও বলেন, তাইপে ১০১-এর ব্যবসায়িক সাফল্য রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এতে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলো বড় অবদান রেখেছে। এসব মন্তব্যে তিনি বিক্রির মোট অঙ্ক জানাননি। তাঁর বাণিজ্যিক যুক্তি ছিল, খুচরা ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার প্রতিনিধিত্ব করতে হলে তার ভাড়াটে প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতাদের সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার, পাশাপাশি ব্যবসা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নেরও জবাব দিতে হয়।
মানদণ্ড ও পারস্পরিক সম্মানকে ঘিরেই বিরোধ
সংসদের আনুষ্ঠানিকতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন লাই হুই-ইউয়ান। চিয়া জবাবে বলেন, তাঁর পোশাক যথাযথ ছিল এবং তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে সম্মান করেন। পেশাগত আচরণের ভিন্ন একটি মানদণ্ডের ওপর গুরুত্ব দেন প্রেসিডেন্ট: শুধু চেহারা নয়, একজনের কাজ ও নিষ্ঠা।
আইনপ্রণেতাদের মতো পোশাক পরার পরামর্শে তুলনার মাপকাঠি হয়ে ওঠে তাঁদের নিজেদের চেহারা। পরে লাইয়ের বিবৃতিতে জ্যাকেট নিয়ে আরও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, হাজির ব্যক্তিদের প্রতি আইনপ্রণেতাদেরও সম্মান দেখানো উচিত।
চিয়ার সমর্থকেরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিষয়টি দেখেছেন। পোশাকের জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হুং। নিয়েহ পোশাকটিকে যথাযথ বলে মনে করেন। ইউয়ে ফ্যাশন সম্পর্কে জ্ঞানকে চিয়ার ব্যবসায়িক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং সফল নারীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ জানান।
শেষ পর্যন্ত লাই অনুপযুক্ত কথার ধরন স্বীকার করেন এবং ব্যক্তিগত রুচির পক্ষে প্রেসিডেন্টের অবস্থানকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে চিয়া সংসদের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বজায় রাখেন এবং পোশাকটি নিয়েই আলোচনা চালিয়ে যান, সেটি পরা বন্ধ করেননি। শুনানিতে হাজির একজনকে আনুষ্ঠানিক আচরণের প্রত্যাশা কীভাবে জানানো উচিত, তা নিয়েই ছিল মূল মতবিরোধ।
মূল বিষয়গুলো
- ব্যবসা নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর আইনসভার অর্থবিষয়ক কমিটিতে হাজির হন তাইপে ১০১-এর চেয়ারওম্যান জ্যানেট চিয়া।
- কাঁধে জড়ানো জ্যাকেট নিয়ে মন্তব্যের পর কমিটির সভাপতি লাই হুই-ইউয়ান তাঁকে আইনপ্রণেতাদের মতো সাদামাটাভাবে পোশাক পরতে বলেন।
- চিয়া বলেন, তিনি সংসদকে সম্মান করেন এবং অপমানিত না হলেও কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন।
- ফুলের নকশার শার্ট পরে দলের বৈঠকে সভাপতিত্ব করার ছবি দিয়ে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ব্যক্তিগত রুচির পক্ষে অবস্থান নেন।
- পরে লাই হুই-ইউয়ান অনুপযুক্ত কথার ধরন স্বীকার করেন এবং বলেন, বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাববেন।
- চিয়া জানান, তাঁর ডিওর জ্যাকেট ও ঘড়ির সঙ্গে পরিবারের স্নাতক-সমাবর্তনের স্মৃতি জড়িয়ে আছে।






