ছয়টি স্থানে তল্লাশিতে সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটা নিয়ে বিরোধের তথ্য
তাইওয়ানের জিন মিং ইন্ডাস্ট্রির দুই জ্যেষ্ঠ নির্বাহীকে দুই মাসের জন্য আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি ও এর একটি সহযোগী কোম্পানি নিষিদ্ধ চীনা চিপ ও লেন্সযুক্ত সামরিক ড্রোন সরবরাহ করেছে এবং পরে সশস্ত্র বাহিনীর গ্রহণের জন্য উৎস-সনদের মিথ্যা তথ্য জমা দিয়েছে।
সূচিপত্র
- ছয়টি স্থানে তল্লাশিতে সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটা নিয়ে বিরোধের তথ্য
- তদন্তকারীদের ভাষ্যে কী সরবরাহ করা হয়েছিল
- তল্লাশি থেকে আটকের নির্দেশ
- কেন মুক্তির আবেদন নাকচ করল আদালত
- কোন আইনগুলো খতিয়ে দেখছেন কৌঁসুলিরা
- ভিআইপিআর নিয়ে কোম্পানির প্রকাশ্য দাবির পৃথক পরীক্ষা
- শিল্পভিত্তিক ব্যবসার দায়িত্ব নিলেন চেয়ারম্যান
- আয় বাড়লেও লোকসান অব্যাহত
- যন্ত্রাংশের স্তরেও তাইওয়ানের উৎসবদলের উদ্যোগ
- মূল বিষয়গুলো
তাওয়ুয়ান জেলা আদালত ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাব্যবস্থাপক জিয়ান হাওটিং এবং ব্যবসা বিভাগের পরিচালক চেন ইয়াংচেংকে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর থেকে আটক রাখার নির্দেশ দেন। তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চিঠিপত্র আদান-প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ছয়টি স্থানে তল্লাশি এবং রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর ১২ অক্টোবর তদন্তের তথ্য প্রকাশ করেন কৌঁসুলিরা।
অভিযোগগুলো কোম্পানিটির প্রকাশ্যে প্রচার করা—গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের যন্ত্রাংশ ছাড়া ড্রোন তৈরির—দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে তদন্তকারীরা ড্রোনের মডেলগুলো প্রকাশ্যে শনাক্ত করেননি। তাই এখনো এই মামলাকে কোম্পানির প্রচার করা ভিআইপিআর উড়োজাহাজের সঙ্গে যুক্ত করা যাচ্ছে না।
তাওয়ুয়ান জেলা কৌঁসুলি দপ্তর জাতীয় নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন, ব্যবসায়িক নথিতে মিথ্যা তথ্য ব্যবহার এবং তিন বা তার বেশি ব্যক্তির যোগসাজশে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত করছে। আটক রাখার সিদ্ধান্ত গুরুতর সন্দেহ এবং তদন্তে বাধা সৃষ্টির ঝুঁকির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। এগুলো ফৌজদারি দণ্ডাদেশ নয়।
ইলেকট্রনিকস ও নির্ভুল ধাতব যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী জিন মিং (শেয়ার কোড ৩২৩০) জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। চেয়ারম্যান সাই শিয়াংফেং সাময়িকভাবে মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব নিয়েছেন। কোম্পানির হিসাবে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট আয়ের প্রায় ১.১ শতাংশ এসেছে প্রতিরক্ষা খাতের ড্রোনের অর্ডার থেকে। সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটার স্পর্শকাতরতা সত্ত্বেও বাণিজ্যিক আয়ের তুলনায় এই অংশ সামান্য।
তদন্তকারীদের ভাষ্যে কী সরবরাহ করা হয়েছিল
কৌঁসুলিদের ভাষ্য, জিন মিং ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে একাধিক ড্রোন কেনার চুক্তি পেয়েছিল। চুক্তিতে নিষিদ্ধ চীনে তৈরি চিপ ও ক্যামেরার লেন্স ড্রোনে বসানোর অভিযোগ তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে। এসব ড্রোন সামরিক বাহিনীর কাছে গ্রহণের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
প্রতিবেদনে সহযোগী প্রতিষ্ঠানটির নাম ইংশেং ইন্টারন্যাশনাল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মূল কোম্পানি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান, সরবরাহকারী এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়। জিন মিংয়ের প্রধান কার্যালয় তাওয়ুয়ানের লুঝু জেলায়।
অভিযোগটির দুটি পরস্পরসম্পর্কিত দিক রয়েছে: যন্ত্রাংশের প্রকৃত উৎস এবং সেগুলোর সঙ্গে জমা দেওয়া কাগজপত্রের যথার্থতা। উৎস-সনদে কোনো পণ্য বা যন্ত্রাংশ কোথা থেকে এসেছে, তা উল্লেখ থাকে। কৌঁসুলিদের সন্দেহ, চুক্তির বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও সামরিক বাহিনীর অনুমোদন পেতে মিথ্যা সনদ ব্যবহার করা হয়েছে।
চিপ প্রস্তুতকারী, লেন্স সরবরাহকারী, চুক্তির মূল্য বা ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজের সংখ্যা সম্পর্কে প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি। ড্রোনগুলো হ্যাক করা হয়েছিল, চীনে তথ্য পাঠিয়েছিল বা অভিযানের সময় বিকল হয়েছিল—এমন কোনো তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের বিষয় নিষিদ্ধ উৎস থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, কথিত মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও সরবরাহ; প্রমাণিত সাইবার হামলা নয়।
তল্লাশি থেকে আটকের নির্দেশ
প্রধান কৌঁসুলি চ্যাং চুনহুই জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক কৌঁসুলি লিন ইওয়েইকে তদন্ত পরিচালনার দায়িত্ব দেন। ৮ অক্টোবর সকালে বিচার মন্ত্রণালয়ের তদন্ত ব্যুরোর সিনচু কাউন্টি শাখা তাওয়ুয়ান জেলা আদালতের জারি করা তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করে।
ছয়টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। দুই নির্বাহীসহ কোম্পানির সাত কর্মী এবং একজন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। কী ঘটেছিল তা জানার জন্য বিভিন্ন জিনিসপত্রও জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর অন্য আসামিদের চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
পাঁচ দিনে ঘটনাপ্রবাহ এগিয়েছে এভাবে:
- ৮ অক্টোবর: কোম্পানির কার্যালয়, সরবরাহকারী ও কয়েকজনের বাসভবনে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। তদন্ত ব্যুরো তাদের কার্যালয়ে গিয়েছিল বলে জানায় জিন মিং।
- ৯ অক্টোবর, রাত প্রায় ৩টা: রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর জিয়ান ও চেনকে গ্রেপ্তার করেন কৌঁসুলিরা এবং তাঁদের আটক রেখে যোগাযোগে বিধিনিষেধ আরোপের আবেদন করেন।
- ৯ অক্টোবর: ওই দিন থেকে দুই নির্বাহীকে দুই মাস আটক রাখার নির্দেশ দেন আদালত।
- ১২ অক্টোবর: মামলার বিবরণ প্রকাশ করেন কৌঁসুলিরা। একই সময় জিন মিং জানায়, তাদের চেয়ারম্যান সাময়িকভাবে মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব নেবেন।
আটকের আদেশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে প্রত্যেক নির্বাহী আপিল করতে পারবেন। সময়সীমা আদেশ পাওয়ার দিন থেকে গণনা হবে; তল্লাশি বা জনসমক্ষে ঘোষণা দেওয়ার দিন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নয়। বিচার শুরুর তারিখ বা তদন্ত নিয়ে পরবর্তী ঘোষণার দিন জানানো হয়নি।
কেন মুক্তির আবেদন নাকচ করল আদালত
দুই নির্বাহীকে আটক রাখার জন্য আদালত আলাদা আলাদা কারণ দেখিয়েছেন। জিয়ানের ক্ষেত্রে আদালত বলেন, অভিযোগে বর্ণিত অপরাধী কাঠামোয় তিনি ওপরের স্তরের ভূমিকা পালন করেছেন এবং তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ সাক্ষীদের জবানবন্দির সঙ্গে মেলে না। সম্ভাব্য সহযোগী ও তদন্তাধীন অন্যান্য তথ্যের কথাও উল্লেখ করেন আদালত।
আদেশের বিবরণ অনুযায়ী, জিয়ান প্রথমে অনিয়মের কথা অস্বীকার করলেও আদালতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আটকের আবেদনে বর্ণিত কর্মকাণ্ড স্বীকার করেন। আদালতের মূল্যায়নে এই কথিত স্বীকারোক্তি প্রাসঙ্গিক, তবে তা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়।
সহযোগী বা সাক্ষীদের সঙ্গে যোগসাজশের ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেছে আদালত। কোম্পানির সামরিক লেনদেনের সংখ্যা ও বিক্রির পরিমাণও একই ধরনের কর্মকাণ্ড আবার ঘটতে পারে—এমন উদ্বেগের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
চেন অভিযোগে বর্ণিত কর্মকাণ্ড অস্বীকার করেছেন। তা সত্ত্বেও মামলার নথিতে থাকা প্রমাণের ভিত্তিতে গুরুতর সন্দেহের অবকাশ দেখেছে আদালত। পুলিশ ও কৌঁসুলিদের জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ বদলেছে এবং সাক্ষীদের বক্তব্যের সঙ্গে অমিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালত। এতে যোগসাজশ ও প্রমাণ নষ্ট করার আশঙ্কা জোরদার হয়েছে।
জিয়ানের ক্ষেত্রে আদালত জামিন, অন্য কারও তত্ত্বাবধানে মুক্তি এবং আকাশপথে বা সমুদ্রপথে তাইওয়ান ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ বিকল্প ব্যবস্থাগুলো স্পষ্টভাবে বিবেচনা করেন। সাক্ষী বা সহযোগীদের প্রভাবিত করা ঠেকাতে এসব ব্যবস্থা যথেষ্ট হবে না বলে মত দেন আদালত। তদন্ত চলাকালে দুই নির্বাহীকেই সাক্ষাৎ ও চিঠিপত্র আদান-প্রদানে নিষেধাজ্ঞাসহ আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোন আইনগুলো খতিয়ে দেখছেন কৌঁসুলিরা
জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক কথিত অপরাধের অভিযোগে রয়েছে, সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য মূল ভূখণ্ড চীনে উৎপাদিত পণ্য জেনেশুনে সরবরাহ করা। তদন্ত নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ১১ অনুচ্ছেদের ১ম দফা এবং ১২ অনুচ্ছেদের ১ম দফার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কথিত মিথ্যা ব্যবসায়িক নথি এবং সেগুলোর ব্যবহারসংক্রান্ত অভিযোগে কৌঁসুলিরা ফৌজদারি বিধির ২১৫ ও ২১৬ ধারার কথাও বলেছেন। এখানে উৎস-সনদ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেগুলো নাকি শুধু কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কাগজপত্র হিসেবে রাখা হয়নি; সশস্ত্র বাহিনীর গ্রহণপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছিল।
তিন বা তার বেশি ব্যক্তির যোগসাজশে প্রতারণার কথিত গুরুতর অপরাধটি ৩৩৯-৪ অনুচ্ছেদের ১ম দফার ২ নম্বর উপদফায় তালিকাভুক্ত। প্রকাশ্যে আটক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে কেবল দুই নির্বাহীকে। কথিত অপরাধের অভিযোগ থেকে অন্য কারও অপরাধ বা পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হয় না। তদন্তকারীরা বলছেন, সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে আরও তদন্ত বাকি রয়েছে।
তাই বিষয়টি শুধু পণ্য চুক্তির শর্ত পূরণ করেছে কি না, তা নিয়ে বিরোধে সীমাবদ্ধ নয়। সামরিক সরঞ্জাম কেনার উৎসসংক্রান্ত বিধিনিষেধ জেনেশুনে লঙ্ঘন, মিথ্যা নথি তৈরি এবং প্রতারণার সঙ্গে সরবরাহগুলো জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন কৌঁসুলিরা। ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ায় এসব অভিযোগের প্রমাণ এখনো দিতে হবে।
ভিআইপিআর নিয়ে কোম্পানির প্রকাশ্য দাবির পৃথক পরীক্ষা
ওয়েবসাইটে জিন মিং ভিআইপিআরকে তাইওয়ানের সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তৈরি এবং প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অভিযানের জন্য বানানো ড্রোন হিসেবে তুলে ধরেছে। তাদের ভিআইপিআর পণ্যের বিবরণে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজটিতে চীনা কোনো যন্ত্রাংশ বা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনের (এনডিএএ) সব শর্ত পুরোপুরি মেনে চলে।
উৎসসংক্রান্ত মানদণ্ডের বিষয়ে কোম্পানিটি স্পষ্টভাবে বলেছে:
সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে চীনা যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা দূর করা।
এটি কোম্পানির নিশ্চয়তা; তদন্তাধীন উড়োজাহাজ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো তথ্য নয়। বিবৃতিতে সামরিক উৎপাদনের মান, উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতা এবং নকশা, উৎপাদন ও পরীক্ষায় সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে।
এনডিএএ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা আইন। এর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু চীনা ড্রোন সরঞ্জাম কেনার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। জিন মিংয়ের আইন মেনে চলার দাবিটি তাইওয়ানের চুক্তি ও আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন থেকে আলাদা। একটি দাবি দিয়ে অন্যটির নিষ্পত্তি হয় না।
জিন মিং একটি ছোট ভিআইপিআর কোয়াডকপ্টার সামরিক ড্রোন এবং জেট ইঞ্জিনচালিত হালকা স্থির-পাখার উড়োজাহাজের একটি প্রোটোটাইপ প্রদর্শন করেছে। দুটিই তাইওয়ানে তৈরি বলে প্রচার করা হয়েছে। কোনোটিই এই তদন্তের আওতায় আছে কি না, তদন্তকারীরা জানাননি। প্রাসঙ্গিক বিষয় হলো কোম্পানির প্রকাশ্য উৎসসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি এবং সরঞ্জাম কেনাকাটার মামলায় অভিযোগ করা কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য; কোম্পানির বিক্রি করা প্রতিটি পণ্যের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগ নয়।
শিল্পভিত্তিক ব্যবসার দায়িত্ব নিলেন চেয়ারম্যান
জিন মিং ১২ অক্টোবর জানায়, কৌঁসুলিদের জিজ্ঞাসাবাদের পর চেয়ারম্যান সাই শিয়াংফেংকে জামানত দিতে না হলেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁর মুক্তি বৃহত্তর তদন্তের অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করে না।
কোম্পানিটি বলেছে, কার্যক্রম সচল রাখতে জরুরি পরিকল্পনা চালু করা হয়েছে। সাই সাময়িকভাবে মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করবেন এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনা দলের সঙ্গে বিদ্যমান ব্যবসা চালিয়ে যাবেন। তদন্ত গোপনীয় হওয়ায় মামলার বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তদন্তকারীদের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কোম্পানি।
প্রকাশ করা আয়ের হিসাব থেকে প্রতিরক্ষা খাতে কোম্পানির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বর্তমান ব্যবসার পার্থক্য বোঝা যায়:
- সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট আয়ের প্রায় ৮৫.৮ শতাংশ এসেছে ধাতব পাতের ছাঁটাই ও ছাঁচ তৈরির ব্যবসা থেকে।
- ড্রোন ব্যবসা থেকে এসেছে প্রায় ৩.৩ শতাংশ।
- প্রতিরক্ষা খাতের ড্রোন অর্ডার থেকে এসেছে মোট আয়ের প্রায় ১.১ শতাংশ।
আনুমানিক এই হিসাব অনুযায়ী, ড্রোন ব্যবসার আয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতিরক্ষা খাতের অর্ডার থেকে এসেছে: ১.১ শতাংশকে ৩.৩ শতাংশ দিয়ে ভাগ করলে এই হিসাব মেলে। তদন্তাধীন চুক্তিগুলোর মূল্য এই পরিসংখ্যানে জানা যায় না; কথিত ক্ষতির পরিমাণ হিসেবেও এগুলো বিবেচনা করা উচিত নয়।
জিন মিং বলেছে, রপ্তানি অর্ডার ব্যাহত হয়নি এবং তাদের বিদ্যমান দেশীয় ও বিদেশি ব্যবসা ও আর্থিক অবস্থায় এ পর্যায়ে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। এগুলো কোম্পানির নিজস্ব মূল্যায়ন। ভবিষ্যতের কেনাকাটাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, চুক্তি পর্যালোচনা বা আদালতের কার্যক্রম ব্যবসার জন্য কী অর্থ বহন করবে, তা প্রকাশ্য তথ্য থেকে নির্ধারণ করা যায় না।
আয় বাড়লেও লোকসান অব্যাহত
১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত জিন মিং ধাতব পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। পরে অ্যাপলের অনুমোদিত সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করাসহ ভোক্তা ইলেকট্রনিকস খাতে যুক্ত হয়। প্রচলিত ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশের বাইরেও ব্যবসা সম্প্রসারণের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে কোম্পানিটি সামরিক ড্রোনে প্রবেশ করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি সংরক্ষণ খাতেও তাদের কার্যক্রম রয়েছে।
জিন মিং জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে তাদের সমন্বিত আয় ছিল ৪০.৫৯৭ মিলিয়ন তাইওয়ান ডলার। আগস্টের তুলনায় তা ৪.৪৩ শতাংশ কম, তবে এক বছর আগের একই মাসের তুলনায় ১৯.৮২ শতাংশ বেশি। অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে অঙ্কটি ৪১ মিলিয়ন তাইওয়ান ডলার হিসেবে উল্লেখ করে যথাক্রমে ৪.৪ শতাংশ হ্রাস ও ১৯.৮ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এগুলো একই ফলাফলের গোল করে দেখানো হিসাব; আয়ের পরিমাণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য নয়।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে কর-পরবর্তী লোকসান ছিল ৪৯ মিলিয়ন তাইওয়ান ডলার। প্রথম প্রান্তিকে তা ছিল ৩৮ মিলিয়ন এবং আগের বছরের একই প্রান্তিকে ৪৮ মিলিয়ন তাইওয়ান ডলার। প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় লোকসান ১১ মিলিয়ন তাইওয়ান ডলার বেড়েছে, প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২৯ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ০.৫৮ তাইওয়ান ডলার।
তল্লাশির আগেই জিন মিং আর্থিক চাপের মধ্যে ছিল, এই ফলাফল তা দেখায়। তবে লোকসানের সঙ্গে কথিত সরঞ্জাম কেনাকাটার অপরাধের যোগসূত্র এগুলো প্রমাণ করে না। তদন্তে ব্যবসায় বড় কোনো প্রভাব পড়েনি—কোম্পানির এই মূল্যায়নও স্বাধীনভাবে যাচাই করে না।
যন্ত্রাংশের স্তরেও তাইওয়ানের উৎসবদলের উদ্যোগ
চীনা সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমানো ও নিজস্ব ড্রোন উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের মধ্যে এই তদন্ত চলছে। তাইওয়ানের ড্রোন উন্নয়ন কর্মসূচি ২০২২ সালে সম্প্রসারণ করে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে প্রধান ঠিকাদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় গবেষণায় সহায়তা করে এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কেনাকাটায় সহায়তা দেয়।
স্থলভাগ ও যুদ্ধজাহাজ থেকে পরিচালনাযোগ্য ড্রোনের গণ-উৎপাদনে ৭.১ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলারের একটি উদ্যোগও শুরু করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বৃহত্তর এই কর্মসূচি এবং তদন্তাধীন জিন মিংয়ের চুক্তিগুলোর অপ্রকাশিত মূল্য আলাদা বিষয়।
তাইওয়ান ইউএভির আন্তর্জাতিক কৌশল ও কার্যক্রমবিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেনিস হুয়াং উৎসসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পেছনের সরবরাহ-বিঘ্নের উদ্বেগ এভাবে বর্ণনা করেছেন:
আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তাইওয়ান সরকার বুঝতে পেরেছে। চীনা নৌ অবরোধে ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও উপকরণের সরবরাহ থেকে তাইওয়ান হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে, এ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন,
হুয়াং বলেন, চীনা ইঞ্জিনের বদলে অস্ট্রেলীয় বিকল্প ব্যবহার করলে খরচ ২০ গুণ হতো। তাই তাইওয়ান ইউএভি অংশীদার ও তাইওয়ানের মোটর স্কুটার শিল্পের প্রকৌশলীদের নিয়ে নিজস্ব পেট্রল ইঞ্জিন তৈরি করেছে। তাদের নজরদারি সরঞ্জামে লাটভিয়া থেকে সংগ্রহ করা ক্যামেরা ও স্থিতিশীলকরণ ব্যবস্থা রয়েছে। এসব উদাহরণে দেখা যায়, চীনা যন্ত্রাংশ বাদ দেওয়ার অর্থ তাইওয়ানে প্রতিটি অংশ তৈরি করা নয়; এর জন্য দেশীয় উদ্ভাবনের সঙ্গে অন্য দেশ থেকে আমদানি মিলিয়ে নিতে হতে পারে।
আরেক তাইওয়ানি নির্মাতা অ্যাভিলন ইন্টেলিজেন্সের দাবি, তারা নিজেদের ফ্লাইট কন্ট্রোল ও ক্লাউড ব্যবস্থা অভ্যন্তরীণভাবে তৈরি করে এবং স্পর্শকাতর চীনা যন্ত্রাংশ ও সফটওয়্যার এড়িয়ে চলে। বন পর্যবেক্ষণ ও বিদ্যুতের টাওয়ার পরিদর্শনের মতো বেসামরিক কাজে তাদের ড্রোন ব্যবহৃত হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মিং থানাকর্ন বলেছেন, বেসরকারি বাজারে কম দামের চীনা ড্রোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
১৬ আগস্ট প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ড্রোন প্রোটোটাইপে সম্ভাব্য চীনা চিপ দৃশ্যমান হওয়া নিয়ে আলাদা বিতর্ক তৈরি হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, ওই উড়োজাহাজটি ছিল ধারণার কার্যকারিতা যাচাইয়ের নমুনা, যা নিজস্ব সামরিক ড্রোন কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ওই ব্যাখ্যা ও প্রোটোটাইপ নিয়ে বিতর্ক জিন মিংয়ের তদন্ত থেকে আলাদা; দুটির মধ্যে কোনো যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এখনো অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো নির্দিষ্ট: কোন উড়োজাহাজ ও চুক্তি এতে জড়িত, যন্ত্রাংশের উৎস কীভাবে যাচাই করা হয়েছিল, সনদগুলো কে তৈরি করেছিলেন এবং প্রত্যেকের জ্ঞান সম্পর্কে তদন্তকারীরা কী প্রমাণ করতে পারবেন। জড়িত যন্ত্রাংশের সংখ্যা কিংবা সরবরাহ করা উড়োজাহাজ পরীক্ষা, বদল বা ব্যবহার স্থগিত করার কোনো সামরিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
মূল বিষয়গুলো
- জিন মিংয়ের নির্বাহী জিয়ান হাওটিং ও চেন ইয়াংচেংকে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর থেকে দুই মাস আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চিঠিপত্র আদান-প্রদান নিষিদ্ধ।
- কৌঁসুলিদের সন্দেহ, সামরিক ড্রোনে নিষিদ্ধ চীনা চিপ ও লেন্স বসানো হয়েছিল এবং সেগুলোর সঙ্গে উৎসের মিথ্যা সনদ জমা দেওয়া হয়েছিল।
- তদন্তকারীরা ছয়টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে কোম্পানির সাত কর্মী ও একজন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
- কথিত অপরাধের মধ্যে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন, মিথ্যা ব্যবসায়িক নথি এবং গুরুতর প্রতারণা। কোনো দণ্ডাদেশ ঘোষণা করা হয়নি।
- চেয়ারম্যান সাই শিয়াংফেং সাময়িকভাবে মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছেন। জিন মিংয়ের দাবি, কার্যক্রম স্বাভাবিক এবং রপ্তানি অর্ডার ব্যাহত হয়নি।
- সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির আয়ের প্রায় ১.১ শতাংশ এসেছে প্রতিরক্ষা খাতের ড্রোন অর্ডার থেকে; সব ধরনের ড্রোন ব্যবসা মিলিয়ে এই অংশ ৩.৩ শতাংশ।
- সংশ্লিষ্ট মডেল, চুক্তির মূল্য ও উড়োজাহাজের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। আটক প্রত্যেক নির্বাহী আদেশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।






