রহস্যের কেন্দ্রের পরিবারে যুক্ত হলেন তিন নতুন কণ্ঠশিল্পী
জাপানে ২০২৬ সালের ১১ ডিসেম্বর মুক্তি পেতে যাওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রথম অ্যানিমে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র The Apothecary Diaries: The Late Lady's Treasure-এর অভিনয়শিল্পীদের দলে যুক্ত হয়েছেন নোবুও তোবিতা, কুমিকো ওয়াতানাবে ও হিরোফুমি নোজিমা। ১২ অক্টোবর TOHO animation প্রকাশিত একটি চরিত্রের ট্রেলারে বি পরিবারের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারটি সেই জলতীরবর্তী এলাকার শাসক, যেখানে মাওমাও ও জিনশি এক সম্রাজ্ঞী-সহচরীর মৃত্যু ও গুপ্তধনের রহস্য তদন্ত করেন।
সূচিপত্র
- রহস্যের কেন্দ্রের পরিবারে যুক্ত হলেন তিন নতুন কণ্ঠশিল্পী
- বি পরিবার কারা?
- মু ছিংয়ের মাধ্যমে পারিবারিক পরিচয় ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে রূপ নেয়
- চরিত্রটির প্রস্তুতিতে যত্ন নেওয়ার কথা জানালেন ইসে
- পাঁচ বছর ধরে সংরক্ষিত দেহ মাওমাওকে দক্ষিণে নিয়ে যায়
- প্রাসাদের বাইরের বিপদের মুখে পরিচিত চরিত্রেরা
- চারটি চরিত্রের ভিডিওতে ছবির অভিনয়শিল্পীদের পরিচয়
- প্রেক্ষাগৃহের জন্য নতুন কাহিনি তৈরি করেছে নির্মাণদল
- জাপানে মুক্তির তারিখ নিশ্চিত, আন্তর্জাতিক দর্শকদের অপেক্ষা
- মূল বিষয়গুলো
তোবিতা পরিবারের প্রধান বিরোর কণ্ঠ দিয়েছেন, ওয়াতানাবে তাঁর স্ত্রী শুউর ভূমিকায় এবং নোজিমা তাঁদের বড় ছেলে বিসেনের কণ্ঠে অভিনয় করেছেন। তাঁদের সঙ্গে আগে ঘোষিত অভিনয়শিল্পী মারিয়া ইসে যুক্ত হয়েছেন বিরোর ছোট ছেলে মু ছিংয়ের ভূমিকায়। ট্রেলারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হলো, পরিবারের কাছ থেকে তাকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
এই অভিনয়শিল্পীদের সংযোজন ছবির রহস্যকে আরও নির্দিষ্ট মানবিক প্রেক্ষাপট দিয়েছে। বিরো রুওছিংয়ের বাবা; পাঁচ বছর আগে সাম্রাজ্যের অন্তঃপুরে মারা যান এই সম্রাজ্ঞী-সহচরী। তাঁর দেহাবশেষ ফিরিয়ে দিতে মাওমাও ও জিনশি সেখানে পৌঁছান। এতে শোক, মর্যাদার প্রশ্ন এবং মু ছিংয়ের জন্মপরিস্থিতি নিয়ে বিভক্ত এক পরিবারের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়।
ছবিটির কাহিনি সম্পূর্ণ নতুন, যার ভাবনা মূল উপন্যাসের লেখক হিউগানাতসুর। এটি কোনো নির্দিষ্ট উপন্যাসের খণ্ডের ঘোষিত রূপান্তর নয়। ছবিটির জাপানি নাম Kusuriya no Hitorigoto: Bōhi no Hihō। এশিয়ার বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল, ভারত ব্যতিক্রম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত, ছবিটির পরিবেশনা স্বত্ব কিনেছে Crunchyroll। জাপানের বাইরে মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
বি পরিবার কারা?
পরিবারটি মিনানশু নামে বর্ণিত জলনগরী শাসন করে। এটি সাম্রাজ্যের রাজধানীর দক্ষিণের একটি অঞ্চলে অবস্থিত। বিরো আগত দলটিকে স্বাগত জানান। ট্রেলারে তাঁর স্ত্রী, বড় ছেলে ও ছোট ছেলেকে পরিবারের ভেতরে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে থাকা ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে।
ইংরেজি বানান এখনো একভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরিবারের নাম Bi বা Mi, এলাকার নাম Minanshu বা Binan Province এবং বিরো, শুউ ও বিসেনের বিকল্প হিসেবে Bilou, Qiuyu ও Biquan ব্যবহৃত হয়েছে। এগুলো একই নামের ভিন্ন প্রতিবর্ণীকরণ, আলাদা চরিত্র বা স্থানের নাম নয়।
নতুন কণ্ঠশিল্পীদের অন্য অ্যানিমেতে পরিচিত কাজ রয়েছে। Mobile Suit Zeta Gundam-এ কামিল বিদান এবং Chibi Maruko Chan-এ সুয়েও মারুওর কণ্ঠ দিয়েছেন তোবিতা। Sgt. Frog-এ কেরোরো এবং Atashin'chi-তে মায়ের কণ্ঠ দিয়েছেন ওয়াতানাবে। নোজিমার উল্লেখযোগ্য ভূমিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে Inazuma Eleven-এ শুয়া গোএনজি এবং Kingdom-এ মেং থিয়েন।
মু ছিংয়ের মাধ্যমে পারিবারিক পরিচয় ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে রূপ নেয়
মু ছিং বিরোর ছোট ছেলে। এক উপপত্নীর গর্ভে জন্ম নেওয়ায় পরিবার তাকে বর্জন করেছে। এই পরিচয় জন্মসূত্রে শাসক পরিবারের সদস্য হওয়া আর পরিবারের স্বীকৃতি পাওয়ার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে। ট্রেলারে মাওমাও ও জিনশিকে পরিবারের প্রকাশ্য অভ্যর্থনা জানানোর দৃশ্যের পাশাপাশি মু ছিংয়ের কষ্টও দেখানো হয়েছে।
মারিয়া ইসের কণ্ঠে মু ছিং ট্রেলারে সরাসরি নিজের প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কথা জানায়:
কারও ইচ্ছায় আমার জন্ম হয়নি।
শুউকেও কাউকে ছেলেটিকে থামাতে বলতে দেখা যায়। এই দৃশ্য তার একাকিত্বকে পরিবারের আবেগঘন অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত করে, যদিও সে কী করতে চায় বা শুউ কেন তাকে চলে যেতে বাধা দিচ্ছেন, তা ব্যাখ্যা করা হয়নি। রুওছিংকে ঘিরে শুউর নিজের শোক পরিবারে আরেকটি অমীমাংসিত সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
ইসে নিশ্চিত করেছেন, মু ছিং ছবিটির জন্য তৈরি একটি মৌলিক চরিত্র। আগের টিজার ভিজ্যুয়ালেও তাকে মাওমাও ও জিনশির পাশে দেখা গিয়েছিল। ইসের বর্ণনা অনুযায়ী, গন্তব্যে তাঁদের সঙ্গে পরিচয় হয় এমন এক বালক সে, যে কাহিনির চাবিকাঠি ধারণ করে।
চরিত্রটির প্রস্তুতিতে যত্ন নেওয়ার কথা জানালেন ইসে
মু ছিংয়ের কণ্ঠশিল্পী মারিয়া ইসে বলেছেন, নতুন একটি চরিত্রের মাধ্যমে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যুক্ত হওয়া তাঁর জন্য বিশেষ সম্মানের:
এত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত The Apothecary Diaries-এর জগতে প্রেক্ষাগৃহের ছবিটির জন্য তৈরি মৌলিক চরিত্র মু ছিং হিসেবে অংশ নিতে পেরে আমি সত্যিই সম্মানিত বোধ করছি।
পরিবারের পটভূমি যে বালকটির অনুভূতি ও সম্পর্ককে প্রভাবিত করে, তাকে কীভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা-ও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে:
চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তোলার সময় আমি তার পটভূমি নিয়ে সতর্কভাবে ভেবেছি এবং তার প্রতিটি অনুভূতির প্রতি বিশ্বস্ত থাকার চেষ্টা করেছি।
এই বক্তব্যে গুপ্তধন বা সম্রাজ্ঞী-সহচরীর দেহাবশেষের সঙ্গে মু ছিংয়ের সম্পর্ক প্রকাশ না করেই কাহিনিতে তার গুরুত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। অভিনয়শিল্পীদের ঘোষণা ও ট্রেলার মিলিয়ে বোঝা যায়, যাত্রাপথে মু ছিং কেবল ক্ষণিকের পরিচিত কেউ নয়। তবে রহস্যে তার ভূমিকা কীভাবে যুক্ত, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পাঁচ বছর ধরে সংরক্ষিত দেহ মাওমাওকে দক্ষিণে নিয়ে যায়
মৃত সম্রাজ্ঞী-সহচরীর বাড়ি ফেরার ইচ্ছা পূরণের সাম্রাজ্যিক নির্দেশ দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। জাপানি কাহিনির বিস্তারিত বিবরণে বলা হয়েছে, ছবির ঘটনাপ্রবাহের পাঁচ বছর আগে মারা যাওয়া রুওছিং ছিলেন মধ্যম মর্যাদার একজন সম্রাজ্ঞী-সহচরী। বিরোর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কারণে গন্তব্যটি একই সঙ্গে তাঁর জন্মস্থান এবং তাঁর বাবার কর্তৃত্বের কেন্দ্র।
মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রুওছিংয়ের দেহ সুন্দর থাকায় জিনশির সন্দেহ হয়। ওষুধ ও বিষ সম্পর্কে জ্ঞান থাকায় এই রহস্য পরীক্ষা করার উপযুক্ত ব্যক্তি মাওমাওকে তিনি সঙ্গে নেন। প্রথম চরিত্রের ট্রেলারেও মাওমাওকে প্রশ্ন করতে দেখা যায়, দেহাবশেষ ফেরানোর কাজটি এখনই কেন হচ্ছে।
ছবিটির আনুষ্ঠানিক জাপানি পরিচিতিতে কাহিনির মূল বিষয় তুলে ধরা হয়েছে: মৃত সম্রাজ্ঞী-সহচরীর শেষ ইচ্ছা পূরণ করে তাঁকে জন্মস্থানে ফিরিয়ে দিতে জিনশিকে নির্দেশ দেন সম্রাট। পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাঁর দেহ এখনো সুন্দর, যেন জীবিত অবস্থায় ঘুমিয়ে আছেন। তদন্ত করতে মাওমাও জিনশির সঙ্গে বি পরিবারের শাসিত দক্ষিণাঞ্চল মিনান প্রদেশে যান। সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, সম্রাজ্ঞী-সহচরীর অন্ত্যেষ্টির দিন একটি বড় ঘটনার পর সংকট আরও তীব্র হয়।
মৃত নারীর পরিচয় নিয়ে বর্ণনায় পার্থক্য রয়েছে। কিছু ইংরেজি সারসংক্ষেপে সম্রাজ্ঞীর দেহাবশেষের সঙ্গে যুক্ত একটি গোপন রহস্যের কথা বলা হয়েছে; অন্যদিকে বিস্তারিত বর্ণনায় রুওছিংকে মধ্যম মর্যাদার সম্রাজ্ঞী-সহচরী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই ঘোষিত কাহিনি থেকে তাঁর সম্রাজ্ঞী উপাধি ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
কাহিনিতে মাওমাওয়ের আগ্রহ জাগায় এমন অস্বাভাবিক ওষুধ ও উদ্ভিদ, গুপ্তধনের খোঁজে থাকা জলদস্যু এবং অন্ত্যেষ্টির দিনের বড় ঘটনাও রয়েছে। সংরক্ষিত দেহ, গুপ্তধন ও অন্ত্যেষ্টির ঘটনার মধ্যে কীভাবে যোগসূত্র তৈরি হয়েছে, কোনো ঘোষণাতেই তা ব্যাখ্যা করা হয়নি। এই যোগসূত্রই ছবির মূল অমীমাংসিত রহস্য; প্রচারণায় এর সমাধান প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাসাদের বাইরের বিপদের মুখে পরিচিত চরিত্রেরা
১১ অক্টোবরের ট্রেলারে মাওমাও ও জিনশির সফরসঙ্গীদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং কয়েকজন পরিচিত চরিত্রকে দেখা যায়: গাওশুন, বাসেন, লাহান, লিহাকু, লাকান ও লুশুন। মাওমাওয়ের কণ্ঠে ফিরছেন আওই ইউকি, আর জিনশির কণ্ঠে তাকেও ওৎসুকা।
ফুটেজে কয়েকটি গ্রাম ধ্বংসের জন্য দায়ী জলদস্যুদের কথা বলা হয়েছে। এতে গুপ্তঘাতকদের আক্রমণ, যুদ্ধে বাসেন, সংঘর্ষস্থলে লিহাকুর উপস্থিতি এবং মরিয়া হয়ে মাওমাওকে খুঁজতে থাকা লাকানকেও দেখা যায়। এসব দৃশ্য শাসক পরিবারের ব্যক্তিগত উত্তেজনার বাইরের হুমকি তুলে ধরে, তবে আক্রমণের নির্দেশদাতা বা আক্রমণকারীদের উদ্দেশ্য জানায় না।
জিনশির অবস্থানের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁকে প্রায়ই প্রাসাদের খোজা হিসেবে পরিচয় করানো হলেও ট্রেলারে সম্রাটের ছোট ভাই হিসেবে তাঁর দায়িত্বের প্রসঙ্গ এসেছে। ফলে এই অভিযানে তাঁর সাম্রাজ্যিক কর্তব্য ও মাওমাওয়ের তদন্ত পাশাপাশি এগোয়। যাত্রা বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও বিরল ওষুধের প্রতি মাওমাওয়ের আগ্রহ দেখা যায়।
চারটি চরিত্রের ভিডিওতে ছবির অভিনয়শিল্পীদের পরিচয়
TOHO animation টানা চার দিনে চরিত্রগুলোর পরিচিতিমূলক ভিডিও প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। বি পরিবারকে নিয়ে ভিডিওটি দ্বিতীয় পর্ব; সফরসঙ্গীদের পরিচিতির পর এটি প্রকাশিত হয়েছে। এরপর ১৩ ও ১৪ অক্টোবর আরও দুটি ভিডিও প্রকাশের কথা রয়েছে।
- ১১ অক্টোবর, ২০২৬: মাওমাও, জিনশি ও তাঁদের সঙ্গীরা।
- ১২ অক্টোবর, ২০২৬: বি পরিবার; নতুন অভিনয়শিল্পী হিসেবে তোবিতা, ওয়াতানাবে ও নোজিমার ঘোষণা।
- ১৩ অক্টোবর, ২০২৬: কাজা দলের চরিত্রদের ভিডিও প্রকাশের কথা রয়েছে।
- ১৪ অক্টোবর, ২০২৬: রুওছিং এবং যাঁর নাম Yi Shan, Yinshan বা Ginzan হিসেবে লেখা হয়েছে, তাঁকে নিয়ে ভিডিও প্রকাশের কথা রয়েছে।
- ১১ ডিসেম্বর, ২০২৬: জাপানের প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির মুক্তি।
- এপ্রিল ২০২৭: টেলিভিশন অ্যানিমের তৃতীয় মৌসুমের দ্বিতীয় অংশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বাকি ভিডিওগুলোতে যাত্রার সঙ্গে যুক্ত আরও চরিত্রের পরিচয় দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান ঘোষণাগুলোতে গুপ্তধনের সঙ্গে কাজা দলের সম্পর্ক নিশ্চিত করা হয়নি, কিংবা শেষ নির্ধারিত ভিডিওতে রুওছিংয়ের সঙ্গীর ভূমিকা স্পষ্ট করা হয়নি। ইংরেজি বানানের ভিন্ন রূপগুলোও আপাতত অস্থায়ী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
প্রেক্ষাগৃহের জন্য নতুন কাহিনি তৈরি করেছে নির্মাণদল
ছবিটি পরিচালনা করছেন নরিহিরো নাগানুমা। চিত্রনাট্য লিখেছেন ইউকো কাকিহারা, অ্যানিমেশন নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে TOHO animation STUDIO। মূল রচনা ও কাহিনির ভাবনার কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে হিউগানাতসুকে; মূল চরিত্র নকশা করেছেন তোউকো শিনো। চরিত্র নকশা ও প্রধান অ্যানিমেশন পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন ইউকিকো নাকাতানি।
সংগীতের কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে সাতোরু কোসাকি, কেভিন পেনকিন ও আরিসা ওকেহাজামাকে। শব্দ পরিচালক শোজি হাতা, সম্পাদক দাইসুকে ইমাই এবং জাপানে পরিবেশনার দায়িত্বে TOHO। এসব কৃতিত্বে লেখকের নতুন কাহিনির ভাবনা, চিত্রনাট্য এবং পর্দায় তা ফুটিয়ে তোলার অ্যানিমেশন দলের কাজের পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।
টিজার ভিজ্যুয়ালে গুহার ভেতর মশালের আলোয় উদ্ভাসিত গুপ্তধনের পাশে মাওমাও, জিনশি ও মু ছিংকে দেখা যায়। জলরাশির ওপারে আগুন ও অসংখ্য জ্বলন্ত তির অনুসন্ধানকে ঘিরে থাকা সহিংসতার ইঙ্গিত দেয়। জলতীরবর্তী নগরীর দৃশ্যসহ এসব ছবি টেলিভিশন সিরিজের অনেকটা সময়জুড়ে দেখা প্রাসাদের অন্দরমহল থেকে ছবির প্রেক্ষাপটকে সরিয়ে নিয়েছে।
ছবিটির দৈর্ঘ্য, দেহটি কীভাবে সংরক্ষিত ছিল তার রহস্যের সমাধান, কিংবা নতুন চরিত্রেরা পরে ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্য কোনো অংশে ফিরবে কি না, কোনো ঘোষণাতেই জানানো হয়নি। মু ছিংকে ছবির জন্য তৈরি মৌলিক চরিত্র বলা থেকে শুধু জানা যায়, কোথায় তার প্রথম পরিচয়; তাকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, তা নয়।
জাপানে মুক্তির তারিখ নিশ্চিত, আন্তর্জাতিক দর্শকদের অপেক্ষা
জাপানে ২০২৬ সালের ১১ ডিসেম্বর মুক্তির তারিখ নিশ্চিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুক্তির তারিখ পরে ঘোষণা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে Crunchyroll ও Sony Pictures Entertainment। এশিয়া বাদে বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য পরিবেশনা স্বত্বের চুক্তিতে ভারত অন্তর্ভুক্ত। তাই এশিয়ার সব বাজারে Crunchyroll ছবিটি পরিবেশন করবে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
সিরিজটির সম্প্রসারণের আরেকটি পর্যায়ে মুক্তি পাবে ছবিটি। টেলিভিশন সিরিজের তৃতীয় মৌসুম শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর, রাত ১১টায়, NTV-এর Friday Anime Night ব্লকে এবং এর সঙ্গে যুক্ত ২৯টি চ্যানেলে। দ্বিতীয় কোর শুরু হবে ২০২৭ সালের এপ্রিলে। কোর হলো প্রায় তিন মাস স্থায়ী টেলিভিশন সম্প্রচারের একটি পর্ব।
অ্যানিমেটির প্রথম মৌসুম শুরু হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরে, আর দ্বিতীয় মৌসুম সম্প্রচারিত হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত। Crunchyroll এই মৌসুমগুলো স্ট্রিম করেছে এবং ইংরেজি ডাবও সরবরাহ করে। ছবিটির ইংরেজি কণ্ঠশিল্পী বা ডাব সংস্করণ মুক্তির সময়সূচি সম্পর্কে আলাদা করে কোনো নিশ্চিত ঘোষণা নেই।
প্রকাশনা সংক্রান্ত হিসাব অনুযায়ী, ফ্র্যাঞ্চাইজিটির বিশ্বব্যাপী প্রচারিত কপি ৫ কোটি ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে; এটি অ্যানিমে দর্শক বা স্বতন্ত্র পাঠকের সংখ্যা নয়। মানা আশিদা অভিনীত একটি লাইভ-অ্যাকশন টেলিভিশন নাটকও ২০২৮ সালে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। ছবিটির ক্ষেত্রে আপাতত নিশ্চিত পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো চরিত্রের বাকি ভিডিওগুলো এবং জাপানের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি; বিদেশে মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
মূল বিষয়গুলো
- বিরোর কণ্ঠে নোবুও তোবিতা, শুউর কণ্ঠে কুমিকো ওয়াতানাবে এবং বিসেনের কণ্ঠে হিরোফুমি নোজিমা।
- মারিয়া ইসে অভিনয় করছেন মু ছিংয়ের ভূমিকায়। সে পরিবারের প্রধানের ছোট ছেলে এবং ছবিটির জন্য তৈরি মৌলিক চরিত্র।
- বি পরিবার সেই জলতীরবর্তী গন্তব্য শাসন করে, যেখানে মাওমাও ও জিনশি রুওছিংয়ের দেহাবশেষ ফিরিয়ে দিতে যান।
- পাঁচ বছর আগে মারা যাওয়া এক সম্রাজ্ঞী-সহচরী, অস্বাভাবিকভাবে সংরক্ষিত দেহ এবং গুপ্তধনকে ঘিরে রহস্যটি আবর্তিত।
- নতুন কাহিনির পরিকল্পনা করেছেন হিউগানাতসু; পরিচালনা করছেন নরিহিরো নাগানুমা, চিত্রনাট্য লিখেছেন ইউকো কাকিহারা।
- ছবিটি ২০২৬ সালের ১১ ডিসেম্বর জাপানে মুক্তি পাবে। আন্তর্জাতিক মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
- টেলিভিশন অ্যানিমের তৃতীয় মৌসুমের দ্বিতীয় অংশ ২০২৭ সালের এপ্রিলে শুরু হবে।






