নতুন বিধি কার্যকর হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি
অ্যান্টার্কটিকায় কার্যক্রম ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য নির্দিষ্টভাবে তৈরি প্রথম আইন পাস করেছে চীন। এতে অভিযান, পর্যটন ও অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনিরাপদ পর্যটন, গবেষণা স্টেশনের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং কার্যক্রমের তথ্য জানাতে ব্যর্থ হলে শাস্তির বিধানও রয়েছে। ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটি ৬ নভেম্বর আইনটি গ্রহণ করে। এটি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি কার্যকর হবে।
সূচিপত্র
- নতুন বিধি কার্যকর হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি
- যাত্রার আগে আবেদনকারীদের কী কী লাগবে?
- পর্যটন পরিচালনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট নিরাপত্তার দায়িত্ব
- পরিবেশ সুরক্ষার আওতা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাইরেও
- চীনে আগে থেকেই অ্যান্টার্কটিক পরিবেশবিষয়ক বিধি ছিল
- তথ্য জানানো ও পরিদর্শনে যুক্ত হবে একাধিক কর্তৃপক্ষ
- খসড়া প্রণয়নের সময় কী পরিবর্তন হয়েছিল?
- জাতীয় বিধি অ্যান্টার্কটিকা-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায়
- গবেষণা সম্প্রসারণের সঙ্গে বাড়ছে বাস্তব দায়িত্ব
- মূল বিষয়গুলো
অ্যান্টার্কটিক কার্যক্রম ও পরিবেশ সুরক্ষা আইনে সাতটি অধ্যায়ে ৫৯টি ধারা রয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা, মাছ ধরা, পর্যটন ও জাহাজ চলাচলকে একটি জাতীয় কাঠামোর আওতায় এনেছে আইনটি। এতে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতির পাশাপাশি পরিবেশগত দায়িত্ব, নিরাপত্তার শর্ত এবং সরকারি তদারকির বিধান রয়েছে।
পর্যটন পরিচালনাকারীরা নিরাপত্তার শর্ত পূরণ করে এমন সরঞ্জাম বা পরিবহন দিতে ব্যর্থ হলে, কিংবা যথাযথ নিরাপত্তা ও জরুরি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ ইউয়ান পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। চীনের জাতীয় অ্যান্টার্কটিক গবেষণা স্টেশনে যাওয়া বা অভিযানে বিঘ্ন ঘটানোর মতো গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের জন্য ওই স্টেশনগুলোতে যাওয়ার আবেদন নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র, ভূতত্ত্ব, মহাকাশবিজ্ঞান ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণাসহ ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে অ্যান্টার্কটিকায় গবেষণা করছে চীন। অ্যান্টার্কটিক ক্রিল ধরার পরিমাণ এবং ওই অঞ্চলে যাওয়া চীনা পর্যটকের সংখ্যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চের কাতারে। এসব কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তব চাহিদা মোকাবিলার পাশাপাশি অ্যান্টার্কটিকায় চীনের কর্মী, সম্পদ ও অন্যান্য স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যেও আইনটি করা হয়েছে।
যাত্রার আগে আবেদনকারীদের কী কী লাগবে?
অ্যান্টার্কটিকায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসনিক অনুমোদন নিতে হবে। অ্যান্টার্কটিকার কাছে না গিয়ে শুধু ওই অঞ্চল দিয়ে অতিক্রমকারী জাহাজ এর আওতামুক্ত। বৈজ্ঞানিক অভিযান, পর্যটন, জাহাজ চলাচল ও মাছ ধরার অনুমোদন পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে আইনটি; প্রতিটি কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকবেন ভিন্ন ভিন্ন কর্তৃপক্ষ।
অভিযান, পর্যটন ও জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেতে আবেদনকারীদের কার্যক্রমের পরিকল্পনা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের নথি, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা, আর্থিক নিশ্চয়তা এবং বিমার প্রমাণপত্র স্টেট কাউন্সিলের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিবেশ, নিরাপত্তা ও অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হবে।
পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নে ব্যাখ্যা করা হয়, প্রস্তাবিত কোনো কার্যক্রম আশপাশের পরিবেশে কী প্রভাব ফেলতে পারে এবং ক্ষতি সীমিত রাখতে আয়োজক কী পরিকল্পনা করেছেন। অ্যান্টার্কটিকায় সমুদ্রযাত্রার ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যাত্রার আগে নেওয়া সিদ্ধান্ত, যেমন পথ ও পরিকল্পিত কার্যক্রম, ওই অঞ্চলে পৌঁছানোর পরের দায়িত্বের যোগসূত্র তৈরি হয়।
আবেদনের নথিতে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে তুলে ধরা হয়: আয়োজক কী করতে চান, কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, জরুরি পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো হবে এবং কী আর্থিক সুরক্ষা রয়েছে। তাই অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি কার্যক্রমের বৈজ্ঞানিক, বাণিজ্যিক বা পর্যটন উদ্দেশ্যের পাশাপাশি তার প্রস্তুতির সঙ্গেও যুক্ত।
পর্যটন পরিচালনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট নিরাপত্তার দায়িত্ব
অ্যান্টার্কটিক পর্যটন পরিচালনাকারীদের নিরাপত্তার শর্ত পূরণ করে এমন সরঞ্জাম ও পরিবহন দিতে হবে এবং যথাযথ প্রতিরোধমূলক ও জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ কোনো প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে, ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ ইউয়ান জরিমানা করা হতে পারে এবং লঙ্ঘনের তথ্য তাদের ক্রেডিট রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ভ্রমণকারীদেরও নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে। তাদের নিরাপত্তার শর্ত এবং অ্যান্টার্কটিক চুক্তির পরামর্শক বৈঠকে গৃহীত পরিবেশ সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে। চুক্তি কাঠামোর আওতায় থাকা কার্যক্রম নিয়ে অংশগ্রহণকারী সরকারগুলো এই ফোরামে সিদ্ধান্ত নেয়।
চীনের জাতীয় অ্যান্টার্কটিক গবেষণা স্টেশন ও সেখানকার স্থাপনায় যেতে হলে স্টেট কাউন্সিলের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত বিধি মানতে হবে। দর্শনার্থীরা জাতীয় অ্যান্টার্কটিক অভিযানে বিঘ্ন ঘটাতে পারবেন না। গবেষণা স্টেশন বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমে সহায়তাকারী কর্মস্থল। তাই অ্যান্টার্কটিকায় যাওয়ার অনুমতি এবং কোনো স্টেশন পরিদর্শনের অনুমতির শর্ত এক নয়।
স্টেশন পরিদর্শনের বিধি লঙ্ঘন বা জাতীয় অভিযানে বিঘ্ন ঘটালে সংশোধনের নির্দেশ এবং ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ইউয়ান জরিমানা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ ইউয়ান জরিমানা এবং পাঁচ বছরের জন্য জাতীয় অ্যান্টার্কটিক স্টেশন পরিদর্শনের আবেদন নিষিদ্ধ হতে পারে।
পরিবেশ সুরক্ষার আওতা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাইরেও
অ্যান্টার্কটিকায় কার্যক্রম পরিচালনার সময় প্রাণী ও উদ্ভিদ সুরক্ষা, যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক দূষণ প্রতিরোধ এবং সংরক্ষিত এলাকার বিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক করেছে আইনটি। আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের অ্যান্টার্কটিকার পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে বা কমাতে হবে।
কোনো কার্যক্রমে উৎপন্ন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পুরো প্রক্রিয়াই বর্জ্যসংক্রান্ত দায়িত্বের আওতায় পড়ে। অংশগ্রহণকারীদের বর্জ্যের পরিমাণ কমাতে, তা বাছাই করতে, যথাযথ প্রক্রিয়াকরণ বা অপসারণের ব্যবস্থা করতে এবং ফলাফল নথিবদ্ধ করতে হবে। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ। কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বর্জ্য কীভাবে সামলানো হয়েছে, তা তদারককারীদের যাচাই করার সুযোগ দেয় এসব নথি।
সংরক্ষিত এলাকার জন্য রয়েছে আরও কিছু দায়িত্ব। কোনো কার্যক্রমের জন্য সাধারণ প্রশাসনিক অনুমোদন লাগতে পারে; পাশাপাশি কার্যক্রমটি যে নির্দিষ্ট স্থানে হবে, সেখানকার বিধিও মানতে হতে পারে। তাই পরিবেশগত পরিকল্পনায় কার্যক্রম এবং তার অবস্থান—দুটিই বিবেচনায় নিতে হবে।
কম জ্বালানি ব্যবহার এবং কম কার্বন নিঃসরণকারী কার্যক্রমও উৎসাহিত করেছে আইনটি। জ্বালানি সাশ্রয়, নিঃসরণ কমানো ও দূষণ প্রতিরোধের সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহারেও সমর্থন রয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে অ্যান্টার্কটিকায় স্থাপনা ও পরিবহন পরিচালনার সঙ্গে আইনের বৃহত্তর পরিবেশগত লক্ষ্য যুক্ত হয়েছে।
চীনে আগে থেকেই অ্যান্টার্কটিক পরিবেশবিষয়ক বিধি ছিল
চীনের নতুন আইনটি বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির আইনি তথ্যভান্ডারে চীনের ২০১৮ সালের পরিবেশবিষয়ক বিধান তালিকাভুক্ত রয়েছে। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে জারি করা ওই বিধানে অ্যান্টার্কটিক কার্যক্রমের পরিবেশ সুরক্ষায় ১৯টি ধারা রয়েছে।
ওই বিধান অনুযায়ী, আবেদনকারীদের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের নথি তৈরি করে ন্যাশনাল ওশানিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে জমা দিতে হয়। অভিযান, পর্যটন, অনুসন্ধান, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, খেলাধুলা, মাছ ধরা ও পরিবহনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এর আওতায় রয়েছে।
২০১৮ সালের বিধানে অ্যান্টার্কটিকার প্রাকৃতিক পরিবেশের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী মোট কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে। সহজভাবে বললে, কোনো স্থানে অনুমোদিত কার্যক্রমের পরিমাণ ওই স্থানের পরিবেশ কতটা চাপ সহ্য করতে পারে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কথা।
আগের বিধানের ১৯টি ধারার বিপরীতে নতুন আইনে রয়েছে ৫৯টি ধারা। এতে পরিবেশগত শর্তের সঙ্গে অনুমতিপত্র, পরিদর্শন, অভিযানে সহায়তা, তদারকি এবং আইনি দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে। এর সাতটি অধ্যায়ে রয়েছে সাধারণ বিধান; কার্যক্রমের অনুমতি; পরিবেশ সুরক্ষা; পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা; সুরক্ষা ও তদারকি; আইনি দায়বদ্ধতা; এবং সম্পূরক বিধান।
তথ্য জানানো ও পরিদর্শনে যুক্ত হবে একাধিক কর্তৃপক্ষ
অনুমতি ব্যবস্থার পাশাপাশি তথ্য জানানো ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থাও জোরদার করেছে আইনটি। তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব পালন না করলে বা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তথ্য না জানালে সংশোধনের নির্দেশ এবং ১ লাখ থেকে ২ লাখ ইউয়ান জরিমানা হতে পারে।
স্টেট কাউন্সিলের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ অ্যান্টার্কটিক কার্যক্রমের জন্য তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর কাছে থাকা তথ্য একত্র করার সুযোগ দেবে এই কাঠামো।
স্টেট কাউন্সিলের পররাষ্ট্রবিষয়ক বিভাগ তার সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে অ্যান্টার্কটিক পরিদর্শনের আয়োজন করবে। অ্যান্টার্কটিকায় মাছ ধরা বা মৎস্যবিষয়ক গবেষণায় নিয়োজিত জাহাজের পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনের ব্যবস্থা করবে মৎস্য কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
এসব দায়িত্ব অ্যান্টার্কটিকায় চীনের উপস্থিতির বিভিন্ন দিক সামলাবে। বৈজ্ঞানিক স্টেশন, পর্যটন কার্যক্রম, জাহাজ ও মাছ ধরার নৌযানের কাজের ধরন এক নয়। তাই আইনটি সব দায়িত্ব এক বিভাগের ওপর না দিয়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে তদারকির কাজ ভাগ করে দিয়েছে।
লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে দৈনিক জরিমানার বিধানও রেখেছে আইনটি। এ ধরনের জরিমানায় লঙ্ঘন চলতে থাকলে আর্থিক জরিমানার পরিমাণ বাড়তে পারে। ফলে একবার জরিমানা দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বদলে লঙ্ঘন সংশোধনের চাপ তৈরি হয়।
খসড়া প্রণয়নের সময় কী পরিবর্তন হয়েছিল?
প্রথম পাঠের জন্য উপস্থাপনের সময় বিলটিতে ৫৭টি ধারা ছিল। দ্বিতীয় পর্যালোচনার খসড়াতেও ৫৭টি ধারা ছিল; গৃহীত আইনে হয়েছে ৫৯টি। দ্বিতীয় পর্যালোচনার খসড়ায় কার্যকর হওয়ার তারিখের ঘরটি ফাঁকা ছিল। আইনটি গৃহীত হওয়ার সময় কার্যকর হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি।
দ্বিতীয় পর্যালোচনার খসড়ায় প্রস্তাবিত আইনের আওতা বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। এতে অ্যান্টার্কটিকায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী চীনা নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি, চীনের ভেতরে এ ধরনের কার্যক্রমের আয়োজনকারী বা চীনা ভূখণ্ড থেকে যাত্রা করে এমন কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কোনো কার্যক্রমের পরিকল্পনা করার সময় গৃহীত আইনের সুনির্দিষ্ট আওতা চূড়ান্ত পাঠের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
খসড়ায় মাছ ধরার অনুমতিপত্র, জাহাজের সনদ, বৈজ্ঞানিক নমুনা ও উপাত্ত, জরুরি পরিস্থিতির খরচ এবং অনুমতি ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার জরিমানার কথাও ছিল। আইন প্রণয়নের সময় অভিযান, বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও পরিবেশগত দায়িত্বের মধ্যে যোগসূত্র নিয়ে আইনপ্রণেতারা কীভাবে কাজ করেছেন, এসব বিষয় তা তুলে ধরে।
প্রধান মাইলফলকগুলো হলো:
- ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮: চীনের আগের অ্যান্টার্কটিক পরিবেশবিষয়ক বিধানের তারিখ নির্ধারিত হয়; এতে ১৯ ধারার কাঠামো ছিল।
- প্রথম পাঠ: আইনপ্রণেতারা ৫৭ ধারার একটি প্রস্তাবিত আইন বিবেচনা করেন।
- দ্বিতীয় পর্যালোচনা: খসড়ায় তখনও ৫৭টি ধারা ছিল এবং কার্যকর হওয়ার তারিখ নির্ধারিত হয়নি।
- ৬ নভেম্বর: ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটি সাতটি অধ্যায়ে ৫৯ ধারার আইনটি গ্রহণ করে।
- ১ জানুয়ারি, ২০২৭: নতুন আইনটি কার্যকর হবে।
জাতীয় বিধি অ্যান্টার্কটিকা-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায়
চীনের অ্যান্টার্কটিক পরিবেশ কাঠামোতে তিনটি আন্তর্জাতিক চুক্তির উল্লেখ রয়েছে: অ্যান্টার্কটিক চুক্তি, এর পরিবেশ সুরক্ষা প্রোটোকল এবং অ্যান্টার্কটিক সামুদ্রিক জীবসম্পদ সংরক্ষণবিষয়ক কনভেনশন। ২০১৮ সালের বিধানে তিনটিরই স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
১৯৫৯ সালে অ্যান্টার্কটিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে চীন এতে যোগ দেয়। এতে অ্যান্টার্কটিকাকে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং বৈজ্ঞানিক সহযোগিতায় সমর্থন দেওয়া হয়েছে। ১৯৯১ সালে গৃহীত পরিবেশ সুরক্ষা প্রোটোকলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ছাড়া খনিজ সম্পদ-সংক্রান্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মৎস্যবিষয়ক কনভেনশন অ্যান্টার্কটিক সামুদ্রিক জীবসম্পদ সংরক্ষণের কাঠামো। ফলে চীনের ক্রিল মাছ ধরা এবং জাহাজ পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনের ক্ষেত্রেও এটি প্রাসঙ্গিক। ক্রিল ছোট সামুদ্রিক প্রাণী, যা তিমি, সিল ও পেঙ্গুইনের খাদ্য। তাই মাছ ধরার কার্যক্রমের সঙ্গে বৃহত্তর সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের যোগ রয়েছে।
ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির লেজিসলেটিভ অ্যাফেয়ার্স কমিশনের সিভিল ল বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আইনটি অ্যান্টার্কটিকায় চীনের কার্যক্রমের সমন্বয় ও তদারকি জোরদার করবে এবং এসব কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনাকে আইনি ভিত্তি দেবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, আইনটি আন্তর্জাতিক চুক্তির বাধ্যবাধকতার সঙ্গে অ্যান্টার্কটিকায় চীনের কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় করেছে।
গবেষণা সম্প্রসারণের সঙ্গে বাড়ছে বাস্তব দায়িত্ব
অ্যান্টার্কটিকায় গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানোর বিনিয়োগের পাশাপাশি চীনের আইনি পরিবর্তনগুলো এসেছে। দেশটির বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ স্টেশনটি দুই বছর ধরে চালু রয়েছে। এটি বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করছে এবং জলবায়ু পরিবর্তন-সংশ্লিষ্ট কাজকে সহায়তা দিচ্ছে।
আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও নজর কেড়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বর্ণিত, মেরি বার্ড ল্যান্ডে ষষ্ঠ গবেষণা স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব অনুযায়ী সেখানে সর্বোচ্চ ২৫ জন গবেষকের থাকার ব্যবস্থা থাকবে এবং জলবায়ু ও সামুদ্রিক গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। অ্যান্টার্কটিকায় গবেষণা অবকাঠামো, পরিবহন সুবিধা এবং পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার অংশ এই পরিকল্পনা।
নতুন আইনটি জাতীয় অভিযানব্যবস্থা গড়ে তুলেছে ও শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি নিরাপদে অ্যান্টার্কটিকায় পৌঁছানো, গবেষণা পরিচালনা এবং অঞ্চলটিকে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহারের সক্ষমতায় সমর্থন দিয়েছে। সেখানে কর্মরত চীনা নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে।
আয়োজকদের জন্য বাস্তব পরিবর্তন শুরু হয় যাত্রার আগেই: অনুমোদন নেওয়া, পরিবেশবিষয়ক নথি প্রস্তুত করা, বিমার ব্যবস্থা করা এবং জরুরি পরিস্থিতির পরিকল্পনা করা। কার্যক্রম চলাকালে নিরাপদ পরিবহন, বন্যপ্রাণী সুরক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্টেশনে প্রবেশ এবং তথ্য জানানোর দায়িত্বও রয়েছে। তদারককারীদের জন্য এই কাঠামো এসব দায়িত্বের সঙ্গে পরিদর্শনের ক্ষমতা ও আর্থিক জরিমানাকে যুক্ত করেছে।
পরবর্তী নির্ধারিত তারিখ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি। ওই দিন থেকে চীনের প্রথম স্বতন্ত্র অ্যান্টার্কটিকা আইন কার্যকর হবে। এতে বর্ণিত অনুমতি, পরিবেশগত দায়িত্ব ও জরিমানার বিধানও তখন থেকে চালু হবে।
মূল বিষয়গুলো
- ৬ নভেম্বর অ্যান্টার্কটিক কার্যক্রম ও পরিবেশ সুরক্ষা আইন গ্রহণ করেছে চীন। এটি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি কার্যকর হবে।
- আইনটিতে সাতটি অধ্যায়ে ৫৯টি ধারা রয়েছে এবং অ্যান্টার্কটিক কার্যক্রমের জন্য অনুমতিপত্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
- অভিযান, পর্যটন ও জাহাজ চলাচলের আবেদনে পরিকল্পনা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, জরুরি ব্যবস্থা, আর্থিক নিশ্চয়তা এবং বিমার প্রমাণ দিতে হবে।
- নিরাপত্তা সরঞ্জাম, পরিবহন বা জরুরি ব্যবস্থা-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে পর্যটন পরিচালনাকারীদের ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ ইউয়ান জরিমানা হতে পারে।
- গবেষণা স্টেশন পরিদর্শন-সংক্রান্ত গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের জন্য পরিদর্শনের আবেদন নিষিদ্ধ হতে পারে।
- পরিবেশগত দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বন্যপ্রাণী সুরক্ষা, বর্জ্য কমানো ও বাছাই, বর্জ্য অপসারণের নথি রাখা, সামুদ্রিক দূষণ প্রতিরোধ এবং সংরক্ষিত এলাকার বিধি মানা।
- এই কাঠামো চীনের ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখের অ্যান্টার্কটিক পরিবেশবিষয়ক বিধানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।






