বেঁচে থাকার হার ভালো, কিন্তু দান করা অঙ্গের ঘাটতি
দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০২৪ সালে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা ৩,০৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, দিনে গড়ে প্রায় ৮.৫ জন। এখন গবেষকেরা ২৬,৫৭১ জন প্রতিস্থাপন-রোগীর জাতীয় নিবন্ধনভান্ডারের তথ্য কাজে লাগাচ্ছেন, যাতে চিকিৎসকেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কোন দান করা অঙ্গ ব্যবহার করবেন, কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারেন এবং অস্ত্রোপচারের পর গ্রহীতাদের কীভাবে সুস্থ রাখা যায়।
সূচিপত্র
- বেঁচে থাকার হার ভালো, কিন্তু দান করা অঙ্গের ঘাটতি
- দান কমছে, অপেক্ষমাণ তালিকা বাড়ছে
- ১২ বছর ধরে রোগীদের অনুসরণ করে কী জানা যায়
- কিডনির তথ্য কীভাবে বণ্টনের নিয়ম বদলেছে
- বয়স্ক রোগী ও হেপাটাইটিস বি-তে আরও নিবিড় মূল্যায়ন জরুরি
- অস্ত্রোপচারের পর জীবিত দাতাদেরও পরিচর্যা দরকার
- প্রত্যাখ্যান ও দৈনন্দিন স্বাস্থ্যে AI-পরিকল্পনা
- অঙ্গদানের আইন ও জনসমর্থন পেতে সময় লাগে
- নিবন্ধনভান্ডার ও অঙ্গসংকটের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
- মূল কথা
এই উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ করছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং কোরিয়ান অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশন রেজিস্ট্রি, সংক্ষেপে KOTRY। ২০১৪ সাল থেকে এই নিবন্ধনভান্ডার ৮৮টি প্রতিস্থাপনকেন্দ্রের তথ্য সংগ্রহ করছে। এর ফলে এমন প্রমাণভিত্তি তৈরি হয়েছে, যা ইতিমধ্যে জাতীয় কিডনি বণ্টনের নিয়ম বদলেছে এবং ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অগ্রাধিকারের নিয়ম সংশোধনের প্রস্তাবেও সহায়তা করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিস্থাপনের ফলাফল ভালো। গবেষকেরা তাঁদের কাজ উপস্থাপনের সময় জানান, কিডনি প্রতিস্থাপনের ১০ বছর পর বেঁচে থাকার হার ৯১% এবং যকৃৎ প্রতিস্থাপনের পর ৮০%। তাঁরা আরও বলেন, এশিয়ায় দেশটির প্রতিস্থাপন-অস্ত্রোপচারের সংখ্যা সর্বোচ্চ এবং বিশ্বে ষষ্ঠ। তবে এসব সাফল্যের পাশাপাশি মৃত ব্যক্তিদের দান করা অঙ্গের সরবরাহ কমছে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মস্তিষ্ক-মৃত ঘোষণা করা দাতার সংখ্যা ছিল ৩৭০, যা ২০২০ সালের ৪৭৮ থেকে কম। এ কমতির হার প্রায় ২৩%। জনসংখ্যার বার্ধক্যের কারণে চাহিদা বাড়ছে, অথচ দান করা অঙ্গের প্রাপ্যতা কমছে।
সিউলের সেভারেন্স হাসপাতালের ইউ ইল-হান হলে এক যৌথ ব্রিফিংয়ে ইয়নসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব মেডিসিনের প্রতিস্থাপন-অস্ত্রোপচার বিভাগের অধ্যাপক কিম মিয়ং-সু তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জটি ব্যাখ্যা করেন।
শেষ পর্যন্ত, আমাদের ভাবতে হবে কীভাবে হাতে থাকা সীমিত সম্পদ যতটা সম্ভব কার্যকর ও নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায়।
KOTRY-এর লক্ষ্য হলো আরও ভালোভাবে অঙ্গ মেলানো, অঙ্গের অবস্থা আরও নির্ভুলভাবে যাচাই করা এবং গ্রহীতা ও জীবিত দাতা—উভয়েরই নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে প্রতিটি দানের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা।
দান কমছে, অপেক্ষমাণ তালিকা বাড়ছে
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যা ২০২১ সালে ছিল ৩৯,২৬১, আর ২০২৫ সালে ৪৬,৫৫০—বেড়েছে ৭,২৮৯ জন বা প্রায় ১৯%। একই সময়ে মস্তিষ্ক-মৃত ঘোষণা করা দাতার সংখ্যা ৪৪২ থেকে কমে ৩৭০ হয়েছে, যা প্রায় ১৬% হ্রাস।
২০২৬ সালের আগস্টে অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন ৪৮,৪৫৬ জন। এই পরিসংখ্যান দুটি বিপরীতমুখী চাপের ছবি তুলে ধরে: আরও বেশি মানুষের অঙ্গ প্রয়োজন, অথচ দান করতে সক্ষম মৃত ব্যক্তির সংখ্যা কমছে।
পরিবারের সম্মতি পাওয়াও একটি উদ্বেগের বিষয়। ব্রিফিং-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে অঙ্গদানের সম্মতির হার ৩১.২% বলা হয়েছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন বছরের তুলনামূলক উপস্থাপনায় ২০২৫ সালের হার ২৮.২% দেখানো হয়েছে, যা ২০২১ সালের ৩৬.৭% থেকে কম। ৩১.২% পরিসংখ্যানটি কোন সময়কালের, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।
গবেষকেরা আরও জানান, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে মস্তিষ্ক-মৃত ঘোষিত দাতার সংখ্যা প্রায় আটজন। যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনে এ হার প্রায় ৪০ জন। এই দুই দেশে রক্তসঞ্চালন বন্ধ হওয়ার পর অঙ্গদানের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অঙ্গ পাওয়া যায়। ফলে কোন পথে অঙ্গ পাওয়া যাচ্ছে, তা এই তুলনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
১২ বছর ধরে রোগীদের অনুসরণ করে কী জানা যায়
KOTRY শুধু অস্ত্রোপচারের সময় কী ঘটেছে তা নথিবদ্ধ করে না, বরং দীর্ঘ সময় ধরে রোগীদের অনুসরণ করে। এ ধরনের গবেষণাকে কোহর্ট গবেষণা বলা হয়। এর মাধ্যমে গবেষকেরা অস্ত্রোপচারের কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর রোগীর বেঁচে থাকা, প্রতিস্থাপিত অঙ্গের কার্যকারিতা এবং জটিলতা বিশ্লেষণ করতে পারেন।
এই নিবন্ধনভান্ডারে পাঁচটি অঙ্গের তথ্য রয়েছে: কিডনি গ্রহীতা ১৫,১৬৭ জন, যকৃৎ গ্রহীতা ৯,০৫৮ জন, হৃদ্যন্ত্র গ্রহীতা ১,৩৪৯ জন, ফুসফুস গ্রহীতা ৬৭০ জন এবং অগ্ন্যাশয় গ্রহীতা ৩২৭ জন। কিডনি ও যকৃৎ গ্রহীতারা মিলে নিবন্ধিত ২৬,৫৭১ রোগীর প্রায় ৯১%।
এই তথ্য ব্যবহার করে গবেষকেরা ৯৪টি একাডেমিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। এ কর্মসূচিতে ৯,১৮৯ জন রোগী ও দাতার জিনগত তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। জিনগত তথ্য একজনের জিনগত গঠন বর্ণনা করে এবং চিকিৎসায় রোগীরা কেন ভিন্নভাবে সাড়া দেন, তা অনুসন্ধানে গবেষকদের সহায়তা করতে পারে।
কর্মসূচিতে ১৫,০০০-এর বেশি রক্ত ও টিস্যুর নমুনা অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি রক্ত ও DNA-সহ প্রায় ৩৭০,০০০ জৈবিক নমুনার একটি সংরক্ষণাগারের কথাও জানানো হয়েছে। এই পরিসংখ্যান দুটি ভিন্নভাবে বর্ণিত সংগ্রহের হিসাব; দুটির যোগসূত্র দেখানো কোনো বিভাজন দেওয়া হয়নি।
ক্লিনিক্যাল নথি ও জৈবিক নমুনা ভিন্ন কাজে লাগে। চিকিৎসা ও জটিলতাসহ একজন রোগীর ক্ষেত্রে কী ঘটেছে, তা নথিতে দেখা যায়। রক্ত, টিস্যু ও DNA দিয়ে এসব ফলাফলের পেছনের জৈবিক কারণ অনুসন্ধান করা যায়। দুই ধরনের তথ্য একত্রে কাজে লাগালে কোরীয় রোগীদের উপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চিকিৎসকেরা আরও শক্ত ভিত্তি পান।
কিডনির তথ্য কীভাবে বণ্টনের নিয়ম বদলেছে
KOTRY-এর সবচেয়ে স্পষ্ট নীতিগত সাফল্য হলো কোরিয়ান কিডনি ডোনার প্রোফাইল ইনডেক্স, বা K-KDPI। এই সূচক মস্তিষ্ক-মৃত ঘোষিত কোরীয় দাতাদের কিডনির মূল্যায়ন করে। এতে চিকিৎসকেরা অন্য জনগোষ্ঠীর জন্য তৈরি মানদণ্ডের ওপর প্রধানত নির্ভর না করে, একটি অঙ্গ কেমন কাজ করতে পারে তা বিচার করতে পারেন।
২০২১ সালে জাতীয় অঙ্গ বণ্টনব্যবস্থায় K-KDPI যুক্ত হয়। ন্যাশনাল অর্গান, টিস্যু অ্যান্ড ব্লাড ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট, সংক্ষেপে KONOS, সূচকে ৭০% বা তার বেশি স্কোর পাওয়া কিডনিকে বর্ধিত দাতা-মানদণ্ডের আওতায় শ্রেণিবদ্ধ করার সীমা নির্ধারণ করে। এ শ্রেণিবিন্যাসে বোঝায়, কোনো নির্দিষ্ট গ্রহীতার জন্য অঙ্গটি উপযুক্ত কি না, তা আরও সতর্কভাবে যাচাই করা দরকার।
দেশের রোগীদের তথ্য ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করেছে, কেন তুলনামূলকভাবে কম কাঙ্ক্ষিত বলে বিবেচিত কোনো অঙ্গও কাজে লাগতে পারে। ডায়াবেটিস নেই—এমন ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী কিছু গ্রহীতার ক্ষেত্রে অপেক্ষা চালিয়ে যাওয়ার তুলনায় কম মানের বলে মূল্যায়িত কিডনি পাওয়ার সঙ্গে ভালো বেঁচে থাকার সম্পর্ক দেখা গেছে।
কিডনি যখন রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল অপসারণ করতে পারে না, তখন ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে তা করা হয়। প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা অনেক রোগীকে বাঁচিয়ে রাখে এই চিকিৎসা। তবে অপেক্ষার সময়ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। তাই রোগীর সামনে সিদ্ধান্তটি হতে পারে—পাওয়া যাচ্ছে এমন একটি কিডনি গ্রহণ করবেন, নাকি অনিশ্চিত সময়ের জন্য ডায়ালাইসিস চালিয়ে যাবেন।
KOTRY কিডনি গ্রহীতার প্রতিস্থাপনের পর সম্ভাব্য আয়ু অনুমান করার একটি নির্দেশক K-EPTS-ও তৈরি করেছে। দাতা ও গ্রহীতা—উভয়ের মূল্যায়ন একত্রে চিকিৎসকদের অঙ্গটির সম্ভাব্য কার্যকারিতা এবং রোগীর সম্ভাব্য উপকার বিবেচনায় সহায়তা করতে পারে।
বয়স্ক রোগী ও হেপাটাইটিস বি-তে আরও নিবিড় মূল্যায়ন জরুরি
যেসব অঙ্গ ও রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপন দলগুলো সাধারণত বেশি সতর্ক থাকে, সেগুলো নিয়েও KOTRY-এর গবেষণা হয়েছে। এর ফলাফল ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী দাতা এবং হেপাটাইটিস বি বহনকারী দাতাদের আরও বিস্তারিত মূল্যায়নের পক্ষে। এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে গ্রহীতার শারীরিক অবস্থার ওপর।
হেপাটাইটিস বি সারফেস অ্যান্টিজেন পজিটিভ দাতাদের কাছ থেকে যকৃৎ নেওয়া ২০ জনের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, হেপাটাইটিস বি পরীক্ষায় নেগেটিভ দাতাদের যকৃৎ গ্রহীতাদের তুলনায় রোগীর বেঁচে থাকা বা প্রতিস্থাপিত যকৃতের কার্যকারিতায় পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কোনো পার্থক্য নেই। সারফেস অ্যান্টিজেন বর্তমান হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ শনাক্তের একটি নির্দেশক।
গবেষণায় অল্পসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। ফলাফলটি বোঝার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যকৃতের ক্ষতি করতে পারে এবং সতর্ক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন—এমন একটি ভাইরাসের সংক্রমণ থাকা দাতাদের নিয়ে সিদ্ধান্তে গবেষণাটি প্রতিস্থাপন দলগুলোকে আরও প্রমাণ দিয়েছে।
হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনবিষয়ক গবেষণায় অন্য একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে: বয়স্ক গ্রহীতাদের কীভাবে মূল্যায়ন করা যায়। ৬২৮ জন হৃদ্যন্ত্র গ্রহীতাকে নিয়ে করা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিস্থাপনের সময় যাঁরা হাঁটতে পারতেন, সেই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের বেঁচে থাকার ফলাফল কমবয়সী রোগীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন ছিল না।
হাঁটার সক্ষমতা বয়সের পাশাপাশি শারীরিক কার্যক্ষমতা সম্পর্কেও চিকিৎসকদের ধারণা দেয়। প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনার সময় রোগীর শারীরিক অবস্থা বিস্তারিতভাবে যাচাই করার পক্ষে এ ফলাফল সহায়ক।
ফুসফুস প্রতিস্থাপনের জরুরিতার মানদণ্ড সংশোধনের একটি প্রস্তাবও KOTRY জমা দিয়েছে। ফুসফুস পাওয়া গেলে কোন রোগী অগ্রাধিকার পাবেন, তা নির্ধারণে এই মানদণ্ড সহায়তা করে। কিডনি মূল্যায়নের সূচকটি ইতিমধ্যেই জাতীয় নীতিতে রয়েছে। ফুসফুসবিষয়ক প্রস্তাবটি সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, তবে তা কবে গৃহীত হবে সে তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
অস্ত্রোপচারের পর জীবিত দাতাদেরও পরিচর্যা দরকার
মৃত দাতার সংকটের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ায় জীবিত দানের গুরুত্ব বেশি। পরিবারের সদস্য বা অন্য জীবিত ব্যক্তি একটি কিডনি বা যকৃতের অংশ দান করতে পারেন। অন্যকে সাহায্য করতে অস্ত্রোপচার করানো দাতার সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্বও এর সঙ্গে জড়িত।
৫,৪৯০ জন জীবিত কিডনি দাতার তথ্য বিশ্লেষণ করে KOTRY দেখেছে, দানের আগে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ ছিল, তাঁদের দানের পর প্রস্রাবে প্রোটিন যাওয়ার ঝুঁকি স্বাভাবিক রক্তচাপের দাতাদের তুলনায় বেশি। প্রস্রাবে প্রোটিন থাকা কিডনি ক্ষতির লক্ষণ হতে পারে।
এই ফলাফল দানের আগে সতর্ক মূল্যায়ন এবং পরে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে। জীবিত দাতার ক্ষেত্রে গবেষণাটির ব্যবহারিক উদ্দেশ্য হলো—অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর কার আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ দরকার, তা শনাক্ত করা।
ব্রিফিংয়ে ইয়নসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব মেডিসিনের নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক এবং KOTRY-এর গবেষণা-নেতা ইয়াং জে-সক নিবন্ধনভান্ডারটির বৃহত্তর ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন।
কোহর্ট এমন কোনো প্রকল্প নয়, যার মূল লক্ষ্য নজরকাড়া সাফল্য অর্জন; বরং এটি এমন সামাজিক অবকাঠামো, যা অন্য গবেষণা ও নীতিকে সহায়তা করে।
প্রত্যাখ্যান ও দৈনন্দিন স্বাস্থ্যে AI-পরিকল্পনা
KOTRY এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ বিদ্যমান ক্লিনিক্যাল নথির সঙ্গে জিনগত তথ্য, চিকিৎসা-চিত্র এবং ডিজিটাল প্যাথলজি একত্র করার পরিকল্পনা করেছে। ডিজিটাল প্যাথলজিতে টিস্যুর স্লাইডের ছবি তৈরি করা হয়, যা কম্পিউটারের সাহায্যে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করা যায়।
পরিকল্পিত কাজের মধ্যে নিবন্ধনভান্ডারের নথির সঙ্গে ন্যাশনাল হেলথ ইনস্যুরেন্স সার্ভিসের তথ্য, হেলথ ইনস্যুরেন্স রিভিউ অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট সার্ভিসের নথি, স্ট্যাটিস্টিকস কোরিয়ার মৃত্যুর পরিসংখ্যান এবং ক্যানসার নিবন্ধনের তথ্য যুক্ত করাও রয়েছে। প্রতিস্থাপনের পর রোগীদের অনুসরণে যে ঘাটতি রয়েছে, তা কমানোর উদ্দেশ্যে এসব তথ্য সংযুক্ত করা হবে।
সমন্বিত তথ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রত্যাখ্যান ও অন্যান্য জটিলতার পূর্বাভাস দেবে। গ্রহীতার রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিস্থাপিত অঙ্গকে আক্রমণ করলে তাকে অঙ্গ প্রত্যাখ্যান বলা হয়। রোগীরা এই প্রতিক্রিয়া দমনে ওষুধ খান। গবেষক দলের আশা, এমন মডেল তৈরি করা, যা প্রত্যেকের উপযোগী চিকিৎসা নির্ধারণে সহায়তা করবে।
ওষুধের সিদ্ধান্তে ভারসাম্য জরুরি। চিকিৎসকদের সংক্রমণসহ চিকিৎসার ঝুঁকি সামলানোর পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। আরও ভালো পূর্বাভাসের মাধ্যমে যেসব রোগীর নিবিড় পর্যবেক্ষণ বা চিকিৎসায় পরিবর্তন দরকার, তাঁদের শনাক্ত করা যেতে পারে।
পরবর্তী পর্যায়ে রোগীদের কাছ থেকে জীবনযাত্রার মান, ক্লান্তি এবং ওষুধ গ্রহণের চাপ সম্পর্কে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব সূচক পরীক্ষাগারের ফল, হাসপাতালের নথি ও বেঁচে থাকার পরিসংখ্যানের পাশাপাশি দৈনন্দিন স্বাস্থ্যের চিত্র তুলে ধরবে।
AI-সংক্রান্ত কাজটি এখনো উন্নয়ন পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। ঘোষিত লক্ষ্য হলো পূর্বাভাস এবং আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক পরিচর্যা। তবে প্রস্তুত মডেল কবে থেকে নিয়মিত চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে, সে তারিখ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়নি।
অঙ্গদানের আইন ও জনসমর্থন পেতে সময় লাগে
রক্তসঞ্চালন বন্ধ হওয়ার পর অঙ্গদান, সংক্ষেপে DCD, অঙ্গের সরবরাহ বাড়ানোর আরেকটি প্রস্তাবিত উপায়। নির্দিষ্ট চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়ায় রক্তসঞ্চালন স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার ভিত্তিতে মৃত্যু নির্ধারিত হলে এই পদ্ধতিতে অঙ্গদান করা যায়। দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমান বিতর্কের বিষয় হলো, মস্তিষ্ক-মৃত্যুর পর অঙ্গদানের পাশাপাশি এই পদ্ধতিও চালু করা।
২০২৩ সাল থেকে DCD চালুর জন্য একাধিকবার বিল প্রস্তাব করা হয়েছে, কিন্তু আইনসভার মেয়াদ শেষ হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে সেগুলোর কার্যকারিতা শেষ হয়েছে। গবেষকেরা বলেছেন, আইন পাস হওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং জনসমর্থন পেতে সময় লাগবে।
ব্রিফিংয়ে কিম মিয়ং-সু এই চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের মতো দেশে মোট দাতার উল্লেখযোগ্য অংশ DCD-এর মাধ্যমে পাওয়া যায়, এ কথা সত্য। তবে ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জনসমর্থন অর্জনে অনিবার্যভাবেই দীর্ঘ সময় লাগে।
গবেষণা কর্মসূচি ও অঙ্গদানের সংস্কার সংকটের ভিন্ন ভিন্ন দিক মোকাবিলা করে। দানের নতুন পথ চালু হলে পাওয়া অঙ্গের সংখ্যা বাড়তে পারে। নিবন্ধনভিত্তিক গবেষণা চিকিৎসকদের প্রাপ্ত অঙ্গ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে এবং প্রতিস্থাপনের পর রোগীদের সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে। যাঁরা ইতিমধ্যে অপেক্ষায় আছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দানের সংখ্যা এবং প্রতিটি অঙ্গ নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
নিবন্ধনভান্ডার ও অঙ্গসংকটের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
KOTRY এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিকশিত হয়েছে। এর প্রধান নীতিগত পরিবর্তন এবং অঙ্গদানের পরিসংখ্যান দেখায়, গবেষণার অগ্রগতির পাশাপাশি অপেক্ষমাণ তালিকার চাপও বেড়েছে।
- ২০১৪: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের সহায়তায় KOTRY জাতীয় পর্যায়ে প্রতিস্থাপন কোহর্টের তথ্য সংগ্রহ শুরু করে।
- ২০২১: K-KDPI জাতীয় কিডনি বণ্টননীতিতে যুক্ত হয়। প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন ৩৯,২৬১ জন এবং মস্তিষ্ক-মৃত্যুর পর অঙ্গদান করেন ৪৪২ জন।
- ২০২৩ সাল থেকে: রক্তসঞ্চালন বন্ধ হওয়ার পর অঙ্গদানের প্রস্তাব দিয়ে একাধিকবার বিল উত্থাপিত হয়েছে, তবে সেগুলোর কার্যকারিতা শেষ হয়েছে।
- ২০২৪: প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা মোট ৩,০৯৬ জনের মৃত্যু হয়।
- ২০২৫: অপেক্ষমাণ তালিকায় মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৪৬,৫৫০ হয় এবং মস্তিষ্ক-মৃত ঘোষিত দাতার সংখ্যা ছিল ৩৭০।
- আগস্ট ২০২৬: অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন ৪৮,৪৫৬ জন।
গবেষণার পরবর্তী পর্যায়ে আরও জাতীয় তথ্যভান্ডার সংযুক্ত করা হবে, চিকিৎসা-চিত্র ও প্যাথলজির তথ্য ডিজিটাল করা হবে এবং রোগীদের নিজেদের স্বাস্থ্যের বিবরণ সংগ্রহ করা হবে। এসব উদ্যোগের কার্যকারিতার বাস্তব পরীক্ষা হবে, এগুলো অঙ্গ বণ্টনের সিদ্ধান্ত এবং গ্রহীতা ও জীবিত দাতাদের পরিচর্যা উন্নত করতে পারে কি না।
মূল কথা
- দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০২৪ সালে প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা ৩,০৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, দিনে গড়ে প্রায় ৮.৫ জন।
- ৮৮টি কেন্দ্র এবং পাঁচ ধরনের অঙ্গের ২৬,৫৭১ জন প্রতিস্থাপন-রোগীর নথি রয়েছে KOTRY-এর কাছে।
- ২০২১ সাল থেকে কোরিয়ার কিডনি দাতা মূল্যায়ন সূচক জাতীয় অঙ্গ বণ্টননীতিতে ভূমিকা রাখছে।
- গবেষণায় বয়স্ক গ্রহীতা, নির্বাচিত দাতার অঙ্গ এবং জীবিত দাতাদের ঝুঁকি আরও বিস্তারিতভাবে মূল্যায়নের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
- পরিকল্পিত AI গবেষণায় ক্লিনিক্যাল, জিনগত, চিত্রভিত্তিক ও জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত তথ্য একত্র করে জটিলতার পূর্বাভাস এবং পরিচর্যার দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
- দাতার ঘাটতি রয়ে গেছে, আর রক্তসঞ্চালন বন্ধ হওয়ার পর অঙ্গদানের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে এখনো আইনগত পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি দরকার।






