২০২৬ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ খণ্ড প্রকাশের পরিকল্পনা
চীনা ঔপন্যাসিক জিন ইয়ং নামে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কিম দুংয়ের ১৫টি মার্শাল আর্ট উপন্যাস প্রকাশের স্বত্ব পেয়েছে ভিয়েতনামের প্রকাশনা সংস্থা ডং আ। নতুন অনুবাদে ‘থিয়েন লং বাত বো’ দিয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে এই প্রকল্প শুরু হওয়ার কথা। প্রথম প্রকাশনায় থাকবে পাঁচটি খণ্ড। প্রতিষ্ঠানের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই প্রকাশনা কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সূচিপত্র
- ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ খণ্ড প্রকাশের পরিকল্পনা
- চুক্তির আওতায় যা রয়েছে
- লেখকের সংশোধিত পাঠের নতুন অনুবাদ
- তিন ধরনের সংস্করণ, পাশাপাশি রাখলে মিলে যায় প্রচ্ছদ
- এক দশকের স্বপ্ন, বিক্রির প্রত্যাশা সীমিত
- এই চুক্তির আগেই শুরু ভিয়েতনামে স্বত্বের ইতিহাস
- প্রকাশনার ধারাবাহিকতা যেভাবে গড়ে উঠেছে
- কেন এত পাঠকের কাছে পৌঁছেছিল এই গল্পগুলো
- পরিচিত পর্দার গল্প থেকে আবার বইয়ের পাতায়
- মূল বিষয়গুলো
স্বত্বের মালিক মিং হো পাবলিকেশন্স করপোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে এই চুক্তি হয়েছে। ডং আ-এর পরিচালক ট্রান দাই থাং বলেন, প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর আগের বছর চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। পাঠকদের কাছে এই প্রকল্প পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছা তাঁর এক দশকেরও বেশি সময়ের।
ডং আ ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর চুক্তির কথা জানায়। পরিকল্পনায় রয়েছে নতুন ভিয়েতনামি অনুবাদ এবং তিন ধরনের মুদ্রিত সংস্করণ: একটি সাধারণ সংস্করণ এবং সংগ্রাহকদের জন্য আরও যত্নসহকারে তৈরি দুটি সীমিত সংস্করণ। প্রকাশনা সংস্থাটি বলেছে, শুধু মূল পাঠ নয়, সম্পাদনা, নকশা ও মুদ্রণেও বিনিয়োগ করবে তারা।
এই প্রকল্প ভিয়েতনামে জিন ইয়ংয়ের ইতিহাসের দুটি দিককে একত্র করেছে: সংবাদপত্র, বই ও পর্দার রূপান্তরের মাধ্যমে কয়েক দশকে গড়ে ওঠা পাঠকসমাজ এবং আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স চুক্তির মাধ্যমে তাঁর রচনা প্রকাশের চলমান প্রচেষ্টা। ১৯৯৯ সালেই ফুয়ং নাম ভিয়েতনামি ভাষায় প্রকাশের স্বত্ব কিনেছিল; ২০০১ সাল থেকে নতুন অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
চুক্তির আওতায় যা রয়েছে
ডং আ-এর কর্মসূচির আওতায় রয়েছে ১৯৫৫ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে জিন ইয়ংয়ের লেখা ১৫টি মার্শাল আর্ট উপন্যাসের পূর্ণ সংকলন। ঘোষণায় তাঁর সব রচনার স্বত্ব পাওয়ার কথা বলা হলেও, বিস্তারিত প্রকাশনা পরিকল্পনাটি এই মার্শাল আর্ট কথাসাহিত্যের সংকলনকে কেন্দ্র করে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ১৫টির এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ পাঁচটি বই প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো হলো ‘আন হুং সা দিয়েউ’, ইংরেজিতে ‘দ্য লেজেন্ড অব দ্য কনডর হিরোজ’; ‘থান দিয়েউ হিয়েপ লু’, বা ‘দ্য রিটার্ন অব দ্য কনডর হিরোজ’; ‘ই থিয়েন দো লং কি’, বা ‘দ্য হেভেন সোর্ড অ্যান্ড ড্রাগন সাবার’; ‘থিয়েন লং বাত বো’, বা ‘ডেমি-গডস অ্যান্ড সেমি-ডেভিলস’; এবং ‘তিয়েউ ঙাও জিয়াং হো’, বা ‘দ্য স্মাইলিং, প্রাউড ওয়ান্ডারার’.
ডং আ ধাপে ধাপে বইগুলো প্রকাশ করবে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের লক্ষ্যটি ‘থিয়েন লং বাত বো’র পাঁচ খণ্ডের জন্য, প্রাথমিক পর্যায়ের পাঁচটি বই বা পুরো সংকলনের জন্য নয়। বাকি বইগুলোর প্রকাশসূচি, খুচরা মূল্য, মুদ্রণসংখ্যা এবং স্বত্ব চুক্তির খরচ প্রকাশ করা হয়নি।
লেখকের সংশোধিত পাঠের নতুন অনুবাদ
ডং আ জানিয়েছে, বইগুলো সম্পূর্ণ নতুন করে ভিয়েতনামি ভাষায় অনুবাদ করা হবে। ‘থিয়েন লং বাত বো’ অনুবাদ করছেন নগুয়েন জুই চিন; মার্শাল আর্ট কথাসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত এবং চীনা ভাষায় দক্ষ অনুবাদকও খুঁজছে প্রকাশনা সংস্থাটি।
সংস্করণগুলোতে থাকবে জিন ইয়ংয়ের জীবদ্দশায় সংশোধিত পাঠ; সংশোধনগুলো সম্পন্ন হয়েছিল ২০০৩, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে। সংশোধিত পাঠ হলো এমন একটি সংস্করণ, যেখানে লেখক আগের কোনো রচনায় ফিরে গিয়ে পরিবর্তন করেন। ফলে পুরোনো ভিয়েতনামি সংস্করণ যাঁদের কাছে আছে, তাঁদের জন্য এই প্রকল্পে নতুন অনুবাদের পাশাপাশি গল্পগুলোর লেখকের পরবর্তী সংস্করণও থাকছে।
ভিয়েতনামে জিন ইয়ংয়ের রচনা অনুবাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আগের প্রকাশনা উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন কাও তু থান, লে খান ত্রুয়ং, ডং হাই, হুয়াং ঙক, যিনি হুয়িন ঙক চিয়েন নামেও পরিচিত, ভু দুক সাও বিয়েন ও তাঁর সহযোগীরা, ঙক থাক, হিউ নুং এবং ফাম তু চাউ। ডং আ-এর নতুন কর্মসূচির আগেই তাঁদের কাজ প্রজন্মের পর প্রজন্মের পাঠকের কাছে এই দীর্ঘ কাহিনিগুলো পৌঁছে দিয়েছে।
তিন ধরনের সংস্করণ, পাশাপাশি রাখলে মিলে যায় প্রচ্ছদ
ডং আ-এর তিন ধরনের সংস্করণে সাধারণ পাঠক এবং বইয়ের নির্মাণশৈলীতে আগ্রহী সংগ্রাহক—দুই পক্ষের কথাই ভাবা হয়েছে। সাধারণ সংস্করণের পাশাপাশি আরও যত্নসহকারে তৈরি দুটি সীমিত সংস্করণ প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
৬ নভেম্বর প্রকাশনা সংস্থাটি সাধারণ পেপারব্যাক সংস্করণের প্রচ্ছদের নকশা প্রকাশ করে। ধারণা ও নকশা করেছেন তা কুয়ক কি নাম, অলংকরণ করেছেন দিন দিয়েপ এবং পাঁচটি খণ্ডকে যুক্ত করা অক্ষরশৈলী তৈরি করেছেন ক্যালিগ্রাফার নগুয়েন তুয়ান।
প্রচ্ছদগুলো পাশাপাশি রাখলে ক্যালিগ্রাফির রেখাগুলো মিলিত হয়ে ‘থিয়েন লং বাত বো’ শিরোনামের চারটি অক্ষর গঠন করে। নকশায় পাঁচটি বইকে একটি একক দৃশ্যরূপে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে প্রথম প্রকাশনাটি তাকজুড়ে একটি অভিন্ন পরিচয় পায়।
পুরো কর্মসূচিতে বিষয়বস্তু, সম্পাদনা ও মুদ্রণের মানে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডং আ। এই পরিকল্পনায় সাধারণ সংস্করণও গুরুত্বপূর্ণ: দুটি সংগ্রাহক সংস্করণের বাইরে পাঠকদের জন্য আরেকটি বিকল্প থাকবে, একই সঙ্গে বইগুলোর দৃশ্যমান পরিচয়ও হবে স্বতন্ত্র।
এক দশকের স্বপ্ন, বিক্রির প্রত্যাশা সীমিত
শিল্পী এবং ডং আ-এর পরিচালক—দুই পরিচয়েই থাকা ট্রান দাই থাং প্রকল্পটিকে তাঁর ১০ বছরের লালিত স্বপ্ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার বছরটি ছিল প্রস্তুতি ও আগ্রহের দীর্ঘ পর্বের শেষ দিকে।
থাং বলেন, আয় নিয়ে তাঁর খুব বেশি প্রত্যাশা নেই। নিজের প্রেরণা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অনুবাদ করলে:
আমি এটা করি, কারণ আমি ভালোবাসি। বাজারের ফলাফল কী হবে, তা আমি ঠিক করতে পারি না।
বাণিজ্যিক পরিকল্পনায় বড় সম্পাদনা-দায়িত্বের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মুদ্রিত সংস্করণ। ১৫টি বইয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অনুবাদ ও সম্পাদনা দরকার হবে; অন্যদিকে তিন ধরনের সংস্করণ পাঠকদের বই কেনার ভিন্ন সুযোগ দেবে। এই কাজ হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্তে নিজের ব্যক্তিগত অঙ্গীকারকেই কেন্দ্রে রেখেছেন থাং।
সংগ্রাহকদের প্রতি ডং আ-এর মনোযোগের একটি আন্তর্জাতিক নজিরও রয়েছে। জাপানের তোকুমা শোতেন ১৯৯০-এর দশকে জিন ইয়ংয়ের সব উপন্যাসের জাপানি অনুবাদের স্বত্ব কিনে যত্নসহকারে তৈরি হার্ডকভার সংস্করণ প্রকাশে বিনিয়োগ করেছিল। নতুন অনুবাদ ও বিশেষভাবে তৈরি সংস্করণের যে সমন্বয়ের কথা ডং আ জানিয়েছে, তা বইকে গল্প এবং বাস্তব বস্তু—দুই হিসেবেই দেখার অনুরূপ আগ্রহের প্রতিফলন।
এই চুক্তির আগেই শুরু ভিয়েতনামে স্বত্বের ইতিহাস
১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকেই জিন ইয়ংয়ের কথাসাহিত্য বিপুলসংখ্যক ভিয়েতনামি পাঠকের কাছে পৌঁছেছিল। লেখক ভু দুক সাও বিয়েন তাঁর ‘কিম দুং জিয়া দোই তোই’ গবেষণাগ্রন্থে লিখেছেন, ওই সময়ে লেখকের প্রায় ১২টি বই ভিয়েতনামে ছাপা হয়েছিল।
অনেক পাঠক সংবাদপত্রে ধারাবাহিক প্রকাশনা এবং হান জিয়াং নানের সঙ্গে যুক্ত অনুবাদসহ অননুমোদিত সংস্করণের মাধ্যমে গল্পগুলোর সঙ্গে পরিচিত হন। জিন ইয়ং স্মরণ করেছিলেন, সাইগনের ২১টি সংবাদপত্র একই সময়ে ‘তিয়েউ ঙাও জিয়াং হো’র অননুমোদিত কিস্তি প্রকাশ করেছিল; পত্রিকাগুলো চীনা, ভিয়েতনামি ও ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত হতো।
১৯৯৯ সালে ফুয়ং নামের চুক্তি স্বত্ব নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রকাশনার পথে অগ্রসর হওয়ার সূচনা করে। প্রতিষ্ঠানটি লিটারেচার পাবলিশিং হাউসের সঙ্গে কাজ করে এবং তাদের প্রতিনিধিরা ভিয়েতনামি ভাষায় প্রকাশের স্বত্ব নিয়ে সরাসরি লেখকের পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। ২০০১ সাল থেকে নতুন অনুবাদ, সম্পাদনা ও প্রকাশনা শুরু হয়।
ফুয়ং নামের পরিচালনা পর্ষদের উপপ্রধান নগুয়েন হিউ হোয়াট স্মরণ করেন, সে সময় ভিয়েতনামে অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলনামূলকভাবে অপরিচিত ছিল এবং প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে এ নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। হংকংয়ে জিন ইয়ংয়ের কপিরাইট পরিচালনাকারীদের সঙ্গে আলোচনাও কঠিন ছিল, কারণ তাদের জন্য ভিয়েতনাম ছিল নতুন বাজার। বিস্তৃত প্রকাশনা উদ্যোগের আগে একটি সেটের জন্য প্রাথমিক অস্থায়ী লাইসেন্স নেওয়া হয়েছিল।
ডং আ-এর চুক্তি এই ইতিহাসে নতুন একটি প্রকাশনা কর্মসূচি যোগ করেছে। লাইসেন্সের মাধ্যমে স্বত্বধারী কোনো প্রকাশককে সংস্করণ প্রকাশের অনুমতি দেন; অননুমোদিত কপির ক্ষেত্রে সেগুলোর উৎপাদন ও বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে হয়। পাঠকদের জন্য বাস্তব পরিবর্তন হলো, এবার নতুন অনুবাদ ও একাধিক নির্মাণশৈলীর সংস্করণসহ আনুষ্ঠানিকভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বই পাওয়ার আরেকটি পথ তৈরি হচ্ছে।
প্রকাশনার ধারাবাহিকতা যেভাবে গড়ে উঠেছে
জিন ইয়ংয়ের লেখালেখির জীবন, ভিয়েতনামে তাঁর গল্পের আগমন এবং পরবর্তী স্বত্ব চুক্তিগুলো সাত দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত। প্রধান তারিখগুলো দেখায়, দীর্ঘ এই ইতিহাসে ডং আ-এর পরিকল্পিত প্রকাশনা কোথায় দাঁড়িয়ে।
- ১৯৫৫: ‘থু কিয়েম আন কিউ লুক’ দিয়ে জিন ইয়ংয়ের মার্শাল আর্ট কথাসাহিত্য লেখা শুরু; বইটি ইংরেজিতে ‘দ্য বুক অ্যান্ড দ্য সোর্ড’ নামে পরিচিত।
- ১৯৫৫ থেকে ১৯৭২: ডং আ-এর কর্মসূচির আওতাভুক্ত ১৫টি মার্শাল আর্ট উপন্যাস লেখেন তিনি।
- ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশক: ভু দুক সাও বিয়েনের গবেষণা অনুযায়ী, ভিয়েতনামে প্রায় ১২টি বই প্রকাশিত হয়।
- ১৯৯৯: ফুয়ং নাম ভিয়েতনামি ভাষায় প্রকাশের স্বত্ব কেনে।
- ২০০১: ফুয়ং নাম নতুন অনুবাদ ও সম্পাদনায় সংস্করণ প্রকাশ শুরু করে।
- ২০০৩, ২০০৫ ও ২০০৬: ডং আ-এর পরিকল্পিত সংস্করণে ব্যবহৃত সংশোধনগুলো সম্পন্ন করেন জিন ইয়ং।
- ২০২৬ সালের ৫ ও ৬ নভেম্বর: ডং আ চুক্তির ঘোষণা দেয় এবং পরে প্রচ্ছদের নকশা প্রকাশ করে।
- ডিসেম্বর ২০২৬: ‘থিয়েন লং বাত বো’র পাঁচ খণ্ড প্রকাশের কথা রয়েছে।
এই সময়রেখা আরও ব্যাখ্যা করে কেন পুরোনো পাঠকেরা একই বইয়ের ভিন্ন ভিয়েতনামি অনুবাদ চিনতে পারেন। জিন ইয়ংয়ের কথাসাহিত্য বিভিন্ন প্রকাশনা-পর্ব পেরিয়েছে, আর লেখক নিজেও তাঁর লেখা সংশোধন করতে বারবার ফিরে গেছেন।
কেন এত পাঠকের কাছে পৌঁছেছিল এই গল্পগুলো
জিন ইয়ং ১৯২৪ সালে ঝেজিয়াংয়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১৮ সালে মারা যান। ভিয়েতনামিতে তাঁর নাম লেখা হয় ত্রা লুয়ং দুং। বিশ্বজুড়ে তাঁর বই বিক্রি হয়েছে ৩০ কোটিরও বেশি কপি; চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে বারবার রূপান্তরের ফলে তাঁর চরিত্রগুলো মূল বইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে পরিচিতি পেয়েছে।
তাঁর সাহিত্যধারাকে প্রায়ই ‘উশিয়া’ বা মার্শাল আর্ট কথাসাহিত্য বলা হয়। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী, ব্যক্তিগত আনুগত্য, ঋণ ও বিরোধের জগতে চলাফেরা করা যোদ্ধাদের গল্প উঠে আসে। লড়াইয়ে কাহিনি এগোলেও চরিত্রদের ভালোবাসা, কর্তব্য, বন্ধুত্ব ও ক্ষমতার মধ্যে বেছে নিতে হয়।
কুয়াক তিং, হুয়াং দুং, জুয়ং কোয়া, তিয়েউ লং নু ও লিং হো সুংয়ের মতো চরিত্র ভিয়েতনামের প্রজন্মের পর প্রজন্মের পাঠকের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে। দুঃসাহসিক অভিযানের ভেতরে থাকা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তই তাদের আকর্ষণের একটি কারণ: কাকে বিশ্বাস করতে হবে, কোন প্রতিশ্রুতি রাখতে হবে এবং সম্পর্কের সংঘাতের মুখে আনুগত্যের দাবি কী—এসব প্রশ্ন।
কবি লে মিন কুয়ক জিন ইয়ংয়ের স্বতন্ত্র মার্শাল আর্টের জগৎ, কাহিনির নির্মাণ এবং অপ্রত্যাশিত মোড়ের প্রশংসা করেছেন। সাহিত্য সমালোচক ফাম সুয়ান ঙুয়েন বলেছেন, তাঁর অবদান তরবারির লড়াইয়ের গল্পকে সম্মান, নৈতিকতা ও শুভশক্তির সংগ্রামের কাহিনিতে রূপ দিয়েছে। পাঠকেরা কাহিনি আগে থেকেই জানলেও কেন ফিরে আসেন, তা বুঝতে এই বিষয়গুলো সাহায্য করে।
পরিচিত পর্দার গল্প থেকে আবার বইয়ের পাতায়
চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের সংস্করণ জিন ইয়ংয়ের কথাসাহিত্যকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করেছে। ‘আন হুং সা দিয়েউ’, ‘থান দিয়েউ দাই হিয়েপ’, ‘ই থিয়েন দো লং কি’ এবং ‘তিয়েউ ঙাও জিয়াং হো’—প্রতিটি কাহিনিই একাধিকবার পর্দায় এসেছে। এর ফলে দর্শকেরা এমন চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, যাদের পরে বইয়েও পেতে পারেন।
পর্দার এসব রূপান্তর তাঁর গল্পের কতটা কাছাকাছি থাকছে, তা নিয়ে জিন ইয়ং নিজেও ভাবতেন। চিত্রনাট্যকারদের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লেখক বলেন, অনুবাদ করলে:
আমার মূল রচনা রূপান্তর করলে যত কম পরিবর্তন করা যায় ততই ভালো; আদর্শভাবে কাহিনি বদলানো উচিত নয়।
ডং আ-এর প্রকল্পে পর্দার পুনর্কথনের বদলে লেখকের সংশোধিত পাঠ ব্যবহার করে মূল লিখিত রচনাগুলোকে আবার সামনে আনা হয়েছে। টেলিভিশন বা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে যাঁরা এই গল্পে এসেছেন, নতুন সংস্করণ তাঁদের ভিয়েতনামি ভাষায় পূর্ণাঙ্গ আখ্যান পড়ার সুযোগ দেবে। আর যাঁদের কাছে বইগুলো আগে থেকেই রয়েছে, তাঁদের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে অনুবাদ, পাঠের সংস্করণ এবং মুদ্রিত সংস্করণের ধরনের ওপর।
মূল বিষয়গুলো
- জিন ইয়ংয়ের ১৫টি মার্শাল আর্ট উপন্যাসের পূর্ণ সংকলন ভিয়েতনামে প্রকাশের স্বত্ব পেয়েছে ডং আ।
- প্রথম প্রকাশনা ‘থিয়েন লং বাত বো’র পাঁচ খণ্ড, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশের কথা রয়েছে।
- প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচটি বই প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে; সবগুলোরই নতুন ভিয়েতনামি অনুবাদে লেখকের সংশোধিত পাঠ ব্যবহার করা হবে।
- পাঠকদের জন্য একটি সাধারণ সংস্করণ এবং দুটি সীমিত সংস্করণ থাকবে।
- ফুয়ং নাম ১৯৯৯ সালে এর আগে প্রকাশনার স্বত্ব কিনেছিল এবং ২০০১ সালে নতুন অনুবাদ প্রকাশ শুরু করে।
- বইগুলোর দাম এবং পুরো সংকলন প্রকাশের সময়সূচি জানানো হয়নি।






