চীনে বিপুল শ্রোতার কাছে পৌঁছেছে ভিয়েতনামের একটি গান
১০ বিলিয়নের বেশি দোয়িন ভিউ, হুয়াং লিংয়ের সঙ্গে চীনা দ্বৈত পরিবেশনা এবং কিউকিউ মিউজিকে স্থান—ভিয়েতনামের গায়ক তাং জুই তানের গাওয়া ‘নগায় থো’র চীনা সংস্করণের সাফল্য হিসেবে এসবের কথা জানিয়েছে বিগ আর্টস এন্টারটেইনমেন্ট। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশের পর গানটি ছোট ভিডিও, সংগীত প্ল্যাটফর্ম এবং টেলিভিশন পরিবেশনার মাধ্যমে চীনা শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যায়।
সূচিপত্র
- চীনে বিপুল শ্রোতার কাছে পৌঁছেছে ভিয়েতনামের একটি গান
- ২০২০ সালের প্রকাশনা থেকে ২০২৪ সালের টেলিভিশন পরিবেশনা
- প্ল্যাটফর্মের পরিসংখ্যান পাঠককে কী জানায়
- ছোট ভিডিওতে গানটি কেন কাজ করে
- ‘জা ভু’ দেখায় অন্য একটি গান কত দ্রুত ছড়িয়েছিল
- ব্যক্তিগত আবেগ ও ব্যাপক জনপ্রিয়তার সংযোগ ‘বেন ত্রেন তাং লাও’
- ‘কাত দোই নোই সৌ’ আরও শ্রোতার কাছে পৌঁছায়
- রেকর্ডিংয়ের পেছনের কর্মজীবন
- একাধিক পথে এসেছে বাণিজ্যিক সাফল্য
- মূল বিষয়গুলো
গানটি লিখেছেন ফং ম্যাক—এ তথ্যটি এমন এক গল্পে গুরুত্বপূর্ণ, যা প্রায়ই তাং জুই তানের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে কেন্দ্র করে বলা হয়। ‘থান’ নামের চীনা সংস্করণটি 叹 চীনা অক্ষরেও পরিচিত। এতে ভিয়েতনামের এই গায়কের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন হুয়াং লিং, ফলে শ্রোতারা নিজেদের ভাষায় গানটির একটি সংস্করণ শুনতে পেয়েছেন।
বিগ আর্টস এন্টারটেইনমেন্টের শিল্পীর আনুষ্ঠানিক পরিচিতিতে দোয়িনের মাইলফলক এবং কিউকিউ মিউজিকে গানটির উপস্থিতির কথা উল্লেখ রয়েছে। গানটির বাণিজ্যিক সাফল্য সম্পর্কে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যই সবচেয়ে স্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ। তবে এতে হিসাবের তারিখ বা দোয়িনের মোট ভিউ কীভাবে গণনা করা হয়েছে, সে ব্যাখ্যা নেই।
১০ বিলিয়নের হিসাবটি এমন এক প্ল্যাটফর্মে ভিউয়ের সংখ্যা, যেখানে ভিডিওর সঙ্গে সংগীত ব্যবহার করা হয়। অসংখ্য ক্লিপে গানটি ছড়িয়ে পড়তে পারে, একই ব্যক্তি বারবার সেটি শুনতে বা দেখতে পারেন। পুরো গান শোনা, এর কোরাস ব্যবহার করা ভিডিও দেখা এবং গানের নাম খোঁজা—সংগীতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার এসব আলাদা ধরন, আর প্রতিটির হিসাবও প্ল্যাটফর্মগুলো ভিন্নভাবে রাখে।
তাই ‘নগায় থো’র যাত্রাকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ঘটনা একসঙ্গে বিবেচনা করে বোঝাই ভালো: চীনা ভাষায় রেকর্ড, ভিডিও নির্মাতাদের বারবার ব্যবহার, সংগীতসেবায় স্বীকৃতি এবং প্রকাশের কয়েক বছর পর নতুন করে পরিচিতি। তাং জুই তানের অন্য গানও একই ধরনের পথে এগিয়েছে, যা ব্যক্তিগত সাফল্যকে চীনে আরও বিস্তৃত উপস্থিতিতে রূপ দিয়েছে।
২০২০ সালের প্রকাশনা থেকে ২০২৪ সালের টেলিভিশন পরিবেশনা
‘নগায় থো’ একাধিক সংস্করণে প্রকাশিত হয়। ফং ম্যাকের ইউটিউব চ্যানেলে গানটির মূল আনুষ্ঠানিক ভিডিও আসে ২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর তাং জুই তানের চ্যানেলে প্রকাশিত হয় লিরিক ভিডিও। পরে চীনা দ্বৈত পরিবেশনাটিই দোয়িনের বিপুল দর্শকসংখ্যার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি পরিচিত হয়ে ওঠে।
২০২২ সালের মধ্যে গানটি চীনে উল্লেখযোগ্য মনোযোগ পেতে শুরু করে। ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারির একটি বিবরণে বছরের শেষ উপলক্ষে কিউকিউ মিউজিকের চার্টে হুয়াং লিংয়ের সঙ্গে ‘থান’-এর উপস্থিতির কথা নথিবদ্ধ হয়। এর ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ছোট ভিডিওর পাশাপাশি চীনের একটি বড় সংগীতসেবাতেও গানটি স্থান পায়।
- সেপ্টেম্বর ২০২০: ইউটিউবে ‘নগায় থো’র মূল আনুষ্ঠানিক ভিডিও ও লিরিক ভিডিও প্রকাশিত হয়।
- আগস্ট ২০২১: তাং জুই তান ‘জা ভু’ প্রকাশ করেন; গানটিও দোয়িনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
- ২০২২: ‘নগায় থো’ চীনে আরও পরিচিতি পায়, আর এর চীনা সংস্করণের ভিডিও ভিউ কয়েক বিলিয়নে পৌঁছায়।
- ৩ জানুয়ারি ২০২৩: আগের বছরের কিউকিউ মিউজিক চার্টে ‘থান’-এর উপস্থিতির কথা নথিবদ্ধ হয়।
- এপ্রিল ২০২৪: ‘রাইড দ্য উইন্ড ২০২৪’-এর উদ্বোধনী পর্বে চীনা সংস্করণটি পরিবেশন করেন অভিনেত্রী লিউ ইয়ান।
মূল গান প্রকাশের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর লিউ ইয়ানের পরিবেশনা গানটিকে আরেকটি প্রকাশ্য মঞ্চে নিয়ে আসে। ভিয়েতনামি রেকর্ডিং থেকে চীনা সংস্করণ, তারপর টেলিভিশন পরিবেশনা—এই যাত্রা দেখায়, ভিন্ন শিল্পী ও মাধ্যমে পুরোনো একটি গান কীভাবে নতুন শ্রোতার কাছে পৌঁছাতে পারে।
প্ল্যাটফর্মের পরিসংখ্যান পাঠককে কী জানায়
‘নগায় থো’ ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মনোযোগ পেয়েছে। ২০২২ সালে প্রকাশিত হিসাবে টিকটকে গানটির ভিউ ছিল ৮ কোটি ২৬ লাখ, আর তিনটি সংস্করণ মিলিয়ে ইউটিউবে প্রায় ৬ কোটি। এগুলো সেই সময়ের হিসাব, বর্তমান মোট ভিউ নয়।
আলাদা ভিডিওগুলোরও নিজস্ব দর্শক ছিল। ২০২৩ সালের জানুয়ারির শুরুতে তাং জুই তানের চ্যানেলে লিরিক ভিডিওটি প্রায় ৬৩ লাখ ভিউ পায়, আর ফং ম্যাকের চ্যানেলের আনুষ্ঠানিক ভিডিওটি পায় ৮৫ লাখের বেশি। এই ভিডিওগুলোর হিসাব সংস্করণভিত্তিক আগের মোট সংখ্যার তুলনায় সীমিত পরিসরের।
‘নগায় থো’ বিশ্বব্যাপী শাজাম চার্টে এক নম্বরে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। চীনা সংস্করণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল দুই নম্বর—এমন দাবিও রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট চার্টের তারিখ বা এই অবস্থানগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক জানানো হয়নি। শাজাম ছোট একটি নমুনা থেকে গান শনাক্ত করে, তাই এর চার্টে প্রতিফলিত হয়—মানুষ গানের নাম খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
কিউকিউ মিউজিকও ছবির আরেকটি দিক তুলে ধরে। অন্য কোথাও গানের কোনো অংশ শোনার পর শ্রোতারা সেখানে গিয়ে পুরো রেকর্ডিং খুঁজে নিতে পারেন। সব মিলিয়ে প্ল্যাটফর্মগুলো একটি বাস্তবসম্মত পথ দেখায়: কোনো ক্লিপে সুর শোনা, সেটি শনাক্ত করা, তারপর পুরো সংস্করণ খুঁজে চালানো।
ছোট ভিডিওতে গানটি কেন কাজ করে
সংগীত প্রযোজক হোয়াপ্রক্স তাং জুই তানের গানে দুটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন: ছোট ভিডিওর উপযোগী প্রাণবন্ত ইলেকট্রনিক সংগীতায়োজন এবং তরুণ শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা আবেগঘন কথা। এই সমন্বয়ে নির্মাতারা যেমন ছন্দের সঙ্গে নড়াচড়ার উপাদান পান, তেমনি দৃশ্য তৈরি করার মতো আবেগপ্রকাশের সুযোগও পান।
তাং জুই তান বলেছেন, সহজে শোনা, মনে রাখা এবং আবার গাওয়া যায়—এমন সুরের দিকে তিনি সচেতনভাবে মনোযোগ দিয়েছেন। চেনা যায় এমন ছোট একটি সুরাংশ কাজ করতে পারে, এমনকি ভিডিওতে রেকর্ডিংয়ের সামান্য অংশ থাকলেও। বারবার শোনার ফলে পরেরবার সুরটি এলে দর্শকেরা সহজেই চিনতে পারেন।
‘জা ভু’ পরিচিতি পায় চেহারার পরিবর্তন দেখানো ভিডিওর সঙ্গে; এর স্বতন্ত্র শিসের সুর ও সংগীতের চূড়ান্ত অংশ ব্যবহার করা হয় পরিবর্তনটি প্রকাশের মুহূর্তে। ‘বেন ত্রেন তাং লাও’ ছড়িয়ে পড়ে নাচের ভিডিও এবং ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করা ক্লিপে। ‘কাত দোই নোই সৌ’-এর রিমিক্স বিনোদনমূলক ভিডিওর উপযোগী আরও সংস্করণ নির্মাতাদের হাতে তুলে দেয়।
এই গানগুলোয় পাঁচটি স্বরের স্কেলভিত্তিক পেন্টাটনিক সুরের সঙ্গে ইলেকট্রনিক সংগীতায়োজনও রয়েছে। পূর্ব এশিয়ার অনেক সংগীত ঐতিহ্যে এ ধরনের সুরের চল পরিচিত। কথা বোঝার আগেই শ্রোতা সুরের ধরনে সাড়া দিতে পারেন।
সংগীত সমালোচক নগুয়েন কুয়াং লং ‘নগায় থো’র জনপ্রিয়তার আরেকটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন: গানটির সংগীতভাবনা সমসাময়িক পাশ্চাত্য তরুণদের সংগীতের কাছাকাছি। তিনি ঢোল, বেস ও সংগীতায়োজনের দৃঢ় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। গানটির অংশগুলো একটির পর একটি সরাসরি এগিয়ে যায়, বারবার ছন্দ থামিয়ে না দিয়ে গতি ধরে রাখে।
‘জা ভু’ দেখায় অন্য একটি গান কত দ্রুত ছড়িয়েছিল
বিগ আর্টস এন্টারটেইনমেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্টে প্রকাশের এক মাসের মধ্যেই ‘জা ভু’ দোয়িনে প্রায় ২ বিলিয়ন ভিউ পায়। বিস্তৃত এই গল্পে এটি আরেকটি বড় উদাহরণ, আর ‘থান’-এর মোট ভিউয়ের তুলনায় এর হিসাবের সময়কাল অনেক কম।
২০২২ সালের হিসাবে ‘জা ভু’র টিকটক ভিউ ছিল ৭ কোটি ৫৮ লাখ এবং ইউটিউব ভিউ ২ কোটি ৫০ লাখ। মূল ভূখণ্ড চীনের বাইরে ব্যবহৃত সেবাগুলোর দর্শকদের মধ্যেও গানটি ছড়িয়ে পড়ে, ফলে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানোর একাধিক পথ তৈরি হয়।
‘জা ভু’তে পেন্টাটনিক সুরের সঙ্গে ডিপ হাউস—নিয়মিত ছন্দভিত্তিক ইলেকট্রনিক নাচের সংগীতের একটি ধারা—এবং নাটকীয় চলচ্চিত্র বা গেমের সংগীতের উপাদান মিশেছে। এর কথায় বিচ্ছেদের পর এক নারীর কষ্টের বর্ণনা রয়েছে। দুঃখের কথা আর নাচের উপযোগী সংগীতায়োজনের এই বৈপরীত্য তাং জুই তানের অন্য গানেও দেখা যায়।
চীনা বিনোদনশিল্পী ঝৌ জিয়েছিয়ং ‘জা ভু’র নাচের ট্রেন্ডে যোগ দেন। ফেং তিমো ও ঝাং হানইয়ুনসহ অন্য শিল্পীরাও তাং জুই তানের গান ঘিরে সংশ্লিষ্ট কভার ও ট্রেন্ডে অংশ নেন। এতে এমন মানুষের ফিডেও গানগুলো পৌঁছে যায়, যাঁরা হয়তো কোনো ভিয়েতনামি শিল্পীকে খুঁজতেন না।
ব্যক্তিগত আবেগ ও ব্যাপক জনপ্রিয়তার সংযোগ ‘বেন ত্রেন তাং লাও’
২০২২ সালে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, প্রকাশের এক মাসের মধ্যে ‘বেন ত্রেন তাং লাও’ টিকটকে ১৪ কোটি ৭০ লাখের বেশি এবং ইউটিউবে ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি ভিউ পায়। ভিয়েতনামে এটি বিলবোর্ড ভিয়েতনামের ‘টপ ভিয়েতনামিজ সংস’ ও ‘হট ১০০’ চার্টেও শীর্ষে ছিল—বিগ আর্টস এন্টারটেইনমেন্টের নথিতে এই সাফল্যের কথা রয়েছে।
প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী টিকটকের ভিউ ইউটিউবের ভিউয়ের আট গুণেরও বেশি—১৪ কোটি ৭০ লাখের তুলনায় ১ কোটি ৭০ লাখ। এই তুলনা দেখায়, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একটি গানের উপস্থিতি কত ভিন্নভাবে গড়ে উঠতে পারে: একটিতে ছোট সংগীতাংশ বারবার ব্যবহার হয়, অন্যটিতে থাকে পুরো রেকর্ডিং ও ভিডিও।
তাং জুই তান বলেছেন, কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের সময় ২০২১ সালে তিনি গানটি লেখেন। তখন একাকিত্ব ও বিষণ্নতা তাঁর অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করছিল। ওই সময় পার করে একই রকম অনুভূতির মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের কাছে পৌঁছানোর উপায় হিসেবে তিনি গানটি তৈরি করেন।
গানটিতে পপের সঙ্গে ডিপ হাউস মেশানো হয়েছে। এতে প্রতিকূল পরিস্থিতির কাছে হার না মেনে তা মোকাবিলা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবেগঘন বার্তাটি ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে, কেন গানটি নাচের পাশাপাশি ভাবনামগ্ন ভিডিওতেও ব্যবহার করা যায়। নির্মাতারা একই রেকর্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশ নিয়ে ছবির মাধ্যমে ভিন্ন অর্থ দিতে পারেন।
‘কাত দোই নোই সৌ’ আরও শ্রোতার কাছে পৌঁছায়
২০২৩ সালে ‘কাত দোই নোই সৌ’ও পরিমাপযোগ্য সাফল্য এনে দেয়। প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে এটি ইউটিউব ভিয়েতনামের ট্রেন্ডিং তালিকা এবং টিকটক ও জিং এমপিথ্রি-র র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ওঠে। ১৪ অক্টোবরের মধ্যে ১১ দিনে ইউটিউবে গানটির ভিউ ১ কোটিতে পৌঁছায়।
তখন বিশ্বব্যাপী ট্রেন্ডিং ইউটিউব ভিডিওর মধ্যে এর অবস্থান ছিল ৭৬ নম্বরে। অস্ট্রেলিয়ায় এটি শীর্ষ ১০-এ এবং তাইওয়ানে ২৬ নম্বরে ছিল। এসব অবস্থান চীনের বাইরেও গানটির বিস্তারের কথা বলে, যা কয়েকটি বাজারে শ্রোতাগোষ্ঠী গড়ে ওঠার ইঙ্গিত দেয়।
চীনা ভাষার সংস্করণ ও কভার গানটিকে আরও ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ দেয়। অভিনেতা লি ছেন, ঝেং কাই ও শা ই-ও ঝেজিয়াং টেলিভিশনের নববর্ষের সংগীত অনুষ্ঠানে গানটি পরিবেশন করেন, ফলে অনলাইন পরিচিতির পাশাপাশি সম্প্রচারমাধ্যমেও গানটি পৌঁছায়।
বিগ আর্টস এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান নির্বাহী ও প্রতিনিধি কুয়ং চু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, থাইল্যান্ড, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে শ্রোতারা গানগুলো শুনছেন। তাঁর মতে, ভিয়েতনামের শ্রোতা ও অন্য দেশের শ্রোতাদের মধ্যে ব্যবধান কমছে, যদিও তিনি কোনো শতকরা হিসাব দেননি।
কুয়ং চু আরও বলেছেন, তাং জুই তান টেনসেন্ট মিউজিক এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপ ও বাইটড্যান্সের কাছ থেকে যৌথ কাজের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। সংগীত ও ডিজিটাল বিনোদন খাতে সক্রিয় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহের ইঙ্গিত দেয় এসব প্রস্তাব; এর পর কোনো চুক্তি হয়েছে কি না, সে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
রেকর্ডিংয়ের পেছনের কর্মজীবন
নগুয়েন তাং জুই তানের জন্ম ১৯৯৫ সালে ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ কুয়াং ত্রিতে। তিনি হুয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদে প্রাচ্যবিদ্যা পড়েছেন এবং সংগীতকে পেশা হিসেবে নেওয়ার আগে ট্যুর গাইডের কাজ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় হুয়ে শহরের শিল্পকলা ক্লাব ও বিভিন্ন গোষ্ঠীতে অংশ নেন।
বিগ আর্টস এন্টারটেইনমেন্টের হিসাবে, ২০১৮ সালের শুরুর দিকে গায়ক এনআইটির সঙ্গে ‘হেত জুয়েন’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে তাঁর পেশাগত জীবন শুরু হয়। ২০২০ সালের শুরুর দিকে আসে ‘তিন দাউ’, যা তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেয়। তাং জুই তান বলেছেন, সে সময় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটের কারণে গানটির সাড়া পাওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।
তাঁর কর্মজীবনে গান গাওয়া ও গান লেখা—দুটিই রয়েছে। তবে ‘নগায় থো’র সুরকার ফং ম্যাক। বিগ আর্টস এন্টারটেইনমেন্টের তালিকায় হো নগক হা-র ‘কো দন ত্রেন সোফা’ এবং দুক ফুকের ‘মুয়া হে তুয়েত ভয়’-এ তাং জুই তানের গান লেখার সহযোগিতার কথাও উল্লেখ আছে।
সংগীতশিল্পে তাঁর অবস্থানের জন্য এই বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ। সফল কোনো রেকর্ডিং তাঁর কণ্ঠের সঙ্গে শ্রোতাদের পরিচয় করাতে পারে, আর অন্য কেউ তাঁর লেখা গান গাইলে তা তাঁর সৃষ্টিকে নতুন শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেয়। চীনা দ্বৈত পরিবেশনা ও পরবর্তী কভারগুলো এই ধারায় আরও শিল্পীকে যুক্ত করেছে।
একাধিক পথে এসেছে বাণিজ্যিক সাফল্য
লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহার, স্ট্রিমিং এবং রেকর্ডিং ও সৃষ্টিকর্মের অন্যান্য ব্যবহারের মাধ্যমে তাং জুই তানের সংগীত থেকে আয় হতে পারে। সেই আয় কারা পাবেন, তা নির্ভর করে প্রতিটি অধিকারের মালিকানা কার হাতে এবং চুক্তিতে কী বলা আছে তার ওপর।
‘বেন ত্রেন তাং লাও’ থেকে রয়্যালটি বাবদ কয়েক বিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং আয় হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। তবে সেই অনুমানের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট অঙ্ক বা হিসাবের বিবরণ দেওয়া হয়নি। ফলে চীনে সামগ্রিক সাফল্যের আর্থিক মূল্য প্রকাশিত ভিউয়ের হিসাবের তুলনায় কম স্বচ্ছ।
সবচেয়ে স্পষ্ট সাফল্য হলো বিভিন্ন মাধ্যমে ও শ্রোতাগোষ্ঠীর মধ্যে গানগুলোর বারবার ছড়িয়ে পড়া। ‘নগায় থো’ শ্রোতাদের কাছে পৌঁছেছে চীনা দ্বৈত পরিবেশনার মাধ্যমে, ‘জা ভু’ সহজে বারবার ব্যবহারযোগ্য ভিডিওর অংশ দিয়ে, আর ‘কাত দোই নোই সৌ’ চার্ট, সংস্করণ ও পরিবেশনার মাধ্যমে। ২০২৪ সালে লিউ ইয়ানের পরিবেশনা দেখিয়েছে, ২০২০ সালে প্রকাশিত একটি গানও কয়েক বছর পর আবার জনমনোযোগ পেতে পারে।
ভিয়েতনামি সংগীতের ক্ষেত্রে এটি একবার বিদেশে প্রকাশের চেয়ে কয়েকটি ধাপে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক বিস্তারের বাস্তব উদাহরণ। চেনা যায় এমন সুর মনোযোগ কেড়ে নেয়, স্থানীয় শিল্পীরা সেটিকে নতুনভাবে পরিবেশন করেন, আর শ্রোতারা এমন রেকর্ডিং খুঁজে পান যা আবার চালানো যায়।
মূল বিষয়গুলো
- বিগ আর্টস এন্টারটেইনমেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, হুয়াং লিংয়ের সঙ্গে পরিবেশিত ‘নগায় থো’র চীনা সংস্করণ দোয়িনে ১০ বিলিয়নের বেশি ভিউ পেয়েছে।
- ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত মূল গানটি লিখেছেন ফং ম্যাক; গানটি গেয়েছেন তাং জুই তান।
- চীনা সংস্করণ ‘থান’ কিউকিউ মিউজিকে স্থান পায় এবং ২০২৪ সালের এপ্রিলে লিউ ইয়ানের পরিবেশনার মাধ্যমে টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে পৌঁছায়।
- শিল্পীর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, ২০২১ সালের আগস্টে প্রকাশের এক মাসের মধ্যে ‘জা ভু’ দোয়িনে প্রায় ২ বিলিয়ন ভিউ পায়।
- ‘বেন ত্রেন তাং লাও’ ও ‘কাত দোই নোই সৌ’ ভিডিও ট্রেন্ড, চার্ট এবং আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের মাধ্যমে তাং জুই তানের পরিচিতি বাড়িয়েছে।
- প্রকাশিত রয়্যালটির অনুমানগুলোর সঙ্গে সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই; অন্যদিকে ডিজিটাল পরিসংখ্যান শ্রোতাদের বিভিন্ন ধরনের কার্যকলাপ মাপে।






