কমিশন শূন্য, ৭৮,৯০৯ অভিযোগের নিষ্পত্তি থমকে নেপালের বিচারপ্রক্রিয়া

পড়তে 9 মিনিট
Nepal's Justice Process Stalls as Vacant Commissions Face 78,909 Complaints

হাজারো অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার কেউ নেই

নেপালের সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন দেশটির সশস্ত্র সংঘাতের সময় সংঘটিত নির্যাতন-নিপীড়ন নিয়ে ৭৮,৯০৯টি অভিযোগ পেয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচারের দায়িত্বে থাকা দুটি সংস্থায় পদ শূন্য থাকায় তাদের কাজ থমকে আছে। সংসদীয় পর্যালোচনায় রাজনৈতিক বিভাজন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা এবং কর্মীদের দুর্বল প্রেরণাকে ২১ নভেম্বর ২০০৬ সালের শান্তিচুক্তির প্রায় দুই দশক পরও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সূচিপত্র
  1. হাজারো অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার কেউ নেই
  2. সংসদীয় পর্যালোচনায় যা উঠে এসেছে
  3. শান্তির প্রতিশ্রুতি কীভাবে দীর্ঘ অপেক্ষায় পরিণত হলো
  4. অভিযোগের সংখ্যা প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেড়েছে
  5. নিখোঁজদের পরিবার পৃথক জটের মুখে
  6. আইনি বিরোধ কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল
  7. ভুক্তভোগীরা আস্থাভাজন নিয়োগ চান
  8. নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি এখন যাচাইয়ের মুখে
  9. প্রতিকারের জন্য অর্থ ও আপিলের সুযোগ দরকার
  10. মূল বিষয়গুলো

সর্বশেষ অচলাবস্থার সূত্রপাত ৫ মে ২০২৬-এ সরকারের জারি করা এক অধ্যাদেশে, যার মাধ্যমে সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন এবং জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের তদন্ত কমিশনের কর্মকর্তাসহ সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের অপসারণ করা হয়। পদগুলো এখনো পূরণ করা হয়নি। অপসারিত কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ১৪ মে ২০২৫-এ, তাদের অপসারণের এক বছরেরও কম সময় আগে।

জাতীয় পরিষদের আইন প্রণয়ন ব্যবস্থাপনা কমিটির অধীনে ড. অঞ্জন শাক্যের নেতৃত্বে একটি উপকমিটি ছয়টি আইন বাস্তবায়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করে। ২০ জুলাই গঠিত উপকমিটি ৩০ অক্টোবর মূল কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। নিখোঁজ ব্যক্তিদের তদন্ত, সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন আইন, ২০১৪-এর পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আইনি কাঠামো বিস্তৃত হলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সহায়তা অপর্যাপ্ত।

নিখোঁজ স্বজনের খোঁজ, যৌন সহিংসতার স্বীকৃতি বা ক্ষতিপূরণ চাইছেন এমন পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিক পরিণতি হলো আরও অপেক্ষা। সংসদীয় উপকমিটির সদস্য খাম্ম খাতি বলেন, প্রথমেই কমিশনগুলোতে পদ পূরণ করতে হবে।

কমিশনগুলোতে এখন কোনো পদাধিকারী নেই। আগে সেখানেই কাজ শুরু করতে হবে," তিনি বলেন। "কমিশনগুলো গঠন করতে হবে, আর তারা যে অভিযোগ পেয়েছে সেগুলো পরীক্ষা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংসদীয় পর্যালোচনায় যা উঠে এসেছে

উপকমিটি বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলছে এমন পাঁচটি বিষয় চিহ্নিত করেছে: অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচারকে মূলত প্রচলিত ফৌজদারি বিচার হিসেবে দেখা; রাজনৈতিক উদ্যোগ ও সমঝোতার অভাব; ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত সুপারিশের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের আপিলের সুযোগ; কর্মীদের দুর্বল প্রেরণা; এবং কমিশনগুলোর আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের সীমাবদ্ধতা।

বিজ্ঞাপন

সংঘাত বা ব্যাপক নির্যাতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচারের আওতায় একাধিক কাজ থাকে। নেপালে এর মধ্যে রয়েছে কী ঘটেছিল তা উদ্ঘাটন, দায় নির্ধারণে তদন্ত, ন্যায়বিচার ও প্রতিকার নিশ্চিত করা এবং পুনর্মিলনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। প্রতিকার বলতে ক্ষতিপূরণসহ ভুক্তভোগীদের ক্ষতি মোকাবিলায় নেওয়া বিভিন্ন ব্যবস্থা বোঝায়।

পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সংবেদনশীল মামলা কার্যকরভাবে তদন্ত করতে কমিশনগুলোর স্বাধীনতা, সম্পদ ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রয়োজন। আইনটি বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য প্রণীত ১৭টি বিধিমালা, নির্দেশিকা ও কার্যপ্রণালির কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যালোচনায় যে ঘাটতির কথা বলা হয়েছে তা হলো, নিয়ম থাকলেও সেগুলো বাস্তবায়নের সক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান নেই।

খাতি বলেন, আইনমন্ত্রী অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচারসংক্রান্ত বিধান বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু সরকারি পদক্ষেপ সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মেলেনি। তিনি ন্যায়বিচার, সত্য, প্রতিকার ও স্থায়ী পুনর্মিলনকে এ প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

আইন ও কার্যপ্রণালি তৈরির পাশাপাশি এখন রাজনৈতিক ঐকমত্য নিশ্চিত করা, কমিশনগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি," তিনি বলেন। "কিন্তু আবারও মনে হচ্ছে, সরকার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়নি।

শান্তির প্রতিশ্রুতি কীভাবে দীর্ঘ অপেক্ষায় পরিণত হলো

নেপালের সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬-এ। সরকার ও নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) ২১ নভেম্বর ২০০৬-এ সর্বাত্মক শান্তিচুক্তি সই করলে আনুষ্ঠানিকভাবে এর অবসান ঘটে। সংসদীয় পর্যালোচনায় ছয় মাসের মধ্যে সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন গঠনের অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শান্তিচুক্তির আট বছরেরও বেশি সময় পর, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫-এ অবশেষে দুটি কমিশন গঠন করা হয়। রাজনৈতিক বিরোধ ও আইনি অনিশ্চয়তায় তাদের প্রতিষ্ঠা বিলম্বিত হয়। পরবর্তী নিয়োগগুলোও ভুক্তভোগীদের কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারেনি।

  • ২১ নভেম্বর ২০০৬: সরকার ও মাওবাদী বিদ্রোহীরা সর্বাত্মক শান্তিচুক্তি সই করে।
  • ২০১৪: অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচার আইন দুটি কমিশনের আইনি ভিত্তি তৈরি করে।
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫: দুটি কমিশনই গঠিত হয়।
  • ২০২৪: আইনের সংশোধনীতে অতিরিক্ত অভিযোগ জমা দেওয়ার পথ খোলে।
  • ১৪ মে ২০২৫: কমিশনের কর্মকর্তাদের তৃতীয় দফায় নিয়োগ দেওয়া হয়।
  • ৫ মে ২০২৬: অধ্যাদেশে ওই কর্মকর্তাদের অপসারণ করা হয়; শূন্য পদগুলো এখনো পূরণ হয়নি।

শান্তিপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অস্ত্র ব্যবস্থাপনা এবং মাওবাদী যোদ্ধাদের নেপালি সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির কাজ এগিয়েছে। তবে সংঘাতের সময় গুরুতর আহত ব্যক্তি ও অব্যাহতি পাওয়া কিছু যোদ্ধাসহ অন্যদের প্রয়োজনও অপূর্ণ রয়ে গেছে। বেসামরিক ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার এখনো সবচেয়ে বড় অসমাপ্ত অঙ্গীকারগুলোর একটি।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের সংখ্যা প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেড়েছে

সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন প্রথমে ৬৩,৭১৮টি অভিযোগ নথিভুক্ত করেছিল। বর্তমানে মোট অভিযোগের সংখ্যা ৭৮,৯০৯, অর্থাৎ ১৫,১৯১টি বা প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালের সংশোধনীর পর অভিযোগ জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হলে আগে সুযোগ না পাওয়া ব্যক্তিরাও অভিযোগ জানানোর সুযোগ পান।

এই সময়সীমা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশোধনী নিয়ে আগের সংসদীয় বিতর্কের সময় মূল ৬৩,৭১৮টি অভিযোগের মধ্যে মাত্র ৩১৪টি ছিল ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাসংক্রান্ত, যা প্রায় ০.৫ শতাংশ। ভুক্তভোগীদের পক্ষে কাজ করা সংগঠনগুলো বলেছিল, প্রকৃতপক্ষে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি।

কমিশনের ২০২৪/২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ১৭৩টি অভিযোগের বিস্তারিত তদন্তের কথা নথিভুক্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জমা পড়া ৬৩,৭১৮টি অভিযোগের তুলনায় তা প্রায় ০.২৭ শতাংশ; অর্থাৎ প্রতি এক হাজার অভিযোগে তিনটিরও কম বিস্তারিত তদন্ত হয়েছে।

একই বার্ষিক প্রতিবেদনে ৬১৮ জনকে পরিচয়পত্র দেওয়া, ৫৩৮টি ক্ষতিপূরণ সুপারিশ এবং ২,২৬৮টি অভিযোগ নথি সংরক্ষণাগারে পাঠানোর কথা রয়েছে। এই সংখ্যাগুলো বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম তুলে ধরে। অন্যদিকে বিস্তারিত তদন্তের সংখ্যা দেখায়, নির্যাতনের অভিযোগ যাচাই কত ধীরগতিতে এগিয়েছে।

নিখোঁজদের পরিবার পৃথক জটের মুখে

জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের তদন্ত কমিশন ৩,২৮৮টি অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে। তাদের প্রতিবেদনে ৭৪৬টি অভিযোগের তদন্ত এবং ২৭৭টি সত্য ও পুনর্মিলন কমিশনে পাঠানোর কথা উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ১৩৭টি অভিযোগকে পুনরাবৃত্ত, ৩৩২টিকে নথি সংরক্ষণাগারে পাঠানো এবং ২,৫৪২টিকে বিস্তারিত তদন্তের জন্য বহাল রাখা হয়েছে।

জোরপূর্বক গুমের ক্ষেত্রে কাউকে আটক করা বা অন্যভাবে তার স্বাধীনতা হরণ করার পর তার পরিণতি বা অবস্থান গোপন করা হয়। পরিবারের কাছে স্বজন বেঁচে আছেন কি না, তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং কারা দায়ী, তা জানা ন্যায়বিচারের একটি কেন্দ্রীয় অংশ।

সংসদীয় পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, শক্তিশালী কমিশন নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং গুরুতর লঙ্ঘনের সত্য উদ্ঘাটনে সহায়তা করতে পারে। তাই এর সুপারিশগুলো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে পরিবারের চাওয়া সুনির্দিষ্ট উত্তরগুলোর যোগসূত্র স্থাপন করেছে।

কাজ শুরু করতে দুটি কমিশনকেই নিয়োগের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণের কোনো তারিখ জানানো হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আইনি বিরোধ কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল

২০১৪ সালের আইনটি ২০১৩ সালে জারি করা আগের একটি অধ্যাদেশের দুর্বলতা মোকাবিলার চেষ্টা করেছিল। রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংগ্রহশালায় থাকা আইনের একটি বিশ্লেষণে দুটি কমিশন, অতীতের নির্যাতনের বিচার করার জন্য বিশেষ আদালত এবং সত্য অনুসন্ধানে ঝুঁকিপূর্ণ সাক্ষীদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

মূল আইনের কয়েকটি উদ্বেগও ওই গবেষণাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সাধারণ ক্ষমা, সত্য অনুসন্ধান, সাধারণ ক্ষমা ও বিচারের মধ্যকার সম্পর্কের অস্পষ্টতা এবং ব্যক্তিগত অধিকারের অপর্যাপ্ত সুরক্ষা। সাধারণ ক্ষমা হলো এমন আইনি ব্যবস্থা, যা কাউকে বিচার বা শাস্তি থেকে অব্যাহতি দিতে পারে।

২০১৫ সালে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট সাধারণ ক্ষমাসংক্রান্ত প্রায় এক ডজন বিধান বাতিল করে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন সংশোধনের নির্দেশ দেয়। পরবর্তী সংসদীয় আলোচনায় জবাবদিহি নিয়ে সমঝোতা কতটা কঠিন, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

১৯ মে গঠিত এবং ২১ দিনের সময়সীমা পাওয়া প্রতিনিধি পরিষদের আগের এক উপকমিটি ২৭টি নিবন্ধিত সংশোধনীসহ একটি সংশোধনী বিল নিয়ে পাঁচ মাস আলোচনা করে। চারটি বিষয়ে মতভেদ রয়ে যায়: কোন হত্যাকাণ্ডকে গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে, ভুক্তভোগীরা পুনর্মিলনে রাজি না হলে কী হবে, সংঘাতে সরাসরি অংশ না নিয়েও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কীভাবে বিবেচনা করা হবে এবং সহযোগিতাকারী অপরাধীদের সাজা কতটা কমানো যাবে।

এসব আলোচনা ২০২৪ সালের সংশোধনীর আগে হয়েছিল। আইন পাস করতে কেন এত বছর লেগেছিল, তা বুঝতে এগুলো সহায়তা করে: আইনপ্রণেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছিল কার বিরুদ্ধে বিচার হতে পারে, প্রক্রিয়ায় কার ক্ষতির বিষয়টি বিবেচিত হবে এবং পুনর্মিলনের ওপর ভুক্তভোগীদের নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকবে।

ভুক্তভোগীরা আস্থাভাজন নিয়োগ চান

কনফ্লিক্ট ভিকটিমস কমন প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুমন অধিকারী অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচারে অভিজ্ঞ এবং ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জনে সক্ষম স্বাধীন কমিশনার নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় সমর্থকদের পদ দিতে এবং রাজনৈতিক দর-কষাকষি চালাতে কমিশনগুলো ব্যবহার করছে।

সুমন অধিকারীর বাবা, শিক্ষক মুক্তিনাথ অধিকারীকে ১৬ জানুয়ারি ২০০২-এ লামজুংয়ের দুরাডান্ডায় তাঁর স্কুল থেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। জবাবদিহির ব্যক্তিগত দাবি এবং সংঘাতের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের বৃহত্তর আন্দোলনের যোগসূত্র হয়ে উঠেছে তাঁর প্রচারাভিযান।

সুমন অধিকারী নতুন কর্মকর্তা নির্বাচনের জন্য সুপারিশ কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

"আমরা দ্রুত সমাধান চাই। সুপারিশ কমিটি গঠন করে কমিশনে কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে," তিনি বলেন।

সংসদীয় পর্যালোচনা ও ভুক্তভোগীদের দাবিতে সক্ষম প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি এক হয়ে গেছে। পদ পূরণ, তদন্তকারীদের যথেষ্ট সম্পদ দেওয়া এবং কমিশনগুলোর স্বাধীনতা রক্ষা—সবই পরস্পর-সংযুক্ত কাজ। তদন্ত ও সত্য অনুসন্ধানের সংবেদনশীল কাজে কর্মীদের প্রেরণার অভাবকেও পর্যালোচনায় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি এখন যাচাইয়ের মুখে

জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হওয়ার পর ২৭ মার্চ ২০২৬-এ সরকার গঠন করে। নির্বাচনী অঙ্গীকারে বাকি থাকা অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচারের কাজ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এতে আগের সরকারগুলোর কাছে বছরের পর বছর পদক্ষেপ চেয়ে আসা ভুক্তভোগীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়।

৪০টি ভুক্তভোগী সংগঠন ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে খোলা চিঠি দিয়ে সত্য, ন্যায়বিচার ও প্রতিকার চায়। সরকারের ১০০ দফার সংস্কার কর্মসূচি এবং জাতীয় অঙ্গীকারে তাদের উদ্বেগের উল্লেখ না থাকায় তারা সমালোচনা করে।

রাজনৈতিক ক্ষমতা ভাগাভাগির অভিযোগ তুলে কমিশনারদের নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করেছিলেন এমন কিছু ভুক্তভোগী মে মাসে কমিশনারদের অপসারণকে স্বাগত জানান। এখন তাদের দাবি, এমন একটি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া হোক, যাতে আস্থাভাজন কর্মকর্তা নিয়োগ পান এবং কমিশনগুলো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ৮ মে প্রকাশিত অগ্রাধিকারে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে পরামর্শ, প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ এবং সব ভুক্তভোগীর তথ্য নথিভুক্ত ও নিবন্ধনের আহ্বান জানায়। গুরুতর লঙ্ঘনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিঃশর্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আদালতের বাইরের পদ্ধতির প্রতিও সমর্থন জানানো হয়।

এসব অগ্রাধিকারে ভুক্তভোগীদের সহায়তা ও ফৌজদারি জবাবদিহিকে একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে। গুরুতর অপরাধের তদন্ত চলার সময়ও মানুষের স্বীকৃতি, সহায়তা এবং নিখোঁজ স্বজনের বিষয়ে উত্তর পাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিকারের জন্য অর্থ ও আপিলের সুযোগ দরকার

সংসদীয় উপকমিটি বলেছে, নেপাল সরকার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অন্যান্য উৎসের অর্থায়নে একটি পৃথক অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচার ট্রাস্ট বা তহবিল গঠন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও প্রতিকারে এ তহবিল কাজে লাগাতে ধারাবাহিক রাজনৈতিক অঙ্গীকারের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

পর্যালোচনায় দাতা দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং স্থানীয়, প্রাদেশিক ও ফেডারেল সরকারের সহায়তা নেওয়ারও আহ্বান রয়েছে। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ। সংঘাতে যাদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে দৈনন্দিন প্রয়োজনের যোগসূত্র তৈরি করবে।

গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিকার বিষয়ে কমিশনের সুপারিশে অসন্তুষ্ট হলে ভুক্তভোগীরা আপিল করতে পারেন। আগের সংশোধনী আলোচনায় বিশেষ আদালতে প্রতিকারসংক্রান্ত আপিল এবং ওই আদালতের রায় সুপ্রিম কোর্টে পর্যালোচনার প্রস্তাবও ছিল। ভুক্তভোগীরা মনে করলে যে সুপারিশে তাদের ক্ষতির যথাযথ প্রতিফলন নেই, তখন প্রতিকার পাওয়ার পথ সহজলভ্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

নেপালের তাৎক্ষণিক করণীয়গুলো সুনির্দিষ্ট: কমিশনার নিয়োগ, প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব দেওয়া, কর্মীদের সহায়তা এবং অভিযোগ পরীক্ষা শুরু করা। এসব পদক্ষেপের দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতা ও সরকারের ওপর দিয়েছে সংসদীয় পর্যালোচনা। আর আইনি প্রতিশ্রুতি বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মূল বিষয়গুলো

  • সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন ৭৮,৯০৯টি অভিযোগ পেয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে পাওয়া অভিযোগের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।
  • ৫ মে ২০২৬-এর অধ্যাদেশে কর্মকর্তাদের অপসারণের পর অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচারের দুটি কমিশনেই পদ শূন্য রয়েছে।
  • রাজনৈতিক মতবিরোধ, সীমিত স্বায়ত্তশাসন ও কর্মীদের দুর্বল প্রেরণাকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংসদীয় পর্যালোচনা।
  • সত্য ও পুনর্মিলন কমিশনের ২০২৪/২৫ সালের প্রতিবেদনে ১৭৩টি বিস্তারিত তদন্তের কথা রয়েছে।
  • ভুক্তভোগী সংগঠনগুলো স্বাধীন নিয়োগ, অংশগ্রহণ, সত্য, জবাবদিহি ও প্রতিকার চায়।
  • কমিশনের শূন্য পদগুলো কবে পূরণ করা হবে, তা জানানো হয়নি।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে