সর্বসম্মত ভোটে কোশি নিয়ে ফের আলোচনার পথ খুলল
নেপালের কোশি প্রাদেশিক পরিষদ নতুন কার্যপ্রণালি বিধিমালা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে। এতে পরিষদের মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশ প্রদেশের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন। নবম অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে শনিবার বিরাটনগরে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত পরিষদের কার্যপ্রণালি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মিটিয়েছে, তবে প্রদেশের নাম কী হবে—সেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর প্রশ্নের মীমাংসা করেনি।
সূচিপত্র
- সর্বসম্মত ভোটে কোশি নিয়ে ফের আলোচনার পথ খুলল
- বিধি ২১২ কীভাবে প্রস্তাবটি পরিষদে তোলে
- নাম নিয়ে বিরোধে বৃহত্তর বিধিমালা আটকে ছিল
- প্রথম বিধিমালা থেকে শনিবারের সমঝোতা
- প্রক্রিয়ার পক্ষে দলগুলোর সমর্থন নাম চূড়ান্ত করে না
- পরিষদের বাইরেও পরিচয়ের দাবি অব্যাহত
- নারী ও সাবেক সদস্যদের জন্য নতুন ফোরাম
- ভার্চ্যুয়াল বৈঠক ও অমীমাংসিত সিদ্ধান্ত
- মূল বিষয়গুলো
মূল বিধান ২১২-তে নেপালের সংবিধানের ২৯৫(২) অনুচ্ছেদের অধীনে ইতোমধ্যে গৃহীত নাম সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিষদের মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশের সমর্থন থাকলে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় যেতে পারে, তবে নাম পরিবর্তনের জন্য এখনও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়ার অনুমতি মানেই নতুন নাম অনুমোদন নয়।
বিধিমালায় নারী সদস্যদের জন্য ব্যবস্থা, সাবেক সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের বিধানও রয়েছে। বিধিমালা গৃহীত হওয়ার আগ পর্যন্ত ২০২২ সালের নভেম্বরে নির্বাচিত পরিষদ প্রথম মেয়াদে প্রণীত বিধি অনুসারেই চলেছে।
খসড়া প্রণয়ন কমিটির সভাপতি রেবতী রমন ভান্ডারী কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, যার নাম ছিল প্রাদেশিক পরিষদ বিধিমালা খসড়া প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদন, ২০৮৩ বঙ্গাব্দ। সদস্যরা এর মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেন। এতে সিপিএন (ইউএমএল)-এর প্রধান হুইপ রমেশ কুমার বাসনেত এবং নেপালি কংগ্রেসের প্রধান হুইপ গোপাল তামাং সমর্থন জানান।
প্রতিবেদনগুলোতে তারিখের উল্লেখে পার্থক্য রয়েছে: প্রাথমিক বিবরণে আশ্বিন ২৪, আর পরবর্তী বিবরণগুলোতে আশ্বিন ২৫ বলা হয়েছে। তবে সবগুলোতেই বলা হয়েছে, নবম অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে শনিবার ভোটটি অনুষ্ঠিত হয়। বিধিমালা প্রণয়নের কাজ প্রায় চার বছর ধরে চলেছে বলে বিবরণগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে; সমাজকল্যাণমন্ত্রী গীতা তিমসিনাও চার বছরের কাজের কথা বলেছেন।
বিধি ২১২ কীভাবে প্রস্তাবটি পরিষদে তোলে
নতুন পদ্ধতির শুরুতে পরিষদের মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। এই সদস্যরা প্রদেশের নাম পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রস্তাবের নোটিশ পরিষদ সচিবের কাছে জমা দিতে পারবেন। এখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যাটি পুরো পরিষদের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত, নির্দিষ্ট কোনো বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যার ভিত্তিতে নয়।
পরবর্তী ধাপে সচিব প্রস্তাবটি স্পিকারের কাছে উপস্থাপন করবেন। এরপর পরিষদের কার্যসূচি নির্ধারণে যুক্ত বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে স্পিকার আলোচনার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করবেন।
এই বিধানগুলোতে প্রস্তাব জমা দেওয়ার পথ এবং বিতর্কের সময় নির্ধারণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ—দুটিই চিহ্নিত করা হয়েছে। ভিন্ন নামের দাবিতে থাকা সদস্যদের জন্য এতে নির্দিষ্ট সংসদীয় প্রক্রিয়া তৈরি হয়েছে; ফলে দাবিটি শুধু রাজনৈতিক দর-কষাকষি বা কক্ষের বাইরে বিক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
সংখ্যার এই পার্থক্যই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে। প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য এক-তৃতীয়াংশ যথেষ্ট; চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রয়োজন দুই-তৃতীয়াংশ। দ্বিতীয় সংখ্যাটি প্রথমটির দ্বিগুণ। অর্থাৎ প্রস্তাব জমা দেওয়ার মতো যথেষ্ট সদস্য থাকলেও নাম পরিবর্তনে সমর্থন পেতে আরও বিস্তৃত সমর্থন প্রয়োজন হবে।
তাই কার্যপ্রণালি বিধিমালার সর্বসম্মত ভোটকে কোশির নাম পরিবর্তনের পক্ষে সর্বসম্মত সমর্থন হিসেবে দেখা উচিত নয়। সদস্যরা এমন একটি প্রক্রিয়ায় একমত হয়েছেন, যার মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করা যাবে। ওই ভোটে কোনো বিকল্প নাম অনুমোদিত হয়নি, আর নাম সংশোধনের কোনো প্রস্তাব জমা পড়েছে বা এ নিয়ে আলোচনার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে—এমন তথ্যও প্রতিবেদনগুলোতে নেই।
নাম নিয়ে বিরোধে বৃহত্তর বিধিমালা আটকে ছিল
নতুন বিধিমালা গ্রহণে পরিষদের জটিলতা প্রদেশের নাম পুনর্বিবেচনার সুযোগ রাখা হবে কি না—তা নিয়ে মতবিরোধের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। ইউএমএল বলে আসছিল, নামকরণের বিষয়টি মীমাংসিত এবং বিধিমালায় নাম পরিবর্তনের কোনো বিধান প্রয়োজন নেই। কংগ্রেস ও নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা চেয়েছিলেন, নাম পরিবর্তন নিয়ে পরিষদে আলোচনার পথ থাকুক।
২০৭৯ বঙ্গাব্দের মাঘ ২৩ তারিখে সদস্য লীলাবল্লভ অধিকারীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিটি খসড়া তৈরি করলেও সংশোধনী নিয়ে দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়নি। পরে ভান্ডারীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কর্মদল লেখাটি সংশোধন করে এবং বিরোধপূর্ণ বিধানগুলোতে সমঝোতার পথ তৈরি করে।
ভান্ডারীর সঙ্গে কমিটিতে থাকা অন্য চার সদস্য হলেন খগেশ্বরী পৌডেল, নারায়ণ বাহাদুর মাগার, নিমসারি রাজবংশী ও নির্মলা লিম্বু। ভান্ডারী বলেন, চূড়ান্ত বিধিমালায় দলগুলোর অভিন্ন সমঝোতার প্রতিফলন ঘটেছে এবং পরিষদের কার্যক্রমের অস্পষ্টতা দূর করাই এর লক্ষ্য।
নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির আগের একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ২৫ শতাংশ সদস্য চাইলে নামকরণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যাবে। গৃহীত বিধানে নাম সংশোধনের প্রস্তাব জমা দিতে এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩৩.৩ শতাংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। আগের প্রস্তাবিত সীমার চেয়ে এটি প্রায় ৮.৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি, যদিও দুটি প্রস্তাবকে ভিন্ন প্রক্রিয়াগত ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছিল।
ভোটের আগে স্পিকার অম্বর বাহাদুর বিস্তা ব্যাখ্যা করেছিলেন, বিরোধী দলগুলোর আপত্তি উপেক্ষা করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিধিমালা এগিয়ে নেওয়ার বদলে সর্বসম্মতিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। সরকার গঠনের জোটে পরিবর্তনের পর দলগুলোর অবস্থান বদলে যাওয়াকে অধিকারী কিছু জটিলতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। চূড়ান্ত ভোটে বৃহত্তর নথিটি আটকে রাখা কার্যপ্রণালিগত মতবিরোধের অবসান হয়।
প্রথম বিধিমালা থেকে শনিবারের সমঝোতা
নামকরণের প্রশ্ন এবং পরিষদের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া কার্যপ্রণালি বিধিমালা বদলের উদ্যোগ পাশাপাশি এগিয়েছে। প্রথম পরিষদ প্রদেশের নাম চূড়ান্ত করতে পারেনি, আর দ্বিতীয় পরিষদ কোশি নাম গ্রহণের পর সেই সিদ্ধান্ত কীভাবে পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে—তা নিয়ে একমত হতে পারেনি।
প্রধান ঘটনাপ্রবাহ:
- ২০৭৪ বঙ্গাব্দ: প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ কার্যপ্রণালি বিধিমালা গ্রহণ করে, তবে মেয়াদকালে প্রদেশের নাম চূড়ান্ত করেনি।
- ২০৭৫ বঙ্গাব্দের চৈত্র ১০: মূল কার্যপ্রণালি বিধিমালা সংশোধন করা হয়।
- ২০ নভেম্বর, ২০২২: নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় প্রাদেশিক পরিষদ গঠিত হয়।
- ২০৭৯ বঙ্গাব্দের মাঘ ২৩: লীলাবল্লভ অধিকারীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের খসড়া প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- ১ মার্চ, ২০২৩, বা ২০৭৯ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন ১৭: দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সাবেক প্রদেশ ১-এর নাম কোশি রাখে পরিষদ।
- ২০৮১ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন ১৯: বিধিমালায় সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য দলের নেতাদের, হুইপদের এবং স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর অংশগ্রহণে বৈঠক আহ্বানের পরামর্শ দেওয়া হয়।
- নবম অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে শনিবার: নাম সংশোধনের পদ্ধতিসহ নতুন বিধিমালা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে পরিষদ।
এই ধারাবাহিকতা দেখায়, নিয়মিত প্রশাসনিক কাজের বাইরেও নতুন বিধিমালা কেন গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয় পরিষদ, এরপর সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ তাদের নিজস্ব কার্যপ্রণালিতে স্পষ্টভাবে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে বছরের পর বছর আলোচনা চলে।
প্রক্রিয়ার পক্ষে দলগুলোর সমর্থন নাম চূড়ান্ত করে না
বিধিমালাটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস করাতে ইউএমএল ও কংগ্রেসের প্রধান হুইপদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাদের সমর্থনে ক্ষমতাসীন দল ও প্রধান বিরোধী দল এমন বিধিমালার পক্ষে এক হয়, যা মতবিরোধের কারণে আগে আটকে ছিল।
ইউএমএলের প্রধান হুইপ রমেশ কুমার বাসনেত সদস্যদের প্রথম পরিষদের বিধিমালার ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মেয়াদে প্রণীত বিধিমালা অনুমোদনের আহ্বান জানান। তিনি সর্বসম্মতভাবে তা গ্রহণের পক্ষে মত দেন:
"বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বিধিমালা প্রাসঙ্গিক। প্রথম পরিষদের তৈরি বিধিমালা দিয়ে নয়, আমাদের নিজেদের তৈরি বিধিমালা দিয়ে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা করি। এটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হোক," তিনি বলেন।
কংগ্রেসের প্রধান হুইপ গোপাল তামাং স্মরণ করিয়ে দেন, পরিচয়-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং পরিষদে অন্তত নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত—এই দাবি ঘিরেই বিলম্ব হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যে নতুন পদ্ধতিটি সমঝোতার কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে উঠে আসে, সামান্য কোনো খসড়াগত পরিবর্তন হিসেবে নয়।
নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির সংসদীয় নেতা ইন্দ্র বাহাদুর আংবো নাম পরিবর্তনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে বর্ণনা করেন। পর্যটন, বন ও পরিবেশমন্ত্রী খিনু লাংওয়াও বলেন, আরও উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশোধন বা নাম পরিবর্তন সম্ভব হবে—এমন সুযোগ সংশোধিত বিধিমালায় রয়েছে।
এই প্রতিক্রিয়াগুলো একই ভোটের ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে। কোশি নাম পুনর্বিবেচনার পক্ষের সদস্যরা এতে নিজেদের দাবি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেখছেন। ইউএমএলের সমর্থন পরিষদের কার্যপ্রণালিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করেছে, তবে তা থেকে প্রমাণ হয় না যে দলটি ভিন্ন কোনো নামের পক্ষে ভোট দেবে।
একই শনিবার সরকারি কাজে ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে আলাদা একটি বিল পাস হওয়াকে মুখ্যমন্ত্রী হিকমত কুমার কার্কি প্রকাশ্যে স্বাগত জানান। তবে নাম সংশোধনের বিধান নিয়ে তাঁর অনুরূপ কোনো প্রকাশ্য বক্তব্যের কথা প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়নি। এ অনুপস্থিতি থেকে ভবিষ্যতের কোনো প্রস্তাব নিয়ে তাঁর অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না।
পরিষদের বাইরেও পরিচয়ের দাবি অব্যাহত
২০২৩ সালের মার্চে নামকরণের সিদ্ধান্তের পর অঞ্চলটির জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রতিফলিত হয়—এমন নামের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন বিরোধিতা শুরু করে। সংগঠনগুলো একটি যৌথ মোর্চা গঠন করে প্রদেশজুড়ে ও কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভ করে।
তৎকালীন মাওবাদী কেন্দ্র, যাকে পরবর্তী বিবরণগুলোতে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, কোশি নামকরণের সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছিল। পরে দলটি ওই অবস্থানকে ভুল বলে স্বীকার করে এবং পুনর্বিবেচনার পক্ষে থাকার অঙ্গীকার করে। পরিষদের ভোটের পরও দলীয় কর্মসূচিতে তারা প্রদেশ ১ নামটি ব্যবহার করতে থাকে, ফলে তাদের আপত্তি দৃশ্যমান থাকে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, জেন-জি আন্দোলনের পর বিক্ষোভ অভিযান দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে কোশি নামের বিরোধিতা অব্যাহত রয়েছে। বিধিমালা গ্রহণের আগের শুক্রবার কিরাত রাই ইয়ায়োক্কা সাধারণ সম্মেলনের উদ্বোধন উপলক্ষে বিরাটনগরে আয়োজিত শোভাযাত্রায় বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদ করেন।
নতুন বিধিমালা এই চলমান দাবিকে সম্ভাব্য আইনসভাগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছে। এতে বিক্ষোভকারী সংগঠনগুলো পরিষদে যথেষ্ট সমর্থন পাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই, কিংবা সদস্যরা বিকল্প হিসেবে কোন নাম প্রস্তাব করতে পারেন, তাও নির্ধারিত হয়নি।
বাস্তব পরিবর্তনটি আরও সীমিত ও সুনির্দিষ্ট: বিধানপ্রণেতারা এখন নাম সংশোধনের প্রস্তাব জমা দেওয়ার এবং আলোচনার জন্য তা নির্ধারণ করানোর স্পষ্ট পথ পেয়েছেন। চিহ্নিত প্রক্রিয়ায় বিরোধটি পরিষদের আলোচনায় উঠতে পারে, তবে নাম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।
নারী ও সাবেক সদস্যদের জন্য নতুন ফোরাম
গৃহীত বিধিমালার পরিধি নামকরণের বাইরেও বিস্তৃত। এতে প্রাদেশিক পরিষদের সব নারী সদস্যকে নিয়ে একটি নারী সমন্বয় কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। নারী সদস্যদের প্রভাবিত করা বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং তাঁদের সক্ষমতা বিকাশে সহায়তা করা এর উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে।
উপস্পিকার নারী হলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিটির সমন্বয়ক হবেন। নারী উপস্পিকার না থাকলে কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে একজন সমন্বয়ক নির্বাচন করবেন। এতে ফোরামটির সদস্যপদ ও নেতৃত্বের কাঠামো নির্দিষ্ট হয়েছে।
বিধিমালায় সাবেক সদস্যদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ কাজে লাগাতে একটি সাবেক সদস্য সমন্বয় কমিটি গঠনের সুযোগও রয়েছে। সাবেক সদস্যরা নিজেরাই তাঁদের সমন্বয়ক নির্বাচন করবেন। ভান্ডারী এই ব্যবস্থাকে পরিষদের সঙ্গে সাবেক সদস্যদের অভিজ্ঞতার সংযোগ ঘটানো একটি অনানুষ্ঠানিক ফোরাম হিসেবে বর্ণনা করেন।
এই কাঠামোগুলো ভিন্ন দুটি গোষ্ঠীর কাজ করবে: নারী সদস্যদের কমিটি বর্তমান সদস্যদের একত্র করবে, আর সাবেক সদস্যদের কমিটি দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরামর্শের পথ তৈরি করবে। কোনোটিই পরিষদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার বিকল্প—এমন বর্ণনা নেই। বৈঠকের সময়সূচি, বাজেট বা কমিটিগুলোর কাজ শুরুর সময় সম্পর্কেও প্রতিবেদনগুলোতে কিছু বলা হয়নি।
ভার্চ্যুয়াল বৈঠক ও অমীমাংসিত সিদ্ধান্ত
মহামারি, দুর্যোগ বা এমন পরিস্থিতিতে যেখানে সশরীরে উপস্থিত থাকা অসম্ভব, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বৈঠক করার ভিত্তি তৈরি করেছে বিধিমালা। সদস্যরা সরাসরি মিলিত হতে না পারলে পরিষদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টি এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতির এই বিধান পরিষদের কার্যক্রমের অস্পষ্টতা দূর করার বিষয়ে ভান্ডারীর ঘোষিত লক্ষ্যের পাশাপাশি রয়েছে। নামকরণ পদ্ধতি থেকে এটি একটি পৃথক প্রশাসনিক পরিবর্তন। এর অন্তর্ভুক্তি দেখায়, গৃহীত নথিতে পরিষদ কীভাবে কাজ করবে, সেই সঙ্গে কোন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারবে—দুটিই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের কোনো প্ল্যাটফর্ম, উপস্থিতি যাচাই বা ভোটের ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়নি। তাই দূরবর্তী বৈঠকের আইনি ভিত্তি গ্রহণ করাকে কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ইতোমধ্যে চালু থাকার প্রমাণ থেকে আলাদা করে দেখা উচিত।
নামকরণের বিষয়ে পরবর্তী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ হবে মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশের সমর্থনে সচিবের কাছে নোটিশ জমা দেওয়া। এরপর বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে স্পিকার বৈঠক নির্ধারণ করবেন। বিধিমালা পাসের বিবরণে নোটিশ জমার শেষ সময়, নাম নিয়ে আলোচনার নির্ধারিত দিন বা চূড়ান্ত ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
ফলাফল হলো, প্রক্রিয়া নিয়ে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে, তবে মূল সিদ্ধান্তগুলো এখনও বাকি। প্রদেশের নাম কোশিই রয়েছে। তা পরিবর্তনের যেকোনো উদ্যোগকে নতুন নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোতে হবে এবং প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হবে।
মূল বিষয়গুলো
- নবম অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে কোশি প্রাদেশিক পরিষদ নতুন কার্যপ্রণালি বিধিমালা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে।
- বিধি ২১২ অনুযায়ী, মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশ প্রদেশের নাম সংশোধনের প্রস্তাব জমা দেওয়ার নোটিশ দিতে পারবেন।
- নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখনও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।
- সচিব প্রস্তাবটি স্পিকারের কাছে পাঠাবেন; স্পিকার বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে বৈঠক নির্ধারণ করবেন।
- বিধিমালায় নারী সদস্য ও সাবেক সদস্যদের কমিটি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের বিধান রয়েছে।
- কোনো বিকল্প নাম, জমা দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব বা নাম নিয়ে আলোচনার তারিখের কথা জানা যায়নি।






