সামান্য সংশোধনেও প্রবৃদ্ধির তীব্র মন্থরতা কাটেনি
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফিলিপাইনের অর্থনীতি ২.৪% বেড়েছে বলে শুক্রবার, ৬ নভেম্বর জানিয়েছে ফিলিপাইন পরিসংখ্যান কর্তৃপক্ষ (পিএসএ)। এর আগে প্রবৃদ্ধির হার ২.৩% ধরা হয়েছিল। সংশোধনের ফলে এপ্রিল থেকে জুন সময়কালের চিত্র সামান্য উন্নত হয়েছে, তবে প্রবৃদ্ধি এক বছর আগের তুলনায় এবং বছরের জন্য সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে রয়ে গেছে।
সূচিপত্র
প্রথম প্রান্তিকের ২.৮% এবং ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ৫.৫% থেকে প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। সংশোধিত দ্বিতীয় প্রান্তিকের হারও ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে করোনাভাইরাস মহামারির সময় অর্থনীতি ৩.৮% সংকুচিত হওয়ার পর সর্বনিম্ন। মহামারির বছরগুলো বাদ দিলে, ২০০৯ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে রেকর্ড করা ১.৮% প্রবৃদ্ধির পর এটাই ছিল সবচেয়ে ধীর প্রবৃদ্ধি।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে অর্থনীতি ২.৬% বেড়েছে, যা পুরো বছরের জন্য সরকারের ৩.৫% থেকে ৪.৫% প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার নিচে। পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশের কথা সোমবার, ৯ নভেম্বর। সেদিন পিএসএর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়কাল নিয়ে তৃতীয় প্রান্তিকের তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে।
পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, কৃষি এবং পরিবহন ও মজুত খাতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির হিসাব থেকেই মূলত এই ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন এসেছে। এসব পরিবর্তনে জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার ০.১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। তবে অর্থনীতির বর্তমান প্রবৃদ্ধির গতি এবং এক বছর আগের অবস্থার ব্যবধান এতে খুব একটা কমেনি।
সংশোধিত প্রবৃদ্ধির হার কী বোঝায়
মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি একটি দেশের সীমানার মধ্যে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মূল্য পরিমাপ করে। কৃষিকাজ ও কারখানার উৎপাদন থেকে শুরু করে দোকানপাট, পরিবহন ব্যবসা এবং অন্যান্য সেবা—অর্থনীতির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এর আওতায় আসে।
সংশোধিত পরিসংখ্যানের অর্থ, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এপ্রিল থেকে জুনে ফিলিপাইনের অর্থনৈতিক উৎপাদন ২.৪% বেশি ছিল। প্রথম প্রান্তিকের ২.৮% প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বছর এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে।
২.৩% ও ২.৪%-এর ব্যবধান ০.১ শতাংশ পয়েন্ট। এর তুলনায়, ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ৫.৫% প্রবৃদ্ধি থেকে ২০২৬ সালে ২.৪%-এ নেমে আসার ব্যবধান ৩.১ শতাংশ পয়েন্ট। তাই সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগত সংশোধনের তুলনায় এক বছর আগের সঙ্গে প্রবৃদ্ধির মন্থরতার ব্যবধান অনেক বড়।
তিনটি খাতের কারণে প্রবৃদ্ধির হিসাব সংশোধন
মোটরযান ও মোটরসাইকেল মেরামতসহ পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধির সংশোধিত হার ৪.৭%, যা প্রাথমিক হিসাবে ছিল ৪.৬%। এই শ্রেণিতে পণ্য বিতরণ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা এবং এর সরকারি নামের আওতায় থাকা যানবাহন মেরামতের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত।
কৃষি, বনায়ন ও মৎস্য খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৯%, যেখানে আগের হিসাব ছিল ২.৭%। পরিবহন ও মজুত খাতের প্রবৃদ্ধি ৩.৮% থেকে বাড়িয়ে ৪.১% করা হয়েছে। পিএসএর চিহ্নিত তিনটি খাতের মধ্যে শতাংশ পয়েন্টের হিসাবে এ খাতেই সবচেয়ে বড় সংশোধন হয়েছে।
- পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য: ০.১ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪.৭% করা হয়েছে।
- কৃষি, বনায়ন ও মৎস্য: ০.২ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ২.৯% করা হয়েছে।
- পরিবহন ও মজুত: ০.৩ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪.১% করা হয়েছে।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি হিসাব করতে বিভিন্ন খাতের প্রবৃদ্ধির হার সরাসরি যোগ করা যায় না। অর্থনৈতিক উৎপাদনে প্রতিটি খাতের অংশ ভিন্ন, তাই জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে তার প্রভাব নির্ভর করে খাতটির আকার এবং প্রবৃদ্ধির গতির ওপর। পিএসএ এই তিনটি কর্মকাণ্ডকে ঊর্ধ্বমুখী সংশোধনের প্রধান অবদানকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্বিতীয়ার্ধে গতি বাড়াতে হবে
প্রথমার্ধে ২.৬% প্রবৃদ্ধির পর ২০২৬ সালের জন্য সরকারের ৩.৫% থেকে ৪.৫% লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে অর্থনীতিকে দ্বিতীয়ার্ধে আরও দ্রুত বাড়তে হবে। প্রথমার্ধের ফল এবং বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার সর্বনিম্ন সীমার ব্যবধান ০.৯ শতাংশ পয়েন্ট। সর্বোচ্চ সীমার সঙ্গে ব্যবধান ১.৯ শতাংশ পয়েন্ট।
এই ব্যবধানগুলো প্রকাশিত প্রবৃদ্ধির হার এবং সরকারের লক্ষ্যের দূরত্ব তুলে ধরে। পুরো বছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হিসাব করা হয় চার প্রান্তিকের মোট উৎপাদনের সঙ্গে আগের বছরের মোট উৎপাদনের তুলনা করে। তাই চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে বাকি প্রান্তিকগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আকার ও প্রবৃদ্ধির ওপর।
পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মূল বার্তা হলো, উৎপাদন বাড়লেও তার গতি কম ছিল। জাতীয় জিডিপির পরিসংখ্যান বহু ধরনের অভিজ্ঞতাকে একত্র করে: সংশোধিত হিসাবে বাণিজ্য ও পরিবহন খাতের প্রবৃদ্ধি পুরো অর্থনীতির তুলনায় দ্রুত ছিল, আর কৃষির প্রবৃদ্ধির হার ছিল জাতীয় হারের কাছাকাছি।
জাতীয় আয়ের চিত্র ভিন্ন
দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট জাতীয় আয় বা জিএনআইয়ের প্রবৃদ্ধি পিএসএ অপরিবর্তিত রেখে ২.২% নির্ধারণ করেছে। একই সময়ে, বাকি বিশ্বের কাছ থেকে নিট প্রাথমিক আয়ের প্রবৃদ্ধির হিসাব প্রাথমিক ১% থেকে কমিয়ে ০.৮% করা হয়েছে।
জিডিপি ও জিএনআই ভিন্ন বিষয় পরিমাপ করে। জিডিপি ফিলিপাইনের সীমানার ভেতরে উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেয়। জিএনআইয়ের হিসাবে বাসিন্দারা বিদেশ থেকে যে প্রাথমিক আয় পান এবং অনাবাসীদের যে আয় দেওয়া হয়, তা-ও বিবেচনায় আসে। প্রাথমিক আয়ের মধ্যে কাজ ও বিনিয়োগ থেকে পাওয়া উপার্জন অন্তর্ভুক্ত।
সংশোধিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, দেশের ভেতরের উৎপাদন বৃদ্ধির পরিমাপে সামান্য উন্নতি হয়েছে, পাশাপাশি বিদেশ থেকে নিট প্রাথমিক আয়ের প্রবৃদ্ধির হিসাব দুর্বল হয়েছে। সংশোধনের পরও প্রকাশিত জিএনআই প্রবৃদ্ধির হার ২.২% অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিদেশ থেকে নিট প্রাথমিক আয় এবং প্রবাসী ফিলিপিনোদের দেশে পাঠানো মোট অর্থ আলাদা জাতীয় হিসাবের পরিমাপ। এর সংশোধিত ০.৮% প্রবৃদ্ধির হার এক বছর আগের তুলনায় ওই নির্দিষ্ট আয়ের ভারসাম্যের পরিবর্তন তুলে ধরে।
পিএসএ কেন হিসাব সংশোধন করেছে
পিএসএ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জাতীয় হিসাবের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অনুমোদিত সংশোধন নীতি অনুসরণ করে এই পরিবর্তন করা হয়েছে। জিডিপি ও জিএনআইয়ের মতো পরিমাপ তৈরিতে ব্যবহৃত পরিসংখ্যানগত কাঠামোকে জাতীয় হিসাব বলা হয়।
জিডিপির প্রাথমিক হিসাব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি আগাম চিত্র দেয়। আরও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া গেলে পরিসংখ্যান সংস্থাগুলো এই সংখ্যা হালনাগাদ করতে পারে। এই প্রকাশনায় পিএসএ কয়েকটি দেশের অভ্যন্তরীণ খাতের প্রবৃদ্ধির হিসাব বাড়িয়েছে এবং বাকি বিশ্বের কাছ থেকে নিট প্রাথমিক আয়ের প্রবৃদ্ধির হিসাব কমিয়েছে।
সংশোধনে দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির পরিমাপ বদলেছে, তবে মূল ধারাবাহিকতা অপরিবর্তিত রয়েছে: প্রথম প্রান্তিকে ২.৮% প্রবৃদ্ধির পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৪%। প্রথমার্ধের ফল সরকারের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার নিচেই রয়েছে।
পরবর্তী প্রবৃদ্ধির হিসাব আসছে ৯ নভেম্বর
১৬ জন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকের ওপর পরিচালিত জরিপে তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির মধ্যক পূর্বাভাস ছিল ২.৭%। অনুমানগুলো ক্রমানুসারে সাজালে মাঝের পূর্বাভাসটিই মধ্যক, যা দলের প্রত্যাশার একটি কেন্দ্রীয় ধারণা দেয়।
২.৭% প্রবৃদ্ধি হলে তা সংশোধিত দ্বিতীয় প্রান্তিকের ২.৪% হারের তুলনায় সামান্য উন্নতি হবে, তবে প্রথম প্রান্তিকের ২.৮%-এর চেয়ে কিছুটা কম থাকবে। এই পূর্বাভাস বাস্তব হলে, প্রথম তিন প্রান্তিকে গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় ২.৬% হবে। সে ক্ষেত্রে শেষ প্রান্তিকে প্রবেশের সময় অর্থনীতি সরকারের পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার নিচে থাকবে।
সংশোধনের ঘোষণা দেওয়ার সময় তৃতীয় প্রান্তিকের ফল প্রকাশিত হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও সময়কালগুলো হলো:
- জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৬: জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৮%।
- এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬: জিডিপি প্রবৃদ্ধি সংশোধিত হিসাবে ২.৪%, প্রথমার্ধে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২.৬%।
- ৬ নভেম্বর ২০২৬: পিএসএ ২.৩% থেকে প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে সংশোধনের ঘোষণা দেয়।
- ৯ নভেম্বর ২০২৬: পিএসএর তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপির পরিসংখ্যান প্রকাশের কথা রয়েছে।
আসন্ন প্রকাশনায় দেখা যাবে, জুনের পর প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ফিরে এসেছিল কি না। সরকারের বার্ষিক লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে শেষ প্রান্তিকে অর্থনীতিকে কতটা বাড়তে হবে, সে সম্পর্কেও আরও পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যাবে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফিলিপাইনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২.৩% থেকে সংশোধন করে ২.৪% করা হয়েছে।
- প্রবৃদ্ধি প্রথম প্রান্তিকের ২.৮% এবং এক বছর আগের ৫.৫%-এর নিচে রয়েছে।
- বাণিজ্য, কৃষি এবং পরিবহন ও মজুত খাতের উচ্চতর হিসাব সংশোধনের মূল কারণ।
- প্রথমার্ধের ২.৬% প্রবৃদ্ধি সরকারের পুরো বছরের ৩.৫% থেকে ৪.৫% লক্ষ্যমাত্রার নিচে।
- জিএনআই প্রবৃদ্ধি ২.২% অপরিবর্তিত রয়েছে, আর বিদেশ থেকে নিট প্রাথমিক আয়ের প্রবৃদ্ধি সংশোধন করে ০.৮% করা হয়েছে।
- তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপির পরিসংখ্যান ৯ নভেম্বর প্রকাশের কথা; প্রবৃদ্ধির মধ্যক পূর্বাভাস ২.৭%।






