চীনের দোরগোড়ায় বিপুল চিপের মজুত
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির তথ্যমতে, চীনের মূল ভূখণ্ডে বড় চালান পাঠানোর অনুমতি আটকে রাখায় প্রায় ৬ লাখ এনভিডিয়া H200 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ হংকংয়ে পড়ে আছে। এই মজুত ব্যয়বহুল অচলাবস্থার পরিমাণটা স্পষ্ট করে: চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো শক্তিশালী মার্কিন প্রসেসর চায়, আর বেইজিং মার্কিন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা সীমিত রাখতে চায়।
সূচিপত্র
- চীনের দোরগোড়ায় বিপুল চিপের মজুত
- কেন মার্কিন অনুমতি প্রক্রিয়ার অর্ধেক মাত্র
- অর্ডার, অনুমোদন ও সরবরাহ এক কথা বলে না
- কীভাবে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ বেড়েছে
- পুরোনো এনভিডিয়া প্রসেসরও কেন গুরুত্বপূর্ণ
- সংকটে সার্ভারের দাম আকাশছোঁয়া
- এনভিডিয়ার আরেকটি পণ্যপথও খুঁজছেন চীনা ক্রেতারা
- সম্ভাব্য বিক্রির অঙ্ক কয়েক হাজার কোটি ডলার, তবে কঠিন শর্ত রয়েছে
- মূল বিষয়গুলো
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছু চিপ চীনের মূল ভূখণ্ডে ঢুকেছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি বলেছেন, কর্তৃপক্ষ সীমিত চালানের অনুমতি দিয়েছে। তাঁদের একজনের ভাষ্য, চীনের কয়েকটি বড় ইন্টারনেট কোম্পানি প্রত্যেকে প্রায় ১০ হাজার H200 চিপ পেয়েছে। তিনজনই মধ্যস্থতাকারী ও পরোক্ষ পথে ছোট চালান আসার কথা বলেছেন, তবে মোট সংখ্যা জানাননি।
এসব চালান আর হংকংয়ে অপেক্ষায় থাকা মজুতের মধ্যে ব্যবধান বেশ বড়। মজুতের পরিমাণ পৃথক কোম্পানিগুলোর পাওয়া প্রায় ১০ হাজার চিপের তুলনায় ৬০ গুণ। এই তুলনা মূল ভূখণ্ডের বাইরে অপেক্ষায় থাকা সরবরাহের ব্যাপ্তি দেখায়, যদিও ছোট বরাদ্দ পাওয়া কোম্পানির সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এনভিডিয়া, আলিবাবা, বাইটড্যান্স, ডিপসিক ও টেনসেন্টও কোনো জবাব দেয়নি। বড় পরিসরে আমদানির অনুমতি দিয়ে সিদ্ধান্ত কবে আসবে, সে তারিখও ঘোষণা করা হয়নি।
এআই ব্যবস্থা তৈরি করা ব্যবসাগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক সমস্যা খুবই বাস্তব। হার্ডওয়্যার উৎপাদন, কেনা বা ক্রেতাদের কাছাকাছি সরিয়ে রাখা সম্ভব, কিন্তু তা সত্ত্বেও নিজেদের কম্পিউটিং কেন্দ্রে স্থাপনের জন্য সেটি পাওয়া নাও যেতে পারে। হংকংয়ের মজুত ঠিক এই অবস্থায় রয়েছে: সম্ভাব্য সরবরাহ আর ব্যবহারযোগ্য কম্পিউটিং ক্ষমতার মাঝখানে।
কেন মার্কিন অনুমতি প্রক্রিয়ার অর্ধেক মাত্র
লেনদেনের ভিন্ন ভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করে ওয়াশিংটন ও বেইজিং। নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কাছে এনভিডিয়া মার্কিন প্রযুক্তি রপ্তানি করতে পারবে কি না, তা নির্ধারণ করে যুক্তরাষ্ট্র। আর পণ্যগুলো তাদের বাজারে ঢুকতে পারবে কি না এবং কী শর্তে পারবে, তা নির্ধারণ করে চীন।
২০২২ সালে চালু করা মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উন্নত এনভিডিয়া প্রসেসর এবং উন্নত চিপ তৈরির সরঞ্জামে চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়। বাণিজ্য আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পরে অনুমোদিত চীনা গ্রাহকদের কাছে H200 বিক্রির অনুমতি দেয়। তবে বেইজিং আমদানিতে নিজেদের সীমাবদ্ধতা বজায় রাখে।
মার্কিন অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কারিগরি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্তও রয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শিল্প ও নিরাপত্তা ব্যুরোর ১৩ জানুয়ারি জারি করা চূড়ান্ত বিধিতে রপ্তানির আগে সংশ্লিষ্ট চিপগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বাধীন পরীক্ষাগারে কর্মক্ষমতা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। পাশাপাশি চিপগুলো সামরিক কাজে ব্যবহার হবে না, তা নিশ্চিত করাও প্রক্রিয়াটির অংশ।
এর পরদিন, ১৪ জানুয়ারি, ট্রাম্প এ-সংক্রান্ত একটি প্রেসিডেনশিয়াল ঘোষণায় সই করেন। এর আগে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র এসব লেনদেনে ২৫ শতাংশ ফি নেবে। ফলে ক্রেতা ও এনভিডিয়ার জন্য অনুমতির সঙ্গে রয়েছে নিয়ম মেনে চলার শর্ত এবং আর্থিক খরচ; চীনা বাজারে অবাধ প্রবেশাধিকার নয়।
বেইজিংয়ের উদ্বেগ বিপরীত দিকে। চীনের ভাবনাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, মার্কিন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়াতে তারা অনিচ্ছুক। প্রসেসর কেনা এখন চীনা কোম্পানিগুলোকে উন্নত এআই ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে, সরকারি নীতির পরিবর্তনে যাদের চীনে প্রবেশাধিকার বারবার বদলেছে, সেই সরবরাহকারীর ওপর কোম্পানিগুলোর নির্ভরতা বাড়তে পারে।
অর্ডার, অনুমোদন ও সরবরাহ এক কথা বলে না
চীন সফরের পর ২৯ জানুয়ারি তাইপেতে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং বাণিজ্যিক অগ্রগতি সম্পর্কে আরও সতর্ক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, চীনা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে এনভিডিয়া কোনো H200 কেনার অর্ডার পায়নি এবং বেইজিংয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।
বাইটড্যান্স, আলিবাবা ও টেনসেন্ট ৪ লাখের বেশি H200 চিপ কেনার অনুমোদন পেয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে হুয়াংয়ের বক্তব্যের অমিল ছিল। অন্য প্রতিবেদনে ২০ লাখের বেশি চিপের অর্ডারের কথা বলা হয়। এসব সংখ্যা লেনদেনের ভিন্ন ভিন্ন ধাপ বোঝায়: নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি, গ্রাহকের অর্ডার এবং বাস্তব পণ্য সরবরাহ।
কোনো কোম্পানি চূড়ান্ত অর্ডার দেওয়ার আগেই অনুমতি চাইতে পারে। কেনার অনুমোদন পেলেও সরবরাহের আগে রপ্তানি পরীক্ষা ও আমদানি ছাড়পত্র লাগতে পারে। পরে হংকংয়ে ৬ লাখ চিপ থাকার যে তথ্য প্রকাশিত হয়, তা আরেকটি ধাপের কথা বলে: চালানের জন্য প্রস্তুত মজুত, যা এখনও মূল ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতির অপেক্ষায়।
তাই এসব সংখ্যার সঙ্গে তারিখ ও বিবরণ উল্লেখ করা জরুরি। ২৯ জানুয়ারির হুয়াংয়ের বক্তব্য ছিল ওই সময়ের অর্ডার সম্পর্কে কোম্পানির বিবরণ; হংকংয়ের সংখ্যাটি পরে প্রকাশিত মজুতের হিসাব। মজুতের মালিক, নির্ধারিত গ্রাহক এবং চুক্তির অবস্থা জানিয়ে পূর্ণাঙ্গ কোনো প্রকাশ্য বিবরণ দেওয়া হয়নি।
কীভাবে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ বেড়েছে
বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সীমিত প্রবেশাধিকারের খবরের মধ্য দিয়ে এই বিরোধ এগিয়েছে। তারিখসহ ঘটনাগুলো দেখায়, কেন ব্যাপকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রত্যাশা বারবার নিশ্চিত সরবরাহের চেয়ে এগিয়ে গেছে।
- ২০২২: উন্নত এআই চিপ ও চিপ তৈরির সরঞ্জামে চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
- ১৩ জানুয়ারি: শিল্প ও নিরাপত্তা ব্যুরো H200 রপ্তানির শর্ত নির্ধারণ করে চূড়ান্ত বিধি জারি করে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীন পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- ১৪ জানুয়ারি: ট্রাম্প এ-সংক্রান্ত প্রেসিডেনশিয়াল ঘোষণায় সই করেন।
- ২৯ জানুয়ারি: হুয়াং বলেন, এনভিডিয়া চীনা গ্রাহকদের কাছ থেকে H200 কেনার কোনো অর্ডার পায়নি এবং আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে কি না, বেইজিং তা বিবেচনা করছে।
- জুলাই: প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য মূলত ২ লাখের কম H200 চিপ কেনার সম্ভাব্য অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
- অক্টোবরের শেষ নাগাদ: আটটি কার্ডযুক্ত একটি H200 সার্ভার চীনের মূল ভূখণ্ডে ৬০ লাখ ইউয়ানের বেশি দামে বিক্রির জন্য রাখা হয়।
- মজুতের সর্বশেষ তথ্য: বড় চালানের অনুমোদন আটকে থাকায় প্রায় ৬ লাখ H200 চিপ হংকংয়ে অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা নিয়ন্ত্রকেরা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে H200 কেনার আবেদন অনুমোদনের জন্য জমা দিতেও নির্দেশ দিয়েছে। প্রস্তাবিত শর্তের মধ্যে ছিল এনভিডিয়ার পণ্যের পাশাপাশি নির্দিষ্ট অংশের দেশীয় প্রসেসর কেনা। সেই অংশের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
জুলাইয়ের প্রতিবেদনে আলিবাবা, বাইটড্যান্স ও ডিপসিকসহ কয়েকটি কোম্পানিকে প্রশিক্ষণের জন্য সীমিত সংখ্যায় চিপ কেনার সম্ভাব্য অনুমতির কথা বলা হয়েছিল। ২ লাখের কম চিপের হিসাবটি সম্ভাব্য অনুমোদন নিয়ে; আর হংকংয়ের অনেক বড় সংখ্যাটি সেখানে মজুত থাকা চিপের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশের অপেক্ষা বোঝায়।
পুরোনো এনভিডিয়া প্রসেসরও কেন গুরুত্বপূর্ণ
H200 এনভিডিয়ার হপার প্রজন্মের পণ্য। চীনা বাজারের জন্য তৈরি H20-এর চেয়ে এটি বেশি সক্ষম, তবে এনভিডিয়ার নতুন ব্ল্যাকওয়েল প্রজন্মের নিচে। চীনা ক্রেতারা যে কম্পিউটিং ক্ষমতা বাস্তবে পেতে পারেন, তার সঙ্গে এটি চালানোর সফটওয়্যারই এর আকর্ষণের মূল কারণ।
এআই মডেল প্রশিক্ষণের অর্থ হলো, একটি ব্যবস্থা যাতে বিভিন্ন ধরন শিখতে পারে, সে জন্য বিপুল পরিমাণ উদাহরণ প্রক্রিয়াকরণ করা। ভাষার মডেল যেমন বারবার হিসাব করে শব্দ ও ধারণার মধ্যকার সম্পর্ক শেখে। শক্তিশালী প্রসেসর নির্দিষ্ট সময়ে এই কাজের আরও বেশি অংশ সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।
কিছু কঠিন প্রশিক্ষণকাজে H200-এর এমন সক্ষমতা রয়েছে, যা চীনা বিকল্পগুলো এখনও মেলাতে পারেনি; বিশেষ করে এনভিডিয়ার সফটওয়্যারের সঙ্গে ব্যবহার করলে। তাই এনভিডিয়ার সর্বশেষ পণ্য না হলেও কোম্পানিগুলোর এই চিপ সংগ্রহের কারণ রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা কর্মকর্তারা কোম্পানিগুলোকে ইনফারেন্সের কাজে দেশীয় প্রসেসরকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন। প্রশিক্ষণের পর কোনো মডেল শেখা বিষয় কাজে লাগিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেয়, ছবি তৈরি করে বা অন্য কাজ করে, এই প্রক্রিয়াই ইনফারেন্স।
প্রতিবেদিত বেইজিং নীতিতে কোম্পানিগুলো প্রশিক্ষণের জন্য কিছুটা এনভিডিয়া হার্ডওয়্যার পাবে, আর এআই সেবার দৈনন্দিন পরিচালনার আরও বেশি কাজ চীনা সরবরাহকারীদের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ ও ইনফারেন্স, দুটিরই কম্পিউটিং ক্ষমতা লাগে। তবে কেনাকাটার অগ্রাধিকার আলাদা করে দিলে এআই সেবার ব্যবহারকারী বাড়ার সঙ্গে দেশীয় চিপ নির্মাতারা আরও বড় ভূমিকা পাবে।
সংকটে সার্ভারের দাম আকাশছোঁয়া
বাজার সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির তথ্যমতে, অক্টোবরের শেষ নাগাদ আটটি কার্ডযুক্ত একটি H200 সার্ভার চীনের মূল ভূখণ্ডে ৬০ লাখ ইউয়ানের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৯ লাখ ডলারে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল। এক বছর আগের দামের তুলনায় তা প্রায় তিন গুণ।
এই তুলনা থেকে একই ধরনের সার্ভারের আগের দাম দাঁড়ায় আনুমানিক ২০ লাখ ইউয়ান। প্রায় ২০ লাখ থেকে ৬০ লাখ ইউয়ানের বেশি হওয়া মানে প্রায় ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি। অনেক সার্ভার কেনা কোনো ব্যবসার জন্য এই পরিবর্তনে কম্পিউটিং সক্ষমতা তৈরির খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে।
একই ব্যক্তি বলেন, এনভিডিয়ার নতুন ব্ল্যাকওয়েল চিপযুক্ত সার্ভারগুলোর প্রতিটির দাম ২ কোটি ইউয়ানের বেশি রাখা হয়েছিল। ব্ল্যাকওয়েল পণ্যও মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়ে। উদ্ধৃত দামগুলো পুরো সার্ভারের, তাই এতে শুধু প্রসেসরের নয়, আরও নানা উপকরণের খরচ রয়েছে।
অনুমোদিত সরবরাহ সীমিত থাকায় ক্রেতারা মধ্যস্থতাকারী ও পরোক্ষ পথের দিকে ঝুঁকেছেন। এতে এমন একটি বাজার তৈরি হয়েছে, যেখানে পণ্য পাওয়ার সুযোগেরই বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে: নিয়মিত সরবরাহের পথ চালু হওয়ার অপেক্ষা না করে দ্রুত হার্ডওয়্যার পেতে কোনো কোম্পানিকে অনেক বেশি অর্থ দিতে হতে পারে।
সরবরাহের এই বাধা পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলছে। একটি মডেল প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি নেওয়া কোম্পানির সার্ভার, বিদ্যুৎ, নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম ও কর্মী একই সময়ে প্রস্তুত থাকা দরকার। চিপ সরবরাহ অনিশ্চিত হলে বাকি বিনিয়োগ অপেক্ষায় পড়ে থাকতে পারে, অথবা কোম্পানিকে ভিন্ন হার্ডওয়্যার বেছে নিতে হতে পারে।
এনভিডিয়ার আরেকটি পণ্যপথও খুঁজছেন চীনা ক্রেতারা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাইটড্যান্স, আলিবাবা ও টেনসেন্ট ৩০ লাখের বেশি এনভিডিয়া RTX Pro 5500 গ্রাফিকস কার্ডও অর্ডার করেছে। এগুলো তুলনামূলক কম শক্তিশালী, রপ্তানি বিধি মেনে চলা পণ্য; সব মিলিয়ে তালিকামূল্য ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি।
এই সংখ্যা হংকংয়ে থাকা প্রায় ৬ লাখ H200 চিপের পাঁচ গুণেরও বেশি। দুটি পণ্যের সক্ষমতা আলাদা। তাই বেশি সংখ্যক কার্ডের হিসাবটি ভিন্ন কেনাকাটার কৌশল বোঝায়, সমপরিমাণ কম্পিউটিং ক্ষমতা নয়।
এই কেনাকাটা দেখায়, বড় চীনা কোম্পানিগুলো একসঙ্গে কয়েকটি পথ অনুসরণ করছে: H200 প্রসেসরে প্রবেশাধিকার চাওয়া, রপ্তানি বিধিতে অনুমোদিত এনভিডিয়া পণ্য কেনা এবং দেশীয় চিপ ব্যবহারের চাপ মোকাবিলা করা। প্রতিটি পথেই কর্মক্ষমতা, প্রাপ্যতা ও নিয়ন্ত্রক ঝুঁকির মধ্যে ভিন্ন ভারসাম্য রয়েছে।
চীনা সরবরাহকারীদের জন্য দেশীয় প্রসেসর কেনার শর্ত কিছু মার্কিন চিপ দেশে ঢুকলেও ক্রেতা নিশ্চিত করতে পারে। আর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য এর ফলে বিভিন্ন কাজের জন্য ভিন্ন প্রসেসরসহ একাধিক ধরনের হার্ডওয়্যারে গড়া কম্পিউটিং ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।
সম্ভাব্য বিক্রির অঙ্ক কয়েক হাজার কোটি ডলার, তবে কঠিন শর্ত রয়েছে
বিনিয়োগকারীদের হিসাব এনভিডিয়ার বাণিজ্যিক স্বার্থের ব্যাপ্তি দেখায়। ২৭ হাজার ডলার দরে ২০ লাখ H200 চিপের কথিত চাহিদা হলে সম্ভাব্য লেনদেনের মূল্য দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। হুয়াং চীনে চাহিদাকে খুব বেশি বলেছেন এবং সম্ভাব্য বার্ষিক বিক্রি ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার থেকে সরল হিসাবে ২৫ শতাংশ বাদ দিলে থাকে ৪ হাজার ৫০ কোটি ডলার। একটি বিনিয়োগ বিশ্লেষণে অঙ্কটি প্রায় ৪ হাজার কোটি ডলারে নামিয়ে ধরে, এনভিডিয়ার আয় বৃদ্ধি এবং শেয়ারের সম্ভাব্য দাম ৩৮৫ ডলার ধরে হিসাব করা হয়। এতে নিট মুনাফার হার ৫৬ শতাংশ এবং মূল্য-আয় অনুপাত প্রায় ৪৬ ধরা হয়েছিল।
এসব হিসাব নির্ভর করছে কেনাকাটার অনুমোদন ও সম্পন্ন হওয়ার ওপর, পাশাপাশি ফি, খরচ, মুনাফার হার ও বাজারমূল্য সম্পর্কে বিভিন্ন অনুমানের ওপর। ২৯ জানুয়ারি হুয়াংয়ের ‘কোনো অর্ডার পাওয়া যায়নি’ বক্তব্যের কারণে কথিত ২০ লাখ চিপের হিসাব বিবেচনায় সময়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন রাজনীতিতে বিরোধিতাও আরেকটি বাধা। চীনা কমিউনিস্ট পার্টিবিষয়ক প্রতিনিধি পরিষদের বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান জন মুলেনার বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিককে চিঠি লিখে H200 রপ্তানিতে আরোপিত সামরিক ব্যবহারের বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকরের আহ্বান জানান।
মুলেনার অভিযোগ করেন, ডিপসিককে এনভিডিয়ার কারিগরি সহায়তা এমন সক্ষমতা তৈরিতে সাহায্য করেছে, যা পরে চীনা সামরিক ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়েছে। তাঁর চিঠিতে বলা হয়, H200 রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলেও সনদসংক্রান্ত শর্ত কার্যকর করা উচিত। অভিযোগ ও নীতি-সংক্রান্ত দাবি এসেছে কমিটির চেয়ারম্যানের কাছ থেকে; আর রপ্তানি বিধিতে অনুমোদন প্রক্রিয়ার ওপর অনুমোদিত ব্যবহার যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তাই এনভিডিয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করছে দুই রাজধানীর সিদ্ধান্তের ওপর। চীনা গ্রাহকেরা বেশি কম্পিউটিং ক্ষমতা চান, বেইজিং চায় দেশীয় সরবরাহকারীরা এগিয়ে যাক, আর ওয়াশিংটন চায় উন্নত মার্কিন চিপ কোথায় যাবে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে। আপাতত সবচেয়ে স্পষ্ট ফল হলো হংকংয়ে বিপুল মজুত এবং সীমান্ত পেরিয়ে সীমিত সরবরাহ।
মূল বিষয়গুলো
- প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতির অপেক্ষায় প্রায় ৬ লাখ এনভিডিয়া H200 চিপ হংকংয়ে রয়েছে।
- চীনের কয়েকটি বড় ইন্টারনেট কোম্পানি প্রত্যেকে প্রায় ১০ হাজার H200 চিপ পেয়েছে বলে জানা গেছে।
- মার্কিন রপ্তানি অনুমতিতে পরীক্ষা ও নিরাপত্তার শর্ত রয়েছে; আমদানির অনুমতি আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করে চীন।
- প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিং ইনফারেন্সে দেশীয় প্রসেসরকে অগ্রাধিকার দিতে চায়, আর প্রশিক্ষণের জন্য সীমিত H200 ব্যবহারের অনুমতি দিতে চায়।
- অক্টোবরের শেষ নাগাদ আটটি কার্ডযুক্ত একটি H200 সার্ভার ৬০ লাখ ইউয়ানের বেশি দামে বিক্রির জন্য রাখা হয়, যা এক বছর আগের দামের প্রায় তিন গুণ।
- প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাইটড্যান্স, আলিবাবা ও টেনসেন্ট ৩০ লাখের বেশি অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী RTX Pro 5500 কার্ড অর্ডার করেছে।
- বড় পরিসরে H200 আমদানির অনুমোদন কবে আসবে, তা ঘোষণা করা হয়নি।






