সম্প্রসারণের সন্ধানে প্রাদেশিক বাজারে গুরুত্ব
জোলিবি ফুডস করপোরেশন ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সম্প্রসারণের জন্য ফিলিপাইনজুড়ে ১,৫০০টির বেশি সম্ভাব্য বাণিজ্যিক এলাকা চিহ্নিত করেছে, যার প্রায় ৭১ শতাংশ মেট্রো ম্যানিলার বাইরে। প্রতিষ্ঠানটি জোলিবি, মাং ইনাসাল ও চাউকিং—এই তিন ব্র্যান্ডের জন্য সুযোগ খুঁজছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ব্র্যান্ড তিনটি মিলে ফিলিপাইনে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রির প্রায় ৯০ শতাংশ করেছে।
সূচিপত্র
- সম্প্রসারণের সন্ধানে প্রাদেশিক বাজারে গুরুত্ব
- প্রাদেশিক বাজারের ৭১ শতাংশের তাৎপর্য
- ফিলিপাইনের বিক্রির বেশির ভাগ তিন ব্র্যান্ডের
- বিক্রি বাড়ছে, তবে চালু আউটলেটের প্রবৃদ্ধি কমেছে
- ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর ভিন্ন পথ পরীক্ষা করছে মাং ইনাসাল
- বেছে বেছে সম্প্রসারণে চাউকিং
- ফিলিপাইনের পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে কমেছে বৈশ্বিক লক্ষ্য
- সম্প্রসারণ পরিকল্পনার পেছনের তারিখগুলো
- মূল তথ্য
২৯ অক্টোবর প্রকাশিত পরিকল্পনায় রাজধানী অঞ্চলের বাইরের বাজারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন রেস্তোরাঁগুলো কোথায় গ্রহণযোগ্য মুনাফা দিতে পারে, তা বিবেচনা করছে গ্রুপটি। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি ফিলিপাইনে জোলিবি গ্রুপের ৩,৫১৬টি এবং আন্তর্জাতিকভাবে ৭,২৫১টি আউটলেট ছিল।
বাণিজ্যিক এলাকা বলতে আশপাশের এমন বাজারকে বোঝায়, যেখান থেকে কোনো রেস্তোরাঁয় ক্রেতা আসতে পারে—যেমন কাছাকাছি বসবাসকারী, কর্মরত বা কেনাকাটা করতে আসা মানুষ। চিহ্নিত এলাকা থেকে চালু রেস্তোরাঁ পর্যন্ত যেতে উপযুক্ত স্থাপনা, কার্যকর ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন প্রয়োজন।
জোলিবি জানিয়েছে, বাস্তবে কতগুলো রেস্তোরাঁ খোলা হবে তা নির্ভর করবে উপযুক্ত স্থান পাওয়া, প্রত্যাশিত মুনাফা এবং প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকারের ওপর। ফিলিপাইনে সম্প্রসারণের এই পরিকল্পনার জন্য তারা এখনো স্থানভিত্তিক তালিকা, মোট বিনিয়োগ বাজেট বা বছরে কতটি আউটলেট খোলার লক্ষ্য ঘোষণা করেনি।
বিদ্যমান ফিলিপাইনি রেস্তোরাঁগুলোর প্রবৃদ্ধি কমে আসা এবং ২০২৬ সালের বৈশ্বিক নতুন আউটলেটের লক্ষ্য কমানোর সময়েই প্রাদেশিক বাজারে গুরুত্ব দেওয়ার এ পরিকল্পনা এসেছে। নতুন বাজার খোঁজার পাশাপাশি ডেলিভারি, ডিজিটাল অর্ডার, ড্রাইভ-থ্রু সেবা ও ভিন্ন ধরনের আউটলেটের মাধ্যমে চালু রেস্তোরাঁগুলো থেকে আরও ব্যবসা আনার কৌশল নিচ্ছে গ্রুপটি।
প্রাদেশিক বাজারের ৭১ শতাংশের তাৎপর্য
প্রতি ১০০টি সম্ভাব্য বাণিজ্যিক এলাকার মধ্যে প্রায় ৭১টি মেট্রো ম্যানিলার বাইরে, আর প্রায় ২৯টি রাজধানী অঞ্চলে। ২০২৭ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চার বছরে ভৌগোলিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি কোথায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে, এই অনুপাত তার একটি স্পষ্ট চিত্র দেয়।
নতুন কোনো বাজারে আউটলেট খুললে ক্রেতাদের পরিচিত চেইনের শাখা কাছে পাওয়া যেতে পারে, কিংবা অর্ডার দেওয়ার নতুন উপায় তৈরি হতে পারে। বাস্তব পরিবর্তন নির্ভর করবে কোন কোন স্থানে কার্যক্রম শুরু হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি প্রচলিত রেস্তোরাঁ নাকি অন্য কোনো ধরন বেছে নেয় তার ওপর।
ভিন্ন মেনু ও পরিচালনাগত চাহিদা থাকা তিনটি ব্র্যান্ডের জন্য এসব এলাকা মূল্যায়ন করছে জোলিবি। একটি চেইনের জন্য উপযুক্ত বাজারে অন্যটির ক্ষেত্রে ভিন্ন পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে। সম্প্রসারণের সম্ভাব্য এলাকাগুলোর কত অংশ প্রতিটি ব্র্যান্ডের জন্য বরাদ্দ, তা প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ করেনি।
মূল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত হলো, প্রত্যাশিত বিক্রি রেস্তোরাঁ স্থাপন ও পরিচালনার খরচকে যৌক্তিকতা দিতে পারবে কি না। ভাড়া, নির্মাণ, কর্মী নিয়োগ এবং ক্রেতাদের সেবা দেওয়ার সক্ষমতা—সবই এই হিসাবের অংশ। সম্ভাবনাময় বাজার চিহ্নিত করা এ প্রক্রিয়ার শুরু; প্রতিষ্ঠানটির জানানো শর্তগুলোই ঠিক করবে কোন প্রকল্প এগোবে।
ফিলিপাইনের বিক্রির বেশির ভাগ তিন ব্র্যান্ডের
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ফিলিপাইনে মোট বিক্রির প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে জোলিবি, মাং ইনাসাল ও চাউকিং থেকে। শুধু প্রধান ব্র্যান্ড জোলিবির অবদান ছিল প্রায় ৬২ শতাংশ, যা ব্যবধানে দেশের ব্যবসার সবচেয়ে বড় অংশ।
আনুমানিক এই হিসাব অনুযায়ী, ফিলিপাইনে মোট বিক্রির প্রায় ২৮ শতাংশ এসেছে মাং ইনাসাল ও চাউকিং থেকে। গ্রুপের অন্য ব্র্যান্ডগুলো করেছে অবশিষ্ট প্রায় এক-দশমাংশ। ওই সময়ে প্রধান তিনটি ব্র্যান্ডেরই বিক্রি বেড়েছে।
প্রতিষ্ঠান পরিচালিত ও ফ্র্যাঞ্চাইজির আউটলেটসহ রেস্তোরাঁ নেটওয়ার্কজুড়ে ক্রেতাদের ব্যয়ের পরিমাপ হলো মোট বিক্রি। ব্র্যান্ডগুলোর মাধ্যমে হওয়া ব্যবসার একটি চিত্র এতে পাওয়া যায়; অন্যদিকে গ্রুপের হিসাবপত্রে নথিভুক্ত রাজস্ব নির্ধারিত হয় এসব কার্যক্রমের হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি অনুযায়ী।
দেশীয় বিক্রির প্রায় ৯০ শতাংশের জন্য দায়ী ব্র্যান্ডগুলোকে সম্প্রসারণের অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেওয়ায় পরিকল্পনাটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠিত ফিলিপাইনি ব্যবসার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। পরবর্তী ধাপ হলো, কোন ব্র্যান্ড কোথায় পর্যাপ্ত বিক্রি ও মুনাফা করতে পারবে, তা নির্ধারণ করে আরেকটি রেস্তোরাঁ খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া।
বিক্রি বাড়ছে, তবে চালু আউটলেটের প্রবৃদ্ধি কমেছে
ফিলিপাইনে মোট বিক্রি ২০২৪ ও ২০২৫—দুই বছরেই ১০ শতাংশ বেড়েছে। একই দোকানের বিক্রি ২০২৪ সালে ৮ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৫ শতাংশ বেড়েছে। এতে দেখা যায়, সম্প্রসারণের সর্বশেষ পরিকল্পনার আগেই চালু রেস্তোরাঁগুলোর প্রবৃদ্ধির গতি কমছিল।
একই দোকানের বিক্রিতে দুই সময়কালে যোগ্য ও আগে থেকে চালু থাকা নির্দিষ্ট একগুচ্ছ রেস্তোরাঁর বিক্রির তুলনা করা হয়। এর মাধ্যমে নতুন আউটলেট যোগ হওয়ার কারণে হওয়া প্রবৃদ্ধি থেকে চালু শাখাগুলোর পরিবর্তন আলাদা করে বোঝা যায়।
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফিলিপাইনে মোট বিক্রি বেড়েছে ৫.৭ শতাংশ, আর একই দোকানের বিক্রি বেড়েছে ১.৩ শতাংশ। ব্যবধান ছিল ৪.৪ শতাংশ পয়েন্ট। এই প্রান্তিকের পরিসংখ্যান বার্ষিক ফলাফলের চেয়ে স্বল্প সময়ের হিসাব; তবে এতে দেখা যায়, চালু শাখায় সামান্য প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রসারণের পরবর্তী পর্যায়ে যাচ্ছে।
এই দুই পরিমাপ থেকে বোঝা যায়, রেস্তোরাঁর সংখ্যা এবং প্রতিটি আউটলেটের উৎপাদনশীলতা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। আরও শাখা নেটওয়ার্কের মোট বিক্রি বাড়াতে পারে, অন্যদিকে চালু রেস্তোরাঁগুলোতে ক্রেতাদের বারবার আসা ও খরচ করা জরুরি। নতুন বাজার খোঁজার পাশাপাশি ডেলিভারি, ডিজিটাল অর্ডার এবং বিকল্প আউটলেটের পরিকল্পনা এই দ্বিতীয় লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে।
একটি রেস্তোরাঁয় বিক্রি বাড়তে পারে ক্রেতার আসা বেড়ে, অর্ডারের পরিমাণ বড় হয়ে, অথবা দাম ও বিক্রি হওয়া পণ্যের ধরন বদলে। এখানে উল্লেখ করা পরিসংখ্যানের এমন বিভাজন প্রতিষ্ঠানটি দেয়নি।
ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর ভিন্ন পথ পরীক্ষা করছে মাং ইনাসাল
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মাং ইনাসালের আটটি ড্রাইভ-থ্রু আউটলেট ছিল। এগুলোর গড় দৈনিক বিক্রি অন্য শাখাগুলোর তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি ছিল। নতুন ধরনের আউটলেট মূল্যায়নের সময় গ্রুপের বিবেচনার জন্য এটি একটি বাস্তব ফলাফল।
সহজভাবে বললে, অন্য শাখাগুলোর দৈনিক গড় বিক্রি ১০০ হলে ড্রাইভ-থ্রু শাখাগুলোর গড় প্রায় ১৪০। তুলনাটি বিক্রির; ভবিষ্যৎ আউটলেটের সিদ্ধান্তে জমি, নির্মাণ ও পরিচালন ব্যয়ও মূল্যায়ন করতে হবে।
ড্রাইভ-থ্রু সেবায় ক্রেতারা গাড়ি থেকে না নেমেই খাবার সংগ্রহ করতে পারেন। প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি ভেতরে বসে খাওয়া, খাবার নিয়ে যাওয়া ও ডেলিভারির পাশাপাশি অর্ডার নেওয়ার আরেকটি পথ। এই সেবা কার্যকর করতে পর্যাপ্ত জায়গা এবং গাড়ি চলাচলের উপযোগী প্রবেশপথ দরকার।
মাং ইনাসালের প্রকাশিত তুলনার ভিত্তি হলো এই আটটি চালু আউটলেট। ফিলিপাইনে বৃহত্তর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কোথায় এই ধরন উপযোগী, তা বিবেচনার সময় ব্যবস্থাপনা এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ক্রেতাদের আসা ও আউটলেটের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে জোলিবি গ্রুপ ডেলিভারি এবং ডিজিটাল অর্ডারও ব্যবহার করতে চায়। এ ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বলতে রেস্তোরাঁর জায়গা, কর্মী ও সরঞ্জাম কাজে লাগিয়ে আরও বেশি ব্যবসা করাকে বোঝায়। তাই সম্প্রসারণ কৌশল শুধু আউটলেটের সংখ্যা নয়, ক্রেতারা কীভাবে অর্ডার দেন ও খাবার পান, সেটিও বিবেচনা করে।
বেছে বেছে সম্প্রসারণে চাউকিং
আউটলেটের কার্যক্রম উন্নত করা এবং নতুন ধরন তৈরি করার পাশাপাশি বেছে বেছে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে চাউকিং। অতিরিক্ত স্থান খোঁজার পাশাপাশি পরিচালনাগত ফলাফলকেও গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।
ক্রেতাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা—যেমন অর্ডার দেওয়া ও খাবার পাওয়া—নির্ভর করে আউটলেটের পরিচালনার ওপর। ব্যবসার দিক থেকে, দক্ষতার সঙ্গে অর্ডার সামলানোর সক্ষমতা নির্ধারণ করে রেস্তোরাঁটি বিদ্যমান সম্পদ দিয়ে কতটা বিক্রি করতে পারে।
সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় চাউকিংয়ের অংশগ্রহণ আর্থিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফিলিপাইনে মোট বিক্রির প্রায় ৯০ শতাংশের জন্য দায়ী তিন ব্র্যান্ডের এটি একটি। প্রধান ব্র্যান্ড জোলিবির ৬২ শতাংশের পর অবশিষ্ট প্রায় ২৮ শতাংশে মাং ইনাসালের পাশাপাশি এর অবদান রয়েছে।
তিন ব্র্যান্ডেরই সামগ্রিক লক্ষ্য প্রবৃদ্ধি; তবে ঘোষিত পরিকল্পনায় তাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার আলাদা। মাং ইনাসাল ড্রাইভ-থ্রু আউটলেটের আটটি শাখার ফলাফল মূল্যায়ন করতে পারে, আর চাউকিং বেছে বেছে নতুন আউটলেট খোলার সঙ্গে পরিচালনাগত উন্নতি ও নতুন ধরন তৈরির কাজ করছে।
ফিলিপাইনের পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে কমেছে বৈশ্বিক লক্ষ্য
২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে নতুন আউটলেট খোলার লক্ষ্য ১,২০০ থেকে ১,৩০০ থেকে কমিয়ে ১,০০০ থেকে ১,১০০ করেছে জোলিবি। লক্ষ্যমাত্রার উভয় সীমাই ২০০টি করে কমেছে, যা আগে জানানো পরিকল্পনার তুলনায় সম্প্রসারণের ধীর গতি নির্দেশ করে।
ফিলিপাইনে বাণিজ্যিক এলাকা খোঁজার পরিকল্পনা ২০২৭ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত, আর সংশোধিত বৈশ্বিক লক্ষ্যটি ২০২৬ সালে খোলার আউটলেটসংক্রান্ত। এগুলো প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনার ভিন্ন পর্যায়ের বর্ণনা: একটি চার বছরজুড়ে সম্ভাব্য বাজারের তালিকা, অন্যটি এক বছরে খোলার লক্ষ্য।
২০২৬ সালের মাঝামাঝি গ্রুপটির ফিলিপাইনে ৩,৫১৬টি এবং আন্তর্জাতিকভাবে ৭,২৫১টি আউটলেট মিলিয়ে মোট রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের সংখ্যা ছিল ১০,৭৬৭। ৩৩টি দেশে কার্যক্রম চালানো গ্রুপটির নেটওয়ার্কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ছিল আন্তর্জাতিক আউটলেট।
হংকংয়ে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম আলাদা করে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব নিয়েও এগোচ্ছে জোলিবি। সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী, এটি হতে পারে ২০২৭ সালের শেষ দিকে। ফিলিপাইনের ব্যবসা ফিলিপাইন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত থাকবে এবং আন্তর্জাতিক সম্পদ আলাদা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন হবে।
প্রস্তাবিত তালিকাভুক্তি নির্ভর করছে পুনর্গঠন, বাজার পরিস্থিতি ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর। ২০ অক্টোবরের এক ব্যাখ্যায় প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ২০২৭ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে তালিকাভুক্তি হতে পারে—এমন প্রতিবেদন ছিল আগাম। দেশের ভেতরে সম্প্রসারণের অনুসন্ধান এবং প্রস্তাবিত তালিকাভুক্তি—দুটিই দেখায়, দেশীয় বিনিয়োগের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বিদেশের ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্বের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে।
সম্প্রসারণ পরিকল্পনার পেছনের তারিখগুলো
জোলিবির সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিক্রির ফলাফল, নতুন আউটলেটের লক্ষ্য পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি। প্রধান তারিখগুলো দেখায়, এসব ঘটনা কীভাবে ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের ফিলিপাইনি সম্প্রসারণের সময়সীমার দিকে এগিয়েছে।
- ২০২৪: ফিলিপাইনে মোট বিক্রি বেড়েছে ১০ শতাংশ, আর একই দোকানের বিক্রি বেড়েছে ৮ শতাংশ।
- ২০২৫: ফিলিপাইনে মোট বিক্রি আবারও ১০ শতাংশ বেড়েছে; একই দোকানের বিক্রি বেড়েছে ৫ শতাংশ।
- ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ: গ্রুপটির ফিলিপাইনে ৩,৫১৬টি এবং আন্তর্জাতিকভাবে ৭,২৫১টি আউটলেট ছিল। মাং ইনাসালের ছিল আটটি ড্রাইভ-থ্রু আউটলেট।
- ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক: ফিলিপাইনে মোট বিক্রি বেড়েছে ৫.৭ শতাংশ এবং একই দোকানের বিক্রি বেড়েছে ১.৩ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক নতুন আউটলেটের লক্ষ্য সংশোধন করে ১,০০০ থেকে ১,১০০ করেছে।
- ২০ অক্টোবর ২০২৬: ২০২৭ সালে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক তালিকাভুক্তির সময়সূচি হিসেবে তৃতীয় প্রান্তিকের যে কথা জানানো হয়েছিল, তা আগাম বলে স্পষ্ট করে জোলিবি।
- ২৯ অক্টোবর ২০২৬: ২০২৭ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সম্প্রসারণের জন্য ফিলিপাইনের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর কথা প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।
- ২০২৭ সালের শেষ দিক: হংকংয়ে সম্ভাব্য তালিকাভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও অনুমোদন এখনো বাকি।
২০২৬ সালে কূটনৈতিক সফরেও ব্র্যান্ডটির উপস্থিতি ছিল। জুলাইয়ে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ভ্যাঙ্কুভারে একটি জোলিবি রেস্তোরাঁয় যান। দুই মাস পর যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী আনাস সারওয়ার বোনিফাসিও গ্লোবাল সিটির একটি শাখা পরিদর্শন করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা টনি তান কাকতিয়ংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এসব সফরে আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে ফিলিপাইনি ব্র্যান্ডটি তুলে ধরা হয়। একই সময়ে রেস্তোরাঁ ব্যবসাটির সামনে ছিল বাস্তব কিছু সিদ্ধান্ত: কোথায় নতুন আউটলেট খোলা হবে, কোন ধরন বেছে নেওয়া হবে এবং চালু শাখাগুলোর বিক্রি কীভাবে বাড়ানো হবে। প্রাদেশিক বাজারের এই পরিকল্পনা ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে সেই কাজের একটি বড় অংশ করে তুলেছে।
মূল তথ্য
- ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের জন্য ফিলিপাইনে ১,৫০০টির বেশি সম্ভাব্য বাণিজ্যিক এলাকা চিহ্নিত করেছে জোলিবি; এর প্রায় ৭১ শতাংশ মেট্রো ম্যানিলার বাইরে।
- বাস্তবে আউটলেট খোলা নির্ভর করবে উপযুক্ত স্থান, প্রত্যাশিত মুনাফা এবং প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকারের ওপর।
- ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ফিলিপাইনে মোট বিক্রির প্রায় ৯০ শতাংশ করেছে জোলিবি, মাং ইনাসাল ও চাউকিং।
- ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফিলিপাইনে মোট বিক্রি বেড়েছে ৫.৭ শতাংশ, আর একই দোকানের বিক্রি বেড়েছে ১.৩ শতাংশ।
- মাং ইনাসালের আটটি ড্রাইভ-থ্রু আউটলেটের গড় দৈনিক বিক্রি অন্য শাখাগুলোর তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি ছিল।
- ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে নতুন আউটলেট খোলার লক্ষ্য ১,০০০ থেকে ১,১০০-তে নামিয়েছে গ্রুপটি; ২০২৭ সালের শেষ দিকে হংকংয়ে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক তালিকাভুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।






