তীব্র উত্থানের পাশাপাশি অব্যাহত অর্থ প্রত্যাহার
৩০ অক্টোবর হংকংয়ের শেয়ারবাজারে তীব্র উত্থান ঘটে। মধ্যাহ্ন বিরতিতে হ্যাং সেং সূচক ৩৭৭ পয়েন্ট বা ১.৬৪% বেড়ে ২৩,৩৩৫-এ দাঁড়ায়। তবে মূল ভূখণ্ডের বিনিয়োগকারীরা অর্থ তুলে নেওয়া অব্যাহত রাখেন। স্টক কানেক্টের মাধ্যমে নিট বিক্রির ধারাবাহিকতা রেকর্ড ১৩টি লেনদেন দিবসে গড়ায়।
সূচিপত্র
- তীব্র উত্থানের পাশাপাশি অব্যাহত অর্থ প্রত্যাহার
- মূল ভূখণ্ডের বিক্রি মাসিক চরমে
- বিস্তৃত বাজারের তুলনায় সূচকের পুনরুদ্ধার ছিল জোরালো
- প্রযুক্তি শেয়ারে ব্যয় ও খরচ নিয়ে উদ্বেগ
- কৌশলবিদদের চোখে আরও দরপতনের ঝুঁকি
- বীমা, ব্যাংক ও ভোক্তাপণ্য শেয়ারে বাজার চাঙা
- আর্থিক ফলাফলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
- বৈদ্যুতিক গাড়ি ও অধিগ্রহণের লক্ষ্য হওয়া কোম্পানির শেয়ারে ভিন্ন গতি
- লেনদেনের চিত্রে বাজারের চাপ স্পষ্ট
- মূল বিষয়গুলো
বৈপরীত্যটি ছিল স্পষ্ট: হংকংয়ের বড় শেয়ারগুলোতে জোরালো উত্থান হলেও গুরুত্বপূর্ণ একদল বিনিয়োগকারী বিক্রি চালিয়ে যান। মধ্যাহ্ন নাগাদ মূল ভূখণ্ডের বিনিয়োগকারীরা হংকংয়ের শেয়ার কেনার চেয়ে ৩.০২৫ বিলিয়ন হংকং ডলার বেশি বিক্রি করেন। টানা ১৩টি লেনদেন দিবসে তাঁদের মোট নিট অর্থ প্রত্যাহারের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬.৭৮৮ বিলিয়ন হংকং ডলার।
আঞ্চলিক প্রবণতার বিপরীতেও ছিল হংকংয়ের বাজার। দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার ৪%-এর বেশি, জাপান ও তাইওয়ানের শেয়ার ২%-এর বেশি এবং মূল ভূখণ্ড চীনের শেয়ার ০.২%-এর বেশি কমে যায়। আগের রাতে প্রযুক্তি শেয়ারের দরপতনে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার নেমেছিল; এশিয়ার লেনদেন চলাকালেও মার্কিন শেয়ারবাজারের ফিউচার সূচক কমতে থাকে।
হংকংয়ে তালিকাভুক্ত মূল ভূখণ্ডের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার অনুসরণকারী হ্যাং সেং চায়না এন্টারপ্রাইজেস সূচক ১২৬ পয়েন্ট বা ১.৬৩% বেড়ে ৭,৮৮২-এ দাঁড়ায়। হ্যাং সেং টেক সূচক ১.৪৩% বেড়ে হয় ৩,৭৯৭। দুপুরের মধ্যে হংকংয়ের বাজারে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৭ বিলিয়ন হংকং ডলার।
তবু অক্টোবর ছিল কঠিন মাস। ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত হ্যাং সেং ৬.৭% কমেছিল; পরের দিনের উত্থানে মাসজুড়ে সূচকের পতন কমে প্রায় ৫%-এ দাঁড়ায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ নিয়ে কমে আসা আগ্রহ, অর্থায়নের উচ্চ ব্যয় এবং কোম্পানির মুনাফার ওপর চাপ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা হিসাব-নিকাশ করছিলেন।
মূল ভূখণ্ডের বিক্রি মাসিক চরমে
স্টক কানেক্টের মাধ্যমে যোগ্য মূল ভূখণ্ডের বিনিয়োগকারীরা সাংহাই ও শেনঝেনের স্টক এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করে হংকংয়ের শেয়ার লেনদেন করতে পারেন। এ ধরনের লেনদেনকে দক্ষিণমুখী লেনদেন বলা হয়। কোনো সময়ে বিক্রি করা শেয়ারের মূল্য কেনা শেয়ারের মূল্যের চেয়ে বেশি হলে তাকে নিট অর্থপ্রবাহ বহির্গমন বলা হয়।
মধ্যাহ্নের হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরে দক্ষিণমুখী লেনদেনে নিট অর্থ প্রত্যাহারের পরিমাণ ছিল ২৭.৪১৭ বিলিয়ন হংকং ডলার, যা ২০২১ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ মাসিক অঙ্ক। পরবর্তী এক হিসাবে মাসটির মোট অর্থ প্রত্যাহার প্রায় ২৮ বিলিয়ন হংকং ডলার বলা হয়। ওই হিসাব অনুযায়ী, এটি রেকর্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাসিক নিট অর্থপ্রবাহ বহির্গমন এবং পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই বিক্রির গতি বেড়েছিল। ২৯ অক্টোবর নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩.৩৬ বিলিয়ন হংকং ডলার, যা আগের লেনদেন দিবসের তুলনায় প্রায় ৩.২ গুণ। তত দিনে টানা ১২টি লেনদেন দিবসে বিক্রি চলছিল; মোট অর্থ প্রত্যাহারের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৩.৭৬ বিলিয়ন হংকং ডলার।
পরদিন সকালে ৩.০২৫ বিলিয়ন হংকং ডলারের অর্থপ্রবাহ বহির্গমন আগের লেনদেন দিবসের তুলনায় প্রায় ৯.৯% কম ছিল, তবে বিক্রির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। পরবর্তী হিসাবে ৩০ অক্টোবরের অর্থপ্রবাহ বহির্গমন ৩.৫৬ বিলিয়ন হংকং ডলার বলা হয়।
প্রকাশিত বিভিন্ন সময়ের লেনদেনের হিসাবের ধারাবাহিকতা ছিল:
- ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত: মাসিক নিট বিক্রি ছিল প্রায় ২৪ বিলিয়ন হংকং ডলার। টানা ১২টি লেনদেন দিবসে মোট অর্থ প্রত্যাহারের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৩.৭৬ বিলিয়ন হংকং ডলার।
- ৩০ অক্টোবর, মধ্যাহ্ন: বিক্রির ধারা ১৩টি লেনদেন দিবসে গড়ায়, মোট অর্থ প্রত্যাহার দাঁড়ায় ৩৬.৭৮৮ বিলিয়ন হংকং ডলার এবং অক্টোবরে নিট অর্থপ্রবাহ বহির্গমন হয় ২৭.৪১৭ বিলিয়ন হংকং ডলার।
- ৩০ অক্টোবরের পরবর্তী হিসাব: দৈনিক নিট বিক্রি দাঁড়ায় ৩.৫৬ বিলিয়ন হংকং ডলার এবং মাসিক মোট অঙ্ক হয় প্রায় ২৮ বিলিয়ন হংকং ডলার।
বাজার দুর্বল থাকলে দক্ষিণমুখী বিনিয়োগকারীরা আগে সহায়তা জুগিয়েছিলেন। তাঁদের টানা বিক্রির ফলে প্রযুক্তি খাতের মূল্যায়ন ও মুনাফার সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ভাবার সময় হংকংয়ের শেয়ারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
বিস্তৃত বাজারের তুলনায় সূচকের পুনরুদ্ধার ছিল জোরালো
হ্যাং সেং ৫২ পয়েন্ট বেড়ে দিন শুরু করে, কিছুক্ষণের জন্য আগের দিনের সমাপনী অবস্থানের চেয়ে ১০ পয়েন্ট নিচে নামে, এরপর সর্বোচ্চ ৪০৯ পয়েন্ট পর্যন্ত ওঠে। সকালে ২৩,৩৬৭.৯৯-এ পৌঁছে সূচকটি ২২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে যায়।
বড় কোম্পানিগুলোই উত্থানে নেতৃত্ব দেয়। বাজারের ওই হিসাব অনুযায়ী, ৯৫টি ব্লু-চিপ শেয়ারের মধ্যে ৮১টির দর বাড়ে, ১৩টির কমে এবং একটির অপরিবর্তিত থাকে। তবে পুরো বাজারে ২৯.৭২% শেয়ারের দর বাড়ে, ২৯.১৫%-এর কমে এবং ৪১.১২% অপরিবর্তিত থাকে।
এই ব্যবধান থেকে লেনদেনের চিত্রটি বোঝা যায়। কোনো শেয়ার সূচকে কিছু কোম্পানির প্রভাব অন্যদের তুলনায় বেশি থাকে। তাই বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে জোরালো উত্থান সূচককে ওপরে তুলতে পারে, যদিও অনেক ছোট শেয়ারের দরপতন হয়। মধ্যাহ্ন নাগাদ ব্লু-চিপ শেয়ারে লেনদেন হয় ৪৩.৫০৯ বিলিয়ন হংকং ডলারের, যা বাজারের মোট লেনদেনের ৪০.৬৬%।
উত্থান সত্ত্বেও অনেক শেয়ারের দর নতুন তলানিতে পৌঁছায়। ৫৩টি শেয়ার রেকর্ড সর্বনিম্ন দর ছোঁয়, আর ১৫৭টি ৫২ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামে। সেশনে বার্ষিক সর্বনিম্ন দর ছোঁয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল টেনসেন্ট, সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন, বিওয়াইডি ও গিলি।
দুপুরের আগে কয়েকটি শেয়ার ওই তলানি থেকে ঘুরে দাঁড়ায়। টেনসেন্ট একপর্যায়ে ৩৭৫.২০ হংকং ডলারে নামার পর ২.০৭% বেড়ে ৩৮৫.৪০ হংকং ডলারে ওঠে। গিলি ১৩.১৫ হংকং ডলারে নামার পর ১.৬৯% বেড়ে ১৩.৮০ হংকং ডলারে দাঁড়ায়। সকালে বাজারের পরিস্থিতি কত দ্রুত বদলেছে, এই ওঠানামা তা দেখায়।
প্রযুক্তি শেয়ারে ব্যয় ও খরচ নিয়ে উদ্বেগ
বিস্তৃত বাজারের সঙ্গে হ্যাং সেং টেক সূচকও বেড়েছে। এর ২০টি কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ে এবং ১০টির কমে। জেডি হেলথ ৫.৬৭% বেড়ে ৩৮.০২ হংকং ডলারে উঠে সূচকের লাভে নেতৃত্ব দেয়; অন্যদিকে ঝিপু ৪.৯৮% কমে ৫০৫.৫০ হংকং ডলারে নামে।
তবে মূল ভূখণ্ডের বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযুক্তি শেয়ারই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল। এসএমআইসি, আলিবাবা ও শাওমিকে প্রধান বিক্রির লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সকালে একপর্যায়ে ৪২.২৬ হংকং ডলারে নামার পর এসএমআইসির দর ২.৪৫% কমে ৪৩.৮৬ হংকং ডলারে দাঁড়ায়।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বেইজিং বড় ধরনের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার পর প্রযুক্তি সূচক যে প্রায় সব দরবৃদ্ধি করেছিল, তার প্রায় পুরোটাই হারায়। ফলে সকালের এই উত্থান দীর্ঘ দরপতনের পর আসে, সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি থেকে নয়।
বিএনপি পারিবাসের এশিয়া-প্যাসিফিক ইকুইটি ডেরিভেটিভস কৌশলবিদ স্কারলেট লিউ বলেন, মূলধনি ব্যয় বাড়লে মুনাফার মার্জিন সংকুচিত হতে পারে—এমন উদ্বেগ রয়েছে বিনিয়োগকারীদের। মূলধনি ব্যয় বলতে সরঞ্জাম, অবকাঠামো ও কম্পিউটিং ব্যবস্থা তৈরির মতো সম্পদে খরচ করা অর্থ বোঝায়। এ বিনিয়োগ ভবিষ্যৎ ব্যবসায় সহায়তা করতে পারে, তবে এর জন্য বড় অঙ্কের অর্থায়নও প্রয়োজন।
লিউ আরও বলেন, ভোক্তা ইলেকট্রনিকস ও বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানিগুলোর কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে স্মৃতিশক্তি চিপের দাম বৃদ্ধিতে প্রভাবিত ব্যবসাও রয়েছে। এসব কোম্পানির আর্থিক চ্যালেঞ্জটি বাস্তব: প্রতিটি পণ্য তৈরির খরচ বেড়ে গেলে বেশি পণ্য বিক্রি করেও লাভ কম হতে পারে।
কৌশলবিদদের চোখে আরও দরপতনের ঝুঁকি
আরবিসি ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট এশিয়ার জ্যেষ্ঠ বিনিয়োগ কৌশলবিদ জেসমিন ডুয়ান বলেন, তলানি খুঁজে পাওয়ার আগে হংকংয়ের শেয়ার আরও ১০% থেকে ১৫% কমতে পারে। বাজারের সংবেদনশীলতার বিশেষ উৎস হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার এবং বিনিয়োগ প্রবাহের কথা উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার হলো মার্কিন সরকারি ঋণপত্র ধরে রাখলে বিনিয়োগকারীরা যে আয় পান। এই আয় বাড়লে বন্ড থেকে বিনিয়োগকারীরা বেশি উপার্জন করতে পারেন, ফলে তুলনায় শেয়ার কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ঋণ বা ব্যবসা সম্প্রসারণে অর্থ প্রয়োজন এমন প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্থায়নের উচ্চ ব্যয়ও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
হংকং ও মূল ভূখণ্ডের শেয়ারবাজার দুর্বল থাকায় মূল ভূখণ্ডের বিনিয়োগকারীরা অভ্যন্তরীণ বন্ডবাজারের দিকে ঝুঁকছিলেন। শেয়ার থেকে বেরিয়ে আসা অর্থের জন্য এ বাজার বিকল্প গন্তব্য হয়ে ওঠে। হংকংয়ে সকালের জোরালো উত্থানের পরও কেন দক্ষিণমুখী ক্রেতারা সঙ্গে সঙ্গে ফিরে আসেননি, তাও এতে ব্যাখ্যা হয়।
ডুয়ানের হিসাবটি ছিল বাজার পূর্বাভাস। উত্থানের পরবর্তী পরীক্ষা ছিল, সেশনের পরও কেনাকাটা চলবে কি না এবং মূল ভূখণ্ডের বিক্রি কমবে কি না। মধ্যাহ্নের হিসাবে দরবৃদ্ধি ও অব্যাহত নিট অর্থপ্রবাহ বহির্গমন একই সঙ্গে ঘটছিল।
বীমা, ব্যাংক ও ভোক্তাপণ্য শেয়ারে বাজার চাঙা
মেংনিউ ডেইরি ছিল সবচেয়ে ভালো করা ব্লু-চিপ শেয়ার। এর দর ৭.১১% বেড়ে ১৯.৪৪ হংকং ডলারে ওঠে। সবচেয়ে খারাপ করে লেনোভো, যার দর ৪.৩৪% কমে ২১.১৮ হংকং ডলারে নামে। দুই কোম্পানির বিপরীতমুখী দরবদল সূচকের সামগ্রিক উত্থানের আড়ালে বাজারের অসম চিত্র তুলে ধরে।
হংকংয়ের ব্যবসায়িক ফলাফল মূল্যায়নের সময় এআইএ-র শেয়ার ৩.৬৩% বেড়ে ৭৪.২৫ হংকং ডলারে ওঠে। তৃতীয় প্রান্তিকে হংকংয়ে বীমা কোম্পানিটির নতুন ব্যবসার মূল্য ৩% কমলেও আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মিলিয়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০% প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
নতুন ব্যবসার মূল্য হলো বীমার এমন একটি পরিমাপক, যা নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রি হওয়া নতুন পলিসি থেকে ভবিষ্যতে কত মুনাফা হতে পারে তার হিসাব দেয়। এআইএ-র হিসাবে একদিকে দুর্বল প্রান্তিক দেখা গেছে, অন্যদিকে শেষ দুই মাসে উন্নতি হয়েছে।
সেদিনই কয়েকটি কোম্পানির ফল প্রকাশের কথা থাকায় বড় ব্যাংকগুলোর শেয়ারও বেড়েছে। এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়নার দর ১.১৭%, ব্যাংক অব চায়নার ০.৩৩%, বিওসি হংকংয়ের ১.০৯% এবং চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংকের ০.৯৯% বাড়ে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়নার দর ১.০৩% বেড়ে ৭.৮৬ হংকং ডলারে দাঁড়ায়; এর আগে শেয়ারটি ৭.৮৬৫ হংকং ডলারের রেকর্ড সর্বোচ্চ দর ছুঁয়েছিল।
আর্থিক ফলাফলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
প্রথম নয় মাসে সিনোপেকের মুনাফা ৩০% বেড়ে ৩৯ বিলিয়ন ইউয়ান হওয়ার খবরের পর শেয়ারটির দর ৪.১৫% বেড়ে ৪.৭৭ হংকং ডলারে ওঠে। তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা বেড়েছে ৫৭%। প্রথম নয় মাসে চায়না মার্চেন্টস পোর্টের মুনাফা ৯.৫% বেড়ে ৪.২ বিলিয়ন ইউয়ান হওয়ায় এর শেয়ার ২.৮২% বেড়ে ১৬.৭৮ হংকং ডলারে দাঁড়ায়।
কসকো শিপিং পোর্টসের শেয়ার ৮.০১% বেড়ে ৬.৩৩৫ হংকং ডলারে ওঠে। তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা মোটামুটি অপরিবর্তিত থেকে ৮২.৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়ালেও রাজস্ব বেড়েছে ১৩%। মুনাফার ঘোষিত পরিবর্তনের তুলনায় শেয়ারের দামের প্রতিক্রিয়া ছিল বেশি জোরালো।
মুনাফা কমলেও কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার বেড়েছে। অনিয়মিত আয়-ব্যয় বাদ দিয়ে হায়ার স্মার্ট হোমের মুনাফা ৩০%-এর বেশি কমে ৩.৫২ বিলিয়ন ইউয়ান হওয়ার পরও শেয়ারটির দর ৪.৪৯% বেড়ে ১৯.৭৯ হংকং ডলারে ওঠে। তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা প্রায় ৮% কমে ১.২৮ বিলিয়ন ইউয়ানে দাঁড়ালেও দংপেং বেভারেজের শেয়ার ৬.৩৩% বেড়ে ৯৬.৬৫ হংকং ডলারে যায়।
প্রথম নয় মাসে চায়না ইউনিকমের মুনাফা ৩৪% কমে ১৩.৩ বিলিয়ন ইউয়ান হলেও শেয়ারটির দর ১.৫৬% বেড়ে ৫.২১৫ হংকং ডলারে ওঠে। সেশনের শুরুতে শেয়ারটি ৫.১১ হংকং ডলারে নেমে ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন দর ছুঁয়েছিল। কয়েকটি ক্ষেত্রে শেয়ারের দর আগে থেকেই অনেকটা কমে যাওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির ফলাফলে প্রতিক্রিয়া জানান।
বৈদ্যুতিক গাড়ি ও অধিগ্রহণের লক্ষ্য হওয়া কোম্পানির শেয়ারে ভিন্ন গতি
বিওয়াইডির তৃতীয় প্রান্তিকের মুনাফা ২৮% বেড়ে ১০ বিলিয়ন ইউয়ানে দাঁড়ালেও প্রথম নয় মাসের মুনাফা ৪.২% কমে ২২.৩ বিলিয়ন ইউয়ান হয়। একপর্যায়ে ৬৭ হংকং ডলারে নেমে ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন দর ছোঁয়ার পর শেয়ারটির দাম ০.৫১% কমে ৬৮.৩০ হংকং ডলারে দাঁড়ায়।
গিলির তৃতীয় প্রান্তিকের মুনাফা ২৮% বেড়ে ৪.৮ বিলিয়ন ইউয়ান হয়; সকালের লেনদেন শেষে শেয়ারটির দর বাড়ে। বিপরীতে বিওয়াইডি ইলেকট্রনিকের প্রথম নয় মাসের মুনাফা ৬৯.৩% কমে যাওয়ায় এর দর ২.৬১% কমে ২১.৬৬ হংকং ডলারে দাঁড়ায়।
অধিগ্রহণের শর্তেও শেয়ারের দামে বড় ওঠানামা ঘটে। পিএজি ২৯% ছাড়ে অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়ার পর লেনদেন আবার শুরু হলে এভারগ্রান্ড প্রপার্টি সার্ভিসেসের দর ১৩.০৮% কমে ১.০৩ হংকং ডলারে নামে।
সিনো বায়োফার্মাসিউটিক্যালের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম ২৮৯ মিলিয়ন হংকং ডলারে ৭৫% শেয়ার কিনতে সম্মত হওয়ার পর বি অ্যান্ড এস ইন্টারন্যাশনালের দর ৮.৫% বেড়ে ১.৬৬ হংকং ডলারে ওঠে। কনসোর্টিয়ামটি বাজারের রেফারেন্স দরের চেয়ে ৩৭% কম দামে সবার জন্য শেয়ার কেনার প্রস্তাবও দেয়। লেনদেনের সময় শেয়ারটির দর ১.৮৮ হংকং ডলারের ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
লেনদেনের চিত্রে বাজারের চাপ স্পষ্ট
মধ্যাহ্ন নাগাদ দক্ষিণমুখী কেনাবেচা মিলিয়ে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৯.১১৭ বিলিয়ন হংকং ডলার, যা আগের সেশনের তুলনামূলক অঙ্কের চেয়ে ৪০.৮৬% কম। তবে হংকংয়ের মোট লেনদেনে এসব লেনদেনের অংশ ১৭.৪৫% থেকে বেড়ে ১৮.২৬% হয়েছে। এতে বোঝা যায়, লেনদেনের গতি কমলেও মূল ভূখণ্ডের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ছিল।
ওয়ারেন্ট এবং কলযোগ্য বুল ও বিয়ার কনট্রাক্টে লেনদেন ১৯.২৯% বেড়ে ১১.৮২১ বিলিয়ন হংকং ডলারে দাঁড়ায়, যা বাজারের মোট লেনদেনের ১১.০৪%। এসব পণ্যের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা দামের পরিবর্তনে বাড়তি প্রভাব নিয়ে অবস্থান নিতে পারেন; তুলনামূলক ছোট বিনিয়োগেও বড় মুনাফা বা ক্ষতি হতে পারে।
আগের ১০টি লেনদেন দিবসের গড় সমাপনী অবস্থান—প্রায় ২৩,৩৩৭.৬৮—সাময়িকভাবে ছাড়ায় হ্যাং সেং। তবে সকালের লেনদেন শেষে সূচকটি সেই অবস্থানের সামান্য নিচে ছিল। প্রযুক্তি সূচক তার সমতুল্য ৩,৮৮৬.৭৯ গড় অবস্থানের নিচে ছিল।
হংকংয়ের বাজারে পুনরুদ্ধারের পরও বিনিয়োগকারীদের সামনে বিবেচনার জন্য দুটি স্পষ্ট বিষয় ছিল: বড় শেয়ারগুলোর জোরালো উত্থান এবং মূল ভূখণ্ডের টানা বিক্রির ধারা। অক্টোবরে সূচকের প্রায় ৫% পতন এবং অনেক শেয়ারের নতুন সর্বনিম্ন দর ছোঁয়া পুনরুদ্ধারের আগের দুর্বলতার ব্যাপ্তি দেখায়।
মূল বিষয়গুলো
- ৩০ অক্টোবর মধ্যাহ্নে হ্যাং সেং ৩৭৭ পয়েন্ট বা ১.৬৪% বেড়ে ২৩,৩৩৫-এ দাঁড়ায়।
- মূল ভূখণ্ডের বিনিয়োগকারীদের দক্ষিণমুখী নিট বিক্রি টানা রেকর্ড ১৩টি লেনদেন দিবসে গড়ায়।
- মধ্যাহ্ন নাগাদ ওই ধারাবাহিক সেশনগুলোতে মোট অর্থ প্রত্যাহার দাঁড়ায় ৩৬.৭৮৮ বিলিয়ন হংকং ডলারে।
- পরবর্তী হিসাবে অক্টোবরে নিট অর্থপ্রবাহ বহির্গমন ছিল প্রায় ২৮ বিলিয়ন হংকং ডলার, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
- এশিয়ার দরপতনশীল বাজারগুলোর তুলনায় হংকং ভালো করলেও মাসে সূচকের পতন ছিল প্রায় ৫%।
- প্রযুক্তি খাতে ব্যয়, বাড়তি খরচ ও কমে আসা মুনাফা উদ্বেগের বিষয় ছিল; অনেক শেয়ারের দর রেকর্ড বা বার্ষিক সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামে।






