নতুন ডিসপ্লে, হালকা ল্যাপটপ এবং ৪০০ ডলার বেশি দাম
অ্যাপল টাচস্ক্রিন PROLED XDR ডিসপ্লে, ডায়নামিক আইল্যান্ড এবং ফিরে আসা আলোকিত অ্যাপল লোগোসহ ১৪ ইঞ্চি ও ১৬ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রো মডেল এনেছে। ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঘোষণা করা ল্যাপটপ দুটির দাম যুক্তরাষ্ট্রে যথাক্রমে ২,৮৯৯ ও ৩,৩৯৯ ডলার থেকে শুরু; বাজারে আসার তারিখ হিসেবে ৬ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূচিপত্র
- নতুন ডিসপ্লে, হালকা ল্যাপটপ এবং ৪০০ ডলার বেশি দাম
- কবে থেকে অর্ডার ও সরবরাহ শুরু?
- PROLED XDR-এ নতুন কী?
- উজ্জ্বলতা ও রং আরও খতিয়ে দেখা দরকার
- টাচ ট্র্যাকপ্যাডের বিকল্প নয়, বরং বাড়তি শর্টকাট
- ডায়নামিক আইল্যান্ড ক্যামেরার অংশকে দিল নতুন কাজ
- পোর্ট না কমিয়েই হালকা বডি
- পারফরম্যান্স পরিচিত, তবে আপগ্রেডের খরচ বেশি
- ব্যাটারি ও সাউন্ডে মিশ্র অভিজ্ঞতা
- মূল বিষয়গুলো
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি শুধু স্ক্রিনে স্পর্শ করার সুবিধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অ্যাপল মিনি-এলইডি ডিসপ্লের বদলে ট্যান্ডেম OLED প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এতে M5 Pro ও M5 Max প্রসেসর বহাল রেখেই ডিসপ্লে অ্যাসেম্বলি পাতলা এবং কম্পিউটার হালকা করা গেছে। পুরোনো ডিসপ্লেযুক্ত একই ধরনের ম্যাকবুক প্রো কনফিগারেশনের তুলনায় নতুন মডেলগুলোর দাম প্রায় ৪০০ ডলার বেশি।
৫ নভেম্বর প্রকাশিত প্রাথমিক পর্যালোচনাগুলোতে একটি সাধারণ সিদ্ধান্ত উঠে এসেছে: OLED প্যানেলই মূল আকর্ষণ। আর ছবি বড় করা, ভিডিওর বিভিন্ন অংশে যাওয়া বা মিরর করা আইফোনে কাজ করার মতো মাঝেমধ্যে করা কাজের জন্য টাচ সুবিধাজনক। দৈনন্দিন কাজে কিবোর্ড ও ট্র্যাকপ্যাডই থাকছে প্রধান ভরসা।
অ্যাপলের হিসাবে সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ২,০০০ নিট। কনফিগারেশনভেদে এতে সর্বোচ্চ ১২৮ জিবি ইউনিফায়েড মেমোরি ও ১৬ টিবি স্টোরেজ পাওয়া যায়। এই সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতাগুলো কেবল নির্দিষ্ট M5 Max কনফিগারেশনে পাওয়া যাবে, সব মডেলে নয়।
ঘোষণার ফলে ম্যাকবুক প্রো পরিবারের মধ্যে ক্রেতাদের সামনে একাধিক বিকল্প তৈরি হয়েছে। নতুন ডিসপ্লে ও হালকা বডির জন্য বেশি দাম দেওয়া, মিনি-এলইডিযুক্ত বিদ্যমান M5 Pro বা M5 Max মডেল বেছে নেওয়া, কিংবা আলাদাভাবে ঘোষিত সাধারণ M6 ল্যাপটপ বিবেচনা করা যাবে।
কবে থেকে অর্ডার ও সরবরাহ শুরু?
অ্যাপল ২৮ অক্টোবর থেকে প্রি-অর্ডার নেওয়া শুরু করেছে। ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ ও দোকানে বিক্রির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ নভেম্বর। তবে একটি প্রাথমিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, অনলাইন বিক্রি ৬ নভেম্বর শুরু হবে এবং পণ্য পাঠাতে অন্তত আরও দুই সপ্তাহ লাগবে। তাই ক্রেতাদের নিজেদের অর্ডারের সঙ্গে দেখানো সরবরাহের সম্ভাব্য তারিখ যাচাই করা উচিত।
ঘোষণাটি কয়েকটি তারিখ ধরে এগিয়েছে:
- ১৯ অক্টোবর, ২০২৬: অ্যাপল তাদের Pro and Tell অভিজ্ঞতার ইঙ্গিত দেয়।
- ২৮ অক্টোবর: অ্যাপল টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রো ঘোষণা করে এবং প্রি-অর্ডার শুরু করে।
- ৫ নভেম্বর: ডিসপ্লের মান, টাচ কন্ট্রোল, পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি লাইফ নিয়ে প্রাথমিক পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়।
- ৬ নভেম্বর: ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ ও খুচরা বিক্রি শুরুর ঘোষিত তারিখ।
দুই আকারের মডেলই সিলভার বা স্পেস ব্ল্যাক রঙে পাওয়া যায়। স্ট্যান্ডার্ড গ্লাসের পাশাপাশি ঐচ্ছিক ন্যানো-টেক্সচার ফিনিশও রয়েছে। টাচ সুবিধা নেই এমন বিদ্যমান ম্যাকবুক প্রো কনফিগারেশনগুলো আগের দামেই পাওয়া যাচ্ছে।
টাচস্ক্রিন ল্যাপটপের ঘোষণা এসেছে M6 MacBook Pro ঘোষণার পর। ওই ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রে ১,৯৯৯ ডলার এবং জাপানে ৩৩৯,৮০০ ইয়েন থেকে শুরু হওয়া আলাদা ১৪ ইঞ্চি মডেল আনা হয়েছিল। সেই মডেলে পরিচিত ডিসপ্লে ও বডিই রাখা হয়েছে। অন্যদিকে টাচস্ক্রিন মডেলগুলোতে নতুনভাবে নকশা করা ডিসপ্লে ও চ্যাসিসের সঙ্গে আরও শক্তিশালী M5 Pro ও M5 Max চিপ পরিবারের সমন্বয় রয়েছে।
PROLED XDR-এ নতুন কী?
অ্যাপলের PROLED XDR নামের মধ্যে রয়েছে ট্যান্ডেম OLED হার্ডওয়্যার, ডিসপ্লে ইঞ্জিন এবং কারখানায় করা ক্যালিব্রেশন। OLED পিক্সেল নিজেরাই আলো তৈরি করে, তাই স্ক্রিনে আলাদা ব্যাকলাইট লাগে না। কালো অংশের পিক্সেলগুলো আলাদাভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে স্থানীয় ডিমিং জোন ব্যবহার করা ডিসপ্লেতে উজ্জ্বল বস্তুর চারপাশে যে মৃদু আলোর বলয় দেখা যেতে পারে, তা ছাড়াই গভীর কালো রং পাওয়া যায়।
ট্যান্ডেম OLED-এ আলো নির্গতকারী স্তর একটির ওপর আরেকটি সাজানো থাকে। অ্যাপল এই বিন্যাসের সঙ্গে এমন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে, যা ছবির ধরন, তাপমাত্রা, পরিবেশের আলো এবং প্যানেল কতটা ব্যবহৃত হচ্ছে তার ভিত্তিতে প্রতিটি পিক্সেল সমন্বয় করে। কোম্পানির দাবি, এই সমন্বয় সাব-মিলিসেকেন্ড নির্ভুলতায় করা হয়।
১৪.২ ইঞ্চি প্যানেলের রেজোলিউশন ৩,০২৪ বাই ১,৯৮৬ পিক্সেল; ১৬.৩ ইঞ্চি সংস্করণের রেজোলিউশন ৩,৪৭২ বাই ২,২৬৬ পিক্সেল। দুটিরই প্রতি ইঞ্চিতে ২৫৪ পিক্সেল। বড় স্ক্রিনটি আগের ১৬.২ ইঞ্চি ডিসপ্লের চেয়ে সামান্য বড়।
অ্যাপল ১০,০০০,০০০:১ কনট্রাস্ট রেশিও উল্লেখ করেছে, যেখানে বিদ্যমান Liquid Retina XDR মডেলগুলোর ক্ষেত্রে এটি ১,০০০,০০০:১। কনট্রাস্ট বলতে ছবির সবচেয়ে অন্ধকার ও উজ্জ্বল অংশের পার্থক্য বোঝায়। ফটোগ্রাফার ও ভিডিও সম্পাদকদের কাছে বেশি কনট্রাস্টে ছায়ার সূক্ষ্মতা ও উজ্জ্বল হাইলাইট বিচার করা সহজ হতে পারে।
ProMotion রিফ্রেশ রেট ১০ হার্টজ থেকে ১২০ হার্টজের মধ্যে সমন্বয় করে। বেশি রিফ্রেশ রেটে নড়াচড়া ও স্ক্রলিং আরও মসৃণ দেখায়; আর ছবি ধীরে বদলালে কম রিফ্রেশ রেটে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন আপডেট কমে।
উজ্জ্বলতা ও রং আরও খতিয়ে দেখা দরকার
অ্যাপলের ২,০০০ নিটের হিসাবটি HDR কনটেন্টের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা এবং বাইরে SDR কনটেন্ট দেখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নিট হলো ডিসপ্লে কতটা আলো তৈরি করে তার পরিমাপ। পুরো স্ক্রিনজুড়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা যায় এমন উজ্জ্বলতা ১,০০০ নিট বলা হয়েছে, তাই সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতার মানটি নির্দিষ্ট কিছু দেখার পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য।
HDR-এর সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ১,৬০০ থেকে বেড়ে ২,০০০ নিট হয়েছে, অর্থাৎ ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি। বাইরে SDR কনটেন্টের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা দ্বিগুণ হয়ে ১,০০০ থেকে ২,০০০ নিট হয়েছে। পুরো স্ক্রিনজুড়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা HDR উজ্জ্বলতা ১,০০০ নিটেই রয়েছে। তাই স্পেসিফিকেশনে বাইরে স্ক্রিন দেখার সুবিধা ও অত্যন্ত উজ্জ্বল হাইলাইটের উন্নতিই বেশি উল্লেখযোগ্য।
ডিসপ্লেটিতে P3 ও Adobe RGB সমর্থন রয়েছে, পাশাপাশি সবুজ ও সায়ান রঙের বিস্তৃত পরিসরও পাওয়া যায়। অ্যাপলের দাবি, এটি Rec. 2020-এর ৮০ শতাংশের বেশি রঙ দেখাতে পারে। এই নামগুলো রঙের বিভিন্ন পরিসর বোঝায়। ফটোগ্রাফি ও প্রিন্টের কাজে Adobe RGB বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, আর উন্নত ভিডিও কাজের জন্য ব্যবহৃত হয় Rec. 2020।
স্ট্যান্ডার্ড গ্লসি ডিসপ্লেতে প্রতিফলনের হার ১ শতাংশ বলেও উল্লেখ করেছে অ্যাপল। ঐচ্ছিক ন্যানো-টেক্সচার গ্লাস যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০ ডলার দামে পাওয়া যায় এবং উজ্জ্বল আলোয় ঝলক কমানোর জন্য তৈরি। পর্যালোচকদের মতে, ঐচ্ছিক ফিনিশেও আঙুলের ছাপ সমস্যা ছিল।
ডিসপ্লে ইঞ্জিন সময়ের সঙ্গে প্রতিটি পিক্সেলের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করে এবং ছবির মান বজায় রাখতে সমন্বয় করে। দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। যারা দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনে এডিটিং টাইমলাইন, টুলবার বা অন্যান্য স্থির উপাদান রেখে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক বিবেচনা।
টাচ ট্র্যাকপ্যাডের বিকল্প নয়, বরং বাড়তি শর্টকাট
অ্যাপল আলাদা সেন্সিং স্তর বসানোর বদলে টাচ সেন্সরটি সরাসরি ডিসপ্লে প্যানেলের মধ্যে যুক্ত করেছে। কোম্পানির দাবি, এতে আঙুলের নড়াচড়া ও স্ক্রিনের প্রতিক্রিয়ার মধ্যকার বিলম্ব কমে। নতুনভাবে নকশা করা হিঞ্জ ট্যাপ করার সময় ডিসপ্লেকে স্থির রাখতে সাহায্য করে, আর টাচ ইন্টারঅ্যাকশনের সময় ভিডিও স্ট্যাবিলাইজেশন ক্যামেরার ছবি মসৃণ রাখে।
অ্যাপল স্ক্রল করা, জুম করা, প্রেজেন্টেশনের স্লাইড সরানো ও উইন্ডো সাজানোর জন্য বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির কথা বলেছে। শুরু থেকেই তাদের অ্যাপগুলোতে টাচ সমর্থন রয়েছে। macOS ট্যাপকে মাউস ক্লিকে রূপান্তর করে, তাই অনেক বিদ্যমান অ্যাপ পুরোপুরি নতুনভাবে নকশা না করেও সাড়া দিতে পারে।
পর্যালোচকদের মতে, ছোট ও সরাসরি কিছু কাজের জন্য এই পদ্ধতি কার্যকর। ছবির নির্দিষ্ট অংশ বড় করা, ভিডিও টাইমলাইনে কোনো জায়গা বেছে নেওয়া এবং একসঙ্গে কিছু দেখানোর সময় অন্য কাউকে স্ক্রিনে ট্যাপ করতে দেওয়া ছিল বারবার উঠে আসা উদাহরণ। টাচ ব্যবহারে iPhone Mirroring-ও বেশি পরিচিত মনে হয়; মিরর করা ফোনের অ্যাপের মধ্যে ওপরের দিকে সোয়াইপ করার মতো অঙ্গভঙ্গিও করা যায়।
প্রযুক্তি পর্যালোচক ডেভিড পিয়ার্স নতুন কন্ট্রোল ব্যবহার করে আবার সাধারণ কাজ শুরু করার অভিজ্ঞতা এভাবে বর্ণনা করেছেন:
কিন্তু দিনের কাজ করতে করতে আমি বারবার ভুলে যাই যে এখন হাত বাড়িয়ে স্ক্রিনে টোকা দিতে পারি।
সীমাবদ্ধতাগুলো স্পষ্ট। স্ক্রিনে কিবোর্ড নেই, শব্দে ট্যাপ করলে পরিচিত টেক্সট নির্বাচন মেনু আসে না, আর Apple Pencil-ও সমর্থিত নয়। পরীক্ষার সময় কিছু গেমের বোতাম টাচে কাজ করেনি। আবার যেসব কন্ট্রোল পয়েন্টার ওপর নিয়ে গেলে কাজ করে, সেগুলোর জন্য অন্য ইনপুট পদ্ধতি দরকার।
দীর্ঘ সময় ব্যবহারে হাত ক্লান্ত হওয়ার কথাও একাধিক পর্যালোচক জানিয়েছেন। ল্যাপটপটি ভাঁজ করে ট্যাবলেট বানানো যায় না, আর Accessibility সেটিংস থেকে টাচ বন্ধ করা যায়। ডেভেলপাররা হালনাগাদ API ব্যবহার করে আরও সমৃদ্ধ অঙ্গভঙ্গি যোগ করতে পারবেন, তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় নতুন ইনপুটকে কেন্দ্র করে তৈরি অ্যাপের সংখ্যা তুলনামূলক কম বলে দেখা গেছে।
ডায়নামিক আইল্যান্ড ক্যামেরার অংশকে দিল নতুন কাজ
আগের ক্যামেরা নচের বদলে ডায়নামিক আইল্যান্ড এমন একটি অংশ এনেছে, যা তথ্য ও কন্ট্রোল দেখাতে প্রসারিত হতে পারে। অ্যাপল সেখানে Spotlight, Live Activities ও Siri AI-এর পাশাপাশি Now Playing কন্ট্রোলও রেখেছে।
জোড়া আইফোনের Live Activities-ও আইল্যান্ডে দেখা যেতে পারে। ক্লিক বা ট্যাপ করলে সমর্থিত আইটেমগুলো প্রসারিত হয়, ফলে পুরো অ্যাপ উইন্ডো না খুলে বা মেনু বারে খোঁজাখুঁজি না করেই তথ্য পাওয়া যায়।
প্রযুক্তি পর্যালোচক জেসন স্নেল পুরোনো কাটআউট ও নতুন ইন্টারফেসের ব্যবহারিক পার্থক্য এভাবে বর্ণনা করেছেন:
ডায়নামিক আইল্যান্ডের একটা কাজ আছে, আর এতে ম্যাকবুক প্রো আরও ভালো হয়েছে।
ক্যামেরাটি আগের মতোই ১২ মেগাপিক্সেলের Center Stage মডেল, যাতে Desk View ও 1080p ভিডিও রয়েছে। প্রমাণীকরণে এখনো Touch ID ব্যবহৃত হয়। এই মডেলগুলোতে অ্যাপল Face ID বা বিল্ট-ইন সেলুলার সংযোগ যোগ করেনি।
পোর্ট না কমিয়েই হালকা বডি
১৪ ইঞ্চি M5 Pro মডেলের ওজন ৩.০ পাউন্ড, আগের তুলনীয় মডেলের ৩.৫ পাউন্ড থেকে কম। ১৬ ইঞ্চি M5 Pro-এর ওজন ৪.৭ থেকে কমে ৪.০ পাউন্ড হয়েছে। যথাক্রমে প্রায় ১৪ ও ১৫ শতাংশ কমেছে। M5 Max সংস্করণগুলো সামান্য ভারী: ৩.১ ও ৪.১ পাউন্ড।
ছোট মডেলের পুরুত্ব ০.৬১ থেকে কমে ০.৫৯ ইঞ্চি হয়েছে, আর বড় মডেলের ক্ষেত্রে ০.৬৬ থেকে কমে ০.৬৩ ইঞ্চি। আলাদা ডিসপ্লে ব্যাকলাইট সরানোর ফলে পাতলা নকশার জন্য জায়গা তৈরি হয়েছে; পাশাপাশি চ্যাসিসের অন্য অংশেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
অ্যাপল তিনটি Thunderbolt 5 পোর্ট, HDMI, SDXC কার্ড স্লট, MagSafe 3 চার্জিং ও হেডফোন জ্যাক রেখেছে। ওয়্যারলেস সংযোগের মধ্যে রয়েছে Wi-Fi 7, Bluetooth 6 ও Thread; তবে Wi-Fi 7 পাওয়া যাবে কি না, তা দেশ বা অঞ্চলভেদে আলাদা। M5 Pro সর্বোচ্চ তিনটি বাহ্যিক ডিসপ্লে সমর্থন করে, আর M5 Max সমর্থন করে সর্বোচ্চ চারটি।
২০১৬ সালের নতুন নকশার পর ম্যাকবুক প্রো থেকে হারিয়ে যাওয়া আলোকিত অ্যাপল লোগোটি ফিরেছে। এর উজ্জ্বলতা ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা ও পরিবেশের আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করে। OLED-এ ঢাকনা আলোকিত করার মতো ব্যাকলাইট না থাকায় অ্যাপলকে আলাদা আলোকব্যবস্থা তৈরি করতে হয়েছে।
অ্যাপলের দাবি, ল্যাপটপগুলোতে ৫৫ শতাংশ পুনর্ব্যবহৃত উপাদান রয়েছে; বিদ্যমান নকশায় এই হার ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ ১০ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। প্যাকেজিং সম্পূর্ণভাবে ফাইবারভিত্তিক।
পারফরম্যান্স পরিচিত, তবে আপগ্রেডের খরচ বেশি
M5 Pro ও M5 Max হলো বিদ্যমান প্রিমিয়াম ম্যাকবুক প্রো মডেলগুলোতে ব্যবহৃত একই প্রসেসর পরিবার। প্রাথমিক পরীক্ষায় তুলনীয় মেশিনগুলোর কাছাকাছি পারফরম্যান্স পাওয়া গেছে। নতুন কুলিং ব্যবস্থা পাতলা বডির ভেতরেও গতি বজায় রাখে এবং OLED প্যানেল থেকে তাপ দূরে সরিয়ে দেয়।
১৪ ইঞ্চি মডেলের প্রাথমিক কনফিগারেশনে রয়েছে ১৫-কোর CPU, ১৬-কোর GPU, ২৪ জিবি ইউনিফায়েড মেমোরি এবং ১ টিবি SSD। আরও উচ্চমানের M5 Pro বিকল্পে রয়েছে ১৮-কোর CPU ও ২০-কোর GPU। ইউনিফায়েড মেমোরি হলো প্রসেসর ও গ্রাফিকস হার্ডওয়্যারের যৌথভাবে ব্যবহৃত মেমোরি।
M5 Max-এ ৩২ বা ৪০ কোরের GPU পাওয়া যায়। মেমোরি ব্যান্ডউইডথ, অর্থাৎ চিপ ও মেমোরির মধ্যে ডেটা চলাচলের গতি, শীর্ষ সংস্করণে প্রতি সেকেন্ডে ৬১৪ জিবি পর্যন্ত। ১২৮ জিবি মেমোরির বিকল্পটি পেতে ৪০-কোর GPU নিতে হবে, আর ৪ টিবির বেশি স্টোরেজ কেবল M5 Max-এ পাওয়া যায়।
প্রতিটি GPU কোরে AI কাজের জন্য Neural Accelerator রয়েছে। চিপগুলোতে আরও আছে ১৬-কোর Neural Engine। এসব উপাদান ভারী গ্রাফিকসের কাজের পাশাপাশি কম্পিউটারেই AI মডেল চালাতে সাহায্য করতে পারে। ProRes, H.264 ও HEVC-সহ বিভিন্ন ফরম্যাটের জন্য রয়েছে বিশেষায়িত মিডিয়া হার্ডওয়্যার।
১৪ ইঞ্চি M5 Max মডেলের দাম শুরু ৪,৪৯৯ ডলার থেকে, আর ১৬ ইঞ্চি মডেলের ৪,৭৯৯ ডলার থেকে। ৪৮ জিবি মেমোরি ও ১ টিবি স্টোরেজসহ বহুল পরীক্ষিত ১৪ ইঞ্চি M5 Pro কনফিগারেশনের দাম ৩,৬৯৯ ডলার। পরীক্ষিত আরেকটি কনফিগারেশন, ১২৮ জিবি মেমোরি ও ২ টিবি স্টোরেজসহ ১৬ ইঞ্চি M5 Max, এর দাম ৭,৫৪৯ ডলার।
তুলনীয় ২,৪৯৯ ডলারের মিনি-এলইডি মডেলের তুলনায় ৪০০ ডলারের বাড়তি দাম প্রায় ১৬ শতাংশ। এই পার্থক্য দিয়ে ক্রেতারা OLED ডিসপ্লে, টাচ, ডায়নামিক আইল্যান্ড ও হালকা নকশা পাচ্ছেন। তবে একই চিপ স্পেসিফিকেশনে প্রসেসিং পারফরম্যান্স কাছাকাছি থাকে।
ব্যাটারি ও সাউন্ডে মিশ্র অভিজ্ঞতা
অ্যাপলের সর্বোচ্চ ব্যাটারি লাইফের দাবি, ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত, কেবল ১৬ ইঞ্চি M5 Pro-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ওয়্যারলেস ব্রাউজিংয়ের দাবি ১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত। ১৪ ইঞ্চি M5 Pro-তে স্ট্রিমিংয়ে ২২ ঘণ্টা এবং ব্রাউজিংয়ে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বলা হয়েছে; M5 Max কনফিগারেশনে ব্যাটারি লাইফের হিসাব আরও কম।
বিভিন্ন কাজের চাপে পর্যালোচকদের পরীক্ষায় ভিন্ন ফল এসেছে। ১৪ ইঞ্চি মডেলের ব্যাটারি পরীক্ষায় জো অসবর্ন ২৪ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট পেয়েছেন। কাইল কুচারস্কি ভিডিও কলসহ ব্যবহারের সময় ১৬ ইঞ্চি M5 Max-এ ১৩ ঘণ্টার বেশি পেয়েছেন। অন্য কয়েকজন প্রাথমিক পর্যালোচক তখনও আনুষ্ঠানিক ব্যাটারি পরীক্ষা শেষ করেননি।
উপযুক্ত যন্ত্রাংশ দিয়ে প্রায় ৩০ মিনিটে দ্রুত চার্জে ৫০ শতাংশ চার্জ করা যায়। দ্রুত চার্জের জন্য ১৪ ইঞ্চি মডেলে ৯৬ ওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার চার্জার দরকার; ১৬ ইঞ্চি মডেলে দরকার ১৪০ ওয়াট বা তার বেশি। প্রাথমিক ১৪ ইঞ্চি কনফিগারেশনে ৭০ ওয়াটের অ্যাডাপ্টার দেওয়া হয়, তাই বিজ্ঞাপনে বলা চার্জিং গতি পেতে ক্রেতাদের চার্জার বেছে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
চারটি উফার ও দুটি টুইটারসহ ছয় স্পিকারের সিস্টেম নতুনভাবে নকশা করেছে অ্যাপল। কোম্পানির দাবি, এতে বেস ৫০ শতাংশ গভীর হয়েছে। সিনেমা দেখার সময় সাউন্ডের জোরালো প্রভাবকে পর্যালোচকেরা স্বাগত জানালেও গান, পডকাস্ট ও কথাবার্তার ক্ষেত্রে তাদের মত একরকম ছিল না। কারও কারও কাছে আগের ম্যাকবুক প্রো স্পিকারের তুলনায় শব্দ বেশি বুমিয় মনে হয়েছে।
প্রাথমিক মূল্যায়নে তাই সিদ্ধান্তটি বেশ নির্দিষ্ট: নতুন ডিসপ্লে ও কম ওজনই এই সংস্করণ বেছে নেওয়ার সবচেয়ে জোরালো কারণ। টাচ কিছু সুবিধাজনক কাজ যোগ করে, আর মিনি-এলইডিযুক্ত একই চিপের M5 কনফিগারেশনগুলো কাছাকাছি কম্পিউটিং ক্ষমতার সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে থাকছে।
মূল বিষয়গুলো
- অ্যাপল ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রো ঘোষণা করে; বাজারে আসার তারিখ হিসেবে ৬ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ ইঞ্চি মডেলের দাম ২,৮৯৯ ডলার এবং ১৬ ইঞ্চি মডেলের ৩,৩৯৯ ডলার থেকে শুরু, যা তুলনীয় মিনি-এলইডি মডেলের চেয়ে প্রায় ৪০০ ডলার বেশি।
- ট্যান্ডেম OLED-এ রয়েছে সর্বোচ্চ ২,০০০ নিট উজ্জ্বলতা, বিস্তৃত রঙের সমর্থন এবং ডায়নামিক আইল্যান্ড।
- M5 Pro সংস্করণ দুটির ওজন ৩.০ ও ৪.০ পাউন্ড; পোর্টগুলো আগের মতোই রয়েছে।
- মাঝেমধ্যে সরাসরি কিছু কাজের জন্য টাচ ব্যবহার করা যায়, তবে Apple Pencil সমর্থন বা ট্যাবলেটে রূপান্তরের সুবিধা নেই।
- সর্বোচ্চ কনফিগারেশনে ১২৮ জিবি মেমোরি ও ১৬ টিবি স্টোরেজ পাওয়া যায়; তবে কোন চিপ নেওয়া হয়েছে তার ওপর সীমাবদ্ধতা নির্ভর করে।
- ২৪ ঘণ্টা ব্যাটারি লাইফের দাবি ১৬ ইঞ্চি M5 Pro-তে ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।






