বাংলামোরোর প্রথম নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে ৫১–২৭ ভোটে জয়ী ম্যাকাকুয়া

পড়তে 10 মিনিট
Macacua wins 51–27 vote to lead Bangsamoro's first elected government

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা: সাত বছরের অন্তর্বর্তী শাসনের অবসান

২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর আবদুলরাওফ "স্যামি গামবার" ম্যাকাকুয়া সাবেক নেতা আহোদ "আল হাজ মুরাদ" এবরাহিমকে ৫১–২৭ ভোটে পরাজিত করে, মুসলিম মিন্দানাওয়ের বাংলামোরো স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের প্রথম নির্বাচিত সংসদের অধীনে মুখ্যমন্ত্রী হন। কোটাবাটো সিটিতে এই ভোটে নিয়োগপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের সাত বছরের বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটে।

সূচিপত্র
  1. সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা: সাত বছরের অন্তর্বর্তী শাসনের অবসান
  2. আইনপ্রণেতারা যেভাবে সরকার বেছে নিলেন
  3. দলীয় আনুগত্যের গণ্ডি পেরিয়ে জোট
  4. সশস্ত্র সংগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শিবির
  5. অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতির প্রথম পরীক্ষা
  6. মন্ত্রিসভা গঠন ও আইনপ্রণয়নের কাজ শুরু
  7. শান্তির অঙ্গীকার নির্বাচনের বাইরেও
  8. কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বায়ত্তশাসনের অর্থায়ন
  9. স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় নাগরিক সমাজের দাবি
  10. মূল বিষয়গুলো

৬৯ বছর বয়সী ম্যাকাকুয়া মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের সশস্ত্র শাখার সাবেক কমান্ডার। ৮০ সদস্যের সংসদে প্রয়োজনীয় ৪১ ভোটের চেয়ে ১০টি বেশি ভোট পান তিনি। একজন আইনপ্রণেতা ভোটদানে বিরত ছিলেন এবং অসুস্থতার কারণে আরেকজন অনুপস্থিত ছিলেন। পুরো সংসদের ৬৩.৭৫ শতাংশ সদস্যের সমর্থন পেয়েছেন তিনি।

বাংলামোরো সংসদের ঘোষণায় বলা হয়েছে, উদ্বোধনী অধিবেশনে ৭৯ জন আইনপ্রণেতা উপস্থিত ছিলেন এবং দুপুরে সদস্যরা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁদের মেয়াদ চলবে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

ম্যাকাকুয়া এর আগেও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ছিলেন। পরিবর্তন এসেছে তাঁর কর্তৃত্বের ভিত্তিতে: ১৪ সেপ্টেম্বরের আঞ্চলিক নির্বাচনে নির্বাচিত আইনপ্রণেতারা তাঁকে নিয়মিত সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছেন। এর ফলে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের নিয়োগ দেওয়া সদস্যদের নিয়ে গঠিত প্রশাসনের জায়গায় নতুন সরকার এসেছে।

বার্ম গ্র্যান্ড কোয়ালিশনের আমের জাকারিয়া রাকিমও একই ব্যবধানে স্পিকার নির্বাচিত হন; মোহাম্মদ ইয়াকুবকে তিনি ৫১–২৭ ভোটে হারান। এই দুই ফলাফলে ক্ষমতাসীন জোট নির্বাহী নেতৃত্ব ও সংসদের সভাপতির পদে নিয়ন্ত্রণ পায়, তবে এবরাহিমের সমর্থকদেরও সংসদে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি থাকে।

আইনপ্রণেতারা যেভাবে সরকার বেছে নিলেন

বাংলামোরো ফেডারেলিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান ম্যাকাকুয়াকে মনোনয়ন দেন এমপি কিতেম কাদাতুয়ান। ইউনাইটেড বাংলামোরো জাস্টিস পার্টির এবরাহিমকে মনোনয়ন দেন এমপি মোহাঘের ইকবাল। অস্থায়ী অধিবেশন সভাপতি ইসহাক মাসতুরা মনোনয়ন ও নির্বাচন পরিচালনা করেন।

আইনপ্রণেতারা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। প্রজাতন্ত্র আইন নং ১১০৫৪, অর্থাৎ বাংলামোরো অর্গানিক ল, অনুযায়ী শুধু উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, সব এমপির সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন। ৮০টি আসন থাকায় একজন সদস্য অনুপস্থিত থাকলেও জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের সংখ্যা ৪১-ই ছিল।

বিজ্ঞাপন

বাংলামোরোর ওয়ালি বা আনুষ্ঠানিক প্রধান শেখ মুসলিম গুইয়ামাদেনের কাছে শপথ নেন ম্যাকাকুয়া। এরপর তিনি স্পিকার নির্বাচন পরিচালনা করেন। অনুপস্থিত এমপি আবদুর রহমান মাংগুদাদাতু সংসদ সচিবালয়কে জানিয়েছিলেন, তিনি অসুস্থ।

বাংলামোরোর ভোটাররা প্রতিনিধি নির্বাচন করেন, আর সেই প্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্য থেকে মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেন। সাবেক মুসলিম মিন্দানাও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ভোটাররা সরাসরি আঞ্চলিক গভর্নর নির্বাচন করতেন। নতুন ব্যবস্থায় আঞ্চলিক সরকার গঠন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে সংসদে সমর্থন পাওয়াই মুখ্য।

সংসদে দলীয় ৪০ জন, জেলা-ভিত্তিক ৩২ জন এবং খাতভিত্তিক আটজন প্রতিনিধি রয়েছেন। খাতভিত্তিক আসনগুলো নারী, তরুণ, ঐতিহ্যবাহী নেতা, উলামা নামে পরিচিত মুসলিম ধর্মীয় পণ্ডিত, মোরো নন এমন আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং বসতি স্থাপনকারী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে। নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক ভোট গণনা বোর্ড সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে ২০ লাখ ১৮ হাজার ৪৭৮ জন ভোটার নথিভুক্ত করে; ভোট পড়ার হার ছিল ৮৪.৩৪ শতাংশ।

দলীয় আনুগত্যের গণ্ডি পেরিয়ে জোট

আঞ্চলিক নির্বাচনে ম্যাকাকুয়ার দল এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৪১টি আসন পায়নি। ফলে কোন পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা গড়তে পারবে, তা নির্ধারণে দল ও স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতাদের মধ্যে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। উদ্বোধনী অধিবেশনের আগে বাংলামোরো ফেডারেলিস্ট পার্টি ৪৬ জন এমপির সমর্থন পাওয়ার দাবি করেছিল; শেষ পর্যন্ত ম্যাকাকুয়া পান ৫১টি ভোট।

এবরাহিমের পরাজয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনের ভেতরের বিভক্তিও সামনে আসে, যে আন্দোলন অন্তর্বর্তী রূপান্তরের নেতৃত্ব দিয়েছিল। তাঁর ইউনাইটেড বাংলামোরো জাস্টিস পার্টির চারজন জেলা প্রতিনিধি তাঁর বিপক্ষে ভোট দেন: মাগুইন্দানাও দেল সুরের তাওয়াকাল মিদতিমবাং এবং লানাও দেল সুরের হামজা গাউরাকি, লাম্পা পান্দি ও আহমাদ আমির বালিন্দং। বার্ম গ্র্যান্ড কোয়ালিশনের আলি সাংকি এবরাহিমকে সমর্থন করেন।

ভোট শুরুর আগে সংসদে বক্তব্য দেওয়া প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও সংসদীয় নেতৃত্ব নিয়ে আগেই সমঝোতা হয়েছে। অধিবেশনকক্ষ ছাড়ার আগে তিনি সংক্ষেপে ম্যাকাকুয়ার সঙ্গে কথা বলেন।

রাকিমের একই ব্যবধানে ৫১–২৭ ভোটে জয় দেখিয়েছে, নেতৃত্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জোট অটুট ছিল। তাঁর দায়িত্ব ম্যাকাকুয়ার দায়িত্ব থেকে আলাদা: মুখ্যমন্ত্রী নির্বাহী প্রশাসন পরিচালনা করেন, আর স্পিকার আইন নিয়ে বিতর্ক, বাজেট অনুমোদন ও সরকারি ব্যয় পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

সশস্ত্র সংগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শিবির

প্রেসিডেন্ট মার্কোসের বাবার শাসনামলে কিশোর বয়সে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন ম্যাকাকুয়া। পরে তিনি বাংলামোরো ইসলামিক আর্মড ফোর্সেসের চিফ অব স্টাফ হন, যা এমআইএলএফের সামরিক শাখা। এরপর শান্তি আলোচনা ও বেসামরিক প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করেন।

বিজ্ঞাপন

আঞ্চলিক সরকারের নেতৃত্ববিষয়ক পরিচিতিতে বলা হয়েছে, ম্যাকাকুয়া এমআইএলএফের শান্তি আলোচনা প্যানেল এবং বাংলামোরো ট্রানজিশন কমিশনে দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিশন বাংলামোরো অর্গানিক ল-এর খসড়া তৈরি করেছিল। অন্তর্বর্তী সময়ে আঞ্চলিক নির্বাচনী আইন ও স্থানীয় শাসনবিষয়ক আইন প্রণয়নেও তিনি সহায়তা করেন।

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানিমন্ত্রী ছিলেন ম্যাকাকুয়া। পরে এবরাহিমের অধীনে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী হন এবং ২০২৩ সালে নবগঠিত মাগুইন্দানাও দেল নর্তে প্রদেশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। এখন তিনি ওই প্রদেশের তৃতীয় সংসদীয় জেলার প্রতিনিধিত্ব করছেন।

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এবরাহিমের জায়গায় ম্যাকাকুয়াকে নিয়োগ দেওয়ার মার্কোসের সিদ্ধান্তে এমআইএলএফের জ্যেষ্ঠ নেতারা বিরোধিতা করেন। আঞ্চলিক সরকারের পরিচিতিতে এই নিয়োগের সময় ফেব্রুয়ারি ২০২৫ বলা হয়েছে; সংসদের ঘোষণায় তাঁর অন্তর্বর্তী মেয়াদের শুরু মার্চ ২০২৫ উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর ইউনাইটেড বাংলামোরো জাস্টিস পার্টির নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বাংলামোরো ফেডারেলিস্ট পার্টির নেতৃত্ব দেন ম্যাকাকুয়া। এমআইএলএফের কেন্দ্রীয় কমিটি অভিযোগ করে, পরামর্শ ছাড়াই অন্তর্বর্তী পদ গ্রহণ করেছেন তিনি। নির্বাচনের আগে তিনি সামরিক নেতৃত্বের পদও হারান। সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী মনোনয়ন ও ভোটের মধ্য দিয়ে এই বিভক্তি প্রকাশ্যে আসে।

নতুন সরকার গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো এক দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত:

  • ২০১৪: সরকার ও এমআইএলএফ বাংলামোরো বিষয়ে সার্বিক চুক্তি স্বাক্ষর করে।
  • ২০১৯: বার্ম প্রতিষ্ঠিত হয়; নিয়োগপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেন এবরাহিম।
  • ২০২৩: মাগুইন্দানাও দেল নর্তের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হন ম্যাকাকুয়া।
  • ২০২৫: অন্তর্বর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এবরাহিমের স্থলাভিষিক্ত হন ম্যাকাকুয়া।
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ভোটাররা প্রথম নিয়মিত বাংলামোরো সংসদ নির্বাচন করেন।
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬: সংসদ ম্যাকাকুয়াকে মুখ্যমন্ত্রী ও রাকিমকে স্পিকার নির্বাচন করে।
  • ৩০ জুন, ২০৩১: প্রথম নির্বাচিত সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতির প্রথম পরীক্ষা

ম্যাকাকুয়া তাঁর দায়িত্বকে ‘আমানাহ’ হিসেবে বর্ণনা করেন; আরবি এই শব্দের অর্থ আমানত বা দায়িত্ব। রাজনৈতিক আনুগত্য নির্বিশেষে নির্বাচনী এলাকার মানুষের সেবা করার এবং এবরাহিমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘নৈতিক শাসন এজেন্ডা’ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

গ্রহণযোগ্যতা বক্তব্যে দায়িত্ব গ্রহণের তাৎপর্য তুলে ধরে ম্যাকাকুয়া বলেন:

আজ শুধু নেতৃত্ব গ্রহণের বিষয় নয়। এটি একটি প্রতিশ্রুতি পূরণের ধারাবাহিকতা।

নির্বাচনের পর ম্যাকাকুয়ার কাছে গিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং আলিঙ্গন করেন এবরাহিম। পরবর্তী এক বিবৃতিতে এমআইএলএফের চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড বাংলামোরো জাস্টিস পার্টির সভাপতি সংস্কার, শান্তি ও উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং অঞ্চল গঠনে অংশ নিতে বাসিন্দাদের উৎসাহিত করেন।

সংসদীয় কর্মকর্তাদের নির্বাচনের সময়ই সহযোগিতার প্রথম তাৎক্ষণিক পরীক্ষা দেখা দেয়। ইউনাইটেড বাংলামোরো জাস্টিস পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বসতি স্থাপনকারী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এমপি মেরি অ্যান আরনাদো সংখ্যালঘুদের ফ্লোর লিডার ও ডেপুটি মনোনয়নের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। সংখ্যালঘু ফ্লোর লিডার নির্বাচন ছাড়াই অধিবেশন শেষ হয়।

জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে গঠিত সরকারকে সংগঠিত করার অধিকার সংখ্যাগরিষ্ঠের রয়েছে বলে যুক্তি দেন এমপি নাগুইব সিনারিমবো। নতুন প্রশাসনের মেয়াদ শুরুর সময় সংখ্যালঘু নেতৃত্বের কাঠামো নিয়ে বিরোধটির নিষ্পত্তি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রিসভা গঠন ও আইনপ্রণয়নের কাজ শুরু

ম্যাকাকুয়াকে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে, যার অধিকাংশ সদস্য সংসদ থেকে আসবেন। এ ছাড়া আইনপ্রণেতাদের অনুমোদনের জন্য সরকারের কর্মসূচি উপস্থাপন করতে হবে। বাংলামোরো অর্গানিক ল অনুযায়ী, সংসদের নির্বাচনের জন্য দুজন উপমুখ্যমন্ত্রীও মনোনয়ন দেবেন তিনি।

উদ্বোধনী অধিবেশনে আইনপ্রণেতারা দক্ষিণ-পশ্চিম মিন্দানাওয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হাজিমার মাতবা এবং উত্তর-মধ্য মিন্দানাওয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মামিনতাল আদিওং তৃতীয়কে নির্বাচন করেন। তাঁরা ১০ জন ডেপুটি স্পিকার, একজন সংখ্যাগরিষ্ঠ ফ্লোর লিডার এবং বান্তুয়াস লুকমানকে মহাসচিবও বেছে নেন।

আইন পরীক্ষা, জনশুনানি আয়োজন এবং সরকারি কর্মসূচি পর্যালোচনা শুরুর জন্য সংসদীয় কমিটির সভাপতিদের মনোনীত করা হয়। মন্ত্রণালয়গুলো কীভাবে অর্থ ব্যয় করে ও সেবা দেয়, তা খতিয়ে দেখার পথ তৈরি করবে এসব কমিটি।

শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো, কৃষি ও কর্মসংস্থান এখন নিয়মিত সরকারের আইনপ্রণয়ন, বাজেট ও নজরদারির কাজের আওতায়। বাসিন্দারা নির্বাচিত শাসনে পরিবর্তনটি টের পাবেন বাস্তব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে: কোন সড়কে অর্থ বরাদ্দ হবে, স্কুল ও ক্লিনিকে পর্যাপ্ত সম্পদ থাকবে কি না, এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের কাছে সহায়তা কীভাবে পৌঁছাবে।

জনসাড়া দেয় এমন আইন পাস, সেবার মানোন্নয়ন এবং সরকারি সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের আহ্বান জানান মার্কোস। তিনি বলেন, শান্তির সুফল যেন বাংলামোরোর পরিবারগুলো দৈনন্দিন জীবনে পায়, সেটিই লক্ষ্য।

শান্তির অঙ্গীকার নির্বাচনের বাইরেও

২০১৪ সালের চুক্তি সশস্ত্র সংঘাত থেকে স্বায়ত্তশাসিত সংসদীয় সরকারের পথে উত্তরণের পথ তৈরি করে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শান্তি চুক্তির আগে সংঘাতে অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষ নিহত হন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

এমআইএলএফের ভাষ্য, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ১৪ হাজারের বেশি যোদ্ধা। শান্তি চুক্তির অধীনে সংগঠিত সশস্ত্র বাহিনী ছেড়ে দেওয়াই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য। আগের দফায় সাবেক যোদ্ধাদের জন্য প্রতিশ্রুত কিছু সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা এখনো দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছে এমআইএলএফ।

১৪ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনেও সহিংসতার প্রভাব পড়ে। গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে; ইউনাইটেড বাংলামোরো জাস্টিস পার্টি জানায়, তাদের পাঁচ সমর্থক নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক উত্তরণ সম্পন্ন হলেও নিরাপত্তা এবং শান্তি চুক্তির বাকি অঙ্গীকার পূরণে সরকার ও এমআইএলএফের দায়িত্ব রয়ে গেছে।

নাবালাওয়াগের ৫৭ বছর বয়সী সাবেক এমআইএলএফ যোদ্ধা বুরহান উন্দালায়ান দেখান, এসব অঙ্গীকার পরিবারের জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে। অসুস্থতার কারণে তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে হয় এবং সংঘাতে অংশ নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়; পরে তিনি জেলে হন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতিবন্ধী কল্যাণ কর্মসূচির আওতায় কৃত্রিম পা ও আর্থিক সহায়তা পান তিনি, যা তাঁর সন্তানদের শিক্ষার খরচ মেটাতে সাহায্য করে।

সশস্ত্র বিদ্রোহে যোগ দিতে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিরুৎসাহিত করেছিলেন বলে জানান উন্দালায়ান:

যাতে তারা শুধু পড়াশোনা করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক সেবা ও উন্নয়নবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী রাইসা জাজুরি নতুন সংসদে ইউনাইটেড বাংলামোরো জাস্টিস পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছেন। আঞ্চলিক সরকার, জাতীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সহায়তার সঙ্গে শান্তির ওপর আস্থা বজায় রাখার সম্পর্ক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বায়ত্তশাসনের অর্থায়ন

বার্মে ৪৫ লাখের বেশি বাসিন্দা রয়েছেন। সেবা খাতের সহায়তায় ২০২৫ সালে অঞ্চলটির অর্থনীতি ৫.০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে পরিবারের দারিদ্র্যের হার ২০২৩ সালের ২৬ শতাংশ থেকে কমে ১২.৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দুই বছরে ১৩.২ শতাংশ পয়েন্ট কমে হারটি আগের অর্ধেকেরও নিচে নেমেছে।

দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলটিকে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র এবং সর্বনিম্ন সাক্ষরতার হারসম্পন্ন এলাকা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পরিবারের দারিদ্র্যসংক্রান্ত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য উন্নতির চিত্র উঠে এসেছে। ফলে আয় ও শিক্ষায় ধারাবাহিক অগ্রগতি ধরে রাখা নির্বাচিত প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনীতি বিভাগ নতুন নেতৃত্বকে স্থানীয় উৎপাদন জোরদার এবং সরকারি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার পরামর্শ দিয়েছে। এসব অগ্রাধিকারের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান, পরিবহন ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সেবাপ্রাপ্তির বিষয় যুক্ত; এসব সম্প্রদায় কয়েক দশকের সংঘাতের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে।

আঞ্চলিক বাজেটের জন্য জাতীয় অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণই থাকবে। ফিলিপাইনের ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে বার্মে ১১৫ বিলিয়ন পেসোর বেশি, প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার, হস্তান্তরের প্রাথমিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি প্রস্তাবিত অর্থের পরিমাণ; চূড়ান্ত বরাদ্দ নির্ভর করছে জাতীয় বাজেট প্রক্রিয়ার ওপর।

দাতু ওদিন সিনসুয়াতের ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী হেসা লাদিয়াসান বলেন, তিনি তরুণদের জন্য আরও শিক্ষার সুযোগ চান, যার মধ্যে বিদেশে পড়ার সুযোগও রয়েছে। তাঁর ১৫ বছর বয়সী ছোট বোন হেইসি চান আরও নিরাপদ পরিবেশ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ। তাঁদের প্রত্যাশায় নতুন সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা ও দৈনন্দিন নিরাপত্তার বিষয়ও উঠে এসেছে।

স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় নাগরিক সমাজের দাবি

কাতুন্দগ বাংলামোরো ও সহযোগী নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো নির্বাচিত সংসদকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, রাজনৈতিক বংশপরম্পরা ও জাতীয় সরকারের হস্তক্ষেপ ঠেকাতে আরও জোরালো সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে তারা। ব্যয়ের স্বচ্ছতা, স্বাধীন তদারকি এবং জনসাধারণের আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

জোটটি পূর্বপুরুষদের ভূমির দাবি, ভূমি দখল, সম্পদ শোষণ এবং অর্থনৈতিক সুযোগের বৈষম্য মোকাবিলার জন্যও আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। মোরো-খ্রিষ্টান পিপলস অ্যালায়েন্স ২০১৭ সালের মারাউই অবরোধে বাস্তুচ্যুত পরিবার এবং মোরো কৃষক ও মোরো নন এমন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমিহীনতার বিষয়টি তুলে ধরেছে।

এক বিবৃতিতে কাতুন্দগ বাংলামোরো তাদের প্রত্যাশার কথা জানায়:

দুর্নীতিবিরোধী লড়াইকে নতুন সংসদকে তার প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার করতে হবে।

আনাকবায়ান-দক্ষিণ মিন্দানাওয়ের চেয়ারপারসন ফাউজেয়া গুইয়ানি আঞ্চলিক বিষয়ে জাতীয় হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন। মোরো-খ্রিষ্টান পিপলস অ্যালায়েন্সের মহাসচিব আমিরা লিদাসান সতর্ক করে বলেন, মার্কোস প্রশাসনের সঙ্গে ম্যাকাকুয়ার ঘনিষ্ঠতা আঞ্চলিক স্বাধীনতা দুর্বল করতে পারে। ম্যাকাকুয়া গঠনমূলক সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছেন, আর মার্কোস জাতীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে কোটাবাটো সিটির বাসিন্দারাও তাৎক্ষণিক ক্ষতির মুখে পড়েন। পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় চলাচলে বাধা পড়ে এবং ব্যবসা ব্যাহত হয়। আয় হারানোর অভিযোগ করেন বিক্রেতা ও বাসিন্দারা। রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় ভরা দিনে তাঁদের উদ্বেগ দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব চাহিদাগুলো সামনে নিয়ে আসে।

নতুন নেতৃত্বের হাতে প্রধান কর্মকর্তাদের নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। পরবর্তী কাজ হলো সেই জোটকে কার্যকর প্রশাসনে রূপ দেওয়া, সংসদে অর্থবহ নজরদারি গড়ে তোলা এবং অসমাপ্ত শান্তি অঙ্গীকারগুলোকে বাজেট ও নীতিগত সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত করা।

মূল বিষয়গুলো

  • ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর আবদুলরাওফ ম্যাকাকুয়া আহোদ এবরাহিমকে ৫১–২৭ ভোটে হারিয়ে বার্মের প্রথম নির্বাচিত নিয়মিত সরকারের নেতৃত্ব পেয়েছেন।
  • ৮০ জন এমপির মধ্যে ৭৯ জন উপস্থিত ছিলেন; একজন ভোটদানে বিরত ছিলেন এবং অসুস্থতার কারণে একজন অনুপস্থিত ছিলেন।
  • আমের জাকারিয়া রাকিম একই ৫১–২৭ ব্যবধানে স্পিকার নির্বাচিত হন।
  • ১৪ সেপ্টেম্বরের সংসদ নির্বাচনের পর এই ভোটে সাত বছরের বেশি সময়ের নিয়োগপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের অবসান ঘটে।
  • এমআইএলএফের ভাষ্য, শান্তি প্রক্রিয়ার আওতায় নিরস্ত্রীকরণের অপেক্ষায় রয়েছেন ১৪ হাজারের বেশি যোদ্ধা।
  • বাজেট প্রক্রিয়া সাপেক্ষে ২০২৭ সালে বার্মে ১১৫ বিলিয়ন পেসোর বেশি জাতীয় অর্থ হস্তান্তরের প্রস্তাব রয়েছে।
  • প্রথম নির্বাচিত সংসদের মেয়াদ ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে