গ্রাহকদের অভিযোগে কমতে থাকা আমানতের ভিত্তি নিয়ে উদ্বেগ
গ্রাহকদের লেনদেন ও টাকা উত্তোলনে অসুবিধার অভিযোগের পর ডিজিটাল লেনদেন সেবা পুনরুদ্ধারের কাজ এখনও চলছে বলে PT Bank MNC Internasional Tbk. ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর জানিয়েছে। এই বিঘ্নের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়া স্টক এক্সচেঞ্জ প্রশ্ন তোলে এবং আর্থিক পরিষেবা কর্তৃপক্ষ—যা OJK নামে পরিচিত—পর্যালোচনা শুরু করে।
সূচিপত্র
- গ্রাহকদের অভিযোগে কমতে থাকা আমানতের ভিত্তি নিয়ে উদ্বেগ
- টাকা ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে ব্যাংকের বক্তব্য
- আশ্বস্ত করার পাশাপাশি নজরদারি জোরদার করেছে OJK
- ঘটনাপ্রবাহ
- আমানত কমার প্রধান কারণ মেয়াদি আমানতে পতন
- আমানত কমলেও ঋণ বিতরণ বেড়েছে
- সুদের ব্যয় বৃদ্ধি মুনাফায় চাপ ফেলেছে
- ব্যয় বেড়েছে, মুনাফা কমেছে
- ঋণের মানের অবনতি, মূলধন অনুপাত কমেছে
- মূল বিষয়গুলো
ব্যবসায়ী হারি তানোসোয়েদিবজোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং BABP টিকার নামে লেনদেন হওয়া ব্যাংকটি এরই মধ্যে গ্রাহকদের আমানতে উল্লেখযোগ্য পতন রেকর্ড করেছিল। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর গ্রাহক আমানতের পরিমাণ ছিল ১১.৩২ ট্রিলিয়ন রুপিয়া, যা এক বছর আগের ১৩.৬৬ ট্রিলিয়ন রুপিয়ার তুলনায় ১৭.১৩% কম। মেয়াদি আমানতে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে, যা ২.৭৪ ট্রিলিয়ন রুপিয়া কমে ৮.৫০ ট্রিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।
OJK-এর ব্যাংক তদারকি বিভাগের প্রধান দিয়ান এদিয়ানা রায়ে ৩ নভেম্বর বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যাংকের দায় পরিশোধের সক্ষমতাসহ কোনো গুরুতর সমস্যা খুঁজে পায়নি। তবে অর্থ ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করছে এমন যেকোনো কারিগরি বা তারল্যসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থাপনাকে তাগিদ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
আর্থিক পরিসংখ্যানে বোঝা যায়, কেন গ্রাহক ও নিয়ন্ত্রকেরা বিষয়টিতে নজর দিচ্ছেন: ঋণ বিতরণ বাড়লেও আমানত ও সম্পদ কমেছে, সুদের ব্যয় সুদ আয় বৃদ্ধির চেয়ে দ্রুত বেড়েছে এবং ঋণের মানের কয়েকটি সূচকের অবনতি হয়েছে। তবে ব্যাংকটি লাভজনক ছিল; ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে নিট মুনাফা করেছে ৪৬.৬৩ বিলিয়ন রুপিয়া।
টাকা ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে ব্যাংকের বক্তব্য
স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যাখ্যা চাওয়ার জবাবে ৪ নভেম্বর এমএনসি ব্যাংক জানায়, ডিজিটাল লেনদেন পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব সব সেবা চ্যানেল স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা।
নগদ টাকা উত্তোলন ও ব্যালান্স যাচাইয়ের জন্য গ্রাহকদের এমএনসি ব্যাংকের এটিএম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বাভাবিক খোলার সময় শাখায় যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়। আরও তথ্যের জন্য ব্যাংকের কল সেন্টারে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যক্রমে বিঘ্নের ফলে শাখা ও কল সেন্টারে অপেক্ষার সারি দীর্ঘ হয়েছে। তবে এতে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বলে তারা জানিয়েছে। এই মূল্যায়ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসেছে, আর গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের হিসাব ব্যবহারের অসুবিধা নিয়ে।
এমএনসি ব্যাংক আরও জানায়, সহায়তা চাইতে শাখায় আসা বা ফোন করা গ্রাহকদের তারা সাড়া দিয়েছে এবং ওয়েবসাইট ও আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্টের জন্য তথ্যচিত্র তৈরি করেছে। সেবা পুরোপুরি পুনরুদ্ধারের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা সমস্যার মূল কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি ব্যাংকটি।
আশ্বস্ত করার পাশাপাশি নজরদারি জোরদার করেছে OJK
৩ নভেম্বর মাকাসারে সাংবাদিকদের কাছে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন দিয়ান। তিনি বলেন, OJK-এর তদারকিতে বিশেষ করে দায় পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে কোনো গুরুতর সমস্যা পাওয়া যায়নি। সমস্যার সমাধান চলাকালে গ্রাহকদের শান্ত থাকতে এবং ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেন তিনি।
একই দিন আর্থিক ব্যবস্থা স্থিতিশীলতা কমিটির (KSSK) সংবাদ সম্মেলনে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন OJK-এর চেয়ার ফ্রিদেরিকা উইদিয়াসারি দেউই। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যাংকের অবস্থা পর্যালোচনা করছে এবং গ্রাহকদের জিজ্ঞাসার জবাব দেওয়া ও প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী দায় পূরণের সক্ষমতা যাচাই করছে।
ফ্রিদেরিকা বলেন, ব্যাংকের অবস্থা মূল্যায়নের পর OJK তদারকিমূলক ব্যবস্থা নেবে; তাদের পদক্ষেপে ভোক্তা সুরক্ষা ও বিচক্ষণ ব্যাংকিং চর্চা গুরুত্ব পাবে। ব্যাংক খাতজুড়ে তারল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
দায় পরিশোধের সক্ষমতা ও তারল্য ভিন্ন বিষয়। দায় পরিশোধের সক্ষমতা বলতে ব্যাংকের আর্থিক দায় মেটানোর সামর্থ্য বোঝায়। তারল্য হলো পেমেন্ট বা টাকা উত্তোলনের সময় প্রয়োজনীয় অর্থ হাতে থাকা। ডিজিটাল সেবায় বিঘ্ন বলতে গ্রাহকদের সেই অর্থ ব্যবহারের চ্যানেলগুলোতে সমস্যা হওয়াকে বোঝায়। OJK-এর পদক্ষেপে আর্থিক তদারকির পাশাপাশি সেবা পুনরুদ্ধারের বাস্তব প্রয়োজনটিও গুরুত্ব পেয়েছে।
ঘটনাপ্রবাহ
ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা পুনরুদ্ধার নিয়ে ব্যাখ্যার এক মাসেরও বেশি আগে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির সময়সীমা শেষ হয়েছিল। ব্যালান্স শিটের পরিবর্তন এবং পরে গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ বুঝতে এই তারিখগুলো আলাদা করে দেখা জরুরি।
- ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: প্রতিবেদনকাল শেষে এমএনসি ব্যাংকের গ্রাহক আমানত ছিল ১১.৩২ ট্রিলিয়ন রুপিয়া, সম্পদ ১৮.৭৯ ট্রিলিয়ন রুপিয়া এবং ঋণ ১২.০২ ট্রিলিয়ন রুপিয়া।
- ৩ নভেম্বর ২০২৬: মাকাসারে ব্যাংকের অবস্থা নিয়ে কথা বলেন দিয়ান। KSSK সংবাদ সম্মেলনে OJK-এর নজরদারি নিয়ে বক্তব্য দেন ফ্রিদেরিকা।
- ৪ নভেম্বর ২০২৬: স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যাখ্যা চাওয়ার জবাব দিয়ে এমএনসি ব্যাংক জানায়, ডিজিটাল লেনদেন সেবা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।
ব্যবস্থাপনার তাৎক্ষণিক কাজ ছিল নির্ভরযোগ্য সেবা ফিরিয়ে আনা এবং শাখা, এটিএম ও কল সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহকদের জিজ্ঞাসার জবাব দেওয়া। পাশাপাশি OJK-এর কাজ ছিল ব্যাংকের অবস্থা ও গ্রাহকদের দায় পূরণের সক্ষমতা যাচাই করা।
আমানত কমার প্রধান কারণ মেয়াদি আমানতে পতন
এমএনসি ব্যাংকের মোট গ্রাহক আমানত এক বছরে প্রায় ২.৩৪ ট্রিলিয়ন রুপিয়া কমে ১৩.৬৬ ট্রিলিয়ন থেকে ১১.৩২ ট্রিলিয়নে নেমেছে। মেয়াদি আমানত আরও বেশি, ২.৭৪ ট্রিলিয়ন রুপিয়া কমে ১১.২৪ ট্রিলিয়ন থেকে ৮.৫০ ট্রিলিয়নে দাঁড়িয়েছে, যা ২৪.৩৫% পতন।
মেয়াদি আমানত হলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাংকে রাখা গ্রাহকের অর্থ, যার বিনিময়ে সাধারণত সুদ দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরের শেষে এমএনসি ব্যাংকের গ্রাহক আমানতের প্রায় ৭৫% ছিল মেয়াদি আমানত; ১১.৩২ ট্রিলিয়নের মধ্যে ৮.৫০ ট্রিলিয়ন হিসাব করে এই হার পাওয়া যায়। এক বছর আগে ১৩.৬৬ ট্রিলিয়নের মধ্যে ১১.২৪ ট্রিলিয়ন হিসাবে এ ধরনের আমানতের অংশ ছিল প্রায় ৮২%।
চলতি হিসাবের আমানত উল্টো দিকে বেড়ে ৫১.০১% বৃদ্ধিতে ১.২০ ট্রিলিয়ন রুপিয়ায় পৌঁছেছে। সাধারণত ঘন ঘন পেমেন্ট ও লেনদেনে এ ধরনের হিসাব ব্যবহৃত হয়। সঞ্চয়ী হিসাবের স্থিতি ০.৫১% কমে ১.৬২ ট্রিলিয়ন রুপিয়া হয়েছে।
চলতি হিসাবের আমানত বৃদ্ধি অর্থায়নের পতন কিছুটা কমিয়েছে, তবে মেয়াদি আমানত থেকে হারানো অর্থের ঘাটতি পূরণ করতে পারেনি। পরিসংখ্যান বলছে, আমানতের ভিত্তি ছোট হয়েছে এবং এর ধরনও বদলেছে: নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাখা অর্থ কমেছে, আর দৈনন্দিন লেনদেনে ব্যবহৃত হিসাবে আমানতের অংশ বেড়েছে।
আমানত কমলেও ঋণ বিতরণ বেড়েছে
গ্রাহক আমানত কমলেও এমএনসি ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ৮.৩৮% বেড়ে ১১.০৯ ট্রিলিয়ন থেকে ১২.০২ ট্রিলিয়ন রুপিয়ায় দাঁড়িয়েছে। মোট সম্পদ উল্টো দিকে কমেছে: ৮.২৯% পতনে ২০.৪৯ ট্রিলিয়ন থেকে ১৮.৭৯ ট্রিলিয়ন রুপিয়ায় নেমেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ঋণ-আমানত অনুপাত ৮০.৮৭% থেকে বেড়ে ১০৫.৮৩% হয়েছে; বৃদ্ধি ২৪.৯৬ শতাংশ পয়েন্ট। এই অনুপাতে ঋণের সঙ্গে গ্রাহক আমানতের তুলনা করা হয়। সহজভাবে বললে, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী অনুপাতের গণনা পদ্ধতিতে প্রতি ১০০ রুপিয়া আমানতের বিপরীতে ব্যাংকের ঋণ ছিল প্রায় ১০৬ রুপিয়া।
গ্রাহক আমানত ছাড়াও মূলধন ও ঋণসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ব্যাংক অর্থায়ন করতে পারে। অনুপাত ১০০%-এর বেশি হলে অন্যান্য অর্থায়ন উৎসের গুরুত্ব বাড়ে। ঋণের অর্থ কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে ফেরত আসে, অথচ গ্রাহকের আমানত থেকে অনেক আগেই টাকা তোলার প্রয়োজন হতে পারে।
তাই ঋণ বাড়া এবং আমানত কমার সম্মিলিত পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্য অর্থের প্রাপ্যতা ও সময়মতো অর্থায়ন পাওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। গ্রাহকদের কাছে বিষয়টি বাস্তবভাবে ধরা দেয়: প্রয়োজনের সময় টাকা তোলা বা পেমেন্ট করা যাচ্ছে কি না।
সুদের ব্যয় বৃদ্ধি মুনাফায় চাপ ফেলেছে
এমএনসি ব্যাংকের সুদ ব্যয় এক বছর আগের তুলনায় ৫১.০৫% বেড়েছে, যা সুদ আয়ের ৬.৫২% বৃদ্ধির চেয়ে অনেক বেশি। সুদ ব্যয় হলো আমানতসহ অর্থায়নের জন্য ব্যাংককে যে অর্থ দিতে হয়; আর ঋণ ও সুদ দেয় এমন অন্যান্য সম্পদ থেকে ব্যাংকের আয় হলো সুদ আয়।
সুদ ব্যয় বাদ দেওয়ার পর সুদ আয় থেকে পাওয়া নিট সুদ আয় ছিল ৩৮৯.৭৬ বিলিয়ন রুপিয়া। আগের পরিমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ৪৩৪.২৯ বিলিয়ন রুপিয়া। এই দুই অঙ্কে প্রায় ১০.২৫% পতন বোঝা যায়, যদিও উল্লেখ করা পতনের হার ছিল ৪৪.৫২%।
ব্যাংকের নিট সুদ মার্জিনও ৩.২০% থেকে কমে ২.৭৬% হয়েছে; পতন ০.৪৪ শতাংশ পয়েন্ট। সুদ আয় করে এমন সম্পদের বিপরীতে নিট সুদ আয়ের পরিমাণ এই সূচকে দেখা যায়। মার্জিন কমার অর্থ, এ ধরনের নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ থেকে সুদের ব্যবধান বাবদ ব্যাংকের আয় কমেছে।
কমিশন আয় কিছুটা সহায়তা দিয়েছে; এ আয় ছিল ১০০.৩ বিলিয়ন রুপিয়া। বৃদ্ধির হার হিসেবে ৫৬.৫৯% উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু আগের পরিমাণ ৪৩.৭১ বিলিয়ন রুপিয়া বলা হলে বৃদ্ধি দাঁড়ায় প্রায় ১২৯.৪৭%। দুই হিসাবেই আয় বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিললেও অঙ্ক ও শতাংশের মধ্যে মিল খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আর্থিক সম্পদ বিক্রির মুনাফা ৪২% কমে ১৭.২৫ বিলিয়ন রুপিয়ায় দাঁড়িয়েছে।
ব্যয় বেড়েছে, মুনাফা কমেছে
২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে এমএনসি ব্যাংকের কর্মীসংক্রান্ত ব্যয় ৯.৫১% বেড়ে ১৮৪.৪৫ বিলিয়ন রুপিয়ায় দাঁড়িয়েছে। প্রচার ব্যয় ৩.৮৩% বেড়ে ১৭.৯৩ বিলিয়ন রুপিয়া এবং অন্যান্য ব্যয় ৭.৮২% বেড়ে ২৪৮.০৮ বিলিয়ন রুপিয়া হয়েছে।
পরিচালন মুনাফা ১৮.১২% কমে ৫২.৪২ বিলিয়ন রুপিয়ায় দাঁড়িয়েছে। পরিচালন-বহির্ভূত আয় হিসেবে ৬.৭২ বিলিয়ন রুপিয়া উল্লেখ করা হয়েছে, আর কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ছিল ৪৬.৬৩ বিলিয়ন রুপিয়া।
এক বছর আগের ৬০.৩৯ বিলিয়ন রুপিয়ার তুলনায় নিট মুনাফা ১৩.৭৬ বিলিয়ন রুপিয়া বা প্রায় ২২.৭৮% কমেছে। আর্থিক হিসাবের অন্য একটি অংশে উল্লেখ করা ১৩.৮% পতনের সঙ্গে এই অঙ্কের মিল নেই; হিসাব অনুযায়ী ২২.৭৮% সঠিক।
মুনাফার চিত্রে একটি দুর্বল দিক নয়, বরং একাধিক চাপ দেখা যায়। অর্থায়ন ব্যয় দ্রুত বেড়েছে, সুদ মার্জিন কমেছে এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কমিশন আয় বাড়ায় কিছুটা সহায়তা মিলেছে, অন্যদিকে সম্পদ বিক্রি থেকে মুনাফা কমে যাওয়ায় আয়ের আরেকটি উৎস সংকুচিত হয়েছে। ফলে ব্যাংকটি লাভ করেছে ঠিকই, তবে ব্যয় ও কর বাদে এক বছর আগের চেয়ে কম আয় হাতে থেকেছে।
ঋণের মানের অবনতি, মূলধন অনুপাত কমেছে
এমএনসি ব্যাংকের মোট অনাদায়ী ঋণের অনুপাত ৪.০০% থেকে বেড়ে ৪.৬৪% হয়েছে। যেসব ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধে গুরুতর সমস্যায় পড়েছেন, সেসব ঋণকে অনাদায়ী ঋণ বলা হয়। এই বৃদ্ধি ০.৬৪ শতাংশ পয়েন্ট।
নিট অনাদায়ী ঋণের অনুপাত ২.৮০% থেকে বেড়ে ৩.৫০% হয়েছে। এই সূচকে সমস্যাগ্রস্ত ঋণের বিপরীতে রাখা সংস্থান বিবেচনায় নেওয়া হয়। নিম্নমানের শ্রেণিতে থাকা ঋণের সামগ্রিক অনুপাত আরও বেশি বেড়েছে: ২৪.৪১% থেকে ৩৪.৮৪%, অর্থাৎ ১০.৪৩ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি।
নিম্নমানের ঋণের পরিধি ইতিমধ্যে অনাদায়ী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ ঋণের চেয়ে বিস্তৃত। ব্যাংক ঋণ সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখার সময়ে এই বৃদ্ধি ঋণভান্ডারের বড় অংশে আরও নিবিড় নজরদারির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। ঋণগ্রহীতাদের কিস্তি পরিশোধ মুনাফা এবং ব্যাংকে নগদ অর্থ ফেরত আসা—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।
মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ২৪.৫০% থেকে কমে ২০.৬৮% হয়েছে; পতন ৩.৮২ শতাংশ পয়েন্ট। এই অনুপাতে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে যোগ্য মূলধনের পরিমাণ তুলনা করা হয়। মূলধন ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়, আর ঝুঁকির ভিত্তিতে সম্পদের ওজন নির্ধারণে যেসব ক্ষেত্রে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি, সেগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
OJK-এর মূল্যায়ন ও আর্থিক পরিসংখ্যান একই পরিস্থিতির ভিন্ন দিক তুলে ধরে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের তদারকিতে দায় পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে কোনো গুরুতর সমস্যা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অর্থায়নের ভিত্তি ছোট হয়েছে, মুনাফা দুর্বল হয়েছে, ঋণের মানের অবনতি ঘটেছে এবং মূলধন অনুপাত কমেছে। নির্ভরযোগ্য লেনদেন সেবা ফিরলে গ্রাহকদের তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান হবে; আর অর্থায়ন, আয় ও ঋণ পরিশোধ ব্যাংকের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
মূল বিষয়গুলো
- লেনদেন ও টাকা উত্তোলন নিয়ে অভিযোগের পর ডিজিটাল লেনদেন সেবা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে বলে এমএনসি ব্যাংক ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর জানিয়েছে।
- OJK জানিয়েছে, দায় পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে কোনো গুরুতর সমস্যা পাওয়া যায়নি; ব্যাংকের অবস্থা ও গ্রাহকদের দায় পূরণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
- মেয়াদি আমানতে ২.৭৪ ট্রিলিয়ন রুপিয়া পতনের নেতৃত্বে মোট গ্রাহক আমানত ১৭.১৩% কমে ১১.৩২ ট্রিলিয়ন রুপিয়ায় দাঁড়িয়েছে।
- ঋণ বেড়ে ১২.০২ ট্রিলিয়ন রুপিয়ায় পৌঁছেছে, আর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ঋণ-আমানত অনুপাত বেড়ে ১০৫.৮৩% হয়েছে।
- নিট মুনাফা ৬০.৩৯ বিলিয়ন থেকে কমে ৪৬.৬৩ বিলিয়ন রুপিয়ায় দাঁড়িয়েছে; পতন প্রায় ২২.৭৮%।
- ঋণের মানের সূচকগুলোর অবনতি হয়েছে এবং মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত কমে ২০.৬৮% হয়েছে।
- ডিজিটাল সেবা পুনরুদ্ধারের কাজ চলার সময়ে ব্যাংক গ্রাহকদের এটিএম, শাখা ও কল সেন্টার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।






