বড় ব্যাংকের দরপতিতে আবারও তীব্র পতন
বড় ব্যাংকগুলোর দরপতিতে বাজারজুড়ে পতন আরও গভীর হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬-এ ১৯২.৫৪ পয়েন্ট বা ৩.৭৮% কমে ৪,৯০৪.২৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। নতুন নিয়মে যেসব শেয়ারের মালিকানা অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত, সেগুলো বাদ দেওয়ার পর দ্বিতীয় লেনদেনের দিনেই ব্যাংক রাকিয়াত ইন্দোনেশিয়ার একক দরপতিতে জাকার্তা কম্পোজিট ইনডেক্স (স্থানীয়ভাবে আইএইচএসজি নামে পরিচিত) থেকে ২৬.৫৮ পয়েন্ট কমে যায়।
সূচিপত্র
- বড় ব্যাংকের দরপতিতে আবারও তীব্র পতন
- শুরুর উত্থানের পর সূচক ৫,০০০-এর নিচে
- নতুন সূচক-নিয়মে নজরে বড় শেয়ারগুলো
- উপকরণ ও সম্পত্তি খাতে সবচেয়ে বড় পতন
- বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক ও সম্পদ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করেছেন
- কিছু ব্যাংকের শেয়ার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে
- ইরান-ঝুঁকি ফেরায় তেলের দামের স্বস্তি ম্লান
- রুপিয়াহ ও বন্ডবাজারে চাপ অব্যাহত
- যুক্তরাষ্ট্রের ভোট ও চীনের তথ্য বাড়িয়েছে কঠিন পরিস্থিতি
- মূল তথ্য
স্টকবিটের বাজার পর্যালোচনায় ওই দিনের বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিট অর্থপ্রবাহ ৫৭৫ বিলিয়ন রুপিয়াহ বহিঃপ্রবাহ বলে উল্লেখ করা হয়। ব্যাংক রাকিয়াত ইন্দোনেশিয়া, ব্যাংক সেন্ট্রাল এশিয়া, আম্মান মিনারেল ইন্টারন্যাশনাল, ব্যাংক মান্দিরি ও টেলকম ইন্দোনেশিয়াকে পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সব মিলিয়ে সূচকটির মোট পতনের ৭১.৪৯ পয়েন্ট, অর্থাৎ প্রায় ৩৭%, এদের কারণে হয়েছে।
বিক্রির চাপ ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। আরটিআইয়ের হিসাবে লেনদেন শেষে ৬২৪টি শেয়ারের দর কমে, ৫৭টির বাড়ে এবং ৩৭টির অপরিবর্তিত থাকে। অর্থাৎ, দরবৃদ্ধি হওয়া প্রতি একটি শেয়ারের বিপরীতে প্রায় ১১টি শেয়ারের দর কমেছে। রেফিনিটিভের খাতভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সব খাতই নিম্নমুখী ছিল।
ইন্দোনেশিয়ার জন্য সাধারণত স্বস্তিদায়ক খবর—আগের দিন তেলের দামে বড় পতন—সত্ত্বেও মঙ্গলবার বাজারে দরপতন হয়। দেশটি রপ্তানির চেয়ে বেশি তেল আমদানি করে। রুপিয়াহও রেকর্ড সর্বনিম্ন দরপতনের কাছাকাছি ছিল, আর সরকারি ঋণের সুদের হার উঁচুতে থেকে যায়।
স্টকবিট বলেছে, ওই দিনের দরপতনের সুনির্দিষ্ট কারণ তখনও স্পষ্ট নয় এবং ১ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহর কম বিদেশি অর্থপ্রবাহকে তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে বর্ণনা করেছে। একই সময়ে বাজারকে কয়েকটি চাপ সামলাতে হচ্ছিল: সূচকের গঠনে পরিবর্তন, বৈশ্বিক সূচক-প্রদানকারী এমএসসিআইয়ের কাছে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং ইরান-সংশ্লিষ্ট শান্তি আলোচনার ঝুঁকির পুনরুত্থান।
শুরুর উত্থানের পর সূচক ৫,০০০-এর নিচে
আইএইচএসজি ৫,১২৬.৫৩ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে এবং অল্প সময়ের জন্য ৫,১৪৩.৫৮ পয়েন্টে ওঠে। এরপর বিক্রির চাপ বাড়ে। জাকার্তার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার আগেই সূচক ৫,০০০-এর নিচে নেমে যায় এবং দিনের সর্বনিম্ন প্রায় ৪,৮৯৫ পয়েন্টের কাছাকাছি অবস্থানে লেনদেন শেষ করে।
দিনের শুরুর সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে শেষের অবস্থান পর্যন্ত সূচকটি ২৩৯.২৯ পয়েন্ট বা প্রায় ৪.৬৫% কমে। আগের দিনের সমাপনী অবস্থানের চেয়ে বেশি পয়েন্টে লেনদেন শুরু হওয়ায় দৈনিক হিসাবে প্রকাশিত পতনের চেয়ে এই হ্রাস বেশি ছিল।
- ৩ নভেম্বর লেনদেন শুরুর সময় আইএইচএসজি ছিল ৫,১২৬.৫৩ পয়েন্ট; পরে তা ৫,১৪৩.৫৮ পয়েন্টে ওঠে।
- প্রথম পর্বের লেনদেন শেষে আরটিআইয়ের হিসাবে সূচক ছিল ৪,৯৬৩.০৬ পয়েন্ট, ১৩৩.৭৭ পয়েন্ট বা ২.৬২% কম।
- জাকার্তার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে সূচক ছিল ৪,৯৪২.৩১ পয়েন্ট, ৩.০৩% কম।
- লেনদেন শেষে সূচকটি ৪,৯০৪.২৯ পয়েন্টে নেমে যায়, যা ৩.৭৮% পতন।
বিভিন্ন তথ্যসেবায় লেনদেনের মোট পরিমাণে ভিন্নতা ছিল। স্টকবিটের হিসাবে ২২৬.৬৯ মিলিয়ন লট শেয়ারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০.২২ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ। অন্যদিকে, আরটিআইয়ের হিসাবে ২৪.৭২ বিলিয়ন শেয়ারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১১.৪৩ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ; লেনদেন হয় প্রায় ১.৩৮ মিলিয়ন বার। ইন্দোনেশিয়ায় একটি সাধারণ শেয়ার লটে ১০০টি শেয়ার থাকে। সে হিসাবে স্টকবিটের পরিমাণ ২২.৬৬৯ বিলিয়ন শেয়ারের সমান।
নতুন সূচক-নিয়মে নজরে বড় শেয়ারগুলো
ইন্দোনেশিয়া স্টক এক্সচেঞ্জ, যা বিইআই নামে পরিচিত, ২ নভেম্বর থেকে আইএইচএসজি থেকে উচ্চ শেয়ার-মালিকানা কেন্দ্রীভবন বা এইচএসসি হিসেবে চিহ্নিত শেয়ার বাদ দেওয়া শুরু করে। কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের বড় অংশ সীমিতসংখ্যক বিনিয়োগকারীর নিয়ন্ত্রণে থাকলে তাকে এইচএসসি বলা হয়।
এইচএসসি শেয়ার বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে ৮০টি শেয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিবর্তনের আগে এগুলোর সম্মিলিত ওজন সূচকের প্রায় ১৮% বলে ধারণা করা হয়। এসব শেয়ার তালিকাভুক্তই রয়েছে এবং কেনাবেচাও করা যায়, তবে এইচএসসি হিসেবে চিহ্নিত থাকাকালে এগুলোর দরবদল আর আইএইচএসজিতে অবদান রাখে না।
বিইআই বিদ্যমান হিসাবপদ্ধতিই রেখেছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য লেনদেনযোগ্য শেয়ারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের মূল্য সমন্বয় করা হয় এবং কোনো একক শেয়ারের ওজন সর্বোচ্চ ৯% রাখা হয়। একটি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ায় বাকি শেয়ারগুলোর সূচকে অবদানের ধরন বদলে যায়; ফলে সূচকের শিরোনামে প্রকাশিত সংখ্যার পেছনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিন্যাসও বিনিয়োগকারীদের কাছে ভিন্ন হয়।
মঙ্গলবারের হিসাবে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা শেয়ারগুলো থেকেই বোঝা যায়, চাপ কোথায় পড়েছে। বিবিআরআই সূচক থেকে ২৬.৫৮ পয়েন্ট কমিয়েছে, বিবিসিএ ১৩.০৪, এএমএমএন ১১.৮৬, বিএমআরআই ১০.৯০ এবং টিএলকেএম ৯.১১ পয়েন্ট কমিয়েছে। সম্মিলিতভাবে সূচকের মোট পতনের এক-তৃতীয়াংশের বেশি এদের কারণে হয়েছে; বাকি পতন এসেছে অন্য শেয়ারগুলো থেকে।
উপকরণ ও সম্পত্তি খাতে সবচেয়ে বড় পতন
মৌলিক উপকরণ খাতের সূচক ৫.৬৯% কমে সবচেয়ে দুর্বল খাতে পরিণত হয়। এরপর সম্পত্তি ও আবাসন খাতে পতন হয় ৫.১৬%। জ্বালানি খাত কমে ৪.২৯%, ভোক্তা বিবেচনাধীন পণ্য খাত ৩.১৩% এবং আর্থিক খাত ৩.০৯%।
ভোক্তা বিবেচনাধীন পণ্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি সাধারণত পরিবারের ব্যয়ের সঙ্গে ওঠানামা করে; এর মধ্যে খুচরা বিক্রেতা ও অপরিহার্য নয় এমন পণ্য বিক্রেতারা রয়েছে। ব্যাংক, উপকরণ ও সম্পত্তি খাতের পাশাপাশি এ খাতের পতনও দেখিয়েছে, অর্থনীতির বিভিন্ন অংশে কাজ করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দরপতন ছড়িয়ে পড়েছিল।
আরটিআইয়ের লেনদেন-শেষের হিসাবে ৭১৮টি বৃদ্ধি, হ্রাস বা অপরিবর্তিত শেয়ারের মধ্যে প্রায় ৮৭% শেয়ারের দর কমেছে। প্রথম পর্বের লেনদেন শেষে ৫৪২টি শেয়ারের দর কমেছিল এবং ৯৪টির বেড়েছিল। দিনের শেষে দরপতন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা বেড়ে ৬২৪ হয় এবং দরবৃদ্ধি হওয়া শেয়ারের সংখ্যা কমে ৫৭-তে দাঁড়ায়।
বড় ও সক্রিয়ভাবে লেনদেন হওয়া শেয়ারের একটি গোষ্ঠীকে অনুসরণকারী এলকিউ৪৫ সূচক প্রথম পর্বের লেনদেন শেষেই ২.৫% কমে যায়। এর দুর্বলতাও দেখায় যে বিক্রির চাপ কেবল ছোট শেয়ারে সীমাবদ্ধ ছিল না; নামী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারেও বিক্রি হয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক ও সম্পদ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করেছেন
স্টকবিটের হিসাবে, প্রথম পর্বে সব বাজার মিলিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিট ৮৩১.৫৫ বিলিয়ন রুপিয়াহর শেয়ার বিক্রি করেন। তাদের কেনার পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৬১ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ এবং বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২.৪৪ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ। দিনের শেষে স্টকবিট নিট অর্থপ্রবাহ ৫৭৫ বিলিয়ন রুপিয়াহ বহিঃপ্রবাহ বলে জানায়, যা দুপুরের হিসাবের চেয়ে কম।
নিট বিক্রি বলতে বোঝায়, কোনো বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী শেয়ার কেনার চেয়ে বেশি মূল্যমানের শেয়ার বিক্রি করেছে। প্রথম পর্ব ও লেনদেন-শেষের হিসাবের পার্থক্য দেখায়, সূচক পতন অব্যাহত থাকলেও বিকেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিট বিক্রির ভার কিছুটা কমেছিল।
প্রথম পর্বে বিদেশিদের নিট বিক্রির তালিকায় শীর্ষে ছিল বিবিআরআই: ১৭৩.৪৫ বিলিয়ন রুপিয়াহ। এরপর টিএলকেএমে ৯৫.৭৭ বিলিয়ন এবং আনেকা তামবাং বা এএনটিএমে ৬৯.৪০ বিলিয়ন রুপিয়াহর নিট বিক্রি হয়। এ তিনটি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত পরিমাণ ছিল ৩৩৮.৬২ বিলিয়ন রুপিয়াহ, যা প্রথম পর্বে বিদেশিদের মোট নিট বিক্রির প্রায় ৪১%।
সম্পদ ও শিল্প খাতের শেয়ারও উল্লেখযোগ্যভাবে বিক্রির তালিকায় ছিল। বুমি রিসোর্সেসে বিদেশিদের নিট বিক্রি হয় ৫৯.৯৩ বিলিয়ন রুপিয়াহ এবং চান্দ্রা আসরি প্যাসিফিকে ৫৪.৪৬ বিলিয়ন রুপিয়াহ। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি হওয়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল দারমা হেনওয়া, বারিতো প্যাসিফিক, দিয়ান স্বস্তাতিকা সেন্তোসা, তিমাহ ও পেত্রোসিয়া।
কিছু ব্যাংকের শেয়ার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে
প্রথম পর্বে বিদেশিদের নিট কেনার তালিকায় শীর্ষে ছিল ব্যাংক শরিয়াহ ইন্দোনেশিয়া বা বিআরআইএস; কেনার পরিমাণ ৩৭.৮৭ বিলিয়ন রুপিয়াহ। এরপর ব্যাংক মান্দিরিতে ২৭.৮৮ বিলিয়ন এবং ব্যাংক নেগারা ইন্দোনেশিয়ায় ১৬.৬৩ বিলিয়ন রুপিয়াহর নিট কেনাকাটা হয়। অর্থাৎ, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কিছু ব্যাংকের শেয়ার কিনলেও অন্যগুলোর শেয়ার বিক্রি করেছেন।
বিদেশিদের নিট কেনার তালিকার পাশাপাশি আইএইচএসজিকে নিচে টেনে নামানো শেয়ারগুলোর তালিকাতেও ছিল ব্যাংক মান্দিরি। বিদেশিদের কেনাকাটা কোনো শেয়ারে হওয়া লেনদেনের একটি অংশমাত্র; দেশীয় বিনিয়োগকারীদের লেনদেনও ওই শেয়ারের দামে প্রভাব ফেলে।
ব্যাংক খাতের বাইরে পুরাদেলতা লেস্তারিতে বিদেশিদের নিট কেনা ছিল ১৩.৪২ বিলিয়ন রুপিয়াহ এবং ইন্দোফুড সিবিপি সুকসেস মাকমুরে ১২.৩৪ বিলিয়ন রুপিয়াহ। গোটো গোজেক টোকোপেদিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৮.০৭ বিলিয়ন এবং ইন্দোসাতে ৬.৫১ বিলিয়ন রুপিয়াহর শেয়ার কিনেছেন।
আস্ত্রা অ্যাগ্রো লেস্তারি, আদারো আন্দালান ইন্দোনেশিয়া এবং ইন্ডুস্ত্রি জামু দান ফার্মাসি সিদো মুনকুলেও বিদেশিদের নিট কেনাকাটা তুলনামূলক কম ছিল। এই কেনাকাটা ছিল বাছাই করা কিছু শেয়ারে, অথচ শেয়ারবাজারে দরবৃদ্ধি ও দরপতনের সামগ্রিক ভারসাম্য তখনও উল্লেখযোগ্যভাবে নেতিবাচক ছিল।
ইরান-ঝুঁকি ফেরায় তেলের দামের স্বস্তি ম্লান
সোমবার, ২ নভেম্বর, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৭.৬৩% কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৭৭ মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম কমে ৭.৩৬%, ব্যারেলপ্রতি ৯৬.৪৬ ডলারে নামে। ইরানি ও কাতারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ বন্ধের অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় দাম কমে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, তেহরান সংলাপের মাধ্যমে সংঘাতের সমাধান চাইবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেন, যুদ্ধ শেষ করার চুক্তি সম্ভব হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার জন্য সস্তা তেল আমদানির ব্যয় কমাতে এবং সরকারি ব্যয় ও ভোক্তা মূল্যের ওপর চাপ হ্রাস করতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি নিট তেল আমদানিকারক: বিদেশে বিক্রি করার চেয়ে বিদেশ থেকে বেশি তেল কেনে।
মঙ্গলবার বিকেলে ব্রেন্টের দাম প্রায় ০.৯% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৭০ ডলারে পৌঁছায়। স্টকবিট বলেছে, ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা দুর্বল হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা সোমবারের কম তেলের দামের পাশাপাশি সংঘাত নিয়ে নতুন উদ্বেগও বিবেচনায় নিয়েছেন।
জ্বালানি খাতে ৪.২৯% পতনও দেখিয়েছে, অপরিশোধিত তেলের দাম কমার প্রভাব বাজারের বিভিন্ন অংশে ভিন্ন। আমদানি ব্যয় কমলে সামগ্রিক অর্থনীতির উপকার হতে পারে, কিন্তু পণ্যমূল্য কমলে সেই পণ্য বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানের আয়ের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।
রুপিয়াহ ও বন্ডবাজারে চাপ অব্যাহত
স্টকবিটের হিসাবে, লেনদেন শেষে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপিয়াহর দর ছিল ১৮,১৪৮। ২৮ অক্টোবর রেকর্ড সর্বনিম্ন ১৮,১৮৩-তে পৌঁছানো দর থেকে এটি প্রায় ০.২% দূরে। রুপিয়াহ দুর্বল হলে তেল আমদানিসহ ডলারে মূল্য নির্ধারিত পণ্য কিনতে স্থানীয় মুদ্রায় বেশি খরচ হয়।
১০ বছর মেয়াদি ইন্দোনেশীয় সরকারি বন্ডের সুদের হার ২ নভেম্বর লেনদেনের সময় প্রায় ৭.৮১%-এ ওঠে, যা ২০২০ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। মঙ্গলবার লেনদেন শেষে তা কমে প্রায় ৭.৭২%-এ দাঁড়ায়।
বন্ডের সুদের হার হলো বর্তমান বাজারদরে বন্ড কিনলে যে মুনাফা পাওয়া যায়। বন্ডের দাম কমলে সাধারণত সুদের হার বাড়ে। সুদের হার বাড়লে নতুন ঋণ ইস্যুর সময় সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়তে পারে; একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার ধরে রাখার বিকল্প হিসেবেও বন্ড আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা কমিটির (কেএসএসকে) ৩ নভেম্বর বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল, যেখানে তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। শেয়ারবাজারের দরপতন, রুপিয়াহর দুর্বলতা এবং পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক নিয়ম নিয়ে কমিটির মূল্যায়নের দিকে বিনিয়োগকারীরা নজর রাখছিলেন। দেশের মূল্যস্ফীতির তথ্যও ছিল তাদের আগ্রহের বিষয়।
স্টকবিট মঙ্গলবারের দরপতনকে ১৬ অক্টোবরের পর সবচেয়ে গভীর বলে বর্ণনা করেছে। সেদিন এমএসসিআই ইন্দোনেশিয়াকে স্বতন্ত্র বাজারের মর্যাদায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব নিয়ে পরামর্শ শুরু করেছিল। এ ধরনের শ্রেণিবিন্যাস হলে ইন্দোনেশিয়া এমএসসিআইয়ের প্রধান উন্নত, উদীয়মান ও সীমান্তবাজার গোষ্ঠীর বাইরে চলে যাবে; ওই শ্রেণিগুলো অনুসরণ করে বিনিয়োগ করা পোর্টফোলিওর বিনিয়োগকারীদের জন্য যা উদ্বেগের কারণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভোট ও চীনের তথ্য বাড়িয়েছে কঠিন পরিস্থিতি
৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের কাছ থেকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছিল ডেমোক্র্যাটরা। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার ইলেকশন ল্যাবের হিসাবে, সোমবার পর্যন্ত আগাম ভোট পড়েছিল ৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি, যা ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৪ কোটি ৬০ লাখ ছিল। অর্থাৎ ভোট বেড়েছে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সরকারি ব্যয় নির্ধারণে কংগ্রেস ভূমিকা রাখে। তাই ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি মূল্যায়নকারী বিনিয়োগকারীদের কাছে কংগ্রেসে কোন দলের প্রাধান্য থাকবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক পরিস্থিতির অংশ হিসেবে ওই নির্বাচনের অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইন্দোনেশিয়ার শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়।
চীনের উৎপাদন খাতের পরিসংখ্যান কিছুটা আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত দেয়। রেটিংডগের উৎপাদন খাতের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স অক্টোবরে ছিল ৫২.০; সেপ্টেম্বরে ৫২.১ থেকে সামান্য কম হলেও বাজারের ৫১.৬ পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। ৫০-এর ওপরে থাকা মানে কার্যক্রম সম্প্রসারণ হচ্ছে।
অক্টোবর ছিল টানা ১১তম মাস, যখন উৎপাদন খাত সম্প্রসারিত হয়েছে। নতুন ক্রয়াদেশ ও পণ্য বাজারজাতের সহায়তায় উৎপাদন ছয় মাসের মধ্যে দ্রুততম গতিতে বেড়েছে। রপ্তানি চাহিদাও বেড়েছে, তবে সেপ্টেম্বরে তুলনায় ধীরগতিতে।
আইএইচএসজির পতন আগে থেকেই তীব্র বাজারপতনকে আরও বাড়িয়েছে। আরটিআইয়ের হিসাবে মাসে সূচক কমেছে ২০.৮১%, ২০২৬ সালের শুরু থেকে কমেছে ৪৩.২৮% এবং আগের ১২ মাসে কমেছে ৩৯.৫৯%। এর আগে ২৯ অক্টোবর বাজারে দরপতনের সময় বড় শেয়ারগুলোতে বিক্রি ছড়িয়ে পড়ায় বেলা শেষ হওয়ার আগেই সূচক ২.৫৫% কমে গিয়েছিল।
মূল তথ্য
- ৩ নভেম্বর আইএইচএসজি ৪,৯০৪.২৯ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করে; কমে ১৯২.৫৪ পয়েন্ট বা ৩.৭৮%।
- বিবিআরআই, বিবিসিএ, এএমএমএন, বিএমআরআই ও টিএলকেএম মিলিয়ে সূচকের পতনের প্রায় ৩৭% ঘটিয়েছে।
- আরটিআইয়ের হিসাবে ৬২৪টি শেয়ারের দর কমেছে, বেড়েছে ৫৭টির; সব খাতেই পতন হয়েছে।
- স্টকবিটের হিসাবে ওই দিনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিট অর্থপ্রবাহে ৫৭৫ বিলিয়ন রুপিয়াহ বহিঃপ্রবাহ হয়েছে; প্রথম পর্বে এ পরিমাণ ছিল ৮৩১.৫৫ বিলিয়ন রুপিয়াহ।
- বিইআই এইচএসসি শেয়ার সূচক থেকে বাদ দেওয়া শুরু করার এক দিন পরই এ পতন ঘটে।
- রুপিয়াহ রেকর্ড সর্বনিম্ন দরপতনের কাছাকাছি অবস্থানে লেনদেন শেষ করে; ইরান-সংক্রান্ত নতুন ঝুঁকি তেলের দাম কমার সুফলকে জটিল করে তোলে।






