পূর্ব কালিমান্তানে অস্ট্রেলিয়ার সাত দিনের সহায়তা
সুমাত্রা, বোর্নিও ও পাপুয়াজুড়ে কয়েক মাস ধরে জ্বলতে থাকা আগুন মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়াকে সহায়তা দিতে ২০২৬ সালের ৬ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত অভিযানের জন্য পূর্ব কালিমান্তানে দুটি উড়োজাহাজ ও ২০ জন দমকলকর্মী পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এই বহরে রয়েছে একটি সি-১৩০ বড় আকারের অগ্নিনির্বাপক উড়োজাহাজ, যা প্রতিটি উড্ডয়নে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার লিটার পানি ফেলতে পারে, এবং অভিযান পরিচালনায় দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য একটি সেসনা সাইটেশন উড়োজাহাজ।
সূচিপত্র
- পূর্ব কালিমান্তানে অস্ট্রেলিয়ার সাত দিনের সহায়তা
- পূর্ব কালিমান্তান কেন নির্বাচিত হলো
- উড়োজাহাজগুলো কী করতে পারবে
- পানি ছিটানোর পাশাপাশি কাজ করছে দমকল দল ও বৃষ্টিপাত ঘটানোর উদ্যোগ
- প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় জরুরি পরিস্থিতি আরও গুরুতর
- ধোঁয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাড়িঘর, স্কুল ও বিমানবন্দর
- অভিযানের সংক্ষিপ্ত সময়রেখা
- দুর্যোগে একে অন্যকে সহায়তা করেছে দুই দেশ
- মূল বিষয়গুলো
ইন্দোনেশিয়ায় গত ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র দাবানল হিসেবে বর্ণিত সংকটের সময় এই সহায়তা আসছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ নভেম্বর পর্যন্ত সাতটি প্রদেশে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ৪ লাখের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ধোঁয়ায় উড়োজাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে, স্কুল বন্ধ হয়েছে এবং প্রতিবেশী সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াতেও ধোঁয়া ছড়িয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি ৫ নভেম্বর জাকার্তার হালিম পারদানাকুসুমা বিমানবন্দরে অস্ট্রেলিয়ার মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে। নিউ সাউথ ওয়েলস রুরাল ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সরবরাহ করা উড়োজাহাজগুলো ইন্দোনেশিয়ার এমন এক সমন্বিত উদ্যোগে সহায়তা করবে, যাতে রয়েছে মাটিতে কাজ করা দল, পানি ফেলা উড়োজাহাজ এবং বৃষ্টিপাত ঘটানোর প্রচেষ্টা।
ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত রডেরিক ব্রুস ব্রেজিয়ার বলেন, দুই সরকারের মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের পর এই বহর পাঠানো হয়েছে। বিএনপিবির প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিস্তোমেই সিয়ানতুরি বলেন, পূর্ব কালিমান্তান নির্বাচন করার আগে কার কোথায় উড়োজাহাজের প্রয়োজন, তা যৌথভাবে মূল্যায়ন করেছে দুই দেশের কারিগরি দল।
নির্ধারিত সাত দিনের উড্ডয়ন ইন্দোনেশিয়ার জরুরি পরিস্থিতিতে কাজ করা দলগুলোকে বাড়তি সক্ষমতা দেবে। অস্ট্রেলিয়ার অভিযান ঘোষণার কিছু আগে প্রতিবেশী মধ্য কালিমান্তানে অগ্নিনির্বাপণ অভিযানের সময় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এতে তিনজন ক্রু সদস্য নিহত হন।
পূর্ব কালিমান্তান কেন নির্বাচিত হলো
বিএনপিবির মূল্যায়ন অনুযায়ী, অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ সহায়তার প্রয়োজনের দিক থেকে মধ্য কালিমান্তানের পরেই রয়েছে পূর্ব কালিমান্তান। কালিমান্তান হলো বোর্নিও দ্বীপের ইন্দোনেশীয় অংশ, যা বর্তমান দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান দ্বীপগুলোর একটি।
সিয়ানতুরি বলেন, কোন কোন এলাকায় সহায়তা দরকার তা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার কারিগরি দল আলোচনা করে পূর্ব কালিমান্তানে পাঠানোর বিষয়ে একমত হয়। ফলে সীমিতসংখ্যক উড়োজাহাজ এমন একটি প্রদেশে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে জরুরি প্রয়োজন রয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে; একই সময়ে ইন্দোনেশিয়া আরও বিস্তৃত এলাকাজুড়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী দুদুং আবদুরাচমান এবং অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বন ও ভূমিতে আগুন মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়ার প্রচেষ্টায় অস্ট্রেলিয়া কীভাবে সহায়তা করতে পারে, তা নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন।
জাকার্তা বিমানবন্দরে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত ব্রেজিয়ার এই অভিযানের পেছনে দুই দেশের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে বলেন:
অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কারণেই এই সহায়তা পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এসব আগুন মোকাবিলায় ইন্দোনেশীয় সরকারের প্রচেষ্টাকে আমরা পূর্ণ সমর্থন জানাই।
উড়োজাহাজগুলো কী করতে পারবে
বিপুল পরিমাণ পানি বহন ও ছিটানোর জন্য সি-১৩০ উড়োজাহাজটি নির্ধারিত হয়েছে। ছোট সেসনা সাইটেশনটি পর্যবেক্ষক বা নেতৃত্বদানকারী উড়োজাহাজ হিসেবে কাজ করবে এবং আকাশপথে অভিযান পরিচালনায় দিকনির্দেশনা দেবে। একই অভিযানে উড়োজাহাজ দুটির কাজ আলাদা।
ব্রেজিয়ার বলেন, ট্যাংকারটি প্রতিবারের অভিযানে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার লিটার পানি ফেলতে পারে এবং প্রতিদিন প্রায় ছয়টি উড্ডয়নের কথা রয়েছে। একবারের অভিযান বলতে একটি কার্যকরী উড্ডয়ন বোঝায়। এই হিসাবে, সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা নিয়ে ছয়টি উড্ডয়নে দিনে ৯০ হাজার লিটার পানি ফেলা সম্ভব।
প্রতিদিন ছয়বার উড়োজাহাজ উড়লে এবং প্রতিবার পুরো পরিমাণ পানি ফেললে সাত দিনে মোট ৪২টি অভিযান হবে, আর পানি ফেলার পরিমাণ দাঁড়াবে ৬ লাখ ৩০ হাজার লিটার। প্রকৃত পরিমাণ নির্ভর করবে কতগুলো অভিযান সম্পন্ন হয় এবং প্রতিবার কতটা পানি বহন করা হয় তার ওপর।
অস্ট্রেলীয় দলে রয়েছেন ২০ জন দমকলকর্মী। সিয়ানতুরি বলেন, পাইলট, ক্রু সদস্য ও প্যারামেডিকরা আকাশপথের অভিযানে সহায়তা করবেন। এতে অভিযানে উড্ডয়নসংক্রান্ত দক্ষতার পাশাপাশি চিকিৎসা সহায়তাও যুক্ত হবে।
পানি ছিটানোর পাশাপাশি কাজ করছে দমকল দল ও বৃষ্টিপাত ঘটানোর উদ্যোগ
বিএনপিবি একই সময়ে একাধিক পদ্ধতি কাজে লাগাচ্ছে: মাটিতে অগ্নিনির্বাপণ, আকাশ থেকে পানি ছিটানো, আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা। সিয়ানতুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এই উদ্যোগকে বড় ধরনের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন।
উড়োজাহাজ থেকে ওপর দিয়ে আগুনে পানি ফেলা যায়, আর মাটিতে কাজ করা দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরাসরি কাজ করে। তাদের কাজ পরস্পর সম্পর্কিত: কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় পানি ফেললে আগুনের তীব্রতা কমতে পারে, ফলে আগুন মোকাবিলায় দমকল দলগুলো আরেকটি উপায় পায়।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া পরিবর্তন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্লাউড সিডিংয়ে উপযোগী মেঘে কণা ছড়িয়ে বৃষ্টিপাত ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। এ পদ্ধতি কাজে লাগাতে উপযুক্ত বৈশিষ্ট্যের মেঘ থাকতে হয়। অন্যদিকে, ওয়াটারবম্বিংয়ে উড়োজাহাজ থেকে নির্দিষ্ট স্থানে সরাসরি পানি ফেলা হয়।
এল নিনোর সময় শুষ্ক মৌসুমের সঙ্গে আগুনের সম্পর্ক রয়েছে। এল নিনো হলো এমন একটি জলবায়ু ধরন, যাতে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানি অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠে এবং বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যেতে পারে। গাছপালা শুকিয়ে গেলে তাতে সহজে আগুন ধরে, আর বৃষ্টি না থাকলে জ্বলন্ত এলাকা নেভানো কঠিন হয়। ইন্দোনেশিয়ার অভিযান একটি আগুনের রেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কয়েকটি দ্বীপে ছড়িয়ে পড়া আগুন মোকাবিলা করছে।
প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় জরুরি পরিস্থিতি আরও গুরুতর
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পানি তোলার সময় আটজন ক্রু সদস্যকে বহনকারী একটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টার মধ্য কালিমান্তানে বিধ্বস্ত হয়। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি দপ্তর বৃহস্পতিবার জানায়, তিনজন ক্রু সদস্য নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর আগে ইন্দোনেশীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডনি প্রামোনো এক ক্রু সদস্যের মৃত্যু, পাঁচজনের নিরাপদ থাকা ও কুয়ালা পেমবুয়াং হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া এবং দুজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলার কথা জানান। প্রামোনো বলেন, নিহত ক্রু সদস্যের মরদেহও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ইন্দোনেশীয় সেনাবাহিনীর এমআই-১৭ভি৫ হেলিকপ্টার, নিবন্ধন নম্বর এইচএ-৫২৩৫, ৪ নভেম্বর সেরুয়ান জেলার সুংগাই পেরলু গ্রামের উপকূলের পানিতে বিধ্বস্ত হয়। জানা গেছে, পানি ছিটানোর অভিযানের জন্য সমুদ্রের পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
অতিরিক্ত সহায়তা চাওয়ার কারণ হওয়া বৃহত্তর জরুরি পরিস্থিতির মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বারবার আকাশপথে অগ্নিনির্বাপণ অভিযানের জন্য পানি তোলা অপরিহার্য। আগুনের কাছে ফেরার আগেই এতে উড়োজাহাজ ও ক্রুদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
দুর্ঘটনার কারণ তদন্তাধীন ছিল। অস্ট্রেলিয়ার অভিযান পূর্ব কালিমান্তানে হওয়ার কথা, আর হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মধ্য কালিমান্তানে। বিএনপিবির চিহ্নিত করা প্রদেশগুলোর মধ্যে মধ্য কালিমান্তানেই অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।
জরুরি পরিস্থিতিতে কাজ করা দলগুলোর জন্য কয়েক মাস ধরে অগ্নিনির্বাপণ চালানোর পর এই প্রাণহানি আরও বড় ধাক্কা। ইন্দোনেশিয়ার দলগুলো আকাশ ও স্থলপথে নিজেদের অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সময় আরেকটি ট্যাংকার ও দিকনির্দেশনাকারী উড়োজাহাজ আসায় বাড়তি সরঞ্জাম যুক্ত হচ্ছে।
ধোঁয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাড়িঘর, স্কুল ও বিমানবন্দর
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগুন ও ধোঁয়াশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ২ নভেম্বর পর্যন্ত সাতটি প্রদেশে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ৪ লাখের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে শ্বাসনালি আক্রান্ত হয়; নাক, গলা বা ফুসফুসও এতে জড়িত থাকতে পারে।
ধোঁয়ায় থাকা অতি ক্ষুদ্র কণা শ্বাসনালিতে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট বাড়াতে পারে। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত এই পরিসংখ্যান দেখায়, আগুনের শিখা দেখা যায় এমন এলাকাগুলোর বাইরেও কেন এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ: জ্বলন্ত এলাকা থেকে দূরের শহর ও বাড়িতেও মানুষ দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে আসতে পারে।
ধোঁয়াশায় উড়োজাহাজ চলাচলও ব্যাহত হয়েছে এবং স্কুল বন্ধ করতে হয়েছে। এর ফলে মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও জরুরি পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে: পরিবারগুলো অস্বাস্থ্যকর বাতাসের মধ্যে দিন কাটানোর পাশাপাশি যাতায়াত ও শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনায় বিঘ্নের মুখে পড়ছে।
আগুনের ধোঁয়ায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াও আক্রান্ত হয়েছে। বাতাসের সঙ্গে ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে যেতে পারে, তাই আগুনের বিস্তার কমাতে ইন্দোনেশিয়ার প্রচেষ্টায় প্রতিবেশী দেশগুলোরও সরাসরি স্বার্থ রয়েছে।
জনঅসন্তোষ রাজনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে। অক্টোবরে জাকার্তা, ইয়োগিয়াকার্তা, বান্দুং, পেকানবারু ও মাকাসারসহ বিভিন্ন শহরে শত শত শিক্ষার্থী বনাঞ্চলে বারবার আগুন লাগা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। জাকার্তায় শিক্ষার্থীরা আগুন ও বাড়তি ব্যয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তুগু তানি স্মৃতিস্তম্ভের কাছে জড়ো হন।
অভিযানের সংক্ষিপ্ত সময়রেখা
কয়েক মাস ধরে চলা দাবানল এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর বাড়তে থাকা প্রভাবের পর অস্ট্রেলিয়ার বহর পাঠানো হচ্ছে। অভিযানের আগের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তারিখ হলো:
- অক্টোবর ২০২৬: বনাঞ্চলে আগুনসহ বিভিন্ন উদ্বেগের বিষয় নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি শহরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।
- ২ নভেম্বর: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানে সাতটি প্রদেশে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ৪ লাখের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়।
- ৪ নভেম্বর: মধ্য কালিমান্তানে পানি তোলার সময় আটজন ক্রু সদস্যকে বহনকারী একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়।
- ৫ নভেম্বর: ইন্দোনেশিয়া জাকার্তায় অস্ট্রেলিয়ার মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে।
- ৬ থেকে ১২ নভেম্বর: অস্ট্রেলীয় উড়োজাহাজগুলোর পূর্ব কালিমান্তানে অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চালানোর কথা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার আকাশপথের অভিযানের নির্ধারিত শেষ দিন ১২ নভেম্বর। ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তর উদ্যোগে দেশটির নিজস্ব স্থলদল, উড়োজাহাজ ও আবহাওয়া পরিবর্তনকারী দলগুলোও কাজ চালিয়ে যাবে।
দুর্যোগে একে অন্যকে সহায়তা করেছে দুই দেশ
জরুরি পরিস্থিতিতে দুই প্রতিবেশী দেশের পরস্পরকে সহায়তা করার ধারাবাহিকতার অংশ অস্ট্রেলিয়ার এই বহর পাঠানো। ২০২০ সালে ইন্দোনেশিয়ার বিএনপিবি ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চলের আগুন মোকাবিলায় সহায়তা করেছিলেন।
ব্রেজিয়ার আগের এক অভিযানের কথাও স্মরণ করেন, যাতে এখন ইন্দোনেশিয়ায় পাঠানো একই ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে ঘূর্ণিঝড় ট্রেসির সময় ডারউইন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে সহায়তার জন্য ইন্দোনেশিয়া একটি সি-১৩০ হারকিউলিস পাঠিয়েছিল।
জাকার্তার অনুষ্ঠানে বিএনপিবি প্রধান সিয়ানতুরি অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশগুলোর বন্ধুত্ব নিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রবো সুবিয়ান্তোর বক্তব্যের সঙ্গে এই সহায়তার সম্পর্ক তুলে ধরেন:
প্রেসিডেন্ট প্রবো সুবিয়ান্তো যেমন বলেছেন, কঠিন সময়ে ভালো বন্ধুরা একে অপরকে সাহায্য করে।
পূর্ব কালিমান্তানের জন্য এই সম্পর্কের অর্থ এখন হলো একটি ট্যাংকার, দিকনির্দেশনাকারী একটি উড়োজাহাজ এবং বিশেষজ্ঞদের একটি দল সাত দিন আগুন মোকাবিলায় যুক্ত হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবহনেও প্রভাব ফেলছে এমন সংকটের মধ্যে জ্বলন্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনতে ইন্দোনেশীয় দলগুলোকে সহায়তা করাই তাদের তাৎক্ষণিক কাজ।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ৬ থেকে ১২ নভেম্বর পূর্ব কালিমান্তানে অভিযানের জন্য অস্ট্রেলিয়া দুটি উড়োজাহাজ ও ২০ জন দমকলকর্মী পাঠাচ্ছে।
- সি-১৩০ ট্যাংকারটি প্রতিটি উড্ডয়নে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার লিটার পানি ফেলতে পারে; প্রতিদিন প্রায় ছয়টি উড্ডয়নের কথা রয়েছে।
- অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ সহায়তার প্রয়োজনের দিক থেকে বিএনপিবি মধ্য কালিমান্তানের পরেই পূর্ব কালিমান্তানকে রেখেছে।
- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ নভেম্বর পর্যন্ত সাতটি প্রদেশে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ৪ লাখের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
- মধ্য কালিমান্তানে অগ্নিনির্বাপণ অভিযানের সময় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি দপ্তর তিনজনের মৃত্যুর কথা জানায়; সেনাবাহিনীর আগের এক বিবৃতিতে একজনের মৃত্যু, পাঁচজনের নিরাপদ থাকা ও চিকিৎসা নেওয়া এবং দুজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলার কথা বলা হয়েছিল। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তাধীন ছিল।
- ইন্দোনেশিয়ার অভিযানে মাটিতে অগ্নিনির্বাপণ, আকাশ থেকে পানি ফেলা, ক্লাউড সিডিং ও আন্তর্জাতিক সহায়তা একসঙ্গে কাজে লাগানো হচ্ছে।






