ইন্দোনেশিয়ায় ধোঁয়াশায় ২,৬০৪টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ব্যাহত, সিঙ্গাপুরগামী ১৪টি ফ্লাইট বাতিল

পড়তে 12 মিনিট
Indonesia Haze Disrupts 2,604 Domestic Flights and Cancels 14 Singapore Services

ইন্দোনেশিয়া ও এর বাইরেও যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে ধোঁয়া

পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১১ আগস্ট থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার বন ও ভূমির আগুনে ২,৬০৪টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। ধোঁয়াশার কারণে সিঙ্গাপুর-সংশ্লিষ্ট ১৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও বাতিল করতে হয়েছে। সুমাত্রা ও কালিমানতান থেকে ছড়িয়ে পড়া এই বিঘ্ন সুলাওয়েসি, মালুকু, উত্তর মালুকু ও পাপুয়ার বিমানবন্দরগুলোতেও প্রভাব ফেলেছে।

সূচিপত্র
  1. ইন্দোনেশিয়া ও এর বাইরেও যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে ধোঁয়া
  2. যেভাবে বেড়েছে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন
  3. দৃশ্যমানতা কমলে কেন থেমে যেতে পারে ফ্লাইট
  4. পূর্বাঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোতে বাড়ছে চাপ
  5. সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার যোগাযোগও ব্যাহত
  6. টিকিট বিক্রির বাইরেও বাড়ছে বিমান সংস্থাগুলোর ক্ষতি
  7. হটস্পট কমলেও বারবার জ্বলছে আগুন
  8. ধোঁয়ায় ব্যাহত হচ্ছে আগুন নেভানোর কার্যক্রমও
  9. স্বাস্থ্যগত বোঝা বইছে পরিবারগুলো
  10. আইনি পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক আলোচনা জোরদার
  11. মূল তথ্য

বেসামরিক বিমান চলাচল মহাপরিচালক লুকমান এফ. লাইসা বলেন, ১,৪২০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, ১,১২৯টি দেরিতে ছেড়েছে, ২৩টি অন্য বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে এবং ছয়টি যাত্রা শুরুর বিমানবন্দরে ফিরে গেছে। আরও ২৬টি ফ্লাইটের সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। বাতিল, পিছিয়ে দেওয়া ও বিলম্বিত ফ্লাইট মিলিয়ে মোট ২,৫৪৯টি, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশ।

সর্বশেষ হিসাবটি ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত নথিভুক্ত ২,৪৫৮টির চেয়ে ১৪৬ বেশি। যাত্রীদের ভোগান্তি টার্মিনালে অপেক্ষা করা থেকে শুরু করে অন্য শহরে পৌঁছানো পর্যন্ত গড়াচ্ছে। উড়োজাহাজের ওপর নির্ভরশীল প্রত্যন্ত জনপদে ফ্লাইট বাতিল হলে সরবরাহ ও সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকারও ব্যাহত হতে পারে।

সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যোগাযোগ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিঙ্গাপুর ও পন্টিয়ানাকের মধ্যে চলাচলকারী ফিরতি ফ্লাইটের ১২টি যাত্রা বাতিল করা হয়। এরপর ১৫ অক্টোবর সিঙ্গাপুর ও পালেম্বাংয়ের মধ্যে দুটি ফ্লাইট বাতিল হয়। ধোঁয়াশায় মালয়েশিয়ার ফায়ারফ্লাইয়ের সুবাং ও সিঙ্গাপুরের সেলেতার বিমানবন্দরের মধ্যকার পরিষেবাও ব্যাহত হয়। প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর বিমান সংস্থাটি রুটটি আবার চালু করে।

বিমান চলাচলে এই বিঘ্ন আরও ব্যাপক জরুরি পরিস্থিতির একটি অংশ। ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি প্রদেশে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২,৮৩,২৭০। এদিকে, আগুন নেভাতে কাজ করা দলগুলো এত ঘন ধোঁয়ার মুখে পড়ে যে কিছু উড়োজাহাজ আগুনের উৎসস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

যেভাবে বেড়েছে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন

পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিক হিসাব থেকে বোঝা যায়, অক্টোবরজুড়ে কীভাবে বিঘ্ন জমেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা, বিমান সংস্থা ও এয়ার নেভিগেশন সেবার তথ্য একত্র করে এই পর্যবেক্ষণ করা হয়।

  • ১১ আগস্ট: মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক পর্যবেক্ষণের সময়কাল শুরু হয়।
  • ১২ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর: পন্টিয়ানাকের সুপাদিও বিমানবন্দরে ধোঁয়াশার কারণে সিঙ্গাপুর-সংযোগকারী ১২টি ফ্লাইট বাতিল হয়।
  • ১২ অক্টোবর: ক্ষতিগ্রস্ত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের মোট সংখ্যা ১,৮১৩-তে পৌঁছায়।
  • ১৩ অক্টোবর: মোট সংখ্যা বেড়ে ২,০২১ হয়। এর মধ্যে ১,০৬৭টি বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং ৯১৯টি দেরিতে ছাড়ে।
  • ১৫ অক্টোবর: সিঙ্গাপুর–পালেম্বাং রুটের দুটি ফ্লাইট বাতিল হয়।
  • ১৭ অক্টোবর: ১৭টি প্রদেশের ২৯টি বিমানবন্দরে ২,৪৫৮টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ব্যাহত হওয়ার হিসাব করে মন্ত্রণালয়।
  • ১৯ অক্টোবর: অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে মোট বিঘ্নের সংখ্যা বেড়ে ২,৬০৪ হয়।

১৩ অক্টোবরের ২,০২১টি থেকে ১৯ অক্টোবরের ২,৬০৪টি ফ্লাইটে বৃদ্ধি মানে আরও ৫৮৩টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। এই সংখ্যায় সময়সূচির বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন রয়েছে; মন্ত্রণালয় বাতিল ও পিছিয়ে দেওয়া ফ্লাইটকে একই শ্রেণিতে রেখেছে।

একই সময়ে অন্যান্য ঝুঁকিও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল। ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরির ছাই, খারাপ আবহাওয়া ও প্রবল বাতাসের কারণে আলাদাভাবে ২০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। এই বাতিলগুলো ধোঁয়াশাজনিত মোট হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে।

দৃশ্যমানতা কমলে কেন থেমে যেতে পারে ফ্লাইট

পালেম্বাংয়ের সুলতান মাহমুদ বদরুদ্দিন দ্বিতীয় বিমানবন্দর নিরাপত্তাজনিত সমস্যার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক আহমাদ শাওগি সাহাব বলেন, এক সকালে দৃশ্যমানতা বিমানবন্দরের ন্যূনতম পরিচালনসীমা ৬০০ মিটারের নিচে নেমে গেলে পাঁচটি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। এর আগে ৩ অক্টোবর ধোঁয়াশায় সেখানে ১৮টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

নিরাপদে উড্ডয়ন, অ্যাপ্রোচ ও অবতরণ সম্পন্ন করতে ফ্লাইট ক্রুদের পর্যাপ্ত দৃশ্যমানতা প্রয়োজন। চালনার সীমা নির্ভর করে বিমানবন্দর, উড়োজাহাজ ও ব্যবহৃত পদ্ধতির ওপর। তাই বিভিন্ন বিমানবন্দরে ধোঁয়ার কারণে ফ্লাইট চলাচল ভিন্নভাবে ব্যাহত হতে পারে।

পেকানবারুর সুলতান শরিফ কাসিম বিমানবন্দরে দৃশ্যমানতা প্রায় ৬০০ মিটারে নেমে গেলে এর কয়েকটি প্রভাব দেখা যায়। লায়ন এয়ারের একটি ফ্লাইট জাকার্তায় ফিরে যায়, সিটিলিংকের একটি ফ্লাইট বাতাম বিমানবন্দরে পাঠানো হয় এবং পেলিতা এয়ারের একটি উড়োজাহাজ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর অবতরণের আগে পাঁচবার চক্কর দেয়। জাম্বির সুলতান থাহা বিমানবন্দরে দৃশ্যমানতা ভোরের ১,৫০০ মিটার থেকে দুপুরে ৮০০ মিটারে নেমে গেলে আটটি ফ্লাইট বিলম্বিত বা পুনর্নির্ধারিত হয়।

বেসামরিক বিমান চলাচলের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা লুকমান সরকারের পরিচালনগত অগ্রাধিকার ব্যাখ্যা করেন:

ফ্লাইটের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রতিটি পরিচালনগত সিদ্ধান্তে আবহাওয়া, দৃশ্যমানতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা মূল্যায়ন বিবেচনায় নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

পূর্বাঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোতে বাড়ছে চাপ

১৩ থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে বিস্তৃত এলাকায় বিমান চলাচলে ধোঁয়াশার প্রভাব পড়ে। মন্ত্রণালয়ের তালিকায় থাকা বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে ছিল পালুর মুতিয়ারা এসআইএস আল-জুফরি, তেরনাতের সুলতান বাবুল্লাহ, আমবনের পাত্তিমুরা, তিমিকার মোজেস কিলাঙ্গিন এবং সোরংয়ের দোমিনে এদুয়ার্দ ওসোক। এ ছাড়া পন্টিয়ানাক, পেকানবারু ও পালেম্বাংয়ের বিমানবন্দরও ছিল তালিকায়।

পাপুয়া, মধ্য পাপুয়া, পাপুয়া উচ্চভূমি ও দক্ষিণ পাপুয়ার ১৬টি বিমানবন্দরও পর্যবেক্ষণের আওতায় আনে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ছিল সেন্টানি, তিমিকা, ওয়ামেনা, অক্সিবিল, দেকাই, মেরাউকে, তানাহ মেরাহ ও এওয়ার। মাঙ্গেলুম, ইয়ানিরুমা ও মিন্ডিপতানাহর মতো ছোট গন্তব্যও ছিল তালিকায়।

লায়ন গ্রুপের মুখপাত্র দানাং মান্দালা প্রিহান্তোর বলেন, সোরং, মানোকওয়ারি ও জয়াপুরাগামী অন্তত চারটি ফ্লাইটের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি বিমানবন্দরে খারাপ পরিস্থিতি পরবর্তী ফ্লাইটগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ পরের যাত্রার জন্য একই উড়োজাহাজ ও ক্রুদের প্রয়োজন হয়।

১৬ অক্টোবর সিংকেপ, কুয়ালা পেমবুয়াং, তানাহ মেরাহ ও গোরোনতালো সমন্বয় এলাকায় ধোঁয়াশার কারণে ২২টি অগ্রণী বিমানসেবা বাতিল হয়। এর মধ্যে দুটি ছিল কার্গো ফ্লাইট। যেখানে নিয়মিত বাণিজ্যিক পরিবহন সীমিত, সেখানে অগ্রণী বিমানসেবা যাতায়োগ স্থাপন করে। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষক গাতোত রাহারজো সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের বিঘ্নে প্রত্যন্ত জনপদে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ কমতে পারে এবং দাম বাড়তে পারে।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার যোগাযোগও ব্যাহত

কম দৃশ্যমানতার কারণে ১০ অক্টোবর ফায়ারফ্লাই প্রথম ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত রুটটি কুয়ালালামপুরের কাছে সুবাংয়ের সুলতান আবদুল আজিজ শাহ বিমানবন্দর ও সিঙ্গাপুরের সেলেতার বিমানবন্দরকে যুক্ত করে। পরিষেবা বন্ধ থাকার সময় আসন খালি থাকা সাপেক্ষে যাত্রীদের কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চাঙ্গি বিমানবন্দরের মধ্যে চলাচলকারী মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে নেওয়া হতে পারে।

সেলেতারের সমস্যা ওই রুটের বাইরেও ছড়ায়। সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব সিঙ্গাপুর ও চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপের বরাতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে কম দৃশ্যমানতা ও ধোঁয়াশার কারণে সেলেতার বিমানবন্দর থেকে ১৬টি ফ্লাইট অন্যত্র পাঠানো হয়।

এয়ারএশিয়ার ইন্দোনেশিয়া বিষয়ক ও কৌশলগত যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক এডি ক্রিসমেইদি বলেন, পালেম্বাং, পন্টিয়ানাক ও বানজারমাসিন-সংশ্লিষ্ট মালয়েশিয়ার কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মালয়েশিয়ার গ্রাহকদের কালিমানতানে নিয়ে যাওয়ার একটি পরিকল্পিত সফর পিছিয়ে দিয়েছে বিমান সংস্থাটি।

কম দৃশ্যমানতায় করণীয় জোরদার করতে এবং এয়ারনেভ ইন্দোনেশিয়া ও আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থার (বিএমকেজি) সঙ্গে সমন্বয় করতে ইন্দোনেশিয়ার বিমানবন্দর পরিচালনাকারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াসংক্রান্ত নোটিশের মাধ্যমে ফ্লাইট ক্রুদের বিধিনিষেধ ও পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি জানানো হয়। যাত্রীদের জন্য টার্মিনালে তথ্য সরবরাহ উন্নত করা এবং মাস্ক দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

টিকিট বিক্রির বাইরেও বাড়ছে বিমান সংস্থাগুলোর ক্ষতি

ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল এয়ার ক্যারিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইনাকা) হিসাব করেছে, সেপ্টেম্বরে প্রায় ৫০০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিমান সংস্থাগুলোর ২২ বিলিয়ন রুপিয়ার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এই হিসাবে বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা, বিমানবন্দরের দোকান, রেস্তোরাঁ, ট্যাক্সি ও হোটেলের ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত নয়।

১০টি বিমান সংস্থার ওপর আগের এক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল সিটিলিংকের, ৪৭৮টি। এরপর নাম এয়ারের ৩০০টি, উইংস এয়ারের ২২৭টি এবং সুপার এয়ার জেটের ১৬১টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গারুদা ইন্দোনেশিয়া, বাটিক এয়ার, ট্রান্সনুসা, লায়ন এয়ার ও শ্রীবিজয়া এয়ারের ফ্লাইটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইনাকার মহাসচিব বায়ু সুতান্তো বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা টিকিটের টাকা ফেরত বা সময়সূচি পরিবর্তনের সুযোগ পেতে পারেন। লুকমানও বলেন, প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী যাত্রীদের অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিমান সংস্থাগুলোরই। বিশেষ করে বিকল্প যাত্রায় অন্য বিমানবন্দর ব্যবহার করা হলে যাত্রীদের বিমান সংস্থার বর্তমান ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া উচিত।

পর্যটন ব্যবসায়ও দর্শনার্থী কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন শিল্প সমিতির চেয়ারম্যান হারিয়াদি সুকমান্দানি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি চলতে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হোটেলের কক্ষ ব্যবহারের হার ১০ থেকে ২০ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তাঁর মতে, কালিমানতান বিশেষভাবে ঝুঁকিতে, কারণ সুমাত্রার প্রধান সড়কপথের তুলনায় সেখানে স্থলপথে যাতায়াতের বিকল্প কম।

সেন্টার অব ইকোনমিক অ্যান্ড ল স্টাডিজ জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতির হিসাব করেছে ৩৯.২৯ ট্রিলিয়ন থেকে ১২৩.১ ট্রিলিয়ন রুপিয়া। সংস্থাটির মূল্যায়নে স্থাবর সম্পদ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষতি ছিল ২৯.৫৪ ট্রিলিয়ন রুপিয়া। এগুলো আগুনের জরুরি পরিস্থিতি ঘিরে করা বৃহত্তর হিসাব; ইনাকার হিসাবটি শুধু সেপ্টেম্বরে বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট বাতিলের ক্ষতি নিয়ে।

হটস্পট কমলেও বারবার জ্বলছে আগুন

বন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত দেশজুড়ে উচ্চ আস্থার সঙ্গে শনাক্ত ৪৮৭টি হটস্পটের কথা বলা হয়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১,১০৪। ছয়টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রদেশে সংখ্যা ৭৪৮ থেকে কমে ১৭২ হয়েছে।

দক্ষিণ সুমাত্রায় ৬৪টি, মধ্য কালিমানতানে ৪৯টি, দক্ষিণ কালিমানতানে ৪০টি, পশ্চিম কালিমানতানে ১২টি এবং জাম্বিতে সাতটি হটস্পট শনাক্ত হয়েছে। রিয়াউয়ে একটিও শনাক্ত হয়নি। দেশজুড়ে সংখ্যা কমলেও দক্ষিণ সুমাত্রা ও দক্ষিণ কালিমানতানে হটস্পট বেড়েছে। এর আগে দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণে সংখ্যা এক লাফে ২৭০ থেকে বেড়ে ১,১০৪ হয়েছিল, যা পরিস্থিতি কত দ্রুত বদলাচ্ছিল তা দেখায়।

সম্ভাব্য আগুন শনাক্ত করতে তাপের উপস্থিতির যে সংকেত ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই হটস্পট। পুড়ে যাওয়া এলাকার পরিমাণ আলাদাভাবে মাপা হয়। পরিবেশবিষয়ক সংগঠন সত্য ভূমির হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ২,০২,০০০ হেক্টরের বেশি জমি পুড়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৯ শতাংশ বেশি।

আগুন নেভানোর কাজের বড় চ্যালেঞ্জ মাটির নিচে। পিট হলো আংশিক পচে যাওয়া উদ্ভিদের পুরু স্তর। শুকিয়ে গেলে এতে মাটির নিচে আগুন জ্বলতে পারে, আর পানি ঢেলে সেই তাপের কাছে পৌঁছানো কঠিন।

পালাংকারায় ২৭ বছর বয়সী অগ্নিনির্বাপক ফৌজি রহমান আগুন নেভানোর কাজের বর্ণনা দেন:

পিট মাটি বেশ গভীর হওয়ায় আগুন পুরোপুরি নেভাতে আমাদের একেবারে নিচ পর্যন্ত যেতে হয়।

বানজারবারুর কাছে অগ্নিনির্বাপক দলগুলো পিটের ভেতরে দুই মিটার পর্যন্ত পাইপ ঢুকিয়ে মাটির নিচে পানি ও অগ্নিনির্বাপক তরল পৌঁছে দেওয়ার পরীক্ষা করেছে। পুলিশ জানায়, একটি পরীক্ষায় মাটির নিচের তাপমাত্রা প্রায় ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩০ ডিগ্রিতে নেমে আসে। অবশিষ্ট তাপ শনাক্ত করতে তাপ-সংবেদী ড্রোনও ব্যবহার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ধোঁয়ায় ব্যাহত হচ্ছে আগুন নেভানোর কার্যক্রমও

ইন্দোনেশিয়ার সর্বশেষ সাড়া-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যে প্রস্তুত অবস্থায় ৬১টি উড়োজাহাজের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি পানি ছিটানোর এবং ১৭টি টহল ও আবহাওয়া পরিবর্তনের কাজে ব্যবহারের জন্য। আলাদা পরিচালনগত নথি অনুযায়ী, ২০ এপ্রিল থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে ১১টি পরিচালনাকারী সংস্থার ৩৮টি উড়োজাহাজ দিয়ে ৫,১৭৯টি পানি ছিটানোর ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে।

দিক নির্ধারণ, লক্ষ্য শনাক্ত এবং পানি ছাড়ার জন্য উড়োজাহাজের নিরাপদ দৃশ্যমানতা প্রয়োজন। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান বলেন, ঘন ধোঁয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়ার আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত ৩৪টি উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করতে পারেনি। দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও পানির সীমিত সরবরাহও কাজকে কঠিন করে তুলেছে।

মালয়েশিয়া একটি বম্বার্ডিয়ার সিএল-৪১৫এমপি উড়োজাহাজ, তিনটি হেলিকপ্টার ও প্রায় ৫০ জন কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আলাদা প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণে সম্মত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া। ১৯ অক্টোবরের এক হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়, মালয়েশিয়ার এই নির্দিষ্ট সহায়তা প্যাকেজটি তখনও ইন্দোনেশিয়ার অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল; এর আগে মালয়েশিয়ার উড়োজাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

১৫ ও ১৬ অক্টোবর দক্ষিণ সুমাত্রার ওপর প্রায় ২.৪ টন শুষ্ক বরফ ছড়ায় কর্তৃপক্ষ। প্রথমে পালেম্বাং বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করা হয়। শুষ্ক বরফ হলো কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড। তাপমাত্রার বিপরীত স্তর ভাঙতে এই পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এই স্তরে উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ু ও ধোঁয়াকে মাটির কাছাকাছি আটকে রাখে।

শুষ্ক বরফের প্রথম পরীক্ষার সময় দুর্যোগবিষয়ক কর্মকর্তারা জানান, দৃশ্যমানতা প্রায় ৬৫০ মিটার থেকে বেড়ে ২,৮০০ মিটার হয়েছে। তবে তাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল অন্তত ৫,০০০ মিটার। বিএমকেজির কর্মকর্তারা পদ্ধতিটিকে পরীক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেন; ক্রান্তীয় বনাগুনের ধোঁয়াশা কমাতে এর কার্যকারিতা এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই কৌশলের লক্ষ্য ধোঁয়া ছড়িয়ে দেওয়া, আর মাটিতে কর্মী ও আকাশে উড়োজাহাজ আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্যগত বোঝা বইছে পরিবারগুলো

ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি প্রদেশে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতায় আক্রান্তের সংখ্যা ২,৮৩,২৭০। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল ১,১৩,৩৩৬। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি।

পালাংকারায় স্বাস্থ্য দপ্তর তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ২৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে। বাসিন্দারা বলেছেন, ঘরে ধোঁয়া ঢুকছে; স্বেচ্ছাসেবকেরা তুলনামূলক পরিষ্কার বাতাসের আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুলছেন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং আগে থেকেই শ্বাসকষ্টে ভোগা পরিবারের জন্য নিরাপদ বাতাসের খোঁজ জরুরি হয়ে উঠেছে।

সুমাত্রায় বিএমকেজির পরিমাপে তীব্র ধোঁয়াশার সময় পালেম্বাংয়ে পিএম২.৫-এর মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৯০৩.৬ মাইক্রোগ্রাম এবং পেকানবারুতে ২৯৮.৭ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছায়। পিএম২.৫ বলতে ২.৫ মাইক্রোমিটারের বেশি চওড়া নয় এমন কণাকে বোঝায়; এগুলো ফুসফুসের গভীরে পৌঁছাতে পারে।

মালয়েশিয়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্কুল বন্ধ করেছে, আর ধোঁয়াশা-সংশ্লিষ্ট অসুস্থতার জন্য সিঙ্গাপুর ভর্তুকিযুক্ত চিকিৎসাসেবা আবার চালু করেছে। সুরক্ষাসামগ্রীর চাহিদাও বেড়েছে: মালয়েশিয়ার চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারী এএ অ্যালাইভের অক্সিজেন সরঞ্জাম বিক্রি ৩৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আর খুচরা বিক্রেতা কোর্টসের হিসাবে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে বায়ু পরিশোধক বিক্রি ৬০০ শতাংশ বেড়েছে।

বন মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, জাভার একটি জাতীয় উদ্যানে চার অগ্নিনির্বাপকের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক হাজার কর্মী অংশ নেওয়া এই অভিযানে তাদের মৃত্যু মানবিক ক্ষতির বোঝা আরও বাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইনি পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক আলোচনা জোরদার

সিঙ্গাপুরের টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী গ্রেস ফু বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় ছাড়পত্রধারী সাতটি কোম্পানিকে ট্রান্সবাউন্ডারি হেইজ পলিউশন অ্যাক্টের আওতায় নোটিশ দেবে ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি। এসব নোটিশে আগুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আগুন প্রতিরোধের তথ্য দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। ২০১৪ সালের আইন অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে এমন আগুন লাগালে বা তা চলতে দিলে কোম্পানিগুলোর প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা হতে পারে।

এজেন্সির প্রাথমিক তদন্তের ফল এবং পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপের ভিত্তি ব্যাখ্যা করে ফু বলেন:

আমাদের এ পর্যন্ত করা তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে, সিঙ্গাপুরে দেখা কিছু ধোঁয়াশার উৎস ইন্দোনেশিয়ায় সাতটি কোম্পানির জমিতে লাগা আগুন।

প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং বলেন, কোন কোম্পানিগুলো দায়ী হতে পারে তা খতিয়ে দেখছে সিঙ্গাপুর এবং অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনা করছে। গ্রিনপিসও আগুনে পোড়া এলাকার সঙ্গে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াভিত্তিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র থাকার অভিযোগ করেছে।

ইন্দোনেশিয়াও নিজস্ব আইন প্রয়োগের পদক্ষেপ জোরদার করেছে। ৩২টি কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পর বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থার মধ্যে ছিল অনুমতি স্থগিত, পুনরুদ্ধারের নির্দেশ এবং পাঁচটি অনুমতি বাতিল। ১২৫ জন ব্যক্তি ও করপোরেশনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম চলছে।

আসিয়ান ধোঁয়াশা সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ স্তর ৩-এ তুলেছে। মালয়েশিয়া আরও শক্তিশালী আঞ্চলিক ব্যবস্থার পক্ষে; মোহামাদের মতে, ধোঁয়াশা আসিয়ানের বিদ্যমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থার আওতায় পড়ে না। নভেম্বরে ম্যানিলায় শীর্ষ সম্মেলনের আগে আসিয়ানের বৈঠকগুলোতে বিষয়টি আলোচনার কথা রয়েছে। এদিকে যাত্রী ও স্থানীয় জনপদগুলোকে পরিবর্তনশীল দৃশ্যমানতা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকার পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

মূল তথ্য

  • ১১ আগস্ট থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় ২,৬০৪টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এর মধ্যে ১,৪২০টি বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
  • পন্টিয়ানাক ও পালেম্বাং রুটে সিঙ্গাপুর-সংশ্লিষ্ট ১৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
  • ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ১৭টি প্রদেশের ২৯টি বিমানবন্দরে ধোঁয়াশার প্রভাব পড়েছে এবং প্রত্যন্ত জনপদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।
  • ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সাতটি প্রদেশে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতায় আক্রান্তের সংখ্যা ২,৮৩,২৭০।
  • আগুন নেভানোর কাজে মাটিতে কর্মী, উড়োজাহাজ, পিটের তাপ কমানো এবং পরীক্ষামূলকভাবে ধোঁয়া ছড়িয়ে দেওয়ার পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে; কম দৃশ্যমানতায় কিছু কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
  • সিঙ্গাপুর কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে, আর নভেম্বরে ম্যানিলায় শীর্ষ সম্মেলনের আগে আসিয়ানে সংকটটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে