দুটি ফ্লাইটে দৃশ্যমানতার প্রাথমিক উন্নতি
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, দাবানলের ধোঁয়াশা ছড়িয়ে দিতে ড্রাই আইস ব্যবহারের দেশের প্রথম পরীক্ষার সময় পালেম্বাংয়ের সুলতান মাহমুদ বাদারউদ্দিন ২ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে দৃশ্যমানতা প্রায় ৬৫০ মিটার থেকে বেড়ে ২,৮০০ মিটার হয়। ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর এ অভিযান শুরু হয়। ধোঁয়ার কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে মানুষ অস্বাস্থ্যকর বাতাসের সংস্পর্শে আসছিল।
সূচিপত্র
- দুটি ফ্লাইটে দৃশ্যমানতার প্রাথমিক উন্নতি
- পালেম্বাংয়ে কী ঘটেছে?
- ড্রাই আইস কীভাবে ধোঁয়া সরাতে পারে?
- বিমানবন্দর কেন প্রথম অগ্রাধিকার
- ড্রাই আইস ও কৃত্রিম বৃষ্টির কাজ আলাদা
- পুরোনো উপাদানের নতুন ব্যবহার
- সুমাত্রা ও বোর্নিওজুড়ে আগুন জ্বলছে
- ইন্দোনেশিয়ার বাইরেও স্বাস্থ্যঝুঁকি
- আরও বিস্তৃত কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত কীসের ওপর নির্ভর করছে?
- মূল বিষয়গুলো
বিএনপিবির মুখপাত্র বের্তন এসপি পানজাইতানের ভাষ্য অনুযায়ী, পিকে-এসএনপি নিবন্ধন নম্বরের একটি সেসনা ক্যারাভান প্রথম দিনে দুটি উড্ডয়ন করে। প্রতিবার প্রায় ৪,৫০০ ফুট উচ্চতায় ৮০০ কেজি করে উপাদান বহন করা হয়। ঘন ধোঁয়ায় যেখানে ফ্লাইট চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল, বিমানটি সেই বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকাকে লক্ষ্য করে।
প্রাথমিক পরিমাপের তুলনায় দৃশ্যমানতা প্রায় ৪.৩ গুণ বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে, তবে তা সরকারের ৫,০০০ মিটার বা তার বেশি লক্ষ্যমাত্রার নিচে ছিল। পরীক্ষার আগে কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দৃশ্যমানতা আনুমানিক ১,০০০ মিটার বলে উল্লেখ করেছিলেন। বিএনপিবির অভিযান-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যে বিমানবন্দরের কাছে প্রাথমিক পরিমাপ আরও নির্দিষ্ট করে ৬৫০ মিটার বলা হয়েছে।
ভূমির কাছাকাছি আটকে থাকা ধোঁয়া ছড়িয়ে দিতে অত্যন্ত ঠান্ডা কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইডের কণা কাজে আসে কি না, তা পরীক্ষা করছেন কর্তৃপক্ষ। অগ্নিনির্বাপণ এবং কৃত্রিম বৃষ্টি ঘটানোর কার্যক্রম চলার পাশাপাশি জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও বিমানবন্দরের আশপাশের পরিস্থিতি উন্নত করাই তাঁদের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য।
পালেম্বাংয়ে কী ঘটেছে?
বন ও ভূমিতে আগুন মোকাবিলার তৎপরতা জোরদার করতে প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর নির্দেশের পর ১৪ অক্টোবর পালেম্বাংয়ে প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী দুদুং আবদুরাচমান। দক্ষিণ সুমাত্রার গভর্নর হারমান দেরুও প্রস্তুতিতে অংশ নেন। প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে পালেম্বাং ও পাশের একটি জেলা চিহ্নিত করা হয়।
প্রস্তুতি থেকে সংক্ষিপ্ত কার্যক্রমভিত্তিক পরীক্ষা পর্যন্ত ধাপগুলো ছিল এ রকম:
- ১৪ অক্টোবর, ২০২৬: দুদুং ও স্থানীয় কর্মকর্তারা পালেম্বাংয়ে প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন, যার মধ্যে শ্রী মুলিয়োনো হারলেমবাং বিমানঘাঁটিও ছিল।
- ১৫ অক্টোবর: বিমান পালেম্বাং ও আশপাশের এলাকায় ড্রাই আইস ছড়ানো শুরু করে। প্রথম দিনে বিএনপিবি দুটি উড্ডয়নের তথ্য নথিভুক্ত করে।
- ১৫ ও ১৬ অক্টোবর: মধ্য কালিমান্তানেও প্রচলিত পদ্ধতিতে বৃষ্টি ঘটানোর কার্যক্রম চালানোর কথা ছিল।
- ১৮ অক্টোবর: ড্রাই আইসের পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরপর বৃহত্তর পরিসরে কার্যক্রম শুরুর আগে মূল্যায়ন করার কথা।
বিএনপিবি জানিয়েছে, ব্যবহৃত বিমানটি একটি সেসনা ক্যারাভান, যা লাম্পুংয়ের রাদেন ইনতেন ২ বিমানবন্দর থেকে উড়েছিল। প্রস্তুতি-সংক্রান্ত তথ্যেও সেসনার কথা বলা হয়েছিল, যদিও আগের এক ঘোষণায় লাম্পুং থেকে যাত্রা করা একটি কাসা বিমানের নাম উল্লেখ ছিল।
কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে লাম্পুং থেকে আনা এবং স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা ১.৫ টন ড্রাই আইস প্রস্তুত করেছিলেন। বিএনপিবির পরবর্তী হিসাবে প্রথম দিনে দুটি বোঝায় মোট ৮০০ কেজি করে ১.৬ টন উপাদান বহন করা হয়।
ড্রাই আইস কীভাবে ধোঁয়া সরাতে পারে?
ড্রাই আইস হলো কঠিন অবস্থার কার্বন ডাই-অক্সাইড। সাধারণ বরফের মতো গলে তরল না হয়ে, গরম হলে এটি সরাসরি কঠিন অবস্থা থেকে গ্যাসে পরিণত হয়। বিএনপিবি জানিয়েছে, অভিযানে ব্যবহৃত উপাদান ছিল প্রায় তিন মিলিমিটার চওড়া কণা, যার তাপমাত্রা ছিল প্রায় মাইনাস ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পালেম্বাংয়ের পরীক্ষায় তাপমাত্রার বিপর্যয়ন নামে পরিচিত একটি আবহাওয়াগত অবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণত উচ্চতা বাড়লে বাতাসের তাপমাত্রা কমে। তাপমাত্রার বিপর্যয়নে ভূমির কাছের ঠান্ডা বাতাসের ওপর উষ্ণ বাতাসের একটি স্তর থাকে। এতে বাতাসের ওপরের দিকে ওঠা বাধাগ্রস্ত হয় এবং নিচে ধোঁয়া জমতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা বা বিএমকেজির আবহাওয়া পরিবর্তন কার্যক্রমের পরিচালক বুদি হারসোয়ো ব্যাখ্যা করেন, ড্রাই আইসের কারণে দ্রুত শীতল হওয়া ওই স্থিতিশীল স্তরকে নাড়িয়ে দিতে পারে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই পরিবর্তনে ধোঁয়া ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়বে এবং এর ফলে মানুষের কাছাকাছি ধোঁয়ার ঘনত্ব কমবে।
বিএনপিবিও একই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছে: আটকে থাকা ধোঁয়া যাতে নড়াচড়া করে ছড়িয়ে পড়তে পারে, সে জন্য কণাগুলো বায়ুমণ্ডলকে কম স্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। দূষণ আটকে রাখে এমন পরিস্থিতিকে লক্ষ্য করছে এই অভিযান; অন্যদিকে বিভিন্ন স্থানে কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ক্রান্তীয় অঞ্চলের দাবানলের পরিস্থিতিতে এই পদ্ধতিতে কতটা এবং কতক্ষণ উন্নতি আনা সম্ভব, সেটিই কার্যক্রমের মূল প্রশ্ন। ১৮ অক্টোবর পরীক্ষা শেষে কর্তৃপক্ষ ধোঁয়ার ঘনত্ব, বায়ুর গুণমান ও দৃশ্যমানতা মূল্যায়ন করবে। ওই মূল্যায়ন প্রকাশের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
বিমানবন্দর কেন প্রথম অগ্রাধিকার
পুরো প্রদেশের ধোঁয়াশা সরানোর চেষ্টা না করে বিএমকেজি বিমানবন্দরের উজান দিকের এলাকায় ছড়ানোর কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত করার পরিকল্পনা করেছে। বাতাস লক্ষ্য করা এলাকাগুলো থেকে রানওয়ের দিকে বয়ে আসতে পারে, তাই প্রতিটি ফ্লাইটের স্থান গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ সুমাত্রার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছড়ানোর স্থান সমন্বয় করছে। এ ক্ষেত্রে বায়ুমণ্ডলের অবস্থা ও ধোঁয়ার অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। প্রাদেশিক রাজধানী হওয়ায় পালেম্বাংকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন গভর্নর হারমান দেরু।
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ১১ আগস্ট থেকে দাবানলের ধোঁয়াশায় দেশের ১,৮১৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কম দৃশ্যমানতার কারণে আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার—যেগুলো পানি ছড়ায়—এবং বৃষ্টিপাত ঘটানোর উপাদান বহনকারী বিমান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।
তাই দৃশ্যমানতা বাড়লে একই সঙ্গে দুটি জরুরি কাজে সহায়তা হতে পারে: পরিবহনব্যবস্থা সচল করা এবং অগ্নিনির্বাপণকারী বিমান চলাচলের সুযোগ তৈরি করা। সুলতান মাহমুদ বাদারউদ্দিন ২ বিমানবন্দরের আশপাশে বিএনপিবির প্রথম দফার ছড়ানোর কার্যক্রমে এই উদ্যোগ বাস্তবে প্রয়োগ করা হয়েছে।
সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দৃশ্যমানতা প্রাথমিক পরিকল্পনার প্রায় এক কিলোমিটার থেকে বেড়ে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার হবে, অর্থাৎ পাঁচ গুণ। বিমানবন্দর পরিচালনার ক্ষেত্রে পাইলট কত দূর দেখতে পাচ্ছেন তা বাস্তবিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ; আর ধোঁয়ার মধ্যে থাকা বাতাসে ভাসমান দূষণের পরিমাপ জরুরি ধোঁয়াশায় বসবাসকারী মানুষের জন্য।
ড্রাই আইস ও কৃত্রিম বৃষ্টির কাজ আলাদা
ড্রাই আইসের পরীক্ষা চালানোর পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া তাদের আবহাওয়া পরিবর্তন কার্যক্রম ‘অপারাসি মোডিফিকাসি কুয়াচা’ পরিচালনা করছে, যা সংক্ষেপে ওএমসি নামে পরিচিত। প্রচলিত এই কার্যক্রমে বৃষ্টি ঘটানোর চেষ্টা করা হয়, যাতে আগুন নেভাতে সহায়তা মেলে। অন্যদিকে পালেম্বাংয়ের পরীক্ষার লক্ষ্য বৃষ্টির মেঘের ওপর নির্ভর না করে ধোঁয়াশা ছড়িয়ে দেওয়া।
প্রস্তুতির সময় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী দুদুং আবদুরাচমান দুটি কাজের পার্থক্য তুলে ধরেন:
ড্রাই আইস প্রয়োগের উদ্দেশ্য বিশেষভাবে ধোঁয়া ছড়িয়ে দেওয়া; আর আগুন নেভাতে কৃত্রিম বৃষ্টি ঘটানোর জন্য আবহাওয়া পরিবর্তন কার্যক্রম চলবে। তাই আমরা সম্ভাব্য সব পদ্ধতিই অনুসরণ করছি।
বিএনপিবির ব্যাখ্যা, বৃষ্টি ঘটানোর প্রচলিত কার্যক্রমে সাধারণত সোডিয়াম ক্লোরাইড বা লবণের সূক্ষ্ম কণা ব্যবহার করা হয়। উপযোগী মেঘে উপাদান ছড়িয়ে দিয়ে বৃষ্টি সৃষ্টিকারী প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করা হয়। ড্রাই আইসের কার্যক্রম লক্ষ্য করছে ধোঁয়া আটকে রাখা বায়ুমণ্ডলকে।
দক্ষিণ সুমাত্রার প্রাদেশিক সরকার জানিয়েছে, প্রদেশে ইতিমধ্যে ৭০টির বেশি আবহাওয়া পরিবর্তন কার্যক্রম চালানো হয়েছে, তবু ঘন ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। অতিরিক্ত এই পদ্ধতি পরীক্ষার পাশাপাশি স্থলভাগের কর্মী ও বিমান আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে গেছে।
পুরোনো উপাদানের নতুন ব্যবহার
১৯৪৬ সাল থেকে আবহাওয়া-সংক্রান্ত পরীক্ষায় ড্রাই আইস ব্যবহার করা হয়েছে। ওই বছর মার্কিন গবেষক ভিনসেন্ট শেফার আবিষ্কার করেন, ড্রাই আইস মেঘে বরফের স্ফটিক তৈরি করতে পারে। ১৯৪৭ সালে এক পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি হারিকেনে চূর্ণ ড্রাই আইস ফেলে। অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানীরাও বৃষ্টি ঘটাতে এর ব্যবহার পরীক্ষা করেন।
ইন্দোনেশিয়া সেই ইতিহাসকে ভিন্ন এক তাৎক্ষণিক কাজে কাজে লাগাচ্ছে: দৃশ্যমানতা উন্নত করা এবং ভূমির কাছাকাছি ঘন ধোঁয়া কমানো। গভর্নর হারমান দেরুর ভাষ্য অনুযায়ী, বিএমকেজি কর্মসূচিটির প্রস্তাব দেয়, প্রেসিডেন্ট তা অনুমোদন করেন এবং বিএনপিবি বাস্তবায়নে যোগ দেয়।
ধোঁয়াশা মোকাবিলায় এই বিশেষ উদ্যোগটি পরীক্ষার ক্ষেত্রে দক্ষিণ সুমাত্রা ইন্দোনেশিয়ার প্রথম প্রদেশ। অগ্নিকাণ্ডের জরুরি পরিস্থিতিতে বিএনপিবি চিহ্নিত ছয়টি অগ্রাধিকার প্রদেশেরও একটি এটি। অন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এই পদ্ধতি বাড়ানো হবে কি না, ফলাফল দেখে সরকার সে সিদ্ধান্ত নিতে চায়।
সুমাত্রা ও বোর্নিওজুড়ে আগুন জ্বলছে
স্বাধীন বন পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম নুসান্তারা অ্যাটলাসের হিসাবে, ২০২৬ সালে ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের হটস্পটের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে এবং প্রায় ৯ লাখ হেক্টর জমি পুড়েছে। পর্যবেক্ষণে অস্বাভাবিক তাপ শনাক্ত হওয়া স্থানকে হটস্পট বলা হয়; আর পুড়ে যাওয়া জমির পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিস্তার বোঝানো হয়েছে।
এল নিনোর তীব্র পরিস্থিতিতে সুমাত্রা ও বোর্নিওজুড়ে খরা বেড়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়েছে। এল নিনো হলো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পুনরাবৃত্ত উষ্ণায়ন, যা বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে ইন্দোনেশিয়ার কিছু অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়া নিয়ে আসতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অগ্নি-আবহাওয়া সূচককে ‘অতি উচ্চ’ পর্যায়ে রেখেছে। এর অর্থ, সেখানে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। আসিয়ান স্পেশালাইজড মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার পরীক্ষার আশপাশের দিনগুলোতে শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে সুমাত্রা ও বোর্নিওর উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে কিছু বৃষ্টি হতে পারে।
বন ও পিটভূমির পাশাপাশি আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরীক্ষার আগের মঙ্গলবার সুমাত্রায় এক অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩০০টি বাড়ি ধ্বংস হয় এবং কয়েক শ মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়।
আগুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশ ২০০ জনের বেশি ব্যক্তি ও নয়টি কোম্পানিকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। স্থল ও আকাশপথে আগুন নেভানোর পাশাপাশি অগ্নিপ্রতিরোধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগও এই মোকাবিলার অংশ।
ইন্দোনেশিয়ার বাইরেও স্বাস্থ্যঝুঁকি
১৮ আগস্ট থেকে ধোঁয়াশা-আক্রান্ত অঞ্চলগুলোতে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। ধোঁয়ায় থাকা সূক্ষ্ম কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই ধোঁয়াশার মধ্যে বসবাসকারী মানুষের দীর্ঘ সময় এর সংস্পর্শে থাকা উদ্বেগের বিষয়।
দূষিত বাতাস ইন্দোনেশিয়ার সীমানা পেরিয়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, পূর্ব তিমুর ও ফিলিপাইনে পৌঁছেছে। পালেম্বাংয়ে পরীক্ষার আগের বুধবার সিঙ্গাপুরের পশ্চিমাঞ্চলের দূষণকে সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তরে রেখেছিল দেশটির জাতীয় পরিবেশ সংস্থা।
ধোঁয়াশা-সম্পর্কিত চিকিৎসার জন্য সোমবার থেকে ভর্তুকি চালু করেছে সিঙ্গাপুর। ২০১৫ সালের তীব্র আঞ্চলিক ধোঁয়া পরিস্থিতির পর এই প্রথম এ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হলো। দূষণ খুব অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছালে যোগ্য বাসিন্দাদের মধ্যে এন৯৫ মাস্ক বিতরণও শুরু করেছে দেশটি।
অস্বাস্থ্যকর বাতাসের কারণে মালয়েশিয়া তিনটি রাজ্য এবং আরও চারটি রাজ্যের কিছু অংশে স্কুল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। পূর্ব তিমুর বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের জন্য স্কুল বন্ধ করেছে এবং পরিবারগুলোকে শিশুদের ঘরে রাখতে ও বাইরে গেলে মাস্ক পরতে বলেছে।
প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশগত স্থায়িত্ববিষয়ক উপমন্ত্রী সৈয়দ ইব্রাহিম সৈয়দ নোহের ভাষ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষ দিক থেকে মালয়েশিয়াও প্রচলিত পদ্ধতিতে মেঘে বীজ বপনের ১১টি অভিযান চালিয়েছে। উপদ্বীপ মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলের বাইরে দূষণ বাড়ায় কার্যক্রম জোহর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
আগের মাসে ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়ার সংস্থাগুলোকে দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তে মেঘে বীজ বপনের জন্য ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল। এই আন্তসীমান্ত উদ্যোগ দেখায়, দাবানলের ধোঁয়া কীভাবে আগুনের স্থান থেকে অনেক দূরের জনপদকেও প্রভাবিত করতে পারে।
আরও বিস্তৃত কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত কীসের ওপর নির্ভর করছে?
ড্রাই আইসের কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাব্য এলাকা হিসেবে কর্মকর্তারা মধ্য কালিমান্তানের নাম উল্লেখ করেছেন। দুদুং বলেছেন, দক্ষিণ সুমাত্রার ফলাফলের ওপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। পরীক্ষা শেষে মূল্যায়ন ও আরও সমন্বয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপিবি।
সম্প্রসারণের শর্ত ব্যাখ্যা করে দুদুং বলেন:
এই পরীক্ষা সফল হলে, ধোঁয়াশার মূল কেন্দ্র মধ্য কালিমান্তান ও এর আশপাশের মতো অন্য এলাকায়ও আমরা কার্যক্রম চালাব।
পালেম্বাংয়ে দৃশ্যমানতার প্রাথমিক পরিমাপের পাশাপাশি বায়ুর গুণমান ও ধোঁয়া-সংক্রান্ত পরিমাপও কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের জন্য একটি কার্যক্রমভিত্তিক ফলাফল দিচ্ছে। বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো নির্মল বাতাস ও সচল পরিবহন। জরুরি সেবাকর্মীদের জন্য আগুন নেভানোর সময় বিমান চালু রাখতে পর্যাপ্ত দৃশ্যমানতাও জরুরি।
মূল বিষয়গুলো
- দাবানলের ধোঁয়াশা মোকাবিলায় ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ দক্ষিণ সুমাত্রায় প্রথমবার ড্রাই আইসের পরীক্ষা শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়া।
- বিএনপিবি জানিয়েছে, প্রথম দিনের কার্যক্রমে পালেম্বাং বিমানবন্দরের কাছে দৃশ্যমানতা প্রায় ৬৫০ মিটার থেকে বেড়ে ২,৮০০ মিটার হয়।
- একটি সেসনা ক্যারাভান দুটি উড্ডয়ন করে; প্রতিবার প্রায় ৪,৫০০ ফুট উচ্চতায় ৮০০ কেজি ড্রাই আইস বহন করা হয়।
- এই পদ্ধতির লক্ষ্য আটকে থাকা ধোঁয়া ছড়িয়ে দেওয়া; অন্যদিকে পৃথক আবহাওয়া পরিবর্তন কার্যক্রমে আগুন নেভাতে বৃষ্টি ঘটানোর চেষ্টা করা হয়।
- ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত পরীক্ষা চালানোর কথা ছিল। এরপর মধ্য কালিমান্তানসহ অন্য এলাকায় সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই করতে মূল্যায়ন হওয়ার কথা।
- ধোঁয়াশা সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ার সময় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি ঘটনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ১,৮১৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট নথিভুক্ত হয়েছে।






