ডিসেম্বরে ফেরার অঙ্গীকার, প্রত্যর্পণের দাবি
মৃত্যুদণ্ডের মুখেও ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। তবে সরকার তাঁর পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে বলেছে, দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারতকেই তাঁকে হস্তান্তর করতে হবে। পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে তাঁর ফেরার পরিকল্পনা ব্যক্তিগত অঙ্গীকার ও দুই সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইনি প্রক্রিয়ার মাঝখানে আটকে আছে।
সূচিপত্র
- ডিসেম্বরে ফেরার অঙ্গীকার, প্রত্যর্পণের দাবি
- স্বাভাবিক পথে দেশে ফেরার সুযোগ নাকচ ঢাকার
- হস্তান্তরে সম্মতি দেয়নি ভারত
- মৃত্যুদণ্ড ও শত শত মামলা
- অভ্যুত্থান থেকে ফেরার ঘোষণা
- দল নিষিদ্ধ, প্রস্তুতিতে আওয়ামী লীগ; প্রত্যাবর্তন নিয়ে সংশয় বিরোধীদের
- নিপীড়নের অভিযোগ ও সংখ্যালঘুদের উদ্বেগ
- বিদেশি সুরক্ষার প্রয়োজন নেই বলে জানালেন হাসিনা
- মূল বিষয়গুলো
৫ নভেম্বর পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বিচারিক ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর চাইবে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ভারতে বসবাস করছেন হাসিনা। বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি।
আগের সপ্তাহে পাঠানো প্রশ্নের জবাবে বুধবার ইমেইলে হাসিনা ডিসেম্বরে ফেরার সেই পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন, যা তিনি প্রথম ঘোষণা করেছিলেন আগস্টে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ফেরার ঝুঁকি তিনি মেনে নিয়েছেন:
মৃত্যুই যদি আমার নিয়তি হয়, তবে নিজের দেশের মাটিতে, নিজের মানুষের মাঝে মরাই আমার কাছে শ্রেয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার জন্য তাঁকে দায়ী করে ট্রাইব্যুনাল। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ১,৪০০। হাসিনা কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন এবং রায় ও বিচারপ্রক্রিয়ার বৈধতা দুটিই প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আওয়ামী লীগের জন্যও তাঁর এই অঙ্গীকার এসেছে কঠিন সময়ে। দলটি এখনো নিষিদ্ধ, জ্যেষ্ঠ নেতারা কারাবন্দি অথবা দেশের বাইরে, আর ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি দলটি। ওই নির্বাচনে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসেন। হাসিনা ফিরলে কর্তৃপক্ষের নাগালে চলে আসবেন, অথচ প্রকাশ্যে সাংগঠনিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ দলটির খুবই সীমিত।
স্বাভাবিক পথে দেশে ফেরার সুযোগ নাকচ ঢাকার
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫ নভেম্বর ভ্রমণ নথির বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন কবির। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলকে বিদায় জানানোর পর তিনি বলেন, হাসিনার ফেরাকে সাধারণ যাত্রা নয়, বরং প্রত্যর্পণের বিষয় হিসেবে দেখছে সরকার।
বাংলাদেশ যে পথে এগোতে চায়, তার ভিত্তি হিসেবে বিদ্যমান বিচারিক পরোয়ানা ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী:
"বিচারিক পরোয়ানা আছে, প্রতিষ্ঠিত বিচারিক প্রক্রিয়া আছে, প্রত্যর্পণ চুক্তিও আছে। তাই পাসপোর্ট ইস্যু করা বা হস্তান্তরের কোনো প্রয়োজন বা বাধ্যবাধকতা নেই," তিনি বলেন।
হাসিনার কূটনৈতিক ও সাধারণ পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার যাত্রার জন্য পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস প্রয়োজন হবে। ফলে তা দিতে সরকারের অস্বীকৃতি তাঁর প্রকাশ্যে প্রস্তাবিত পথে বাস্তব বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কবির বলেন, হাসিনা এ দুই নথির কোনোটি চেয়ে আবেদন করেছেন কি না, তা তিনি এখনো জানেন না। সেদিনই অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় কমনওয়েলথের এক বৈঠক থেকে ফিরেছিলেন তিনি। হাসিনা ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ বা পথ জানাননি, আর তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে কোনো সমঝোতার কথাও ঘোষণা করা হয়নি।
হস্তান্তরে সম্মতি দেয়নি ভারত
২০১৩ সালের চুক্তির আওতায় হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বারবার ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। প্রত্যর্পণ বলতে বিচার বা সাজা কার্যকরের মুখোমুখি করতে এক দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যক্তিকে অন্য দেশে হস্তান্তর করাকে বোঝায়। এর জন্য সরকার ও আইনি কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ প্রয়োজন; সীমান্ত পেরিয়ে শুধু যাত্রার টিকিট কাটলেই হয় না।
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী প্রশাসন এবং তারেক রহমানের নির্বাচিত সরকার—দুই পক্ষই নয়াদিল্লিতে অনুরোধ পাঠিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, হাসিনাকে হস্তান্তরে ভারত সম্মতিও জানায়নি, আবার স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যানও করেনি। ভারত বলে আসছে, অনুরোধটি আইনি পর্যালোচনাধীন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী অক্টোবরে বাংলাদেশের রাজধানীতে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত আলোচনায় সময়সীমা নিয়ে কথা বলেন:
"(হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে) কেউ আপনাকে কোনো সময়সীমা বলতে পারবে না," তিনি বলেন।
এর আগে একজন আলোচিত পলাতককে হস্তান্তরে চুক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছিল: ২০১৫ সালে আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। হাসিনার ক্ষেত্রে ঢাকা চাইছে বিপরীত দিকে হস্তান্তর। তাঁর ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ এবং ভারতের প্রত্যর্পণের অনুরোধ বিবেচনা—দুটি পৃথক প্রক্রিয়া। যেকোনো একটি বাস্তবায়নে আলাদা সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
মৃত্যুদণ্ড ও শত শত মামলা
২০২৫ সালে হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাঁর সরকারের পতন ঘটানো বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে ছিল এই রায়; এর মধ্যে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও ছিল।
জাতিসংঘের হিসাবে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১,৪০০, যা অভ্যুত্থান ঘিরে সহিংসতার মাত্রা তুলে ধরে। আহতও হয়েছেন হাজারো মানুষ। হত্যার নির্দেশ দেওয়ার দায় অস্বীকার করেছেন হাসিনা, আর তাঁর আইনজীবীরা নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত হাসিনার বিরুদ্ধে ৬৬৩টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫৩টি হত্যা মামলা। নথিভুক্ত মোট মামলার প্রায় ৬৮ শতাংশ হত্যা মামলা—৪৫৩-কে ৬৬৩ দিয়ে ভাগ করে এই হিসাব পাওয়া যায়। সংখ্যাগুলো তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিবরণ; এর অনেক বিস্তৃত আইনি দায়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ড একটি নির্দিষ্ট রায়।
ফেরার ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি সচেতন বলে জানান হাসিনা। তাঁর আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন:
আমি জানি, দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার হতে পারি। কারাবন্দি, নির্যাতিত, এমনকি নিহতও হতে পারি। এসব সম্ভাবনা সম্পর্কে আমি পুরোপুরি সচেতন। কিন্তু দূর থেকে নিজের মানুষকে কষ্ট পেতে দেখে বাকি জীবন কাটাতে পারব না।
বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তাঁকে দেশের বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে ফিরিয়ে আনতে চায়। ফেরার পর আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথাও বলেছেন হাসিনা। বিচারকে তাঁর প্রত্যাখ্যান এবং আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের অনড় অবস্থান—দুই পক্ষের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে।
অভ্যুত্থান থেকে ফেরার ঘোষণা
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এবং পরে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হাসিনা। কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভ ছাত্র ও বিরোধী শক্তিগুলোর অংশগ্রহণে গণআন্দোলনে রূপ নেওয়ার পর তাঁর শেষ মেয়াদের অবসান ঘটে।
তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিরোধ কীভাবে সরকার পরিবর্তন, মৃত্যুদণ্ড এবং নির্বাচনী রাজনীতি থেকে তাঁর দলের বাদ পড়ার সঙ্গে জড়িয়ে গেল, তা ধারাবাহিক ঘটনাগুলোতে স্পষ্ট:
- জুলাই ও আগস্ট ২০২৪: সারা বাংলাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন চালায়।
- ৫ আগস্ট ২০২৪: হাসিনা সরকারের পতন ঘটে, তিনি ভারতে পালিয়ে যান।
- তাঁর দেশত্যাগের পর: নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস প্রায় ১৮ মাস অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নেতৃত্ব দেন।
- ২০২৫: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
- ফেব্রুয়ারি ২০২৬: অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন তারেক রহমান। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।
- আগস্ট ২০২৬: ডিসেম্বরে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান হাসিনা।
- ৫ নভেম্বর ২০২৬: হাসিনাকে পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেন কবির এবং প্রত্যর্পণের দাবির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে রহমানের সরকার গঠিত হয়েছে হাসিনার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিয়ে। ইউনূসের কাছ থেকে প্রত্যর্পণের দাবি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে তাঁর প্রশাসন। ফলে সরকার পরিবর্তনের পরও হাসিনাকে হস্তান্তরের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
দল নিষিদ্ধ, প্রস্তুতিতে আওয়ামী লীগ; প্রত্যাবর্তন নিয়ে সংশয় বিরোধীদের
আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, ডিসেম্বরে ফেরার বিষয়ে হাসিনা এখনো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সারা বাংলাদেশে দল সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশের বাইরে থাকা দলীয় নেতারা তাঁর ঘোষণাকে রাজনৈতিক উপস্থিতি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন।
কার্যক্রমে বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ স্বল্প সময়ের মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা। এসব কর্মসূচির পর গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা দেশের বাইরে রয়েছেন, আর বাংলাদেশে থাকা সদস্যরা প্রকাশ্যে এলে আটকের ঝুঁকিতে পড়ছেন।
রহমানের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হাসিনা এই ঝুঁকি নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বাস্তবে দেশে ফেরার ঘোষণা নয়, বরং আওয়ামী লীগ সদস্যদের হতাশা কমানোর উদ্দেশ্যেই এই অঙ্গীকার করেছেন হাসিনা।
এই মতবিরোধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দলীয় সমর্থকদের ওপর। আরাফাত ফেরার বিষয়টিকে এমন একটি বাস্তব লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরছেন, যাকে ঘিরে সদস্যরা সংগঠিত হতে পারেন। বিরোধী রাজনীতিকেরা অভিযোগ করছেন, বিদেশে থাকা নেতারা ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশে থাকা সমর্থকদের বিপদের মুখে ফেলছেন।
দল নিষিদ্ধ থাকায় হাসিনার সশরীরে উপস্থিতি তার সংকটের একটি অংশমাত্র। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন থেকে বাদ পড়া এবং প্রকাশ্য কর্মকাণ্ডে বিধিনিষেধ—দুটিই নির্ধারণ করবে, দলের সদস্যরা প্রচার চালাতে, প্রকাশ্যে সমাবেশ করতে বা ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারবেন কি না।
নিপীড়নের অভিযোগ ও সংখ্যালঘুদের উদ্বেগ
হাসিনার অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের অন্তত ২০ হাজার সদস্য নিহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, হাজারো মানুষ গ্রেপ্তার, নির্যাতিত বা আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন; রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সমর্থকেরা বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জীবিকা হারিয়েছেন। ২০ হাজারের সংখ্যাটি তাঁর অভিযোগ; এর পক্ষে কোনো স্বাধীন যাচাই দেওয়া হয়নি।
দলের পরিস্থিতি সম্পর্কে হাসিনা বলেন:
"স্বাভাবিক রাজনৈতিক বা গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই," তিনি বলেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা রহমান সরকারের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার পরিস্থিতির সমালোচনা করেছে। সরকার বলছে, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধের জবাব দেয়নি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোও ভীতি প্রদর্শনের কথা জানিয়েছে। অভ্যুত্থানের পর সহিংসতার বিবরণে অগ্নিসংযোগ, গণপিটুনি এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার কথা রয়েছে; লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা। অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময় উদারপন্থী শক্তিকে দমন করতে উগ্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকেরা উদ্বেগ জানান, তবে প্রশাসন অভিযোগ অস্বীকার করে।
ইউনূসের প্রশাসন জামায়াতে ইসলামীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং কয়েকজন কট্টরপন্থী ইসলামপন্থীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়। উগ্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হাসিনা এসব রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে উগ্রপন্থীদের বাড়তে থাকা আত্মবিশ্বাসের যোগসূত্র দেখিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে আচরণ নিয়ে এখন রহমানের সরকারও সমালোচনার মুখে।
বিদেশি সুরক্ষার প্রয়োজন নেই বলে জানালেন হাসিনা
ফেরার ব্যবস্থা করতে বিদেশি শক্তির সুরক্ষা চাইছেন না বলে জানিয়েছেন হাসিনা। ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র তাঁর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে বাংলাদেশকে চাপ দেবে বলে তিনি আশা করেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিদ্ধান্তটি নিজের বলে তুলে ধরেন তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন:
তবে নিজের দেশে ফিরতে কোনো বিদেশি শক্তির আশীর্বাদ আমার প্রয়োজন নেই।
তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে ভারতই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হাসিনা সে দেশে বসবাস করছেন এবং বাংলাদেশ তাঁর হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে ভারতকে অনুরোধ জানাচ্ছে। বাংলাদেশ নিজে যে ভ্রমণ নথি ইস্যু করে, তা নিয়ন্ত্রণ করে এবং চুক্তির আওতায় তাঁকে নিজেদের হেফাজতে চাইছে। ফলে হাসিনার ব্যক্তিগত দৃঢ়তার ঘোষণা সত্ত্বেও নয়াদিল্লি ও ঢাকায় সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগের সদস্যদের কাছে এখন ডিসেম্বরই সেই মাস, যাকে ঘিরে তাঁদের নেতা প্রত্যাশা তৈরি করেছেন। সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য হলো তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা। এই দুই অবস্থানের মধ্যে সমঝোতার কোনো পথ কোনো পক্ষই ঘোষণা করেনি।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৫ সালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার পরও ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
- তাঁকে পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছে বাংলাদেশ; ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারতকে তাঁকে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে ঢাকা।
- ভারত বলেছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধটি আইনি পর্যালোচনাধীন; হস্তান্তরের কোনো সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
- জাতিসংঘের হিসাবে ২০২৪ সালের অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ১,৪০০। হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসিনা।
- আওয়ামী লীগ এখনো নিষিদ্ধ এবং তারেক রহমানের জেতা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
- হাসিনা ফেরার সুনির্দিষ্ট তারিখ বা পথ জানাননি। দলীয় নেতারা প্রস্তুতি চলছে বলে দাবি করলেও বিরোধীরা তাঁর ফেরা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।






