ব্রেন্টের দাম ৯৫ ডলারের নিচে নামায় ভারতীয় শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত
তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বিনিয়োগ এবং ইরান বিষয়ে মার্কিন নীতিতে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ভারতের সেনসেক্স ২,০০৮.৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৭৯,৩১০.০১-এ বন্ধ হয়েছে। নিফটি ৫০ বেড়েছে ৫৭৬ পয়েন্ট, দিনশেষে দাঁড়িয়েছে ২৪,৫৩৬.৬০-এ।
সূচিপত্র
- ব্রেন্টের দাম ৯৫ ডলারের নিচে নামায় ভারতীয় শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত
- লেনদেনের দিনটি যেভাবে এগিয়েছে
- ভারতের জন্য তেলের দরপতন কেন গুরুত্বপূর্ণ
- হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে ইরানের ছাড়ে স্বস্তির আশা
- যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তনে বিশ্ববাজারে উত্থান
- কর নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ফিরছেন
- ডলারের দর কমায় রুপির মান বাড়ে
- ব্যাংক, বিমান সংস্থা ও ছোট কোম্পানির শেয়ারেও উত্থান
- বিস্তৃত বাজারের উত্থানের বিপরীতে ট্রাম্প মিডিয়ার দরপতন
- মূল বিষয়গুলো
সেনসেক্স বেড়েছে ২.৬০% এবং নিফটি ২.৪০%; সাত মাসের মধ্যে উভয় সূচকের এটিই সবচেয়ে বড় দৈনিক উত্থান। টানা ষষ্ঠ অধিবেশনেও ভারতীয় শেয়ারবাজারে দর বেড়েছে, আর রুপির মান দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক তেলের দামের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড বুধবার ৮.৯৮ ডলার বা ৮.৭% কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.৬২ ডলারে স্থির হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের লেনদেনেও এই পতন অব্যাহত থাকে; বিভিন্ন সময়ে দাম ছিল প্রায় ৯৩.৫০ থেকে ৯৪.১২ ডলারের মধ্যে।
ভারতের জন্য এই দুই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমদানি করা তেলের দাম বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয়। অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে দেশের আমদানি ব্যয় কমতে পারে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের খরচও হ্রাস পেতে পারে। পাশাপাশি রুপির মান বাড়লে প্রতি ডলারের আমদানি খরচ কম হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়েও বিনিয়োগকারীরা সাড়া দেন। দলটি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। বাজারের প্রত্যাশা, ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়বে এবং আরও সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরালো হবে।
এনরিচ মানির প্রধান নির্বাহী পনমুদি আর. এই উত্থানের পেছনের কারণগুলো তুলে ধরেন:
বিশ্ববাজারে ঝুঁকি নেওয়ার মনোভাবের উন্নতি, অপরিশোধিত তেলের দাম কমা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নতুন করে কেনাকাটার সমর্থনে এই তীব্র উত্থান হয়েছে।
লেনদেনের দিনটি যেভাবে এগিয়েছে
বৃহস্পতিবারের আগে থেকেই ভারতীয় শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতির গতি তৈরি হচ্ছিল। বুধবার সেনসেক্স ৩৮৩.৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,৩০১.৪০-এ বন্ধ হয়, যা দুই মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সমাপনী অবস্থান। নিফটি বেড়েছিল ১৪৯.৭৫ পয়েন্ট, দিনশেষে দাঁড়ায় ২৩,৯৬০.৬০-এ।
নিয়মিত লেনদেন শুরুর আগেই বৃহস্পতিবারের উত্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ভারতীয় শেয়ারবাজারের সম্ভাব্য গতিপথের প্রাথমিক ধারণা দেওয়া গিফট নিফটি ফিউচারস সকাল ৮টা ১ মিনিটে ছিল ২৪,২৯৫.৫। পরে দুই প্রধান সূচকই উল্লেখযোগ্যভাবে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শুরু করে।
- বুধবার, ৪ নভেম্বর: ব্রেন্টের দাম ৮.৭% কমে; সেনসেক্স ও নিফটির টানা উত্থান গড়ায় পাঁচ অধিবেশনে।
- বৃহস্পতিবার, সকাল ৮টা ১ মিনিট: গিফট নিফটি ফিউচারস লেনদেন হয় ২৪,২৯৫.৫-এ, যা শক্তিশালী সূচনার ইঙ্গিত দেয়।
- বৃহস্পতিবার, সকাল ১১টা ৫৭ মিনিট: সেনসেক্স ছিল প্রায় ৭৮,৮৪৫ এবং নিফটি প্রায় ২৪,৪০০-এ।
- বৃহস্পতিবার বিকেল: সেনসেক্স ৭৯,৪৫০ এবং নিফটি ২৪,৫৬০ ছাড়িয়ে যায়; পরে ওই অবস্থান থেকে কিছুটা নেমে আসে।
- বৃহস্পতিবারের সমাপনী: সেনসেক্স ৭৯,৩১০.০১ এবং নিফটি ২৪,৫৩৬.৬০-এ বন্ধ হয়।
সমাপনী অবস্থান থেকে বোঝা যায়, দিনের বেশির ভাগ উত্থান ধরে রাখতে পেরেছেন ক্রেতারা, যদিও দুই সূচকই বিকেলের সর্বোচ্চ অবস্থানের নিচে বন্ধ হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত টানা পাঁচ অধিবেশনে সেনসেক্সে ৪,০০০ পয়েন্টের বেশি যোগ হওয়ার পর এই উত্থান বাজারের পুনরুদ্ধারকে আরও এগিয়ে নিয়েছে।
ভারতের জন্য তেলের দরপতন কেন গুরুত্বপূর্ণ
বুধবার ব্রেন্টের দাম ৮.৯৮ ডলার কমে ৯৪.৬২ ডলারে স্থির হয়, যেখানে পতনের আগে দাম ছিল ১০৩.৬০ ডলার। তেলের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলে পরিবহন, বিমা ও অন্যান্য খরচের আগেই ডলারে ব্যয় ৮.৭% কমে যায়।
বৃহস্পতিবার ব্রেন্টের দাম ছিল ৯৪.১২ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ছিল ৮৭.৫১ ডলার। ব্রেন্টের দাম ৯০ ডলারের নিচে নামার দাবিও ছড়িয়েছিল, তবে প্রায় ৯৪ ডলারের বিস্তারিত দরগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখার মতো নির্দিষ্ট চুক্তি ও সময়ের তথ্য দেওয়া হয়নি।
ভারতীয় বিমান সংস্থা, পরিবহন অপারেটর ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জ্বালানির দাম কমা সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ। বিমান সংস্থাগুলো জেট ফুয়েল কেনে, আর অনেক কারখানায় উৎপাদন বা পণ্য পরিবহনে জ্বালানি লাগে। রং উৎপাদনকারীরাও পেট্রোলিয়ামের দামের সঙ্গে সম্পর্কিত কাঁচামাল ব্যবহার করে।
পরিবারের জ্বালানির দাম শুধু অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভর করে না; কর, পরিশোধন ব্যয় ও মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তও এতে প্রভাব ফেলে। আর্থিক বাজারে তাৎক্ষণিক সুবিধার প্রত্যাশা ছিল, ব্যবসার ব্যয় ও ভারতের আমদানি বিলের ওপর চাপ কমতে পারে।
গবেষণা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এইচএসটি ওয়েলথের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হরিসেলভান রাধাকৃষ্ণন বলেন, তেলের দামের পতন কতটা এবং কত দিন স্থায়ী হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ:
তেলের দামের আগের ধীরগতির পতনের তুলনায়, এই দরপতনের মাত্রা বজায় থাকলে ভারতের নিকটমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনীতি ও কোম্পানিগুলোর আয়-সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে ইরানের ছাড়ে স্বস্তির আশা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানের অবস্থান তেলের দরপতনকে স্বাগত জানানোর আরেকটি কারণ হয়ে ওঠে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ হায়াত-মোগাদ্দাম বলেন, ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারকে চলাচল-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ট্যাংকারগুলো জলপথটি দিয়ে যেতে পারবে।
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই প্রণালিতে বিধিনিষেধ তেলবাহী জাহাজ চলাচলে প্রভাব ফেলে, তাই এসব চালানের ওপর নির্ভরশীল দেশ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এ পথে চলাচলের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য বিষয়টি দাম ও সরবরাহ, দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যারেলপ্রতি দাম কমলে খরচ হ্রাস পায়, আর ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি সরবরাহের বাস্তব পরিবহন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। ছাড়গুলোর বিস্তারিত কার্যকরী শর্ত বা সময়সূচি জানানো হয়নি।
বিনিয়োগকারীরা আরও আশা করছিলেন, মার্কিন নির্বাচনের ফল সংঘাত বন্ধের চাপ বাড়াতে পারে। এই প্রত্যাশার কারণে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক খবর, তেলের দাম কমা এবং ভারতীয় শেয়ারের উত্থান একসূত্রে যুক্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তনে বিশ্ববাজারে উত্থান
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ছিল ২২৮, যা ৪৩৫ সদস্যের কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮টির বেশি; ওই হিসাব অনুযায়ী রিপাবলিকানদের আসন ছিল ১৩৯টি।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে বিরোধী দল আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় ও প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারে। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকলেও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় তাঁর কর্মসূচি বাস্তবায়নের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যায়।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে উত্থান হয়। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১,৫৬৯ পয়েন্ট বা ৩.০৩% বেড়েছে, যা ১৮ মাসের মধ্যে সূচকটির সেরা অধিবেশন। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ বেড়েছে ১১৯ পয়েন্ট, দাঁড়িয়েছে ৭,৬৮৮-এ; নাসডাক বেড়েছে ৩৬৪ পয়েন্ট, দাঁড়িয়েছে ২৫,৭৩৬-এ। হংকংয়ের হ্যাং সেং ও যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০-ও ঊর্ধ্বমুখী লেনদেন করেছে।
জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের গবেষণা বিভাগের প্রধান বিনোদ নায়ার নির্বাচনের ফলকে বাণিজ্যনীতির প্রত্যাশা এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে বিনিয়োগ প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত করেন:
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলে বিশ্ববাজারের মনোভাব উন্নত হয়েছে। এতে বাণিজ্য ও শুল্কনীতিতে আরও সংযত অবস্থানের প্রত্যাশা বেড়েছে এবং উদীয়মান বাজারে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের প্রবাহে সম্ভাব্য সহায়তা মিলতে পারে।
বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, সংক্ষেপে এফআইআই, হলো বড় বিদেশি বিনিয়োগ সংস্থা। তাদের কেনাকাটা বাজারে নতুন অর্থ এনে ভারতীয় শেয়ারকে সমর্থন দিতে পারে।
কর নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ফিরছেন
বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বুধবার ভারতীয় শেয়ার কিনেছে নিট ৭২.৮৪ বিলিয়ন রুপির, অর্থাৎ ৭,২৮৪ কোটি রুপির। টানা চতুর্থ অধিবেশনেও তারা নিট ক্রেতা ছিল। নিট কেনাকাটা বলতে কেনার পরিমাণ বিক্রির চেয়ে বেশি হওয়াকে বোঝায়।
একই অধিবেশনের জন্য ৭২,৮৪০ কোটি রুপির আরেকটি পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়েছিল, সঙ্গে ডলারে একই ৭৬৯.৬৫ মিলিয়ন ডলারের হিসাব। রুপির দুই হিসাবের মধ্যে দশ গুণ পার্থক্য রয়েছে; ৭২.৮৪ বিলিয়ন রুপি ৭,২৮৪ কোটি রুপির সমান।
নভেম্বরের প্রথম তিনটি লেনদেন-অধিবেশনে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারে প্রায় ১৭,২৩৫ কোটি রুপি বিনিয়োগ করেছেন। পুরো সপ্তাহে তাদের কেনাকাটা আনুমানিক ২৫,০০০ কোটি রুপি, যা আগের এক দফা ব্যাপক বিক্রির পর বাজারকে সমর্থন জুগিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সোমবার বলেছিলেন, ভারতের মূলধনী মুনাফা কর কাঠামো নিয়ে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ তিনি বিবেচনা করবেন। বিনিয়োগ বিক্রির সময় অর্জিত মুনাফার ওপর মূলধনী মুনাফা কর প্রযোজ্য; দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা বিনিয়োগের কর-ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে।
সীতারামন স্বীকার করেন, বিনিয়োগের পরিস্থিতি বদলেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ফিরতে শুরু করেছেন:
তাই আমি জানি, পরিস্থিতি বদলেছে এবং সে কারণেই উদ্বেগের কণ্ঠ আরও জোরালো হয়েছে। আমি তা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বুঝতে পারছি। এসব বিষয় আমি বিবেচনা করব।
বৃহস্পতিবারের লেনদেনে তাৎক্ষণিক সমর্থন এসেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত কেনাকাটা থেকে; পাশাপাশি তাদের উদ্বেগ আরও বিবেচনা করা হবে, এমন প্রত্যাশাও ছিল।
ডলারের দর কমায় রুপির মান বাড়ে
বৃহস্পতিবার ডলারের বিপরীতে রুপির দর ছিল প্রায় ৯৪.৩৮; দিনের শুরুতে দর ছিল ৯৪.৩২ থেকে ৯৪.৩৫-এর কাছাকাছি। মে মাসে রুপি রেকর্ড সর্বনিম্ন ৯৬.৯৬-এ নেমে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ায়।
ডলারের বিপরীতে রুপির দরসংখ্যা কমার অর্থ ভারতীয় মুদ্রার মান বেড়েছে। ৯৪.৩৮ দরে এক ডলার কিনতে ৯৬.৯৬ দরের তুলনায় ২.৫৮ রুপি কম লাগে। বড় অঙ্কের ডলার বিল পরিশোধকারী আমদানিকারকের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান পরিমাপকারী ডলার সূচক ০.৫৩% কমে ১০১.১৮-এ দাঁড়ায় এবং এক মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। ডলারের দুর্বলতা, ভারতীয় শেয়ারের উত্থান ও অপরিশোধিত তেলের দাম কমা রুপিকে সমর্থন জুগিয়েছে; তবে আমদানিকারকদের ডলারের চাহিদা রুপির উত্থান সীমিত করেছে।
ফিনরেক্স ট্রেজারি অ্যাডভাইজার্স এলএলপির ট্রেজারি বিভাগের প্রধান অনিল কুমার ভানসালি মুদ্রাবাজারে মার্কিন নির্বাচনের প্রভাব ব্যাখ্যা করেন:
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ব্যাপক জয়ে যে সামগ্রিক দরপতনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা-ই এখনো বাজারকে চালিত করছে। ওয়াশিংটনে আসন্ন আইন প্রণয়ন অচলাবস্থার সম্ভাবনা ডলারের তাৎক্ষণিক পুনরুদ্ধারের পথে কার্যত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যাংক, বিমান সংস্থা ও ছোট কোম্পানির শেয়ারেও উত্থান
১৬টি প্রধান খাতের মধ্যে ১৪টিই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে, যা দেখায় বৃহস্পতিবারের কেনাকাটা গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। নিফটি মিডক্যাপ ১০০ বেড়েছে ১.৪৬% এবং নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ বেড়েছে ১.৪৯%।
তালিকাভুক্ত খাতগুলোর মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকের শেয়ার সবচেয়ে বেশি, ২.৫৫%, বেড়েছে। রিয়েলটি খাত বেড়েছে ১.৯২%, তথ্যপ্রযুক্তি ১.৭২%, গাড়ি ১.৬৬% এবং ভোগ্য টেকসই পণ্যের শেয়ার ১.৫২%। লেনদেনের সময় মূলধনী পণ্য, টেলিযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাতের শেয়ারে বিক্রির চাপ ছিল।
বাজাজ ফাইন্যান্স বেড়েছে ৫.৩৩%, মারুতি সুজুকি ৪.৯৪% এবং ইন্ডিগো পরিচালনাকারী ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন ৪.৮৮%। এশিয়ান পেইন্টস বেড়েছে ৪.৩৯%, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা ৩.৮৯% এবং ইনফোসিস ৩.৬৭%।
বিস্তৃত বাজারে ২,৯৯৪টি শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১,৪৫৩টির কমেছে এবং ২০০টির অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ দরপতন হওয়া শেয়ারের তুলনায় দরবৃদ্ধি হওয়া শেয়ারের সংখ্যা সামান্য বেশি, দ্বিগুণেরও ওপরে। ৫২ সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১৩৩টি শেয়ার সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে, আর ৬৯টি ওই সময়ের সর্বনিম্ন দরে নেমেছে।
তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্যের আনুমানিক বৃদ্ধি ৭.২০ লাখ কোটি থেকে ৮.২০ লাখ কোটি রুপির মধ্যে ছিল। বিএসইর উদ্ধৃত বাজার মূলধনের হিসাব ৪৯৪.৪২ লাখ কোটি থেকে বেড়ে ৫০১.৬২ লাখ কোটি রুপি হওয়ায় নিম্ন হিসাবটি পাওয়া যায়। বাজার মূলধন হলো কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত শেয়ারবাজার মূল্য; তাই শেয়ারের দাম ওঠানামা করলে এই বৃদ্ধি বিনিয়োগমূল্যের পরিবর্তন নির্দেশ করে।
বিস্তৃত বাজারের উত্থানের বিপরীতে ট্রাম্প মিডিয়ার দরপতন
ট্রুথ সোশ্যালের মূল প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের শেয়ার ১১%-এর বেশি কমে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৫.২৩ ডলারে নামে, যদিও সামগ্রিক মার্কিন বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বছরজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৫৫%-এর বেশি কমেছে।
কোম্পানিটি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১.৭ মিলিয়ন ডলার আয়ের বিপরীতে ২৩৮.১ মিলিয়ন ডলার নিট লোকসানের কথা জানিয়েছিল। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরের তুলনায় ট্রুথ সোশ্যালের ওয়েবসাইটে ট্রাফিক প্রায় ৩০% কমেছে।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা দিন শেষ করেছেন বেড়ে যাওয়া প্রধান সূচক, শক্তিশালী রুপি ও সস্তা তেলের মধ্যে। কোম্পানিগুলো বাস্তবে কতটা লাভবান হবে, তা নির্ভর করছে জ্বালানির কম দাম ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন করে কেনাকাটা কত দিন স্থায়ী হয় তার ওপর। এই স্থায়িত্বের বিষয়টিই উত্থান মূল্যায়নকারী নির্বাহীরা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
মূল বিষয়গুলো
- সেনসেক্স ২,০০৮.৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৭৯,৩১০.০১-এ বন্ধ হয়েছে; নিফটি ৫৭৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪,৫৩৬.৬০-এ।
- দুই সূচকেই সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক উত্থান হয়েছে এবং টানা ষষ্ঠ অধিবেশনেও দর বেড়েছে।
- বুধবার ব্রেন্টের দাম ৮.৭% কমে ৯৪.৬২ ডলারে স্থির হয়; বৃহস্পতিবারও দর ছিল প্রায় ৯৪ ডলার।
- কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের ইরান ও বাণিজ্যনীতি নিয়ে চাপ বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
- হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের ট্যাংকার চলাচলে ছাড়ের কথা জানিয়েছে ইরান।
- রুপির মান বেড়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কেনাকাটা অব্যাহত রেখেছেন এবং ভারতীয় বাজারের বেশির ভাগ প্রধান খাতে দর বেড়েছে।






