পরিকল্পিত একটি ফ্লাইটে কংগ্রেসের আবেদনের কেন্দ্রে আফগান পরিবারগুলো
শপথ করে দেওয়া এক অভিবাসন কর্মকর্তার ঘোষণায় ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর পাকিস্তানে একটি চার্টার ফ্লাইট এবং এরপর স্থলপথে আফগানিস্তানে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, ১৫০ জনের বেশি আফগানকে বহনকারী বহিষ্কার ফ্লাইট বন্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ৬৬ সদস্য।
সূচিপত্র
- পরিকল্পিত একটি ফ্লাইটে কংগ্রেসের আবেদনের কেন্দ্রে আফগান পরিবারগুলো
- ফ্লাইট নিয়ে ঘোষণায় কী বলা হয়েছে
- আদালতের চ্যালেঞ্জে ভিন্ন ভিন্ন ফল
- সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা?
- পরবর্তী যাত্রাপথ কেন গুরুত্বপূর্ণ
- ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ায় ব্যবস্থার বিষয়টি অস্পষ্ট
- পাকিস্তানে অপেক্ষা করাও অনিশ্চিত
- প্রস্তাবিত অভিযান সাম্প্রতিক বহিষ্কারের নজির ছাড়িয়ে যাবে
- বিরোধকে ভবিষ্যৎ মার্কিন অংশীদারত্বের সঙ্গে যুক্ত করছেন আইনপ্রণেতারা
- মূল বিষয়গুলো
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি স্কট পিটার্সের নেতৃত্বে দ্বিদলীয় এই দলটি সোমবার, ২ নভেম্বর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনকে আবেদনটি পাঠায়। আইনপ্রণেতারা সতর্ক করে বলেন, সাবেক মার্কিন সামরিক সহযোগীদের স্বজন, তালেবানের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং ঝুঁকিতে থাকা অন্যরা নিপীড়ন, নির্যাতন বা মৃত্যুর মুখে পড়তে পারেন।
আফগান বা ইরানিদের বহনকারী বহিষ্কার ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এই দাবি প্রযোজ্য—সেগুলো সরাসরি নিজ দেশে যাক বা অন্য কোনো দেশের মধ্য দিয়ে যাক। লুইজিয়ানায় আটক আফগানদের ক্ষেত্রে মূল উদ্বেগ হলো, বিমান পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর কী হবে: প্রস্তাবিত যাত্রা তালেবান-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গিয়ে শেষ হবে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা প্রায় ২০০ আফগান নাগরিককে নিয়ে পরিকল্পনার কথা বলেছেন, আর কংগ্রেসের আবেদনে ১৫০ জনের বেশি মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তুতি পরিবর্তিত হতে পারে। আটক ব্যক্তিদের কেউ আগে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীতে কাজ করেছেন বা মার্কিন কর্মীদের সঙ্গে কাজ করেছেন; অন্যদের পারিবারিক সম্পর্কের কারণে প্রতিশোধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে অধিকারকর্মীরা মনে করেন।
আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বছরের সামরিক উপস্থিতিতে যারা সহায়তা করেছিলেন, তাদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে আইনপ্রণেতারা আবেদনটি করেছেন। চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন:
আমাদের দেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আমেরিকান সেনাসদস্যদের পাশে দাঁড়াতে নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা আফগানদের কখনো পরিত্যাগ করবে না।
প্রশাসন অভিযানটি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেয়নি। আটক ব্যক্তিদের গ্রহণ এবং পরে অন্যত্র পাঠানোর ব্যবস্থা করতে সম্মত হওয়ার বিষয়টি পাকিস্তানও প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি।
ফ্লাইট নিয়ে ঘোষণায় কী বলা হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) তদারকি কর্মকর্তা সার্জিও আগুইলার ৩০ অক্টোবর শপথ করে দেওয়া এক ঘোষণায় রুটটির বিবরণ দিয়েছেন। ঘোষণাটি সাদাত বনাম মুলিন মামলায় দাখিল করা হয়। তিনি বলেন, প্রথমে তাঁর ধারণা ছিল চার্টারটি আফগানিস্তানে অবতরণ করবে, পরে তিনি জানতে পারেন গন্তব্য হবে পাকিস্তান।
আগুইলারের ঘোষণায় বলা হয়েছে:
বিমানের চূড়ান্ত গন্তব্য হবে পাকিস্তান, এরপর সেখান থেকে স্থলপথে আফগানিস্তানে নেওয়া হবে
ঘোষণাটি ৩০ বছর বয়সী আফগান সাঈদ মনসুর সাদাতকে নিয়ে, যাঁকে লুইজিয়ানার আলেক্সান্দ্রিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকা একটি বিশেষ চার্টারে রাখা হয়েছিল। মার্কিন জেলা বিচারক মাইকেল নাখমানঅফ কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, বিমানটি সরাসরি আফগানিস্তানে যাবে নাকি পাকিস্তানে থামবে, তা ব্যাখ্যা করতে।
হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট জানিয়েছে, আলেক্সান্দ্রিয়া থেকে পাকিস্তানগামী একটি ফ্লাইট মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ছাড়ার কথা ছিল। এর আগে বলা হয়েছিল, ফ্লাইটটি ২ নভেম্বরের প্রথম দিকেই ছাড়তে পারে। শপথ করে দেওয়া ঘোষণায় ৩ নভেম্বরকে নির্ধারিত তারিখ বলা হয়েছে; তবে ফ্লাইট ছাড়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে কাবুলে তার দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত করে এবং তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেশটির কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানে সরাসরি প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা জটিল হয়ে পড়ে এবং পাকিস্তানকে প্রস্তাবিত মধ্যবর্তী দেশ হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ বোঝা যায়।
আদালতের চ্যালেঞ্জে ভিন্ন ভিন্ন ফল
সাদাতের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাঁকে যাত্রীতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং আইসিই হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এক বিচারক রায় দিয়েছিলেন, তাঁকে আটক রাখার সিদ্ধান্ত তাঁর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া বলতে বোঝায়, কারও স্বাধীনতা খর্ব করার সময় সরকারকে ন্যায্য আইনগত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
অন্য আটক ব্যক্তিরা জরুরি ভিত্তিতে আদালতের হস্তক্ষেপ চাইতে ততটা সফল হননি। টেক্সাসে মার্কিন জেলা বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোনে বাসির আহমদ আহমাদির বহিষ্কার বন্ধের আবেদন নাকচ করেন। তাঁর মতে, ওই আবেদন বিবেচনার এখতিয়ার জেলা আদালতের ছিল না।
আইনি ও রাজনৈতিক ঘটনাগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে এভাবে এগিয়েছে:
- ১৫ অক্টোবর: কার্ডোনে নথিভুক্ত করেন, আইসিই আহমাদিকে আফগানিস্তানে বহিষ্কারের একটি অভিযানের জন্য মনোনীত করেছে, যা প্রাথমিকভাবে নভেম্বরের শুরুর দিকে হওয়ার কথা।
- ২৯ অক্টোবর: এখতিয়ারসংক্রান্ত কারণে কার্ডোনে আহমাদির জরুরি আবেদন নাকচ করেন।
- ৩০ অক্টোবর: আগুইলার পাকিস্তান রুটের বিবরণ দিয়ে তাঁর ঘোষণা দাখিল করেন। লুইজিয়ানার এক বিচারক আফগান আটক ব্যক্তি খালেদ খালিকের জরুরি আবেদনও নাকচ করেন; এরপর পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়।
- ২ নভেম্বর: ৬৬ আইনপ্রণেতা রুবিও ও মুলিনের কাছে তাঁদের আবেদন পাঠান।
- ৩ নভেম্বর: আগুইলারের ঘোষণায় বর্ণিত চার্টারটির ছাড়ার নির্ধারিত দিন।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা?
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন, যাঁদের নিজের কর্মকাণ্ড, স্বজন বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে দেশে ফিরলে বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে। আইনপ্রণেতারা সাবেক আফগান সরকার বা মার্কিন বাহিনীকে সমর্থন করার সন্দেহ, তালেবানের সমালোচনা এবং তালেবানের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিচয়ের কথা উল্লেখ করেছেন।
মোহাম্মদ নামে পরিচিত ৪৭ বছর বয়সী এক আফগান ব্যক্তি বলেছেন, বহিষ্কারের জন্য তাঁকে ওকলাহোমার আটককেন্দ্র থেকে লুইজিয়ানায় নেওয়া হয়েছে। তিনি সমকামী এবং ২০২০ সালে এক মার্কিন পুরুষকে বিয়ে করেন। তাঁর বয়স যখন দুই, তখন ১৯৮১ সালে তাঁর পরিবার শরণার্থী হিসেবে আফগানিস্তান ছেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশক থাকার পর, বিশের কোঠার শুরুর দিকে করা দুটি গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তিনি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি হারান।
আরেক আটক ব্যক্তির আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে তাঁর স্ত্রী সাবেক আফগান সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তালেবান তাঁকে আটক করে নির্যাতন করেছিল। তাঁর স্ত্রী আফগান সেনাবাহিনী ও নারী পুলিশ বাহিনীতে কাজ করেছেন এবং মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করেছেন। তিনি ২০২৪ সালে অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন, অভিবাসন হেফাজতে থাকেন এবং তাঁর আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়।
এই ঘটনাগুলো দেখায়, প্রস্তাবিত অভিযানে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কেউ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, কেউ অনুমতি ছাড়া সীমান্ত পেরিয়েছেন, আবার কারও অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। প্রত্যেকের অভিবাসন-ইতিহাস ও দেশে ফেরার আশঙ্কার ভিত্তিতে আইনজীবীরা আলাদা আলাদা আইনি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন।
অধিকারকর্মী সংগঠনগুলোর ভাষ্য, আইনি প্রতিনিধিত্ব না থাকায় কিছু আটক ব্যক্তির পক্ষে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা কঠিন হয়েছে। সাদাত এবং বহিষ্কারের ঝুঁকিতে থাকা আরেক আফগানের প্রতিনিধিত্বকারী সাইমন সান্দোভাল-মোশেনবার্গ বলেছেন, তাঁর দুই মক্কেলকেই আলাদাভাবে জানানো হয়েছিল যে তাঁদের পাকিস্তানে বিমানে নেওয়া হবে এবং সেখান থেকে স্থলপথে আফগান সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হবে। সোমবার রাতে তাঁর দ্বিতীয় মক্কেল জরুরি আবেদনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন।
পরবর্তী যাত্রাপথ কেন গুরুত্বপূর্ণ
কংগ্রেসের চিঠিতে বলা হয়েছে, বহিষ্কারের বিমান যে দেশে অবতরণ করে, যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব তার বাইরেও বিস্তৃত। আইনপ্রণেতারা বলেন, অন্য কোনো সরকার শেষ ধাপের হস্তান্তর করলেও নির্যাতনের ঝুঁকি আছে—এমন স্থানে মানুষকে ফেরত পাঠানো ঠেকাতে ওয়াশিংটনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পাকিস্তানকে জানাতে প্রশাসনের প্রতি তাঁরা আহ্বান জানিয়েছেন, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের তালেবানের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির অংশগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না। আবেদনে তাঁরা সরাসরি বলেছেন:
আমাদের সেনাদের পাশে দাঁড়ানো মানুষদের সরাসরি বা পাকিস্তানের মাধ্যমে তালেবানের হাতে তুলে দেবেন না।
নিপীড়ন বা নির্যাতনের মুখে ফেরত পাঠানো ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা ব্যবস্থা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি ও আইনি সিদ্ধান্তের ওপর। এই অভিযানের জন্য যাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের সবার সুরক্ষার অবস্থা প্রকাশ করা হয়নি। পাকিস্তান আফগানিস্তানে হস্তান্তরসহ পরবর্তী আচরণের নিশ্চয়তা দিয়েছে কি না, সে বিষয়েও ডিএইচএস কিছু জানায়নি।
আইনপ্রণেতারা আফগানিস্তানের বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের চতুর্থ স্তরের ‘ভ্রমণ করবেন না’ সতর্কবার্তার কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁরা ২০২১ সালের সরিয়ে নেওয়ার পর আত্মগোপনে যাওয়া, নিপীড়নের শিকার হওয়া বা নিহত হওয়া সাবেক আফগান সহযোগীদের প্রসঙ্গ তুলেছেন। তাঁদের যুক্তি, প্রস্তাবিত বহিষ্কারগুলো আফগানিস্তানে থাকা মানুষের জন্য ওয়াশিংটন আগে থেকেই যে ঝুঁকির কথা বলেছে, তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ায় ব্যবস্থার বিষয়টি অস্পষ্ট
অপারেশনাল নিরাপত্তা ও কর্মীদের সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ভবিষ্যৎ বহিষ্কার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে নিজ দেশ ছাড়া অন্য দেশে অভিবাসীদের পাঠানোর বৃহত্তর নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বিভাগটি বলেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ দেওয়া হয় এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে আইসিই কূটনৈতিক নিশ্চয়তা নেয়।
ডিএইচএসের এক মুখপাত্র আরও বলেন:
কোনো ব্যক্তি আর আইসিইর হেফাজতে না থাকলে, আইসিই আর তাঁর জন্য দায়ী নয়।
এই অবস্থানের সঙ্গে আইনপ্রণেতাদের দাবি সাংঘর্ষিক: বিপদে পড়ার আশঙ্কা আছে জেনেও পরবর্তী ধাপে অন্যত্র পাঠানো ঠেকাতে হবে ওয়াশিংটনকে। সান্দোভাল-মোশেনবার্গ বলেন, পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে তাঁদের কীভাবে নেওয়া হবে বা কে তাঁদের নিয়ে যাবে, তা তাঁর মক্কেলদের জানানো হয়নি।
বহিষ্কারের সম্ভাব্য পরিকল্পনার প্রাথমিক খবর প্রকাশের পর পররাষ্ট্র দপ্তর আগে বলেছিল, আফগান অভিবাসীদের পাকিস্তানে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। পরে আইসিইর ঘোষণায় ওই রুট ব্যবহার করে নির্ধারিত একটি অভিযানের কথা এসেছে। ৩১ অক্টোবরের এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পিত বহিষ্কার সম্পর্কে জানতে চাইলে রুবিও প্রশ্নটি ডিএইচএসের কাছে পাঠান।
বৃহত্তর অভিবাসন প্রয়োগ অভিযানের অংশ হিসেবে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের গ্রহণ করতে অন্তত ৩৫টি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি রয়েছে। এখানকার আফগানদের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হলো, পাকিস্তান তাঁদের থাকার জায়গা দেবে, নাকি আফগানিস্তানে যাওয়ার পথের মধ্যবর্তী স্থান হিসেবে কাজ করবে।
পাকিস্তানে অপেক্ষা করাও অনিশ্চিত
যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা চাইছেন—এমন আফগানরা পাকিস্তানে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। প্রস্তাবিত বহিষ্কারগুলো এমন আগের বহিষ্কার প্রস্তুতির পর আসছে, যার বিবরণ অক্টোবরে প্রকাশিত হয়। সে সময় আটক আফগান ও তাঁদের আইনজীবীদের বলা হচ্ছিল, তাঁদের ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে; তবে গন্তব্য দেশে গ্রহণের ব্যবস্থার বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক আফগান সহযোগীদের সহায়তাকারী সংগঠন আফগানইভ্যাক বলছে, ২০২৩ সালের শরতে হওয়া একটি সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন-প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকা নথিভুক্ত একটি গোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া। ওয়াশিংটন তাদের মামলা প্রক্রিয়াকরণ করবে, আর সেই সময় পাকিস্তান হয়রানি করা থেকে বিরত থাকবে।
সংগঠনটির ভাষ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ার পর ওই ব্যবস্থা আর কার্যকর থাকেনি। এরপর পাকিস্তানে অপেক্ষমাণ আফগানরা হয়রানি, আটক এবং আফগানিস্তানে বহিষ্কারের মুখে পড়েন। তাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা বহিষ্কৃত ব্যক্তির নিরাপদে থাকার অনুমতির পাশাপাশি আবার বহিষ্কার না হওয়ার সুরক্ষাও প্রয়োজন হবে।
তালেবানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার বলেছে, আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় তারা প্রস্তুত। দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে তারা তৃতীয় দেশগুলোকে অস্থায়ী রাজনৈতিক ছাড়ের বিনিময়ে আফগান নাগরিকদের নিয়ে দর-কষাকষি না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে।
আঞ্চলিক বহিষ্কার অব্যাহত রয়েছে। তালেবানের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত ৩ নভেম্বর বলেন, আগের দিন ১০০টি পরিবার—মোট ৪৬২ জনকে—জোর করে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাঁর দেওয়া সীমান্ত পারাপারের হিসাবে, নিমরোজের সিল্ক ব্রিজ দিয়ে ২০৩ জন, তোরখামে ৬২ জন, স্পিন বোলদাকে ২৭ জন এবং ইসলাম কালায় ৭১ জন প্রবেশ করেছেন। এই সংখ্যাগুলোর যোগফল ৩৬৩, ঘোষিত মোট সংখ্যার চেয়ে ৯৯ জন কম।
প্রস্তাবিত অভিযান সাম্প্রতিক বহিষ্কারের নজির ছাড়িয়ে যাবে
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের অংশগ্রহণে পরিচালিত গবেষণা উদ্যোগ ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্টের হিসাব অনুযায়ী, তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া অভিবাসন নথি ব্যবহার করে দেখা গেছে, আগের চার বছরে প্রায় ৯৭ জন আফগান নাগরিককে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
১৫০ জনের বেশি মানুষকে নিয়ে প্রস্তাবিত অভিযানটি হলে ওই চার বছরের মোট সংখ্যাকে ৫৩ জনেরও বেশি, বা প্রায় ৫৫ শতাংশ, ছাড়িয়ে যাবে। এ তুলনা ব্যাখ্যা করে কেন অধিকারকর্মীরা প্রস্তুতিগুলোকে ছোট আরেকটি অভিযান নয়, বরং বহিষ্কার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
২০২১ সালে প্রত্যাহারের সময় ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি আফগানকে সরিয়ে নেওয়া হয়; আগস্টের ওই অভিযানে প্রায় ৭৯ হাজারকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। তাঁদের অনেকেই মানবিক প্যারোলের আওতায় প্রবেশ করেন, যা সাময়িকভাবে থাকার অনুমতি দেয়। স্থায়ী অভিবাসন মর্যাদার আবেদন করার সময় পরে তাঁরা সাময়িক সুরক্ষাও পান।
অভিবাসন আবেদনের দীর্ঘ জটের কারণে হাজার হাজার মানুষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করা ব্যক্তিদের সুরক্ষা ফিরিয়ে আনতে আফগান অধিকারকর্মী সংগঠনগুলো কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। বৃহত্তর শরণার্থী জনগোষ্ঠীর আইনি ইতিহাস এখন আটক থাকা ব্যক্তিদের থেকে আলাদা, তবে স্থায়ী মর্যাদা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বহিষ্কার বিতর্কটি বহু পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিরোধকে ভবিষ্যৎ মার্কিন অংশীদারত্বের সঙ্গে যুক্ত করছেন আইনপ্রণেতারা
প্রস্তাবিত ফ্লাইটের অপেক্ষায় থাকা আটক ব্যক্তিদের রাজ্য লুইজিয়ানার প্রতিনিধি ট্রয় কার্টার বহিষ্কারগুলোকে লজ্জাজনক ও নিষ্ঠুর বলেছেন। রোববারের এক বিবৃতিতে তিনি সতর্ক করেন, মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা আফগান পরিবারগুলোকে ফিরিয়ে দিলে তারা প্রতিশোধ বা মৃত্যুর মুখে পড়তে পারে।
প্রতিনিধি সিডনি কামলাগার-ডোভ বলেন, আফগান মিত্রদের পরিত্যাগ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বের ওপর আস্থা দুর্বল হবে। সিনেটর ক্রিস কুনস, জিন শাহিন, টিম কেইন এবং রিচার্ড ব্লুমেনথালও প্রস্তাবিত বহিষ্কারের সমালোচনা করেন এবং সাবেক সহযোগীদের বিপদের বিষয়ে সতর্ক করেন।
কংগ্রেসের আবেদনে দুটি তাৎক্ষণিক দাবি একসঙ্গে এসেছে: ফ্লাইট বন্ধ করা এবং পাকিস্তান থেকে পরবর্তী ধাপে অন্যত্র পাঠানোর বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আদালতের কার্যক্রম ব্যক্তিভিত্তিকভাবে এগোচ্ছে, আর আইনপ্রণেতারা পুরো অভিযান নিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত চাইছেন।
আটক আফগান ও তাঁদের স্বজনদের জন্য এসব সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে তাঁরা এরপর কোথায় থাকবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক তাঁদের সুরক্ষার উৎস হবে, নাকি প্রতিশোধের ঝুঁকি বাড়াবে। ৩ নভেম্বরের নির্ধারিত ফ্লাইট আবেদনটির জরুরিতা বাড়িয়েছে, আর ব্যক্তিগত মামলাগুলো দেখাচ্ছে যে ছাড়ার আগে যাত্রীতালিকা বদলে যেতে পারে।
মূল বিষয়গুলো
- আফগান ও ইরানিদের বহিষ্কার ফ্লাইট বন্ধ করতে রুবিও ও মুলিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ৬৬ আইনপ্রণেতা।
- আইসিই কর্মকর্তার শপথ করে দেওয়া ঘোষণায় ৩ নভেম্বর পাকিস্তানগামী চার্টার এবং এরপর আফগানিস্তানে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
- কংগ্রেসের আবেদনে ১৫০ জনের বেশি আফগানের কথা বলা হয়েছে; এক মার্কিন কর্মকর্তা প্রায় ২০০ জনকে নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
- বহিষ্কারের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক মার্কিন সামরিক সহযোগীদের স্বজন এবং তালেবানের নিপীড়নের আশঙ্কায় থাকা অন্যরাও রয়েছেন।
- সাদাতকে ছেড়ে দিয়ে ফ্লাইটের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়; অন্য আটক ব্যক্তিরা জরুরি আদালতি চ্যালেঞ্জ চালিয়ে যাচ্ছেন।
- পাকিস্তান তার ভূমিকার বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি, আর ডিএইচএস এই অভিযানসংক্রান্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রকাশ করেনি।






