রপ্তানিতে রেকর্ড হলেও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি বাড়ছে
২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষে শ্রীলঙ্কার রুপির বিনিময় হার দাঁড়ায় প্রতি মার্কিন ডলারে ৩৩২.৬১ রুপি। শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বছরের শুরু থেকে রুপির দর কমেছে ৬.৮%। সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানিতে রেকর্ড এবং বিদেশে কর্মরত শ্রীলঙ্কানদের পাঠানো অর্থ বাড়া সত্ত্বেও এই দরপতন হয়েছে।
সূচিপত্র
- রপ্তানিতে রেকর্ড হলেও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি বাড়ছে
- বিনিময় হারের প্রভাব পরিবারগুলোর ওপর
- সেপ্টেম্বরের রপ্তানি রেকর্ড কেন যথেষ্ট ছিল না
- রিজার্ভ গঠনে জ্বালানি আমদানির চাপ
- প্রবাসী আয় বাড়লেও সেবা খাতের অবদান কমেছে
- চলতি হিসাব আবার ঘাটতিতে
- বন্ড ও শেয়ার থেকে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার
- রিজার্ভ ও মুদ্রার দরপতনের মধ্যে ভারসাম্য রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
- বাজারদর ও পরবর্তী ঋণ সংগ্রহের তারিখ
- মূল বিষয়গুলো
দেশটির আমদানি ব্যয়েই এই চাপ স্পষ্ট। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল ১৮.৬৬৬ বিলিয়ন ডলার, আর রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১০.৭৫৪ বিলিয়ন ডলার। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭.৯১২ বিলিয়ন ডলারে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে নথিভুক্ত ৫.১৭৪ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতির চেয়ে প্রায় ৫৩% বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেপ্টেম্বরের বহিঃখাতের কার্যক্রমবিষয়ক প্রতিবেদনেও মোট সরকারি রিজার্ভের পরিমাণ ৬.৯ বিলিয়ন ডলার বলা হয়েছে। এর মধ্যে চীনের পিপলস ব্যাংকের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় সুবিধাও রয়েছে। এই রিজার্ভ দিয়ে ৩.৩ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
গভর্নর নন্দলাল বীরসিংহে বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার অঙ্গীকার অনুযায়ী ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ রিজার্ভ প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্কতার সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা কিনছে। জ্বালানি তেলে ব্যয় বৃদ্ধি, কয়েকটি সেবা খাতের আয় কমে যাওয়া এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার এই কাজকে জটিল করেছে।
পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, রপ্তানি ও প্রবাসী আয় জোরালো হলেও কেন মুদ্রার দরপতন ঠেকানো যায়নি। শ্রীলঙ্কা কয়েকটি খাত থেকে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে, কিন্তু বছরের প্রথম নয় মাসে আমদানি ব্যয় তার চেয়ে অনেক দ্রুত বেড়েছে।
বিনিময় হারের প্রভাব পরিবারগুলোর ওপর
২০২৫ সালের শেষে প্রতি ডলারে ৩০৯.৯৯ রুপি থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরের শেষে বিনিময় হার দাঁড়ায় ৩৩০.৮৩ রুপিতে এবং অক্টোবরের শেষে ৩৩২.৬১ রুপিতে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রুপির দরপতন ছিল ৬.৩% এবং অক্টোবর পর্যন্ত ৬.৮%।
অর্থাৎ, ২০২৫ সালের শেষের তুলনায় অক্টোবরের শেষে প্রতি ডলার কিনতে ২২.৬২ রুপি বেশি লেগেছে। ১০০ ডলার পরিশোধে ব্যাংক চার্জের আগে এখন ৩০,৯৯৯ রুপির বদলে ৩৩,২৬১ রুপি প্রয়োজন, যা ২,২৬২ রুপি বেশি।
রুপিতে ডলারের দাম প্রায় ৭.৩% বেড়েছে, আর ডলারে মাপা রুপির মূল্য কমেছে প্রায় ৬.৮%। একই বিনিময় হারের পরিবর্তনকে বিপরীত দিক থেকে বর্ণনা করে এই দুই শতাংশের হিসাব।
জ্বালানি, ওষুধ বা যন্ত্রপাতির দাম দিতে আমদানিকারকদের একই পরিমাণ ডলার কিনতে এখন বেশি রুপি প্রয়োজন। ডলার পাওয়া রপ্তানিকারক ও পরিবারগুলো একই বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় করলে বেশি রুপি পেতে পারে। তবে পরিবারের বাজেটে চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করে পণ্যের দাম, কর এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাড়তি ব্যয় গ্রাহকদের ওপর চাপায় কি না, তার ওপরও।
প্রধান পরিবর্তনগুলো ঘটেছে এভাবে:
- ২০২৫ সালের শেষ: বিনিময় হার ছিল প্রতি ডলারে ৩০৯.৯৯ রুপি।
- মে ২০২৬: গভর্নর বলেন, সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দাম বাড়ার সময় বছরের সবচেয়ে বড় মুদ্রা দরপতন ঘটে।
- সেপ্টেম্বরের শেষ: প্রতি ডলারে রুপির দর ছিল ৩৩০.৮৩; সরকারি রিজার্ভ ছিল ৬.৯ বিলিয়ন ডলার।
- অক্টোবরের শেষ: প্রতি ডলারে বিনিময় হার দাঁড়ায় ৩৩২.৬১ রুপিতে; বছরজুড়ে দরপতন ছিল ৬.৮%।
- ৪ নভেম্বর: ৯০ বিলিয়ন রুপির ট্রেজারি বিল নিলামের সূচি ছিল।
সেপ্টেম্বরের রপ্তানি রেকর্ড কেন যথেষ্ট ছিল না
সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানির পরিমাণ মাসভিত্তিক রেকর্ড ১.৩৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ২১% বেশি। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গড়া আগের ১.৩০২ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ডের চেয়ে তা ৭৫ মিলিয়ন ডলার বেশি।
সেপ্টেম্বরে আমদানি তুলনামূলক ধীরগতিতে বেড়েছে: ২.৯% বেড়ে হয়েছে ২.১০৯ বিলিয়ন ডলার। মাসিক বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৯১০.১ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৭৩১.৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে; উন্নতি হয়েছে ১৭৮.৮ মিলিয়ন ডলার।
জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান চলমান চাপের কারণ ব্যাখ্যা করে। রপ্তানি বেড়েছে ৫.৩%, কিন্তু আমদানি বেড়েছে ২১.৩%। ফলে আমদানি ব্যয় বেড়েছে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির গতির প্রায় চার গুণ।
২০২৫ সালের তুলনায় নয় মাসের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২.৭৩৮ বিলিয়ন ডলার। সেপ্টেম্বরে ভালো ফলের কারণে ওই মাসের ঘাটতি কমেছে, কিন্তু জমা হওয়া ঘাটতি এক বছর আগের তুলনায় অনেক বড় রয়ে গেছে।
আমদানি পণ্যের দাম রপ্তানি পণ্যের দামের চেয়ে দ্রুত বাড়ায় বাণিজ্য শর্তও দুর্বল হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে। সহজভাবে বললে, বিদেশ থেকে কেনা পণ্যের জন্য শ্রীলঙ্কাকে যে দাম দিতে হয়েছে, বিদেশে বিক্রি করা পণ্যের জন্য পাওয়া দাম তার চেয়ে দ্রুত বেড়েছে।
রিজার্ভ গঠনে জ্বালানি আমদানির চাপ
জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৫১.৫% বেশি। ১৮.৬৬৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি ব্যয়ের প্রায় ২৪% ছিল পেট্রোলিয়াম।
সেপ্টেম্বরে টানা পঞ্চম মাসের মতো মাসিক জ্বালানি ব্যয় কমেছে। তবু আগের বছরের তুলনায় মোট ব্যয় অনেক বেশি ছিল, যা দেখায় আগের মূল্যবৃদ্ধি কীভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদায় প্রভাব ফেলেছে।
বীরসিংহে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর পেট্রোলিয়ামের চাহিদা বাড়ায় রিজার্ভ গঠনের গতি আংশিকভাবে কমেছে। এই বাড়তি ব্যয় না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও ২ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভে যোগ করতে পারত বলেও তিনি জানান।
যানবাহন আমদানিও বড় ব্যয়ের আরেকটি খাত ছিল। ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহনে ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ৩৪.৪% কমে সেপ্টেম্বরে ১৮৮ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১.৮৭১ বিলিয়ন ডলার।
প্রথম নয় মাসে জ্বালানি ও যানবাহন আমদানি মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬.৩৭ বিলিয়ন ডলার, যা পণ্য আমদানির প্রায় ৩৪%। এই দুই খাতের সম্মিলিত ব্যয় ব্যাখ্যা করে, সেপ্টেম্বরে রপ্তানির ভালো ফলেও কেন বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহের ওপর চাপ কমেনি।
প্রবাসী আয় বাড়লেও সেবা খাতের অবদান কমেছে
বিদেশে কর্মরত শ্রমিকেরা সেপ্টেম্বরে দেশে পাঠিয়েছেন ৭৩৪.৪ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.৬% বেশি। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৬.৮৬৫ বিলিয়ন ডলারে, বেড়েছে ১৮.১%।
এই অর্থের প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রা জোগানোর পাশাপাশি পরিবারের ব্যয়েও সহায়তা করে। প্রবাসী আয় বেড়ে বাণিজ্য ঘাটতির একটি অংশ পূরণে সহায়তা করেছে, যদিও চলতি হিসাবে সেবা ও আয় বাবদ পরিশোধও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
সেবা খাতে শ্রীলঙ্কার উদ্বৃত্ত সেপ্টেম্বরে ৩৪.৩% কমে ১১৮.৭ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ভ্রমণ ও বিমান পরিবহনসহ বিভিন্ন সেবার জন্য অর্থ পরিশোধ আয় বৃদ্ধির চেয়ে দ্রুত বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উদ্বৃত্ত ২২.৩% কমে ২.২১৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।
পর্যটন খাতে মিশ্র ফল দেখা গেছে। পর্যটকের আগমন ০.৩% কমলেও সেপ্টেম্বরে আয় ১.৫% বেড়ে ১৮৫.৬ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পর্যটকের আগমন কমেছে ১.৮%, আর আনুমানিক আয় ৯.২% কমে ২.২৪৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
পর্যটন আয়ের এই হিসাব ২০২৬ সালে শ্রীলঙ্কা পর্যটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চালু করা সংশোধিত পদ্ধতির ভিত্তিতে করা হয়েছে। বছরের আগের মাসগুলোর আয় হিসাবেও এই পদ্ধতি প্রয়োগ করায় ২০২৬ সালের হালনাগাদ পরিসংখ্যান তুলনার জন্য একই ভিত্তি পেয়েছে।
চলতি হিসাব আবার ঘাটতিতে
আগস্টে উদ্বৃত্ত থাকার পর সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কার চলতি হিসাবে ১২৮.৪ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি হয়। এক বছর আগে নথিভুক্ত ১৯৩.৮ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতির চেয়ে সেপ্টেম্বরের ঘাটতি কম ছিল।
চলতি হিসাবে পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, সীমান্ত পেরিয়ে দেওয়া আয় এবং শ্রমিকদের পাঠানো অর্থের মতো স্থানান্তর অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই খাতগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্তির চেয়ে পরিশোধ বেশি হলে ঘাটতি হয়।
জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি হিসাবের সামগ্রিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪২০.৪ মিলিয়ন ডলার। প্রবাসী আয় ও সেবা খাতের উদ্বৃত্ত পণ্য বাণিজ্যের ঘাটতির বড় অংশ পূরণ করেছে, অন্যদিকে অন্যান্য পরিশোধ ঘাটতি বাড়িয়েছে।
প্রাথমিক আয়ের ঘাটতি আগের বছরের সেপ্টেম্বরে ১৫২.৪ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে এবার ২৪০.৬ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, সরাসরি বিনিয়োগ থেকে লভ্যাংশ পরিশোধ বাড়ায় এর বড় অংশের বৃদ্ধি ঘটেছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মুনাফার একটি অংশ বিদেশি মালিকদের পাঠালে এ ধরনের পরিশোধ হয়।
তাই সেপ্টেম্বরে উন্নতি ও চাপ, দুটোই ছিল: এক বছর আগের তুলনায় বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে, কিন্তু সেবা খাতের সহায়তা কমা এবং আয় বাবদ পরিশোধ বেড়ে যাওয়ায় চলতি হিসাব ঘাটতিতে পড়েছে।
বন্ড ও শেয়ার থেকে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার
সেপ্টেম্বরে সরকারি সিকিউরিটিজে বিদেশি বিনিয়োগে নিট বহিঃপ্রবাহ ছিল ৩৯.৯ মিলিয়ন ডলার। নতুন শেয়ার ইস্যু ও বিদ্যমান শেয়ারের লেনদেন মিলিয়ে কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জেও নিট বহিঃপ্রবাহ হয়েছে ৪.৭ মিলিয়ন ডলার।
তবে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি সিকিউরিটিজে বিদেশি বিনিয়োগের নিট প্রবাহ ছিল ১৬৮ মিলিয়ন ডলার; ২০২৫ সালের একই সময়ে তা ছিল ১৭৮ মিলিয়ন ডলার। স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বিদেশি বিনিয়োগের বহিঃপ্রবাহ ১৭০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগের ৮৫ মিলিয়ন ডলারের দ্বিগুণ।
আরও সাম্প্রতিক বন্ডের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে নিট বিদেশি বিক্রির পরিমাণ ছিল ২.৮১৮ বিলিয়ন রুপি, প্রায় ৮.৫ মিলিয়ন ডলার। চার সপ্তাহের মধ্যে সেটিই ছিল প্রথম নিট বিক্রির সপ্তাহ। ছয় সপ্তাহে নিট বহিঃপ্রবাহ দাঁড়ায় ১৩.৮ বিলিয়ন রুপিতে।
এর আগের তিন সপ্তাহে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিট ৫.৫ বিলিয়ন রুপির বন্ড কিনেছিলেন। আগের ১৯ সপ্তাহের মধ্যে তিন সপ্তাহে তাঁরা নিট বিক্রেতা ছিলেন। ওই সময় পর্যন্ত রুপিতে মূল্যমানের সরকারি বন্ডে বছরের নিট প্রবাহ ছিল প্রায় ৫৮.৩ বিলিয়ন রুপি।
মুদ্রার দর ওঠানামা এসব বিনিয়োগকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁরা সুদ ও মূলধন ফেরত পান রুপিতে। সেই অর্থ ডলারে রূপান্তর করলে রুপির দরপতনে পাওয়া অর্থের ডলারমূল্য কমে যায়।
রিজার্ভ ও মুদ্রার দরপতনের মধ্যে ভারসাম্য রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
সেপ্টেম্বরের শেষে মোট সরকারি রিজার্ভ ছিল ৬.৯ বিলিয়ন ডলার; এর মধ্যে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় সুবিধাও রয়েছে। মুদ্রা বিনিময় হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সম্মত শর্তে মুদ্রা বিনিময়ের ব্যবস্থা। ওই সুবিধার বাইরে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
বীরসিংহে বলেন, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা কেনার বিষয়টি পরিচালনা করছে। কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জ এবং শ্রীলঙ্কার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আয়োজনে কলম্বোয় এক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে গভর্নর ব্যাংকের অবস্থান তুলে ধরেন:
বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি না করে আমরা রিজার্ভ গড়ে তুলি,
গভর্নর বলেন, পেট্রোলিয়ামের চাহিদার কারণে রিজার্ভ গঠনের গতি কমেছে এবং চাহিদা-জোগানের প্রতিক্রিয়ায় ব্যাংক মুদ্রার দর ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে দিচ্ছে। ডলার কেনা রিজার্ভ বাড়ায়, তবে স্থানীয় বাজারে ডলারের চাহিদাও তৈরি করে।
২০২৬ সালের শেষ নাগাদ রিজার্ভ প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য সেপ্টেম্বরের রিজার্ভের চেয়ে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার বেশি। তাই আমদানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা অব্যাহত থাকা অবস্থায় বছরের শেষ প্রান্তিক রিজার্ভ গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাজারদর ও পরবর্তী ঋণ সংগ্রহের তারিখ
সর্বশেষ বাজারদরে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৩৩২.৫৫ থেকে ৩৩২.৬৫ রুপি; আগের শুক্রবারের দর ছিল ৩৩২.৫০ থেকে ৩৩২.৬২ রুপি। এই দর অক্টোবরের শেষের হারের কাছাকাছি ছিল।
ব্যাংক স্থানান্তরে ব্যবহৃত টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার রেটে ডলার কেনার দর ছিল ৩২৮.১০ রুপি এবং বিক্রির দর ৩৩৭.১০ রুপি। ইউরোর কেনার দর ছিল ৩৬৩.৮২৪৩ রুপি এবং বিক্রির দর ৩৭৭.৬০৫১ রুপি। পাউন্ড স্টার্লিংয়ের কেনার দর ৪৩৮.১৯৪৪ রুপি এবং বিক্রির দর ৪৫২.৩০২৮ রুপি। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা কেনা গ্রাহকদের জন্য বিক্রেতাদের তুলনায় ভিন্ন দর প্রযোজ্য ছিল।
সরকারি বন্ডের ইল্ড মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। ২০৩০ সালের ১৫ মে মেয়াদপূর্তির একটি বন্ডের দর ছিল ১১.৪৫% থেকে ১১.৫৫%; ২০৩৬ সালের ১৫ আগস্ট মেয়াদপূর্তির আরেকটির দর ছিল ১২.৮৫% থেকে ১২.৯৩%। বন্ডের ইল্ড হলো বাজারদরের ভিত্তিতে পাওয়া সম্ভাব্য মুনাফার হার।
অল শেয়ার প্রাইস ইনডেক্স ০.০৯% বেড়ে ২০,১৬১-এ দাঁড়ায়, আর এসঅ্যান্ডপি এসএল২০ বেড়েছে ০.২৩% বেড়ে ৫,৭৫৯-এ। সরকারের পরবর্তী ঘোষিত ঋণ সংগ্রহের আয়োজন ছিল ৪ নভেম্বরের ৯০ বিলিয়ন রুপির ট্রেজারি বিল নিলাম।
সুদের হারও নীতিনির্ধারণের চিত্রের অংশ। আগের দুই বছরে মোট ৮২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমানোর পর মে মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিসুদ ১০০ বেসিস পয়েন্ট, অর্থাৎ এক শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ায়। সুদ বাড়লে রুপিতে বিনিয়োগের মুনাফা আকর্ষণীয় হতে পারে, তবে পরিবার ও ব্যবসার ঋণ নেওয়ার খরচও বাড়ে।
মূল বিষয়গুলো
- অক্টোবরের শেষে প্রতি ডলারে শ্রীলঙ্কার রুপির দর ছিল ৩৩২.৬১; ২০২৬ সালের শুরু থেকে দরপতন হয়েছে ৬.৮%।
- সেপ্টেম্বরে রপ্তানি রেকর্ড ১.৩৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৭.৯১২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
- প্রথম নয় মাসে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৫১.৫% বেশি।
- প্রবাসী আয় ১৮.১% বেড়ে ৬.৮৬৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, অন্যদিকে সেবা খাতের উদ্বৃত্ত কমেছে।
- সেপ্টেম্বরে চলতি হিসাবে ১২৮.৪ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি হয়; জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঘাটতি ছিল ৪২০.৪ মিলিয়ন ডলার।
- চীনের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় সুবিধাসহ সরকারি রিজার্ভ ছিল ৬.৯ বিলিয়ন ডলার; বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার।
- ৪ নভেম্বর ৯০ বিলিয়ন রুপির ট্রেজারি বিল নিলামের সূচি ছিল।






