৫২৭টি প্রতিষ্ঠানের পর্যালোচনায় বদলে যেতে পারে রাষ্ট্রীয় ব্যবসা
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিক্রি, একীভূত ও পুনর্গঠনের সুযোগ দিতে আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে শ্রীলঙ্কা। অর্থ ও পরিকল্পনা উপমন্ত্রী অনিল জয়ন্ত বলেছেন, ২০২৬ সালে পাসের লক্ষ্যে থাকা বিলটি হয়তো ২০২৭ সালের আগে সংসদে উঠবে না। জ্বালানির মতো কৌশলগত পরিষেবা খাতে সরকারের মালিকানা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাণিজ্য ও হোটেল পরিচালনার মতো সাধারণ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে চায় সরকার।
সূচিপত্র
- ৫২৭টি প্রতিষ্ঠানের পর্যালোচনায় বদলে যেতে পারে রাষ্ট্রীয় ব্যবসা
- বিক্রি, একীভূতকরণ ও বন্ধের উদ্দেশ্য আলাদা
- হোল্ডিং কোম্পানি বদলে দিতে পারে মালিকানা পরিচালনার ধরন
- ২০২৩ সালেও অর্থ মন্ত্রণালয় একই ধরনের কাঠামোর কথা বলেছিল
- জ্বালানি খাতের লোকসান আর্থিক চাপের কারণ
- বিদ্যুৎ ও বিমান সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে যুক্ত করেছে ঋণ
- কৌশলগত মালিকানা ও প্রতিযোগিতা পাশাপাশি থাকতে পারে
- বিনিয়োগ ও বেতন, দুটিই সরকারি অর্থের প্রতিযোগী ব্যবহার
- আইন প্রণয়নের সময়সূচি এখনও অনিশ্চিত
- মূল বিষয়গুলো
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জ আয়োজিত এক শিল্প ফোরামে জয়ন্ত বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যালোচনা এবং পুনর্গঠনের কৌশল সুপারিশ করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রের মালিকানাধীন সম্পদের ধরন এবং সেগুলোর ব্যবসা পরিচালনার পদ্ধতি—দুটিতেই পরিবর্তনের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
জয়ন্ত বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ ৫২৭টি সংস্থার মধ্যে প্রকৃত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুবই কম। অনেক সংস্থা নির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতার অধীনে প্রশাসনিক কাজ করে। ফলে এই পর্যালোচনা কেবল কোম্পানি বিক্রির কর্মসূচি নয়; কোন প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্র করা হবে এবং সরকার কোন কোন কাজ অব্যাহত রাখবে, তা নির্ধারণও এর অংশ।
প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে জানিয়েছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি ৩৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা একীভূত করার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। সরকারি সার্ভেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের ১০০তম বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ পর্যালোচনার কথা জানান। পর্যালোচনাধীন নির্দিষ্ট গোষ্ঠী হলো ৩৪টি প্রতিষ্ঠান; আর জয়ন্তের উল্লেখ করা ৫২৭টি সংস্থা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ অনেক বড় একটি সমষ্টি।
বিক্রি, একীভূতকরণ ও বন্ধের উদ্দেশ্য আলাদা
পর্যালোচনায় সম্ভাব্য কয়েকটি ফলাফলের কথা বলেছেন জয়ন্ত। মালিকানা হস্তান্তর বলতে কোনো প্রতিষ্ঠানে সরকারের অংশবিশেষ বা সম্পূর্ণ মালিকানা বিক্রি করাকে বোঝায়। একীভূতকরণে একাধিক সংস্থাকে এক করা হয়। আর বন্ধ করে দিলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শেষ হয় এবং এর অবশিষ্ট দায়িত্ব, সম্পদ ও ঋণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
শিল্প ফোরামে অর্থ উপমন্ত্রী জয়ন্ত সম্ভাব্য বিকল্পগুলো তুলে ধরেন:
এই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কিছু আমরা সত্যিই বিক্রি করতে পারি, আবার কখনো একীভূত করতে হতে পারে।
বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে বাজারের বিকৃতি কমানো এবং নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তায় মনোযোগ দেওয়াই সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য। বেসরকারি প্রতিযোগীদের সঙ্গে ব্যবসা করা কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এর অর্থ হতে পারে নতুন মালিকানা বা ভিন্ন ব্যবস্থাপনা। প্রশাসনিক সংস্থার ক্ষেত্রে অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দায়িত্ব একীভূত করা হতে পারে।
কোন প্রতিষ্ঠান বিক্রি, একীভূত বা বন্ধ করা হবে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য কী ব্যবস্থা থাকবে, ঘোষণাগুলোতে তা উল্লেখ করা হয়নি। কর্মী, গ্রাহক ও এসব প্রতিষ্ঠানের দেওয়া জনসেবায় বাস্তবে কী প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে এ সিদ্ধান্তগুলোর ওপর।
হোল্ডিং কোম্পানি বদলে দিতে পারে মালিকানা পরিচালনার ধরন
প্রস্তাবিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর আলাদা ব্যবস্থাপনা রাখা এবং একটি হোল্ডিং কোম্পানির অধীনে পুনর্গঠন করা যাবে। জয়ন্ত বলেন, সংস্থাগুলোকে সীমিত দায়বদ্ধতা কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত করা হবে এবং বাজার পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার আরও স্বাধীনতা দেওয়া হবে।
হোল্ডিং কোম্পানি অন্য কোম্পানির শেয়ার মালিকানায় রাখে। প্রস্তাবিত মডেলে কেন্দ্রীয় ওই সংস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্র মালিকানা প্রয়োগ করতে পারে, আর প্রতিটি পরিচালনাকারী ব্যবসার নিজস্ব ব্যবস্থাপনা থাকবে। সীমিত দায়বদ্ধতা কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধনের ফলে ব্যবসাটির নিজস্ব সম্পদ, দায় ও করপোরেট সিদ্ধান্ত গ্রহণব্যবস্থাসহ পৃথক আইনি কাঠামো তৈরি হয়।
জয়ন্ত বলেন, বাণিজ্যিক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ থেকে প্রতিযোগিতামূলক করপোরেট মডেলের দিকে যাবে। উদ্দেশ্য হলো, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে সরকারি দপ্তরের মতো বিবেচনা না করে ব্যবস্থাপনাকে ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সাড়া দেওয়ার সুযোগ দেওয়া।
পুনর্গঠিত কিছু ব্যবসা দেশীয় বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পরে কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারে। তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীরা এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া শেয়ার কিনতে পারেন। ভবিষ্যতে শেয়ার বিক্রির শর্তের ওপর নির্ভর করবে সরকার কতটা মালিকানা ধরে রাখবে।
২০২৩ সালেও অর্থ মন্ত্রণালয় একই ধরনের কাঠামোর কথা বলেছিল
হোল্ডিং কোম্পানির প্রস্তাবটির পেছনে নথিভুক্ত ইতিহাস রয়েছে। ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংস্কারবিষয়ক বক্তৃতায় তৎকালীন অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নীতিমালাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং কোষাগার সচিব কে এম মহিন্দা সিরিবর্ধনা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহি করবে—এমন একটি সরকারি মালিকানাধীন হোল্ডিং কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন।
সিরিবর্ধনা বলেন, পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও করপোরেট সুশাসনে সহায়তার জন্য কোম্পানিটি শেষ পর্যন্ত সরকারি করপোরেট সম্পদের মালিকানা নেবে। তিনি প্রস্তাবিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত আইন এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা আইনকেও সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার বৃহত্তর আইনি কাঠামোর অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০২৩ সালের কর্মসূচিতে কৌশলগত কর্মকাণ্ডের বাইরের বাণিজ্যিক সম্পদের মালিকানা হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল। এ জন্য সাধারণ কোষাগারে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন ইউনিট গঠন করা হয়। সিরিবর্ধনা বলেন, কয়েকটি সংস্থার মালিকানা হস্তান্তরে মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গিয়েছিল এবং লেনদেন-পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছিল।
জয়ন্তের বক্তব্যে আবারও উঠে এসেছে ওই মূল ধারণাগুলো: মালিকানা ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা আলাদা করা, হোল্ডিং কাঠামো ব্যবহার করা এবং কোন বাণিজ্যিক সম্পদ রাষ্ট্রের ধরে রাখা উচিত তা নির্ধারণ করা। ২০২৩ সালের বক্তৃতায় তৎকালীন সরকারের পরিকল্পনা নথিবদ্ধ হয়েছে; জয়ন্তের ২০২৬ সালের অক্টোবরের বক্তব্যে এমন আইনের কথা বলা হয়েছে, যা সংসদে উত্থাপনের আগে এখনও ছাড়পত্রের অপেক্ষায়।
জ্বালানি খাতের লোকসান আর্থিক চাপের কারণ
দুর্বল আর্থিক অবস্থার প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের পরিমাণ তুলে ধরেছে ২০২৩ সালের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবরণ। ২০২২ সালে সিলন ইলেকট্রিসিটি বোর্ডের লোকসান ছিল ২৬২ বিলিয়ন রুপি, আর সিলন পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের লোকসান ৬১৫ বিলিয়ন রুপি। দুই প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত লোকসান দাঁড়ায় ৮৭৭ বিলিয়ন রুপি, যার প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের।
সিরিবর্ধনা এসব লোকসানের কারণ হিসেবে মূল্য সমন্বয়ে বিলম্ব, দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং আমদানি ব্যয় তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ার কথা বলেন। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময়মূল্য প্রায় ২০০ থেকে কমে ৩৬৫-তে নেমেছিল, একই সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছিল। ফলে জ্বালানি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিল পরিশোধে অনেক বেশি রুপি খরচ করতে হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে খুচরা দাম পুরো ব্যয় প্রতিফলিত করেনি। অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২২ সালের মে মাসে পেট্রোলিয়ামের দাম ব্যয় প্রতিফলিত করতে শুরু করে। আর ২০২২ সালের আগস্ট ও ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হয়। ২০১৩ সালের পর এটাই ছিল প্রথম মূল্যবৃদ্ধি।
দুই প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে তহবিল স্থানান্তর করতে হয়েছিল। সাধারণ মানুষের জন্য এ ধরনের লোকসান সরকারি অর্থের প্রতিযোগী চাহিদা তৈরি করে: কোনো প্রতিষ্ঠানকে চালু রাখতে ব্যবহৃত অর্থ রাজস্ব বা ঋণ থেকে জোগাড় করতে হয়।
বিদ্যুৎ ও বিমান সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে যুক্ত করেছে ঋণ
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোর মধ্যে অনাদায়ি বিলের একটি ধারাবাহিক সংযোগের কথাও জানিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। বিদ্যুৎ বোর্ড ও শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস জ্বালানির জন্য পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কাছে ঋণী ছিল। অন্যদিকে পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ব্যাংকের অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল ছিল, প্রায়ই উচ্চ ব্যয়ে।
এই সংযোগগুলো ব্যাখ্যা করে কেন পুনর্গঠনের অর্থ শুধু কোনো কোম্পানির ব্যবস্থাপনা বদলানো নয়। একটি প্রতিষ্ঠান পরিশোধে সমস্যায় পড়লে অন্য প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়, আর এই ব্যবস্থায় ঋণ জোগানো ব্যাংকগুলোও ঋণ পরিশোধে সমস্যার বেশি ঝুঁকিতে পড়ে।
পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বৈদেশিক মুদ্রায় উল্লেখযোগ্য ঋণ ছিল, অথচ এর প্রায় সব আয়ই হতো রুপিতে। রুপির দরপতনে ওই ঋণের স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় বেড়ে যায়। সিরিবর্ধনা বলেন, রাষ্ট্রের নিশ্চয়তা দেওয়া করপোরেশনের বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ এবং বিদ্যুৎ বোর্ডের একই ধরনের অধিকাংশ ঋণ সরকার নিজের ব্যালান্স শিটে নিয়েছিল।
বৃহত্তর পুনর্গঠন কার্যক্রমে পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, বিদ্যুৎ বোর্ড, শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস এবং সড়ক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অন্তর্ভুক্ত ছিল। নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত ঋণ সরকারের কাছে স্থানান্তর হলে কোন পক্ষ তা হিসাবভুক্ত ও পরিশোধ করবে, সেটি বদলায়। ঋণ পরিশোধে এখনও সরকারি সম্পদের প্রয়োজন হয়, ফলে ভবিষ্যৎ ঋণ গ্রহণ ও ব্যয় শৃঙ্খলা সংস্কার কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কৌশলগত মালিকানা ও প্রতিযোগিতা পাশাপাশি থাকতে পারে
জয়ন্ত বলেন, বেসরকারি বাজারে কারসাজি ঠেকাতে জ্বালানির মতো কৌশলগত পরিষেবা খাতে সরকার মালিকানা ধরে রাখবে। সাধারণ ব্যবসা থেকে সরে আসার পরিকল্পনায় এটি একটি সীমারেখা টানে: যেখানে সরকারি নিয়ন্ত্রণকে প্রয়োজনীয় মনে করা হবে, সেখানে রাষ্ট্র মালিকানার ভূমিকা বজায় রাখবে।
২০২৩ সালের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচিতেও জ্বালানি খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য ছিল। সিরিবর্ধনা বলেন, আগের সপ্তাহে সিনোপেক পেট্রোলিয়াম খুচরা ব্যবসায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছিল। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ কার্যক্রমকে পরিচালনাগত ও আর্থিকভাবে আলাদা করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও প্রতিযোগিতা বাজারের ভিন্ন ভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করে। সরকার কোনো জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ধরে রেখেও অন্য সরবরাহকারীদের তার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দিতে পারে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কার্যক্রম আলাদা করলে ব্যয় শনাক্ত করা এবং প্রতিটি কার্যক্রমের দক্ষতা মূল্যায়ন করাও সহজ হতে পারে।
ভোক্তাদের জন্য এর সঙ্গে আরেকটি প্রশ্ন জড়িত: লোকসান আবার জমতে না দিয়ে কীভাবে অপরিহার্য পরিষেবার খরচ মেটানো যায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পদ্ধতি ছিল ব্যয় প্রতিফলিত করে এমন দাম নির্ধারণ করা এবং দরিদ্র বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া; সব গ্রাহকের জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম কম রাখা নয়।
বিনিয়োগ ও বেতন, দুটিই সরকারি অর্থের প্রতিযোগী ব্যবহার
দিসানায়েকের ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের পর্যালোচনার পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালে মূলধনী ব্যয় ১,৩৩০ বিলিয়ন রুপি থেকে বেড়ে ২০২৭ সালে ২ ট্রিলিয়ন রুপি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বৃদ্ধি ৬৭০ বিলিয়ন রুপি, বা প্রায় ৫০ শতাংশ।
প্রেসিডেন্ট বলেন, কুরুনেগালা-গালেওয়েলা, রামবুক্কানা-গালাগেদারা এবং কাহাথুডুয়া-ইনগিরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ডলার ঋণের বদলে দেশের অভ্যন্তরীণ কোষাগারের অর্থায়ন করা হচ্ছে। ৬০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয় ধরা কেলানি ভ্যালি রেলপথ বিদ্যুতায়ন প্রকল্পও ২০২৭ সালে শুরু হওয়ার কথা।
প্রকল্পে আমদানি করা যন্ত্রপাতি, ইস্পাত বা অন্যান্য উপকরণের প্রয়োজন হলে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নেও বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন থেকে যায়। তাই নির্মাণের রুপিভিত্তিক ব্যয়ের পাশাপাশি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ডলারও সরকারকে সামলাতে হবে।
সরকারি কর্মীদের বেতন আরেকটি চলমান দায়। দিসানায়েকে বলেন, ২০২৫ সালের বাজেটে নির্ধারিত তিন ধাপে মূল বেতন বাড়ানোর ফলে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৭ সালে বার্ষিক বেতন ব্যয় ৩৩০ বিলিয়ন রুপি বাড়বে। ২০২৮ সালের বাজেটে ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি বেশি বিবেচনা করা হতে পারে বলে তিনি জানান; ওই বছর আর মূল বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই।
জনসেবার নিম্নস্তরে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের জন্য অতীতের রাজনৈতিক নিয়োগগুলোকে দায়ী করেন দিসানায়েকে। তিনি যোগ্য ও দক্ষ পেশাজীবী নিয়োগের আহ্বান জানান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আগের সুশাসন কর্মসূচিতেও বোর্ডে উন্নত নিয়োগ, নিয়মিত নিরীক্ষিত হিসাব এবং ক্রয় ও মূলধনী ব্যয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত উদ্বেগগুলো মোকাবিলা করা হয়েছিল।
আইন প্রণয়নের সময়সূচি এখনও অনিশ্চিত
জয়ন্ত বলেন, আইন প্রণয়ন বিভাগের কাজের জট রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিলটি বিলম্বিত করতে পারে। প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সংসদে বিল পাস করানো; তবে তাঁর সংশোধিত ধারণা অনুযায়ী, বিলটি ২০২৭ সালে উত্থাপিত হতে পারে। সংসদে বিল জমা দেওয়াই হলো উত্থাপনের পর্যায়; পাস হতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন।
জয়ন্ত বলেন, আগে আইন প্রণয়ন বিভাগের ছাড়পত্র নিতে হবে:
প্রথমে আইন প্রণয়ন বিভাগের ছাড়পত্র নিতে হবে; তা হলে অন্তত সংসদে জমা দিতে পারব, হয়তো আগামী বছর।
সংস্কার কর্মসূচি এখন কয়েক বছরজুড়ে বিস্তৃত। এতে আগের আর্থিক পদক্ষেপের সঙ্গে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় প্রস্তাবিত পরিবর্তনও যুক্ত হয়েছে:
- মে ২০২২: অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পেট্রোলিয়ামের দাম ব্যয় প্রতিফলিত করতে শুরু করে।
- আগস্ট ২০২২ ও ফেব্রুয়ারি ২০২৩: ব্যয় প্রতিফলিত করতে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হয়।
- ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩: অর্থ মন্ত্রণালয় মালিকানা হস্তান্তর, ঋণ পুনর্গঠন, সুশাসনসংক্রান্ত আইন এবং সরকারি মালিকানাধীন হোল্ডিং কোম্পানির পরিকল্পনা তুলে ধরে।
- ২৮ অক্টোবর ২০২৬: জয়ন্ত প্রস্তাবিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাঠামো এবং বিল উত্থাপনে সম্ভাব্য বিলম্বের কথা জানান।
- ২০২৭: সংসদে বিল উত্থাপিত হতে পারে। একই সময়ে মূলধনী ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা এবং কেলানি ভ্যালি রেলপথ বিদ্যুতায়ন কাজ শুরুর কথা রয়েছে।
ব্যবসা, কর্মী ও গ্রাহকদের জন্য পরবর্তী বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে বিলের বিধান এবং একেকটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। এসবের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা ব্যবস্থাপনাগত স্বাধীনতা পাবে, কোন সম্পদের মালিকানা বদলাবে এবং জনসেবার দায়িত্ব কীভাবে বহাল থাকবে।
মূল বিষয়গুলো
- কৌশলগত জ্বালানি খাতে মালিকানা ধরে রেখে নির্বাচিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিক্রি, একীভূত ও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে শ্রীলঙ্কা।
- জয়ন্ত বলেন, শ্রেণিবদ্ধ ৫২৭টি সংস্থার মধ্যে প্রকৃত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুবই কম।
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি ৩৪টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা একীভূত করার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
- প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী আলাদা ব্যবস্থাপনা, সীমিত দায়বদ্ধতা কোম্পানি এবং হোল্ডিং কোম্পানি কাঠামো চালু করা যেতে পারে।
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিদ্যুৎ বোর্ড ও পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সম্মিলিত লোকসান ছিল ৮৭৭ বিলিয়ন রুপি।
- রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিলটি ২০২৬ সালে পাসের প্রাথমিক লক্ষ্যের চেয়ে দেরিতে, ২০২৭ সালে সংসদে উঠতে পারে।






