ভারতের সিরিজ জয়ের মধ্যেই দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি রানের রেকর্ড ভাঙলেন গ্লেন ফিলিপস, ৩৪১ রান

পড়তে 8 মিনিট
Glenn Phillips Breaks Bilateral T20I Runs Record With 341 as India Win Series 3-2

রেকর্ড গড়লেন ফিলিপস, সিরিজ জিতল ভারত

ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ইনিংসে ৩৪১ রান করে ফিল সল্টের দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভেঙেছেন গ্লেন ফিলিপস। ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড সাত উইকেটে জিতেছে। তবে প্রথম তিন ম্যাচ জেতায় সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে ভারত।

সূচিপত্র
  1. রেকর্ড গড়লেন ফিলিপস, সিরিজ জিতল ভারত
  2. পাঁচ ইনিংসে যেভাবে গড়লেন রেকর্ড
  3. যে সেঞ্চুরিতে বদলে যায় নিউজিল্যান্ডের সমাপ্তি
  4. হ্যামিল্টনে রান তাড়াকে সহজ করেন সাইফার্ট
  5. ঘুরে দাঁড়ানোর পরও ভারতকে আটকে রাখেন মিলনে
  6. সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় ফিলিপসের অবস্থান
  7. সফর এগোনোর মুখে নিজের ব্যাটিংয়ের ধরন ব্যাখ্যা ফিলিপসের
  8. মূল বিষয়

শেষ ম্যাচে ৩৮ বলে অপরাজিত ৬৫ রান করেন ফিলিপস। ভারতের ৮ উইকেটে ১৯১ রানের জবাবে ১৮ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৫ রান তুলে নিউজিল্যান্ডকে জিততে সাহায্য করেন তিনি। ৫০ বলে ৯৩ রান করে রান তাড়ায় নেতৃত্ব দেন টিম সাইফার্ট। এর আগে অ্যাডাম মিলনের ১৯ রানে চার উইকেট ভারতকে নাগালের মধ্যে আটকে রেখেছিল।

এর আগে ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের হয়ে ৩৩১ রান ছিল সল্টের রেকর্ড। শেষ ম্যাচে ২৭৬ রান নিয়ে নামা ফিলিপসের রেকর্ড ভাঙতে দরকার ছিল ৫৬ রান; শেষ পর্যন্ত তিনি ১০ রান বেশি করেন। পাঁচ ইনিংসে তাঁর রান ছিল অপরাজিত ৮২, ৭০, ১৭, ১০৭ ও অপরাজিত ৬৫।

এই ফলে এমন দুটি অর্জন আলাদা করে দেখা যাচ্ছে, যা সহজেই গুলিয়ে যেতে পারে: ব্যক্তিগতভাবে সেরা ব্যাটার ছিলেন ফিলিপস, আর নিউজিল্যান্ডের শেষ দিকের ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই যথেষ্ট ম্যাচ জিতে ট্রফি নিশ্চিত করেছিল ভারত। শেষ দুই ম্যাচ জিতে স্বাগতিকেরা ৩-০ ব্যবধানের পিছিয়ে থাকা অবস্থাকে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ শেষ ফলে বদলে দেয়।

সিরিজসেরার পুরস্কার ফিলিপসের রানসংখ্যা ও ধারাবাহিকতা, দুটিই স্বীকৃতি দিয়েছে। পাঁচ ইনিংসের চারটিতেই তিনি অন্তত ৫০ রান করেন এবং দুবার অপরাজিত থাকেন। নিউজিল্যান্ড জিতেছে, এমন ম্যাচের পাশাপাশি হেরেছে এমন ম্যাচেও অবদান রেখেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

পাঁচ ইনিংসে যেভাবে গড়লেন রেকর্ড

ক্রাইস্টচার্চে ৪০ বলে অপরাজিত ৮২ রানের ইনিংস দিয়ে শুরু করেন ফিলিপস। নিউজিল্যান্ড ৮০ রানে দুই উইকেট হারানোর পর ব্যাট করতে নেমেছিলেন তিনি। তাঁর দ্রুত রান তোলায় স্বাগতিকেরা ৪ উইকেটে ২২৫ রান করলেও, হাতে চার উইকেট ও দুই বল রেখে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ভারত।

ভারতের সফল উদ্বোধনী রান তাড়া দেখিয়ে দেয়, শুধু ফিলিপসের রান দিয়ে সিরিজের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারেনি। সঞ্জু স্যামসন ৩৩ বলে ৬৭ রান করেন, আর নামান ধীর ১৫ বলে অপরাজিত ৪২ রান করে সফরকারীদের ৬ উইকেটে ২৩০ রানে পৌঁছে দেন।

দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৩ বলে ৭০ রান করেন ফিলিপস। বেভন জ্যাকবসের সঙ্গে ১১৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে ১৮০ রান করলেও আবারও জেতে ভারত। তৃতীয় ম্যাচে তাঁর সর্বনিম্ন ১৭ রানের ইনিংসের দিনই সফরকারীরা সিরিজে অজেয় লিড নিশ্চিত করে।

রেকর্ডের পথে তাঁর নির্ণায়ক অগ্রগতি ঘটে পরের ম্যাচগুলোতে:

  • ২২ অক্টোবর, ক্রাইস্টচার্চ: অপরাজিত ৮২ রানে সিরিজ শুরু করেন ফিলিপস, তবে ২২৬ রান তাড়া করে লিড নেয় ভারত।
  • তৃতীয় ম্যাচ শেষে: ৭০ ও ১৭ রানের ইনিংসে ফিলিপসের রান হয় ১৬৯, আর ভারত সিরিজ জিতে যায়।
  • ৩০ অক্টোবর, অকল্যান্ড: ৪৯ বলে ১০৭ রানে তাঁর মোট রান বেড়ে হয় ২৭৬; নিউজিল্যান্ড পায় সিরিজে প্রথম জয়।
  • ১ নভেম্বর, হ্যামিল্টন: অপরাজিত ৬৫ রানে তাঁর রান দাঁড়ায় ৩৪১, পেরিয়ে যান সল্টের ৩৩১ রানের রেকর্ড।

শেষ দুই ম্যাচে ১৭২ রান করেন ফিলিপস, যা সিরিজে তাঁর মোট রানের অর্ধেকের কিছু বেশি। নিউজিল্যান্ডের দুই জয়ের সঙ্গেও মিলে যায় এই ইনিংসগুলো; ফলে তাঁর শক্তিশালী সমাপ্তি সরাসরি ম্যাচের ফলে প্রভাব ফেলে।

যে সেঞ্চুরিতে বদলে যায় নিউজিল্যান্ডের সমাপ্তি

ফিলিপসের একমাত্র সেঞ্চুরিটি আসে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে। তাঁর দল ৭ উইকেটে ২৫৯ রান করে ভারতকে ৮৭ রানে হারায়। অকল্যান্ডে তাঁর সেঞ্চুরি নিউজিল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করে। এই ফরম্যাটে ভারতের বিপক্ষে রানের ব্যবধানে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় জয়।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২২ সালে করা আগের সেরা ৫ উইকেটে ২৫৪ রানকে পাঁচ রানে ছাড়িয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ২৫৯। ২০২৬ সালের শুরুতে ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের করা ২৫৭ রানকেও ছাড়িয়ে যায় এই সংগ্রহ; সফরকারীদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে এটি হয়ে ওঠে নতুন সর্বোচ্চ দলীয় রান।

৩১ বলে ৫০ রান পূর্ণ করার পর সেঞ্চুরি করতে ফিলিপসের লাগে আর মাত্র ১৫ বল। নীতিশ কুমার রেড্ডির এক ওভারে টানা চারটি ছক্কা মারেন তিনি; ওই ওভারে খরচ হয় ৩২ রান। শেষ পর্যন্ত ছয়টি চার ও ১০টি ছক্কায় ১০৭ রান করেন ফিলিপস। এর মধ্যে ৮৪ রান আসে বাউন্ডারি থেকে।

বিজ্ঞাপন

এরপর জ্যাকব ডাফি ২৩ রানে চার উইকেট নিলে ভারত ৯ উইকেটে ১৭২ রানে থামে। ফিলিপসের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে প্রতিপক্ষের ইনিংস নিয়ন্ত্রণ করার মতো বোলিংও সেদিন পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড। এই জয়ে সিরিজজয়ী দল বদলায়নি, তবে টানা দুই জয় নিয়ে শেষ করার সুযোগ পায় স্বাগতিকেরা।

হ্যামিল্টনে রান তাড়াকে সহজ করেন সাইফার্ট

শেষ ম্যাচের সবচেয়ে বড় ইনিংসটি খেলেন সাইফার্ট। তাঁর ৯৩ রানে ছিল ১১টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। বাউন্ডারি থেকেই আসে ৭৪ রান, যা তাঁর মোট রানের প্রায় চার-পঞ্চমাংশ। ১২ বল হাতে রেখেই ১৯২ রানের লক্ষ্য পূর্ণ করে নিউজিল্যান্ড।

দ্বিতীয় ওভারে অর্শদীপ সিংয়ের বলে ২ রান করে আউট হন ফিন অ্যালেন। জবাবে ড্যারিল মিচেল ১৬ বলে চার ছক্কাসহ ২৯ রান করেন, এরপর বরুণ চক্রবর্তীর বলে আউট হন। মিচেলের এই অবদান শুরুতেই উইকেট হারানোর পর দীর্ঘ সময়ের জন্য রান তোলার গতি কমে যাওয়া ঠেকায়।

এরপর সাইফার্টের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ফিলিপস, আর রান তোলার গতি ধরে রাখেন। তাঁর অপরাজিত ৬৫ রানের ইনিংসে ছিল আটটি চার ও তিনটি ছক্কা; বাউন্ডারি থেকে আসে ৫০ রান। ভারতের বোলারদের চাপ তৈরির সুযোগ না দিয়ে জুটি বেঁধে বারবার বাউন্ডারি খুঁজে নেন দুজন।

নীতিশ কুমার রেড্ডির বলে ভেতরের দিকে লেগে বল স্টাম্পে আঘাত করায় নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি থেকে সাত রান দূরে থামেন সাইফার্ট। ম্যাচ শেষ করার জন্য ক্রিজে থেকে যান ফিলিপস; তাতেই নিউজিল্যান্ডের জয় ও তাঁর রেকর্ডের লক্ষ্য, দুটিই পূর্ণ হয়।

সাত উইকেটের জয়ের অর্থ, লক্ষ্য পেরোনোর সময় নিউজিল্যান্ডের হাতে ১০ উইকেটের মধ্যে সাতটিই ছিল। ১৮ ওভারে ম্যাচ শেষ করাও রান তোলার গতি বোঝায়: শেষ কয়েক বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি, হাতে ছিল পুরো দুই ওভার।

ঘুরে দাঁড়ানোর পরও ভারতকে আটকে রাখেন মিলনে

হ্যামিল্টনে বোলিংয়ে সেরা অবদানটি ছিল মিলনের ৪ উইকেটে ১৯ রান। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ১৯ রানে দুই উইকেট হারায় ভারত। এরপর ঈশান কিষান ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ইনিংস সামাল দেন।

কিষান ৩২ বলে ৬১ রান করেন, আর আইয়ার ২৩ বলে করেন ৫০। দুজনের ১১১ রান ভারতের মোট ১৯১ রানের প্রায় ৫৮ শতাংশ। শুরুতে উইকেট হারানোর পর বড় সংগ্রহের দিকে এগোনোর পথ তৈরি করতে দ্রুত রান তোলেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

তবে উইকেট নেওয়া অব্যাহত রাখে নিউজিল্যান্ড। নাথান স্মিথ ও ব্লেয়ার টিকনার দুটি করে উইকেট নেন; মিলনের সঙ্গে মিলে তাঁরা ভারতের আটটি উইকেট তুলে নেন। ৮ উইকেটে ১৯১ রানে থামে ভারতের ইনিংস। ফলে স্বাগতিকদের ওভারপ্রতি ৯.৬ রান করে তুলতে হতো।

মিলনের ৪/১৯ পরিসংখ্যানের অর্থ, ১৯ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়েছেন তিনি। দুই দলই যখন দ্রুত রান তুলছিল, তখন এই সমন্বয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে: তাঁর উইকেট ভারতের অগ্রগতি থামায়, আর কম রান দেওয়ায় নিউজিল্যান্ডের রান তাড়ার চাপও কমে।

সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় ফিলিপসের অবস্থান

দুই জাতীয় দলের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় সল্ট ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ানকে পেছনে ফেলেছেন ফিলিপস। এই রেকর্ডে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান নয়, পুরো সিরিজে করা মোট রান হিসাব করা হয়।

  • গ্লেন ফিলিপস, নিউজিল্যান্ড: ২০২৬ সালে ভারতের বিপক্ষে ৩৪১ রান।
  • ফিল সল্ট, ইংল্যান্ড: ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৩১ রান।
  • মোহাম্মদ রিজওয়ান, পাকিস্তান: ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১৬ রান।
  • সাহিল চৌহান, এস্তোনিয়া: ২০২৪ সালে সাইপ্রাসের বিপক্ষে ২৯৭ রান।
  • মার্ক চ্যাপম্যান, নিউজিল্যান্ড: পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৯০ রান।

রিজওয়ানের চেয়ে ২৫ এবং চ্যাপম্যানের নিউজিল্যান্ড-রেকর্ডের চেয়ে ৫১ রান বেশি করেছেন ফিলিপস। সল্টের চেয়ে তাঁর ব্যবধান কম, মাত্র ১০ রান; তবে শেষ ইনিংসে অপরাজিত থাকায় একই রান তাড়ায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক, দুই রেকর্ডই ছাড়িয়ে যান তিনি।

তিনবার আউট হয়ে ৩৪১ রান করায় তাঁর ব্যাটিং গড় ১১৩.৬৭। ব্যাটিং গড় হিসাব করা হয় মোট রানকে আউট হওয়ার সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে; তাই দুবার অপরাজিত থাকায় তাঁর গড় বেড়েছে। পাঁচ ইনিংসে সাধারণ গড়ে তাঁর রান ৬৮.২।

অন্তত ৫০ রানের চারটি ইনিংস খেলে দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজে এই কৃতিত্ব অর্জনকারীদের তালিকায় রিজওয়ান ও জাপানের সাবাওরিশ রাভিচন্দ্রনের পাশেও নাম লিখিয়েছেন ফিলিপস। এই সিরিজে ভারতের অভিষেক শর্মা পরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক; তাঁর ১৯৭ রানের চেয়ে ফিলিপস ১৪৪ রান এগিয়ে।

সফর এগোনোর মুখে নিজের ব্যাটিংয়ের ধরন ব্যাখ্যা ফিলিপসের

সিরিজসেরা ফিলিপস শেষ ম্যাচের পর ব্যাটিংয়ে শান্ত থাকাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন:

(সেই) শান্তভাব ও স্থিরতা ধরে রাখতে পারা, অনুভূতিটা দারুণ,

রান তাড়ায় স্পিনের বিপক্ষে আক্রমণ করাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন নিউজিল্যান্ডের এই ব্যাটার। সিরিজের আগের ম্যাচগুলোতে ভারত যেভাবে খেলেছিল, তার সঙ্গে তুলনাও টানেন তিনি।

স্পিনারদের আক্রমণ করে রান তোলার দরকার ছিল। ভারতীয় ছেলেদের আমাদের বিপক্ষে এটা করতে দেখেছি, আর তারা খুব কার্যকরভাবেই তা করেছে।

শেষ ইনিংসের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে মিলে যায় ফিলিপসের কথাগুলো। মাঝের ওভারগুলোতে নিউজিল্যান্ডকে রান তুলতে হতো, কারণ স্পিনে গতি কমে গেলে রান তাড়ার প্রয়োজনীয় হার বেড়ে যেতে পারত। সাইফার্টের বাউন্ডারি আর ফিলিপসের অপরাজিত সমাপ্তি সেই চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

বিজ্ঞাপন

এরপর দুই দল পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে আন্তর্জাতিক সিরিজে মুখোমুখি হবে। ৪ নভেম্বর বুধবার অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে শুরু হবে সিরিজ। এই ফরম্যাটে প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারে, টি-টোয়েন্টির ২০ ওভারের তুলনায় যা ব্যাটারদের ইনিংস গড়ার বেশি সময় এবং বোলারদের দীর্ঘ স্পেল করার সুযোগ দেয়।

ভারতের পরিকল্পিত ওয়ানডে অধিনায়কত্বের পরিবর্তনে প্রথম তিন ম্যাচে নেতৃত্ব দেবেন শুভমান গিল; শেষ দুই ম্যাচে দায়িত্ব নেবেন আইয়ার। ১০ নভেম্বর হ্যামিল্টনে ম্যাচের পর টেস্টের প্রস্তুতি নিতে গিল ও কে এল রাহুলের ওয়ানডে দল ছাড়ার কথা।

তাই সফরের পরের ধাপে ভারতের সঙ্গে থাকছে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ট্রফি, আর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে টানা জয় ও ফিলিপসের রেকর্ড। হ্যামিল্টনে স্বাগতিকেরা দারুণভাবে শেষ করলেও, ভারত আগেই যে ফল নিশ্চিত করেছিল তা বদলায়নি।

মূল বিষয়

  • গ্লেন ফিলিপস ৩৪১ রান করে দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজে ফিল সল্টের ৩৩১ রানের রেকর্ড ভেঙেছেন।
  • প্রথম তিন ম্যাচ জিতে ভারত সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে।
  • হ্যামিল্টনের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড সাত উইকেটে জিতেছে; ১৮ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৫ রান তোলে তারা।
  • টিম সাইফার্ট ৫০ বলে ৯৩ রান করেন, আর ফিলিপস ৩৮ বলে অপরাজিত ৬৫ রান করেন।
  • অ্যাডাম মিলনে ৪ উইকেটে ১৯ রান দিয়ে ভারতকে ৮ উইকেটে ১৯১ রানে আটকে রাখেন।
  • ৪ নভেম্বর অকল্যান্ডে শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে