ফিলিপসের ১০৭ রানে টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম জয়, ভারতকে ৮৭ রানে হারাল নিউজিল্যান্ড

পড়তে 9 মিনিট
Phillips Hits 107 as New Zealand Beat India by 87 Runs for First Win of T20I Series

অকল্যান্ডে জয়ে তিনটি রেকর্ড, সঙ্গে প্রথম জয়

গ্লেন ফিলিপসের ৪৯ বলে ১০৭ রান এবং জ্যাকব ডাফির ২৩ রানে চার উইকেটের সুবাদে ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে ভারতকে ৮৭ রানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিকেরা ৭ উইকেটে ২৫৯ রান তোলে, যা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এরপর ভারতকে ৯ উইকেটে ১৭২ রানে আটকে দেয় তারা।

সূচিপত্র
  1. অকল্যান্ডে জয়ে তিনটি রেকর্ড, সঙ্গে প্রথম জয়
  2. ভারত ফিল্ডিং বেছে নিলেও শুরুতে উইকেট পড়ায় স্বস্তি ছিল সামান্য
  3. স্থির পঞ্চাশকে দ্রুত শতকে পরিণত করেন ফিলিপস
  4. ব্রেসওয়েলের জুটিতে ম্যাচে নির্ণায়ক অবস্থানে নিউজিল্যান্ড
  5. শেষ পাঁচ ওভারে ৮৫ রান দেয় ভারত
  6. প্রথম ওভারেই রান তাড়ায় ধাক্কা দেয় ডাফি
  7. বাউন্ডারি পেলেও বড় জুটি গড়তে পারেনি ভারত
  8. বোলিং ও ইডেন পার্কের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ায় জোর অধিনায়কদের
  9. সিরিজ নিশ্চিত করা ভারতের জন্য শেষ ম্যাচ হ্যামিল্টনে
  10. মূল বিষয়

এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে প্রথম জয় পেল নিউজিল্যান্ড। এই সংস্করণে ভারতের বিপক্ষে রানের ব্যবধানে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় জয়। শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারত প্রথম তিন ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল। হ্যামিল্টনে ১ নভেম্বর শেষ ম্যাচের আগে তারা এখন ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে।

২০২২ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ২৫৪ রান ছিল নিউজিল্যান্ডের আগের সর্বোচ্চ সংগ্রহ; এবার তার চেয়ে ৫ রান বেশি করেছে তারা। এ বছরের শুরুর দিকে সাউদাম্পটনে ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ২৫৭ রানের রেকর্ডকেও ২ রান ছাড়িয়ে গেছে এই সংগ্রহ। ভারতের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের আগের সেরা জয় ছিল ২০১৯ সালে ৮০ রানের ব্যবধানে। এবার সেই ব্যবধানও ছাড়িয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের অফিশিয়াল ম্যাচ প্রতিবেদন-এ দলের সংগ্রহ, ফিলিপসের শতক এবং ডাফির বোলিং পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা হয়েছে। এই পারফরম্যান্সগুলো মিলে সিরিজের পরিচিত চিত্র বদলে দিয়েছে: নিউজিল্যান্ড অবশেষে বড় সংগ্রহের পাশাপাশি শুরুতেই যথেষ্ট উইকেট তুলে ভারতের রান তাড়ায় বাধা দিয়েছে।

ভারত ফিল্ডিং বেছে নিলেও শুরুতে উইকেট পড়ায় স্বস্তি ছিল সামান্য

টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আইয়ার। ভারত দলে বৈভব সূর্যবংশী ও ভুবনেশ্বর কুমারের বদলে ঈশান কিষান ও মায়াঙ্ক যাদবকে নেওয়া হয়। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছিলেন কিষান। আর মায়াঙ্ক শুরুতেই বুঝিয়ে দেন, তাঁকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর যথেষ্ট কারণ আছে।

প্রথম ওভারেই ৩ রান করে বিদায় নেন টিম সাইফার্ট। এরপর তৃতীয় ওভারে মায়াঙ্ককে আক্রমণ করে ড্যারিল মিচেল দুটি চার ও দুটি ছক্কা মারেন। তবে ওই ওভারেই ২৪ রানে এলবিডব্লিউ হন তিনি। নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৩৪ রান। ভারতের সামনে তখন সুযোগের পাশাপাশি একটি সতর্কবার্তাও ছিল: উইকেট পড়ছে, তবে বাউন্ডারিও আসছে।

বিজ্ঞাপন

ফিলিপস ও ফিন অ্যালেন রান তোলার গতি কমতে না দিয়ে ইনিংস পুনর্গঠন করেন। তাঁদের জুটিতে আসে ৫৯ রান। ছয় ওভারের পাওয়ারপ্লে শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৬৭ রান। এই পর্বে ফিল্ডিংয়ের বিধিনিষেধের কারণে বাউন্ডারির কাছে ফিল্ডারের সংখ্যা কম থাকে।

অক্ষর প্যাটেলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১৭ বলে ৩১ রান করেন অ্যালেন। এরপর ৭ রানে বিদায় নেন বেভন জ্যাকবস; মায়াঙ্ক পান তৃতীয় উইকেট। ১১তম ওভারে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১১২ রান। আশাব্যঞ্জক শুরুটিকে বড় সংগ্রহে পরিণত করতে তখনও তাদের একটি বড় জুটি দরকার ছিল।

স্থির পঞ্চাশকে দ্রুত শতকে পরিণত করেন ফিলিপস

সেই গতি এনে দেন ফিলিপস। ৩১ বলে পঞ্চাশে পৌঁছানোর পর শতক করতে তাঁর লাগে আর মাত্র ১৫ বল। ১৯তম ওভারে অর্শদীপ সিংকে সোজা মাঠের বাইরে ছক্কা মেরে শতক পূর্ণ করেন তিনি।

১৬তম ওভারে আসে ম্যাচের মোড় ঘোরানো ঝড়, বোলার ছিলেন নীতীশ কুমার রেড্ডি। ওই ওভারে টানা চারটি ছক্কা মারেন ফিলিপস; খরচ হয় ৩২ রান। এতে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৭৪ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২০৬। ছয়টি বৈধ ডেলিভারিতেই মাঝের ওভারগুলোতে ফিরে পাওয়া নিয়ন্ত্রণের বড় অংশ হারায় ভারত।

ছয়টি চার ও ১০টি ছক্কায় ১০৭ রানে ইনিংস শেষ করেন ফিলিপস। তাঁর রানের ৮৪টি এসেছে এই বাউন্ডারিগুলো থেকে, অর্থাৎ ইনিংসের প্রায় চার-পঞ্চমাংশ। শেষ ওভারে তাঁকে আউট করেন রেড্ডি, তবে ততক্ষণে জাতীয় রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে নিউজিল্যান্ড।

টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি ফিলিপসের তৃতীয় শতক। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ শতকের সংখ্যায় ফিন অ্যালেন ও কলিন মুনরোর সমান হলেন তিনি। সিরিজে তাঁর রান এখন অপরাজিত ৮২, ৭০, ১৭ ও ১০৭; ৯২ গড়ে মোট ২৭৬ রান। ব্যাটিং গড় হলো রানসংখ্যাকে আউট হওয়ার সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যা পাওয়া যায়; এই চার ইনিংসে ফিলিপস তিনবার আউট হয়েছেন।

ব্রেসওয়েলের জুটিতে ম্যাচে নির্ণায়ক অবস্থানে নিউজিল্যান্ড

২৫ বলে ৬৫ রান করেন মাইকেল ব্রেসওয়েল; মারেন চারটি চার ও ছয়টি ছক্কা। পঞ্চম উইকেটে ফিলিপসের সঙ্গে তাঁর জুটিতে আসে ১১৫ রান, যা ম্যাচে ভারতের সর্বোচ্চ ৪৬ রানের জুটির দ্বিগুণেরও বেশি।

বিজ্ঞাপন

বিস্তারিত ম্যাচ প্রতিবেদনে জুটির স্থায়িত্ব বলা হয়েছে ৪১ বল; অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে ৪০ বল। যে হিসাবই ধরা হোক, রান তোলার গতি ছিল অসাধারণ: প্রতি বলে প্রায় তিন রান করে যোগ করেন দুজন। প্রিন্স যাদব ব্রেসওয়েলকে এলবিডব্লিউ করার আগেই এই জুটি নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের চেহারা বদলে দেয়।

আইসিসির হিসাবে ব্রেসওয়েল ১৯ বলে অর্ধশতক করেন; দুটি ম্যাচ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ১৮ বল। অক্ষরকে টানা চার বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি। এরপর মায়াঙ্কের গতিকে কাজে লাগিয়ে ফ্লিক ও স্কুপ শটে বল সীমানার বাইরে পাঠান।

ম্যাচসেরা ফিলিপস জানান, বাতাসের দিক এবং মাঠের কোন প্রান্ত দিয়ে মারলে সুবিধা হবে, তা নিয়ে তিনি ও ব্রেসওয়েল আলোচনা করেছিলেন। ব্যাটিংয়ের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন:

ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেটটি খুব ভালো ছিল এবং আমার মনে হয় আমরা সেটার পুরো সদ্ব্যবহার করেছি, যা দারুণ।

নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে আসে ২০টি ছক্কা ও ১৪টি চার। শুধু এই শটগুলো থেকেই তারা পায় ১৭৬ রান, যা ভারতের পুরো ইনিংসের ১৭২ রানের চেয়েও বেশি। ফিলিপস ও ব্রেসওয়েল মিলে ১৬টি ছক্কা ও ১০টি চার মারেন।

শেষ পাঁচ ওভারে ৮৫ রান দেয় ভারত

১৫ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১৭৪ রান। শেষ পাঁচ ওভারে তারা যোগ করে ৮৫ রান, অর্থাৎ ওই সময়ে প্রতি ওভারে ১৭ রান করে তোলে। জিততে ভারতের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬০ রান, পুরো ইনিংসে প্রতি ওভারে গড়ে ১৩ রান করে তুলতে হতো।

ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন মায়াঙ্ক; চার ওভারে ৪৮ রানে নেন ৩ উইকেট। অর্শদীপের শিকার ১ উইকেট, খরচ ৩৮ রান; প্রিন্স ৪৯ রানে ১টি এবং রেড্ডি ৬৪ রানে ১টি উইকেট নেন। অক্ষর তিন ওভারে দেন ৪৩ রান, আর নমান ধীরের এক ওভারে খরচ হয় ১৬ রান।

রেড্ডির বোলিং পরিসংখ্যানই বলে দেয় ১৬তম ওভারটি তাঁর সন্ধ্যাকে কতটা প্রভাবিত করেছে: তাঁকে দেওয়া ৬৪ রানের অর্ধেকই এসেছে ওই এক ওভারে। শেষ দিকে ফিলিপসকে আউট করেও অবশ্য সামান্য স্বস্তি পেয়েছে ভারত।

নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারকে আউট করে ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেন অর্শদীপ। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫০ উইকেট নেওয়া প্রথম ভারতীয় বোলার হলেন তিনি। এমন এক ইনিংসে এই কীর্তি গড়লেন তিনি, যেখানে ভারত নিয়মিত উইকেট নিলেও মাঝের সময়ে রান তোলা ঠেকাতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

প্রথম ওভারেই রান তাড়ায় ধাক্কা দেয় ডাফি

ভারতের রান তাড়ার শুরুতে ডাফির প্রথম বলেই চার মারেন সঞ্জু স্যামসন। পরের বলেই উইকেটরক্ষক সাইফার্টের ক্যাচে আউট হন তিনি। এরপর কোনো রান না করেই ক্যাচ ও বোল্ড হন কিষান। প্রথম ওভারেই দুই উইকেট হারায় ভারত।

ক্রাইস্টচার্চে ভারতের প্রথম ম্যাচের রান তাড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল স্যামসনের। ৩৩ বলে ৬৭ রান করে তিনি সফরকারীদের দুই বল হাতে রেখে ২২৬ রানের লক্ষ্য পেরোতে সাহায্য করেছিলেন। অকল্যান্ডে লক্ষ্য ছিল আরও বড়, আর শুরুতেই ব্যাটিংয়ের বিকল্প কমে যায় ভারতের।

পরে ধীরকে ২৮ রানে এবং অর্শদীপকে কোনো রান না দিয়ে পরপর দুই বলে আউট করেন ডাফি। ২০১৭ সালে রাজকোটে ট্রেন্ট বোল্টের ৩৪ রানে ৪ উইকেটের রেকর্ড ছাড়িয়ে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের পেস বোলারদের মধ্যে সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন তিনি।

আইসিসি ডাফির বোলিং পরিসংখ্যান দিয়েছে ২৩ রানে ৪ উইকেট, যদিও একটি লাইভ ম্যাচ প্রতিবেদনে ২৯ রানে ৪ উইকেট লেখা হয়েছিল। শুরু থেকেই প্রতি ওভারে ১৩ রান প্রয়োজন ছিল যে ভারতের, তাদের বিপক্ষে চার ওভারে ছয়ের কম গড়ে রান দিয়েছেন ডাফি।

টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫১ ম্যাচে ডাফির ক্যারিয়ার উইকেটসংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭। এর মধ্যে ছয় ইনিংসে তিনি চারটি করে উইকেট নিয়েছেন। তাঁর সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ১৪ রানে ৪ উইকেট। এই পারফরম্যান্সে তুলনামূলক কম ফলপ্রসূ একটি বছরও কিছুটা উজ্জ্বল হলো; ১৩ ম্যাচে ৩২.৮৫ গড়ে তিনি ১৪ উইকেট নিয়েছিলেন।

বাউন্ডারি পেলেও বড় জুটি গড়তে পারেনি ভারত

তৃতীয় উইকেটে ৪৬ রানের জুটি গড়ে সাময়িকভাবে ইনিংস সামাল দেন অভিষেক শর্মা ও আইয়ার। বিস্তারিত স্কোরকার্ড ও ম্যাচ প্রতিবেদনে অভিষেকের রান ১৫ বলে ২৭ বলা হয়েছে, যদিও অন্য একটি প্রতিবেদনে তাঁর রান ৩৫। ম্যাথু ফিশারের বলে স্যান্টনারের ক্যাচে বিদায় নেন তিনি।

১১ বলে ২২ রান করে অ্যাডাম মিলনের বলে বোল্ড হন আইয়ার। পাওয়ারপ্লে শেষে ভারতের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ৬১ রান। একই পর্যায়ে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে মাত্র ৬ রান পিছিয়ে থাকলেও দ্বিগুণ উইকেট হারিয়েছিল ভারত। অতিরিক্ত ব্যাটারদের হারানোর ফলে কঠিন রান তাড়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

এরপর নিজের প্রথম ওভারেই রেড্ডিকে ২১ রানে এবং অক্ষরকে ৭ রানে আউট করেন স্যান্টনার। ধীরের ২৮ রানে আরেকটি ছোট ঝলক দেখা গেলেও ডাফি ফিরে এসে তা থামিয়ে দেন। ১১ ওভার ৩ বল শেষে ভারতের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ১২১ রান; দলের প্রধান আক্রমণাত্মক ব্যাটারদের সবাই তখন আউট।

বিজ্ঞাপন

পেনাল্টিমেট ওভারে ফিশারের বলে আউট হওয়ার আগে ৩৫ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন তিলক ভার্মা। মূল ম্যাচ প্রতিবেদন ও বিস্তারিত স্কোরকার্ডে তাঁর ইনিংসের বলসংখ্যা ৩৫; অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ৩২। অপরাজিত ১৮ রান করেন প্রিন্স, মায়াঙ্ক করেন ৩ রান। শেষ ওভারে প্রিন্সের একটি ছক্কাসহ ৯ রান তুলে ৯ উইকেটে ১৭২ রান করে ভারত।

বিস্তারিত স্কোরকার্ডে ফিশারের বোলিং ৪০ রানে ২ উইকেট এবং স্যান্টনারের ২৪ রানে ২ উইকেট বলা হয়েছে, যদিও দুটি ম্যাচ প্রতিবেদনে স্যান্টনারের পরিসংখ্যান ২৩ রানে ২ উইকেট। বাকি উইকেটটি নেন মিলনে। নিউজিল্যান্ডের সাফল্যের কারণ ছিল একের পর এক উইকেট তুলে নেওয়া, কোনো একটি বিচ্ছিন্ন বোলিং স্পেল নয়।

বোলিং ও ইডেন পার্কের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ায় জোর অধিনায়কদের

নিউজিল্যান্ডকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ভারতের বোলিংয়ের ঘাটতি স্বীকার করেন আইয়ার। ভারত অধিনায়ক বলেন:

আমার মনে হয়, শুরুতে বোলিংয়ে আমরা কিছুটা পিছিয়ে ছিলাম।

ফিলিপসের ধারাবাহিকতার প্রশংসা করেন আইয়ার এবং জানান, হ্যামিল্টনে যাওয়ার আগে বল করার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে পর্যালোচনা করবে ভারত। ইডেন পার্কের মাঠের মাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জের কথাও বলেন তিনি, বিশেষ করে যারা প্রথমবার এই মাঠে খেলছেন তাদের জন্য।

উইকেটের বাউন্স কাজে লাগানো এবং পাওয়ারপ্লেতে উইকেট নেওয়ার সক্ষমতার ওপর জোর দেন স্যান্টনার। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক বলেন:

অবশ্যই ২৬০ ভালো স্কোর, তবে এই ব্যাটারদের বিপক্ষে ভালো বোলিং করতে হয়, আর আমার মনে হয় আমরা সেটা পেরেছি।

হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তির কথাও জানান ফিলিপস, যার কারণে ফিল্ডিংয়ে তাঁর অংশগ্রহণ সীমিত ছিল। তিনি বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অকল্যান্ড ম্যাচের দুই দিন পর শেষ টি-টোয়েন্টি হওয়ার কথা থাকলেও হ্যামিল্টন ম্যাচে তাঁর খেলা নিশ্চিত করা হয়নি।

সিরিজ নিশ্চিত করা ভারতের জন্য শেষ ম্যাচ হ্যামিল্টনে

আগের তিন জয়ের সুবাদে সিরিজে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ব্যবধান ৩-২-এর বেশি কমানো সম্ভব নয়। তবু প্রথম জয়, জাতীয় রেকর্ড গড়া সংগ্রহ এবং টানা তিনটি সফল রান তাড়া করা একটি দলকে থামানোর প্রমাণ নিয়ে হ্যামিল্টনে যাচ্ছে স্বাগতিকেরা।

আইসিসির দেওয়া সিরিজের সূচি ও ফলাফল:

  • ২২ অক্টোবর, ক্রাইস্টচার্চ: প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারত ৪ উইকেটে জয়ী।
  • ২৪ অক্টোবর, ক্রাইস্টচার্চ: দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারত ৪ উইকেটে জয়ী।
  • ২৭ অক্টোবর, ওয়েলিংটন: তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারত ৬ উইকেটে জয়ী; সিরিজ নিশ্চিত করে।
  • ৩০ অক্টোবর, অকল্যান্ড: চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ড ৮৭ রানে জয়ী।
  • ১ নভেম্বর, হ্যামিল্টন: পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

এরপর সফরে রয়েছে পাঁচটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও দুটি টেস্ট। ভারতের পরিকল্পিত ওয়ানডে অধিনায়কত্ব পরিবর্তন অনুযায়ী, প্রথম তিন ওয়ানডেতে দলের নেতৃত্ব দেবেন শুভমান গিল; শেষ দুটিতে দায়িত্ব নেবেন আইয়ার। প্রথম ওয়ানডে ৪ নভেম্বর অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

মূল বিষয়

  • অকল্যান্ডে ভারতকে ৮৭ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড।
  • স্বাগতিকেরা জাতীয় রেকর্ড ৭ উইকেটে ২৫৯ রান তুলে ভারতকে ৯ উইকেটে ১৭২ রানে আটকে দেয়।
  • গ্লেন ফিলিপস ৪৯ বলে ১০৭ রান করেন; মাইকেল ব্রেসওয়েল ২৫ বলে যোগ করেন ৬৫ রান।
  • জ্যাকব ডাফি ২৩ রানে ৪ উইকেট নেন, যার মধ্যে প্রথম ওভারেই ছিল দুটি উইকেট।
  • টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫০ উইকেট নেওয়া প্রথম ভারতীয় বোলার হন অর্শদীপ সিং।
  • ১ নভেম্বর হ্যামিল্টনে শেষ ম্যাচের আগে সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ভারত।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে