দুই বছরের চোট কাটিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে ফেরার ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিলেন রোহিত শর্মা

পড়তে 9 মিনিট
Rohit Sharma Takes Five Wickets on J&K Return After Two Years of Injury Recovery

পাঁচ উইকেট ও পায়ে স্ক্রু নিয়ে প্রত্যাবর্তন

প্রায় দুই বছর পর রঞ্জি ট্রফিতে ফিরে ২১.২ ওভারে ৫/৩৬ নেন রোহিত শর্মা। শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জম্মু ও কাশ্মীর মধ্যপ্রদেশকে ১৯৬ রানে অলআউট করে। এই পারফরম্যান্সের পেছনে ছিল অ্যাকিলিস টেন্ডন ছিঁড়ে যাওয়া, গোড়ালির হাড়ে চিড় এবং একই জায়গায় আরও একবার চোট থেকে সেরে ওঠার লড়াই। ৩২ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলারের পায়ে এখনো স্ক্রু আছে; বোলিংয়ের সময় তাঁর অ্যাকশনের ধাক্কা সামলায় এই পা।

সূচিপত্র
  1. পাঁচ উইকেট ও পায়ে স্ক্রু নিয়ে প্রত্যাবর্তন
  2. এক চোট, বারবার সেরে ওঠার লড়াই
  3. খেলার অপেক্ষায় মানসিক চাপ
  4. ম্যাচের আগের দিন নতুন ধাক্কা
  5. চাপকে উইকেটে রূপ দিতে সাহায্য করেছেন সুনীল কুমার
  6. শুভম শর্মা ইনিংসে টিকিয়ে রেখেছিলেন মধ্যপ্রদেশকে
  7. শেষ দিকে উইকেট পড়ে ম্যাচের লড়াই খোলা থাকল
  8. রোহিতের ক্যারিয়ারে এই প্রত্যাবর্তনের স্থান
  9. ব্যস্ত রঞ্জি উদ্বোধনী পর্বে ব্যক্তিগত মাইলফলক
  10. মূল তথ্য

রোববার, ১১ অক্টোবরের পারফরম্যান্সে ২০২৬-২৭ মৌসুমে গ্রুপ ‘এ’-তে জম্মু ও কাশ্মীরের শুরুটা শক্ত হয়েছে। বাঁহাতি পেসার সুনীল কুমার নেন ৪/৬৯, আর অকিব নবি নেন ১/৪২। রোহিত ও সুনীল মিলে মধ্যপ্রদেশের ১০ উইকেটের ৯টিই তুলে নেন।

অধিনায়ক শুভম শর্মার দৃঢ়তায় প্রতিরোধ গড়ে তোলে সফরকারীরা। ১৭৪ বলে ৭৯ রান করেন তিনি। দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগেও পাল্টা আঘাত হানে মধ্যপ্রদেশ: দিনের শেষের আগের বলে শুভম খাজুরিয়াকে আউট করেন আবেশ খান। এতে ৩/১ স্কোর নিয়ে দিন শেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর, তখনো পিছিয়ে ১৯৩ রানে।

সাবেক ভারত অধিনায়কের সঙ্গে একই নামের রোহিতের জন্য দিনটি ছিল দীর্ঘ বিরতির পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার। প্রথম রঞ্জি ট্রফি শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করা দলকে তাৎক্ষণিক অবদানও এনে দিয়েছেন তিনি।

এক চোট, বারবার সেরে ওঠার লড়াই

অ্যাকিলিস টেন্ডন ছিঁড়ে যাওয়া ও গোড়ালির হাড়ে চিড় ধরার পর থেকেই মাঠের বাইরে ছিলেন রোহিত। অ্যাকিলিস টেন্ডন পায়ের পেছনের পেশিগুলোকে গোড়ালির সঙ্গে যুক্ত করে এবং মাটি থেকে পা ঠেলে উঠতে সাহায্য করে। দৌড়ানো, লাফানো ও বারবার পা ফেলার সঙ্গে যুক্ত ফাস্ট বোলারের জন্য এই জায়গার চোট খেলতে প্রয়োজনীয় মৌলিক নড়াচড়াগুলোকে বাধাগ্রস্ত করে।

সেরে উঠে ক্রিকেটে ফেরার পর রোহিত একই জায়গায় আবারও চোট পান। এরপর তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে পুনর্বাসন নিতে হয়। এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে সার্ভিসেসের বিপক্ষে রঞ্জি ট্রফিতে খেলেছিলেন তিনি; সে ম্যাচে কোনো উইকেট পাননি।

মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। সার্জনের সঙ্গে কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করে জম্মু ও কাশ্মীরের এই ফাস্ট বোলার জানান, ক্রিকেটকে জীবনের অংশ করে রাখতে তিনি কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

আমি সার্জনকে বলেছিলাম, ‘স্যার, আমাকে আবার খেলতে হবে। আমার পা নিয়ে যা করার দরকার করুন, কিন্তু আমি ক্রিকেটে ফিরতে চাই।’

শ্রীনগরে পাওয়া পাঁচ উইকেট তাঁর সেই সংকল্পের বাস্তব ফল এনে দিয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে ফেরার পেছনের শারীরিক পরিশ্রম শেষ হয়ে গেছে। প্রতিদিনের রুটিনে এখনো পুনর্বাসনের কাজ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

খেলার অপেক্ষায় মানসিক চাপ

২০১১ সাল থেকে রাজ্য পর্যায়ে ক্রিকেট খেলছেন রোহিত। খেলতে না পারায় বহু বছরের চেনা রুটিনে ছেদ পড়ে। শরীর প্রস্তুত হওয়ার আগেই ফেরার তাগিদ থেকে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, সেটিও তিনি জানিয়েছেন।

সেরে ওঠার প্রক্রিয়া নিয়ে বলতে গিয়ে রোহিত বলেন, শারীরিকের চেয়ে মানসিক চ্যালেঞ্জই ছিল বেশি।

শারীরিকের চেয়ে মানসিক দিকটাই বেশি কঠিন। আপনি খেলতে চান, কিন্তু শরীর সায় দেয় না। এটা চ্যালেঞ্জিং,

পুনর্বাসনের সময় জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন তাঁকে দলের সঙ্গে রেখেছিল। ফলে মাঠে নামতে না পারলেও সতীর্থ ও ড্রেসিংরুমের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে পেরেছেন তিনি। এই সময় ফিটনেস ও বোলিং নিয়েও কাজ করেছেন।

প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে দূরে থাকায় জম্মুতে স্ত্রী, মা-বাবা ও মামার সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছিল। প্রতিবেদনের সময় তাঁর মেয়ের বয়স ছিল ছয় মাস; সেও ছিল আনন্দের আরেক উৎস। রোহিতের ভাষায়, ক্রিকেট মৌসুমে যে পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দেওয়া হয়তো সম্ভব হতো না, বিরতিতে সেগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

তাঁর অভিজ্ঞতা স্কোরকার্ডের বাইরেও এই প্রত্যাবর্তনের তাৎপর্য তুলে ধরে: সেরে ওঠার অনিশ্চয়তা সামলানোর পাশাপাশি রাজ্যের হয়ে খেলার চেনা ছন্দ হারানোর সঙ্গেও লড়তে হয়েছে তাঁকে।

ম্যাচের আগের দিন নতুন ধাক্কা

মধ্যপ্রদেশের বিপক্ষে ম্যাচের ঠিক আগে আরেকটি বেদনাদায়ক ঘটনায় তাঁর প্রত্যাবর্তন কঠিন হয়ে ওঠে। ম্যাচের আগের দিন নেটে ব্যাটিং করার সময় উমরান মালিকের একটি বল অস্ত্রোপচার হওয়া জায়গায় আঘাত করে।

আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবুও পরদিন খেলেন রোহিত এবং ২১.২ ওভার বোলিং করেন, অর্থাৎ ১২৮টি বৈধ বল করেন। প্রতিটি ওভারেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেরামত করা পায়ের ওপর বারবার চাপ পড়েছে।

শরীরের ওপর চলমান চাপের কথা বলতে গিয়ে রোহিত জানান, স্ক্রুগুলো এখনো পায়ে আছে এবং পুনর্বাসনের কাজও চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

আমার পা ফেলার পায়ে এখনো স্ক্রু আছে। গোড়ালির কাছে যে হাড়ে চিড় ধরেছিল, সেটি স্ক্রু দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছে। বোলিংয়ের সময় পা ফেলার পায়ের ওপর চাপ পড়ে, তাই পুনর্বাসন ও প্রতিদিনের অনুশীলন এখনো জরুরি। এই পেশার ধরনই এমন,

বোলিংয়ের পরিসংখ্যান বলে দেয় সেদিন তিনি কী করেছেন, কিন্তু তা থেকে চোট নিয়ে উদ্বেগের অবসান হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। পরবর্তী কোনো চিকিৎসা মূল্যায়ন বা পুনর্বাসনের কাজ কমানোর সময়সীমা জানানো হয়নি।

বিজ্ঞাপন

চাপকে উইকেটে রূপ দিতে সাহায্য করেছেন সুনীল কুমার

টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জম্মু ও কাশ্মীর। যশ দুবেকে আউট করার আগে সুনীল কুমার মধ্যপ্রদেশের দুই ওপেনারকে চাপে ফেলেন। এরপর রোহিতও চাপ তৈরি করে সফরকারীদের ছন্দে থিতু হতে দেননি।

ইনিংস ২০০ রানের নিচে রাখতে সুনীলের চার উইকেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুভম শর্মার জোরালো রিটার্ন ক্যাচ ধরতে পারলে নিজেই পাঁচ উইকেট পেতে পারতেন, কিন্তু সেটি হাতছাড়া করেন তিনি। পরে আরিয়ান পাণ্ডেকে আউট করেন সুনীল এবং পরের বলেই আবেশ খানকে ফিরিয়ে শেষ সেশনে নিচের সারিতে ধস নামান।

প্রতি ওভারে আনুমানিক ১.৬৯ রান খরচ করে ৫/৩৬ নেন রোহিত। উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রান আটকে রাখার এই সমন্বয় মধ্যপ্রদেশ জুটি গড়লেও জম্মু ও কাশ্মীরকে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সাহায্য করে। সুনীলের শিকার ৪/৬৯; ছন্দ খুঁজে পেতে হিমশিম খাওয়া নবি শেষ পর্যন্ত বাকি উইকেটটি নেন।

চ্যাম্পিয়ন হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম ম্যাচে উইকেটগুলোর এই বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ। নবি নিজের সেরা ছন্দে না থাকলেও দুই পেসার প্রায় সব কটি উইকেট তুলে নিয়েছেন। জায়গা পাওয়ার জন্য জোর প্রতিযোগিতার মুখে থাকা বোলিং আক্রমণে রোহিতের প্রত্যাবর্তন কার্যকর আরেকটি বিকল্প যোগ করেছে।

শুভম শর্মা ইনিংসে টিকিয়ে রেখেছিলেন মধ্যপ্রদেশকে

মধ্যপ্রদেশ একাদশে ছিলেন তিন অভিষিক্ত খেলোয়াড়, ফলে অভিজ্ঞ ব্যাটারদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়ে। অধিনায়ক শুভম শর্মা আটটি চারসহ ধৈর্যশীল ৭৯ রানের ইনিংস খেলেন। দলের মোট ১৯৬ রানের প্রায় ৪০.৩ শতাংশ আসে তাঁর ব্যাট থেকে।

অভিষিক্ত চঞ্চল রাঠোরকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। পরে আরিয়ান পাণ্ডের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে যোগ করেন ৫১ রান। এই দুই জুটি থেকে আসে ১১৬ রান, যা মধ্যপ্রদেশের মোট ইনিংসের প্রায় ৫৯.২ শতাংশ।

ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে জুটি গড়তে অধিনায়কের সক্ষমতার ওপর সফরকারীদের প্রতিরোধ কতটা নির্ভরশীল ছিল, তা সংখ্যাগুলোতে স্পষ্ট। আগের উইকেটগুলো পড়ে যাওয়ার পরও পাণ্ডের সঙ্গে জুটিটি মধ্যপ্রদেশকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোরে পৌঁছানোর পথ দেখায়।

শেষ সেশনে সেই পথ বন্ধ করে দেয় জম্মু ও কাশ্মীর। শেষ চার উইকেট মাত্র ৩৪ রানে হারায় মধ্যপ্রদেশ; সুনীলের পরপর দুটি উইকেট ইনিংস শেষ করতে সাহায্য করে। শুভমের অবদানে স্কোর আরও ছোট হওয়া ঠেকেছে, কিন্তু সফরকারীদের ১৯৬ রানের বেশি এগিয়ে নিতে পারেননি তিনি।

বিজ্ঞাপন

শেষ দিকে উইকেট পড়ে ম্যাচের লড়াই খোলা থাকল

দিনের শেষে জম্মু ও কাশ্মীরের জবাব পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক ছিল না। শেষের আগের বলে ওপেনার শুভম খাজুরিয়াকে লেগ বিফোর উইকেট আউট করেন আবেশ খান। ফলে ৩/১ স্কোরে দিন শেষ করে স্বাগতিক দল।

লেগ বিফোর উইকেট বা এলবিডব্লিউ হয় যখন বল ব্যাটারের শরীরে লাগে এবং বলের গতিপথ ও আঘাতসংক্রান্ত নিয়ম বিবেচনায় আম্পায়ার মনে করেন, অন্যথায় বলটি স্টাম্পে লাগত। এ ক্ষেত্রে খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগে মধ্যপ্রদেশ একটি উইকেট পায়।

জম্মু ও কাশ্মীরের বোলিং দলকে ভালো অবস্থানে এনে দিলেও ব্যাটিংয়ের জবাব তখনো মাত্র শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের প্রথম ইনিংসের সমান হতে তাদের দরকার ছিল আরও ১৯৩ রান; হাতে ছিল নয় উইকেট।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: কোনো দলকে অল্প রানে অলআউট করা সুযোগ তৈরি করে, ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে না। প্রথম দিনের খেলা নিয়ে প্রতিবেদনে কোনো ফল, পরবর্তী ইনিংসের স্কোর বা পরবর্তী খেলার নিশ্চিত সূচি জানানো হয়নি।

রোহিতের ক্যারিয়ারে এই প্রত্যাবর্তনের স্থান

মধ্যপ্রদেশের মুখোমুখি হওয়ার আগে ২২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ৩৪.৬৬ গড়ে ৩৯ উইকেট নিয়েছিলেন রোহিত। শ্রীনগরে পাওয়া পাঁচ উইকেটে তাঁর ক্যারিয়ার-সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৪-এ। এ ছাড়া আটটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ ও পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলে এই দুই সংস্করণে মোট আট উইকেট নিয়েছিলেন তিনি; সব কটি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে।

শ্রীনগরের পারফরম্যান্সটি তাঁর প্রথম, নাকি দ্বিতীয় পাঁচ উইকেটের কীর্তি, সে বিষয়ে প্রতিবেদনগুলোতে মতভেদ রয়েছে। তাঁর ক্যারিয়ার ও ম্যাচের বিস্তারিত বিবরণে এটিকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট নেওয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উদ্বোধনী দিনের ম্যাচগুলোর একটি সামগ্রিক প্রতিবেদনে এটিকে তাঁর প্রথম পাঁচ উইকেটের কীর্তি বলা হয়েছে। ম্যাচের পরিসংখ্যান ৫/৩৬—এ বিষয়ে অবশ্য মতভেদ নেই।

দলে ফেরার সাম্প্রতিক পথটি তিনটি ঘটনার মধ্য দিয়ে দেখা যায়:

  • অক্টোবর ২০২৪: অনুপস্থিতির আগে সর্বশেষ রঞ্জি ট্রফি ম্যাচে সার্ভিসেসের বিপক্ষে খেলেন রোহিত; কোনো উইকেট পাননি।
  • ২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরুতে: জম্মু ও কাশ্মীরের ইরানি কাপ দলে জায়গা পান, তবে একাদশে সুযোগ হয়নি। শ্রীনগরে রেস্ট অব ইন্ডিয়া ১৬৭ রানে জেতে।
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬: মধ্যপ্রদেশের বিপক্ষে ফেরেন এবং প্রথম দিনেই পাঁচ উইকেট নেন।

ইরানি কাপের দলে সুযোগ পাওয়ায় তাঁর প্রত্যাবর্তন প্রায় নিশ্চিত হয়েছিল। রঞ্জি ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে অবদান দেখানোর সুযোগ পান তিনি।

বিজ্ঞাপন

ব্যস্ত রঞ্জি উদ্বোধনী পর্বে ব্যক্তিগত মাইলফলক

অন্য মাঠেও প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড় ও উদীয়মান ব্যাটাররা বড় অবদান রাখার দিনে রোহিতের পারফরম্যান্সটি আসে। কল্যাণীতে দিল্লির বিপক্ষে বাংলার হয়ে ১৭.৩ ওভারে ৪/৩০ নেন মহম্মদ শামি; তাঁর বোলিংয়ে দিল্লি ২৪০ রানে অলআউট হয়। ওই স্পেলে ছিল নয়টি মেডেন ওভার, অর্থাৎ যে ওভারে বোলারকে কোনো রান দিতে হয়নি।

গ্রুপ ‘এ’-তে পুদুচেরির বিপক্ষে বিদর্ভ ৫৪/৫ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩০০/৫-এ পৌঁছায়। অক্ষয় ওয়াডকর ও যশ রাঠোর সেঞ্চুরি করেন। অন্ধ্রের বিপক্ষে কর্ণাটকের অধিনায়ক রবিচন্দ্রন স্মরণ ২১৮ বলে ১২৬ রান করেন। দল ২২/৪-এ পড়ে যাওয়ার পর তাঁর এই ইনিংসে কর্ণাটক ২৭৪ রানে পৌঁছায়।

এই পারফরম্যান্সগুলো বোলিংয়ের সাফল্য ও ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর বৈশিষ্ট্যে ভরা উদ্বোধনী পর্বে শ্রীনগরের বোলিংকে একটি জায়গা করে দেয়। রোহিতের কীর্তির বিশেষত্ব ছিল তাঁর অবদানের পেছনে দীর্ঘ চোটজনিত অনুপস্থিতি এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের জন্য সেটির তাৎক্ষণিক গুরুত্ব।

প্রস্তুতির ধরনেও পরিবর্তন এনেছেন তিনি। অনুশীলন নিয়ে বলতে গিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের এই ফাস্ট বোলার জানান, এখন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের মতো প্রচেষ্টা অনুশীলনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন।

এখন অনুশীলন করার সময় আমি ম্যাচে যে তীব্রতা বজায় রাখব, একই তীব্রতায় বোলিং করার চেষ্টা করি,

জম্মু ও কাশ্মীরের পেস আক্রমণে জায়গা পাওয়ার প্রতিযোগিতা এখনো তীব্র। তবে এই উদ্বোধনী দিনে রোহিত স্পষ্ট অবদান রেখেছেন: পাঁচ উইকেট, টানা নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং প্রায় দুই বছর না খেলা সংস্করণে সফল প্রত্যাবর্তন।

মূল তথ্য

  • জম্মু ও কাশ্মীরের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে ফিরেই ২১.২ ওভারে ৫/৩৬ নেন রোহিত শর্মা।
  • সুনীল কুমার ৪/৬৯ ও অকিব নবি ১/৪২ নেওয়ায় মধ্যপ্রদেশ ১৯৬ রানে অলআউট হয়।
  • অ্যাকিলিস টেন্ডন ছিঁড়ে যাওয়া, গোড়ালির হাড়ে চিড়, অস্ত্রোপচার এবং একই জায়গায় আবার চোটের পর ফেরেন রোহিত।
  • মধ্যপ্রদেশের অধিনায়ক শুভম শর্মা ১৭৪ বলে ৭৯ রান করেন এবং ৬৫ ও ৫১ রানের জুটিতে অংশ নেন।
  • আবেশ খানের বলে শুভম খাজুরিয়া আউট হলে প্রথম দিনের শেষে জম্মু ও কাশ্মীরের স্কোর ছিল ৩/১।
  • ক্যারিয়ারের বিস্তারিত বিবরণে রোহিতের এই কীর্তিকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট নেওয়া বলা হয়েছে, যদিও একটি সামগ্রিক প্রতিবেদনে এটিকে প্রথম বলা হয়েছে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে