নাগোয়ায় শুটারদের হাত ধরে ভারতের সোনালি সূচনা
জাপানের নাগোয়ায় সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, নারীদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল স্ট্যান্ডিং SH1 ইভেন্টে এশিয়ান প্যারা গেমসের রেকর্ড ২৫০.০ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জিতেছেন মোনা আগরওয়াল। ষষ্ঠ স্থান থেকে উঠে এসে তিনি সোনা জেতেন। সতীর্থ ভারতীয় আভানি লেখারা ২৪৯.৬ পয়েন্ট নিয়ে রুপা জেতেন। এতে আইচি-নাগোয়া গেমসে প্রথম দুটি স্থান এবং ভারতের প্রথম পদক দুটি আসে একই ইভেন্ট থেকে।
সূচিপত্র
- নাগোয়ায় শুটারদের হাত ধরে ভারতের সোনালি সূচনা
- ষষ্ঠ স্থান থেকে যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন আগরওয়াল
- দুটি ভিন্ন রাউন্ডে দুটি রেকর্ড
- এই ইভেন্টে SH1-এর অর্থ কী
- ছেলের জন্মের পর শুরু শুটিং ক্যারিয়ার
- আরেকটি পদক ও ভারতের জন্য একটি কোটা স্থান পেলেন লেখারা
- নির্ভুলতা ও ধারাবাহিকতার প্রশংসায় মোদি
- নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সাফল্য
- উদ্বোধনী দিন শেষে ভারতের পদক ১১টি
- মূল বিষয়গুলো
ব্যবধান ছিল মাত্র ০.৪ পয়েন্ট। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও দুইবারের প্যারালিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী লেখারা আগের এশিয়ান প্যারা গেমসে শিরোপা জেতার সমান স্কোর করেন। এবার আগরওয়াল করেন তার চেয়ে বেশি। দক্ষিণ কোরিয়ার লি ইউনরি ২২৭.৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হন।
রাজস্থানের সিকারের ৩৮ বছর বয়সী আগরওয়াল দিনের শুরুতে বাছাইপর্বে গেমসের রেকর্ড গড়েছিলেন। তার ৬২৯.১ পয়েন্ট লেখারার ৬২৬.৪ পয়েন্টের চেয়ে বেশি এবং লেখারা ও স্লোভাকিয়ার ভেরোনিকা ভাদোভিচোভা যৌথভাবে ধরে রাখা ৬২৯.৪ পয়েন্টের বিশ্বরেকর্ডের চেয়ে মাত্র ০.৩ কম ছিল।
এই ফলাফলে প্যারিস ২০২৪ প্যারালিম্পিকে একই পডিয়ামে ওঠা দুই শুটার আবার একত্রিত হলেন। সেখানে লেখারা সোনা ও আগরওয়াল ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। নাগোয়ায় তাদের অবস্থান বদলেছে, আর একই ইভেন্টে ভারত আবারও দুটি পদক পেয়েছে।
আগরওয়ালের জন্য এই জয় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রতিযোগিতামূলক রাইফেল শুটিং শুরু করার পর দ্রুত উত্থানের ধারাবাহিকতা। ২৪ বছর বয়সী লেখারার জন্য আরেকটি আন্তর্জাতিক পদক এসেছে আগেরবারের মতো একই ফল করার পরও দ্বিতীয় হওয়ার সামান্য হতাশা নিয়ে। তাদের লড়াই ভারতের উদ্বোধনী দিনের সাফল্যেরও সূচনা করেছে; শুটিং, অ্যাথলেটিকস, জুডো ও সাঁতারে এসেছে ১১টি পদক।
ষষ্ঠ স্থান থেকে যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন আগরওয়াল
শুরুটা ভালো করেছিলেন লেখারা। তিনি ১০.৮ দিয়ে শুরু করেন, যেখানে আগরওয়ালের স্কোর ছিল ১০.১। প্রথম পাঁচ শটের পর লেখারার পয়েন্ট ছিল ৫৩.২। ১০ শট শেষে লেখারার ছিল ১০৪.৮, আর আগরওয়ালের ১০২.৯। ফলে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া আগরওয়াল তখন ষষ্ঠ স্থানে, সতীর্থের চেয়ে ১.৯ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিলেন।
এলিমিনেশন পর্বে ঘুরে দাঁড়ান আগরওয়াল। নির্দিষ্ট বিরতিতে সর্বনিম্ন র্যাঙ্কিংয়ে থাকা প্রতিযোগীরা ফাইনাল থেকে বাদ পড়েন। প্রতিটি এলিমিনেশন পর্বে টিকে থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন, আর পরের দিকের শুটিংয়ে লেখারাকে পেছনে ফেলে তালিকার শীর্ষে ওঠেন।
শুরুর ঘাটতি ও শেষের ব্যবধানের তুলনাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ: ১০ শট শেষে লেখারার চেয়ে আগরওয়াল ১.৯ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিলেন, আর শেষ করেন ০.৪ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে। প্রতিযোগিতার বাকি সময়ে তাদের অবস্থানের ব্যবধান বদলেছে ২.৩ পয়েন্ট।
ফাইনালে লি এবং কাজাখস্তানের আইগেরিম তুলেগেনোভার কাছ থেকেও চাপের মুখে পড়েন লেখারা। তিনি রুপা নিশ্চিত করেন, আর গেমসের রেকর্ড গড়ে প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ করেন আগরওয়াল। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে শেষের দিকের চলমান স্কোর ও শটের ক্রমে অমিল রয়েছে, তাই শেষ মুহূর্তের বিনিময়ের সুনির্দিষ্ট ক্রম নিশ্চিত নয়।
দুটি ভিন্ন রাউন্ডে দুটি রেকর্ড
বাছাইপর্বে আগরওয়ালের ৬২৯.১ পয়েন্ট চীনের ঝাং কুইপিংয়ের আগের এশিয়ান প্যারা গেমসের বাছাইপর্বের রেকর্ড ভেঙেছে। ৬২৬.৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়ে ফাইনালে ওঠা লেখারার চেয়ে তিনি ২.৭ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন।
বাছাইপর্ব ও ফাইনাল আলাদা প্রতিযোগিতা, এবং দুই পর্বের মোট স্কোরের হিসাবও আলাদা। বাছাইপর্বে ঠিক হয় কারা পরের ধাপে যাবেন; ফাইনালে সবাই আবার শূন্য থেকে শুরু করেন। তাই আগের রাউন্ডে এগিয়ে থাকলেও কঠিন শুরুর পর আগরওয়ালকে আবার নিজের লড়াই গড়ে তুলতে হয়েছে।
বাছাইপর্বের বিশ্বরেকর্ড ৬২৯.৪ পয়েন্ট আগরওয়ালের স্কোরের চেয়ে মাত্র ০.৩ বেশি। ফাইনালে তার ২৫০.০ পয়েন্ট আগের গেমস রেকর্ড ২৪৯.৬-কে ০.৪ পয়েন্ট ছাড়িয়ে গেছে। রেকর্ড দুটি ভিন্ন রাউন্ডের এবং ভিন্ন মোট স্কোরের ভিত্তিতে মাপা হয়।
এর আগের ফাইনাল রেকর্ডটি লেখারা হাংঝৌ আসরে গড়েছিলেন। আসরটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২২ এশিয়ান প্যারা গেমস নামে পরিচিত হলেও অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালে। নাগোয়ায় তিনি একই স্কোর করেন। ফলে আগের গেমসের মানদণ্ডের তুলনায় আগরওয়ালের উন্নতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
অন্য প্রতিযোগিতায় আগরওয়াল এর চেয়েও বেশি ফাইনাল স্কোর করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের মার্চে নয়াদিল্লি বিশ্বকাপে ২৫০.৭ এবং ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল চ্যাংওনে ২৫০.৮। নাগোয়ায় তার অর্জনটি বিশেষভাবে এশিয়ান প্যারা গেমসের রেকর্ড।
এই ইভেন্টে SH1-এর অর্থ কী
SH1 বিভাগে এমন রাইফেল শুটাররা থাকেন, যাদের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিচের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে প্রভাবিত করে, তবে তারা নিজেরাই রাইফেল ধরে রাখতে পারেন। খেলায় প্রতিবন্ধকতার প্রভাব অনুযায়ী এই শ্রেণিবিন্যাসে অ্যাথলেটদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
‘স্ট্যান্ডিং’ শব্দটি নিয়ম অনুযায়ী শুটিং ইভেন্ট ও অবস্থান বোঝায়। যোগ্য অ্যাথলেটরা হুইলচেয়ারসহ বসে থেকেও প্রতিযোগিতা করতে পারেন। ২০১২ সালে সড়ক দুর্ঘটনার পর থেকে লেখারা হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন; আগরওয়ালের নয় মাস বয়সে পোলিও হয়েছিল, যা তার দুই পায়ে প্রভাব ফেলে।
এয়ার রাইফেলের স্কোরে দশমিক পয়েন্ট থাকে। তাই একটি শটে শুধু ১০ নয়, ১০.৮-ও পাওয়া যায়। লক্ষ্যবস্তুর কেন্দ্রের কতটা কাছে শটটি লেগেছে, দশমিকের মাধ্যমে তা বোঝানো হয়। ফাইনালে ছোট ব্যবধানগুলো জমতে জমতে দুই শুটারের স্কোরের ফারাক পয়েন্টের ভগ্নাংশে নেমে আসতে পারে।
বাকি দুই শুটার সোনার লড়াই শেষ করার আগেই ২২৭.৯ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন লি। এলিমিনেশনে ফাইনালিস্টরা একে একে বাদ পড়েন বলে পদকজয়ীদের স্কোর প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়ার ভিন্ন ভিন্ন সময়ের হিসাব; তিনজন অ্যাথলেট যে সমানসংখ্যক শট নিয়েছেন, তা নয়।
ছেলের জন্মের পর শুরু শুটিং ক্যারিয়ার
২০২১ সালের এপ্রিলে ছেলের জন্মের পর ওই বছরের ডিসেম্বরে প্রতিযোগিতামূলক শুটিং শুরু করেন আগরওয়াল। দুই সন্তানের মা তিনি। এই খেলা শুরু করার তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে প্যারিস প্যারালিম্পিকের পডিয়ামে ওঠেন।
খেলাধুলা অবশ্য তার জীবনে আগে থেকেই ছিল। প্যারা অ্যাথলেটিকস, প্যারা পাওয়ারলিফটিং ও সাঁতারে অংশ নিয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালে প্রথম জাতীয় সিটিং ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপে রাজস্থানের নারী দলের অধিনায়ক হিসেবে দলকে সোনা জেতান।
২০২২ সালে জাতীয় শুটিংয়ে রুপা জেতেন আগরওয়াল। এরপর ২০২৩ সালে ক্রোয়েশিয়ার ওসিয়েকে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড শুটিং প্যারা স্পোর্ট বিশ্বকাপে মিশ্র দলগত ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জেতেন। পরে চ্যাংওনে ব্যক্তিগত সোনা এবং নয়াদিল্লিতে জয়ের মাধ্যমে তার আন্তর্জাতিক সাফল্য অব্যাহত থাকে। নয়াদিল্লির জয়েই প্যারিস প্যারালিম্পিকে ভারতের জন্য একটি কোটা স্থান নিশ্চিত হয়।
এই পরিবর্তনের পথে পরিবারের সমর্থন ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আগরওয়াল তার খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারে দাদি ও শাশুড়ির সহায়তার কথা বলেছেন। প্যারিসের প্রস্তুতির সময় আর্থিক চাপের মুখেও পড়েন তিনি এবং শুটিং চালিয়ে যেতে ঋণ নেন।
সিটিং ভলিবল থেকে প্যারালিম্পিকে ব্রোঞ্জ, তারপর এশিয়ান প্যারা গেমসে সোনা—আগরওয়ালের অগ্রগতি কয়েকটি স্বতন্ত্র ধাপে এগিয়েছে:
- ২০১৯: নারীদের সিটিং ভলিবলে রাজস্থানকে জাতীয় সোনা জেতাতে অধিনায়কত্ব করেন।
- ডিসেম্বর ২০২১: প্রতিযোগিতামূলক রাইফেল শুটিং শুরু করেন।
- ২০২২: জাতীয় শুটিংয়ে রুপার পদক জেতেন।
- ২০২৩: ওসিয়েকে বিশ্বকাপে মিশ্র দলগত ব্রোঞ্জ জেতেন।
- মার্চ ২০২৪: নয়াদিল্লি বিশ্বকাপে ২৫০.৭ পয়েন্ট নিয়ে সোনা জেতেন এবং প্যারিস প্যারালিম্পিকে ভারতের জন্য কোটা স্থান নিশ্চিত করেন।
- প্যারিস ২০২৪: নারীদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল SH1-এ ব্রোঞ্জ জেতেন।
- ১৯ অক্টোবর ২০২৬: গেমসের রেকর্ড ২৫০.০ পয়েন্ট নিয়ে এশিয়ান প্যারা গেমসে সোনা জেতেন।
আরেকটি পদক ও ভারতের জন্য একটি কোটা স্থান পেলেন লেখারা
ডিফেন্ডিং এশিয়ান প্যারা গেমস চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নাগোয়ায় এসেছিলেন লেখারা। টোকিও ২০২০ প্যারালিম্পিকে তার ক্যারিয়ারে সোনা ও ব্রোঞ্জ ছিল; এরপর ২০২৪ সালে প্যারিসে আরেকটি সোনা জেতেন।
জয়পুরের এই শুটার রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি মেজর ধ্যানচাঁদ খেলরত্ন ও পদ্মশ্রী পেয়েছেন। নাগোয়ায় বাছাইপর্ব ও ফাইনাল—দুই ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় হয়ে ইভেন্টের শীর্ষ প্রতিযোগীদের একজন হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখেন।
লেখারার রুপাকে লস অ্যাঞ্জেলেস ২০২৮ প্যারালিম্পিকের জন্য ভারতের দ্বিতীয় শুটিং কোটা স্থান নিশ্চিত করার কৃতিত্বও দেওয়া হয়েছে। আগের মাসে চ্যাংওনে ওয়ার্ল্ড শুটিং প্যারা স্পোর্ট চ্যাম্পিয়নশিপে রুপা জিতে আগরওয়াল এরই মধ্যে একটি কোটা স্থান অর্জন করেছিলেন।
কোটা হলো প্যারালিম্পিকে একটি দেশের অংশগ্রহণের জন্য বরাদ্দ স্থান। এর ফলে ভারত আরেকজন অ্যাথলেটকে পাঠানোর সুযোগ পাবে; চূড়ান্ত দল নির্ধারিত হবে প্রযোজ্য নির্বাচনবিধি অনুযায়ী।
নির্ভুলতা ও ধারাবাহিকতার প্রশংসায় মোদি
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বার্তায় দুই শুটারকেই অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগরওয়ালের রেকর্ড এবং তার পারফরম্যান্সের পেছনের গুণাবলির প্রশংসা করেন তিনি।
তার নির্ভুলতা, দৃঢ়সংকল্প ও চাপের মুখে স্থিরতা সত্যিই প্রশংসনীয়।
রুপা জয়ের জন্য লেখারাকেও অভিনন্দন জানান মোদি। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তার বারবার সাফল্যের স্বীকৃতিও দেন তিনি।
তার ধারাবাহিকতা ও দৃঢ়সংকল্প দেশকে গর্বিত করে চলেছে।
রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা এবং রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী কর্নেল রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোরও এই দুই শুটারকে অভিনন্দন জানান। রাজস্থানের দুই অ্যাথলেটের অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেন শর্মা, আর তাদের দক্ষতা ও দৃঢ়সংকল্পের প্রশংসা করেন রাঠোর।
গেমসের আগে আগরওয়াল বলেছিলেন, R2 ও R8 ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি ১৩ জন শুটারের একটি দলের কথা বলেন, যারা সরকার, স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া, প্যারালিম্পিক কমিটি অব ইন্ডিয়া এবং বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকদের সহায়তায় একসঙ্গে কাজ করছেন।
নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সাফল্য
ভারতীয় প্যারা স্পোর্টসে নির্বাচন নিয়ে বৃহত্তর বিরোধের মধ্যেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন আগরওয়াল। কয়েকজন প্যারা শুটার ও সাইক্লিস্ট দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল পক্ষপাত, অনিয়ম এবং দেরিতে নির্বাচন নীতিতে পরিবর্তন আনার।
প্যারালিম্পিক কমিটি অব ইন্ডিয়া ও এর ট্রায়ালের ওপর আস্থা প্রকাশ করেন আগরওয়াল। তবে তিনি বলেন, নীতিগুলো আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি স্পষ্ট নিয়মের আহ্বানও ছিল তার বক্তব্যে।
তিনি এবং প্যারা শুটিং কর্মকর্তা শিবম ত্যাগী প্রধান কোচ জে.পি. নটিয়ালের বিরুদ্ধে অ্যাথলেটদের কাছ থেকে ২০ শতাংশ অর্থ চাওয়ার অভিযোগও নাকচ করেন। আগরওয়াল বলেন, তার কাছে কখনো এমন দাবি করেননি নটিয়াল। ত্যাগী বলেন, দলের মনোযোগ গেমসের দিকেই ছিল এবং স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার দেওয়া সহায়তার কথা উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনী দিন শেষে ভারতের পদক ১১টি
উদ্বোধনী দিনের শেষে পদক তালিকায় চারটি সোনা, পাঁচটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ নিয়ে চতুর্থ স্থানে ছিল ভারত। আগরওয়াল ও লেখারা এই ১১টি পদকের মধ্যে দুটি এনে দেন; বাকি তিনটি সোনা আসে অ্যাথলেটিকস থেকে।
পুরুষদের T47 লং জাম্পে ৭.১১ মিটার লাফিয়ে জেতেন নিশাদ কুমার। ইভেন্টটিতে এটিই ছিল তার প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। নারীদের T12/T13 ১৫০০ মিটারে ব্যক্তিগত সেরা ৫ মিনিট ১২.৩৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে শিরোপা জেতেন সৌম্য। ভারতের ভেঙ্কটেশ রাধা ৫ মিনিট ৩০.৯০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হন।
পুরুষদের F46 জ্যাভলিনে প্রথম দুটি স্থানও ভারতের দখলে আসে; জেতেন রিংকু, দ্বিতীয় হন অজিত সিং। রিংকু ৬৫.১১ মিটার এবং সিং ৬৫.০২ মিটার নিক্ষেপ করেন—ব্যবধান ছিল মাত্র ৯ সেন্টিমিটার। দুজনই মৌসুমের সেরা পারফরম্যান্স করেন।
নারীদের ৫২ কেজি J2 বিভাগে জুডোর রুপা জেতেন কোকিলা। পুরুষদের ৭০ কেজি J1 বিভাগে ব্রোঞ্জ পান কপিল পরমার। পুরুষদের ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল S13-এ ৫৬.৬৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাঁতারে রুপা জেতেন রবি কার্তিক বুদিগিনা।
শুটিংয়ে ভারতের পুরুষরা পডিয়ামে উঠতে পারেননি। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল স্ট্যান্ডিং SH1 ফাইনালে ২০৫.৯ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ হন মহাবীর স্বরূপ উনহালকার, আর ১৪১.৫ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম হন রাকেশ নিদাগুন্ডি। বাছাইপর্বে ৬০৫.২ পয়েন্ট নিয়ে ১৩তম হওয়ায় ফাইনালে উঠতে পারেননি আনন্দ কৃষ্ণন।
আরেকটি রেকর্ড গড়েছেন তিরন্দাজ শীতল দেবী। নারীদের কম্পাউন্ড বাছাইপর্বে ৭২০-এর মধ্যে ৭০৪ স্কোর করে বিশ্বরেকর্ডের সমান করেন এবং আগের এশিয়ান রেকর্ড ৬৯৮-এর চেয়ে ৬ পয়েন্ট বেশি পান। পায়েল নাগ ৬৭৫ স্কোর করে যৌথভাবে পঞ্চম হন। টেবিল টেনিস ও ব্যাডমিন্টনে সেমিফাইনালে ওঠায় ভারত আরও পদক নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে নারীদের ক্লাস ৬ টেবিল টেনিসে প্রাচী পাণ্ডের উল্লেখযোগ্য সাফল্যও রয়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- নারীদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল স্ট্যান্ডিং SH1-এ এশিয়ান প্যারা গেমসের রেকর্ড ২৫০.০ পয়েন্ট নিয়ে সোনা জিতেছেন মোনা আগরওয়াল।
- ২৪৯.৬ পয়েন্ট নিয়ে রুপা পেয়েছেন আভানি লেখারা; সতীর্থের চেয়ে ০.৪ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিলেন তিনি।
- দক্ষিণ কোরিয়ার লি ইউনরি ২২৭.৯ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন।
- বাছাইপর্বেও ৬২৯.১ পয়েন্ট নিয়ে গেমসের রেকর্ড গড়েছেন আগরওয়াল; লেখারার স্কোর ছিল ৬২৬.৪।
- লেখারার রুপাকে লস অ্যাঞ্জেলেস ২০২৮ প্যারালিম্পিকের জন্য ভারতের দ্বিতীয় শুটিং কোটা স্থান নিশ্চিত করার কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে।
- উদ্বোধনী দিনের শেষে চারটি সোনাসহ ১১টি পদক নিয়ে পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে ছিল ভারত।






