জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিনামূল্যে এআই সনদ অর্জনের সুযোগ
ভিয়েতনামের ভিয়েটেল ও আইআইজি ভিয়েতনাম ‘এআই অর বিহাইন্ড’ নামে একটি প্রতিযোগিতা চালু করেছে। এর লক্ষ্য, ৫ লাখ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দক্ষতার আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া, যেখানে পরীক্ষার ফি বা সনদ অর্জনের জন্য কোনো অর্থ দিতে হবে না। প্রথম পর্ব চলবে ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। জাতীয় পর্যায়ের পর্বগুলো ২০২৭ সালের মার্চ ও এপ্রিলে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সূচিপত্র
- জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিনামূল্যে এআই সনদ অর্জনের সুযোগ
- শিক্ষার্থী ও স্কুলগুলো বিনামূল্যে যা পাবে
- স্কুল পর্যায়ের পর্বে গড়ে উঠবে অভিন্ন ভিত্তি
- জাতীয় বাছাইপর্বে এআই ব্যবহারের দক্ষতা যাচাই
- চূড়ান্ত পর্বে টুল ব্যবহার থেকে সমস্যা সমাধানে জোর
- এক নজরে তারিখ ও পুরস্কার
- শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের সঙ্গে প্রতিযোগিতার যোগসূত্র
- স্বাধীনভাবে চিন্তা করাও প্রতিযোগিতার অংশ
- ব্যাপক অংশগ্রহণ ও বাছাইভিত্তিক প্রতিযোগিতার লক্ষ্য আলাদা
- মূল তথ্য
৩১ অক্টোবর হ্যানয়ে উদ্বোধন করা এই প্রতিযোগিতায় রয়েছে একক পরীক্ষা, দল নির্বাচন এবং এআই প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ। আয়োজকদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক এআই পরীক্ষা ব্যবহার করে স্কুলশিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের উদ্যোগ হিসেবে এটি ভিয়েতনামের প্রথম প্রতিযোগিতা। মোট ২৮ কোটি ডং পুরস্কার দেওয়া হবে, যার মধ্যে প্রথম পুরস্কার ১০ কোটি ডং।
সরকারের প্রতিযোগিতার ঘোষণায় তিনটি ধাপের কথা বলা হয়েছে। প্রথমে ভিয়েতনামি বা ইংরেজিতে স্কুলভিত্তিক পরীক্ষা হবে, এরপর শিক্ষার্থীরা পিয়ারসন সার্টিপোর্টের মূল্যায়নে অংশ নেবে। শর্ত পূরণ করতে পারলে নগদ পুরস্কার না জিতলেও শিক্ষার্থীরা সনদ পাবে।
৫ লাখ শিক্ষার্থীর সংখ্যা আয়োজকদের অংশগ্রহণের লক্ষ্য। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকার স্কুলগুলো কম্পিউটার কক্ষের ব্যবস্থা করবে, আর আয়োজকেরা দেবে পরীক্ষা, কারিগরি সহায়তা ও প্রস্তুতির উপকরণ।
শিক্ষার্থী ও স্কুলগুলো বিনামূল্যে যা পাবে
স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষার খরচ ও কারিগরি সহায়তা দেবে ভিয়েটেল ও আইআইজি ভিয়েতনাম। অংশগ্রহণকারী স্কুলগুলোকে শিক্ষার্থীরা যাতে ক্যাম্পাসে একক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে জন্য কম্পিউটার কক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে।
জাতীয় বাছাইপর্ব থেকে পরীক্ষা সরাসরি পরিচালনা করবে আয়োজকেরা এবং আন্তর্জাতিক পরীক্ষা ও সনদের ফি বহন করবে। প্রতিটি পর্বের আগে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা অনলাইনে নির্দেশনা পাবেন। প্রতিযোগিতার ওয়েবসাইটে বিনা মূল্যে প্রস্তুতির উপকরণ ও নমুনা পরীক্ষাও পাওয়া যাবে।
নিবন্ধন, প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণে সহায়তার জন্য ভিয়েটেল ও আইআইজি ভিয়েতনাম ৩৪টি প্রদেশ ও শহরে তাদের নেটওয়ার্ক কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছে। সহায়তার মধ্যে রয়েছে অনলাইন পাঠ এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শক, যারা শিক্ষার্থীদের ধারণাকে ব্যবহারিক এআই সমাধানে রূপ দিতে সহায়তা করবেন।
পরিবারগুলোর জন্য সরাসরি সুবিধা হলো, পরীক্ষার ফি ছাড়াই মূল্যায়নে অংশ নেওয়া ও সনদ পাওয়ার সুযোগ। স্কুলগুলোকে কম্পিউটার সরবরাহ এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কারিগরি সহায়তার সমন্বয় করতে হবে। স্থানীয় শিক্ষা বিভাগগুলো প্রতিযোগিতার প্রচার এবং অংশগ্রহণে দিকনির্দেশনা দেবে।
স্কুল পর্যায়ের পর্বে গড়ে উঠবে অভিন্ন ভিত্তি
শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে স্কুলে কম্পিউটারে একক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করবে। তারা ভিয়েতনামি বা ইংরেজি—যেকোনো একটি ভাষা বেছে নিতে পারবে, যাতে দুই ভাষার যেকোনো একটিতে এআই বিষয়ে তাদের জ্ঞান দেখাতে পারে।
পরীক্ষায় চারটি বিষয় থাকবে: জেনারেটিভ এআইয়ে ব্যবহৃত পদ্ধতি ও মডেল; প্রম্পট লেখা; নৈতিক, আইনি ও সামাজিক বিষয়; এবং ব্যবহারিক প্রয়োগ। জেনারেটিভ এআই হলো এমন সফটওয়্যার, যা নির্দেশনা পেলে লেখা বা ছবির মতো উপাদান তৈরি করে। প্রম্পট হলো কোনো ব্যক্তি যে নির্দেশনা বা প্রশ্ন সফটওয়্যারটিকে দেন।
১,০০০-এর মধ্যে অন্তত ৭০০ নম্বর পেলে শিক্ষার্থীরা আয়োজকদের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক সনদ পাবে। এরপর প্রতিটি স্কুল জাতীয় বাছাইপর্বের জন্য সর্বোচ্চ ১৫টি দল নির্বাচন করতে পারবে; প্রতিটি দলে থাকবে তিন থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী। সর্বোচ্চ সংখ্যক দল পাঠালে একটি স্কুল থেকে ৪৫ থেকে ৭৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে।
এই কাঠামোয় প্রতিযোগিতার স্থান সীমিত হওয়ার আগেই প্রথম পর্বে ব্যাপক শিক্ষামূলক ভূমিকা রাখা হয়েছে। শুরুতে শিক্ষার্থীদের এককভাবে মূল্যায়ন করা হবে, এরপর স্কুলগুলো জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বের জন্য দল নির্বাচন করবে।
জাতীয় বাছাইপর্বে এআই ব্যবহারের দক্ষতা যাচাই
জাতীয় বাছাইপর্বের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ১৪ মার্চ। দলগুলোকে চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির মতো টুল নিয়ে মূল্যায়নে অংশ নিতে হবে। এতে প্রম্পট লেখা ও উন্নত করা, ফলাফল যাচাই এবং দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহারের দক্ষতা দেখা হবে।
১,০০০-এর মধ্যে অন্তত ৭০০ নম্বর পেলে শিক্ষার্থীরা পিয়ারসন সার্টিপোর্টের দেওয়া আন্তর্জাতিক ‘জেনারেটিভ এআই ফাউন্ডেশনস’ সনদ পাবে। সর্বোচ্চ ফল করা ৪০টি দল জাতীয় চূড়ান্ত পর্বে যাবে।
স্কুল পর্যায়ের ইলেকট্রনিক সনদটি দেবে প্রতিযোগিতার আয়োজকেরা; বাছাইপর্বে পরীক্ষার নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে মিলবে আন্তর্জাতিক সনদ। ধাপে ধাপে কঠিন হতে থাকা মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতার স্বীকৃতি পাওয়ার একাধিক সুযোগ পাবে।
উত্তর যাচাই করাও পরীক্ষায় যাচাই করা দক্ষতার অংশ। জেনারেটিভ এআই এমন সাবলীল ভাষায় উত্তর দিতে পারে, যাতে ভুল থাকে। তাই সাবলীল উত্তরটি সরাসরি গ্রহণ না করে শিক্ষার্থীদের ফলাফল যাচাই করতে হবে। বাছাইপর্বে টুলকে নির্দেশ দেওয়ার দক্ষতার পাশাপাশি তার কাজ পর্যালোচনার বিচারবুদ্ধিও দেখা হবে।
চূড়ান্ত পর্বে টুল ব্যবহার থেকে সমস্যা সমাধানে জোর
জাতীয় চূড়ান্ত পর্ব ২০২৭ সালের ১১ এপ্রিল হ্যানয়, দা নাং ও হো চি মিন সিটিতে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। চূড়ান্ত পর্বে ওঠা শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক ‘এআই – আইটি স্পেশালিস্ট’ পরীক্ষায় অংশ নেবে। এতে এআইয়ের ধারণা এবং সমস্যা সমাধানে তার প্রয়োগ যাচাই করা হবে।
পরীক্ষায় এআই-সংক্রান্ত কাজের বিভিন্ন ধাপ থাকবে: সমস্যা শনাক্ত করা, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, মডেল কাজে লাগানো এবং তার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা। মডেল হলো এআই ব্যবস্থার সেই অংশ, যা তথ্য থেকে বিভিন্ন ধরন শিখে নেয়। মডেল কাজে লাগানো মানে সেটিকে বাস্তবে ব্যবহার করা; আর পর্যবেক্ষণ মানে ব্যবহারের পর তার কার্যকারিতা যাচাই করা।
পরীক্ষার শর্ত পূরণকারী শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সনদ পাবে। এরপর সবচেয়ে ভালো ফল করা ১০টি দল আয়োজকদের নির্ধারিত একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে এআই প্রকল্প করবে এবং চূড়ান্ত পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
আইআইজি ভিয়েতনামের চেয়ারম্যান দোয়ান হোং নাম বলেন, প্রকল্পের ধাপে শিক্ষার্থীরা সমস্যা নিয়ে গবেষণা, সমাধানের নকশা এবং দলবদ্ধভাবে ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরির সুযোগ পাবে। ভিয়েটেল জানিয়েছে, তাদের এআই বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পে দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন এবং ইতিমধ্যে চালু থাকা ব্যবস্থার তথ্য সরবরাহ করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি। এসব উপকরণ শ্রেণিকক্ষের শেখার সঙ্গে ব্যবহারিক কাজের সংযোগ ঘটাবে।
এক নজরে তারিখ ও পুরস্কার
প্রতিযোগিতা চলবে দুই পঞ্জিকাবর্ষজুড়ে। সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী ২০২৭ সালের মে মাসে হওয়ার কথা। জাতীয় বাছাইপর্ব ও চূড়ান্ত পর্বের তারিখ এখনো পরিবর্তন হতে পারে; পুরস্কার বিতরণীর নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
- ৩১ অক্টোবর ২০২৬: হ্যানয়ে ভিয়েটেল ও আইআইজি ভিয়েতনামের ‘এআই অর বিহাইন্ড’ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন।
- ২ নভেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৬: শিক্ষার্থীদের একক স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষা।
- ১৪ মার্চ ২০২৭: পরিকল্পিত জাতীয় বাছাইপর্ব; চূড়ান্ত পর্বের জন্য ৪০টি দল নির্বাচন।
- ১১ এপ্রিল ২০২৭: হ্যানয়, দা নাং ও হো চি মিন সিটিতে পরিকল্পিত জাতীয় চূড়ান্ত পর্ব; প্রকল্পের চ্যালেঞ্জে যাবে ১০টি দল।
- মে ২০২৭: সম্ভাব্য সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী।
দলীয় পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে একটি প্রথম পুরস্কার ১০ কোটি ডং, দুটি দ্বিতীয় পুরস্কার প্রতিটি ৪ কোটি ডং, তিনটি তৃতীয় পুরস্কার প্রতিটি ২ কোটি ডং এবং চারটি উৎসাহমূলক পুরস্কার প্রতিটি ১ কোটি ডং।
এই ১০টি পুরস্কারের মোট মূল্য ২৮ কোটি ডং। মোট পুরস্কারের প্রায় ৩৬ শতাংশ প্রথম পুরস্কার, যা ২৮ কোটি ডংয়ের মধ্যে ১০ কোটি ডং হিসাব করে পাওয়া যায়। এই বড় আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি পরীক্ষার নির্ধারিত মান পূরণকারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধাপে সনদ পাবে।
শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের সঙ্গে প্রতিযোগিতার যোগসূত্র
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রণালয়ের সাধারণ শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক থাই ভান তাই বলেন, ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ স্কুলে আনুষ্ঠানিকভাবে এআই শিক্ষা শুরু হয়েছে। তিনি জানান, মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করেছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়েছে এবং সব শিক্ষার্থীকে এআইয়ের প্রাথমিক জ্ঞান দেওয়ার জন্য ১২টি মূল পাঠ চিহ্নিত করেছে।
তাই স্কুলগুলোকে শুধু পরীক্ষার ফলের দিকে মনোযোগ না দিয়ে প্রতিযোগিতাটিকে ব্যাপক শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবে আয়োজনের আহ্বান জানান। পরে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সামর্থ্য ও আগ্রহ অনুযায়ী আরও গভীরভাবে পড়াশোনা করতে পারবে; আর প্রতিযোগিতা থেকে বোঝা যাবে, কাদের আরও সহায়তা পেলে উপকার হবে।
সরকারি ঘোষণায় এই উদ্যোগের সঙ্গে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও জাতীয় ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক রেজল্যুশন ৫৭-এনকিউ/টিডব্লিউ; শিক্ষা ও প্রশিক্ষণবিষয়ক রেজল্যুশন ৭১-এনকিউ/টিডব্লিউ; এবং স্কুলশিক্ষার্থীদের এআই শিক্ষা কাঠামো নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ২৪২২/কিউডি-বিজিডিডিটি যুক্ত করা হয়েছে।
দুটি রেজল্যুশন যথাক্রমে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ও ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট জারি হয়। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো একটি নির্দিষ্ট কার্যক্রমে রূপ পেয়েছে: শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক ধারণা শিখবে, ব্যবহারিক দক্ষতা দেখাবে এবং চূড়ান্ত পর্বে একটি প্রকল্প তৈরি করবে।
স্বাধীনভাবে চিন্তা করাও প্রতিযোগিতার অংশ
আইআইজি ভিয়েতনামের চেয়ারম্যান দোয়ান হোং নাম বলেন, তরুণদের শেখা ও কাজের ধরনে এআইয়ের দক্ষতা ক্রমেই অপরিহার্য হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিকে নির্দেশ দেওয়া, তার ফল যাচাই করা এবং কীভাবে তা ব্যবহার করছে তার দায় নেওয়া শিখতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভিয়েতনামি ভাষায় তিনি বলেন:
শুধু এআই ব্যবহার করতে জানাই আসল কথা নয়; বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে, দায়িত্ব নিয়ে এবং সঠিক উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করাই গুরুত্বপূর্ণ।
ভিয়েটেলের ব্র্যান্ড ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান ভো থান হাইও শিক্ষার্থীদের ধারণা অনুসন্ধান ও স্বাধীনভাবে পড়াশোনায় সহায়তার জন্য এআই ব্যবহারে উৎসাহ দেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা, নকশা, সাংবাদিকতা ও অর্থনীতিসহ নানা পেশায় এআইয়ের সঙ্গে পরিচিতি গুরুত্বপূর্ণ হবে।
হাইয়ের পরামর্শে প্রতিযোগিতার কারিগরি মূল্যায়নের সঙ্গে দৈনন্দিন পড়াশোনার অভ্যাসের যোগসূত্র রয়েছে: প্রশ্ন করো, উত্তর যাচাই করো এবং নিজে চিন্তা করতে থাকো। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভিয়েতনামি ভাষায় তিনি বলেন:
এআই খুব বুদ্ধিমান হতে পারে, কিন্তু তোমার নিজের অধ্যবসায় ও স্বাধীন চিন্তাই এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পরীক্ষার বিষয়গুলোতেও এই বার্তার প্রতিফলন রয়েছে। প্রম্পট লেখার পাশাপাশি ফল যাচাই, নৈতিকতা ও আইনি বিষয় রাখা হয়েছে; অর্থাৎ প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপে দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখার অংশ।
ব্যাপক অংশগ্রহণ ও বাছাইভিত্তিক প্রতিযোগিতার লক্ষ্য আলাদা
৫ লাখ শিক্ষার্থীকে অংশগ্রহণের আওতায় আনার লক্ষ্য চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার তুলনায় অনেক বড়: জাতীয় চূড়ান্ত পর্বে যাবে ৪০টি দল, আর প্রকল্পের ধাপে এগোবে ১০টি দল। ফলে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীর অভিজ্ঞতা গড়ে উঠবে শেখার উপকরণ, স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষা এবং সনদ অর্জনের সুযোগকে ঘিরে।
পরীক্ষার ফি তুলে দেওয়ায় একটি বাস্তব বাধা দূর হবে। স্কুলে প্রথম পর্বের আয়োজন এবং দুটি ভাষা থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পরিচিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই প্রতিযোগিতার শুরুতে অংশগ্রহণ সহজ করবে। প্রাদেশিক নেটওয়ার্ক, অনলাইন পাঠ ও শিক্ষক-নির্দেশনার পরিকল্পনা বড় শহরের বাইরেও অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়তা করবে।
তাই বলেন, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে এআই শিক্ষা পৌঁছে দিতে স্কুল ও শিক্ষকদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষা সংস্থার সহায়তা দরকার। ভিয়েটেলের প্রস্তাবিত পরামর্শক ও প্রকল্পের তথ্য দেখায়, শুধু পরীক্ষা আয়োজনের বাইরেও এই সহযোগিতা কীভাবে চলতে পারে।
আন্তর্জাতিক পরীক্ষা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিয়ারসন সার্টিপোর্ট এই মূল্যায়নগুলো সরবরাহ করছে। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ১৫০টি দেশ ও অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির ১৪ হাজারের বেশি অনুমোদিত কেন্দ্র রয়েছে। ভিয়েতনামের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতাটি এই মূল্যায়নব্যবস্থার সঙ্গে স্থানীয় একটি পথের সংযোগ ঘটিয়েছে, যার শুরু তাদের নিজেদের স্কুলের কম্পিউটার কক্ষে।
মূল তথ্য
- ৫ লাখ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক এআই মূল্যায়নে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য ভিয়েটেল ও আইআইজি ভিয়েতনামের।
- পরীক্ষা ও সনদের ফি বহন করবে আয়োজকেরা; প্রথম পর্বের জন্য স্কুলগুলো কম্পিউটার কক্ষ দেবে।
- স্কুল পর্যায়ের পর্ব চলবে ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর; জাতীয় পর্বের পরিকল্পিত তারিখ ২০২৭ সালের ১৪ মার্চ ও ১১ এপ্রিল।
- পরীক্ষার শর্ত পূরণ করলে শিক্ষার্থীরা সনদ পাবে; ৪০টি দল চূড়ান্ত পর্বে এবং ১০টি দল প্রকল্পের চ্যালেঞ্জে যাবে।
- মোট পুরস্কার ২৮ কোটি ডং, যার মধ্যে প্রথম পুরস্কার ১০ কোটি ডং।
- কারিগরি জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক এআই দক্ষতা, ফল যাচাই এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারও মূল্যায়ন করা হবে।






