কর্মক্ষেত্রের প্রস্তুতির চেয়ে এআই নিয়ে আত্মবিশ্বাস বেশি
ভিয়েতনামের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) বিপুল বিনিয়োগ করছে। জরিপে অংশ নেওয়া অন্য বাজারগুলোর শিক্ষার্থীদের তুলনায় এআই নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে ভিয়েতনামের শিক্ষার্থীরা বেশি আত্মবিশ্বাসী। তবে পিয়ারসন ও অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) এক গবেষণা অনুযায়ী, এই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চাকরির ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে এআই প্রয়োগে স্নাতকদের সক্ষমতার ফারাক রয়েছে বলে মনে করেন নিয়োগকর্তারা।
সূচিপত্র
ভিয়েতনামে জরিপে দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯৬ শতাংশ নেতা বলেছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান এআইয়ে বিনিয়োগ করছে। অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী এআই-সক্ষম পরিবেশে কাজের প্রস্তুতিকে ১০-এর মধ্যে ৮ থেকে ১০ নম্বর দিয়েছেন। গবেষণায় থাকা ছয়টি বাজারের মধ্যে তাঁদের আত্মবিশ্বাসের মাত্রা ছিল সর্বোচ্চ। বিপরীতে, এআই-সমন্বিত কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আটটি সক্ষমতায় সাম্প্রতিক স্নাতকদের ‘চমৎকার’ বলে মূল্যায়ন করেছেন ভিয়েতনামের মাত্র ১৫ শতাংশ নিয়োগকর্তা।
গবেষণায় ভিয়েতনামের ৪০২ জনের মতামত নেওয়া হয়: ৩০১ জন শিক্ষার্থী, ৫০ জন বিশ্ববিদ্যালয় নেতা ও শিক্ষক এবং ৫১ জন নিয়োগকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতা। বৃহত্তর গবেষণায় ছিল ভিয়েতনাম, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। ফলাফল বলছে, এআই টুলে প্রবেশাধিকারই একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়: স্নাতকদের দেখাতে হবে যে তাঁরা বিচার-বিবেচনা করে এসব টুল ব্যবহার করতে, ফলাফল যাচাই করতে এবং বাস্তব কাজের প্রয়োজনে প্রয়োগ করতে পারেন।
এআই কাজের ধরন ও প্রারম্ভিক পর্যায়ের চাকরি বদলে দেওয়ায় এই ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটবটকে নির্দেশনা দিতে পারলেও কোনো শিক্ষার্থী তার উত্তর সঠিক কি না, প্রমাণের ঘাটতি আছে কি না কিংবা এআই-সহায়তায় দেওয়া সুপারিশ কীভাবে ব্যবসায়িক প্রয়োজন মেটায়, তা বুঝতে সমস্যায় পড়তে পারেন। এসব ধাপে প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতির পাশাপাশি প্রয়োজন সমালোচনামূলক চিন্তা, যোগাযোগদক্ষতা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান।
বিনিয়োগের গতি বেশি, তবে সব ক্ষেত্রে সমান নয়
প্রতিবেদনে ভিয়েতনামকে “দ্রুতগতির কৌশলবিদ” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের বাজার এআইকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে দেখে এবং এতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করে। জরিপে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদের ১০ জনের মধ্যে ৯ জন বলেছেন, এআইয়ের প্রভাবে কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন “অত্যন্ত দ্রুত” বা “খুব দ্রুত” ঘটছে। বৈশ্বিক গড় ৬৭ শতাংশের চেয়ে এই হার ২৩ শতাংশ-পয়েন্ট বেশি। জরিপে অংশ নেওয়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-নেতাই মনে করেন, আগামী দুই বছরে পরিবর্তনের গতি বাড়বে।
বিনিয়োগ করলেই প্রতিষ্ঠানগুলো সব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। জরিপে থাকা ভিয়েতনামের মাত্র ২৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বলেছে, তারা এআইয়ের সব অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে। প্রতিবেদনে শিক্ষক উন্নয়ন, কম্পিউটিং অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, পাঠ্যক্রম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য এআই ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদ কীভাবে শিক্ষা ও অনুশীলনে কাজে লাগানো হচ্ছে, তার ওপর প্রস্তুতি নির্ভর করে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জরিপে আরও দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮৪ শতাংশ নেতা বাজারের চাহিদা বুঝতে নিয়মিত নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এটি একটি উল্লেখযোগ্য সূচনা, যদিও নিয়মিত যোগাযোগ মানেই নিয়োগকর্তারা পাঠ্যক্রম তৈরিতে বা শিক্ষার্থীদের কাজ মূল্যায়নে সহায়তা করেন, এমন নয়। পরবর্তী পদক্ষেপ হলো এই অংশীদারত্বকে আরও বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি করা।
শিক্ষার্থীদের নিজেদের দেওয়া মূল্যায়ন তাঁদের আত্মবিশ্বাস সম্পর্কে কার্যকর ধারণা দেয়, তবে তা কর্মক্ষেত্রে পারফরম্যান্সের সরাসরি মাপকাঠি নয়। অন্যদিকে নিয়োগকর্তারা চাকরির বাস্তব কাজ ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে স্নাতকদের বিচার করেন। এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির ব্যবধান থেকে বোঝা যায়, পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের শুধু টুলের সঙ্গে পরিচিতি নয়, বরং ব্যবহারিক দক্ষতা দেখানোর আরও সুযোগ থাকা দরকার।
স্নাতকদের কোন ঘাটতিগুলো দেখছেন নিয়োগকর্তারা
ভিয়েতনামের নিয়োগকর্তারা স্নাতকদের এআই ব্যবহারে কয়েকটি সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। ৪৩ শতাংশ বলেছেন, এআইয়ের ফলাফলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং যাচাই বা তথ্য-পরীক্ষার দুর্বলতাসহ ব্যবহারের অভ্যাসে সমস্যা রয়েছে। ৩৭ শতাংশ সীমিত ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, আর ৩৫ শতাংশ এআই টুলের ওপর অতিনির্ভরতার কথা উল্লেখ করেছেন। উত্তরগুলো একে অপরের সঙ্গে মিলে যেতে পারে, তবে সব মিলিয়ে স্পষ্ট হয়, শুধু টুলে প্রবেশাধিকার প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ মাপকাঠি নয়।
এআইয়ের ফলাফল সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়নে স্নাতকদের ‘চমৎকার’ বলেছেন মাত্র ৮ শতাংশ নিয়োগকর্তা। এ দক্ষতার মধ্যে রয়েছে নির্ভরযোগ্য প্রমাণের সঙ্গে দাবির মিল যাচাই, অনিশ্চয়তা ও পক্ষপাত শনাক্ত করা এবং কোনো কাজে স্বয়ংক্রিয় উত্তরের বদলে মানুষের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান দরকার কি না, তা বোঝা। এআই সাবলীল ভাষায় লিখলেও তাতে ভুল থাকতে পারে, তাই দক্ষতাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
আটটি ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তারা মূল্যায়ন করেছেন প্রযুক্তিগত জ্ঞান, অভিযোজনক্ষমতা, এআই টুলের কার্যকর ব্যবহার, সৃজনশীলতা, ব্যবহারিক কাজে একাডেমিক জ্ঞানের প্রয়োগ, ধারাবাহিক শেখা, যোগাযোগ ও সহযোগিতা এবং এআইয়ের ফলাফল সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়নের দক্ষতা। সামগ্রিকভাবে ১৫ শতাংশের ‘চমৎকার’ মূল্যায়নটি এসব সক্ষমতার গড়; এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি ক্ষেত্রে সব নিয়োগকর্তার মূল্যায়ন একই ছিল।
সমস্যাটি শুধু ভিয়েতনামের নয়। পিয়ারসন ও এডব্লিউএসের গবেষণায় বিশ্বজুড়ে ৫৩ শতাংশ নিয়োগকর্তা বলেছেন, কর্মক্ষেত্রের চাহিদা পূরণ করে এমন এআই দক্ষতাসম্পন্ন সাম্প্রতিক স্নাতক খুঁজে পেতে তাঁদের সমস্যা হয়েছে। পুরো গবেষণায় মাত্র ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বলেছেন, পেশাগত কাজের ধারায় এআই টুল প্রয়োগে তাঁরা উচ্চ দক্ষতার পর্যায়ে পৌঁছেছেন। সব মিলিয়ে ফলাফল একটি উত্তরণ-সংকটের চিত্র তুলে ধরে: কোনো টুল ব্যবহার শিখলেই চাকরিতে তা নির্ভরযোগ্যভাবে ব্যবহারের প্রস্তুতি তৈরি হয় না।
এআই-প্রস্তুত স্নাতকের চারটি সক্ষমতা
প্রতিবেদনে এআই-প্রস্তুতিকে পরস্পর-সম্পর্কিত চারটি সক্ষমতার সমন্বয় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কার্যকরী এআই দক্ষতা হলো কোনো কাজে প্রাসঙ্গিক টুল কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা জানা। মানুষের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতার মধ্যে রয়েছে বিচার-বিবেচনা, অভিযোজনক্ষমতা, যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমস্যা সমাধান। নৈতিক দায়িত্বশীলতার অর্থ হলো দায়িত্বের সঙ্গে এআই ব্যবহার করা এবং গোপনীয়তা, পক্ষপাত ও সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় রাখা। কৌশলগত বোধ হলো কোথায় এআই মূল্য যোগ করতে পারে এবং কোথায় তা উপযুক্ত নাও হতে পারে, তা বোঝা।
এই সক্ষমতাগুলো একসঙ্গে কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, এআই ব্যবহার করে ব্যবসায়িক প্রস্তাব তৈরি করা কোনো স্নাতকের উচিত কাজটি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা, উপযুক্ত টুল বেছে নেওয়া, দাবি ও সূত্র যাচাই করা, সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা এবং চূড়ান্ত সুপারিশের পেছনের যুক্তি ব্যাখ্যা করতে পারা। কোনো ব্যবস্থা কাজে সহায়তা করলেও কাজটির দায়ভার ব্যবহারকারীরই থাকে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি এআই কীভাবে শেখানো উচিত, সেটিও বদলে দেয়। শুধু জনপ্রিয় টুল চালানোর ওপর জোর দেওয়া কোনো কোর্স টুল বদলে গেলে দ্রুত অচল হয়ে যেতে পারে। বরং ফলাফল মূল্যায়ন, পদ্ধতি মানিয়ে নেওয়া এবং বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের সঙ্গে এআইয়ের সংযোগ শেখানো বেশি স্থায়ী। এতে শিক্ষার্থীরা অচেনা ব্যবস্থা ও নতুন কর্মক্ষেত্রের কাজেও নিজেদের দক্ষতা প্রয়োগ করতে পারেন।
প্রতিবেদনের বৃহত্তর “এআই প্রস্তুতিতে বাধা” কাঠামোয় শিক্ষা থেকে কর্মজীবনে উত্তরণের পথে জমতে থাকা ছয়টি বাধার কথা বলা হয়েছে: গতি, সংযোগ, সক্ষমতা, শাসনব্যবস্থা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা। গতি বলতে পাঠ্যক্রম হালনাগাদের চেয়ে কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তন দ্রুত হওয়াকে বোঝায়। সংযোগ হলো নিয়োগকর্তা ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে দুর্বল মতবিনিময়। সক্ষমতার মধ্যে শিক্ষকদের প্রস্তুতিতে বৈষম্য রয়েছে। শাসনব্যবস্থায় দায়িত্বশীল ব্যবহারের ব্যবহারিক নিয়ম অন্তর্ভুক্ত। অভিজ্ঞতা বলতে কাঠামোবদ্ধভাবে অনুশীলনের সুযোগের ঘাটতি বোঝায়। আর দক্ষতা হলো স্নাতকদের প্রদর্শিত সক্ষমতা ও চাকরির প্রয়োজনের মধ্যে অমিল।
নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগকে যৌথ অনুশীলনে রূপ দিন
বাস্তবসম্মত কাজের ভিত্তিতে মূল্যায়ন তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগকর্তারা অভিজ্ঞতার ঘাটতি মোকাবিলা করতে পারেন। শিক্ষার্থীদের শুধু এআই টুলের বর্ণনা দিতে না বলে কোনো অ্যাসাইনমেন্টে তাদের দিয়ে প্রস্তাবের খসড়া তৈরি, দাবিগুলো যাচাই, দুর্বলতা চিহ্নিত এবং সুপারিশের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরানো যেতে পারে। এতে কাজের প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট হয় এবং প্রশিক্ষকেরা চূড়ান্ত ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর বিচার-বিবেচনাও মূল্যায়ন করতে পারেন।
নিয়োগকর্তারা চলমান বাস্তব সমস্যা, ইন্টার্নশিপ এবং পাঠ্যক্রম সম্পর্কে মতামত দিতে পারেন। দলগুলোর সঙ্গে কাজ বা তাদের কাজ পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিয়ে ব্যবসায়িক পরিবেশে এআই কীভাবে ব্যবহার হয়, তা শিক্ষকদের বুঝতেও তাঁরা সহায়তা করতে পারেন। এমন অংশীদারত্বে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকতে পারে—এমন পরিস্থিতি, যেমন অসম্পূর্ণ তথ্য, সময়সীমা এবং সহকর্মীদের কাছে ফলাফল তুলে ধরার প্রয়োজন—মোকাবিলার অনুশীলন করতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য প্রতিবেদনে পাঠ্যক্রম পর্যালোচনার সময় কমানো, নমনীয় শিক্ষার মডেল এবং ধাপে ধাপে যোগ করা যায় এমন সনদের সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সনদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট পর্যায়ে স্বীকৃত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। প্রতিবেদনে প্রয়োগভিত্তিক পাঠদানের জন্য শিক্ষক উন্নয়ন এবং বাস্তবসম্মত পরিবেশে এআই অনুশীলনের জন্য ক্রেডিট পাওয়া যায় এমন সুযোগ তৈরির কথাও বলা হয়েছে। লক্ষ্য হলো এআইয়ের ব্যবহারকে ঐচ্ছিক প্রদর্শনী বা বিচ্ছিন্ন পরিচিতিমূলক পাঠে সীমাবদ্ধ না রেখে মূল শিক্ষার অংশ করা।
এআই-সহায়তায় করা কাজের একটি পোর্টফোলিও তৈরি করে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা মূল্যায়ন করা সহজ করতে পারেন। পোর্টফোলিওতে কাজটি কী ছিল, এআই কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, শিক্ষার্থী কী যাচাই বা পরিবর্তন করেছেন এবং চূড়ান্ত কাজের ফল কী হয়েছে, তা দেখানো যেতে পারে। ডিগ্রি বা এআই ব্যবহারে দক্ষতার সাধারণ দাবির বাইরে গিয়ে এই প্রমাণ নিয়োগকর্তাদের প্রার্থীর ব্যবহারিক সক্ষমতা বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
প্রতিবেদনে কাল্পনিকভাবে দুজন প্রার্থীর মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার প্রসঙ্গও এসেছে: একজনের এআই দক্ষতা শক্তিশালী, কিন্তু ডিগ্রি নেই; আরেকজনের ডিগ্রি আছে, তবে এআই ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সীমিত। নিয়োগকর্তারা ডিগ্রিধারী প্রার্থীকে মাত্র চার শতাংশ-পয়েন্ট এগিয়ে রেখেছেন। ফলাফল বলছে, যোগ্যতার সনদের গুরুত্ব এখনো আছে, তবে প্রয়োগযোগ্য দক্ষতার প্রমাণকেও নিয়োগকর্তারা যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে পারেন।
দায়িত্ব শুধু ক্যাম্পাস ও নিয়োগকর্তাদের নয়
স্পষ্ট শাসনব্যবস্থাও প্রস্তুতির একটি অংশ। কোন টুল ব্যবহার করা যাবে, তাতে কী তথ্য দেওয়া উচিত নয়, এআই-তৈরি কাজ কীভাবে প্রকাশ করতে হবে এবং তা যাচাইয়ের দায় কার—এসব বিষয়ে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ব্যবহারিক নির্দেশনা প্রয়োজন। স্পষ্ট নিয়ম না থাকলে মানুষ অনুমোদনহীন টুল ব্যবহার করতে পারেন বা অসতর্কভাবে সংবেদনশীল তথ্য সামলাতে পারেন; শিক্ষা থেকে কর্মক্ষেত্রেও এসব ঝুঁকি গড়াতে পারে।
নীতি স্পষ্ট করে এবং প্রাসঙ্গিক ডিজিটাল দক্ষতার সনদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিতে যুক্ত করার সুযোগ দিয়ে নিয়ন্ত্রকেরা এই উত্তরণে সহায়তা করতে পারেন। প্রতিবেদনের সুপারিশে শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগকর্তাদের আরও স্পষ্ট শিক্ষণফল ও মূল্যায়নের মানদণ্ডে একমত হওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যাতে স্নাতকেরা নিজেদের সক্ষমতা আরও ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরতে পারেন।
পিয়ারসন ও এডব্লিউএসের নির্বাহীরা এআইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে কর্মক্ষেত্রের সক্ষমতায় রূপ দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিএসবি ইনসাইটসের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণাটি তৈরি করা হয়েছে। এতে ছয়টি বাজারের ২,৭০০-এর বেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষা খাতের নেতা ও নিয়োগকর্তার জরিপের উত্তর এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতাদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষা থেকে কর্মজীবনে উত্তরণের নিজস্ব পথের কোন পর্যায়গুলোতে মনোযোগ দেওয়া দরকার, তা চিহ্নিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে কাঠামোগুলো তৈরি করা হয়েছে।
ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে মূল কথা এই নয় যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিনিয়োগে ব্যর্থ হয়েছে বা শিক্ষার্থীদের আগ্রহ নেই। বিনিয়োগ ব্যাপক, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বেশি এবং জরিপে থাকা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কঠিন কাজটি হলো এই শক্তিগুলোকে বারবার অনুশীলন, যথাযথ মূল্যায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর স্নাতকদের যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তার কাছাকাছি বাস্তব কাজের সঙ্গে যুক্ত করা।
মূল কথা
- জরিপে অংশ নেওয়া ভিয়েতনামের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯৬ শতাংশ নেতা বলেছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান এআইয়ে বিনিয়োগ করছে।
- অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী এআই-সমন্বিত কাজে নিজেদের প্রস্তুতিকে ১০-এর মধ্যে ৮ থেকে ১০ নম্বর দিয়েছেন।
- কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের আটটি সক্ষমতায় সাম্প্রতিক স্নাতকদের ‘চমৎকার’ বলেছেন মাত্র ১৫ শতাংশ নিয়োগকর্তা।
- এআইয়ের ফলাফল যাচাইয়ের দুর্বল অভ্যাস, সীমিত ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা এবং এআই টুলের ওপর অতিনির্ভরতার কথা বলেছেন নিয়োগকর্তারা।
- নিয়োগকর্তাদের অংশগ্রহণে মূল্যায়ন, ব্যবহারিক অনুশীলন, শিক্ষক উন্নয়ন এবং এআই ব্যবহারে স্পষ্ট শাসনব্যবস্থার সুপারিশ করেছে প্রতিবেদনটি।






