প্রথম বছরেই বড় লোকসান, নতুন অর্থায়নের খোঁজ
২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে ১০৩০ কোটি ইয়েন বিক্রির বিপরীতে ৮৯০ কোটি ইয়েন নিট লোকসান করেছে এর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জাপান এন্টারটেইনমেন্ট। এ অবস্থায় নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজছে জাংলিয়া ওকিনাওয়া। থিম পার্কটি ও পাশের স্পা মিলিয়ে দর্শনার্থী এসেছেন ৯ লাখ ৫৬ হাজার, যা ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। উত্তর ওকিনাওয়ায় প্রকল্পটি চালুর দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে নগদ প্রবাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
সূচিপত্র
- প্রথম বছরেই বড় লোকসান, নতুন অর্থায়নের খোঁজ
- দুই প্রতিষ্ঠানের লোকসানের হিসাব
- সেবা ও প্রতিক্রিয়ার ব্যর্থতা স্বীকার কাতোর
- কম দর্শনার্থী ধরে সাজানো পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা
- বিনিয়োগকারী খোঁজার সময় দেবে ব্রিজ ফাইন্যান্সিং
- জবাবদিহি নিয়ে ব্যবস্থাপনার কাছে শেয়ারহোল্ডারদের প্রশ্ন
- ৭ হাজার কোটি ইয়েনের পর্যটন প্রকল্প যেভাবে এখানে পৌঁছাল
- দর্শনার্থী ও উত্তর ওকিনাওয়ার জন্য কী বদলাবে
- মূল তথ্য
আর্থিক চাপের প্রভাব পড়েছে মূল প্রতিষ্ঠান জাপান এন্টারটেইনমেন্ট হোল্ডিংসের ওপরও। ৩০ অক্টোবর নাহায় অনুষ্ঠিত কোম্পানির বার্ষিক শেয়ারহোল্ডার সভার ধারাবাহিক অধিবেশনে প্রায় ১ হাজার ৭৩০ কোটি ইয়েন নিট লোকসান দেখানো হিসাব অনুমোদন করা হয়। ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের প্রশ্নের মুখে দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে ব্যবস্থাপনা।
জাপান এন্টারটেইনমেন্ট সরকারি সংস্থা ওকিনাওয়া ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশনের কাছ থেকে ৩০০ কোটি ইয়েনের ব্রিজ ফাইন্যান্সিং নেওয়ার চুক্তিও করেছে। বিনিয়োগকারী খোঁজা এবং পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে এই ঋণ অর্থ জোগাবে।
প্রধান নির্বাহী তাকেশি কাতো, যিনি মূল প্রতিষ্ঠানটিরও প্রতিনিধিত্ব করেন, বলেছেন আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগে সহায়তার জন্য নতুন বিনিয়োগকারী দরকার। ব্যবস্থাপনা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে। তবে কাতোর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা চলতে পারে কয়েক মাস থেকে ছয় মাস পর্যন্ত।
পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার সূচনা হচ্ছে কম দর্শনার্থী ধরে নিয়ে। ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়া বছরে জাপান এন্টারটেইনমেন্ট ৬ লাখ ৩৮ হাজার দর্শনার্থী আশা করছে, যা প্রথম বছরের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম। দর্শনার্থী কম হলেও পার্কটি পরিচালনযোগ্য রাখতে খরচ সামলানোর পাশাপাশি, মানুষকে প্রথমবার এখানে আসতে যে অভিজ্ঞতা আকৃষ্ট করেছিল, তা উন্নত করাই এখন তাদের তাৎক্ষণিক কাজ।
দুই প্রতিষ্ঠানের লোকসানের হিসাব
জাংলিয়া পরিচালনা করে জাপান এন্টারটেইনমেন্ট। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ওরিয়ন ব্রুয়ারিজের সমর্থনপুষ্ট জাপান এন্টারটেইনমেন্ট হোল্ডিংস এর মূল প্রতিষ্ঠান। তাদের হিসাব দুটি আলাদা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের: পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি ৮৯০ কোটি ইয়েন নিট লোকসান দেখিয়েছে, আর মূল প্রতিষ্ঠানের নিট লোকসান প্রায় ১ হাজার ৭৩০ কোটি ইয়েন।
পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের লোকসান তার ১ হাজার ৩০ কোটি ইয়েন বিক্রির প্রায় ৮৬ শতাংশের সমান। প্রথম পরিচালন পর্বে ব্যবসা যে পরিমাণ অর্থ আয় করেছে, তার তুলনায় আর্থিক ঘাটতি কতটা বড়, এই হিসাব তা দেখায়।
কর, সুদ পরিশোধ ও অবচয় বাদ দিয়ে ব্যবস্থাপনা ২৬৫ কোটি ইয়েনের সমন্বিত লোকসানের হিসাবও দিয়েছে। ভবন, সরঞ্জাম ও অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী সম্পদের ব্যয় সেগুলো ব্যবহারের বছরগুলোতে ভাগ করে হিসাবভুক্ত করাকে অবচয় বলে।
বড় নিট লোকসানের আড়ালে পরিচালনগত চ্যালেঞ্জটি বুঝতে সমন্বিত হিসাবটি সহায়তা করে। এসব ব্যয় বাদ দেওয়ার পরও ব্যবসাটি লোকসানে ছিল। তাই শুধু অর্থায়ন ব্যয় কমালেই হবে না, দৈনন্দিন আয় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটিকে উল্লেখযোগ্য কাজ করতে হবে।
সেবা ও প্রতিক্রিয়ার ব্যর্থতা স্বীকার কাতোর
৩০ অক্টোবর নাহায় সংবাদ সম্মেলনে কাতো বলেন, জাংলিয়া চালুর প্রথম বছরে দর্শনার্থীসংখ্যা ও আর্থিক ফলাফলের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ওই ফলাফলের দায় স্বীকার করেন জাপান এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান নির্বাহী।
দর্শনার্থী আকর্ষণ ও আয় তৈরিতে আমরা প্রত্যাশিত ফল দিতে পারিনি। এর দায় আমি গভীরভাবে স্বীকার করছি।
কাতো পরস্পর-সম্পর্কিত দুটি সমস্যা চিহ্নিত করেছেন: পার্কটি দর্শনার্থীদের প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারেনি, আর উপস্থিতি কমতে থাকলেও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করতে দেরি করেছে। তাঁর ব্যাখ্যায়, পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রয়েছে দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা এবং চাহিদা কমার পর কোম্পানির প্রতিক্রিয়া।
জাংলিয়ার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উদ্বোধনের পর থেকেই দীর্ঘ অপেক্ষা, পার্কের ভেতরে চলাচলে অসুবিধা এবং আবহাওয়া থেকে পর্যাপ্ত আশ্রয় না থাকার অভিযোগ উঠেছিল। সাবেক একটি গলফ কোর্সের ৬০ হেক্টর জায়গাজুড়ে পার্কটি অবস্থিত। ফলে চলাচলের ব্যবস্থা, অপেক্ষার জায়গা ও ওকিনাওয়ার আবহাওয়া থেকে সুরক্ষা দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতার বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কাতোর সাম্প্রতিক বক্তব্যে উদ্বোধনের সময়কার সমস্যার বাইরেও বিষয়টি বিস্তৃত হয়েছে। সেবার ঘাটতি এবং আর্থিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় নিজেদের পদক্ষেপ নিতে দেরি হওয়াও হতাশাজনক প্রথম বছরের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে এখন স্বীকার করছে ব্যবস্থাপনা।
কম দর্শনার্থী ধরে সাজানো পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা
প্রথম বছরের ৯ লাখ ৫৬ হাজার দর্শনার্থী থেকে দ্বিতীয় বছরে কমে ৬ লাখ ৩৮ হাজারে দাঁড়াতে পারে বলে আশা করছে জাপান এন্টারটেইনমেন্ট। কমবে ৩ লাখ ১৮ হাজার, অর্থাৎ প্রায় ৩৩ শতাংশ। প্রথম বছরের মোট সংখ্যার মধ্যে পাশের স্পা-সুবিধার দর্শনার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত।
দর্শনার্থী দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ওপর তাৎক্ষণিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা নির্ভর না করে, কমে যাওয়া চাহিদা অনুযায়ী এগোচ্ছে কোম্পানিটি। কম দর্শনার্থী নিয়েও যাতে টেকসই ব্যবসা চালানো যায়, সে জন্য কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় সমন্বয়, আউটসোর্সিং কমানো এবং পরিচালনার পরিসর পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিচালন ফলাফল বোঝাতে ব্যবহৃত সমন্বিত হিসাব অনুযায়ী, প্রথম বছরের ২৬৫ কোটি ইয়েন লোকসানের তুলনায় দ্বিতীয় বছরে ১৩৬ কোটি ইয়েন লোকসান হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ব্যবস্থাপনা। দর্শনার্থী কমলেও এতে লোকসান ১২৯ কোটি ইয়েন, বা প্রায় ৪৯ শতাংশ, কমবে।
২০২৭ সালের বসন্তের মধ্যে কাঠামোগত সংস্কার শেষ করার আশা করা হচ্ছে। লক্ষ্য, পূর্বাভাসে থাকা দর্শনার্থীসংখ্যায় ব্যবসাটিকে লাভজনক করা। বার্ষিক লোকসানের পূর্বাভাস ও পরিচালনগত লক্ষ্যটি পুনরুদ্ধারের ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ের: পরিকল্পিত সংস্কার শেষ হওয়ার আগের মাসগুলোও অর্থবছরের অন্তর্ভুক্ত।
দলবদ্ধ দর্শনার্থী বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির। দলগত বুকিং থেকে কোনো আকর্ষণকেন্দ্রে সম্ভাব্য চাহিদা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, যা কর্মী ও সেবা পরিকল্পনায় সহায়তা করে। ব্যবসার এই অংশের জন্য কোনো সংখ্যাগত লক্ষ্য ঘোষণা করেনি ব্যবস্থাপনা।
বিনিয়োগকারী খোঁজার সময় দেবে ব্রিজ ফাইন্যান্সিং
ওকিনাওয়া ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশনের সঙ্গে করা ৩০০ কোটি ইয়েনের অর্থায়ন চুক্তি জাপান এন্টারটেইনমেন্টকে আরও স্থায়ী আর্থিক ব্যবস্থার উদ্যোগ চলাকালে সাময়িক অর্থ জোগাবে। অন্য কোনো অর্থের উৎস পাওয়ার আগ পর্যন্ত ঘাটতি মেটাতে নেওয়া ঋণকে ব্রিজ লোন বলা হয়।
ঋণ ও বিনিয়োগের উদ্দেশ্য আলাদা। ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা তৈরি করে, আর নতুন বিনিয়োগকারী মালিকানার অংশ বা অন্য সম্মত অধিকার পাওয়ার বিনিময়ে মূলধন জোগান দেন। কাতো বলেছেন, আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং আরও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে নতুন বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা চলছে না বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। তাই আগ্রহ প্রকাশের পর্যায়টি অর্থায়ন ও মালিকানা নিয়ে চুক্তির চেয়ে প্রাথমিক।
নতুন বিনিয়োগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব নেবেন বলে জানিয়েছেন কাতো। ব্যবস্থাপনার ফেব্রুয়ারির লক্ষ্য তাঁর বলা কয়েক মাস থেকে ছয় মাসের বিস্তৃত সময়সীমার মধ্যে পড়ে। তবে বিনিয়োগকারী, বিনিয়োগের পরিমাণ ও শর্ত এখনো নির্ধারিত হয়নি।
নতুন বিনিয়োগকারী এলে বড় বিনিয়োগও করতে চায় জাপান এন্টারটেইনমেন্ট। তাই প্রস্তাবিত পুনরুদ্ধারের দুটি অংশ: বর্তমান কার্যক্রম স্থিতিশীল করতে ব্যয় কমানো, এরপর প্রবৃদ্ধির জন্য মূলধন সংগ্রহ।
জবাবদিহি নিয়ে ব্যবস্থাপনার কাছে শেয়ারহোল্ডারদের প্রশ্ন
৩০ অক্টোবর নাহায় জাপান এন্টারটেইনমেন্ট হোল্ডিংসের বার্ষিক শেয়ারহোল্ডার সভার ধারাবাহিক অধিবেশন বসে। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে সভা শেষ হয় আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে। আগের অধিবেশনে অনুমোদন না পাওয়া ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরের আর্থিক বিবৃতি সভায় অনুমোদিত হয়।
লোকসানের জন্য ব্যবস্থাপনার দায় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেয়ারহোল্ডাররা। পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও তার মূল দুই প্রতিষ্ঠানে কাতোর দায়িত্ব থাকায়, পার্কের কার্যক্রম বদলানো থেকে শুরু করে অর্থায়নের খোঁজ পর্যন্ত সব উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছেন তিনি।
পরামর্শ ও বিপণন প্রতিষ্ঠান কাতানা-এর প্রধান নির্বাহী সুয়োশি মোরিওকা ধারাবাহিক অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। জাংলিয়া প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মোরিওকা; ইউনিভার্সাল স্টুডিওজ জাপানকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে তাঁর আগের ভূমিকার জন্যও তিনি পরিচিত। সভার পর আলোচনার বিবরণ দিয়ে ব্যবসাটির প্রতি নিজের অঙ্গীকারের কথা জানান তিনি।
ব্যবসাটিকে যেকোনো মূল্যে সঠিক পথে ফেরাতে আমরা আন্তরিকভাবে আলোচনা করেছি। দৃঢ়ভাবে কাজ এগিয়ে নেব।
হিসাব অনুমোদনের ফলে লোকসানের একটি আনুষ্ঠানিক নথি পেলেন শেয়ারহোল্ডাররা। পরবর্তী পরিচালনগত পরীক্ষাগুলো হলো, ব্যবস্থাপনা পরিকল্পিত সংস্কার শেষ করতে পারে কি না, সেবার মান বাড়াতে পারে কি না এবং ব্যবসার প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করা মূলধন সংগ্রহ করতে পারে কি না।
৭ হাজার কোটি ইয়েনের পর্যটন প্রকল্প যেভাবে এখানে পৌঁছাল
৭ হাজার কোটি ইয়েন বিনিয়োগে নির্মিত জাংলিয়া ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই উত্তর ওকিনাওয়ার নাকিজিন গ্রামে চালু হয়। দ্বীপের উত্তরে পর্যটন ব্যয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ডাইনোসরভিত্তিক আকর্ষণ, খোলা আকাশের নিচের বিনোদন ও স্পার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
উদ্বোধনের সময় বসবাসের ভিত্তিতে ভিন্ন প্রবেশমূল্যও চালু করা হয়। জাপানের বাসিন্দাদের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের এক দিনের টিকিটের দাম ছিল ৬ হাজার ৯৩০ ইয়েন, আর বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্য ৮ হাজার ৮০০ ইয়েন। পার্থক্য ১ হাজার ৮৭০ ইয়েন, বা প্রায় ২৭ শতাংশ। জাপানে বসবাসকারী বিদেশিরা কম দামের টিকিট পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।
সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফলে উদ্বোধনের পরিকল্পনা থেকে মনোযোগ সরে গিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে, ব্যবসাটি চালানোর মতো পর্যাপ্ত টিকিট কাটা দর্শনার্থী পাওয়া যাবে কি না। ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপে হিসাবটির দুই দিকই রয়েছে: উন্নত সেবা ও দলগত বুকিংয়ের মাধ্যমে দর্শনার্থী আকর্ষণ, পাশাপাশি পার্ক পরিচালনার খরচ কমানো।
প্রকল্পটি উদ্বোধন থেকে পুনর্গঠনের দিকে কত দ্রুত এগিয়েছে, প্রধান তারিখগুলোতে তা স্পষ্ট:
- ২৫ জুলাই, ২০২৫: উত্তর ওকিনাওয়ায় জাংলিয়া ওকিনাওয়া চালু হয়।
- জুন ২০২৬: প্রথম অর্থবছর শেষ হয়; মাসের শেষ পর্যন্ত মোট দর্শনার্থী ছিলেন ৯ লাখ ৫৬ হাজার।
- ৩০ অক্টোবর, ২০২৬: শেয়ারহোল্ডারদের ধারাবাহিক সভায় মূল প্রতিষ্ঠান আর্থিক বিবৃতি অনুমোদন করে এবং ব্যবস্থাপনা পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে।
- ফেব্রুয়ারি ২০২৭: নতুন বিনিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্তের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ব্যবস্থাপনা।
- বসন্ত ২০২৭: কাঠামোগত সংস্কার শেষ হওয়ার কথা।
- জুন ২০২৭: দ্বিতীয় অর্থবছর শেষ হবে; পূর্বাভাসে দর্শনার্থীসংখ্যা ৬ লাখ ৩৮ হাজার।
দর্শনার্থী ও উত্তর ওকিনাওয়ার জন্য কী বদলাবে
কর্মীসংখ্যায় পরিবর্তন, আউটসোর্সিং কমানো এবং সেবার দুর্বলতা কাটানোর উদ্যোগের বাস্তব ফল দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন। প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার কথা কাতো স্বীকার করায়, খরচ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতার মানও পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
কতটা কাজ দরকার এবং কীভাবে তা সংগঠিত হবে, তা পর্যালোচনার মুখে পড়বেন কর্মী ও ঠিকাদারেরা। কর্মী ব্যবস্থায় সমন্বয় এবং আউটসোর্সিং কমানোর কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। তবে কতটি পদ বা চুক্তি প্রভাবিত হবে, তা নির্দিষ্ট করেনি।
উত্তর ওকিনাওয়ার পর্যটন-উচ্চাকাঙ্ক্ষাও প্রকল্পটির ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। দ্বীপের ব্যস্ততর মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বাইরে পর্যটকদের যেতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে জাংলিয়া নির্মিত হয়েছিল, যাতে তাঁদের সঙ্গে পর্যটন ব্যয় ও কর্মসংস্থানও সেখানে পৌঁছায়। উপস্থিতির নতুন পূর্বাভাস বলছে, উদ্বোধনী পরিকল্পনার তুলনায় তাৎক্ষণিকভাবে কম দর্শনার্থী ধরে এগোচ্ছে প্রকল্পটি।
আর্থিক লক্ষ্যগুলো স্পষ্ট: নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহ, বসন্তের মধ্যে সংস্কার শেষ এবং কম দর্শনার্থী নিয়েও পরিচালনাগত সমন্বিত বার্ষিক লোকসান হ্রাস। এই পদক্ষেপগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে জাংলিয়া ব্যয়বহুল উদ্বোধনপর্ব পেরিয়ে এমন একটি ব্যবসায় রূপ নিতে পারবে, যা ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে টেকসই।
মূল তথ্য
- ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া বছরে জাপান এন্টারটেইনমেন্ট ১ হাজার ৩০ কোটি ইয়েন বিক্রির বিপরীতে ৮৯০ কোটি ইয়েন নিট লোকসান করেছে।
- মূল প্রতিষ্ঠান জাপান এন্টারটেইনমেন্ট হোল্ডিংস প্রায় ১ হাজার ৭৩০ কোটি ইয়েন নিট লোকসান দেখানো হিসাব অনুমোদন করেছে।
- পাশের স্পা-সহ উদ্বোধনী পর্বে দর্শনার্থী ছিলেন ৯ লাখ ৫৬ হাজার। দ্বিতীয় বছরের পূর্বাভাস ৬ লাখ ৩৮ হাজার।
- পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি ৩০০ কোটি ইয়েনের ব্রিজ ফাইন্যান্সিং চুক্তি করেছে এবং নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজছে।
- সেবার ঘাটতি এবং দর্শনার্থী কমার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন কাতো।
- ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে বিনিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত এবং বসন্তের মধ্যে কাঠামোগত সংস্কার শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে ব্যবস্থাপনার।






