কয়েকশ কোটি ডলারের পণ্য ঝুঁকিতে থাকায় বাণিজ্য আলোচনা শুরু
ভারত ও মেক্সিকো অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করেছে। এর ফলে শুল্ক ছাড় পাওয়ার সম্ভাব্য পথ খুলেছে। এর আগে মেক্সিকো ভারতসহ যেসব দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থা নেই, সেসব দেশের ১,৪৬৩টি পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
সূচিপত্র
- কয়েকশ কোটি ডলারের পণ্য ঝুঁকিতে থাকায় বাণিজ্য আলোচনা শুরু
- মেক্সিকোর শুল্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ
- আলোচনার কাঠামোতে কী রয়েছে
- যানবাহন খাতে ভারতের বড় বাণিজ্যিক স্বার্থ
- দুই সময়কালের বাণিজ্যে ভারসাম্যের চিত্র
- ভারতের বাজারে সুযোগ চায় মেক্সিকো
- নির্বাচিত পণ্যে কি আগেই ছাড় মিলতে পারে?
- এই পর্যায়ে পৌঁছাল যেভাবে
- মূল বিষয়গুলো
ভারতের বাণিজ্যসচিব রাজেশ আগরওয়াল এবং মেক্সিকোর বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক উপসচিব লুইস রোসেন্দো গুতিয়েরেস রোমানো মেক্সিকো সিটিতে আলোচনার কার্যপরিধি সই করেন। এতে আলোচনার সীমা, বিষয় ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। কোন পণ্যগুলো ভালো বাজারসুবিধা পাবে এবং কী শর্তে পাবে, তা আলোচকেরা ঠিক না করা পর্যন্ত এখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অপেক্ষা করতে হবে।
এ আলোচনার গুরুত্ব অনেক। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ভারত মেক্সিকোতে ৫৭৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে যানবাহনের মূল্য ছিল ১৯২ কোটি ডলার। মেক্সিকোও ভারতে নিজেদের পণ্য ও ব্যবসার জন্য আরও বিস্তৃত সুযোগ চায়। ফলে দুই দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে চুক্তি সইয়ের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছে:
পারস্পরিকভাবে লাভজনক ও ভারসাম্যপূর্ণ একটি পিটিএ নিয়ে আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো এই চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে। এর ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়তে পারে, ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে, বিনিয়োগ প্রবাহ জোরদার হতে পারে এবং স্থিতিস্থাপক ও বহুমুখী সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে অবদান রাখা সম্ভব হতে পারে।
এই উদ্যোগের সূত্রপাত ২০২৫ সালের জুনে কানাডায় জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের বৈঠক থেকে। দুই নেতা সম্পর্ক আরও গভীর করতে সম্মত হন। এখন তাদের সরকার রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে বাণিজ্য পরিচালনার বাস্তব নিয়ম নিয়ে আলোচনায় রূপ দিচ্ছে।
মেক্সিকোর শুল্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ
মেক্সিকো ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি শুল্কগুলো কার্যকর করে। অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা নেই এমন বাণিজ্য অংশীদারদের ১,৪৬৩টি পণ্যে এই শুল্ক প্রযোজ্য। ফলে মেক্সিকোর সীমান্তে বেশি শুল্কের মুখে পড়া ব্যবসাগুলোর মধ্যে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরাও রয়েছেন।
কোনো পণ্য একটি দেশে প্রবেশের সময় যে কর দিতে হয়, সেটিই শুল্ক। সাধারণত আমদানিকারক এই কর দেন, তবে লেনদেনজুড়ে এর প্রভাব ছড়াতে পারে: ক্রেতাকে বেশি দাম দিতে হতে পারে, রপ্তানিকারক কম মুনাফায় রাজি হতে পারেন, অথবা ক্রেতারা অন্য সরবরাহকারী বেছে নিতে পারেন। পণ্য, শুল্কের হার এবং ক্রেতাদের বিকল্পের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে।
মেক্সিকোতে ভারতের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে যানবাহন, বস্ত্র, জুতা, প্লাস্টিক, ইস্পাত, রাসায়নিক ও খেলনা। প্রস্তাবিত চুক্তির মাধ্যমে নির্বাচিত পণ্যে শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। তবে ফল নির্ভর করবে দুই সরকার কোন পণ্যের তালিকা ও শর্তে সম্মত হয় তার ওপর।
চলতি অর্থবছরের আগস্ট পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেক্সিকোতে ভারতের রপ্তানি প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। শুল্ক পরিবর্তনের কারণে রপ্তানিকারকেরা ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করলেও এই প্রবৃদ্ধি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ককে তুলে ধরে।
আলোচনার কাঠামোতে কী রয়েছে
আগরওয়ালের সফরের আয়োজন চলার সময়, আনুষ্ঠানিক সইয়ের তিন মাসেরও বেশি আগে ভারত ও মেক্সিকো আলোচনার কার্যপরিধি চূড়ান্ত করেছিল। সইয়ের মাধ্যমে সম্মত কাঠামোটি আনুষ্ঠানিক আলোচনাপ্রক্রিয়ায় রূপ নেয়।
অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বা পিটিএতে সাধারণত নির্বাচিত পণ্যকে উন্নত বাণিজ্যিক শর্ত দেওয়া হয়। এর আওতা সাধারণত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির তুলনায় সীমিত। কোম্পানিগুলোর কাছে এর গুরুত্ব নির্ভর করে বিস্তারিত বিষয়ের ওপর: কোন পণ্য যোগ্য হবে, শুল্ক কতটা কমবে এবং কী কাগজপত্র লাগবে।
কাঠামোর আওতায় রয়েছে এই প্রধান ক্ষেত্রগুলো:
- পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার, যার মধ্যে রয়েছে প্রতিটি বাজারে পণ্য প্রবেশের শর্ত।
- উৎপত্তির নিয়ম, যা নির্ধারণ করে কোনো পণ্য অংশগ্রহণকারী দেশের পণ্য হিসেবে যোগ্য কি না।
- শুল্কপ্রক্রিয়া ও বাণিজ্য সহজীকরণ, যার আওতায় সীমান্ত পেরিয়ে পণ্য পরিবহনের প্রক্রিয়াগুলো রয়েছে।
- খাদ্যনিরাপত্তা এবং প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত শর্ত।
- বাণিজ্যে কারিগরি বাধা, যার মধ্যে রয়েছে পণ্যের মান ও শর্তপূরণের নিয়ম।
- বিরোধ নিষ্পত্তি ও বাণিজ্য প্রতিকার, যা মতবিরোধ এবং ক্ষতিকর আমদানি প্রতিযোগিতার নির্দিষ্ট কিছু ধরন মোকাবিলা করে।
একাধিক দেশ থেকে যন্ত্রাংশ ব্যবহারকারী উৎপাদনকারীদের জন্য উৎপত্তির নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ হবে। কোনো চূড়ান্ত পণ্য অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে কী ধরনের উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রয়োজন, তা আলোচকদের নির্ধারণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আমদানি করা যন্ত্রাংশ দিয়ে সংযোজিত কোনো যানবাহনকে নির্ধারিত উৎপাদন বা মূল্যসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হতে পারে।
যানবাহন খাতে ভারতের বড় বাণিজ্যিক স্বার্থ
২০২৫–২৬ সালে মেক্সিকোতে ভারতের যানবাহন রপ্তানির মূল্য ছিল ১৯২ কোটি ডলার, যা মোট ৫৭৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। যানবাহন ও গাড়ির যন্ত্রাংশ, সেই সঙ্গে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম, ভারতের মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেক ছিল।
এই খাতগুলোর উৎপাদনকারীদের আলোচনার ফল হিসেবে নির্ধারিত শুল্কতালিকা ও শুল্কবিধিতে সরাসরি স্বার্থ রয়েছে। কম শুল্ক ক্রেতার কাছে প্রস্তাবিত দামকে প্রভাবিত করতে পারে। আর সীমান্তে পূর্বানুমানযোগ্য প্রক্রিয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে পণ্য সরবরাহ ও উৎপাদনের পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে।
২০২৪ সালের বাণিজ্য বিভাজনেও দেখা যায়, ভারতের নানা ধরনের পণ্য ইতিমধ্যে মেক্সিকোতে পৌঁছেছে। হালকা যানবাহনের মূল্য ছিল ৮৮ কোটি ডলার, মোটরসাইকেলের ৩৯ কোটি ডলার, মৌলিক ধাতুর ৭৬ কোটি ডলার এবং গাড়ির যন্ত্রাংশের ৭৪ কোটি ডলার।
এই চার শ্রেণির মোট মূল্য ছিল ২৭৭ কোটি ডলার, যা ওই বছর ভারতের ৫৭৩ কোটি ডলারের রপ্তানির প্রায় অর্ধেক। এসব পরিসংখ্যানে বোঝা যায়, আলোচনা শুধু তৈরি গাড়িতে সীমিত নয়; এতে যন্ত্রাংশ, শিল্প উপকরণ এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত অন্যান্য উপকরণও রয়েছে।
দুই সময়কালের বাণিজ্যে ভারসাম্যের চিত্র
২০২৫–২৬ অর্থবছরে ভারত ও মেক্সিকোর পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৮৩ কোটি ডলার। ভারতের রপ্তানি ছিল ৫৭৩ কোটি ডলার, আর দেশটি ৩৬৩ কোটি ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেক্সিকো থেকে ভারতের আমদানি ছিল প্রায় ২১০ কোটি ডলার।
কোনো দেশ তার অংশীদারের কাছ থেকে যত পণ্য কেনে, তার চেয়ে বেশি পণ্য বিক্রি করলে তাকে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বলা হয়। এ ক্ষেত্রে ভারত বেশি পণ্য বিক্রি করেছে। তাই মেক্সিকোর বাজারে প্রবেশাধিকার ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪ পঞ্জিকাবর্ষের ক্ষেত্রে ভারতের বাণিজ্যিক গোয়েন্দা ও পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের নামে উদ্ধৃত পরিসংখ্যানে দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ৮৭৪ কোটি ডলার বলা হয়েছে। ভারত ৫৭৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি এবং ৩০১ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এতে উদ্বৃত্ত হয়েছে ২৭২ কোটি ডলার।
দুই সেট পরিসংখ্যানে সময়কাল আলাদা: পঞ্জিকাবর্ষ ২০২৪-এর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর, আর ভারতের অর্থবছর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ। উভয় ক্ষেত্রেই ভারতের রপ্তানি আমদানির চেয়ে বেশি। তবে অর্থবছরের পরিসংখ্যানে উদ্বৃত্তের পরিমাণ বেশি দেখা যায়।
ভারতের বাজারে সুযোগ চায় মেক্সিকো
অর্থনীতিবিষয়ক সচিব মার্সেলো এবরার্দ কাসাউবনের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন মেক্সিকোর গুতিয়েরেস রোমানো। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর এবং দুই দেশের উৎপাদন খাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার উপায় নিয়ে প্রতিনিধিদলগুলো আলোচনা করে।
প্রস্তাবিত চুক্তিতে স্পষ্টভাবে ভারতের বাজারে মেক্সিকোর পণ্য ও ব্যবসার জন্য আরও বিস্তৃত সুযোগের কথা বলা হয়েছে। ভারতের চাহিদায় মেক্সিকোর আগ্রহের পাশাপাশি মেক্সিকোতে রপ্তানির জন্য আরও অনুকূল শর্ত নিশ্চিত করতে চায় ভারত।
দুই সরকার সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে গাড়ি, রাসায়নিক, ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, কৃষি ও খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং উন্নত উৎপাদন খাতকে চিহ্নিত করেছে।
বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে মেক্সিকোর সংযোগ ভারতীয় রপ্তানিকারক ও বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খল হলো একাধিক দেশে বিস্তৃত উৎপাদন নেটওয়ার্ক, যেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে উপকরণ সরবরাহ, যন্ত্রাংশ তৈরি বা চূড়ান্ত পণ্য সংযোজন করা হয়। সহযোগিতার আওতায় মেক্সিকোর ক্রেতাদের কাছে সরাসরি বিক্রির পাশাপাশি এসব নেটওয়ার্কে পণ্য সরবরাহও থাকতে পারে।
খাদ্য রপ্তানিকারক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদকেরাও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শর্ত এবং কারিগরি মান নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী হবেন। শুল্ক কমালে সীমান্ত করের ওপর প্রভাব পড়ে; অন্য নিয়মগুলো নির্ধারণ করে কোনো পণ্য বাজারে প্রবেশ ও বিক্রির জন্য কী শর্ত পূরণ করতে হবে।
নির্বাচিত পণ্যে কি আগেই ছাড় মিলতে পারে?
মেক্সিকো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য একটি ব্যবস্থায় আগ্রহ দেখিয়েছে। এ ব্যবস্থায় বিস্তৃত আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচিত কিছু পণ্যে ছাড় দিতে দুই দেশ সম্মত হতে পারে। এর ফলে ছোট একটি পদক্ষেপের প্যাকেজ আগে কার্যকর করা সম্ভব হবে।
আগাম প্যাকেজে কোন পণ্য থাকবে, শুল্ক কতটা কমবে এবং তা কখন কার্যকর হবে, তা নিয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে। বিস্তৃত চুক্তি শেষ করার কোনো সময়সীমাও ঘোষণা করা হয়নি। তাই সাশ্রয়ের হিসাব করতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চূড়ান্ত পণ্যের তালিকা ও বাস্তবায়নের তারিখ জানা দরকার।
২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে মেক্সিকোর একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল ভারত সফর করতে পারে—এ নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে। প্রস্তাবিত এই সফরে ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করতে এবং উৎপাদকদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে একত্র হবেন।
মেক্সিকোর সঙ্গে ভারতের আলোচনা লাতিন আমেরিকায় বাণিজ্যিক উপস্থিতি বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। নয়াদিল্লি চিলি, পেরু এবং ব্রাজিলের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের মারকোসুর জোটের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে।
এই পর্যায়ে পৌঁছাল যেভাবে
নেতাদের বৈঠক, মেক্সিকোর শুল্ক পরিবর্তন এবং পরিকল্পিত ব্যবসায়িক যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় এই আলোচনা এগিয়েছে। প্রধান ধাপগুলো হলো:
- জুন ২০২৫: কানাডায় জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও শেইনবাউম বৈঠক করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হন।
- ১ জানুয়ারি ২০২৬: অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থা নেই এমন দেশগুলোর ১,৪৬৩টি পণ্যে মেক্সিকো শুল্ক আরোপ করে।
- ২০২৬: আনুষ্ঠানিকভাবে সইয়ের তিন মাসেরও বেশি আগে দুই সরকার আলোচনার শর্ত চূড়ান্ত করে।
- অক্টোবর ২০২৬: মেক্সিকো সিটিতে আলোচনার কার্যপরিধি সই হয় এবং আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
- জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৭: মেক্সিকোর একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের ভারত সফরের বিষয়টি বিবেচনাধীন।
আলোচনার পরবর্তী বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তগুলো নির্ধারণ করবে কোন পণ্য চুক্তির আওতায় থাকবে, শুল্ক কতটা কমবে এবং ছাড় পেতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কী নিয়ম মানতে হবে। প্রস্তাবিত প্রতিনিধিদলের সফর সরকারি আলোচনার পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকে বাণিজ্যিক লেনদেনের সুযোগ তৈরির আরেকটি ক্ষেত্র দেবে।
মূল বিষয়গুলো
- ভারত ও মেক্সিকো অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে।
- অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা নেই এমন অংশীদারদের ১,৪৬৩টি পণ্যে মেক্সিকোর শুল্ক প্রযোজ্য; এর হার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ।
- ২০২৫–২৬ সালে ভারত মেক্সিকোতে ৫৭৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে যানবাহনের মূল্য ছিল ১৯২ কোটি ডলার।
- আলোচনায় শুল্ক, উৎপত্তির শর্ত, শুল্কপ্রক্রিয়া, নিরাপত্তা মান, কারিগরি বিধি এবং বিরোধ নিষ্পত্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- নির্বাচিত পণ্যে ছাড়ের একটি আগাম প্যাকেজে মেক্সিকো আগ্রহ দেখিয়েছে।
- ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে মেক্সিকোর একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের ভারত সফরের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।






