সম্ভাব্য ফ্লাইট পুনরায় চালু, অপেক্ষায় এখনও হাজারো যাত্রী
বাংলাদেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সৌদিয়া বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে ফ্লাইট পুনরায় চালু করতে পারে। সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধের কারণে ১৪৬টি সরাসরি ও সংযোগকারী ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে এবং ২২ হাজার ২৪১ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সূচিপত্র
- সম্ভাব্য ফ্লাইট পুনরায় চালু, অপেক্ষায় এখনও হাজারো যাত্রী
- ব্যাহত ১৪৬টি ফ্লাইটের হিসাব
- রিয়াদে কী খুলেছে, এবং কবে
- ঢাকা থেকে বিকল্প হিসেবে থাকছে জেদ্দা ও মদিনা
- রিয়াদগামী কিছু যাত্রায় এখন দীর্ঘ বাসযাত্রাও রয়েছে
- এয়ারলাইনগুলোকে কী দিতে বলা হয়েছে
- নতুন হামলায় বিমানবন্দর খোলার প্রক্রিয়া জটিল
- বিস্তৃত সংঘাতের প্রভাব বেসামরিক ভ্রমণেও
- যাত্রীদের যে তারিখগুলো খেয়াল রাখা উচিত
- এক নজরে
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) ২৭ অক্টোবর জানায়, প্রস্তাবিত ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়া পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার ওপর নির্ভর করছে। এ ঘোষণায় যাত্রীদের সৌদি রাজধানীতে ফেরার একটি সম্ভাব্য পথের কথা বলা হয়েছে। তবে অন্য এয়ারলাইনগুলো তাদের ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে অথবা বিকল্প বিমানবন্দরে সরিয়ে নিয়েছে।
সৌদিয়ার তথ্যের বরাত দিয়ে সিএএবি বাংলাদেশের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভাগ করা এক বিবৃতিতে সম্ভাব্য ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে জানায়:
সবকিছু ঠিক থাকলে, আশা করি, ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল থেকে সৌদিয়া এয়ারলাইনস রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করবে,
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই দুই রুটের ফ্লাইট বাতিল করেছে। জরুরি ভ্রমণের জন্য উভয় সংস্থাই যাত্রীদের সৌদি আরবের অন্য গন্তব্য ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর ২৫ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুনরায় খুলতে শুরু করে। কিছু উড়োজাহাজ ছেড়ে গেলেও নির্ধারিত অনেক ফ্লাইট বাতিল ছিল। বিমানবন্দরটি খোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন আরেকটি হামলার দাবি করে।
যাত্রীদের এখনই তাদের এয়ারলাইনের সঙ্গে নির্দিষ্ট ফ্লাইট, বিমানবন্দর ও যাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। রিয়াদের জন্য বিক্রি হওয়া কিছু যাত্রায় এখন অন্য কোথাও অবতরণ করে বাসে করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। একই নিরাপত্তা সংকটের সময়ে সৌদিয়ার ২৮ অক্টোবর ফ্লাইট ফের চালুর সম্ভাবনা এবং অন্য এয়ারলাইনগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্থগিতাদেশ তাদের ভিন্ন পরিচালনাগত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন।
ব্যাহত ১৪৬টি ফ্লাইটের হিসাব
সিএএবির এএসএম ফ্লাইট ম্যানেজমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ৬৯টি সরাসরি এবং ৭৭টি সংযোগকারী ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। সৌদি বিমানবন্দরে বিধিনিষেধের মধ্যে বাতিল বা স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলো নিয়ে স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব এ তথ্য জানান।
সংযোগকারী ফ্লাইটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ১৪৬টি ফ্লাইটের প্রায় ৫৩ শতাংশ, যা ৭৭টি সংযোগকারী ফ্লাইটের হিসাব থেকে পাওয়া যায়। ফলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি চলাচলকারী উড়োজাহাজের বাইরেও ভোগান্তি ছড়িয়েছে: অন্য কোনো দেশের মধ্য দিয়ে যাত্রা করা যাত্রীরাও নির্ধারিত সংযোগ হারিয়েছেন।
ব্যাহত সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা বিমানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি, ২৯টি। এরপর সৌদিয়ার ১৯টি, রিয়াদ এয়ারের ১১টি এবং ইউএস-বাংলার ১০টি। এই সংখ্যা যোগ করলে তালিকার সব ৬৯টি সরাসরি ফ্লাইটের হিসাব মেলে।
সংযোগকারী ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, এয়ার ইন্ডিয়া ও ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি করে, সালামএয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। ইন্ডিগোর ৩০টি ফ্লাইট ব্যাহত ৭৭টি সংযোগকারী ফ্লাইটের প্রায় ৩৯ শতাংশ।
২২ হাজার ২৪১ জন ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী তাদের বুকিং অনুযায়ী ভিন্ন সমস্যার মুখে পড়েছেন। সরাসরি ফ্লাইটের যাত্রীর বিকল্প ফ্লাইট বা অন্য গন্তব্যের বিমানবন্দর দরকার। কোনো হাব হয়ে যাত্রা করলে সংযোগকারী ফ্লাইটও নতুন করে ঠিক করতে হতে পারে। তাই পুরো যাত্রাপথ নিশ্চিত করা বিশেষভাবে জরুরি।
রিয়াদে কী খুলেছে, এবং কবে
২৫ অক্টোবর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনাল খুলে দেওয়া হয়। টার্মিনাল ১ অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য এবং টার্মিনাল ২ সৌদি এয়ারলাইনগুলোর পরিচালিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত হয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, ওই দিন ভোরে রিয়াদ থেকে একটি উড়োজাহাজ জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটেও অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের তালিকা ছিল; এর মধ্যে দুবাই, প্যারিস ও কায়রো থেকে আসা ফ্লাইটও ছিল। তবে বাতিল অব্যাহত ছিল।
আংশিকভাবে বিমানবন্দর খোলার সময়ও এয়ারলাইনগুলোর বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকার চিত্র প্রধান তারিখগুলোতে দেখা যায়:
- ১০ অক্টোবর: সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হন।
- ১২ অক্টোবর: সৌদি বিমানবন্দরের বিঘ্নে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের অবহিত ও সহায়তা করার জন্য এয়ারলাইনগুলোকে নির্দেশনা দেয় সিএএবি।
- ১৬ অক্টোবর: ঢাকা ও জেদ্দার মধ্যে দিনে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে বিমান।
- ২৫ অক্টোবর: প্রায় দুই সপ্তাহ পর রিয়াদ বিমানবন্দর খুলতে শুরু করে; একই দিন নতুন হামলার দাবি করে হুথিরা।
- ২৭ অক্টোবর: বাংলাদেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, সৌদিয়া ২৮ অক্টোবর রিয়াদে ফ্লাইট পুনরায় চালু করতে পারে।
- ৩১ অক্টোবর ও ৪ নভেম্বর: রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে যথাক্রমে ইউএস-বাংলা ও বিমানের ঘোষিত স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হবে।
কোন ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব, তা প্রতিটি এয়ারলাইনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। টার্মিনাল খুললে যাত্রীদের সেবা দেওয়ার জায়গা তৈরি হয়; তবে প্রতিটি ফ্লাইটের ছাড়ার বিষয়টি পরিচালনাগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
ঢাকা থেকে বিকল্প হিসেবে থাকছে জেদ্দা ও মদিনা
বিমানের ২৫ অক্টোবরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি আরবে যাতায়াতকারীদের রিয়াদ ও দাম্মামের ফ্লাইট স্থগিত থাকা অবস্থায় জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা–জেদ্দা রুটে দিনে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং জানিয়েছে, এ ব্যবস্থা ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ দিয়ে ঢাকা–মদিনা রুটেও নিয়মিত ফ্লাইট চলছে।
ইউএস-বাংলার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানান, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ফ্লাইট বাতিল করেছে এয়ারলাইনটি। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত বা ভিসাসংক্রান্ত সমস্যায় থাকা যাত্রীরা জেদ্দা হয়ে যেতে পারবেন, যেখানে তাদের ফ্লাইট চালু রয়েছে।
বিকল্প যেকোনো বিমানবন্দর বেছে নিলে যাত্রীদের সেখান থেকে চূড়ান্ত গন্তব্যে যাওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনায় নিতে হবে। জেদ্দা বা মদিনার টিকিটে যাত্রীরা সৌদি আরবে প্রবেশের স্থান বদলে ফেলেন। তাই পরবর্তী যাতায়াত ও সময়সূচিও ভ্রমণ পরিকল্পনার অংশ হয়ে যায়।
টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলেছে বিমান। পরবর্তী সময়সূচি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।
রিয়াদগামী কিছু যাত্রায় এখন দীর্ঘ বাসযাত্রাও রয়েছে
রিয়াদ-সংশ্লিষ্ট কিছু ফ্লাইট সৌদিয়া দাম্মাম ও আল কাসিম হয়ে পরিচালনা করছে। টিকিটের মধ্যে বিমানবন্দর ও রাজধানীর মধ্যে এয়ারলাইন-ব্যবস্থাপিত বাসে যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আল কাসিম রিয়াদের প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।
রিয়াদ এয়ারও কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আল কাসিমে সরিয়ে নিয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা, কায়রো, জেদ্দা, লন্ডনের হিথ্রো, লাহোর ও ইসলামাবাদ রুটের ফ্লাইটগুলো ওই বিমানবন্দর দিয়ে পরিচালিত হবে বলে তাদের তালিকায় রয়েছে।
রিয়াদ এয়ারের এসব ফ্লাইটে রিয়াদ থেকে যাত্রা করা যাত্রীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল দুররাত আল রিয়াদ হোটেলে চেক-ইন করে বিনা মূল্যের বাসে আল কাসিম যেতে পারবেন। এয়ারলাইনটির হিসাবে, বাসযাত্রায় প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা লাগে।
নির্ধারিত ফ্লাইট ছাড়ার আট ঘণ্টা ১৫ মিনিট আগে হোটেলে চেক-ইন শুরু হয় এবং উড্ডয়নের ছয় ঘণ্টা ৩০ মিনিট আগে বন্ধ হয়। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আল কাসিমে যাওয়া যাত্রীদের ফ্লাইট ছাড়ার অন্তত তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এসব ব্যবস্থায় নির্ধারিত মিলনস্থল ও বাস ছাড়ার সময় বুকিংয়ের অত্যাবশ্যক অংশ। কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করবেন বলে আশা করা কোনো যাত্রীকে এর বদলে কয়েক ঘণ্টা আগে হোটেলে হাজির হতে হতে পারে। প্রকৃত বিমানবন্দর ও যাতায়াতের ব্যবস্থা জানতে এয়ারলাইনগুলো যাত্রীদের বুকিংয়ের নির্দেশনা যাচাই করতে বলেছে।
এয়ারলাইনগুলোকে কী দিতে বলা হয়েছে
সিএএবির ১২ অক্টোবরের নির্দেশনায় সৌদি আরবে সরাসরি ও সংযোগকারী ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনগুলোকে বিমানবন্দর বন্ধ, বিলম্ব, ফ্লাইট বাতিল ও সময়সূচির পরিবর্তন সম্পর্কে দ্রুত যাত্রীদের জানাতে বলা হয়।
এয়ারলাইনগুলোকে এসএমএস, ফোনকল, ইমেইল, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য উপলভ্য মাধ্যম ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। বার্তায় সংশোধিত যাত্রার সময় এবং পুনরায় বুকিং বা অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করতে হবে। বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ফ্লাইট নিশ্চিত করার পরামর্শও দিতে হবে।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে খাবার, পানীয় জল, হালকা খাবার, চিকিৎসা সহায়তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে এয়ারলাইনগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে সিএএবি। বয়স্ক যাত্রী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।
সহায়তা, ফ্লাইটের হালনাগাদ তথ্য ও পরিচালনাগত ব্যবস্থা সমন্বয়ের জন্য পর্যাপ্ত কর্মীসহ একজন নির্দিষ্ট যোগাযোগ-ব্যক্তি নিয়োগ করতেও প্রতিটি এয়ারলাইনকে বলা হয়েছে। কোনো ফ্লাইট বাতিল হলে এবং যাত্রীদের সহায়তা প্রয়োজন হলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যেন নির্ধারিত একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, তা এতে নিশ্চিত হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে বিঘ্নের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া বা অন্য অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যায় থাকা যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় সৌদি দূতাবাস ও অন্যান্য উপযুক্ত সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট পরিবর্তন এবং অবস্থানের অনুমতির মেয়াদ বাড়ানো পৃথক প্রক্রিয়া। তাই যাত্রীদের এয়ারলাইন ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ উভয়ের সহায়তা লাগতে পারে।
নতুন হামলায় বিমানবন্দর খোলার প্রক্রিয়া জটিল
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, কার্যক্রম ফের শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর ২৫ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দরে আরেকটি হামলা চালায় গোষ্ঠীটি। বাসিন্দাদের শত্রুপক্ষের আকাশপথে হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল এবং রাজধানীতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
এক বিবৃতিতে সারি হামলার দাবি জানিয়ে বলেন:
দশকের পর দশক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তিনটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে,
বিমানবন্দরে নতুন হামলার দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হামলার সময় অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং এলাকাটিতে দুটি ড্রোন প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছে তারা।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজন আহত হয়েছেন এবং ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকাশে ধেয়ে আসা অস্ত্র ধ্বংস করা গেলেও বিপজ্জনক ধ্বংসাবশেষ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পড়তে পারে।
দাম্মামেও প্রাণঘাতী বিমানবন্দর হামলা হয়েছে। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন সৌদি নাগরিক ও একজন ভারতীয় বাসিন্দা নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। এর আগের ৪৮ ঘণ্টায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে দাম্মাম বিমানবন্দরও ছিল বলে হুথিরা জানিয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, অক্টোবরের শুরু থেকে সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ অক্টোবর রিয়াদে হামলায় নিহত ১৩ জনও রয়েছেন। ওই হামলায় ৩০৮ জন আহত হন।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে জানিয়েছে, প্রতিহত করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ শাইবাহ তেলক্ষেত্রের আরামকোর একটি প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনার কাছে পড়ে ফিলিপাইন ও নেপালের দুই বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। দাম্মাম বিমানবন্দরের হামলার স্থান থেকে দূরে এ ঘটনা ঘটে।
বিস্তৃত সংঘাতের প্রভাব বেসামরিক ভ্রমণেও
বিমানবন্দরে বিঘ্নের পেছনে রয়েছে হুথি ও সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া লড়াই। কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি জুলাইয়ে ভাঙতে শুরু করে। এরপর বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও নৌপরিবহনে হামলা হয়।
হুথিরা বলছে, সৌদি হামলা এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডে বিধিনিষেধের জবাবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে বিমান অভিযান চালিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
৫ অক্টোবর রিয়াদে জরুরি বৈঠকের পর সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরুর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। মক্কা চুক্তি সক্রিয় করার পরিকল্পনার মধ্যে সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা সৌদি আরবে মোতায়েনের বিষয়ও ছিল। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, পাকিস্তান ও তুরস্কের ভূমিকা সহায়তামূলক হবে এবং সৌদি বাহিনী যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করবে।
সৌদি আরবে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রাখতেও সম্মত হয়েছে গ্রিস। রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় শুরুর সময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস। লোহিত সাগরের তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবুতে গ্রিক ব্যাটারি মোতায়েন রয়েছে।
এই বিঘ্ন সাধারণ বিমান চলাচলের সময়সূচির বাইরেও প্রভাব ফেলেছে। সৌদি আরবের প্রধান বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। সংঘাতের মধ্যে বাতিল, স্থগিত বা স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে প্রভাবিত বড় আয়োজনগুলোর মধ্যে ডাকারের র্যালিও রয়েছে।
যাত্রীদের যে তারিখগুলো খেয়াল রাখা উচিত
ঢাকা–রিয়াদ রুটের যাত্রীদের জন্য সম্ভাব্য নিকটতম পরিবর্তন হলো সৌদিয়ার ২৮ অক্টোবর ফ্লাইট পুনরায় চালুর পরিকল্পনা। ২৭ অক্টোবরের ঘোষণায় প্রকৃতপক্ষে কোন কোন ফ্লাইট চলবে, তা নিশ্চিত হওয়া বাকি ছিল।
অন্য এয়ারলাইনগুলো পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছে। ফ্লাইদুবাই ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে, ইতিহাদ ৫ নভেম্বর পর্যন্ত আবুধাবি–রিয়াদ ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং এমিরেটস ৮ নভেম্বর রিয়াদে ফ্লাইট ফের চালুর সময়সূচি দিয়েছে। এয়ার অ্যারাবিয়ার শারজাহ রুট স্থগিত রয়েছে, তবে ফ্লাইট ফের চালুর তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
বাংলাদেশ থেকে যাত্রা করা যাত্রীদের জন্য রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ইউএস-বাংলার ৩১ অক্টোবর এবং বিমানের ৪ নভেম্বরের স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ গুরুত্বপূর্ণ। বিমানের বর্ধিত জেদ্দা সূচিও ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।
সংযোগকারী টিকিট থাকা যাত্রীদের যাত্রার প্রতিটি ধাপ, প্রকৃত ব্যবহৃত বিমানবন্দর, বাসে স্থানান্তরের ব্যবস্থা এবং সংযোগকারী ফ্লাইট মিস হলে করণীয় জেনে নেওয়া উচিত। যাদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, তাদের পুনরায় বুকিং বা অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা জানতে এয়ারলাইন বা বুকিং এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
এক নজরে
- পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে সৌদিয়া ২৮ অক্টোবর ঢাকা–রিয়াদ ফ্লাইট পুনরায় চালু করতে পারে।
- বাংলাদেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২২ হাজার ২৪১ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ১৪৬টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে।
- এ হিসাবের মধ্যে ৬৯টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৭৭টি সংযোগকারী ফ্লাইট রয়েছে।
- রিয়াদ ও দাম্মামে বিমানের ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত; ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বাতিল চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
- জেদ্দা ও মদিনা বিকল্প হিসেবে রয়েছে; রিয়াদের কিছু বুকিংয়ে আল কাসিম বা দাম্মাম হয়ে বাসে যেতে হচ্ছে।
- সিএএবি এয়ারলাইনগুলোকে ফ্লাইটের হালনাগাদ তথ্য, পুনরায় বুকিং ও অর্থ ফেরতের তথ্য এবং আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
- যাত্রার আগে যাত্রীদের ফ্লাইট, প্রকৃত বিমানবন্দর ও স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।






