SDB ব্যাংক ঋণবিতর্কে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় এল বেসরকারি ব্যাংক
শ্রীলঙ্কার তথ্য অধিকার কমিশন রায় দিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা পর্ষদের জারি করা লাইসেন্সের অধীনে পরিচালিত কোনো বেসরকারি ব্যাংক তথ্য অধিকার আইন, ২০১৬ সালের ১২ নম্বর আইনে ‘সরকারি কর্তৃপক্ষ’-এর সংজ্ঞার আওতায় পড়ে। SANASA Development Bank PLC কীভাবে তাঁর ঋণের সুদের হার পর্যালোচনা করেছে, সে বিষয়ে এক গ্রাহকের তথ্য চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত আসে।
সূচিপত্র
গ্রাহক উদারা রানাসিংহের করা আপিল নম্বর RTC/Appeal/1005/2025-এ কমিশন ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এ সিদ্ধান্ত দেয়। কোম্পানি আইন, ২০০৭ সালের ৭ নম্বর আইনের অধীনে নিবন্ধিত হওয়ায় তথ্য অধিকার আইন তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়—SDB ব্যাংকের এই যুক্তি কমিশন নাকচ করে দেয়।
কমিশনের এই রায় ঋণগ্রহীতাদের এমন একটি আইনি সংজ্ঞার দিকে মনোযোগ দেওয়ার বাস্তব কারণ দিয়েছে, যা অন্যথায় দূরবর্তী বিষয় বলে মনে হতে পারে। কোনো ব্যাংক সরকারি কর্তৃপক্ষ হিসেবে গণ্য হবে কি না, তার ওপর নির্ভর করে নাগরিকেরা তথ্য অধিকার আইনে ব্যাংকের কাছে থাকা তথ্য চাইতে পারবেন কি না; তবে ওই আইনের অব্যাহতির বিধান প্রযোজ্য থাকবে।
রানাসিংহের ক্ষেত্রে বিষয়টি শুরু হয়েছিল তাঁর নিজের ঋণের খরচ নিয়ে। তাঁর আবেদনটি ছিল ঋণের সুদের হার কীভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে। এরপর আপিলে কমিশনকে আরও বিস্তৃত একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়: ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রকের লাইসেন্সধারী একটি বেসরকারি ব্যাংককে তথ্য অধিকার আইনের অধীনে করা অনুরোধের জবাব দিতে হবে কি না।
গ্রাহক কী জানতে চেয়েছিলেন, ব্যাংক কী জবাব দিয়েছিল
রানাসিংহ তাঁর ঋণে প্রযোজ্য সুদের হার পর্যালোচনার বিষয়ে তথ্য চেয়েছিলেন। ৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে SDB ব্যাংক তাঁকে ইমেইলে জবাব দেয়। তবে তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে তিনি কমিশনে আপিল করেন।
আপিলের শুনানিতে ব্যাংক জানায়, চার দফায় ইমেইলের মাধ্যমে তারা তথ্য দিয়েছে। ২০০৭ সালের কোম্পানি আইনের অধীনে কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার যুক্তিতে ব্যাংকটি আরও প্রশ্ন তোলে, তথ্য অধিকার আইন আদৌ তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না।
তাই বিরোধে যেমন সরবরাহ করা তথ্যে গ্রাহকের অসন্তুষ্টির বিষয় ছিল, তেমনি ছিল ব্যাংকের আইনি মর্যাদার প্রশ্নও। জবাব পাঠানো আর আইনগতভাবে তথ্য দিতে বাধ্য থাকা এক বিষয় নয়। ব্যাংকটি আইনের সংজ্ঞার আওতায় পড়ে বলে সিদ্ধান্ত দিয়ে কমিশন দ্বিতীয় বিষয়টির মীমাংসা করে।
ঋণের পরিমাণ, প্রযোজ্য সুদের হার, চারটি ইমেইলের বিস্তারিত বিষয়বস্তু এবং আরও কোনো তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না—সিদ্ধান্তের বিবরণে এসব উল্লেখ করা হয়নি। ব্যাংকের জবাব পাওয়ার পরও রানাসিংহ ঠিক কোন তথ্য চাইছিলেন, তা ব্যাখ্যা করতে এসব বিবরণ প্রয়োজন হবে।
ব্যাংকিং লাইসেন্স কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল
SDB ব্যাংক তার আপত্তির পক্ষে করপোরেট পরিচয়ের যুক্তি তুলে ধরে। ব্যাংকটির বক্তব্য ছিল, কোম্পানি আইনের অধীনে নিবন্ধিত হওয়ায় তথ্য অধিকার আইনে এটি সরকারি কর্তৃপক্ষ হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য নয়।
কমিশনের সিদ্ধান্ত ছিল ভিন্ন: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা পর্ষদের জারি করা লাইসেন্সের অধীনে পরিচালিত একটি বেসরকারি ব্যাংক আইনের সংজ্ঞার আওতায় পড়ে। সিদ্ধান্তের বিবরণে বলা হয়েছে, কমিশনের যুক্তিতে ব্যাংকিং লাইসেন্সই ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
সহজ কথায়, কোনো কোম্পানির মালিকানা বেসরকারি হলেও তথ্যপ্রাপ্তি-সংক্রান্ত আইনের অধীনে তার দায়িত্ব থাকতে পারে। এখানে কমিশনের বিবেচনায়, কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া সত্ত্বেও লাইসেন্সধারী ব্যাংকিং কার্যক্রমের কারণে SDB ব্যাংক তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পড়েছে।
কমিশনের প্যানেলে ছিলেন চেয়ারম্যান দয়ারত্নে লঙ্কাপুরা এবং কমিশনার কিশালি পিন্টো-জয়বর্ধনে ও এ. মোহামেদ নাহিয়া। তাঁদের সিদ্ধান্তে ব্যাংকের আইনের আওতার বাইরে থাকার দাবি নাকচ করা হয় এবং নির্দিষ্ট ওই লাইসেন্সের অধীনে পরিচালিত বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগ স্পষ্ট করা হয়।
এই ক্ষেত্রে তথ্য জানার অধিকার যেভাবে কাজ করে
তথ্য অধিকার আইনের ৩(১) ধারায় প্রত্যেক নাগরিককে সরকারি কর্তৃপক্ষের দখলে, হেফাজতে বা নিয়ন্ত্রণে থাকা তথ্য পাওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে, তবে তা ৫ ধারার বিধান সাপেক্ষে। সহজভাবে বললে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা বা তার নিয়ন্ত্রণাধীন তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে; তবে কোন তথ্য প্রকাশ করা যাবে, তা আইনি ব্যতিক্রমগুলোর অধীন।
তথ্য অধিকার আইনের ৪৩ ধারায় কোন কোন প্রতিষ্ঠান সরকারি কর্তৃপক্ষ হিসেবে গণ্য হবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। (ঙ) উপদফায় কোম্পানি আইন, ২০০৭ সালের ৭ নম্বর আইনের অধীনে নিবন্ধিত এমন কোম্পানির কথা বলা হয়েছে, যার ২৫ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারের মালিক রাষ্ট্র, কোনো সরকারি করপোরেশন, অথবা রাষ্ট্র ও সরকারি করপোরেশন যৌথভাবে; কিংবা অন্য কোনোভাবে কোম্পানিটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এই বিধান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আইনের আওতা শুধু সরাসরি সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়।
(ছ) উপদফায় আলাদাভাবে এমন বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে, যা সরকার, তার সংস্থা বা কোনো স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চুক্তি, অংশীদারত্ব, সমঝোতা বা লাইসেন্সের অধীনে কোনো আইনগত বা জনস্বার্থমূলক কাজ বা সেবা পরিচালনা করে। তবে এ বিধান কেবল সেই আইনগত বা জনস্বার্থমূলক কাজ বা সেবার আওতাভুক্ত কার্যক্রমে প্রযোজ্য।
কমিশন SDB ব্যাংকের ক্ষেত্রে আইনের সংজ্ঞা প্রয়োগ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে লাইসেন্সধারী বেসরকারি ব্যাংকটি এর আওতায় পড়ে। কোনো নাগরিক তথ্য চাওয়ার ক্ষেত্রে এই শ্রেণিবিন্যাসই প্রথম ধাপ: এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় যে তথ্য অধিকার আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব রয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় ৫ ধারাও প্রাসঙ্গিক। তথ্যের অনুরোধ বিবেচনার সময় আইনের অব্যাহতির বিধানও প্রয়োগ করতে হবে। ফলে বাস্তব অবস্থান হলো, আইনের আওতাভুক্ত ব্যাংকের কাছে তথ্য চাওয়ার অধিকার রয়েছে; এরপর অনুরোধ করা নির্দিষ্ট তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান বিবেচনা করা হবে।
ঋণগ্রহীতাদের জন্য তথ্য চাওয়ার কারণটি তাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রানাসিংহ তাঁর নিজের ঋণের সুদের হার পর্যালোচনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। ফলে তাঁর আবেদনটি ব্যাংকিং-সংক্রান্ত সাধারণ তথ্যের দাবি না হয়ে একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে ছিল।
ইমেইল জবাব থেকে রায় পর্যন্ত ঘটনাক্রম
একজন গ্রাহক ও তাঁর ব্যাংকের মধ্যে আদান-প্রদান থেকে মামলাটি শ্রীলঙ্কার তথ্য অধিকার আইনের পরিধি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপিলে গড়ায়। গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও পর্যায়গুলো হলো:
- ৯ এপ্রিল ২০২৫: ঋণের সুদের হার পর্যালোচনা সম্পর্কে রানাসিংহের অনুরোধের জবাব ইমেইলে দেয় SDB ব্যাংক।
- এরপর: সরবরাহ করা তথ্যে অসন্তুষ্ট হয়ে রানাসিংহ তথ্য অধিকার কমিশনে আপিল করেন।
- আপিল চলাকালে: ব্যাংক জানায়, তারা চার দফায় ইমেইলে তথ্য দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তি দেয়, সরকারি কর্তৃপক্ষের সংজ্ঞায় তারা পড়ে না।
- ২১ অক্টোবর ২০২৬: আপিল নম্বর RTC/Appeal/1005/2025-এ ব্যাংকের মর্যাদা-সংক্রান্ত অবস্থান নাকচ করে কমিশন।
- ২৬ অক্টোবর ২০২৬: রায়ের বিবরণ প্রকাশ্যে আসে।
রানাসিংহের পক্ষে আইনজীবী মনোজা গুনাবর্ধনা এবং হিমাশি কুমারাতুঙ্গা উপস্থিত ছিলেন। SDB ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী কে.ডি. প্রেমারত্নে এবং বি.এম.পি. নয়নথারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাক্রম দেখায়, ঋণ নিয়ে সাধারণ একটি তথ্যের অনুরোধ কীভাবে জাতীয় আইনের ব্যাখ্যায় প্রভাব ফেলা সিদ্ধান্তের দিকে গড়াতে পারে। গ্রাহকের অসন্তুষ্টির কারণে বিষয়টি কমিশনে যায়। সেখানে ব্যাংকের আপত্তির জবাবে তথ্য অধিকার আইন প্রযোজ্য কি না, সে বিষয়ে রায় দিতে হয় কমিশনকে।
ঋণগ্রহীতা ও ব্যাংকের জন্য কী বদলাচ্ছে
সুদের হার পর্যালোচনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া ঋণগ্রহীতাদের জন্য এখন কমিশনের এমন একটি সিদ্ধান্ত রয়েছে, যাতে লাইসেন্সধারী বেসরকারি ব্যাংককে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় রাখা হয়েছে। এর বাস্তব গুরুত্ব হলো, তথ্য চাওয়া এবং জবাব চ্যালেঞ্জ করার প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া ব্যবহারের সুযোগ—যেমনটি রানাসিংহ করেছেন।
ঋণের ওপর যে সুদ ধার্য হয়, তা নির্ধারণ করে সুদের হার। হারটি কীভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে, তা বুঝতে পারলে গ্রাহক ঋণের খরচ সম্পর্কে ব্যাংকের ব্যাখ্যা অনুসরণ করতে এবং কোন সিদ্ধান্ত বা হিসাবটি ব্যাখ্যা করা দরকার তা নির্দিষ্ট করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা জানার এই প্রয়োজন থেকেই আপিলের সূত্রপাত হয়।
কমিশনের চিহ্নিত লাইসেন্স ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে আইনের অধীনে নিজেদের দায়িত্ব নির্ধারণে এই রায় বিবেচনায় নিতে হবে। SDB ব্যাংকের যুক্তির ভিত্তি ছিল কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন; আর কমিশনের সিদ্ধান্তের ভিত্তি ছিল আইনের সংজ্ঞা ও ব্যাংকটির লাইসেন্স।
এর বৃহত্তর তাৎপর্য হলো, গ্রাহকের আর্থিক প্রশ্ন থেকে তথ্য পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পথটি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত লাইসেন্সধারী বেসরকারি ব্যাংকিংকে সেই প্রক্রিয়ার আওতায় এনেছে; তবে প্রতিটি অনুরোধ করা নথিতে প্রবেশাধিকার আইনের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
মূল বিষয়গুলো
- তথ্য অধিকার কমিশন রায় দিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা পর্ষদের জারি করা লাইসেন্সের অধীনে পরিচালিত বেসরকারি ব্যাংক তথ্য অধিকার আইনে সরকারি কর্তৃপক্ষ হিসেবে গণ্য হবে।
- সিদ্ধান্তটি SDB ব্যাংকে উদারা রানাসিংহের ঋণের সুদের হার পর্যালোচনা সম্পর্কে তাঁর করা তথ্যের অনুরোধ নিয়ে।
- SDB ব্যাংক জানায়, চারটি ইমেইলে তারা তথ্য দিয়েছে। কোম্পানি আইনের অধীনে নিবন্ধিত হওয়ায় তথ্য অধিকার আইন তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলেও যুক্তি দেয় ব্যাংকটি।
- আপিল নম্বর RTC/Appeal/1005/2025-এ ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কমিশন ওই যুক্তি নাকচ করে দেয়।
- তথ্যে প্রবেশাধিকার আইনের ৫ ধারায় উল্লেখিত অব্যাহতির বিধান সাপেক্ষে থাকবে।






