বেতন কর্মসূচিতে বড় ব্যয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান বন্ধের পরিকল্পনা
সরকারি পরিষেবার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দক্ষ কর্মীদের আকৃষ্ট ও ধরে রাখতে বেশি অর্থ ব্যয়ের উদ্যোগের অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয় ৩৪টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে।
সূচিপত্র
- বেতন কর্মসূচিতে বড় ব্যয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান বন্ধের পরিকল্পনা
- ৩৪টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে?
- পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যালোচনা করছে কেন সরকার
- পেশাজীবীদের পদ শূন্য, নিম্নপদে কর্মীর আধিক্য
- বেতন বৃদ্ধি কীভাবে যোগ হচ্ছে
- শক্তিশালী সরকারি পরিষেবাই ঘোষিত লক্ষ্য
- পরিকল্পনার অংশ জরিপ সরঞ্জামও
- ব্যয়ের সিদ্ধান্তে অর্থনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব
- মূল বিষয়গুলো
বাত্তারামুল্লার ওয়াটারস এজে সরকারি সার্ভেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে দিসানায়েকে বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য বদলে যেতে পারে, সেগুলো পর্যালোচনা করে অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একীভূত করা হবে।
এই ঘোষণার পাশাপাশি বেতন খাতে বড় অঙ্কের ব্যয়ের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। দিসানায়েকে বলেন, ২০২৭ সালের বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করতে প্রায় ১১০ বিলিয়ন রুপি প্রয়োজন হবে। ২০২৫, ২০২৬ ও ২০২৭ সালজুড়ে সরকারি কর্মীদের মূল বেতন বৃদ্ধির তিন ধাপের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৭ সালে বার্ষিক বেতন ব্যয় ৩৩০ বিলিয়ন রুপি বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট এই দুই পদক্ষেপকে একই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন: সরকার যেসব প্রতিষ্ঠানকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে, সেগুলোর ব্যয় কমানো এবং একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সরকারি চাকরিগুলোকে যোগ্য পেশাজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা। তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক নিয়োগের ফলে নিম্নপদে অনেক পদ পূরণ হলেও পেশাজীবীদের পদ এখনো শূন্য রয়েছে।
কর্মচারী ও সরকারি পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল মানুষের কাছে বাস্তব প্রশ্ন হলো, পুনর্গঠন কীভাবে কার্যকর হবে। দিসানায়েকে স্বীকার করেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা জটিল এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে ভাতা দেওয়া হবে বলে জানান। তাঁর বক্তব্যে জনগণের কাছে সরকারি সম্পদ পৌঁছে দিতে শক্তিশালী জনপ্রশাসনের প্রয়োজনীয়তার কথাও গুরুত্ব পায়।
৩৪টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে?
দিসানায়েকে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় ৩৪টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নিয়েছে; বিষয়টি কেবল পর্যালোচনার প্রস্তাব নয়। তিনি জানান, সরকারের বৃহত্তর একীভূতকরণ পরিকল্পনার পাশাপাশি এই প্রক্রিয়া পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।
অপ্রয়োজনীয় বা অদক্ষ হিসেবে চিহ্নিত ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তি বা একীভূতকরণের বিষয়টিও কমিটির কাজের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের মূল ঘোষণায় ৩৪টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা নির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূত করার বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম, কমিটির সদস্য, বাছাইয়ের মানদণ্ড, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং সম্ভাব্য সাশ্রয়ের পরিমাণ জানানো হয়নি। প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে দেওয়া ভাতার অঙ্ক, কারা পাবেন এবং কীভাবে তা পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়েও কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জটিলতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দিসানায়েকে বলেন:
এগুলো বন্ধ করাও কঠিন, কারণ কাজটি অত্যন্ত জটিল।
কর্মীদের জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে ভাতা দেওয়ার বিষয়টি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত যে, কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতেও ব্যয় হবে। পরিবর্তন কার্যকর করার খরচ এবং ভবিষ্যৎ বাজেট থেকে বাদ পড়া ব্যয়ের ওপর নির্ভর করবে আর্থিক ফলাফল।
পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যালোচনা করছে কেন সরকার
দিসানায়েকের যুক্তি, কিছু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এমন প্রয়োজন মেটাতে গড়ে উঠেছিল, যা সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে। তিনি বলেন, কয়েকটি ক্ষেত্রে একসময় সরকারই ছিল একমাত্র সেবাদাতা, কিন্তু এখন বেসরকারি খাতের বড় অংশ একই ধরনের কাজ করছে।
প্রেসিডেন্ট বলেন, এসব কাজ এখনো সরকারকেই করতে হবে কি না, কিছু কার্যক্রম বন্ধ করা যায় কি না, কিংবা বেসরকারি সেবাদাতাদের কাছ থেকে পরিষেবা কিনলে খরচ কম হবে কি না, তা সরকারের বিবেচনা করা উচিত।
পাঠকের কাছে বাস্তব পার্থক্যটি সরল। কোনো পরিষেবা সরাসরি দিতে সরকার কর্মী নিয়োগ ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারে, অথবা অন্য কোনো সেবাদাতাকে কাজটি করার জন্য অর্থ দিতে পারে। বর্তমানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যে কাজ করছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে কোন ব্যবস্থা আর্থিকভাবে যুক্তিযুক্ত, দিসানায়েকের প্রস্তাবে সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তাঁর ব্যাখ্যায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যই পর্যালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন হলো, প্রতিষ্ঠানটি এখনো বর্তমান কোনো প্রয়োজন মেটাচ্ছে কি না এবং বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ওই কাজটি চালিয়ে যাওয়া উচিত কি না।
পেশাজীবীদের পদ শূন্য, নিম্নপদে কর্মীর আধিক্য
দিসানায়েকে এমন এক সরকারি পরিষেবার চিত্র তুলে ধরেন, যেখানে একই সঙ্গে দুটি কর্মীসংকট রয়েছে: যোগ্য পেশাজীবীর অভাব এবং আগের বছরগুলোতে রাজনৈতিক নিয়োগের ফলে নিম্নপদে অতিরিক্ত কর্মী।
প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও ব্যবস্থাপকদের নিয়োগ এবং ধরে রাখা কঠিন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, অনেক দক্ষ কর্মীর কাছে সরকারি চাকরি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেনি এবং তাদের ধরে রাখার কার্যকর ব্যবস্থাও রাষ্ট্রের নেই।
কর্মীবাহিনী বড় হলেও কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট দক্ষতার অভাব থাকতে পারে। প্রেসিডেন্টের বর্ণনায়, নিম্নপদে পদ পূরণ থাকলেও পেশাজীবীদের পদ শূন্য; ফলে একদিকে বেতন বাবদ বড় অঙ্কের ব্যয়, অন্যদিকে জরুরি দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে।
নিয়োগ ও কর্মী ধরে রাখার বিষয়ে উদ্বেগ তুলে ধরে দিসানায়েকে বলেন:
তাই আমাদের ভাবতে হবে, কীভাবে পেশাজীবীদের সরকারি পরিষেবায় নিয়োগ করা যায় এবং কীভাবে এই সরকারি পরিষেবাকে পেশাজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা যায়। তা না হলে, আমার বিশ্বাস, আমাদের সরকারি পরিষেবা বড় সংকটে পড়বে।
বেতন বৃদ্ধি কীভাবে যোগ হচ্ছে
সরকার ২০২৫, ২০২৬ ও ২০২৭ সালজুড়ে তিন ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করেছে। দিসানায়েকে বলেন, প্রতিটি ধাপে প্রায় ১১০ বিলিয়ন রুপি ব্যয় হবে। সব ধাপ কার্যকর হলে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৭ সালে বার্ষিক বেতন ব্যয় ৩৩০ বিলিয়ন রুপি বাড়বে।
এই পরিসংখ্যান থেকে বার্ষিক ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান প্রতিশ্রুতির চিত্র পাওয়া যায়। প্রতিটি ধাপে প্রায় ১১০ বিলিয়ন রুপি করে ব্যয় হলে সব ধাপ কার্যকর হওয়ার পর বার্ষিক বেতন খাতে ঘোষিত ৩৩০ বিলিয়ন রুপি বৃদ্ধি ঘটবে। ২০২৭ সালের জন্য প্রয়োজনীয় ১১০ বিলিয়ন রুপি এই কর্মসূচির শেষ ধাপের ব্যয়।
মূল বেতন হলো কোনো চাকরির সঙ্গে যুক্ত নির্ধারিত বেতনের মূল অংশ। ভাতা আলাদা অর্থপ্রদান, যা নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা চাকরিসংক্রান্ত প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। দিসানায়েকে বলেন, প্রস্তুত করা বাজেটে এবং ২০২৮ সালে ভাতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে; ওই বছর মূল বেতন আর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই।
প্রয়োজনীয় কর্মীদের সরকারি চাকরিতে ধরে রাখার সঙ্গে এই ভাতার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, মূল বেতন বৃদ্ধির তিন ধাপের পর কর্মী ধরে রাখার প্রয়োজন মেটাতে ভাতার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে।
বেতনের সময়সূচিতে কর্মীদের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট নির্দেশক রয়েছে:
- ২০২৫: মূল বেতন বৃদ্ধির কর্মসূচির প্রথম ধাপ, ব্যয় প্রায় ১১০ বিলিয়ন রুপি।
- ২০২৬: দ্বিতীয় ধাপ, ব্যয়ও প্রায় ১১০ বিলিয়ন রুপি।
- ২৩ অক্টোবর, ২০২৬: দিসানায়েকে ৩৪টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন এবং নিয়োগ, বেতন ও ভাতা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ২০২৭: বেতন বৃদ্ধির তৃতীয় ধাপে প্রায় ১১০ বিলিয়ন রুপি লাগবে; এর ফলে ২০২৪ সালের তুলনায় বার্ষিক বেতন ব্যয় ৩৩০ বিলিয়ন রুপি বাড়বে।
- ২০২৮: মূল বেতন আর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই; ভাতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শক্তিশালী সরকারি পরিষেবাই ঘোষিত লক্ষ্য
দিসানায়েকে বলেন, শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি সরকারের রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সরকারি পরিষেবাই এমন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে যে কোষাগারে পৌঁছানো অর্থ জনগণের কাছে এবং তাদের সম্প্রদায়ে সুফল বয়ে আনে।
তিনি কার্যকর প্রশাসনের সঙ্গে ভূমিসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ উন্নত করার বিষয়গুলো যুক্ত করেন। এসব উদাহরণে বোঝা যায়, কর্মীসংক্রান্ত বিতর্ক সরকারি দপ্তরের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়: উপযুক্ত পেশাজীবী নিয়োগের সক্ষমতা সেবা দেওয়ার রাষ্ট্রের সামর্থ্যকে প্রভাবিত করে।
সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য হলো প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমানো বা সেগুলো একীভূত করার পাশাপাশি পেশাগত সক্ষমতা বাড়ানো। প্রতিষ্ঠান বন্ধ করলে রাষ্ট্রের পরিচালিত সংস্থার সংখ্যা কমে; আর বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ ও ধরে রাখার মাধ্যমে অবশিষ্ট পরিষেবাগুলো সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মী আছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়।
তাই প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে ব্যয়ের দুটি অগ্রাধিকার দেখা যায়, যেগুলো বিপরীত দিকে এগোচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বেতন কর্মসূচির ফলে সরকারি কর্মীদের পেছনে বার্ষিক ব্যয় বাড়ছে।
পরিকল্পনার অংশ জরিপ সরঞ্জামও
অ্যাসোসিয়েশনের ১০০তম বার্ষিক সম্মেলন হিসেবে বর্ণিত এই সমাবেশে সরকারি সার্ভেয়ারদের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গীকারও করা হয়। দিসানায়েকে আধুনিক প্রযুক্তি, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদ্যমান চাকরিবিধি সংশোধনে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
খাতটির প্রযুক্তিগত চাহিদা মূল্যায়নের পর আধুনিক জরিপ সরঞ্জামের জন্য অর্থ বরাদ্দে সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। এ পদ্ধতিতে পরিষেবাটির প্রয়োজন যাচাইয়ের সঙ্গে সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত যুক্ত হবে।
জরিপের মাধ্যমে জমির পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণে সহায়তা করা হয়। ভূমিসংক্রান্ত বিষয় সমাধানে রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য সম্পর্কে দিসানায়েকের বক্তব্যের সঙ্গে সরঞ্জাম কেনার এই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত। অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সরকার যে খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে, এটি তার একটি বাস্তব উদাহরণ।
ব্যয়ের সিদ্ধান্তে অর্থনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব
দিসানায়েকে আরও সতর্ক করে বলেন, অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামাল দেওয়ার সক্ষমতা শ্রীলঙ্কায় সমান নয়। তাঁর ভাষ্য, দেশের ভেতরের অর্থনীতি থেকে সৃষ্ট ধাক্কা সামলানোর মতো পর্যাপ্ত রুপি সম্পদ দেশটির রয়েছে, কিন্তু বাইরের কোনো ধাক্কা মোকাবিলার মতো অর্থনৈতিক শক্তি যথেষ্ট নয়।
দেশের ভেতর থেকে সৃষ্টি হয় অভ্যন্তরীণ ধাক্কা; বাইরে থেকে আসে বহিঃস্থ ধাক্কা। এই পার্থক্যের মাধ্যমে বিপর্যয়ের জবাব দিতে হাতে থাকা সম্পদ এবং অর্থনীতির সহনশীলতার সীমা তুলে ধরেন তিনি।
প্রতিষ্ঠান বন্ধ, বেতন বৃদ্ধি ও নির্দিষ্ট ভাতার সমন্বয়কে এই সতর্কবার্তা আরও স্পষ্ট প্রেক্ষাপট দেয়। পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পেশাজীবীদের ধরে রাখা এবং বেতন খাতে বাড়তি ব্যয়ের অর্থ জোগানোর পাশাপাশি চলমান ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। এখন ঘোষিত প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তগুলোকে বাস্তবায়নযোগ্য প্রক্রিয়ায় রূপ দিতে হবে প্রতিষ্ঠান বন্ধের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটিকে।
মূল বিষয়গুলো
- প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের মতে, অর্থ মন্ত্রণালয় ৩৪টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- একটি বিশেষ কমিটি এই প্রক্রিয়া পর্যালোচনা ও বাস্তবায়ন করবে; অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো একীভূত করা হবে।
- প্রভাবিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম, বন্ধের সময়সূচি এবং সম্ভাব্য সাশ্রয়ের পরিমাণ ঘোষণা করা হয়নি।
- দিসানায়েকে বলেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে ভাতা দেওয়া হবে এবং স্বীকার করেন যে বাস্তবায়ন জটিল হবে।
- বেতন বৃদ্ধির তিন ধাপে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৭ সালে বার্ষিক বেতন ব্যয় ৩৩০ বিলিয়ন রুপি বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- ২০২৮ সালে মূল বেতন আর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই; সে সময় ভাতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
- পুনর্গঠনকে প্রেসিডেন্ট পেশাজীবী নিয়োগ, কর্মী ধরে রাখা এবং সরকারি পরিষেবা আরও ভালোভাবে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।






