চীনা পর্যটক দলের প্রত্যাবর্তনে পর্যটন ও সম্পর্কের পরীক্ষা
নতুন ভিসা অব্যাহতির আওতায় চীনা পর্যটক দলকে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া তার দুয়ার খুলেছে। মহামারির পর চীন থেকে পর্যটক আগমনের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী পুনরারম্ভ। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থার মাধ্যমে আয়োজিত তিন বা তার বেশি পর্যটকের দল ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করে সর্বোচ্চ ১৫ দিন থাকতে পারবে। এ ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চালু থাকবে। এরই মধ্যে অক্টোবরের শেষ দিকে এপেক সম্মেলনে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় নেতাদের আতিথ্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে গিয়ংজু। জেজু দ্বীপে চীনের একক ও দলীয় পর্যটকেরা ভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ ৩০ দিন প্রবেশ করতে পারবেন।
সূচিপত্র
- চীনা পর্যটক দলের প্রত্যাবর্তনে পর্যটন ও সম্পর্কের পরীক্ষা
- সাময়িক ভিসা অব্যাহতিতে যা যা সুযোগ থাকছে
- কারা যোগ্য এবং যেভাবে কাজ করবে
- এখন কেন
- বন্দর ও কেনাকাটার এলাকায় শুরুর দিকের চিত্র
- প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে খুচরা বিক্রেতা ও হোটেলগুলো
- কোরিয়ার অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের প্রভাব কতটা হতে পারে
- প্রমোদতরি ও বিমান ভ্রমণের সম্ভাবনা
- নিরাপত্তা, যাচাই-বাছাই ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা
- রোগের আশঙ্কা ও সরকারি তথ্য
- বিক্ষোভ বেড়ে যাওয়ায় ভিড় সামলানো ও পুলিশি ব্যবস্থা
- উদ্বোধন ঘিরে রাজনীতি ও কূটনীতি
- গোল্ডেন উইক ও এর পর কী দেখার
- মূল বিষয়গুলো
সরকারের লক্ষ্য ভোক্তা চাহিদা বাড়ানো এবং চীনা পর্যটকদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল একটি খাতের পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করা। কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী বছরের জুনের শেষ নাগাদ প্রায় ১০ লাখ অতিরিক্ত চীনা পর্যটক আসবেন। বাজারে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায়ও এই আশাবাদ দেখা গেছে। জোরালো বিক্রির প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ডিপার্টমেন্ট স্টোর, হোটেল, ক্যাসিনো ও প্রসাধনী প্রস্তুতকারীদের শেয়ারের দর বেড়েছে। সিউল ও বেইজিংয়ের সম্পর্কের পরিবর্তনের সঙ্গেও এ নীতি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর আগে দক্ষিণ কোরীয়দের স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণে ভিসা ছাড় দেওয়ার পদক্ষেপ নেয় চীন।
সাময়িক ভিসা অব্যাহতিতে যা যা সুযোগ থাকছে
পর্যটকের প্রবাহ সামলানো এবং যাচাই-বাছাই বজায় রাখতে কর্মসূচিটির শর্ত নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। চীনা নাগরিকেরা অন্তত তিনজনের দলে প্রবেশ করতে পারবেন, তবে শর্ত হলো, দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের মনোনীত কোনো ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ভ্রমণের আয়োজন করতে হবে। মূল ভূখণ্ডে প্রতিবার প্রবেশে সর্বোচ্চ ১৫ দিন থাকা যাবে। জেজুতে আলাদা নীতির আওতায় ভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ ৩০ দিন থাকার সুযোগ রয়েছে।
কারা যোগ্য এবং যেভাবে কাজ করবে
লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে আগমনের ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা আগে HiKorea ব্যবস্থায় পর্যটকদের তথ্য জমা দিতে হবে। নাম, পাসপোর্ট নম্বর ও থাকার ঠিকানাসহ এসব তথ্য আগের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের রেকর্ড এবং ইন্টারপোলের সতর্কবার্তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। কোনো গ্রাহক অনুমোদিত সময়ের বেশি থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে শাস্তি দেওয়া হবে। কোনো সংস্থার ২ শতাংশের বেশি গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে দেশ ছাড়তে ব্যর্থ হলে ভিসা অব্যাহতির আওতায় দল আনার অধিকার হারাবে সংস্থাটি। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বৈধ পর্যটক দলের জন্য প্রবেশের সুযোগ বাড়িয়েও আইন প্রয়োগ দুর্বল না করাই এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।
এখন কেন
গত বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ কোরীয়দের স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণে ভিসা ছাড় দেওয়ার চীনা পদক্ষেপের পর এ সিদ্ধান্ত নিল দক্ষিণ কোরিয়া। অক্টোবরে চীনের জাতীয় দিবসের ছুটির সপ্তাহ শুরুর ঠিক আগেই কার্যকর হচ্ছে এটি। ভ্রমণ চাহিদার জন্য এ সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যস্ত ছুটির মৌসুম এবং এপেক সম্মেলনের আগেও এটি চালু হচ্ছে। ফলে পর্যটকদের আগ্রহ কাজে লাগানো, হোটেলের কক্ষ পূরণ এবং কোরীয় বাণিজ্যিক এলাকাগুলোকে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বন্দর ও কেনাকাটার এলাকায় শুরুর দিকের চিত্র
প্রথম দফার আগমনেই বন্দর ও কেনাকাটার কেন্দ্রগুলোতে চোখে পড়ার মতো ব্যস্ততা দেখা গেছে। ২,১৮৯ জন যাত্রী ও ৫৬৩ জন কর্মী নিয়ে এমএস ড্রিম নামের একটি প্রমোদতরি ইনচনে পৌঁছেছে। তিয়ানজিন ও সিউল অঞ্চলের মধ্যে প্রমোদতরির ভ্রমণসূচি আবার চালুর ইঙ্গিত এটি। বন্দরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্বাগত অনুষ্ঠান ও খাবারের ট্রাকের আয়োজন করে, আর ট্যুর অপারেটররা সিউলের প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলোতে বাস পাঠায়।
দলীয় পর্যটকেরা শুল্কমুক্ত দোকান, প্রসাধনীর দোকান ও ফ্যাশনের জনপ্রিয় আউটলেটগুলোতে যাওয়ায় মধ্য সিউলে বেশ ব্যস্ততা দেখা যায়। লোত্তে ডিউটি ফ্রির মিয়ংদংয়ের প্রধান দোকান এবং জাংচুংদংয়ে শিলার দোকানে ভিড় জমে। সেখানে কর্মীরা ফুল দিয়ে পর্যটকদের স্বাগত জানান এবং প্রসাধনী ও ত্বকের যত্নের পণ্যে বিশেষ ছাড়ের প্রচার করেন। বয়স্ক পর্যটকেরা লাল জিনসেং ও পুষ্টি-পরিপূরকের দিকে ঝুঁকেছেন, আর কমবয়সী ক্রেতারা ঝুড়ি ভরেছেন কে-বিউটি ব্র্যান্ড ও ফ্যাশন পণ্যে। খুচরা বিক্রেতাদের ধারণা, গোল্ডেন উইকজুড়ে এই গতি আরও বাড়বে। আগামী মাসে সিউল, বুসান ও জেজুতে তাদের দোকানে ১০ হাজারের বেশি দলীয় পর্যটক আসবে বলে আশা করছে লোত্তে।
প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে খুচরা বিক্রেতা ও হোটেলগুলো
এই ব্যয়কে আকৃষ্ট করতে বড় ব্র্যান্ডগুলো লক্ষ্যভিত্তিক ছাড় ও অফার চালু করেছে:
- জেজু ড্রিম টাওয়ার ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্টে WeChat Pay-সংযুক্ত রেস্তোরাঁ ও স্পার ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
- শিনসেগে ডিউটি ফ্রি সৌভাগ্যের চীনা অক্ষরসংবলিত ব্যাগ দিচ্ছে, WeChat Pay-এ ক্যাশব্যাক দিচ্ছে এবং দলীয় পর্যটকদের জন্য খাবার সরবরাহের কুপন দিচ্ছে।
- লোত্তে ডিপার্টমেন্ট স্টোর চীনা ক্রেতাদের কী-চেইন ও কাপড়ের ব্যাগ দিচ্ছে।
- GS25 Alipay ব্যবহারকারীদের জন্য ছাড় ও পুরস্কারের আয়োজন করছে। কয়েকটি দোকানে কে-পপ বিষয়ক বিশেষ পপ-আপও রয়েছে।
- CU তাদের মিয়ংদং সাবওয়ে স্টেশন শাখাকে কোরীয় খাবারের প্রদর্শনীস্থল হিসেবে তুলে ধরছে।
- CJ Olive Young বিদেশি ভাষায় কথা বলতে পারেন এমন কর্মী বাড়াচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাৎক্ষণিক ভ্যাট ফেরতের টার্মিনাল বসাচ্ছে।
- চীনা ক্রেতাদের ভ্রমণের আগে ও চলাকালে পৌঁছাতে আলিবাবার Tmall-এর মাধ্যমে ছাড় ও ডিজিটাল কুপন দিচ্ছে Musinsa।
- পর্যটকদের আনাগোনা বেশি এমন এলাকায় কোরীয় প্রসাধনী ও হালকা খাবারের পণ্যের সম্ভার বাড়াচ্ছে Daiso।
বিশেষ করে প্রসাধনী, ফ্যাশন অনুষঙ্গ ও স্বাস্থ্যপণ্যের মতো যেসব পণ্যে চীনা ক্রেতাদের চাহিদা ঐতিহ্যগতভাবে বেশি, সেসব ক্ষেত্রে দোকানে আসা ক্রেতাদের বেশি কেনাকাটা এবং বারবার আসায় উৎসাহিত করাই এসব প্রচারের লক্ষ্য।
কোরিয়ার অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের প্রভাব কতটা হতে পারে
দক্ষিণ কোরিয়ায় পর্যটক পাঠানোর ক্ষেত্রে চীন দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, বছরের প্রথমার্ধে প্রায় ২৫ লাখ চীনা নাগরিক দেশটিতে এসেছেন। জুলাইয়ে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ১৭ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। ওই মাসে আসা পর্যটকদের মধ্যে ৬,০২,১৪৭ জন ছিলেন চীনের, অর্থাৎ মোটের ৩৪.৭ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৩১.২ শতাংশ বেশি। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভিসা অব্যাহতি এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করতে পারে। দলীয় ভ্রমণে প্রবেশের প্রক্রিয়া সহজ করে কর্মসূচিটি চীনের বড় শহরগুলোর বাইরের পর্যটকদেরও লক্ষ্য করছে। এর ফলে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পিছিয়ে থাকা বিমান ও প্রমোদতরির ভ্রমণসূচি পূরণে সহায়তা হতে পারে।
ভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কোম্পানিগুলো বিক্রি বাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। চীনা চাহিদার সঙ্গে প্রসাধনী খাত, শুল্কমুক্ত দোকানের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, হোটেল চেইন ও ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলোর ব্যবসা প্রায়ই ওঠানামা করে। অতীতের পুনরুদ্ধারের নজির দেখে জোরালো পর্যটক ব্যয়ের প্রত্যাশায় এসব খাতের শেয়ারের দাম বাড়িয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। গোল্ডেন উইক ও ব্যস্ত ছুটির দিনগুলোতে ক্রেতার ঢল সামলাতে ডিপার্টমেন্ট স্টোর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও বিমানবন্দরের খুচরা বিক্রেতারাও কর্মীদের কাজের সময়সূচি, পণ্যের মজুত পরিকল্পনা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সমন্বয় করছে।
প্রমোদতরি ও বিমান ভ্রমণের সম্ভাবনা
যাত্রীবাহী জাহাজ কোম্পানিগুলো ভিসা অব্যাহতিকে চীনা বন্দরগুলোর সঙ্গে ইনচন, বুসান ও জেজুর নৌপথ আবার চালুর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে। তিয়ানজিন ওরিয়েন্ট ইন্টারন্যাশনাল ক্রুজ লাইনের প্রমোদতরির প্রাথমিক আগমন থেকে বোঝা যায়, আগ্রহ বাস্তব। যাত্রীদের জাদুঘর, প্রাসাদ ও কেনাকাটার এলাকায় ছড়িয়ে দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় ভ্রমণসেবা এবং স্বল্প সময়ের ট্যুরের আরও ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করছে। চীনের দ্বিতীয় সারির শহরগুলো থেকে বিমানসংস্থাগুলোও ফ্লাইট বাড়াতে পারে। এসব শহরে ভিসা প্রক্রিয়া প্রায়ই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভ্রমণসূচিগুলো নিয়মিত চালু থাকলে সিউলের পাশাপাশি প্রদেশের গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত বহু-গন্তব্যের ভ্রমণ থেকে কোরিয়ার আঞ্চলিক শহরগুলোও লাভবান হতে পারে।
নিরাপত্তা, যাচাই-বাছাই ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা
নিরাপত্তা নিয়ে জনপরিসরে বিতর্ক জোরালো হয়েছে। তবে দলীয় পর্যটকদের প্রবেশের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অনেক সাধারণ পর্যটকের ধারণার চেয়ে কঠোর। বিচার মন্ত্রণালয় বলেছে, ভিসা অব্যাহতির আওতায় প্রবেশ HiKorea নামের একটি পৃথক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে অন্য কিছু প্ল্যাটফর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এই ব্যবস্থা সচল ছিল। সংস্থাগুলোকে আগেই পর্যটকদের তালিকা জমা দিতে হবে। আগের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের রেকর্ড এবং ইন্টারপোলের সতর্কবার্তাসহ গুরুতর ঝুঁকির তথ্যের জন্য প্রত্যেকের নাম যাচাই করা হবে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে পর্যটক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা উভয়ই শাস্তির মুখে পড়তে পারে। বারবার সমস্যা হলে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ হারাতে পারে সংস্থাটি।
রোগের আশঙ্কা ও সরকারি তথ্য
ভিসা ছাড়াই আসা পর্যটকেরা সংক্রামক রোগের নতুন ঢেউ নিয়ে আসবেন—এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। তবে রোগতাত্ত্বিক তথ্য এ দাবিকে সমর্থন করে না। কোরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা জানিয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে এ বছরের জুলাই পর্যন্ত কোরিয়ায় চিকুনগুনিয়ার ৭১টি আমদানি করা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যার কোনোটির উৎস চীন নয়। বেশির ভাগ সংক্রমণ এসেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে। জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মশাবাহিত রোগের ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেয় এবং প্রবেশবন্দরগুলোতে নজরদারি চালায়। এসব তথ্য নতুন দলীয় প্রবেশের সঙ্গে বাড়তি চিকিৎসা-ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয় না।
বিক্ষোভ বেড়ে যাওয়ায় ভিড় সামলানো ও পুলিশি ব্যবস্থা
রাজনৈতিক বিতর্কের পর সিউলের মিয়ংদং ও দেরিমদংসহ কিছু এলাকায় ডানপন্থী গোষ্ঠীর উদ্যোগে চীনবিরোধী বিক্ষোভ বেড়েছে। সিউলে চীনা দূতাবাস নাগরিকদের সতর্ক থাকতে, রাজনৈতিক সমাবেশ এড়িয়ে চলতে এবং ভ্রমণের সময় প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য না দিতে পরামর্শ দিয়েছে। দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। বিক্ষোভপ্রবণ এলাকার ব্যবসায়ী, বাসিন্দা ও চীনা নাগরিকদের সহায়তা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিম মিন সিওক। পর্যটনকে রাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে আলাদা রাখা এবং ব্যস্ত ভ্রমণ সপ্তাহগুলোতে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ।
উদ্বোধন ঘিরে রাজনীতি ও কূটনীতি
চীনা পর্যটক দলের প্রত্যাবর্তনের সময়েই বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সিউলের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নিয়ে বিরোধ এবং মহামারিকালীন বিধিনিষেধের কয়েক বছরের পর নতুন প্রশাসন স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ার আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছে। ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর গিয়ংজুতে এপেক সম্মেলনে চীনসহ আঞ্চলিক নেতারা এক মঞ্চে থাকবেন। ভিসা অব্যাহতিকে অর্থনৈতিক প্রণোদনা হিসেবে তুলে ধরা হলেও, দক্ষিণ কোরীয়দের প্রবেশ সহজ করতে চীনের নেওয়া আগের পদক্ষেপের স্বীকৃতিস্বরূপ এটি একটি কূটনৈতিক উদ্যোগও।
অতীতেও বিশেষ সময়ে চীনা পর্যটক দলের জন্য ভিসা অব্যাহতি চালু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ২০১৭ সালের শেষ থেকে ২০১৮ সালের শুরুর দিকে পিয়ংচ্যাং শীতকালীন অলিম্পিক ঘিরে চালু হওয়া স্বল্পমেয়াদি কর্মসূচি দর্শনীয় স্থান ও বাণিজ্যিক এলাকায় পর্যটক টানতে সহায়তা করেছিল। বর্তমান উদ্যোগের পরিধি আরও বিস্তৃত এবং মেয়াদও দীর্ঘ। সংস্থার জবাবদিহি ও ডিজিটাল যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে পর্যটন আয় বাড়ানোই এর লক্ষ্য। বিক্ষোভের সময় পুলিশি ভূমিকা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মনোভাবের পাশাপাশি এসব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্বাগত জানানোর পরিবেশ বজায় রাখতে পারে কি না, সেটিই হবে পরীক্ষা।
গোল্ডেন উইক ও এর পর কী দেখার
চীনের জাতীয় দিবসের ছুটির সপ্তাহে পর্যটকদের চলাচলই পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করবে। নভেম্বর পর্যন্ত প্রমোদতরির যাত্রাবিরতি বাড়লে এবং দলীয় বুকিং স্থিতিশীল থাকলে ছুটির মৌসুমে কর্মীদের কাজের পরিকল্পনা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করতে পারবে খুচরা বিক্রেতা ও হোটেলগুলো। Alipay ও WeChat Pay-এর লেনদেনের তথ্য, সিউলের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকায় ক্রেতাদের আনাগোনা এবং রাজধানী ও প্রাদেশিক শহরগুলোর হোটেলে কক্ষ ব্যবহারের হার এই প্রত্যাবর্তনের স্থায়িত্বের ইঙ্গিত দেবে। একই সময়ে অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থানসংক্রান্ত অভিবাসন পরিসংখ্যান এবং বিক্ষোভপ্রবণ এলাকার পুলিশি প্রতিবেদন জনপরিসরের বিতর্ককে প্রভাবিত করবে এবং ভবিষ্যতে বিধিনিষেধ শিথিলের মডেল হিসেবে কর্মসূচিটি ব্যবহৃত হবে কি না, তা নির্ধারণ করবে।
শুল্কমুক্ত দোকানের তুলনায় রাস্তার দোকানগুলোতে কতটা ব্যয় হচ্ছে, বিশ্লেষকেরা সেটিও দেখবেন। ভিসা অব্যাহতির আওতায় আসা দলগুলো প্রায়ই আঁটসাঁট সময়সূচিতে চলে, যা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুবিধাজনক। তাই নগর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সমিতিগুলো ঐতিহ্যবাহী বাজার ও সাংস্কৃতিক স্থান অন্তর্ভুক্ত করে এমন ভ্রমণপথ তৈরিতে কাজ করছে। বড় চেইন থেকে শুরু করে ছোট দোকানমালিক পর্যন্ত কারা কতটা লাভবান হবেন, তা নির্ভর করবে এই ব্যয় কতটা ছড়িয়ে পড়ে তার ওপর।
মূল বিষয়গুলো
- দক্ষিণ কোরিয়া এখন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থার মাধ্যমে আসা অন্তত তিনজনের চীনা পর্যটক দলকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ ১৫ দিন প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে।
- কর্মকর্তারা আগামী বছরের জুনের শেষ নাগাদ প্রায় ১০ লাখ অতিরিক্ত চীনা পর্যটক আসবেন বলে আশা করছেন। জেজুতে আলাদা নীতির আওতায় ভিসা ছাড়াই ৩০ দিন প্রবেশের সুযোগ অব্যাহত রয়েছে।
- প্রথম দফায় ইনচনে ২,১৮৯ জন যাত্রী ও ৫৬৩ জন কর্মী নিয়ে একটি প্রমোদতরি এসেছে। মধ্য সিউলের শুল্কমুক্ত দোকান ও প্রসাধনীর দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ব্যাপক আনাগোনা দেখা গেছে।
- নতুন ব্যয় আকৃষ্ট করতে বড় ব্র্যান্ডগুলো Alipay ও WeChat Pay-সংযুক্ত প্রচার চালু করেছে, ভাষাগত সহায়তা বাড়িয়েছে এবং তাৎক্ষণিক ভ্যাট ফেরতের ব্যবস্থা করেছে।
- অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে HiKorea ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে, যাত্রীদের তথ্য আগাম জমা দিতে হচ্ছে এবং কোনো সংস্থার ২ শতাংশের বেশি গ্রাহক অনুমোদিত সময়ের বেশি থাকলে ওই সংস্থাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।
- জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ নীতিতে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে—এমন প্রমাণ নেই। চিকুনগুনিয়ার অতীত সংক্রমণ চীনের বদলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে এসেছে।
- সিউলের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভের পর চীনা দূতাবাস সতর্কবার্তা দিয়েছে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দক্ষিণ কোরীয় সরকার পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে।
- গিয়ংজুর এপেক সম্মেলন ও বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির সঙ্গে কর্মসূচিটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। চীনের বৃহত্তম কেন্দ্রগুলোর বাইরের শহরগুলোর সঙ্গে প্রমোদতরি ও বিমান যোগাযোগও বাড়তে পারে।






