অস্পষ্ট মূল্য নির্ধারণের চড়া মাশুল
হংকংয়ে পরিবারের সঙ্গে কেনাকাটা করতে গিয়ে ব্যয়বহুল দুর্ভোগে পড়েন সিঙ্গাপুরের এক পর্যটক। মূল্য গণনার একক বদলে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর চোখ এড়িয়ে যাওয়ায় একগুচ্ছ ভেষজের জন্য তাঁকে ৩০,৪০০ হংকং ডলার (প্রায় ৩,৯০৮ মার্কিন ডলার) দিতে হয়। কিছু ওষুধের দোকান ও ফার্মেসিতে আগ্রাসী বিক্রয়কৌশল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এ ঘটনায়। ভোক্তাদের অভিযোগের সংখ্যাও এখনো বেশি। হংকংয়ের কনজ্যুমার কাউন্সিল এ বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ফার্মেসি ও ওষুধের দোকানের প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ড নিয়ে ৫৪৮টি অভিযোগ পেয়েছে। গত বছরের একই সময়ে নথিভুক্ত ৫৫৬টি অভিযোগের তুলনায় এ সংখ্যা সামান্য কম।
সূচিপত্র
- অস্পষ্ট মূল্য নির্ধারণের চড়া মাশুল
- একক বদলে কীভাবে সামান্য কেনাকাটার বিল আকাশছোঁয়া হয়
- তাইল থেকে মাস: পরিচিত ফাঁদ
- অভিযোগের সংখ্যা বেশি, পর্যটকেরাই প্রধান লক্ষ্য
- কর্তৃপক্ষের করণীয় ও সীমাবদ্ধতা
- কিছু অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দেরি হয় কেন
- ওষুধের দোকানে যেসব সতর্কসংকেত খেয়াল রাখবেন
- অভিযোগে উঠে আসা সাধারণ কৌশল
- কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন এবং বেশি টাকা নিলে কী করবেন
- বিরোধ দেখা দিলে
- ‘নো ফেকস’ অঙ্গীকার সম্পর্কে জানুন
- হংকংয়ের পর্যটনের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ
- মূল বিষয়গুলো
স্থানীয় ভোক্তা অধিকার সংস্থাকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই পর্যটক পরিবারের সঙ্গে দোকানে গিয়েছিলেন মুখ পরিষ্কারের প্রসাধনী কিনতে। এক বিক্রয়কর্মী কথার মোড় ঘুরিয়ে ভেষজ সম্পূরকের দিকে নিয়ে যান। তিনি মিল্ক থিসলের মতো পণ্যের প্রচার করেন এবং ‘৮০টি কিনলে ৫টি ফ্রি’ অফারের কথা বলেন। ভেষজের ওজন দেখানো হয়েছিল ০.৮৫, মূল্যফলকে লেখা ছিল ৩৮০-এর মতো একটি সংখ্যা, কিন্তু বিক্রয়কর্মী মূল্য গণনার একক ব্যাখ্যা করেননি। পর্যটক ধরে নেন, প্রতি তাইলে দাম ৩৮০ হংকং ডলার। মনে মনে দ্রুত হিসাব করে তাঁর ধারণা হয়, মোট দাম কয়েক শ ডলার হবে, তাই তিনি রাজি হন।
দোকানের কর্মী ভেষজ গুঁড়ো করার পরই কথার ধরন বদলে যায়। ক্রেতাকে বলা হয়, দাম প্রতি তাইলে নয়, প্রতি মাসে। ব্যবসায় ব্যবহৃত চীনা পরিমাপের প্রচলিত এককে এক তাইল ৩৭.৮ গ্রাম এবং এক মাস এক তাইলের দশ ভাগের এক ভাগ (৩.৭৮ গ্রাম)। তাইল থেকে মাসে এককে বদলালে কার্যকর দাম দশ গুণ হয়ে যায়। বড় অঙ্কের বিল দেখে এবং সন্তানদের সামনে তর্ক করতে অনিচ্ছুক ওই নারী টাকা পরিশোধ করেন।
পরে নথিপত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রথমে দোকান আংশিক টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এরপর কনজ্যুমার কাউন্সিলের মধ্যস্থতায় পণ্য ফেরত দিলে পুরো টাকা ফেরত দিতে সম্মত হয় দোকানটি। অভিযোগের নথিতে বারবার দেখা যায়, এমন কিছু ঝুঁকির কথা কাউন্সিল তুলে ধরে: এককের ছোট বা অস্পষ্ট লেবেল, নকল পণ্য এবং বিভ্রান্তিকর প্যাকেজিং বা সাইনবোর্ড। কাউন্সিল ব্যবসায়ীদের কেনাকাটা সম্পন্ন হওয়ার আগেই পরিমাপের একক ও মোট দাম স্পষ্ট করে জানাতে এবং পরিমাণ ও এককের উল্লেখসহ রসিদ দিতে বলেছে। ক্রেতাদেরও পরিমাপের একক যাচাই, মোট দাম পরিষ্কার করে জেনে নেওয়া এবং হালনাগাদ ‘নো ফেকস’ অঙ্গীকারের স্টিকার প্রদর্শনকারী সুনামধন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একক বদলে কীভাবে সামান্য কেনাকাটার বিল আকাশছোঁয়া হয়
হংকংয়ের ভেষজ ও শুকনো পণ্যের দোকানে কখনো কখনো চীনা পরিমাপের প্রচলিত একক ব্যবহার করা হয়। এক ক্যাটি সমান ১৬ তাইল। এক তাইল সমান ১০ মাস। মেট্রিক হিসাবে এক তাইল ৩৭.৮ গ্রাম এবং এক মাস ৩.৭৮ গ্রাম। মূল্যফলকে এককের উল্লেখ ছাড়া শুধু সংখ্যা লেখা থাকলে অনেক পর্যটক ধরে নেন এককটি তাইল বা এমনকি ক্যাটির মতো বড় কোনো একক। পরে দোকান যদি দাবি করে এককটি ছিল ছোট একক, প্রায়ই মাস, তাহলে সেই ধারণার সুযোগ নিয়ে ক্রেতাকে ঠকানো হতে পারে। এক মাস এক তাইলের দশ ভাগের এক ভাগ হওয়ায় একই ওজনের পণ্যের জন্য ক্রেতার প্রত্যাশার তুলনায় মোট দাম প্রায় দশ গুণ হয়ে যায়।
পণ্য প্রক্রিয়াজাত করার পর বিভ্রান্তি আরও বাড়ে। মোট দাম জানানোর আগেই কর্মীরা ভেষজ গুঁড়ো করা বা শুকনো পণ্য কেটে দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারেন। পণ্য প্রক্রিয়াজাত হয়ে গেলে ক্রেতারা নিজেদের আটকে পড়া মনে করেন এবং চলে যাওয়ার সাহস কম পান। অস্বস্তি বোধ করলেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষ টাকা দিতে বাধ্য হয়। এরপর রসিদে দোকানের পছন্দের একক লেখা থাকতে পারে। পণ্য প্রক্রিয়াজাত করার আগে এককের ছবি বা লিখিত নিশ্চয়তা না থাকলে বিরোধ মেটানো কঠিন হয়।
তাইল থেকে মাস: পরিচিত ফাঁদ
সহজ কথায়, তাইল থেকে মাসে একক বদলে দিলে কয়েক শ ডলারের কেনাকাটা কয়েক হাজার ডলারে গিয়ে দাঁড়াতে পারে। সমস্যা প্রচলিত এককের ব্যবহারে নয়, কারণ ব্যবসায় এসব একক এখনো প্রচলিত; সমস্যা হলো এককগুলো কীভাবে দেখানো হচ্ছে। সংখ্যাটি বড় অক্ষরে লেখা, অথচ এককের লেবেল ফিকে বা খুব ছোট হলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এর সঙ্গে পণ্য গুঁড়ো করা বা মোড়কজাত করার তাড়াহুড়ো যোগ হলে ক্রেতার সামনে অপ্রত্যাশিত বিল হাজির হতে পারে, আর ঘটনাস্থলে আপত্তি জানানোর সুযোগও থাকে কম।
অভিযোগের সংখ্যা বেশি, পর্যটকেরাই প্রধান লক্ষ্য
অভিযোগের তথ্যেও এ প্রবণতা ধারাবাহিকভাবে দেখা যায়। কনজ্যুমার কাউন্সিল জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে ফার্মেসি ও ওষুধের দোকানসংক্রান্ত ৫৪৮টি অভিযোগ এসেছে, যা আগের বছরের কাছাকাছি। অনেক অভিযোগই পর্যটকদের কাছ থেকে এসেছে এবং পর্যটকদের আনাগোনা বেশি এমন ব্যস্ত এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীভূত। যেসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ আসে, তাদের নাম প্রকাশের নজির রয়েছে ভোক্তা অধিকার সংস্থাটির। অতীতে তারা এমন ঘটনার কথা জানিয়েছে, যেখানে অস্পষ্ট এককের লেবেল, শেষ মুহূর্তে দামের একক বদল বা চূড়ান্ত দাম আড়াল করা বিভ্রান্তিকর বিক্রয়কথার কারণে পর্যটকদের প্রচলিত খুচরা দামের চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিতে হয়েছে।
সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর জনপ্রিয় কেনাকাটার এলাকায় কয়েকটি চীনা ওষুধের দোকান নিয়ে অভিযোগ আবার বেড়েছে বলে জানায় কাউন্সিল। তাদের পর্যবেক্ষণ, এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে অভিযোগের বেশির ভাগই পর্যটকদের কাছ থেকে এসেছে; স্থানীয়দের অভিযোগ তুলনামূলক কম। কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। ভোক্তা অধিকারকর্মীরা সতর্ক করেছেন, একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে কিছু দোকান নতুন নামে ব্যবসা শুরু করে বা মালিকানা বদলায়।
সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে কনজ্যুমার কাউন্সিল স্বল্পমেয়াদি লাভের চেয়ে স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, খুচরা বিক্রেতাদের অস্পষ্ট একক প্রদর্শন এড়াতে হবে এবং পণ্য প্রক্রিয়াজাত বা মূল্য পরিশোধের আগে দাম ব্যাখ্যা করতে হবে।
হংকংয়ের কেনাকাটার গন্তব্য হিসেবে সুনাম রক্ষায় বিভ্রান্তিকর বিক্রয়কৌশল পরিহার করে সততা বজায় রাখতে শিল্পখাতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কাউন্সিল।
কর্তৃপক্ষের করণীয় ও সীমাবদ্ধতা
কনজ্যুমার কাউন্সিল একটি আইনসিদ্ধ সংস্থা, যারা ক্রেতাদের সহায়তা করে; তবে তারা নিজেরা মামলা করে না। সংস্থাটি অভিযোগ গ্রহণ, বিরোধ মীমাংসায় মধ্যস্থতা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনা পাঠায়। কোনো ব্যবসায়ী দাম বা পরিমাণ নিয়ে ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করেছে বলে মনে হলে বিষয়টি বাণিজ্য বিবরণ অধ্যাদেশের আওতায় পড়তে পারে। এ আইন প্রয়োগের দায়িত্ব হংকং কাস্টমসের। অধ্যাদেশে দাম, পরিমাণ বা পণ্যের উপাদান নিয়ে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য নিষিদ্ধ। দোষী সাব্যস্ত হলে বড় অঙ্কের জরিমানা ও কারাদণ্ড হতে পারে। আইন প্রয়োগের এ প্রক্রিয়া কাউন্সিলের মধ্যস্থতা থেকে আলাদা এবং এতে প্রায়ই বেশি সময় লাগে।
বেশির ভাগ ব্যক্তিগত অভিযোগের ফলাফল নির্ভর করে প্রমাণের ওপর। মূল্যফলকের পরিষ্কার ছবি, টাকা দেওয়ার আগে আলোচিত এককের নোট এবং একক, ওজন ও প্রতি এককের দাম উল্লেখ করা খুঁটিনাটি রসিদ পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। পণ্য গুঁড়ো বা কাটার পর দোকানের দেওয়া ইনভয়েসই যদি একমাত্র নথি হয়, তাহলে টাকা ফেরত নিয়ে বিরোধে ব্যাংক ও কার্ড নেটওয়ার্ক ব্যবসায়ীর পক্ষে যেতে পারে। এ কারণেই ভোক্তা অধিকারকর্মীরা পণ্য প্রক্রিয়াজাত বা মূল্য পরিশোধের আগেই প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেন।
কিছু অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দেরি হয় কেন
কখনো কখনো সীমান্ত পেরিয়ে আসা ক্রেতারা বিরোধ মেটার আগেই বাড়ি ফিরে যান। এতে মধ্যস্থতা থেকে শুরু করে আইন প্রয়োগ পর্যন্ত সবকিছুতেই দেরি হতে পারে। অভিযোগে খুচরা বিক্রেতা, কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং কর্তৃপক্ষসহ একাধিক পক্ষ জড়িত থাকতে পারে। কিছু দোকান ঘন ঘন নতুন নামে ব্যবসা শুরু করে বা মালিকানা বদলায়, ফলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া জটিল হয়। দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো দোকানে থাকতেই ব্যবস্থা নেওয়া, লিখিত খরচের হিসাব চাওয়া, মোট দাম নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পণ্য প্রক্রিয়াজাত করতে না দেওয়া এবং লেবেল ও ওজন মাপার যন্ত্রের ছবি তোলা। সমস্যা হলে ক্রেতারা শান্তভাবে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, ব্যবস্থাপককে ডাকতে পারেন এবং প্রয়োজনে সহায়তার জন্য কনজ্যুমার কাউন্সিল বা কাস্টমসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
ওষুধের দোকানে যেসব সতর্কসংকেত খেয়াল রাখবেন
অভিযোগে উল্লেখ করা বিক্রয়কৌশলগুলোতে প্রায়ই একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। বন্ধুসুলভ অভ্যর্থনা ও ছাড়ের প্রস্তাবের পর একের পর এক অতিরিক্ত পণ্য কেনার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। কর্মীরা দামের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, কিন্তু এককের কথা বলেন নিচু স্বরে। ভেষজ গুঁড়ো বা শুকনো সামুদ্রিক খাবার কেটে দেওয়ার প্রস্তাবকে সৌজন্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ক্রেতারা মোট দাম জানতে চাইলে পণ্য প্রক্রিয়াজাত হওয়া পর্যন্ত অস্পষ্ট উত্তর দেওয়া হতে পারে; এরপর বড় অঙ্কের বিল আসে। এসব সংকেত চিনতে পারলে কেনাকাটায় রাজি হওয়ার আগে পর্যটকেরা থামতে পারেন।
অভিযোগে উঠে আসা সাধারণ কৌশল
ক্রেতা ও ভোক্তা অধিকার সংস্থাগুলো বারবার দেখা যায় এমন কিছু কৌশলের কথা বলেছে। নিচের এক বা একাধিক লক্ষণ দেখলে থামুন এবং কোনো কিছুতে সম্মতি দেওয়ার আগে এককসহ প্রতিটি পণ্যের দাম ও মোট খরচের স্পষ্ট হিসাব চান।
- বড় দামের সংখ্যার পাশে খুব ছোট বা ফিকে অক্ষরে এককের লেবেল।
- তাইল বা ক্যাটিপ্রতি দাম না বলে মাস বা ক্যান্ডারিনপ্রতি দাম বলা, কিন্তু পরিষ্কার ব্যাখ্যা না দেওয়া।
- একক জানতে চাইলেও তা বলতে এড়িয়ে যাওয়া, অথবা দ্রুত একের পর এক সংখ্যা বলে যাওয়া।
- মোট দাম ঠিক হওয়া বা লিখে দেওয়ার আগেই পণ্য গুঁড়ো, কাটা বা মোড়কজাত করার প্রস্তাব।
- লিখিতভাবে চূড়ান্ত দাম স্পষ্ট না করে ‘৮০টি কিনলে ৫টি ফ্রি’-এর মতো জটিল অফারের কথা বলা।
- ওজন ও হিসাব ক্রেতার চোখের আড়ালে করার সময় বিনামূল্যের নমুনা বা উপহার দিয়ে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া।
- রসিদে শুধু মোট অঙ্ক লেখা, একক ও ওজনের খুঁটিনাটি না থাকা।
- পরিচিত পণ্যের মতো দেখতে প্যাকেজিং বা ব্র্যান্ডিং, অথচ পণ্যটি আসলে একই নয়।
সৎ দোকান সহজ ভাষায় একক ব্যাখ্যা করবে, পণ্য প্রক্রিয়াজাত করার আগে প্রতি এককের দাম ও মোট খরচ লিখে দেবে এবং ক্রেতাকে ওজন মাপার যন্ত্রের হিসাব যাচাই করতে বলবে। কোনো ব্যবসায়ী এসব করতে আপত্তি জানালে তাঁর সঙ্গে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।
কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন এবং বেশি টাকা নিলে কী করবেন
কেনার আগে কর্মীকে পণ্যের নামের পাশে একক ও প্রতি এককের দাম লিখে দিতে বলুন। এরপর আপনার সামনে সঠিক মোট দাম নিশ্চিত করুন। এককের দিকে আঙুল দেখিয়ে সেটি জোরে বলুন, যাতে ভুল শোনা না হয়। দোকানে প্রচলিত চীনা একক ব্যবহার করা হলে গ্রামে তার মেট্রিক সমতুল্য জানতে চান। লিখিতভাবে মোট দাম নিশ্চিত হওয়ার আগে পণ্য গুঁড়ো, কাটা বা সিল করতে দেবেন না। মূল্যফলক ও ওজন মাপার যন্ত্রের প্রদর্শনের ছবি তুলুন। সব প্যাকেজিং, লেবেল ও রসিদ রেখে দিন। সম্ভব হলে নগদের বদলে কার্ডে মূল্য পরিশোধ করুন, কারণ কার্ডের লেনদেনে অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকে। সুনামধন্য ব্যবসায়ী বেছে নিন এবং ‘নো ফেকস’ অঙ্গীকারের স্টিকারটি চলতি বছরের কি না যাচাই করুন।
বিরোধ দেখা দিলে
শান্ত থাকুন এবং ব্যবস্থাপককে ডাকুন। একক, প্রতি এককের দাম, ওজন ও মোট দাম উল্লেখ করে লিখিত হিসাব চান। কর্মীরা আপনার সম্মতি না দেওয়া কোনো এককের কথা জোর দিয়ে বললে, লেবেলের ছবি বা আপনার কাছে থাকা লিখিত নিশ্চয়তা দেখান। কেউ ভয় দেখালে বা বের হতে বাধা দিলে পুলিশকে ফোন করুন। নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পারলে মধ্যস্থতার জন্য কনজ্যুমার কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বাণিজ্য বিবরণ অধ্যাদেশ লঙ্ঘনের সম্ভাব্য ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব হংকং কাস্টমসের, তাই তাদের কাছে অভিযোগ জানানোর কথাও বিবেচনা করুন। কার্ডে মূল্য পরিশোধ করে থাকলে দ্রুত কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে জানান এবং সব ছবি ও রসিদ জমা দিন।
‘নো ফেকস’ অঙ্গীকার সম্পর্কে জানুন
‘নো ফেকস’ অঙ্গীকার হলো এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রদর্শিত মানচিহ্ন, যারা আসল পণ্য বিক্রি এবং মেধাস্বত্বের অধিকারকে সম্মান করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি কম দাম বা নিখুঁত সেবার নিশ্চয়তা নয়, তবে কোথায় কেনাকাটা করবেন তা বেছে নেওয়ার সময় এটি একটি সহায়ক সংকেত। স্টিকারটি চলতি বছরের জন্য বৈধ কি না এবং দোকানের নাম সনদের সঙ্গে মেলে কি না যাচাই করুন। কেনার আগে একক ও মোট দাম নিজে যাচাই করার পাশাপাশি এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখুন।
হংকংয়ের পর্যটনের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ
খাবার, কেনাকাটা ও নির্ভরযোগ্য সেবার আশায় পর্যটকেরা হংকংয়ে আসেন। বিভ্রান্তিকর মূল্যফলক ব্যবহার বা আগ্রাসী বিক্রয়কৌশল চালানো অল্প কিছু দোকান মানুষের সেই আস্থা নষ্ট করে এবং সামগ্রিক খুচরা ব্যবসার ওপর ছায়া ফেলতে পারে। ভোক্তা অধিকারকর্মীদের মতে, এককের স্পষ্ট লেবেল, আগেভাগে মোট দাম জানানো এবং নির্ভুল রসিদ দেওয়া সহজ কিছু পদক্ষেপ, যা ক্রেতা ও সৎ ব্যবসায়ী উভয়কেই সুরক্ষা দেয়। তারপরও সমস্যা হলে স্বচ্ছ মধ্যস্থতা ও কঠোর আইন প্রয়োগ এ বার্তা দেয় যে ন্যায্য লেনদারকে শহরটি গুরুত্ব দেয়। চলতি সপ্তাহে আলোচনায় আসা ঘটনাটির পর মধ্যস্থতায় টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। কাউন্টারে দাম স্পষ্ট করে জানানো এবং ক্রেতাদের সম্মান দেখানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ও শিল্পখাতের সংগঠনগুলো এরই মধ্যে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- তাইল থেকে মাসে একক বদলের বিষয়টি বিল দেওয়ার সময় জানার পর সিঙ্গাপুরের এক পর্যটককে ভেষজের জন্য ৩০,৪০০ হংকং ডলার দিতে হয়।
- কনজ্যুমার কাউন্সিল অভিযোগটি নিয়ে কাজ করে। মধ্যস্থতার পর পণ্য ফেরত দিলে পুরো টাকা ফেরত দিতে দোকানটি সম্মত হয়।
- জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ফার্মেসি ও ওষুধের দোকানের বিরুদ্ধে ৫৪৮টি অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে ভোক্তা অধিকার সংস্থাটি, যা আগের বছরের কাছাকাছি।
- অস্পষ্ট এককের লেবেল, দ্রুত পণ্য প্রক্রিয়াজাত করা এবং বিভ্রান্তিকর প্যাকেজিং অভিযোগের নথিতে বারবার উঠে আসে।
- প্রচলিত এককের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ: এক তাইল ৩৭.৮ গ্রাম, এক মাস ৩.৭৮ গ্রাম। মাসে একক বদলালে চূড়ান্ত বিল বেড়ে যেতে পারে।
- কনজ্যুমার কাউন্সিল মধ্যস্থতা করে, আর প্রতারণার সন্দেহের ক্ষেত্রে বাণিজ্য বিবরণ অধ্যাদেশ কার্যকর করে হংকং কাস্টমস।
- ক্রেতাদের একক যাচাই, পণ্য প্রক্রিয়াজাত করার আগে লিখিত মোট দাম চাওয়া, রসিদ রাখা এবং চলতি বছরের ‘নো ফেকস’ স্টিকার থাকা সুনামধন্য দোকান বেছে নেওয়া উচিত।






