ফুরানোর রূপান্তর: নিরিবিলি শহর থেকে পর্যটনকেন্দ্র
জাপানের হোক্কাইডোর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ফুরানো গ্রীষ্মে মনোমুগ্ধকর ল্যাভেন্ডারক্ষেত আর শীতে বিশ্বমানের গুঁড়ো তুষারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। একসময় শান্ত কৃষিনির্ভর শহরটি এখন পর্যটন ও আবাসন উন্নয়নের জোয়ারের কেন্দ্রবিন্দুতে, যা এর ভূদৃশ্য, অর্থনীতি ও কমিউনিটিকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। ডেভেলপার ও বিনিয়োগকারীরা ক্রমেই ফুরানোকে পরবর্তী নিসেকো হিসেবে দেখছেন—এমন এক রিসোর্ট এলাকা, যার অভাবনীয় উত্থান স্কিয়ার ও আবাসন বিনিয়োগকারীদের কাছে একে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করেছে।
সূচিপত্র
- ফুরানোর রূপান্তর: নিরিবিলি শহর থেকে পর্যটনকেন্দ্র
- ফুরানোর পর্যটন ও আবাসন ব্যবসার উত্থানের পেছনে কী?
- জমির দাম আকাশছোঁয়া
- ফুরানোর দিকে ডেভেলপার ও বিনিয়োগকারীদের ঢল
- আবাসনের সক্ষমতা বাড়ছে
- পর্যটনে ফুরানোর কমিউনিটি কীভাবে বদলাচ্ছে?
- ব্যয় বৃদ্ধি ও উচ্ছেদ
- সামাজিক ও সাংস্কৃতিক টানাপোড়েন
- শ্রমিকসংকট ও অর্থনীতির পরিবর্তন
- বিনিয়োগকারীরা ফুরানোয় বাজি ধরছেন কেন?
- নিসেকোর সঙ্গে তুলনা
- টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে প্রবৃদ্ধির ভারসাম্য
- ফুরানোর সামনে কী?
- সংক্ষেপে
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফুরানোর আকর্ষণ তার চিরাচরিত মৌসুমি ভিড় ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছে। এখন সারা বছরই শহরটিতে পর্যটক আসেন; দেশি-বিদেশি ভ্রমণকারীরা ভিড় করেন এর স্কি ঢাল, ফুলের মাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। জনপ্রিয়তার এই উত্থানে আবাসন খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে, জমির দাম দ্রুত চড়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
ফুরানোর পর্যটন ও আবাসন ব্যবসার উত্থানের পেছনে কী?
বিভিন্ন কারণ একত্রে ফুরানোকে পর্যটন ও বিনিয়োগের আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত করেছে:
- সারা বছর আকর্ষণ: স্কি রিসোর্ট ও গ্রীষ্মের ফুলের গন্তব্য—ফুরানোর এই দ্বৈত পরিচয় শীত ও গ্রীষ্ম, দুই মৌসুমেই পর্যটক টানে। এ অঞ্চলের গুঁড়ো তুষার বিশ্বের সেরাগুলোর একটি; অন্যদিকে ল্যাভেন্ডারক্ষেত ও ঢেউখেলানো পাহাড়ি ভূদৃশ্য প্রকৃতির সৌন্দর্য ও বাইরের নানা কর্মকাণ্ডে আগ্রহী দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
- যাতায়াতের সুবিধা: সাপ্পোরো থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার দূরত্বে এবং বড় বিমানবন্দরগুলোর কাছাকাছি হওয়ায় দেশি-বিদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য ফুরানোতে পৌঁছানো সহজ।
- জাপানের খাঁটি অভিজ্ঞতা: কিছু আন্তর্জাতিক রিসোর্টের বিপরীতে, ফুরানোয় স্থানীয় রেস্তোরাঁ, উৎসব ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাসহ ঐতিহ্যবাহী জাপানি শহরের আবহ রয়েছে।
- বিনিয়োগের সম্ভাবনা: পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উচ্চমানের থাকার জায়গার স্বল্পতা—এই দুইয়ের ফলে নতুন হোটেল, কনডোমিনিয়াম ও অবকাশযাপনের বাড়ির চাহিদা জোরালো হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফুরানোতে এখন বছরে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার বিদেশি পর্যটক রাতযাপন করেন—গত এক দশকে যা ৪.২ গুণ বেড়েছে এবং মহামারির আগের মাত্রার চেয়ে ১.৭ গুণ বেশি। ২০২৩ সালে দেশি-বিদেশি পর্যটকের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮ লাখ ৯০ হাজারে, যা মহামারির আগের সর্বোচ্চ সংখ্যার কাছাকাছি।
জমির দাম আকাশছোঁয়া
ফুরানোর আবাসন বাজারে, বিশেষ করে স্কি রিসোর্টের পাদদেশে কিতানোমিনে এলাকায়, ব্যাপক উল্লম্ফন দেখা গেছে। পাঁচ বছরে কিতানোমিনে জমির দাম পাঁচ গুণ বেড়েছে; কিছু জমি প্রতি বর্গমিটার ২৫ লাখ ইয়েন পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। ২০২৩ সালে জেলাটিতে জমির সরকারি মানদামে বছরওয়ারি ২০.১ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়, যা হোক্কাইডোতে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং সারা দেশের সর্বোচ্চ বৃদ্ধিগুলোর একটি। স্কি ঢালের কাছাকাছি সরকারি মূল্যায়নেও এ বছর ২৭.১ শতাংশ উল্লম্ফন হয়েছে, যা বিখ্যাত নিসেকো অঞ্চলের বৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গেছে।
দামের এই নাটকীয় বৃদ্ধি শুধু ফুরানোতেই ঘটছে না। জাপানজুড়ে পর্যটননির্ভর গন্তব্যগুলোতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে সারা দেশে জমির গড় দাম ২.৭ শতাংশ বেড়েছে—এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দ্রুততম হারে। হাকুবা ও ফুরানোর মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলো এ বৃদ্ধিতে এগিয়ে রয়েছে।
ফুরানোর দিকে ডেভেলপার ও বিনিয়োগকারীদের ঢল
পর্যটনের এই উত্থানে দেশি-বিদেশি ডেভেলপারদের আগ্রহ বেড়েছে। উল্লেখযোগ্য সাম্প্রতিক প্রকল্প ও বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে:
- মেইওয়া জিশো (টোকিওভিত্তিক ডেভেলপার): কিতানোমিনে স্কি ঢালের কাছে ১,৫০০ বর্গমিটারের একটি জমি কিনেছে। গন্ডোলা থেকে মাত্র ৪০০ মিটার দূরে সেখানে হোটেল বা হোটেল-কনডোমিনিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জমিটির জোনিংয়ে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খুচরা দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নের সুযোগ আছে।
- ফেনিক্স ফুরানো: জেক্কেই প্রপার্টিজের নির্মিত কিতানোমিনের এই বিলাসবহুল স্কি-ইন স্কি-আউট কনডোমিনিয়ামে ৩৩টি ইউনিট ও ৬২টি কক্ষ রয়েছে। শীত ও গ্রীষ্ম—দুই মৌসুমের পর্যটকদের লক্ষ্য করে এটি গড়ে তোলা হয়েছে।
- ফুরানো লফটস অ্যান্ড শালে: স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ফ্লিন্ট ফুরানো ব্যক্তিগত অনসেন ও পাঁচ তারকা মানের সুবিধাসহ উচ্চমানের আবাসনের ব্যবস্থা করেছে।
- কুয়ুকান ইনকরপোরেটেডের শিকাউচি ফুরানো: স্বাচ্ছন্দ্য ও রোমাঞ্চের মিশেলে তৈরি বুটিক ধাঁচের ব্যক্তিগত বাড়িগুলো ফার্ম তোমিতা ও স্কি রিসোর্টের মাঝামাঝি অবস্থিত।
বিদেশি বিনিয়োগও বাড়ছে। ২০১৯ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কিতানোমিনের প্রায় ৫০টি জমির মালিক ছিলেন বিদেশি ক্রেতারা; সেই সংখ্যা এরপর সম্ভবত আরও বেড়েছে। জেলাজুড়ে “FOR SALE” লেখা সাইনবোর্ড ও বিদেশি ভাষার সাইনেজের সংখ্যা বাড়ায় আন্তর্জাতিক পুঁজির আগমন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আবাসনের সক্ষমতা বাড়ছে
চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে ফুরানোর হোটেলগুলোতে শয্যাসংখ্যা ২০২৩ সালের ৫,৪০০ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৬,৪০০ হওয়ার কথা। নতুন হোটেল, কনডোমিনিয়াম ও বুটিক আবাসন নির্মাণাধীন রয়েছে; স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক—দুই ধরনের ব্র্যান্ডই এ বাজারে অবস্থান নিতে চাইছে।
পর্যটনে ফুরানোর কমিউনিটি কীভাবে বদলাচ্ছে?
পর্যটন ও আবাসন ব্যবসার উত্থানে সমৃদ্ধি ও নতুন সুযোগ এসেছে; পাশাপাশি ফুরানোর দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের মধ্যে টানাপোড়েন ও নানা চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে।
ব্যয় বৃদ্ধি ও উচ্ছেদ
জমির দাম আকাশছোঁয়া হওয়া এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে কিছু স্থানীয় বাসিন্দার পক্ষে সম্পত্তি কেনা বা নিজেদের এলাকায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার জায়গায় আধুনিক নকশার নতুন ভবন গড়ে ওঠায় কেউ কেউ শহরের পুরোনো সৌন্দর্য হারানোর আক্ষেপ করছেন। গত এক দশকে ফুরানোর জনসংখ্যা ২৩ হাজার থেকে কমে ১৯ হাজার হয়েছে, যদিও বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বেড়ে পাঁচ গুণ হয়েছে।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক টানাপোড়েন
বিদেশি পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের আগমনে সাংস্কৃতিক ভুল-বোঝাবুঝি ও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। কিছু দর্শনার্থী স্থানীয় রীতিনীতি, যেমন আবর্জনা আলাদা করে ফেলা এবং সড়কে নিরাপদে চলাচলের নিয়ম সম্পর্কে জানেন না। মনোরম ছবি তোলার জন্য কৃষিজমিতে অনধিকার প্রবেশ স্থানীয় কৃষকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া ব্যাককান্ট্রি স্কিইং দুর্ঘটনায় জড়িত বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে; এসব দুর্ঘটনায় ব্যয়বহুল উদ্ধারকাজের খরচ প্রায়ই করদাতাদের অর্থে মেটানো হয়।
দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক মিসেস সাতো তাঁর উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন:
“আগে ফুরানো ছিল এমন এক শান্ত জায়গা, যেখানে সবাই সবাইকে চিনত। এখন মনে হয়, এ যেন অন্য এক শহর। নতুন হোটেলগুলো সুন্দর, কিন্তু ফুরানোকে যে বিষয়গুলো বিশেষ করে তুলেছে, সেগুলো যেন আমরা হারিয়ে না ফেলি।”
শ্রমিকসংকট ও অর্থনীতির পরিবর্তন
অর্থনৈতিক উত্থান সত্ত্বেও ফুরানোয়, বিশেষ করে আতিথেয়তা ও নির্মাণ খাতে, তীব্র শ্রমিকসংকট রয়েছে। কর্মীর অভাবে কিছু হোটেল পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। স্থানীয় উচ্চবিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করে শহর ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। তাদের থেকে যেতে উৎসাহিত করতে নগর কর্তৃপক্ষ চাকরির মেলা ও হাতে-কলমে কাজের অভিজ্ঞতার আয়োজন করছে।
বিনিয়োগকারীরা ফুরানোয় বাজি ধরছেন কেন?
সারা বছর পর্যটক সমাগম, স্থানীয় সংস্কৃতির স্বকীয়তা এবং পুঁজি বৃদ্ধির সম্ভাবনা—এই অনন্য সমন্বয় ফুরানোকে আবাসন খাতের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। “গ্রিন সিজনে” হিমশিম খাওয়া অনেক স্কি রিসোর্টের বিপরীতে, ফুরানোয় গ্রীষ্মকালীন পর্যটকের সংখ্যা শীতের চেয়েও বেশি। বিখ্যাত ফুলের মাঠ দেখতে এখানে ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ আসেন। এতে সারা বছর ভাড়া থেকে আয়ের সুযোগ তৈরি হয়, যা জাপানের অন্যান্য রিসোর্ট থেকে ফুরানোকে আলাদা করেছে।
ফুরানোর যাতায়াতব্যবস্থা, অবকাঠামো এবং পর্যটন উন্নয়নে শহরটির সক্রিয় উদ্যোগও ডেভেলপারদের আকর্ষণ করছে। নিসেকোর উত্থানে বড় ভূমিকা রাখা হোক্কাইডো ট্র্যাকস রিসোর্ট প্রপার্টিজের মতো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের উপস্থিতি ফুরানোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থার ইঙ্গিত দেয়।
নিসেকোর সঙ্গে তুলনা
আন্তর্জাতিক স্কি গন্তব্যে নিসেকোর রূপান্তর ফুরানোর জন্য নজির তৈরি করেছে। তবে ফুরানোর অভিজ্ঞতা ভিন্ন—এখানে রোদ বেশি, শহরের কেন্দ্র থেকে সহজে নানা সুযোগ-সুবিধায় পৌঁছানো যায় এবং পরিবেশটি তুলনামূলকভাবে কম আন্তর্জাতিকায়িত, বেশি “জাপানি”। জাপানের রিসোর্ট আবাসন খাতের পরবর্তী বড় সম্ভাবনায় শুরুতেই বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে ফুরানোকে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে প্রবৃদ্ধির ভারসাম্য
ফুরানোর পরিচিতি যত বাড়ছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। টেকসই পর্যটনচর্চা, দায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, ডেভেলপার ও কমিউনিটি সংগঠনগুলো ক্রমেই সচেতন হচ্ছে।
যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে:
- দায়িত্বশীল পর্যটন উৎসাহিত করা এবং দর্শনার্থীদের স্থানীয় রীতিনীতি সম্পর্কে সচেতন করা
- জনসংখ্যা হ্রাস ঠেকাতে স্থানীয় তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো
- স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করা এবং শহরের স্বকীয়তা ধরে রাখা
- প্রবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে জোনিং ও উন্নয়নবিষয়ক বিধিমালা কার্যকর করা
ফুরানোর একজন প্রধান বিনিয়োগকারী ইশিই বলেন:
“প্রকৃতি, সংস্কৃতি, রোমাঞ্চ ও বিশ্রাম—সবার জন্য কিছু না কিছু দেওয়ার ক্ষমতাতেই ফুরানোর সম্ভাবনা নিহিত। তবে প্রবৃদ্ধির সুফল যেন কেবল কয়েকজন নয়, সবাই পায়, তা নিশ্চিত করতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
ফুরানোর সামনে কী?
ফুরানোর রূপান্তর এখনো চলছে। আরও হোটেল প্রকল্পের পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সারা বছরের গন্তব্য হিসেবে ক্রমবর্ধমান পরিচিতির কারণে শহরটির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল মনে হচ্ছে। তবে টেকসই উন্নয়নের পথ গড়ে তুলতে দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের মতামত এবং নিসেকোর মতো অন্য রিসোর্ট শহরের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে ফুরানোর সামনে প্রশ্ন রয়ে গেছে: বিশ্ব পর্যটন ও বিনিয়োগের সুযোগ গ্রহণ করেও কি শহরটি তার স্বকীয় আকর্ষণ ও কমিউনিটির সংহতি ধরে রাখতে পারবে?
সংক্ষেপে
- সারা বছরের আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে হোক্কাইডোর ফুরানোয় পর্যটন ও আবাসন উন্নয়নের জোয়ার চলছে।
- কিতানোমিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পাঁচ বছরে জমির দাম পাঁচ গুণ বেড়েছে, যা নিসেকোর মতো প্রতিষ্ঠিত রিসোর্টকেও ছাড়িয়ে গেছে।
- নতুন হোটেল, কনডোমিনিয়াম ও বিলাসবহুল আবাসন নির্মাণের মধ্যে দিয়ে ডেভেলপার ও বিনিয়োগকারীরা ফুরানোয় ভিড় করছেন।
- এই উত্থানে সমৃদ্ধি এলেও ব্যয় বৃদ্ধি, শ্রমিকসংকট ও সাংস্কৃতিক টানাপোড়েনের মতো চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
- প্রবৃদ্ধির সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ফুরানোর স্বকীয়তা ধরে রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
- জাপানের শীর্ষ রিসোর্ট গন্তব্য হিসেবে ফুরানোর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে কমিউনিটি, ডেভেলপার ও নীতিনির্ধারকদের সহযোগিতার ওপর।






