যে বিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে
২০২৫ সালের জুলাইয়ে হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলার শান্ত হিমালয়ঘেরা গ্রাম শিল্লাই জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। স্থানীয়দের কাছে সাধারণ হলেও ভারতের বাকি অংশের কাছে ছিল অসাধারণ—এমন এক বিয়েতে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন: সুনীতা চৌহান বিয়ে করেন এক নয়, দুই ভাই প্রদীপ ও কপিল নেগিকে। হাট্টি জনজাতির প্রাচীন বহুপতিত্বের রীতি মেনেই এই বিয়ে হয়। লোকগান, ঢোলের বাদ্য আর সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে ভরা তিন দিনের উদ্যাপন এমন এক প্রথা নিয়ে জনপরিসরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়, যা শতাব্দীপ্রাচীন হলেও ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে।
সূচিপত্র
- যে বিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে
- বহুপতিত্ব কী এবং এখানে এর প্রচলন কেন?
- বাস্তবে বহুপতিত্ব কীভাবে চলে?
- আইনি অবস্থান: ঐতিহ্য বনাম আধুনিক আইন
- পরিবর্তিত মনোভাব ও বহুপতিত্বের অবক্ষয়
- সম্মতি, লিঙ্গ ও সামাজিক বিতর্ক
- হাট্টি জনজাতির বাইরেও বহুপতিত্ব
- আচার, সম্প্রদায় ও বিয়ের অর্থ
- বিতর্ক ও বহুপতিত্বের ভবিষ্যৎ
- সংক্ষেপে
কুনহাট গ্রামের উচ্চশিক্ষিত নারী সুনীতা এবং তাঁর স্বামীরা জোরজবরদস্তি ছাড়াই পারস্পরিক সিদ্ধান্তে এই বিয়ে করেছেন বলে জানান। সরকারি কর্মী প্রদীপ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত।” বিদেশে কর্মরত কপিলও একই মনোভাব জানান। তাঁদের এই ব্যবস্থায় যে সহায়তা, স্থিতিশীলতা ও ভালোবাসা রয়েছে, তা তুলে ধরেন তিনি। পরিবারটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আর কথা বলতে রাজি হয়নি। এতে বোঝা যায়, তাঁদের কাছে বিষয়টি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিগত ব্যাপার।
বহুপতিত্ব কী এবং এখানে এর প্রচলন কেন?
বহুপতিত্ব হলো একজন নারীর একাধিক পুরুষকে বিয়ে করার প্রথা; সাধারণত সেই পুরুষেরা ভাই হন। এই ব্যবস্থাকে ভ্রাতৃবহুপতিত্ব বলা হয়। হাট্টি জনজাতির মধ্যে এই প্রথা জোড়িদারা বা জাজদা নামে পরিচিত। বিশ্বজুড়ে বহুপতিত্ব বিরল হলেও ভারত, নেপাল ও তিব্বতের হিমালয় অঞ্চলে এর শিকড় গভীর। হিমাচল প্রদেশ ও প্রতিবেশী উত্তরাখণ্ডের ৪৫০টি গ্রামে প্রায় ৩ লাখ মানুষের বসবাসকারী হাট্টি সম্প্রদায়ে একসময় বহুপতিত্বের প্রচলন ছিল ব্যাপক; হিমাচল প্রদেশের রাজস্ব আইনেও এখনো এর স্বীকৃতি রয়েছে।
এই প্রথার উৎস ব্যবহারিক ও পৌরাণিক—দুই ধরনের। স্থানীয়রা প্রায়ই হিন্দু মহাকাব্য মহাভারত-এর কথা বলেন, যেখানে দ্রৌপদী পাঁচ পাণ্ডব ভাইকে বিয়ে করেন। তাঁদের এই রীতির নজির হিসেবে দেখা হয়। হাট্টিরা নিজেদের প্রথাকে দ্রৌপদী বিবাহ বা পাণ্ডব প্রথা বলে এবং নিজেদের পাণ্ডবদের বংশধর মনে করেন। তবে এর প্রকৃত চালিকাশক্তি অর্থনৈতিক ও সামাজিক: হিমালয়ের খাড়া ও খণ্ডিত পাহাড়ে জমি অপ্রতুল এবং চাষাবাদ কঠিন। প্রত্যেক ভাই আলাদাভাবে বিয়ে করলে পৈতৃক জমি আরও ছোট ছোট খণ্ডে ভাগ হয়ে যেত, যা পরিবারের টিকে থাকাকে হুমকির মুখে ফেলত। বহুপতিত্বে জমির মালিকানা অখণ্ড থাকে, যৌথ পরিবারের কাঠামো বজায় থাকে এবং সম্পদস্বল্প পরিবেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।
কেন্দ্রীয় হাট্টি সমিতির সাধারণ সম্পাদক কুন্দন সিং শাস্ত্রী বলেন, “পরিবারের কৃষিজমি আরও ভাগ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে হাজার হাজার বছর আগে এই প্রথার উদ্ভাবন হয়েছিল।” এই ব্যবস্থা ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়াও জোরদার করে, কারণ ভাইয়েরা শুধু স্ত্রীই ভাগ করে নেন না, দায়িত্ব ও সম্পদও ভাগ করে নেন।
বাস্তবে বহুপতিত্ব কীভাবে চলে?
হাট্টিদের প্রচলিত বহুপতিত্বের বিয়েতে স্ত্রী সামাজিকভাবে বড় ভাইয়ের সঙ্গে বিবাহিত হন, তবে তাঁর ভাইদেরও স্ত্রী হয়ে ওঠেন। জনসমক্ষে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। এর আচারগুলোর মধ্যে রয়েছে সীঞ্জ—যেখানে পুরোহিত মন্ত্র পাঠ করেন, পবিত্র জল ছিটিয়ে দেন এবং আশীর্বাদ ও সম্প্রীতির জন্য গুড় নিবেদন করেন। শোভাযাত্রায় কনেকে বরের গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়; গান, নাচ ও ভোজের মধ্য দিয়ে বিয়ে উদ্যাপন করা হয়।
পরিবারের ভেতরে ঘনিষ্ঠতা ও দৈনন্দিন জীবন পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। হিমাচল প্রদেশের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী এবং হিমালয় অঞ্চলের বহুপতিত্ব নিয়ে গবেষক ওয়াই.এস. পারমারের গবেষণা অনুযায়ী, সাধারণত স্ত্রীই ঠিক করেন স্বামীদের মধ্যে কীভাবে তাঁর সময় ভাগ হবে। কোনো কোনো পরিবারে ঘরের বাইরে রাখা টুপি বা জুতা সংকেত দেয়, তিনি কোন স্বামীর সঙ্গে আছেন; তবে দরিদ্র পরিবারে সবাই একই ঘরে ঘুমাতে পারেন। সন্তানদের সব ভাইয়ের যৌথ দায়িত্ব বলে মনে করা হয়, যদিও সরকারি নথিতে সাধারণত বড় ভাইকে বাবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্ত্রী সংসার, খেতের কাজ ও পারিবারিক বিষয় সামলান। কাজের চাপ অতিরিক্ত হলে তিনি আরেক নারীকে পরিবারে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করতে পারেন—তিনিও সব ভাইয়ের স্ত্রী হন।
সম্প্রদায়ের সদস্যদের দাবি, স্নেহ ও দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ করা হলে এই ব্যবস্থা ঐক্য বাড়ায় এবং ঈর্ষা কমায়। কোনো বিরোধ দেখা দিলে সাধারণত আনুষ্ঠানিক আইনি পথে না গিয়ে সম্প্রদায়ের মধ্যেই তার মীমাংসা হয়।
আইনি অবস্থান: ঐতিহ্য বনাম আধুনিক আইন
১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইনে বহুপতিত্বের স্বীকৃতি নেই; এই আইন হিন্দুদের জন্য একগামিতাকে বাধ্যতামূলক করেছে। তবে ভারতীয় আইনে জনজাতীয় রীতি ও ঐতিহ্য সুরক্ষার সুযোগ রয়েছে। কথিত জোড়িদার আইন-এর অধীনে হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট হাট্টি জনজাতির মধ্যে এই প্রথার বৈধতা বহাল রেখেছে। রাজ্যের রাজস্ব নথিতে বহুপতিত্বের বিয়ের স্বীকৃতি রয়েছে। এ ধরনের বিয়েতে জন্ম নেওয়া সন্তানদের ওয়াজিব-উল-আর্জ-এর অধীনে দত্তক হিসেবে গ্রহণ করা হয়—এটি গ্রাম্য রীতিনীতির নথি, যা এই প্রথাকে একধরনের আইনি বৈধতা দেয়।
জোড়িদারার মতো রীতিনীতি সুরক্ষার লক্ষ্যে আংশিকভাবে ২০২২ সালে সংসদ হাট্টি সম্প্রদায়কে তফসিলি জনজাতির মর্যাদা দেয়। তা সত্ত্বেও আইনি পরিস্থিতি জটিল। বেশির ভাগ ভারতীয়ের জন্য বহুপতিত্ব কারিগরিভাবে বেআইনি হলেও, হাট্টিদের মতো জনজাতীয় সম্প্রদায় বিশেষ আইনি ছাড়ের আওতায় নিজেদের ঐতিহ্য চালিয়ে যেতে পারে। ফলে জনজাতীয় এলাকায় বহুপতিত্বের বিয়ে সামাজিক ও অনানুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলেও মূলধারার আইনি কাঠামোর বাইরে থেকে যাচ্ছে।
পরিবর্তিত মনোভাব ও বহুপতিত্বের অবক্ষয়
গভীর শিকড় থাকা সত্ত্বেও বহুপতিত্ব দ্রুত কমে আসছে। শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শহরমুখী অভিবাসন এবং আধুনিক মূল্যবোধের সংস্পর্শ—সবই মানুষের মনোভাব বদলাতে ভূমিকা রেখেছে। হাট্টি সম্প্রদায়ের অনেক তরুণ-তরুণী এখন একগামিতাকে বেশি পছন্দ করেন। বহুপতিত্বের বিয়েও ক্রমেই গোপনে সম্পন্ন হচ্ছে, অথবা একেবারেই হচ্ছে না। গত এক দশকে এই অঞ্চলে ৫০টিরও কম এ ধরনের বিয়ের খবর পাওয়া গেছে।
একাধিক ভাইয়ের সঙ্গে বিবাহিত সুনীলা দেবী ও মীনা দেবীর মতো নারীরা এই ব্যবস্থার মানসিক ও শারীরিক চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করেন। দুজনই বলেন, তাঁরা চান না তাঁদের সন্তানেরা এই প্রথা চালিয়ে যাক। মীনার ভাষায়, “টিকে থাকার জন্য আমরা এটা করেছি, কিন্তু আমাদের সন্তানদের আরও ভালো সুযোগ পাওয়া উচিত।”
গ্রামের প্রবীণ ও সম্প্রদায়ের নেতারা স্বীকার করেন, এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। তবে কেউ কেউ পারিবারিক ঐক্য বজায় রাখতে এবং ছোট ছোট জমির মালিকানা রক্ষা করতে এর প্রচলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। ট্রান্স-গিরি এলাকার প্রায় ১৫০টি গ্রামে বহুপতিত্ব এখনো গ্রহণযোগ্য, যদিও অনেক সময় তা গোপনে পালন করা হয়।
সম্মতি, লিঙ্গ ও সামাজিক বিতর্ক
শিল্লাইয়ের সাম্প্রতিক বিয়েটি শুধু ঐতিহ্য মেনে হওয়ার কারণেই উল্লেখযোগ্য ছিল না; বিয়েতে অংশগ্রহণকারীরা সম্মতি ও সমতার কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন। সুনীতা চৌহান প্রকাশ্যে জানান, পারস্পরিক অঙ্গীকার ও যত্নের ভিত্তিতে বিয়েটি করা তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত। ভাইয়েরা সংবেদনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান ও মানসিক ভারসাম্যের ওপর জোর দেন। সম্পর্ককে বোঝার ক্ষেত্রে এই আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি জনজাতীয় সম্প্রদায়ে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে এখন প্রকাশ্যেই সম্মতির কথা বলা হচ্ছে।
তবে সম্মতির বিষয়টি জটিল। কিছু নারী জোরজবরদস্তির শিকার হননি বলে জানালেও, অন্যরা স্মরণ করেন যে পরিবার বা অর্থনৈতিক প্রয়োজনের চাপে তাঁরা এই বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন। ষাটের কোঠায় থাকা এক নারী সম্পত্তি ভাগ হওয়া ঠেকাতে দুই ভাইকে বিয়ে করতে বাধ্য হওয়ার কথা জানান। তিনি এটিকে জবরদস্তি নয়, চাপ হিসেবে বর্ণনা করেন। লিঙ্গবৈষম্য এখনো আছে: পুত্রসন্তানের জন্ম উদ্যাপন করা হয়, আর কন্যাসন্তানের জন্ম প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই.এস. পারমারসহ সমালোচকেরা এই ব্যবস্থায় নারীর অধিকার ও স্বায়ত্তশাসন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন, যদিও কেউ কেউ বহুপতিত্বের সঙ্গে আধুনিক লিভ-ইন সম্পর্কের তুলনা করেন।
শিল্লাইয়ের বিয়েটি জনসমক্ষে হওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ায় ঐতিহ্য, বিয়ে, লিঙ্গ ও আইনি রীতিনীতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যে দেশে একগামী হিন্দু বিবাহই আইনি ও নৈতিক মানদণ্ড, সেখানে বহুপতিত্বের বিয়ে ভারতীয় পারিবারিক জীবন সম্পর্কে একরৈখিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। পাশাপাশি, ভালোবাসা ও আত্মীয়তার নানা ধরনকে আইনে কতটা জায়গা দেওয়া সম্ভব, সেই প্রশ্নও তোলে।
হাট্টি জনজাতির বাইরেও বহুপতিত্ব
বহুপতিত্ব চর্চা করা একমাত্র হিমালয়ি সম্প্রদায় হাট্টিরা নয়। হিমাচল প্রদেশের কিন্নর, উত্তরাখণ্ডের জৌনসার-বাওয়ার অঞ্চল এবং নেপাল ও তিব্বতের কিছু অংশেও এ ধরনের ঐতিহ্য রয়েছে। এসব অঞ্চলে পাহাড়ি কৃষির চ্যালেঞ্জ, সীমিত সম্পদ ও যৌথ পরিবারের কাঠামো বজায় রাখার প্রয়োজনের বাস্তবসম্মত প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই প্রথার উদ্ভব হয়েছিল। নৃবিজ্ঞানীদের মতে, বহুপতিত্ব জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে; এতে সন্তানের সংখ্যা সীমিত থাকে এবং সম্পদ সাশ্রয় হয়।
সময়ের সঙ্গে আইনি পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে হিমালয়জুড়ে বহুপতিত্ব কমে এসেছে। ভারতে উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী এখন পুরুষ ভাইবোনদের মধ্যে সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করতে হয়, যা যৌথ বিয়ের প্রণোদনা আরও কমিয়ে দিয়েছে। তবু কিছু দুর্গম গ্রামে প্রথাটি টিকে আছে; রীতিগত আইন ও সম্প্রদায়ের ঐকমত্যে তা সুরক্ষিত।
আচার, সম্প্রদায় ও বিয়ের অর্থ
হাট্টি সম্প্রদায়ের বহুপতিত্বের বিয়ে বেশ জাঁকজমকপূর্ণ হয়; এতে প্রাচীন আচার ও স্থানীয় রীতিনীতির মেলবন্ধন ঘটে। জাজদা অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর শোভাযাত্রায় কনের আগমন ঘটে। এরপর বরের বাড়িতে হয় সীঞ্জ আচার। পুরোহিত মন্ত্র পাঠ করেন, পবিত্র জল ছিটিয়ে দেন এবং আশীর্বাদ ও সম্প্রীতির জন্য গুড় নিবেদন করেন। পরে গান, নাচ ও সবার অংশগ্রহণে ভোজের মধ্য দিয়ে বিয়ে উদ্যাপন করা হয়; এতে আত্মীয়তা ও সম্প্রদায়ের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
অনেক হাট্টির কাছে বহুপতিত্ব শুধু বিয়ের ব্যবস্থা নয়, বরং ঐক্য, যৌথ দায়িত্ব ও সাংস্কৃতিক গর্বের প্রতীক। কপিল নেগি বলেন, “একটি ঐক্যবদ্ধ পরিবার হিসেবে আমরা আমাদের স্ত্রীর জন্য সহায়তা, স্থিতিশীলতা ও ভালোবাসা নিশ্চিত করছি।” এই প্রথাকে সম্প্রীতি বজায় রাখা, বিরোধ ঠেকানো এবং কোনো নারী যাতে বিধবা বা অসহায় না হয়ে পড়েন তা নিশ্চিত করার উপায় হিসেবে দেখা হয়।
বিতর্ক ও বহুপতিত্বের ভবিষ্যৎ
হিমাচল প্রদেশে বহুপতিত্বের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য ও নেতা একে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সংরক্ষণের পক্ষে; অন্যরা একে আধুনিক মূল্যবোধ ও নারীর অধিকারের সঙ্গে অসংগত পুরোনো প্রথা মনে করেন। বহুপতিত্বের আইনি অস্পষ্টতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে; ঐতিহ্য ও ব্যক্তিস্বাধীনতার দ্বন্দ্বও এর সঙ্গে যুক্ত।
শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি তরুণ-তরুণী একগামী বিয়ে বেছে নিচ্ছেন এবং শহরে চলে যাচ্ছেন। বহুপতিত্বের বিয়ে এখন বিরল এবং প্রায়ই গোপনে সম্পন্ন হয়। তবু যারা এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে এটি তাঁদের পরিচয় ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তির উৎস হয়ে আছে।
সম্মতি ও পারস্পরিক সম্মানের ওপর জোর দেওয়া শিল্লাইয়ের বিয়ে বহুপতিত্বের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিতে পারে—যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতা পাশাপাশি থাকবে এবং সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে নারী ও পুরুষের কণ্ঠস্বর।
সংক্ষেপে
- একজন নারীর একাধিক ভাইকে বিয়ে করার প্রথা বহুপতিত্ব হিমাচল প্রদেশের হাট্টি জনজাতির প্রাচীন ঐতিহ্য; স্থানীয়ভাবে এটি জোড়িদারা বা জাজদা নামে পরিচিত।
- হিমালয় অঞ্চলে অপ্রতুল জমির বিভাজন ঠেকানো, যৌথ পরিবারের কাঠামো বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য এই প্রথার উদ্ভব হয়েছিল।
- সুনীতা চৌহান ও নেগি ভাইদের বিয়ের মতো সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলো এই প্রথা, সম্মতি ও লিঙ্গভূমিকা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
- হিমাচল প্রদেশের রাজস্ব আইনে বহুপতিত্বের স্বীকৃতি রয়েছে এবং জনজাতীয় সম্প্রদায়ের জন্য এটি সুরক্ষিত; তবে ভারতের সাধারণ আইনে এটি অনুমোদিত নয়।
- শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তনে ঐতিহ্যটি কমে আসছে, যদিও কারও কারও কাছে এটি সাংস্কৃতিক গর্বের উৎস।
- আধুনিক বহুপতিত্বের বিয়েতে সম্মতি ও স্বায়ত্তশাসনের ওপর ক্রমেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে, তবে নারীর অধিকার ও সামাজিক চাপ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
- হাট্টি সম্প্রদায়ে বহুপতিত্বের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত; সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আধুনিকায়নের শক্তির মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে হচ্ছে।






