জনসংখ্যাগত সংকটের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় পিতৃত্বকালীন ছুটি নিচ্ছেন ক্রমবর্ধমান সংখ্যক বাবা

পড়তে 9 মিনিট
জনসংখ্যাগত সংকটের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় পিতৃত্বকালীন ছুটি নিচ্ছেন ক্রমবর্ধমান সংখ্যক বাবা

জনসংখ্যাগত সংকটের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় পিতৃত্বকালীন ছুটি নিচ্ছেন ক্রমবর্ধমান সংখ্যক বাবা

দক্ষিণ কোরিয়ায় পারিবারিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান সংখ্যক বাবা পিতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এই প্রবণতা সমাজের পরিবর্তিত মনোভাব এবং দেশের চলমান জনসংখ্যাগত সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার প্রতিফলন। দেশটির জন্মহার ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে এবং জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় নীতিনির্ধারক ও পরিবারগুলো ঐতিহ্যগত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা এবং কাজ ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবছে।

সূচিপত্র
  1. জনসংখ্যাগত সংকটের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় পিতৃত্বকালীন ছুটি নিচ্ছেন ক্রমবর্ধমান সংখ্যক বাবা
  2. পিতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে কেন?
  3. সামাজিক রীতিনীতি ও কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন
  4. নীতিগত সংস্কার: মাতৃত্ব সুরক্ষা থেকে লিঙ্গসমতা
  5. এই নীতিগুলো কতটা কার্যকর?
  6. জনসংখ্যাগত সংকট: দক্ষিণ কোরিয়ার জন্মহার এত কম কেন?
  7. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধা
  8. সাম্প্রতিক প্রবণতা: আশার ক্ষীণ আলো?
  9. বৃহত্তর প্রভাব: লিঙ্গসমতা ও কাজ-জীবনের ভারসাম্য
  10. সংক্ষেপে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়া কোরীয় বাবার সংখ্যা বেড়েছে। এতে সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রে বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর কর্মসংস্কৃতি এবং মাতৃত্ব ও পিতৃত্ব নিয়ে গভীরভাবে প্রোথিত প্রত্যাশার বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত সমাজে লিঙ্গসমতা এগিয়ে নেওয়া এবং কর্মজীবী বাবা-মাকে সহায়তার পথে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পিতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে কেন?

কোরীয় বাবাদের মধ্যে পিতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার হার বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করছে: সরকারি নীতির সংস্কার, কর্মক্ষেত্রের রীতিনীতির পরিবর্তন এবং তরুণ প্রজন্মের বদলে যাওয়া মনোভাব। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে ছুটি নেওয়া কোরীয় বাবা-মায়ের সংখ্যা ১৪.২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২ লাখে দাঁড়ায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ছুটি গ্রহণকারীদের মধ্যে পুরুষের অনুপাত দ্রুত বেড়েছে—২০১৫ সালে মাত্র ৫.৬ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ২৮ শতাংশের বেশি হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, এখন এই হার ৩৬ শতাংশও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এই পরিবর্তন বিচ্ছিন্নভাবে ঘটছে না। দক্ষিণ কোরিয়ার মোট প্রজনন হার (টিএফআর)—একজন নারী গড়ে যত সন্তানের জন্ম দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হয়—বেশ কয়েক বছর ধরে বিশ্বের সর্বনিম্ন। ২০২৩ সালে তা কমে ০.৭২-এ দাঁড়ায়, এরপর ২০২৪ সালে সামান্য বেড়ে হয় ০.৭৫। জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে ২.১ প্রজনন হার প্রয়োজন। তাই দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কল্যাণব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন নীতিনির্ধারকদের কাছে এই পরিসংখ্যান সতর্কসংকেত হয়ে উঠেছে।

বাবাদের ছুটি নিতে উৎসাহিত করতে সরকারি উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে পাস হওয়া লিঙ্গসমতাভিত্তিক কর্মসংস্থান ও কাজ-পরিবারের ভারসাম্য আইন এবং শ্রমমান আইন সংশোধনের ফলে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বেতনসহ পিতৃত্বকালীন ছুটি ১০ দিন থেকে বাড়িয়ে ২০ দিন করা হবে। এই সংস্কারগুলো বাবা-মায়ের—বিশেষ করে বাবাদের—শিশুর প্রাথমিক যত্নে অংশ নেওয়া সহজ করা এবং জন্মহার কমে যাওয়ার প্রবণতা উল্টে দেওয়ার বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক রীতিনীতি ও কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন

ঐতিহাসিকভাবে দক্ষিণ কোরীয় সমাজে শিশুর যত্নের দায়িত্ব প্রায় পুরোপুরি মায়েদের ওপর বর্তেছে, আর বাবাদের কাছ থেকে কাজে মনোযোগ দেওয়ার প্রত্যাশা করা হয়েছে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, পরিবারভিত্তিক পরিচর্যার প্রতি প্রবল ঝোঁক এবং আনুষ্ঠানিক শিশুযত্নসেবার প্রতি সংশয়—সব মিলিয়ে দ্বৈত উপার্জনকারী পরিবারগুলোর পক্ষে দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।

একাডেমিক গবেষণায় দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছুটি নেওয়া বাবার সংখ্যা পাঁচ গুণ বাড়লেও অনেকে এখনো একেবারে শেষ উপায় হিসেবে ছুটি নেন—প্রায়ই অন্য কোনো শিশুযত্নের ব্যবস্থা না থাকলে। ছুটি শেষে কিছু বাবা বাড়িতে সক্রিয় ভূমিকা বজায় রাখার চেষ্টা করেন; পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে কাজের সময়সূচি বদলান, এমনকি চাকরিও পরিবর্তন করেন। অন্যরা অবশ্য কঠোর কর্মসূচিতে ফিরে যান এবং শিশুযত্নের জন্য দাদা-দাদি, নানা-নানি বা স্ত্রীর ওপর নির্ভর করেন।

এসব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও কর্মক্ষেত্রে কাজ ও পারিবারিক জীবনের সংস্কৃতি নিয়ে নারী-পুরুষ উভয়ের সন্তুষ্টি বেড়েছে। নমনীয় কর্মঘণ্টা ব্যবহারকারী পুরুষ কর্মীর অনুপাত ২০১৫ সালের ৪.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭.১ শতাংশ হয়েছে। ছোট সন্তান আছে এমন কর্মীদের সহায়তা দিচ্ছে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান। এসব পরিবর্তন কর্মক্ষেত্রের প্রত্যাশা ও লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকায় ধীরগতির হলেও তাৎপর্যপূর্ণ রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়।

নীতিগত সংস্কার: মাতৃত্ব সুরক্ষা থেকে লিঙ্গসমতা

গত তিন দশকে দক্ষিণ কোরিয়ার পিতামাতার ছুটিসংক্রান্ত নীতিতে উল্লেখযোগ্য বিবর্তন ঘটেছে। শুরুতে সংস্কারের লক্ষ্য ছিল মাতৃত্ব সুরক্ষা; তখন বাবারা বেতনহীন পিতামাতার ছুটি পেতেন শুধু তাঁদের স্ত্রীর কর্মসংস্থান থাকলে। প্রজনন হার কমতে থাকায় এবং জনসংখ্যাগত সংকট গভীর হওয়ায় সংস্কারের যুক্তি বদলে সন্তান জন্মদানে উৎসাহ দেওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণে সহায়তা করার দিকে ঝুঁকেছে।

গত এক দশকে নীতির কেন্দ্রে ক্রমশ এসেছে লিঙ্গসমতা এবং শিশুযত্নে বাবাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। বাবা-মা দুজনই ছুটি নিলে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার “বাবাদের মাস”-এর মতো প্রণোদনা কর্মসূচি বাবাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চালু করা হয়েছে। সরকার শিশুযত্নকালীন ছুটির সুবিধাও বাড়িয়েছে, আবেদনপ্রক্রিয়া সহজ করেছে এবং পিতামাতার ছুটির সময় অস্থায়ী বিকল্প কর্মী নিয়োগকারী নিয়োগকর্তাদের জন্য নতুন ভর্তুকি চালু করেছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৫ সালে কার্যকর হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনগুলো হলো:

  • বেতনসহ পিতৃত্বকালীন ছুটি ১০ দিন থেকে বাড়িয়ে ২০ দিন করা; সন্তানের জন্মের ১২০ দিনের মধ্যে এই ছুটি নিতে হবে
  • পিতৃত্বকালীন ছুটি সর্বোচ্চ তিন কিস্তিতে নেওয়ার সুযোগ
  • পিতামাতার ছুটিতে সহায়তাকারী নিয়োগকর্তাদের জন্য সরকারি মজুরি ভর্তুকি বাড়ানো
  • অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটি ৯০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১০০ দিন করা
  • গর্ভাবস্থা ও শিশুযত্নের সময় কম কর্মঘণ্টার সুযোগ পাওয়ার যোগ্যতা সম্প্রসারণ
  • স্বল্পমেয়াদি শিশুযত্নকালীন ছুটি চালু এবং প্রজনন চিকিৎসায় সহায়তা বৃদ্ধি

এই সংস্কারগুলোর লক্ষ্য পিতামাতার ছুটি আরও সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় করা, বিশেষত বাবাদের জন্য, এবং পারিবারিক কারণে পুরুষদের ছুটি নেওয়াকে ঘিরে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা কমানো।

এই নীতিগুলো কতটা কার্যকর?

প্রজনন হার বাড়ানো এবং শ্রমবাজারে লিঙ্গবৈষম্য কমাতে পিতামাতার ছুটির সুবিধা সম্প্রসারণ কতটা কার্যকর, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, ছুটির সুবিধা বাড়ালে সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করা যায় এবং নারীদের পেশাকেন্দ্রিক চাকরিতে টিকে থাকতে সহায়তা করা যায়, ফলে শ্রমশক্তিতে লিঙ্গবৈষম্য কমে। তবে অন্যরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, শিশুযত্নের উচ্চ ব্যয় এবং স্থায়ী লিঙ্গভিত্তিক রীতিনীতির মতো বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও কাঠামোগত বাধা দূর না হলে এর প্রভাব সীমিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিতামাতার ছুটি যৌথভাবে নেওয়ার (অর্থাৎ বাবা-মা দুজনেরই ছুটি নেওয়ার) প্রণোদনা দিলে শুধু বাধ্যতামূলক করার চেয়ে পুরুষের অংশগ্রহণ বেশি বাড়ে। নমনীয় কর্মব্যবস্থা প্রচার, শিশুযত্নে ভর্তুকি বাড়ানো এবং নিয়োগকর্তাদের সহায়তা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে সঠিক দিকের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে টেকসই অগ্রগতির জন্য কম প্রজনন হার ও লিঙ্গবৈষম্যের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করে এমন সমন্বিত পদ্ধতি প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

জনসংখ্যাগত সংকট: দক্ষিণ কোরিয়ার জন্মহার এত কম কেন?

দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যাগত সংকটের পেছনে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা কারণের জটিল সমন্বয় রয়েছে। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, ব্যয়বহুল শিক্ষা, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং কঠোর কর্মসংস্কৃতির কারণে অনেক তরুণ-তরুণীর পক্ষে সন্তানসহ স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ কল্পনা করা কঠিন। বিয়ের গড় বয়স বেড়েছে এবং ২০১৫ সালের পর প্রথমবার বিয়ে করা মানুষের সংখ্যা ৩৭ শতাংশের বেশি কমেছে। এখন একক ব্যক্তির পরিবার মোট পরিবারের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি, যা জীবনযাপন ও অগ্রাধিকারে পরিবর্তনের প্রতিফলন।

নবজাতকের জন্য নগদ অর্থ প্রদান, পিতামাতার ছুটির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিশুযত্নে ভর্তুকি বাড়ানোসহ পরিবার সহায়তা কর্মসূচিতে ২০০৬ সাল থেকে সরকার ৩৬০ ট্রিলিয়ন ওনেরও বেশি (প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় করেছে। তা সত্ত্বেও প্রজনন হার প্রতিস্থাপন-স্তরের অনেক নিচে রয়েছে। বিয়ের সংখ্যা মহামারির পর বেড়ে যাওয়া এবং ত্রিশোর্ধ্ব নারীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জন্মহার সম্প্রতি কিছুটা বেড়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এটি প্রবণতার স্থায়ী উল্টে যাওয়া নয়, বরং সাময়িক পুনরুদ্ধার।

দক্ষিণ কোরিয়া এখন “অতিবৃদ্ধ” সমাজ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ; জনসংখ্যার ২০ শতাংশেরও বেশি মানুষের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। বর্তমান প্রবণতা চলতে থাকলে ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ৫ কোটি ১৮ লাখে পৌঁছানো জনসংখ্যা ২০৭২ সালের মধ্যে মাত্র ৩ কোটি ৬২ লাখে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এর প্রভাব দেশের অর্থনীতি, সামাজিক কল্যাণব্যবস্থা ও বৈশ্বিক অবস্থানের ওপর গভীর হবে।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধা

দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে থাকা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ঐতিহ্যগত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা ও কর্মক্ষেত্রের প্রত্যাশার স্থায়িত্ব। নীতিগত সংস্কার সত্ত্বেও অনেক বাবা এখনো পরিবারের চেয়ে কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চাপে থাকেন, আর শিশুযত্নের সিংহভাগ দায়িত্ব মায়েদেরই বহন করতে হয়। নারী-পুরুষের মজুরি ব্যবধান এখনো উল্লেখযোগ্য। সন্তান জন্মের পর নারীদের প্রায়ই কর্মজীবন ছেড়ে দেওয়া বা বিরতি নেওয়ার প্রত্যাশা করা হয়।

এসব রীতি বদলানোর উদ্যোগ চলছে, তবে অগ্রগতি ধীর। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, একটি “দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন” প্রয়োজন—যেখানে সন্তান লালন-পালনকে জনসেবা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার উপযোগী আয়-সহায়তাসহ সব বাবা-মায়ের জন্য সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক পিতামাতার ছুটির ব্যবস্থা থাকবে। অন্যরা উন্নতমানের সাশ্রয়ী শিশুযত্নে আরও বিনিয়োগ এবং নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য নমনীয় কর্মব্যবস্থার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক প্রবণতা: আশার ক্ষীণ আলো?

প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবার দক্ষিণ কোরিয়ার জন্মহারে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৪ সালে জন্মের সংখ্যা ৩.৬ শতাংশ বেড়ে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩০০-তে দাঁড়ায় এবং প্রজনন হার সামান্য বেড়ে হয় ০.৭৫। এ উন্নতির পেছনে মূলত বিয়ের সংখ্যা ১৪.৯ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার ভূমিকা রয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিয়ে পিছিয়ে দেওয়া যুগলরা অবশেষে বিয়ে করেছেন। জন্মহার বৃদ্ধির সঙ্গে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনেরও যোগ রয়েছে; ত্রিশের কোঠার শুরুর দিকের—সবচেয়ে প্রজননক্ষম বয়সের—আরও বেশি নারী সন্তান নিচ্ছেন।

নবজাতকের জন্য নগদ প্রণোদনা, পিতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানো এবং কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য সহায়তা বৃদ্ধির মতো সরকারি উদ্যোগ ইতিবাচক প্রবণতায় ভূমিকা রেখেছে। নতুন আবাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগে বিনিয়োগ করা পিয়ংথেকের মতো শহরে জন্মহার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। লিঙ্গসমতা ও পরিবার মন্ত্রণালয় জনসংখ্যা, পরিবার এবং শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে; ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে এসব তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সাম্প্রতিক এই বৃদ্ধি স্থায়ী নাও হতে পারে। এখন বিশের কোঠার মানুষের সংখ্যা ত্রিশের কোঠার মানুষের চেয়ে কম, যা ইঙ্গিত দেয় আগামী বছরগুলোতে সম্ভাব্য মা-বাবার সংখ্যা কমবে। দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নির্ভর করবে আরও বেশি তরুণ-তরুণীকে বিয়ে ও সন্তান নিতে উৎসাহিত করা এবং পরিবারগুলোকে সহায়তা ও নিরাপত্তার অনুভূতি দেয় এমন পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর।

বৃহত্তর প্রভাব: লিঙ্গসমতা ও কাজ-জীবনের ভারসাম্য

পিতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়া কোরীয় বাবার সংখ্যা বাড়া লিঙ্গসমতা ও কাজ-জীবনের ভারসাম্যের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ। শিশুযত্নের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে বাবারা তাঁদের সঙ্গীর কর্মজীবনে সহায়তা করতে পারেন এবং কর্মসংস্থানে লিঙ্গবৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখতে পারেন। নারীদের কর্মসংস্থানের হার বেড়েছে; ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে তা ৬১.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৫ সালের পর বিবাহিত নারীদের কর্মজীবনে বিরতি নেওয়ার হারও প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে।

তা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। অন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকলেই অনেক বাবা ছুটি নেন, আর তাঁরা কাজে ফিরে গেলে যত্নের দায়িত্ব প্রায়ই দাদা-দাদি, নানা-নানি বা মায়েদের ওপর পড়ে। টেকসই অগ্রগতির জন্য কর্মঘণ্টা, কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি এবং উন্নতমানের শিশুযত্নসেবা পাওয়ার সুযোগ—এই ক্ষেত্রগুলোতে সমন্বিত সংস্কার দরকার।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতা একই ধরনের জনসংখ্যাগত চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা অন্য দেশগুলোর জন্য মূল্যবান শিক্ষা দেয়। নীতি, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার পারস্পরিক সম্পর্ক দেখায়, বিচ্ছিন্ন কিছু পদক্ষেপের বাইরে গিয়ে প্রেক্ষাপট-উপযোগী সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন।

সংক্ষেপে

  • দক্ষিণ কোরিয়ায় পিতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়া বাবার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে; এতে পরিবর্তিত মনোভাব ও সরকারি নীতির সংস্কার প্রতিফলিত হচ্ছে।
  • দেশটির জন্মহার এখনো বিশ্বের সর্বনিম্ন, তবে সাম্প্রতিক তথ্যে সামান্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত রয়েছে, যার পেছনে বিয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা কাজ করেছে।
  • সরকারি সংস্কারের মধ্যে রয়েছে বেতনসহ পিতৃত্বকালীন ছুটি দ্বিগুণ করা, শিশুযত্নে ভর্তুকি বাড়ানো এবং নমনীয় কর্মব্যবস্থায় সহায়তা দেওয়া।
  • অগ্রগতি সত্ত্বেও গভীরভাবে প্রোথিত সাংস্কৃতিক রীতি ও কর্মক্ষেত্রের প্রত্যাশা লিঙ্গসমতা এবং কাজ ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্যের পথে বাধা হয়ে রয়েছে।
  • বিশেষজ্ঞরা দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন; এর মধ্যে রয়েছে সর্বজনীন পিতামাতার ছুটি, শিশুযত্নে আরও বিনিয়োগ এবং সন্তান লালন-পালনকে জনসেবা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া নীতি।
  • সাম্প্রতিক উন্নতির স্থায়িত্ব নির্ভর করছে অন্তর্নিহিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং পরিবারগুলোকে সহায়তার অনুভূতি দেয় এমন পরিবেশ তৈরির ওপর।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে