নেপালের রপ্তানি চিত্র: নাটকীয় প্রবৃদ্ধির এক বছর, সঙ্গে অন্তর্নিহিত চ্যালেঞ্জ
চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেপালের রপ্তানি খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মোট রপ্তানি আয় বেড়েছে ৭২.৭১ শতাংশ। তবে এই নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধি নেপালের প্রচলিত বা উচ্চমূল্যের রপ্তানি পণ্যের ব্যাপকভিত্তিক সম্প্রসারণের ফল নয়। বরং প্রতিবেশী ভারতে পরিশোধিত ভোজ্যতেল—মূলত সয়াবিন, সূর্যমুখী ও পাম তেল—পুনঃরপ্তানির নাটকীয় বৃদ্ধিই এর প্রধান চালিকাশক্তি। এতে নেপালের রপ্তানির অঙ্ক ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে, তবে রপ্তানিনির্ভর এই প্রবৃদ্ধির স্থায়িত্ব ও প্রকৃত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
সূচিপত্র
- নেপালের রপ্তানি চিত্র: নাটকীয় প্রবৃদ্ধির এক বছর, সঙ্গে অন্তর্নিহিত চ্যালেঞ্জ
- নেপালের রপ্তানি-উল্লম্ফনের পেছনে কী?
- ভোজ্যতেলের বাণিজ্য কীভাবে চলে?
- বাণিজ্যে কারসাজি ও নিয়ম মানা নিয়ে উদ্বেগ
- নেপালের প্রকৃত উচ্চমূল্যের রপ্তানি খাতের অবস্থা কী?
- প্রচলিত রপ্তানি খাতে পতন
- নেপালের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কি টেকসই?
- বাণিজ্য ঘাটতি: অব্যাহত চ্যালেঞ্জ
- নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা
- আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব
- সারসংক্ষেপ
নেপালের রপ্তানি-উল্লম্ফনের পেছনে কী?
নেপালের রপ্তানি বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ভোজ্যতেলের পুনঃরপ্তানি। বাণিজ্য ও রপ্তানি উন্নয়ন কেন্দ্র এবং শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে ২০২৫ সালের মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত নেপাল ৪ লাখ ৩০ হাজার ৫০৪ টন পরিশোধিত ভোজ্যতেল রপ্তানি করেছে, যার মূল্য ৯০.৭৫ বিলিয়ন রুপি। একই সময়ে দেশটির মোট রপ্তানি আয় ২১৭.৯১ বিলিয়ন রুপির উল্লেখযোগ্য অংশ এটি।
নেপালে এসব তেলের বাণিজ্যিক উৎপাদন হয় না। বরং নেপাল আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, চীন, ইরাক, থাইল্যান্ড ও ইউক্রেনের মতো দেশ থেকে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানি করে, তা পরিশোধন বা নতুন করে প্যাকেটজাত করে তৈরি পণ্য ভারতে রপ্তানি করে। দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকা (সাফটা) চুক্তির কারণে এ বাণিজ্য সম্ভব হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, নেপালের রপ্তানি ভারতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায়, অথচ দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের দেশ থেকে আসা একই ধরনের পণ্যে উচ্চ শুল্ক বসে।
আগের বছরের সেপ্টেম্বরে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার ভারতের সিদ্ধান্তে এ প্রবৃদ্ধির সূচনা হয়। এতে ভারতের বাজারে নেপালের পরিশোধিত তেল আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে, কারণ নেপাল থেকে পণ্য কিনলে ভারতীয় আমদানিকারকেরা উচ্চ শুল্ক এড়াতে পারেন। ফলে আগের অর্থবছরের তুলনায় শুধু সয়াবিন তেলের রপ্তানিই বেড়েছে ৯০ গুণ, আর সূর্যমুখী তেলের রপ্তানি বেড়েছে ৬২ গুণ।
ভোজ্যতেলের বাণিজ্য কীভাবে চলে?
সাফটা ও ভারত-নেপাল বাণিজ্য চুক্তির আওতায় নেপালি রপ্তানি ভারতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায়। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের দেশগুলোকে ভারতে সয়াবিন তেল রপ্তানিতে ৪৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। শুল্কের এই বড় ব্যবধান ব্যবসায়ীদের নেপালে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে প্রক্রিয়াজাত বা পুনরায় প্যাকেটজাত করে নেপালি পণ্য হিসেবে ভারতে রপ্তানিতে উৎসাহিত করেছে।
তবে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে এসব রপ্তানিকে উৎসবিধি পূরণ করতে হয়। সাফটার নিয়ম অনুযায়ী, পণ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন এবং ছয় অঙ্কের শুল্ক উপশ্রেণিতে পরিবর্তন থাকতে হবে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ, অনেক ক্ষেত্রে নেপালে প্রকৃত মূল্য সংযোজন ১৫ শতাংশেরও কম, যা প্রয়োজনীয় সীমার চেয়ে অনেক নিচে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী আমদানি করা প্রক্রিয়াজাত তেল শুধু নতুন করে প্যাকেটজাত করে রপ্তানি করেন এবং শর্ত পূরণের জন্য নথিপত্রে কারসাজির আশ্রয় নেন।
বাণিজ্যে কারসাজি ও নিয়ম মানা নিয়ে উদ্বেগ
ভোজ্যতেল রপ্তানির দ্রুত প্রবৃদ্ধি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও শিল্পগোষ্ঠীগুলোর নজর এড়ায়নি। ভারতের সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (এসইএ) নেপালি রপ্তানিকারকদের বিরুদ্ধে উৎসবিধি এড়িয়ে চলা এবং ভারতীয় পরিশোধনকারী, কৃষক ও সরকারি রাজস্বের ক্ষতি করার অভিযোগ করেছে। এর জবাবে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় মার্চে শুল্কবিধি সংশোধন করে, যাতে বাণিজ্য প্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে উৎস সনদের বদলে আরও কঠোর উৎস-প্রমাণের শর্ত চালু করা হয়।
এসব উদ্বেগ সত্ত্বেও কিছু বিশেষজ্ঞের যুক্তি, নিয়মগুলো কারিগরিভাবে পূরণ করা হলে এবং ভারত নেপালের নথিপত্র গ্রহণ করতে থাকলে এই বাণিজ্য আইনি সীমার মধ্যেই থাকে। সাউথ এশিয়া ওয়াচ অন ট্রেড, ইকোনমিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের নির্বাহী পরিচালক পারস খারেল বলেন, শর্ত পূরণ হলে সাফটার আওতায় এই বাণিজ্য বৈধ। তবে কারসাজি হয়ে থাকলে দুই সরকারেরই তদন্ত করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি স্বীকার করেন।
নেপালের প্রকৃত উচ্চমূল্যের রপ্তানি খাতের অবস্থা কী?
ভোজ্যতেলের উল্লম্ফন শিরোনামজুড়ে থাকলেও নেপাল ট্রেড ইন্টিগ্রেটেড স্ট্র্যাটেজি (এনটিআইএস)-এ চিহ্নিত নেপালের উচ্চমূল্যের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সামান্য। অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এনটিআইএস তালিকাভুক্ত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৮৩.১০ বিলিয়ন রুপি, যা আগের বছরের তুলনায় ৬.৭৪ শতাংশ বেশি। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে সুতা, পাট ও পাটজাত পণ্য, ফেল্ট, চা, কুকুরের চিবানোর খেলনা, কাপড়, কার্পেট, পশমিনা ও অন্যান্য পণ্য।
কিছু খাতে আশাব্যঞ্জক প্রবণতা দেখা গেছে:
- সুতা রপ্তানি ২০.৭ শতাংশ বেড়ে ১১.৬৫ বিলিয়ন রুপিতে পৌঁছেছে; মোট রপ্তানিতে এর অবদান ৬.৩৫ শতাংশ।
- কার্পেট রপ্তানি সামান্য বেড়ে ৮.৮৪ বিলিয়ন রুপি হয়েছে; গত বছর ছিল ৮.৭৯ বিলিয়ন রুপি।
- পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ১৫.৫ শতাংশ বেড়ে ৬.৯২ বিলিয়ন রুপি হয়েছে।
- ফেল্ট পণ্যের রপ্তানি ৬.৩ শতাংশ বেড়ে ৪.০৯ বিলিয়ন রুপি হয়েছে।
- চায়ের রপ্তানি ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৩০ টনে পৌঁছেছে; মূল্য ৩.৯৭ বিলিয়ন রুপি।
- কুকুরের চিবানোর খেলনার রপ্তানি ৩৩.৭ শতাংশ বেড়ে ৩.৪৯ বিলিয়ন রুপি হয়েছে।
- কাপড়ের রপ্তানি ২১.৯ শতাংশ বেড়ে ২.৫১ বিলিয়ন রুপি হয়েছে।
- পশমিনার রপ্তানি ৫.৪ শতাংশ বেড়ে ২.৪৯ বিলিয়ন রুপি হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য অন্যান্য প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে পাদুকা রপ্তানিতে ৪৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি, রসিন ও রেজিন অ্যাসিডের চালানে ৫৫.৯ শতাংশ উল্লম্ফন এবং মধু রপ্তানিতে নাটকীয় ১৯৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধি (যদিও আগের ভিত্তি ছিল কম)।
প্রচলিত রপ্তানি খাতে পতন
এসব প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি নেপালের বেশ কয়েকটি প্রচলিত রপ্তানি খাতে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে:
- লোহা ও ইস্পাতের রপ্তানি ১.৬ শতাংশ কমে ১৩.৮৪ বিলিয়ন রুপি হয়েছে।
- তৈরি পোশাকের রপ্তানি ৫.৭ শতাংশ কমে ৬.৯৭ বিলিয়ন রুপি হয়েছে।
- বড় এলাচের রপ্তানি ৩.৬ শতাংশ কমে ৬.৬৭ বিলিয়ন রুপি হয়েছে।
- আদার রপ্তানি ৫০.৯ শতাংশ কমে ৫২৬.৫৮ মিলিয়ন রুপি হয়েছে।
- ঔষধি ভেষজের রপ্তানি ১৪.৬ শতাংশ কমে ১.৬০ বিলিয়ন রুপি হয়েছে।
- এসেনশিয়াল অয়েলের রপ্তানি ১৭.৮ শতাংশ কমে ৪২৯.৬৬ মিলিয়ন রুপি হয়েছে।
- মসুর ডালের রপ্তানি ৩৭.৭ শতাংশ কমে ২৪১.৩২ মিলিয়ন রুপি হয়েছে।
- শাকসবজি ও ফলের রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এই মিশ্র চিত্র ভোজ্যতেলের আলোচিত বাণিজ্যের বাইরেও নেপালের রপ্তানি খাতের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে।
নেপালের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কি টেকসই?
নেপালের রপ্তানি-উল্লম্ফন নড়বড়ে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে—এ নিয়ে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ বাড়ছে। নেপালে উৎপাদিত হয় না—এমন ভোজ্যতেলের পুনঃরপ্তানির ওপর নির্ভরতা দেশটির অর্থনীতিকে ভারতের বাণিজ্যনীতির পরিবর্তনের ঝুঁকিতে ফেলছে। গত ৩০ মে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করার ভারতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নেপালের রপ্তানি বৃদ্ধির গতি কমাতে পারে, কারণ নেপালি রপ্তানিকারকেরা যে শুল্ক-সুবিধা পেতেন তা কমে এসেছে।
এ ছাড়া, সামান্য মূল্য সংযোজন করে আমদানি করা পণ্য পুনঃরপ্তানির চর্চা প্রকৃত শিল্প বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধিতে তেমন কিছুই করে না। সাবেক বাণিজ্যসচিব ও বিশেষজ্ঞ রবি শঙ্কর সাইঞ্জু বর্তমান পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেন:
মন্ত্রণালয়গুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থে কাজ করা শুরু করেছে। বাণিজ্য বোর্ডও আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে, বাণিজ্যকে অর্থবহভাবে এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
তিনি ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞের মতে, নেপালের বাণিজ্যনীতিকে আনুষ্ঠানিকতার চর্চা পেরিয়ে দেশীয় পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি প্রকৃত অর্থে বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
বাণিজ্য ঘাটতি: অব্যাহত চ্যালেঞ্জ
রপ্তানি বাড়লেও নেপালের বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমেই বাড়ছে। পর্যালোচনাধীন সময়ে দেশটি ১.৪৭৪ ট্রিলিয়ন রুপির পণ্য আমদানি করেছে; আগের বছর আমদানির পরিমাণ ছিল ১.৩০৩ ট্রিলিয়ন রুপি। মোট বৈদেশিক বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে ১.৬৯২ ট্রিলিয়ন রুপিতে, আর বাণিজ্য ঘাটতি ১.২৫৬ ট্রিলিয়ন রুপি—যা ৬.৭২ শতাংশ বেশি। ভারতের সঙ্গে নেপালের বাণিজ্য ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, এরপর রয়েছে চীন।
জ্বালানি, মোবাইল ফোন, খাদ্যশস্য এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন অনেক পণ্যের জন্য নেপালের আমদানিনির্ভরতা এই স্থায়ী ঘাটতির কারণ। রপ্তানি বাড়াতে ও ঘাটতি কমাতে সরকার ভর্তুকি নীতি গ্রহণ করলেও আমদানির ওপর দেশটির নির্ভরতা বাড়ছে এবং বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা আরও গভীর হচ্ছে।
নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা
নেপালের উচ্চমূল্যের রপ্তানিতে ধীরগতির অন্যতম কারণ নেপাল ট্রেড ইন্টিগ্রেটেড স্ট্র্যাটেজি (এনটিআইএস) দুর্বলভাবে বাস্তবায়িত হওয়া। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার না হওয়ায় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বাণিজ্যনীতি নির্দেশনা দেওয়ার কথা যে বাণিজ্য বোর্ডের, অনেকের চোখে সেটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা।
বিশেষজ্ঞদের জোর, দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নির্ভর করবে ধারাবাহিক নীতি বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে উন্নত সমন্বয়ের ওপর। টেকসই বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা অর্জনে নেপালকে এনটিআইএসে চিহ্নিত বস্ত্র, কার্পেট, চা ও হস্তশিল্পের মতো উচ্চমূল্যের খাতে রপ্তানি সক্ষমতা গড়ে তোলায় মনোযোগ দিতে হবে—এ বিষয়ে ঐকমত্য বাড়ছে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব
নেপাল ও ভারতের মধ্যে ভোজ্যতেলের বাণিজ্য শুধু দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; এর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাবও রয়েছে। পুনঃরপ্তানি সহজ করতে সাফটার মতো বাণিজ্যচুক্তি ব্যবহারের ফলে এসব ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় উৎপাদক ও নীতিনির্ধারকেরা দেশীয় শিল্প ও সরকারি রাজস্বের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে এই ফাঁক থেকে সুবিধা পাচ্ছেন নেপালি ব্যবসায়ীরা।
বৈশ্বিক বাজারের গতিপ্রকৃতি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে ভারত আমদানি শুল্ক সমন্বয় করতে থাকায় নেপালের পুনঃরপ্তানি ব্যবস্থার ওপর আরও নজরদারি ও নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। বাণিজ্যচর্চা আইনি ও টেকসই—দুই-ই আছে কি না নিশ্চিত করতে দুই দেশকেই আঞ্চলিক বাণিজ্য বাধ্যবাধকতার সঙ্গে নিজ নিজ দেশের স্বার্থের ভারসাম্য রাখতে হবে।
সারসংক্ষেপ
- চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেপালের মোট রপ্তানি ৭২.৭১ শতাংশ বেড়েছে; এর প্রধান কারণ ভারতে পরিশোধিত ভোজ্যতেলের পুনঃরপ্তানি।
- সাফটার অধীনে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের কারণে ভোজ্যতেলের রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে, তবে উৎসবিধি মানা ও এই বাণিজ্যের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
- নেপাল ট্রেড ইন্টিগ্রেটেড স্ট্র্যাটেজিতে (এনটিআইএস) চিহ্নিত উচ্চমূল্যের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সামান্য; কিছু খাত ভালো করলেও অন্যগুলোতে পতন হয়েছে।
- আমদানির ওপর নেপালের ব্যাপক নির্ভরতা ও সীমিত দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে।
- বিশেষজ্ঞরা নীতি আরও জোরালোভাবে বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং উচ্চমূল্যের খাতে প্রকৃত রপ্তানি সক্ষমতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
- অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের ওপর শুল্ক কমানোর মতো ভারতের বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন নেপালের রপ্তানি কার্যক্রমে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
- ভোজ্যতেলের উল্লম্ফন নেপালের রপ্তানি অর্থনীতির সুযোগ ও দুর্বলতা—দুই-ই তুলে ধরে এবং আরও টেকসই ও বহুমুখী বাণিজ্য কৌশলের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।






